24/12/2025
জাবাল আবু কুবাইস: মক্কার ইতিহাস বহন করা এক প্রাচীন পর্বত
মসজিদুল হারামের একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে আছে জাবাল আবু কুবাইস । মক্কার সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়গুলোর একটি। আজ পাহাড়ের অধিকাংশ অংশ আর আগের মতো নেই। এর চূড়ায় রাজকীয় প্রাসাদ নির্মাণের ফলে এখন কেবল অবশিষ্ট অংশটাই চোখে পড়ে। তবুও এই পাহাড়ের নীরব স্তরগুলোতে জড়িয়ে আছে মক্কার হাজার বছরের ইতিহাস, অলৌকিক ঘটনা আর ইমানের গল্প।
✨ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট
ইসলামী ইতিহাসে পাওয়া যায়, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মুজিযার সময় নবী করীম ﷺ এই পাহাড়ের ওপর থেকে চাঁদের দিকে ইশারা করলে আল্লাহর হুকুমে চাঁদ দুই ভাগ হয়ে যায়। এজন্য জাবাল আবু কুবাইস মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদা পেয়ে এসেছে।
✨ 'ফাদিহ' কাবার দিকে মুখ করা দেয়াল
জাবাল আবু কুবাইসের যে পাশটি কাবার দিকমুখী ছিল, তাকে বলা হতো ফাদিহ। মক্কার লোকেরা সেই অংশটিকে বিশেষভাবে চিনত।
✨ 'আল-আমিন' বা 'রক্ষক' নামের কারণ
জাবাল আবু কুবাইসের আরেকটি নাম ছিল 'আল-আমিন' অর্থাৎ 'বিশ্বস্ত', 'রক্ষক'।
কারণ, প্রাচীন বর্ণনাগুলোতে এসেছে নূহ (আ.)–এর সময়কার মহাপ্লাবনে যখন মক্কা প্লাবিত হয়েছিল, তখন হাজরে আসওয়াদ (কাবার কালো পাথর) এই পাহাড়েই নিরাপদে সংরক্ষিত ছিল। পরে যখন ইবরাহীম (আ.)–কে কাবা পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন তাঁকে দেখানো হয় পাথরটি কোথায় রাখা আছে।
বর্ণনায় আরও পাওয়া যায়, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ পাথর, এবং কাবার কোন স্থানে এটি বসাতে হবে তাও ইবরাহীম (আ.)–কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অন্য বর্ণনায় আছে, জিবরাঈল (আ.)–ই মহাপ্লাবনের সময় পাথরটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং পরে ইবরাহীম (আ.)–কে তা হস্তান্তর করেন। উভয়টাই ইতিহাসে পাওয়া যায়।
✨ মক্কার প্রথম পাহাড় এমন বিশ্বাসও রয়েছে
কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, এটি পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট পাহাড়গুলোর একটি হতে পারে; আল্লাহ ﷻ–ই একে বিশেষ ভূমিকার জন্য বেছে নিয়েছিলেন।
✨ 'আবু কুবাইস'নামের পেছনে একটি গল্প
জাহেলিয়াত যুগে 'কুবাইস'নামে একজন ব্যক্তি প্রথম এই পাহাড়ে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরে তার নাম অনুসারেই এই পাহাড় পরিচিত হয় 'জাবাল আবু কুবাইস'।
✨ প্রাচীন ঘটনাবলির নীরব সাক্ষী
- ইমাম তারবারী বর্ণনায় পাওয়া যায়, আদম (আ.)–এর মৃত্যুর পর তাঁকে এই পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়েছিল। এটি ঐতিহাসিক মত, হাদীস নয়।
- ৬৯১ খ্রিস্টাব্দে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই পাহাড়ের চূড়া থেকে কাবার দিকে মংগোল নিক্ষেপ করেন, যার ফলে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (رضي الله عنه) শহীদ হন।
- হারুন রশীদের সময় মক্কার বিভিন্ন পাহাড়ে মিনার নির্মাণ করা হয় যাতে পুরো উপত্যকায় আজান পৌঁছাতে পারে। জাবাল আবু কুবাইসও তার একটি অংশ ছিল।
#বাংলাদেশ