20/08/2026
পিতামাতা একত্রে থাকিলে পুত্র কাকে প্রথম প্রণাম করবে, তখন অনেকের অভিমত দেখে খুবেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়, তাই ভাবলাম এটা নিয়ে কিছু আলোচনা করা প্রয়োজন, তাই আলোচনার অবতারণা,
🙏পিতা-মাতা প্রণামের শাস্ত্রীয় বিধান — শ্রীকৃষ্ণের আচরণেই প্রমাণ🙏
বিষ্ণুপুরাণের অমোঘ বাণী:*
কৃষ্ণোপি বসুদেবস্য পাদৌ জগ্রাহ সত্বরঃ।
দেবুক্যাশ্চ মহাবাহু র্বলদেব সহায়বান্।।
(বিষ্ণুপুরাণ)*
অর্থাৎ — মহাবাহু শ্রীকৃষ্ণ বলদেবের সহিত বৃন্দাবন হইতে মথুরায় আসিয়া **প্রথমে পিতা বসুদেবের চরণ গ্রহণ করিলেন**, অতঃপর মাতা দেবকীকে প্রণাম করিলেন।
#শাস্ত্রের নির্দেশ কী?
পিতা ও মাতা একত্রে উপস্থিত থাকিলে —
✅ প্রথমে পিতাকে, তারপর মাতাকে প্রণাম করিতে হইবে।
এই প্রশ্ন অনেকের মনে আসে — মাতা তো গর্ভে ধারণ করেন, দশ মাস কষ্ট করেন, তাহলে পিতা আগে কেন?
শাস্ত্র এর উত্তর দিয়েছে সুন্দরভাবে।
মনুস্মৃতিতে বলা রয়েছে
উপাধ্যায়ান্ দশাচার্য আচার্যাণাং শতং পিতা।
সহস্রং তু পিতৃন্ মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যতে।।
(মনুস্মৃতি ২/১৪৫)
অর্থ — দশজন উপাধ্যায় অপেক্ষা আচার্য বড়, শতজন আচার্য অপেক্ষা পিতা বড়, এবং **সহস্র পিতা অপেক্ষাও মাতা গুরুত্বে অধিক।
তাহলে মাতা এত মহান হওয়া সত্ত্বেও পিতা আগে প্রণম্য কেন?
এর কারণ —
শাস্ত্রে মাতাকে **গুরুত্বে** অধিক বলা হয়েছে — কারণ গর্ভধারণ, লালনপালন, স্তন্যদান অতুলনীয়।
কিন্তু পিতাকে **পূজ্যতায়** অগ্রগামী বলা হয়েছে — কারণ পিতাই সংসারের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্তৃত্বের প্রতিনিধি।
তৈত্তিরীয় উপনিষদে বলা হয়েছে —
মাতৃ দেবো ভব। পিতৃ দেবো ভব।
(তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১/১১)
মাতাকে প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে গুরুত্বের নিরিখে, কিন্তু প্রণামের ক্ষেত্রে আচারগত বিধি ভিন্ন।
স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেখিয়ে দিলেন পথ:
শ্রীকৃষ্ণ — যিনি স্বয়ং জগতের পিতা, যিনি সর্বজ্ঞ, তিনিও লোকশিক্ষার জন্য শাস্ত্রের আচার পালন করলেন।
মথুরায় পৌঁছে **আগে বসুদেবের চরণ স্পর্শ করলেন**, পরে দেবকী মাতার।
গীতায় তিনি নিজেই বলেছেন —
যদ্যদাচরতি শ্রেষ্ঠঃ তত্তদেবেতরো জনঃ।
স যৎ প্রমাণং কুরুতে লোকস্তদনুবর্ততে।।
(ভগবদ্গীতা ৩/২১
অর্থ — শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যে আচরণ করেন, সাধারণ মানুষ তা-ই অনুসরণ করে। তিনি যাকে প্রমাণ মনে করেন, জগৎ তাই মেনে চলে।
তাই ভগবান নিজেই আচরণ করে শিখিয়ে গেছেন — **পিতা প্রথমে, মাতা পরে।
মূলকথা হচ্ছে
মাতা গুরুত্বে সর্বোচ্চ — এ বিষয়ে শাস্ত্রে কোনো দ্বিমত নেই।
কিন্তু প্রণামের আচারে পিতা অগ্রগামী — এটি শাস্ত্রীয় বিধান।
স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এই বিধান পালন করে আমাদের পথ দেখিয়েছেন।
শাস্ত্রের প্রতিটি বিধানের পেছনে গভীর তত্ত্ব আছে। সেই তত্ত্ব বুঝে শাস্ত্র মেনে চলাই প্রকৃত সনাতনী জীবনযাপন করা উচিত.
Copy from- Manik Chakrabarty