10/03/2021
২৭ শে রজবকে আমাদের দেশে ঘটা করে লাইলাতুল মিরাজ বা শবে মিরাজ হিসাবে পালন করা হয়। কোনো কোনো বইতে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে তা প্রসিদ্ধ যে, মিরাজের ঘটনা রজব মাসের ২৭ তারিখে সংঘটিত হয়েছিল। এমন কি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকেও ২৭ রজবকে শবে মেরাজ হিসাবে প্রচার করা হয়ে থাকে।
২৭ রজব শবে মেরাজ হওয়ার কথাটি শুধু ইতিহাসের একটি বর্ণনার ভিত্তিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যার সনদ (বর্ণনা সূত্র) সহীহ নয়। অন্যথায় এটি কোনো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস দ্বারাও প্রমাণিত নয়, হাদীস শরীফ কিংবা কোনো সাহাবীর উক্তি দ্বারা তো নয়ই। নির্ভরযোগ্য সূত্রে শুধু এটুকুই পাওয়া যায় যে, মিরাজের ঘটনা হিজরতের এক বা দেড় বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মাস, দিন, তারিখের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোনো দলীল নেই।
অনেক আলেম বলেছেন, মিরাজের রাত নিঃসন্দেহে একটি বরকতময় রাত ছিল কিন্তু এই রাতে যেহেতু বিশেষ কোনো আমল বা ইবাদত উম্মতের জন্য বিধিবদ্ধ হয়নি তাই এর দিন-তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত থাকেনি। -আলমাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ ও শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাহ ৮/১৮-১৯; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া, ইমাম ইবনে কাছীর ২/৪৭১; লাতাইফুল মাআরিফ, ইমাম ইবনে রজব ১৩৪; ইসলাহি খুতুবাত, আল্লামা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ১/৪৬-৪৮
রজব মাস যেহেতু কুরআনে বর্ণিত চার সম্মানিত মাসের একটি সুতরাং এর পুরোটাই বরকতময়। তাই এ মাসের সবকটি দিন ও সবকটি রাতেই ইবাদাত বন্দেগীর ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিৎ। কিন্তু এর ২৭ তারিখ যেহেতু শবে মিরাজ হিসেবে প্রমাণিত নয় তাই এ রাতকে বিশেষ ইবাদাতের জন্য নির্দিষ্ট না করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট রসম রেওয়াজও ত্যাগ করা উচিত। সমাজে অতি উৎসাহী কিছু মানুষ ২৭ রজবের রাতকে বিশেষ ইবাদত বন্দেগী ও পরদিন শবে মেরাজ উপলক্ষ্যে রোজা রাখেন। এগুলোর কোনোটিই নবীজির (সা) সুন্নাহ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। তাই আমাদের উচিত এমন দিন রোজা রাখা যেদিন নবীজি (সা) রোজা রেখেছেন। যেমন সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার। হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ।
মিরাজ উপলক্ষ্যে আমাদের সমাজে সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে অনেক কথার প্রচলন রয়েছে। যেমন বলা হয়ে থাকে মেরাজের সময় নবীজিকে (সা) আল্লাহ জুতা পরে আরশে উঠতে বলেছেন। এ কথার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নাই। আবার অনেক বক্তা ওয়াজ করেন যে, মিরাজ হতে ২৭ বছর সময় লেগেছিল। এটিরও কোনো ভিত্তি নাই। কোনো কোনো অবিশ্বাসী মিরাজের ঘটনাকে অসম্ভব মনে করে তাই অনেকে তাদেরকে বোঝানোর জন্য বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্যের অবতারণা করেন এবং মিরাজের সম্ভাব্যতা প্রমাণের প্রয়াস পান। আসলে এটা মৌলিক কাজ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু নিজ শক্তিতে আসমান ও জমিনের এই আশ্চর্য ভ্রমণ সম্পন্ন করেননি। তাঁকে ভ্রমণ করানো হয়েছে এবং করিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা, যিনি আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা এবং সকল ত্রুটি ও অক্ষমতা থেকে পবিত্র এজন্য কোনো মুমিন কুরআন-হাদীসের বিবরণের উপর সামান্যতম দ্বিধাও করতে পারে না।
তাই আমাদের উচিত মিরাজের আলোচনার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া। মিরাজের ব্যাপারে সূরা ইসরা ও সূরা নাজম এ যে বর্ণনাগুলো আছে এবং সহীহ হাদীসে যেসকল বর্ণনা পাওয়া যায় তার আলোকেই আমাদের মিরাজের আলোচনা করা উচিত। আমাদের উচিত মিরাজ সংক্রান্ত আয়াতগুলোর তাফসীর অধ্যয়ন করা এবং এ সংক্রান্ত হাদীসগুলোর ব্যাখ্যা সহ পড়া।
মিরাজ সংক্রান্ত কিছু নির্ভরযোগ্য তথ্যের লিংক উল্লেখ করা হলো। ইনশাআল্লাহ এগুলো পড়লে মিরাজ সম্পর্কে প্রাথমিক একটি ধারণা পাওয়া যাবে।
১।
সহীহ হাদীসের আলোকে মিরাজুন্নবী
https://www.alkawsar.com/bn/article/2542
২।
শবে মেরাজ ও তার আমল : ইসলামে এর কোন ভিত্তি আছে কি? : মাওলানা তাহমীদুল মাওলা
https://youtu.be/gWnthxeByjY?t=39
৩।
শবে মেরাজের আমল ও করণীয় - শায়খ আহমাদুল্লাহ
https://youtu.be/bvA6-ENsez0
৪।
ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনী : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
মাওলানা মুহাম্মাদ ফজলুল বারী
https://www.alkawsar.com/bn/article/779/
৫।
মিরাজ বিষয়ক আলোচনা : কিছু অসতর্কতা
https://www.alkawsar.com/bn/article/657/
৬।
এটি হাদীস নয় : আপনার জুতায় আরশ ধন্য হয়েছে
https://www.alkawsar.com/bn/article/870/
৭।
এটি হাদীস নয় : মেরাজে নবীজীর সাতাশ বছর সময় লেগেছিল
https://www.alkawsar.com/bn/article/420/
মেরাজ সম্পর্কে এক ওয়ায়েজকে বলতে শুনেছি যে, তাতে নাকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাতাশ বছর সময় ব্য...