07/07/2023
বাহিরের শত্রু আমার কি ক্ষতি করবে?
যখন আমার সবচেয়ে
বড় শত্রু
আমার নফস।
আমি মুসলিম
কিন্তু আমার মাঝেও যে অনেকগুলো আমি আছে সেটা আমি জানতামই না......
আমি আমার নফসের কথা বলছি........
আমার মাঝেই তিন তিনটা নফস বিদ্যমান....
বেশিরভাগ পরিবারেই ইসলাম সম্পর্কে বুঝানোর হয় না.... জানেই না যে নকস কি।
ইসলাম সম্পর্কে বেসিক ধারণা শুধু এতটুকুই দেয়া হয় জান্নাত আর দোযখ এর থেকে বেশি কিছু বোঝানো হয় না। দুনিয়াটা আধুনিক হতে হতে এতই আধুনিক যে আল্লাহকে নিয়ে চিন্তা করার সময় ই নেই..... সবাই দুনিয়াতে ব্যস্ত।
আমি ও দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, আমার আল্লাহ আমাকে ফিরিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ 🌸
তিনটা নফসের .....
১: নফসে আম্মারাহ (প্রতারক আত্মা)
যে নফস, মানুষকে কুপ্রবৃত্তি ও জৈবিক কামনার দিকে আকৃষ্ট করে । সব সময় খারাপ চিন্তা ভাবনা পোষণ করিয়ে রাখে।
সব সময় খারাপ কাজে উৎসাহিত করে।
কোন বড় মাপের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করতে হলে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট এর সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় তাই না ......
নফসে আম্মারা হল আমাদের সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট যার কাছ থেকে এপয়েন্টমেন্ট অতি সহজেই পেয়ে যায় শয়তান .....
বিভিন্ন রূপে বিভিন্নভাবে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ঈমানদারদের কাছ থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় আর অভাগাদের সাথে হাত মিলিয়ে আল্লাহর অনেক দূরে নিয়ে যায়।
২: নফসে লাওয়্যামাহ
(অনুশোচনাকারী আত্মা )
যে নফস অন্যায় করার পর আমাদের হৃদয়ে অনুশোচনার উদ্রেক করে। যা নিজের কাজকর্মের হিসাব নিয়ে নিজেকে ধিক্কার দেয়।
৩: নফসে মুত্বমায়িন্নাহ ( প্রশান্ত আত্মা )
যে নফস সকল কালিমা থেকে মুক্ত এবং যাবতীয় মহৎ ভাবনায় পরিতৃপ্ত। সমস্ত খারাপ কর্ম প্রবণতা থেকে মুক্ত ।
এই প্রশান্ত আত্মা সম্পর্কে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন.....
'হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাও .... সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে,
মূলত নফস একটি। অবস্থা ভেদে তার গুণে পরিবর্তন আসে। নফস আমাদের কর্মের দ্বারা পরিবর্তিত হয় ।যদি তা লাগামহীন হয়ে যায়, তখন তা আম্মারায় পরিণত হয়। কিন্তু যখন নফসে লাগাম পড়ানো হয় , তার গোলামি পরিত্যাগ করা হয়, তখন ধীরে ধীরে তা মুত্বমায়িন্নাহ পরিণত হয় ।
এজন্যই বলা হয় ... নফসে আম্মারাহ প্রায় সকলের মধ্যেই বিদ্যমান ।তাই আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে নফসে আম্মারাহ কে নফসে মুতমাইন্নাই ডাইভার্ট করা যাতে নফসের গোলামী থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং তার প্ররোচনা থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়।
তো কিভাবে আপনি আপনার নফসকে হেফাজত করবেন, নফস সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে এই বইটি পড়ার অনুরোধ রইল। এবং আপনার প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ইসলামিক বই উপহার দেওয়ার চেষ্টা করুন