Dawah Sista

Dawah Sista “Invite to the way of your Lord with wisdom and good instruction, and argue with them in a way that is best.

Indeed, your Lord is most knowing of who has strayed from His way, and He is most knowing of who is [rightly] guided.” Quran 16:125

22/11/2022

বড় কোনো #বিপদ বা #কঠিন_চ্যালেঞ্জে পড়লে ছোট্ট একটি আমল করা যায়'

"যে আমলটি বদর যুদ্ধের দিন নবীজি করেছিলেন। প্রথমে আমরা প্রেক্ষাপটটা জেনে নিতে পারি তাহলে আমল করতে আগ্রহ বাড়বে,ইনশাআল্লাহ্।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে যে কয়টি দিনে সবচেয়ে সংকটময় এবং ভয়াবহ বিপদের সন্মুখীন হয়েছিলেন, তার মধ্যে বদর যুদ্ধের দিনটি অন্যতম। হাদিসে এসেছে—সেদিন তিনি অত্যন্ত বিনয় আর কাতরকণ্ঠে আল্লাহকে ডাকছিলেন আর দু‘আ করছিলেন—

‘‘হে আল্লাহ! যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আজকের দিনের পর থেকে যমিনে আর কখনো তোমার ইবাদত করা হবে না।’’ এমনভাবে তিনি দু‘আ করছিলেন যে, তাঁর কাঁধ হতে চাদর পড়ে গিয়েছিলো। এ দৃশ্য দেখে আবু বকর (রা.) ছুটে এসে চাদর তুলে দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে হে আল্লাহর রাসূল! আপনার রবের নিকট আপনি চূড়ান্ত প্রার্থনাই করেছেন।’

[সহিহ বুখারি: ৪৮৭৫]

সেই কঠিন মুহূর্তের নবীজি কী করছিলেন?

নবীজির জামাতা আলী ইবনু আবি তালিব (রা.) বলেন, ‘বদরের যুদ্ধের দিনে আমি কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে এসে দেখি—নবীজি সিজদারত অবস্থায় আছেন আর শুধু বলছেন—

(ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ূম) — يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ

[অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে চিরসংরক্ষক/চিরস্থায়ী]

এর বেশি কিছুই বলছেন না।’ এরপর আলী (রা.) আবার যুদ্ধ করতে চলে যান। আবার ফিরে আসেন; এসে দেখেন—নবীজি একই অবস্থায় আছেন। এভাবে কয়েকবার এসে তিনি একই অবস্থায় পেয়েছেন। অতপর আল্লাহ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিজয় দান করলেন।

মুসতাদরাক হাকিম: ১/৩৪৪, বাযযার: ২/২৫৪, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/১৪৭; ইমাম হাইসামি (রাহ.) বলেন, হাদিসটির সনদ হাসান]

যখন পৃথিবীটা সংকীর্ণ মনে হবে, চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে যাবে, তখন খুব বেশি করে ‘ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ূম’ পড়া উচিত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্যতম সংকটময় মুহূর্তে এটি পড়েছিলেন, আল্লাহ্ সফলতা দিয়েছিলেন।

এছাড়া আমাদের যেকোনো দু‘আর মধ্যে কিছু সময় পরপর এই বাক্য দুটো বারবার বলার অভ্যাস করা উচিত। কারণ, এটি ইসমে আযমের অন্তর্ভূক্ত:

"আল্লাহ আমাদের সবাইকে উপরোক্ত দোয়াটির উপর আমণ করার তৌফিক দান করুন, আমিন!!
-সংগ্রহীত

01/09/2022

আমাদের চলার পথে, কাজে-কর্মে অনেক মানুষের সঙ্গেই দেখা হয়। একজন মুসলিম হিসেবে অপর মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করতে হবে, তা-ও শিখিয়েছেন মানবতার মুক্তির দূত রাসুলুল্লাহ (সা.)। আমরা সাধারণত নিজেদের মিথ্যা অহংকারের আঁধারে নিমজ্জিত হয়ে মানুষের সঙ্গে নম্রভাবে আচরণ করাই ভুলে গেছি। পরিচিত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেও মুখ গোমড়া করে থাকি।

বিজ্ঞাপন

অপরিচিত মানুষের মতো অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি। মানুষটি যদি হয় পদবিতে ছোট, তাহলে তো কথাই নেই। আবার অনেককে পদবিতে বড় মানুষদের সামনে ভাব ধরে থাকতে দেখা যায়, যা একজন মুসলমানের জন্য কোনো শোভা পায় না। এভাবে মানুষকে অবমূল্যায়ন করা ইসলামের শিক্ষা নয়। হজরত আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) আমাকে বলেন, ‘কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার কাজ হয়। ’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬২৬)
প্রিয় নবী (সা.) সর্বদা সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। কারো সঙ্গে দেখা হলে কমপক্ষে হাসিমুখে তাকে শুভেচ্ছা জানাতেন। হজরত কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি জারির (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন। ’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ২৪৯)

মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করলে সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। (‘সদকা’ মানে দান, যার বিনিময়ে আল্লাহ আখিরাতে পুরস্কৃত করবেন। ) একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি ভালো কাজ সদকা। আর গুরুত্বপূর্ণ একটি ভালো কাজ হলো অপর ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭০)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের (সাক্ষাতে) মুচকি হাসাও একটি সদকা। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫৬)

মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করলে এবং মানুষকে মূল্যায়ন করলে নিজের মূল্য কমে যায় না, বরং যত্রতত্র মানুষের সঙ্গে ভাব নিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকেই খাটো করা হয়। কারণ অহংকার ব্যক্তিত্বহীনতারই পরিচয় দেয়।

পবিত্র হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নিজের কোনো মুসলিম ভাইকে খুশি করার জন্য এমনভাবে সাক্ষাৎ করে, যেমনটি সে পছন্দ করে; (এর বিনিময়ে) কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে খুশি করবেন। ’ (আলমুজামুস সগির, তবারানি, হাদিস : ১১৭৮)

মহান আল্লাহ আমাদের প্রতি কতই না মেরেহবান। তিনি আমাদের দৈনন্দিন সাধারণ কাজকে আমলে পরিণত করার সুযোগ রেখেছেন; যার বিনিময়ে তিনি আমাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দিয়েছেন। তাই আমাদেরও উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআন-হাদিসের অনুসরণ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠা করা। তবেই তো আমাদের সমাজটা আরো সুন্দর হয়ে উঠবে। পাশাপাশি আমাদের নাজাতের পথও সুগম হবে।

আমাদের সবার উচিত পরিচিত কিংবা অপরিচিত সব মানুষের সঙ্গেই নম্র আচরণ করা। মানুষকে মূল্যায়ন করা। মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা।

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস

#

20/08/2022

অন্যত্র বলা হয়েছে যে, ঘরে কুকুর রেখে লালন-পালন করা ইসলাম কঠোর নিষেধ করেছে। কেননা, কেবল শখ করে ঘরে কুকুর রাখা ইসলামি শরিয়ত সম্মত নয়। আর এ জন্যই হাদিস শরীফে এসেছে, ‘যে ঘরে কুকুর আছে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বোখারি শরিফ: ৫৫২৫)।

Ibn Maajah (3640) narrated from ‘Ali ibn Abi Taalib (may Allaah be pleased with him) that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “The angels do not enter a house in which there is a dog or an image.” Classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh Ibn Maajah.

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস

04/08/2022

রাতের সূচনায় সন্ধ্যা থেকে শুরু করে দিনের আলো না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক শিশুকে নিজেদের সঙ্গে একত্রে রাখার কথা বলেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আবার তিনি রাতের সময়টিতে ঘরের দরজাও বন্ধ রাখতে বলেছেন। কিন্তু কেন তিনি এমনটি বলেছেন? এ সম্পর্কে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন?

১. রাতের শুরুতে শিশুদের নিজেরে কাছে রাখা
হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা রাতের সূচনায় (সন্ধ্যার শুরু থেকে) অন্ধকার দূর না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের শিশুদের সামলিয়ে রাখো। এই সময় শয়তানেরা (চারদিকে মানুষের ক্ষতি ও অনিষ্টতায়) ছড়িয়ে পড়ে।’ (আদাবুল মুফরাদ, মুসলিম)

২. ঘরের দরজা বন্ধ রাখা
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা গভীর রাত পর্যন্ত গল্প-গুজবে মশগুল থেকে না। কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকুলের অনেককে রাতে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে ছড়িয়ে দেন। তোমরা (রাতের বেলা) ঘরের দরজাগুলো বন্ধ রাখো; পানপাত্রের (খাবারের পাত্রের) মুখ বেঁধে বা বন্ধ করে রাখ; পাত্রসমূহ ঢেকে রাখো এবং আলো নিভিয়ে দাও।’ (আদাবুল মুফরাদ)

উল্লেখিত হাদিস দুটি থেকে কিছু বিশেষ দিকনির্দেশনা পাওয়াা গেলো; যেগুলো মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমলের বিষয়। তাহলো-
-নিরাপত্তার স্বার্থে নিজ নিজ শিশুদের সন্ধ্যা থেকে নিজেদের হেফাজতে রাখা। কারণ এসময় শয়তান মানুষের অনিষ্টতায় জমিনে ছড়িয়ে পড়ে।
-রাত জেগে গল্প-গুজব না করা।
- ঘরের দরজা বন্ধ রাখা।
-খাবারে পাত্রের মুখ বেঁধে রাখা এবং পাত্রের মুখ ঢেকে রাখা।
- ঘরের আলো নিভিয়ে দেওয়া।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রাতের বেলা নিজ নিজ শিশু ও নিজেদের ঘরকে নিরাপদ রাখতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাদিসের ওপর আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। সন্ধ্যা থেকেই নিজ নিজ শিশু ব্যবহার্য জিনিসে নিরাপদে হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

১. ঘুমানোর দুয়া পড়া : ডান কাতে শুয়ে ঘুমানো সুন্নত। ডান কাতে শুয়ে ঘুমানোর আগে এই দুয়া পড়তে হবে- وَأَحْيَا أَمُوتُ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ

উচ্চারণঃ বিস্মিকাল্লা-হুম্মা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া। অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মৃত্যুবরণ করছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো। (সহীহ বুখারী)

ঘুম থেকে উঠে যেই দুয়া পড়তে হয়- الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

উচ্চারণঃ আলহা’মদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বাঅ’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্-নুশুর।

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করেছেন, আর আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। (সহীহ বুখারী)

২. তাসবীহ’, তাহ’মীদ ও তাকবীর পাঠ করা : ৩৩ বার তাসবীহ (সুবহা’নাল্লাহ), ৩৩ বার তাহ’মীদ (আলহা’মদুলিল্লাহ) ও ৩৪ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করার ফযীলতঃ

ক. কারো একজন দাস থাকলে দিনে-রাতে যে সেবা-যতœ ও সাহায্য করতো তার থেকেও বেশি উপকার পাওয়া যাবে এই আমল করলে।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা আমার কাছে আটা পেষার দরুন তার হাতে ফোসকা পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করলেন। আমি বললাম তোমার পিতা (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে গিয়ে যদি একটা খাদেমের আবদার জানাতে।

(ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাদেম দেওয়ার কথা বললেন তখন) তিনি (রাসুল) বললেনঃ তোমার জন্য কি খাদেমের চাইতে উত্তম কোন কিছু বলব না? (তা হল) তোমরা যখন তোমাদের শয্যাগ্রহণ করবে তখন আলহা’মদু লিল্লাহ ৩৩ বার, সুবহা’নাল্লাহ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পড়বে। (সুনানে আত-তিরমিজি)

খ. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “যখন শয্যাগ্রহণ করবে তখন সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করবে একশত বার। এটা তোমাদের যবানে তো হল একশ, কিন্তু মীযানের পাল্লায় হবে এক হাজার (নেকী)। (সুনানে আত-তিরমিজি)

৩। সুরা ইখলাস পাঠ করা (৩ বার) : সুরা ইখলাস ৩ পাঠ করলে এক কুররান খতম করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যায় এবং ১০ বার পাঠ করলে তার জন্য জান্নাতে একটা বাড়ি বানানো হয়। (সহীহুল বুখারী, নাসায়ী, আবু দাউদ)

৪। ঘুমানোর আগে সুরা কাফিরুন পড়া (১ বার) : শিরক থেকে বাচতে সাহায্য করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- “এই সুরাটিতে শিরক থেকে বাঁচার শিক্ষা রয়েছে।” (আবু দাউদ)

৫। সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া ১ বার।

ক. রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামায পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে

খ. বালা-মুসিবত ও যেকোনো ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।

গ. জিন ও শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।

ঘ. আয়াতগুলো পড়ে শেষ ‘আমিন’ বললে আয়াতগুলোতে যেই দুয়া রয়েছে সেইগুলো আল্লাহ তাআ’লা কবুল করে নেন।

উক্ত দুই আয়াতের এ ফযিলতের কারণেই হযরত আলী (রাঃ) বলেন- “আমার মতে যার সামান্যও বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে যেন এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা না যায়।”

৬। আয়াতুল কুরসী পাঠ করা ১ বার : সকাল পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী ফিরিশতা তাকে নিরাপত্তা দেবে। এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তার ধারে-কাছেও আসতে পারবে না। (সহীহ বুখারী)

৭। সুরা মুলক পড়া : প্রতিদিন (দিনে বা রাতে যেকোনো এক সময়) সুরা মুলক মুলক তেলাওয়াত করা গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত : “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আলিফ লাম মীম তানজিলুল কিতাব (সুরা আস-সাজদা) ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (সুরা মুলক) তেলাওয়াত না করে কোনদিন ঘুমাতেন না”। (সুনানে আত-তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস
#জ্বীন #শয়তান

28/07/2022

সবার চেয়ে বেশি নেকি অর্জনের দোয়া

উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি’।

অর্থ : আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। কোনো কোনো আলেম দোয়াটির অর্থ এভাবে বর্ণনা করেছেন, আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

উপকার : যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ১০০ বার এই দোয়া পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি নেকি নিয়ে কেউ আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারবে না। তবে যারা এই দোয়ার আমল করে, তারা ছাড়া। (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯২)

উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’।

অর্থ : আল্লাহ পবিত্র, মহান-শ্রেষ্ঠতর। সব প্রশংসা তাঁরই।

উপকার : যে ব্যক্তি সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে ১০০ বার বলবে ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ এবং সন্ধ্যায় উপনীত হয়েও অনুরূপ বলবে, সৃষ্টিকুলের কেউ তার সমপরিমাণ মর্যাদা ও সাওয়াব অর্জন করতে পারবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯১)



যে দোয়ায় জান্নাতে বৃক্ষ রোপণ করা যায়

জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি : ৩৪৬৪)



যে দোয়ায় আমলের পাল্লা ভারী হয়ে উঠবে

উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। ’ অর্থ : মহান আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, মহান আল্লাহর পবিত্রতা, যিনি শ্রেষ্ঠতর। ’

উপকার : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী, আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। সেটি হলো, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪০৬)

Subhanallahi Wa Bihamdihi is the most loved expression by Allah. A hadith from Muslim regarding this has been mentioned below:

Abu Dharr (May Allah be pleased with him) reported:

The Messenger of Allah (ﷺ) said to me, “Shall I tell you the expression that is most loved by Allah?” It is ‘Subhan-Allahi wa bihamdihi’ (Allah is free from imperfection and His is the praise)’.”
[Muslim]

It hardly takes 3-4 minutes to recite 100 times. Just a few mins of your precious time can take you closer to Allah (SWT) and your sins being forgiven, Subhan’Allah.

Subhanallahi Wa Bihamdihi Subhanallahil Azeem Meaning
The meaning of subhanallahi wa bihamdihi subhanallahil azeem along with English transliteration is as follows:

Glory is to Allah and all praise is to Him, glory is to Allah the great

subhanallahi wa bihamdihi subhanallahil azeem meaning in roman english
Download

Hadith on Reciting Subhanallahi Wa Bihamdihi 100 Times a Day & Benefits
Below are some of the Hadiths that show us how important and beneficial it is to recite this beautiful phrase.


Benefit No. 1
It is the means to get sins forgiven, no matter what quantity.

Allah’s Messenger (ﷺ) said, “Whoever says, ‘Subhan Allah wa bihamdihi,’ one hundred times a day, will be forgiven all his sins even if they were as much as the foam of the sea. [Sahih al-Bukhari 6405]

Reciting Subhanallahi Wa Bihamdihi not only erases the sins but also increases the rewards abundantly, it is a two-way benefit. We don’t really know how many sins we make each day, knowingly or unknowingly. However, this is the best opportunity to get those sins forgiven by just reciting subhanallahi wa bihamdihi subhanallahil azeem.

Allah (SWT) has bestowed us with this fantastic opportunity, we must make the best use of this by reciting frequently.


Benefit No. 2
The phrase subhanallahi wa bihamdihi subhanallahil azeem is most beloved to Allah (SWT). These words are easy to recite and are heavy on the scale.

Narrated by Abu Huraira (R.A) that:

Allah’s Messenger (ﷺ) said, “(The following are) two words (sentences or utterances) that are very easy for the tongue to say, and very heavy in the balance (of reward), and most beloved to the Gracious Almighty (And they are): Subhan Allahi wa bi-hamdihi; Subhan Allahi-l-‘Adhim.” [Sahih al-Bukhari 6682]

Undoubtedly, the benefits of reciting these words are innumerable. I strongly recommend memorizing these words along with the meaning for a better understanding. This way, we can recite these words by heart (saying these words with good intention is necessary). Expressing these words frequently leads to forgiveness of sins, an increase in rewards, barakah in Rizq, and getting closer to Allah (SWT).

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস #সুবহানাল্লাহ

07/07/2022

আত্মহত্যার শাস্তি কত ভয়াবহ- ইসলাম কি বলে? তরুণ সমাজ কেন অসচেতন? The Prohibition of Su***de in Islam

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনিই মানবকে জীবন দিয়েছেন, মরণও তাঁরই ইচ্ছাধীন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বরকতময় তিনি (আল্লাহ) যাঁর হাতে রাজত্ব, তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে পরীক্ষা করবেন তোমাদের, কে তোমাদের কর্মে উত্তম। তিনি পরাক্রমশালী স্নেহশীল ক্ষমাময়।’ (সুরা: ৬৭ মুলক, আয়াত: ১-২)।

মানুষ তার জীবন ও সম্পদের রক্ষক। মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো আল্লাহর দেওয়া জীবন, আল্লাহর দেওয়া সময় বা আয়ু, আল্লাহর দেওয়া সম্পদ, আল্লাহর দেওয়া মেধা, আল্লাহর দেওয়া সুযোগ ও সামর্থ্য; আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় পরিচালনা, প্রয়োগ ও ব্যবহার করা বা পরিচালনা করা। আত্মহত্যার প্রধান দুটি কারণ হলো হতাশা ও ভুল প্রত্যাশা: মুমিন বা বিশ্বাসী ব্যক্তি কখনো হতাশাগ্রস্ত হন না। কারণ, তঁার জীবনের সব ভালো কাজের ফলাফল তিনি আল্লাহর কাছে পাবেন, এটা তঁার ইমান ও বিশ্বাস। দুনিয়ায় ভালো কাজের সুফল বা স্বীকৃতি না পেলে তাতে ইমানদারের আফসোস বা অনুতাপ হয় না। মন্দ কাজের জন্য ক্ষমা পাওয়ার চূড়ান্ত পরম ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বাসী মুমিন ব্যক্তিকে চরমভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ‘(হে রাসুল সা.) আপনি বলুন, (মহান আল্লাহ ঘোষণা করছেন) হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি (পাপ ও অপরাধ দ্বারা) অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সকল পাপ ক্ষমা করবেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল দয়াময়।’ (সুরা ৩৯ জুমার, আয়াত: ৫৩)। তাই সে ভুল করলে তওবা করে পবিত্র হয়ে নতুন জীবন শুরু করে; নিরাশ বা হতাশ হয় না।

আত্মহত্যা মূলত আত্মপ্রবঞ্চনারই নামান্তর। কারণ, জীবন বিসর্জন দেওয়া কোনো সমস্যার সমাধান নয়; কোনো সফলতাও নয় বরং চরম ও চূড়ান্ত ব্যর্থতা। এর দ্বারা কোনো কিছুই অর্জিত হয় না; বরং একূল, ওকূল—দুকূলেই সবকিছু হারাতে হয়। মানুষ কোনো কিছু ধ্বংসের জন্য নয়, বরং সৃষ্টির সুরক্ষার জন্য
আত্মহত্যার দ্বিতীয় কারণটি হলো ভুল প্রত্যাশা। এ কারণেও অনেকে আত্মহত্যা করে থাকে। যেমন কেউ ভাবল, এভাবে বা এই উদ্দেশ্যে আত্মহত্যা করলে এতে সে গ্লানি ও কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করবে। কিন্তু এটা জানা জরুরি যে কোনো মন্দ কাজ দ্বারা ভালো ফলাফল আশা করা যায় না। যেখানে আত্মহত্যাই মহাপাপ, সেখানে এই মহাপাপ সংঘটিত করে কীভাবে কল্যাণ লাভ করা যাবে? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(হে রাসুল সা.) আপনি বলুন, আমি কি তোমাদের তাদের বিষয়ে সংবাদ জানাব? যারা কর্মে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত! (তারা হলো) যারা দুনিয়ার জীবনে কর্ম প্রচেষ্টায় বিপথগামী হয়েছে; তথাপি তারা মনে করেছে তারা ভালো কাজ করছে।’ (সুরা ১৮ কাহাফ, আয়াত: ১০৩-১০৪)।

আত্মহত্যা নিষিদ্ধ করে কোরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে, ‘(তোমরা তোমাদের জীবন, সময়, সম্পদ, মেধা, যোগ্যতা, সুযোগ ও সামর্থ্য) আল্লাহর পথে ব্যয় করো, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না।’ আর উত্তম কর্ম ও দয়া করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সৎকর্মী ও দয়াশীলদের ভালোবাসেন। (সুরা: ২ বাকারা, আয়াত: ১৯৫)। আত্মহত্যার শাস্তির বিষয়ে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে যেভাবে আত্মহত্যা করবে, তার শাস্তি অনন্তকাল সেভাবেই চলতে থাকবে।’ (মুসলিম ও তিরমিজি)।

আত্মহত্যাসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নিরসনে দায়দায়িত্ব আছে পরিবারের এবং সমাজের সব মানুষের। এ দায় ততটুকু, যে যতটুকু প্রভাবক ও উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। এর দায়ভার হিসেবে তারাও রোজ কিয়ামতে শাস্তি ভোগ করবে।

‘(কিয়ামতের দিন) অকৃতজ্ঞ অবিশ্বাসীরা বলবে, হে আমাদের প্রভু! যে সকল জিন ও ইনসান (অদৃশ্য শক্তি ও সদৃশ্য শক্তি) আমাদের বিপথগামী করেছে, তাদের আমাদের সম্মুখে আনয়ন করে প্রকাশ করুন। আমরা তাদের আমাদের পদতলে পিষ্ট করব, যাতে তারা হীন লাঞ্ছিত অপমানিত হয়।’ (সুরা-৪১ হা-মীম সাজদাহ, আয়াত: ২৯)।

আত্মহত্যা মূলত আত্মপ্রবঞ্চনারই নামান্তর। কারণ, জীবন বিসর্জন দেওয়া কোনো সমস্যার সমাধান নয়; কোনো সফলতাও নয় বরং চরম ও চূড়ান্ত ব্যর্থতা। এর দ্বারা কোনো কিছুই অর্জিত হয় না; বরং একূল, ওকূল—দুকূলেই সবকিছু হারাতে হয়। মানুষ কোনো কিছু ধ্বংসের জন্য নয়, বরং সৃষ্টির সুরক্ষার জন্য। প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব হলো জীবনের সুরক্ষা, সম্পদের সুরক্ষা, জ্ঞানের সুরক্ষা, প্রজন্মের পবিত্রতা বা বংশপরম্পরা সুরক্ষা এবং ধর্মীয় মানবিক বিধান বা মানবাধিকার সুরক্ষা। (মাকাসিদুশ শরিয়া)।

আত্মহত্যার প্রবণতা নিরসনে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নৈতিক আচরণ করতে হবে। সর্বোপরি সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারিবারিক বন্ধন মজবুত করতে হবে। নিরাপদ জীবন ও অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র ও প্রশাসন ন্যায়ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হতে হবে।

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস

28/06/2022

জ্বর-ব্যাথ্যায় আমল ও দোয়া করার বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। জ্বর-ব্যাথ্যায় করণীয় আমল ও দোয়া কী?

জ্বরের সময় পড়ার দোয়া
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বর ও গলা ব্যাথায় এভাবে দোয়া করতে শিক্ষা দিতেন-
بِسْمِ اللَّهِ الْكَبِيرِ أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ
উচ্চারণ : 'বিসমিল্লাহিল কাবির, আউজুবিল্লাহিল আজিম, মিন শাররি কুল্লি ইরকিন নায়্যার, ওয়া মিন শাররি হাররিন নার।' (মুজামুল কাবির, তাবারানি, তিরমিজি)
অর্থ : মহান আল্লাহর নামে, দয়াময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, শিরা-উপশিরায় শয়তানের আক্রমণ থেকে। শরীরের আগুনের উত্তাপের মন্দ প্রভাব থেকে।'

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস
#জ্বর #অসুখ #দোয়া #আমল

ব্যাথ্যামুক্ত থাকতে হাদিসের একাধিক দোয়া ও আমলের নির্দেশনা
১. হজরত উসমান বিন আবুল আস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মারাত্মক ব্যথা নিয়ে উপস্থিত হলাম, যে ব্যথা আমাকে প্রায় অকেজো করে ফেলেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেন-
‘তুমি তোমার ডান হাত ব্যথার স্থানে রাখ, ৩ বার- بِسْمِ اللَّهِ বিসমিল্লাহ বল এবং ৭ বার বল-
أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আউজু বিইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আঝিদু ওয়া উহাজিরু।
অর্থ : আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর অসীম সম্মান ও তাঁর বিশাল ক্ষমতার ওসিলায় আমার অনুভূত এই ব্যথার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।' (ইবনে মাজাহ)

নিয়ম : ব্যথার স্থানে ডান হাত রেখে ৩ বার বিসমিল্লাহ বলা এবং ৭ বার এ দোয়া পড়তে থাকা আর ব্যথার স্থান মর্দন করা।

২. হজরত উসমান ইবনু আবুল আস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এলেন। আমি তখন ধ্বংসাত্মক ব্যথার কারণে অস্থির ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ব্যথার জায়গাতে তোমার ডানহাত দিয়ে ৭ বার মর্দন কর এবং বল-
بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আউজু বিইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আঝিদু।'
অর্থ : ‘আল্লাহর নামে আমি আল্লাহ তাআলার ইজ্জাত ও সম্মান, তাঁর কুদরাত ও শক্তি এবং তাঁর রাজত্ব, সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের কাছে আমার এই কষ্ট হতে মুক্তি প্রার্থনা করছি।'

বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী ডান হাত দিয়ে ব্যথার স্থানে মর্দন করছিলাম আর ৭ বার এ দোয়া পড়লাম। তাতে আল্লাহ তাআলা আমার পুরো ব্যথাই নিরাময় করে দিলেন। আমি এর পর থেকে আমার পরিবারের লোকদের এবং অন্যান্যদেরও এ নিয়মে আমল করার জন্য বলে আসছি।' (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

নিয়ম : ব্যথার স্থানে ডান হাত দিয়ে মর্দন করতে থাকা এবং ৭ বার এ দোয়া পড়া।

৩. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, কোনো ব্যক্তি তার শরীরের কোনো অঙ্গে যদি ব্যথা অনুভব করতো অথবা শরীরের কোনো স্থানে ফোড়া দেখা দিতো বা জখম হতো তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ব্যথার স্থানে) আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন-
بِسْمِ اللهِ تُرْبَةُ اَرْضِنَا بِرِيْقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفَىْ بِهِ سَقِيْمُنَا بِاِذْنِ رَبِّنَا
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদিনা বিরিকাতি বাদিনা লি-ইউশফা সাক্বিমুনা বি-ইজনি রাব্বিনা।'
অর্থ : ‘আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি এবং আমাদের কারো থুথুর সংমিশ্রণে আমাদের রবের নির্দেশে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তিকে আরোগ্য দান কর।' (বুখারি ও মুসলিম)

নিয়ম : মাটিতে থুথু ফেলে তা নিয়ে ব্যথার স্থানে মর্দন করা আর এ দোয়া পড়া।

৪. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ব্যথার স্থানে) ঝাড়-ফুঁক করতেন। আর এ দোয়া পড়তেন-
اَمْسَحْ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ بِيَدِكَ الشِّفَاءُ لاَ كَاشِفَ لَه“إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : ‘‌আমসাহল বাসা রাব্বান নাসি বিয়াদিকাশশিফাউ লা কাশিফা লাহু ইল্লা আংতা।'
অর্থ : ‘ হে মানুষের পালনকর্তা! ব্যথা দূর করে দাও। আরোগ্য দানের ক্ষমতা শুধু তোমারই হাতে। এ ব্যথা তুমি ছাড়া আর কেউ দূর করতে পারে না।' (বুখারি)

নিয়ম : ব্যথা হলে এ দোয়া পড়তে থাকা।

৫. মাথা ব্যাথায় এ দোয়া পড়া-
لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
উচ্চারণ : লা ইউসাদ্দাউনা আনহা ওয়া লা ইউনযিফুন।'

মাথা ব্যাথা এবং জ্বরের সময় যতবার ইচ্ছা এ দোয়া পড়লে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে জ্বর ও মাথা ব্যাথা থেকে হেফাজত করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জ্বর ও মাথা ব্যাথায় যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত নিরাময়ে উল্লেখিত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। জ্বর ও মাথা ব্যাথা থেকে মুক্তি দিন। আমিন।

25/06/2022

গালি দেয়া মহাপাপ। হাদিসের পরিভাষায় তা ‘আকবারুল কাবায়ির’ বা কবিরা গোনাহ। অনেকেই অজ্ঞাতসারে নিজের বাবা-মাকেও গালি দিয়ে থাকে। তবে এ গালির ধরন একটু ভিন্ন। আর কবিরা গোনাহের মধ্যেও এটি জঘন্যতম বড় গোনাহ।

মানুষ কি আসলেই কখনো নিজ বাবা-মাকে গালি দেন! বাবা-মাকে গালি দেয়ার এ বিষয়টি হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা সুস্পষ্টভাষায় তুলে ধরে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কবিরা গোনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো নিজের বাবা-মাকে লানত (অভিশপ্ত) করা। (সাহাবায়ে কেরাম) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কোনো লোক তার আপন বাবা-মাকে কীভাবে লানত করতে পারে?
তিনি বললেন, সে (কোনো ব্যক্তি যখন) অন্যের বাবাকে গালি দেয়, তখন সে তার বাবাকে গালি দেয় আর সে (কোনো ব্যক্তি যখন) অন্যের মাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাকে গালি দেয়।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

হাদিসের বর্ণনায় এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, অন্যের বাবা-মাকে গালি দেয়ার অর্থই হচ্ছে নিজের বাবা-মাকে গালি দেয়া। তাদের লানত তথা অভিশম্পাত করা। গোনাহের ক্ষেত্রে এটি কবিরা গোনাহসমূহের মধ্যেও বড়।

নিজের অজ্ঞাতসার বাবা-মার প্রতি লানত করার বিষয়ে অনেকেই অবহিত নয়। তাই কারও জন্যই এটি শোভনীয় ও উচিত নয় যে, নে অন্যের বাবা-মাকে কিংবা অন্য কাউকে গালি দেবে, কটু কথা বলবে। কারও ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করবে। ইসলামে যে কাউকে গালি দেয়া অন্যায় ও কবিরা গোনাহ।

সুতরাং মুমিন মুসলমানসহ সবার উচিত, কোনোভাবেই কাউকে গালি না দেয়া। সবার সঙ্গে সুন্দর ও উত্তম আচরন করা। কেউ যদি গালি দেয়; তবে সবর করা এবং তাকে গালি দেয়ার পরিণতি উত্তম আচরণ ও ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে বুজিয়ে দেয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের এ আহ্বান সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার তাওফিক দান করুন। অন্যের মা-বাবাসহ যে কাউকেই গালি দেয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস #মাবাবা #পিতামাতা

17/06/2022


জীবনের প্রতিটি বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। সে সুবাদে স্বপ্ন সম্পর্কেও রয়েছে ইসলামের বক্তব্য। রয়েছে চমৎকার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। এ বক্তব্য ও ব্যাখ্যা কোনো দার্শনিক কিংবা বিজ্ঞানীর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি নয়। আবার কখনো মিলে গেলে কোনো অসুবিধা নেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, স্বপ্ন দেখা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ঘুমের ঘোরে প্রতিটি মানুষ স্বপ্ন দেখে। মানুষের ভাবনা ও মননে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি মানুষের দেখা স্বপ্নেও রয়েছে ভিন্নতা। মানুষ ভালো স্বপ্ন দেখে যেমন সুখানুভব করে, তেমনি ভয়ংকর বা দুঃস্বপ্ন দেখে নিদারুণ বিমর্ষও হয়।

স্বপ্ন নিয়ে মিথ্যা বড়-ই খারাপ কাজ

সুন্দর স্বপ্ন মানুষকে হয়তো আনন্দ দেয়। কিন্তু দুঃস্বপ্ন মানুষকে ভাবনাতুর ও অস্থির করে রাখে। আবার স্বপ্ন কখনো সত্য হয়, কখনো মিথ্যা হয়। হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সত্য স্বপ্ন নবুয়তের ৪৬ ভাগের এক ভাগ।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭২)

আরও পড়ুন : যে আমলে সারা রাত ইবাদতের সওয়াব

স্বপ্ন দেখলে অনেকে কাছের-দূরের মানুষকে বলে বেড়ায়। এটা মানুষের সহজাত স্বভাব। তবে অনেকে অন্যকে খুশি করতে রং মাখিয়ে স্বপ্নের বর্ণনা দেয়। অথচ রাসুল (সা.) হাদিসে সতর্ক করে বলেছেন—

‘সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো, কোনো ব্যক্তি নিজেকে তার পিতা ছাড়া অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করা। যে স্বপ্ন সে দেখেনি তা বর্ণনা করা। আর আল্লাহর রাসুল (সা.) যা বলেননি, তা তার সম্পর্কে বলে বেড়ানো।’
(বুখারি, হাদিস : ৩৫০৯)
দুঃস্বপ্ন দেখলে যে দোয়া পড়বেন

স্বপ্ন মানুষকে কখনো আনন্দিত ও আমোদিত করে। আবার কখনো তাকে ব্যথিত ও ভীতসন্ত্রস্ত করে। যদি কেউ ভীতি-জাগানিয়া স্বপ্ন দেখে, তাহলে তার কয়েকটি করণীয়। হাদিসে এসব কাজ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে–

এক. স্বপ্নের অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। তিনবার ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২)

খারাপ স্বপ্ন থেকে বাঁচার দোয়া

এ ক্ষেত্রে হাদিসে একটি দোয়া বর্ণিত হয়েছ। দোয়াটি হলো– ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন শাররি হাজিহির রু’ইয়া।’ অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এই ভয়ংকর স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
দুই. শরীরের বাঁ দিক করে তিনবার (বাতাসে আদ্র ধরনের) থুথু নিক্ষেপ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬১)

তিন. যে কাত হয়ে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে, সে কাত পরিবর্তন করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে শোবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২) অবস্থা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিতস্বরূপ এটা করা হয়ে থাকে।

চার. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারও কাছে বলবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৮৩)

পাঁচ. নামাজ পড়বে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬৩)

#ইসলাম #ইসলামিক #দাওয়াহ #আল্লাহ #মুহাম্মাদ #কুরআন #সুন্নাহ #ওয়াজ #নারী #নারীদের #হাদিস
#

Address

Https://www. Youtube. Com/channel/UCnC7dCqdT3emj755ypWqs5A
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dawah Sista posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share