24/08/2023
আল্লাহর পেয়ারে হাবিব বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) দেখতে কেমন ছিলেন
মহান রাব্বুল আল আমিন আসমান, জমিন, গ্রহ-নক্ষত্রসহ সকল কিছুই সুনিপুণ ভাবে সৃষ্টি করেছেন। সেই মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁর পেয়ারে হাবিব নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে কিভাবে সৃষ্টি করেছেন? তিনি দেখতেই বা কেমন ছিলেন? প্রতিটি মুমিনেরই তা জানতে ইচ্ছা করে। যদিও রাসূল (সা.) এর পবিত্র সৌন্দর্যের যথার্থ বর্ণনা করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তবুও যে সকল সাহাবা (রাঃ) গণ মুহাম্মদ (সাঃ) কে সরাসরি দেখেছেন, তাঁদের বর্ণনা ও হাদিসে পাকের আলোকে আমরা জানার চেষ্টা করবো আমাদের বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) দেখতে কেমন ছিলেন?
হযরত জাবির (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমার সম্মুখে নবীদের হাজির করা হয়। সে সময় মুসা (আ.)-কে আমি দেখলাম, তিনি যেন শানুআহ গোত্রের একজন পুরুষ। আমি ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কেও লক্ষ করেছি, আমার দেখা লোকদের মাঝে তিনি উরওয়াহ ইবনে মাসউদের মতো।
আমি ইব্রাহীম (আ.)-কেও লক্ষ করেছি, আমার দেখা লোকদের মাঝে তিনি তোমাদের বন্ধুর মতো, (বন্ধু বলতে তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন)। জিবরাঈল (আ.)-কেও আমি লক্ষ করেছি, তিনি আমার দেখা লোকদের মাঝে দিহয়া ইবনে খলিফা আল ক্বালবির মতো।’ (সহীহ মুসলিম, হা/৪৪১; তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৯; মুসনাদে আহমদ, হা/১৪৬২৯ সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৩২ জামেউস সগীর, হা/৭৪৫১; মিশকাত, হা/৫৭১৪)
হযরত কুরতুবী (রহ.) বলেন, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি স্বরূপে আমাদের মাঝে আবির্ভূত হতেন, তাহলে তাঁকে সম্পূর্ণরূপে অবলোকন করা কারুর পক্ষেই সম্ভব হত না।" (খাসায়েলে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – মুফতি সুলাইমান)।
হযরত আবু তুফায়েল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তবে তাকে যারা দেখেছেন তাঁদের মধ্যে আমি ছাড়া কেউ ভূপৃষ্ঠে বেঁচে নেই। (বর্ণনাকারী বললেন) আমি বললাম আপনি আমার কাছে তাঁর বিবরণ পেশ করুন। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন শুভ্রকায় ও লাবণ্যময় সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। (সহীহ মুসলিম, হ/৬২১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৮৪৮; আদাবুল মুফরাদ, হা/৭৯০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৪৮; জামেউস সগীর, হা/৮৭৫১; মিশকাত, হা/৫৭৮৫)
হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার পূর্ণিমা রাত্রির স্নিগ্ধ আলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে লাল চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার তাঁর দিকে ও একবার চাঁদের দিকে তাকাতে থাকলাম। মনে হলো তিনি আমার কাছে পূর্ণিমার চাদের চেয়ে অধিকতর চমৎকার। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭৩৮৩; মারেফাতুস সাহাবা, হা/১৪৩৫; মিশকাত, হা/৫৭৯৪; তিরমিজি; দারেমি)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কাআব (রহ.) বলেন, ‘আমি আমার পিতা কাআব ইবনে মালিক (রা.)-কে তাঁর তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে সালাম করলাম, খুশি ও আনন্দে তাঁর চেহারা ঝলমল করে উঠল। তাঁর চেহারা আনন্দে এমনই টগবগ করত, মনে হতো যেন চাঁদের একটি টুকরা। তাঁর মুখমণ্ডলের এ অবস্থা থেকে আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৬, বুখারি : ১/৫০২)
হযরত রবি বিনতে মোয়াওয়েয (রা.) বলেন, তোমরা যদি রাসূল (সা.)-কে দেখতে, তখন মনে হতো যে, যেন উদিত সূর্যকে দেখছ। (মোসনাদে দারেমী, মেশকাত ২/৫১৭)।
হযরত আবু কারসানার মা এবং খালা আবু কারাসানার সঙ্গে রাসূল (সা.) এর কাছে বায়াতের জন্য আসেন। অতঃপর ফিরে যাওয়ার পথে তারা বললেন, ‘আমরা এমন সুদর্শন মানুষ আর দেখিনি। আমরা তাঁর মুখ থেকে আলো বিকীর্ণ হতে দেখেছি।’ (আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ১/২৫৫)।
হযরত আলী (রা.) যখনই প্রিয়নবী (সা.)-এর দেহ মোবারকের বর্ণনা দিতেন, তখন বলতেন, "নবী (সা.) অত্যধিক লম্বাও ছিলেন না এবং একেবারে বেঁটেও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন লোকদের মধ্যে মধ্যম আকৃতির। তার মাথায় চুল একেবারে কোঁকড়ানো ছিল না এবং সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না; বরং মধ্যম ধরনের কোঁকড়ানো ছিল। তিনি অতি স্থূলদেহী ছিলেন না এবং তার চেহারা মোবারক একেবারে গোল ছিল না; বরং লম্বাটে গোল ছিল। গায়ের রঙ ছিল লাল-সাদা সংমিশ্রিত। চোখের বর্ণ ছিল কালো এবং পলক ছিল লম্বা ও চিকন। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল মোটা। পুরো দেহ মোবারক ছিল পশমহীন, অবশ্য পশমের চিকন একটি রেখা বুক থেকে নাভি মোবারক পর্যন্ত লম্বা ছিল। দুই হাত এবং দুই পায়ের তালু ছিল মাংসে পরিপূর্ণ। যখন তিনি হাঁটতেন তখন পা পূর্ণভাবে উঠিয়ে মাটিতে রাখতেন, যেন তিনি কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কোনোদিকে তাকাতেন তখন ঘাড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে তাকাতেন। উভয় কাঁধের মাঝখানে ছিল মোহরে নবুওয়াত বা নবী হওয়ার অলৌকিক নিদর্শন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অধিক দানশীল, সবচেয়ে বেশি সত্যভাষী। তিনি ছিলেন সবচেয়ে কোমল স্বভাবের এবং বংশের দিক থেকে সম্ভ্রান্ত এবং মর্যাদার অধিকারী। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে ভয় পেত (গুরুগম্ভীরতার কারণে)। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পরিচিত হয়ে তার সঙ্গে মিশত, সে তাকে অনেক ভালোবেসে ফেলত। নবী (সা.)-এর গুণাবলী বর্ণনাকারী এ কথা বলতে বাধ্য হন যে, আমি তার আগে ও পরে তার মতো কাউকে কখনও দেখতে পাইনি।" (বোখারী শরীফ: ১/৫০২, শামায়েলে তিরমিজি : ২৫৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩১১)
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব দীর্ঘ ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তিনি ধবধবে সাদা কিংবা বাদামী বর্ণেরও ছিলেন না। তাঁর চুল একেবারে কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একদম সোজাও ছিল না। ৪০ বছর বয়সে আল্লাহ তা’আলা তাকে নবুওয়াত দান করেন। এরপর মক্কায় ১০ বছর এবং মদিনায় ১০ বছর কাটান। আল্লাহ তা’আলা ৬০ বছর বয়সে তাঁকে ওফাত দান করেন। ওফাতকালে তাঁর মাথা ও দাড়ির ২০টি চুলও সাদা ছিল না। (সহীহ বুখারী, হা/৫৯০০; সহীহ মুসলিম, হা/৬২৩৫; মুয়াত্তা মালেক, হা/১৬৩৯; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৫৪৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬১৮৯; শারহুস সুন্নাহ হা/৩৬৪, হা/৩৭৩৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৮৭; মুসনাদে আবু ই’আলা, হা/৩৮৩২)
হযরত বারাআ ইবনে আজিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যমাকৃতির ছিলেন। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ ছিল তুলনামূলক প্রশস্ত। তাঁর ঘন চুলগুলো কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল। তাঁর দেহে লাল লুঙ্গি ও লাল চাদর শোভা পেত। আমি তাঁর তুলনায় সুদর্শন কাউকে কখনো দেখিনি। (সহীহ বুখারী, হা/৩৫৫১; সহীহ মুসলিম, হা/৬২১০; নাসাঈ, হা/৫২৩২)
হযরত বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুলবিশিষ্ট লাল চাদর ও লাল লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে সুদর্শন কাউকে দেখিনি। তাঁর কেশগুচ্ছ ছিল কাঁধ বরাবর। তাঁর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা প্রশস্ত ছিল। তিনি অধিক খাটো বা অধিক দীর্ঘাকৃতির ছিলেন না। (সহীহ মুসলিম, হা/৬২১১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৫৮১)
হযরত আবু তোফায়েল বলেন, তিনি ছিলেন গৌর রং-এর, চেহারা ছিল মোলায়েম। তাঁর উচ্চতা ছিল মাঝারি ধরনের। (সহিহ মুসলিম: ২/২৫৮)।
হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ প্রশস্ত ছিল। চোখের শুভ্রতার মাঝে কিছুটা লালিমা ছিল। পায়ের গোড়ালি স্বল্প মাংসল ছিল। শু’বা (রহঃ) বলেন, আমি সিমাক (রহঃ) কে বললাম, ضَلِيعُ الْفَمِ (যলী’উল ফাম) কী? তিনি বললেন, বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট। আমি আবার বললাম, أَشْكَلُ الْعَيْنِ (আশকালুল ’আইন) কী? তিনি বললেন, ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট। আমি বললাম, مَنْهُوسُ الْعَقِبِ (মানুহূসুল আক্বিব) কী? তিনি বললেন, সরু গোড়ালি বিশিষ্ট। (সহীহ মুসলিম, হা/৬২১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০২৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৮৯; জামেউস সগীর, হা/৮৯৫২; মিশকাত, হা/৫৭৮৪; মুসলিম, হাদিস ২৩৩৯; তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৬)
হযরত আনার (রা.) বলেন, তিনি আযহারুল লাউন তথা লালিমা মিশ্রিত শ্বেত বর্ণের অধিকারী ছিলেন। (বোখারী শরীফ: ১/৫০২)
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভ্রতায় ছিলেন রৌপ্যের ন্যায় এবং তাঁর চুলগুলো ছিল কিছুটা কোঁকড়ানো। (জামেউস সগীর, হা/৮৭৪৮; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২০৫৩)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, তিনি এত সুন্দর, নান্দনিক এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিলেন যেন তাঁর পবিত্র দেহখানা পূর্ণিমার চন্দ্র দ্বারা ধৌত করা হয়েছে। (শামায়েলে তিরমিযী)।
হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ (রা.) বলেন, "রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল এবং দাড়ির সামনের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন তেল দিতেন (সাদা) চুল তখন দেখা যেত না, আর যখন চুল অগোছালো হতো তখন দেখা যেত। তাঁর দাড়ি প্রচুর ঘন ছিল।" জনৈক লোক বলল, 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা কি তলোয়ারের মতো ছিল?' হজরত বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন, "না, তাঁর চেহারা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের মতো (উজ্জ্বল) গোলাকার। আমি তাঁর পিঠের উপরিভাগে কবুতরের ডিমসদৃশ নবুয়তের মোহর দেখেছি। এটির রং ছিল তাঁর গায়ের রঙের মতো।" ( সহীহ বোখারী : ১/৫০২, ৩৫৫২; সহীহ মুসলিম ২/২৫৯; মুসলিম, হাদিস : ৫৯৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৫০১; দারেমী, হা/৬৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৮৭)
হযরত হাসান বিন আলী বলেন, আমার মামা হিন্দ বিন আবু হালাকে (রা.) রাসুল (সা.)-এর অবয়ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি নবীজি (সা.)-এর পুরো শরীরের বর্ণনা দেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, "হুজুর (সা.)-এর কপালে ছিল বেশ উন্নত। ভ্রু ছিল সরু ও ঘন পাপড়ি বিশিষ্ট। দুই ভ্রু জোড়া আলাদা ছিল। মাঝখানে একটি রগ ছিল। নবীজি (সা.) যখন রাগ হতেন, তখন তা ভেসে উঠত। নাক ছিল খাড়া উঁচু। ভালোভাবে না দেখলে মনে হত তিনি প্রকাণ্ড নাক বিশিষ্ট। নাক থেকে এক ধরনের নূর চমকাত।" (শামায়েলে তিরমিজি)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, তাঁর সম্মুখের দাঁতগুলি পৃথক পৃথক ছিল। অর্থাৎ মাঝে ফাঁক ছিল, ঘন ছিল না। যখন তিনি কথা বলতেন, তখন এই দাঁত মোবারক হতে যেন নূর ঠিকরে পড়ত। (মেশকাত শরীফ ২য় খন্ড, ৫৭১ পৃষ্ঠা)।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, "রাসুল (সা.)-এর সম্মুখের দাঁত দুটির মাঝে কিছুটা ফাঁক ছিল। যখন তিনি কথাবার্তা বলতেন, তখন মনে হতো উক্ত দাঁত দুটির মধ্য দিয়ে যেন নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছে।" (দারেমি)
হযরত হিন্দ ইবনে আবি হালা (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহাবয়ব সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তাঁর ঘাড় মোবারক এত সুন্দর ও সূক্ষ্ম ছিল, যেমন কোনো ভাস্কর্যের গর্দান। (শামায়েলে তিরমিযী)
হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়স্কন্ধের হাড়সমূহ বড়সড় ছিল। (আর-রাহীকুল মাখতুম ৭৫২ পৃষ্ঠা)।
হযরত হিন্দ ইবনে আবি হালা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি পেট ও বক্ষের সমতল স্থুল দেহের অধিকারী ছিলেন। মেদভুড়ি সম্পন্ন ছিলেন না। (শামায়েলে তিরমিযী)
প্রশস্ত বক্ষের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর বক্ষের উপরি অংশে পশমও ছিল। তবে উভয় স্তন পশম শূন্য ছিল। (শামায়েলে তিরমিযী)।
হযরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর হাত গোশতে পূর্ণ ছিল। তাঁর পরে আমি কোনো লোককে এমন দেখিনি। আর রাসুল (সা.)-এর চুল ছিল মাঝারি ধরনের, অধিক কোঁকড়ানোও না, অধিক সোজাও না। (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৬)
হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, শৈশবে রাসুল সা. তার গালে হাত বুলিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি তার হাতে এমন শীতলতা ও সুগন্ধি অনুভব করেছি, যেন তিনি তা সুগন্ধির কস্তুরি থেকে বের করেছেন’। (মুসলিম, হাদিস ২৩২৯)
হযরত হিন্দ ইবনে আবি হালা (রা.) বলেন, নবী কারিম (সা.) এর হস্তদ্বয় প্রশস্ত, গোশতে পরিপূর্ণ ও নরম ছিল। আঙ্গুলসমূহ একই ধরনের লম্বা ছিল। অর্থাৎ অন্য লোকদের তুলনায় একটু লম্বা ধরনের ছিল। হ্যাঁ, তবে সীমাতিরিক্ত লম্বা ছিল না যে, অসুন্দর দেখা যায় এবং আঙ্গুলের জোড়া শক্ত ও বড় ছিল। (শামায়েলে তিরমিযী)।
হযরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন শুভ্র উজ্জ্বল বর্ণের। তাঁর ঘাম যেন মুক্তার মতো। তিনি চলার সময় সম্মুখপানে ঝুঁকে চলতেন। আমি নরম কাপড় বা রেশমকেও তাঁর হাতের তালুর মতো নরম পাইনি এবং মিশক ও আম্বরের মধ্যেও রাসুল (সা.)-এর শরীরের চেয়ে অধিক সুগন্ধ পাইনি। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৪৮)
হযরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর মাথা ও দুই পা ছিল মাংসপূর্ণ। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মতো অন্য (কাউকে অধিক সুন্দর) দেখিনি। তাঁর হাতের তালু ছিল চওড়া। (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৭)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর দুই পা ছিল মাংসপূর্ণ। চেহারা ছিল সুন্দর। আমি তাঁর পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯০৯)
হযরত হিন্দ ইবনে আবি হালা (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) এর পায়ের তলা খানিকটা গর্ত ছিল। (শামায়েলে তিরমিযী)
হযরত আবু জুহাইফা রা.-কে রাসুল সা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, "রাসুল (সা.) দেখতে ছিলেন অনেকটা হাসান ইবনে আলী (রা.)এর মতো। (বুখারী, হাদিস ৩৫৪৩)
বান্দার প্রতি আল্লাহর এক অব্যাহত অপার অনুগ্রহ হলো, তিনি কাউকে কাউকে স্বপ্নযোগে রাসুল সা.-এর দর্শন লাভের সুযোগ দান করেন। এই স্বপ্ন সত্য। রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নযোগে দেখেছে, সে আমাকেই দেখেছে। কেননা, শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না। (বুখারী, হাদিস ২৫৫২)
আল্লহ রাব্বুল আল-আমিন আপনিই তো আল গাফফার, আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, অজ্ঞতার কারণে যদি কোনোরূপ সত্য গোপন, অসত্য উপস্থাপন, কুফরি, বেদাত, ইসলামী ঐক্য বিনষ্ট, বিভেদ, বেয়াদবি, শানের বরখেলাপ, ধৃষ্টতা, অবমাননা সংগঠিত হয়ে থাকে, তবে আমাদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনিই তো আল আলিম, আপনার হিকমা ও ইলম এর আলোকে আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকারকে দূর করে দিন।
-আমিন