Tikatuly Jame Masjid - টিকাটুলি জামে মসজিদ

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Tikatuly Jame Masjid - টিকাটুলি জামে মসজিদ

Tikatuly Jame Masjid - টিকাটুলি জামে মসজিদ Community Organization

02/11/2025

প্রশ্ন (২৬): কোনো ব্যক্তি মারা গেলে মাইকিং করে তার মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া যাবে কি
উত্তর : না, মাইকিং করে মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া যাবে না। কেননা এটি জাহেলী প্রথা। তবে নিকটাত্মীয়, পরিচিতজন ও মুসলিমদের নিকটে সাধারণভাবে টেলিফোন, মোবাইল কিংবা সামাজিক যেকোনো যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যু সংবাদ জানাতে পারবে। হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশী মৃত্যুবরণ করলে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যু সংবাদ মুসলমানদের জানিয়ে দেন এবং জানাযার ছালাত আদায় করেন (ছহীহ বুখারী, হা/১২৪৫)।


মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা:
মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা জাহেলী আদর্শ। এ ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হুযায়ফাহ (রাঃ) বলেন, يَنْهَى عَنِ النَّعْيِ রাসূল (ছাঃ) মৃত্যু সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করতেন।[1] মৃত্যু সংবাদ প্রচারের নামে শোক প্রকাশ করে কোন লাভ হয় না। শুধু লোক দেখানোই হয়। তার প্রমাণ হল, সব জানাযাতে লোকের সংখ্যা এক রকম হয় না। কারো জানাযায় হাযার হাযার লোক হয়, আবার কারো জানাযায় একশ’ লোকও জুটে না। অথচ সব মাইয়েতের জন্যই মাইকিং করা হয়। সুতরাং এতে কোন ফায়েদা নেই। এটা মূলতঃ ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ও গুণের কারণ। তাছাড়া শুভাকাঙ্খী হলে এমনিতেই সে মৃত্যু সংবাদ শুনতে পাবে, মাইকিং করে জানানো লাগবে না।
উল্লেখ্য যে, মারা যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিৎ তার উত্তরসূরী ও আত্মীয়-স্বজনকে অছিয়ত করে যাওয়া, যেন তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ‘আতী কর্মকান্ড অনুষ্ঠিত না হয়। বিশেষ করে বিলাপ করা ও বিভিন্ন কথার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করা। কারণ সাবধান করে না গেলে বা এর প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে এ জন্য তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
أَلاَ تَسْمَعُوْنَ إِنَّ اللهَ لاَ يُعَذِّبُ بِدَمْعِ الْعَيْنِ وَلاَ بِحُزْنِ الْقَلْبِ وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا وَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ أَوْ يَرْحَمُ وَإِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ. وَكَانَ عُمَرُ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ يَضْرِبُ فِيْهِ بِالْعَصَا وَيَرْمِىْ بِالْحِجَارَةِ وَيَحْثِى بِالتُّرَابِ.
‘তোমরা কি শুননি, নিশ্চয়ই আল্লাহ চোখের কান্না ও অন্তরের চিন্তার কারণে শাস্তি দিবেন না; বরং তিনি শাস্তি দিবেন এর কারণে। অতঃপর তিনি তার জিহবার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা তার উপর রহম করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মাইয়েতকে তার পরিবারের কান্নার কারণে শাস্তি দেন। ওমর (রাঃ) এ জন্য লাঠিপেটা করতেন, পাথর মারতেন এবং মাটি নিক্ষেপ করতেন।[2]

[1]. তিরমিযী হা/৯৮৬, ১/১৯২ পৃঃ; ইবনু মাজাহ হা/১৪৭৬, পৃঃ ১০৬, ‘জানাযা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৪, সনদ হাসান।

[2]. ছহীহ বুখারী হা/১৩০৪, ১/১৭৪ পৃঃ, (ইফাবা হা/১২২৬, ২/৩৮৭ পৃঃ); ছহীহ মুসলিম হা/২১৭৬; মিশকাত হা/১৭২৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৬৩২, ৪/৮৪, ‘জানাজা’ অধ্যায়।

প্রশ্ন (২৯/২৬৯) : মানুষ মারা গেলে মাইকে কিংবা মোবাইলে সংবাদ প্রচার করা যাবে কি?
উত্তরঃ মোবাইলে সংবাদ দেয়া যাবে। তবে মাইকে প্রচার করা যাবে না। কারণ মাইক ও মোবাইলে সংবাদ প্রচার এক নয়। মাইকের মাধ্যমে সকল জনতার কাছে শোক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এটা ‘নাঈ’ অর্থাৎ বিলাপ হিসাবে গণ্য হবে। হাদীছে শোক সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে (ছহীহ তিরমিযী হা/৯৮৬, সনদ হাসান)। হাদীছে এসেছে সংবাদ জানিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আবেদন করে সংবাদ দিতে পারে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেছেন (বুখারী হা/১২৪৫; মুসলিম হা/৯৫১)।


প্রশ্ন (৫) : ইসলামে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা নিষেধ। কিন্তু ইদানিং অনলাইনে ব্যাপকভাবে ‘মৃত্যু সংবাদ’ প্রচার করা হয়। প্রশ্ন হল, অনলাইনে মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা যাবে কি?

উত্তর : মৃত্যু সংবাদ জানানোর জন্য মসজিদে বা বাজারে-গ্রামে যেভাবে মাইকিং করা হয়, তা শরী‘আত সম্মত নয় (তিরমিযী হা/৯৮৬, সনদ হাসান)। অনুরূপ মসজিদের বোর্ডে কারো মৃত্যু সংবাদ লিখে প্রকাশ করাও জায়েয নয়। তবে নিকটাত্মীয় ও স্বজনদেরকে জানানোর জন্য মোবাইল বা অনলাইনে অবহিত করা জায়েয (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৯/১৪২ পৃ.)।


ইসলামের দৃষ্টিতে শোক সংবাদ তিন প্রকারের। যথা-
(১) হারাম শোক সংবাদ : যে প্রচারণা জাহিলী যুগের প্রচারণার ন্যায়। অর্থাৎ সাধারণ বাজার ও গণজমায়েতের স্থানগুলোতে ঘোষণার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর সংবাদ জ্ঞাতকরণ করা এবং সেই সাথে মৃত ব্যক্তির বংশীয় গৌরব ও তার কীর্তিগুলো উল্লেখ করা কিংবা ঘোষণার সাথে বিলাপ, হাহাকার, আর্তনাদ ও হাহুতাশ প্রকাশ করা (হাশিয়াতুল জামাল ‘আলা শারহিল মানহাজ, ৩/৬৮৭ পৃ.)।

(২) মাকরূহ শোক সংবাদ : বংশীয় গৌরবগাঁথা কিংবা কীর্তি উল্লেখ না করে ঘোষণার মাধ্যমে মৃত্যু সংবাদ জ্ঞাতকরণ করা ও স্বর উচ্চ করা।

(৩) মুবাহ বা বৈধ শোক সংবাদ : কোন ঘোষণা ব্যতীত শুধু মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদটা জ্ঞাতকরণ করা। আলেমগণ বলেন, কোন ঘোষণা ব্যতীত শুধু জানাযার ছালাতের সময়কাল জ্ঞাতার্থে মৃত্যুর সংবাদটা জ্ঞাতকরণ করা বৈধ (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/১২৭; হাশিয়াতুদ দাসুক্বী, ১/২৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, ৩/২০)। ছহীহ সুন্নাহর দলীলগুলো শেষ প্রকারের মৃত্যু সংবাদ বৈধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে। যেমন নবী (ﷺ) নাজাশীর ক্ষেত্রে, মুতা যুদ্ধের শহীদদের ক্ষেত্রে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জানিয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৩২৮, ১৩৩৩, ৪৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৫৬)।

কাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সংবাদটি তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদেরকে জ্ঞাপন করাতে কোন আপত্তি নেই, যাতে করে তারা জানাযার ছালাত আদায় করা, দু‘আ করা ও দাফনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির হক্ব আদায় করতে পারে। আর যেহেতু এই ধরণের সংবাদ দেয়ার মধ্যে নেক কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রস্তুতি নেয়ার প্রতি উৎসাহিতকরণ রয়েছে, তাই এটি নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত এবং ভাল কাজের মাধ্যম হওয়া ও সন্ধান দেয়ার পর্যায়ভুক্ত হবে’ (বাদায়িউছ ছানায়ী, ৩/২০৭ পৃ.)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘কেউ মারা গেলে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদেরকে আহ্বান করা জায়েয, যাতে করে তারা জানাযার ছালাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য দু‘আ করতে পারে, তার লাশের সাথে যেতে পারে এবং তার দাফনকর্মে সহযোগিতা করতে পারে। কেননা নাজাশী বাদশাহ যখন মারা গিয়েছিলেন তখন নবী (ﷺ) তাঁর সাথীবর্গকে তার মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যাতে করে তারা তার জানাযার ছালাত আদায় করতে পারেন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৮/৪০২ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমূহ যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার ও ওয়াটস্আপ ইত্যাদিতে কিংবা ইমেইলে ও মোবাইল ম্যাসেজে কারো মৃত্যু সংবাদ প্রচার করাতে কোন আপত্তি নেই। এক্ষেত্রে মূল উদ্দেশ্যে হল, যাতে করে মানুষ তার জানাযার ছালাতে উপস্থিত হতে পারে, মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারে কিংবা মৃতের পরিবার-পরিজনের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা জ্ঞাপন করতে পারে। এ অবহিতকরণ মূলত ঐ সমস্ত নেক কাজের মাধ্যম (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৩১০২৯)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে পত্র-পত্রিকায় মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘খবর হিসাবে প্রচার করার ক্ষেত্রে এর মধ্যে কোন আপত্তিকর বিষয় আছে বলে আমাদের মনে হয় না (মাসায়িলুল ইমাম বিন বায, পৃ. ১০৮)।

20/09/2025

পরিচ্ছেদঃ ১১: সালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার স্থান

হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৮৮৯, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৮৯০
৮৮৯. সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহ.) ..... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মনে মনে বললাম, আমি নিশ্চয় লক্ষ্য করব রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সালাতের প্রতি, তিনি কিরূপে সালাত আদায় করেন। আমি তার দিকে তাকালাম। তিনি (সা.) দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন এবং তাঁর দু’হাত তুললেন। আর দু’হাত কর্ণদ্বয়ের বরাবর হল, তারপর তিনি তাঁর ডান হাত রাখলেন বাম হাতের উপর অর্থাৎ বাম হাতের কজি ও বাহুর ওপর রাখলেন। যখন তিনি রুকূ করার ইচ্ছা করলেন তখন দু’হাত পূর্বের মতো উঠালেন। রাবী বলেন, রুকূ’তে তিনি তার দু’হাত দু’হাটুর উপর রাখলেন। তারপর যখন মাথা উঠালেন তখন পর্বের মতো দু’হাত উঠালেন। তারপর তিনি সিজদা করলেন, তিনি তার হাতের তালুদ্বয় স্থাপন করলেন তাঁর দু’কান বরাবর। তারপর তিনি বসলেন, তিনি বিছিয়ে দিলেন তার বাম পা। আর তার বাম হাতের তাল রাখলেন তার বাম হাঁটু ও রানের উপর। আর ডান কনুইয়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ডান রানের উপর রাখলেন। পরে তাঁর দু’টি অঙ্গুলি (বৃদ্ধ ও মধ্যমা) টেনে তা দিয়ে গোলাকার বানালেন এবং তারপর একটি অঙ্গুলি উঠালেন। আমি দেখলাম, তিনি তা নাড়ছেন এবং তা দ্বারা দু’আ করছেন।

باب موضع اليمين من الشمال في الصلاة

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، ‏‏‏‏‏‏قال:‏‏‏‏ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، ‏‏‏‏‏‏عَنْ زَائِدَةَ، ‏‏‏‏‏‏قال:‏‏‏‏ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ قال:‏‏‏‏ حَدَّثَنِي أَبِي، ‏‏‏‏‏‏أَنَّ وَائِلَ بْنَ حُجْرٍ أَخْبَرَهُ، ‏‏‏‏‏‏قال:‏‏‏‏ قُلْتُ لَأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يُصَلِّي فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَقَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بِأُذُنَيْهِ، ‏‏‏‏‏‏ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا قَالَ:‏‏‏‏ وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ لَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ رَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا، ‏‏‏‏‏‏ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ كَفَّيْهِ بِحِذَاءِ أُذُنَيْهِ، ‏‏‏‏‏‏ثُمَّ قَعَدَ وَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ وَرُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَجَعَلَ حَدَّ مِرْفَقِهِ الْأَيْمَنِ عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، ‏‏‏‏‏‏ثُمَّ قَبَضَ اثْنَتَيْنِ مِنْ أَصَابِعِهِ وَحَلَّقَ حَلْقَةً، ‏‏‏‏‏‏ثُمَّ رَفَعَ إِصْبَعَهُ فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا .

تخریج دارالدعوہ: سنن ابی داود/الصلاة ۱۱۶ (۷۲۶)،۱۸۰ (۹۵۷)، سنن ابن ماجہ/إقامة ۱۵ (۸۶۸)، (تحفة الأشراف: ۱۱۷۸۱)، مسند احمد ۴/۳۱۶، ۳۱۷، ۳۱۸، ۳۱۹، ویأتی عند المؤلف بأرقام: ۱۱۰۳، ۱۲۶۴، ۱۲۶۶، ۱۲۶۹ (صحیح)

صحيح وضعيف سنن النسائي الألباني: حديث نمبر 890 - صحيح

اخبرنا سويد بن نصر، ‏‏‏‏‏‏قال:‏‏‏‏ انبانا عبد الله بن المبارك، ‏‏‏‏‏‏عن زاىدة، ‏‏‏‏‏‏قال:‏‏‏‏ حدثنا عاصم بن كليب قال:‏‏‏‏ حدثني ابي، ‏‏‏‏‏‏ان واىل بن حجر اخبره، ‏‏‏‏‏‏قال:‏‏‏‏ قلت لانظرن الى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يصلي فنظرت اليه فقام فكبر ورفع يديه حتى حاذتا باذنيه، ‏‏‏‏‏‏ثم وضع يده اليمنى على كفه اليسرى والرسغ والساعد فلما اراد ان يركع رفع يديه مثلها قال:‏‏‏‏ ووضع يديه على ركبتيه ثم لما رفع راسه رفع يديه مثلها، ‏‏‏‏‏‏ثم سجد فجعل كفيه بحذاء اذنيه، ‏‏‏‏‏‏ثم قعد وافترش رجله اليسرى ووضع كفه اليسرى على فخذه وركبته اليسرى وجعل حد مرفقه الايمن على فخذه اليمنى، ‏‏‏‏‏‏ثم قبض اثنتين من اصابعه وحلق حلقة، ‏‏‏‏‏‏ثم رفع اصبعه فرايته يحركها يدعو بها . تخریج دارالدعوہ: سنن ابی داود/الصلاة ۱۱۶ (۷۲۶)،۱۸۰ (۹۵۷)، سنن ابن ماجہ/إقامة ۱۵ (۸۶۸)، (تحفة الأشراف: ۱۱۷۸۱)، مسند احمد ۴/۳۱۶، ۳۱۷، ۳۱۸، ۳۱۹، ویأتی عند المؤلف بأرقام: ۱۱۰۳، ۱۲۶۴، ۱۲۶۶، ۱۲۶۹ (صحیح) صحيح وضعيف سنن النساىي الالباني: حديث نمبر 890 - صحيح
সহীহ: আবু দাউদ ৭২৬, তিরমিযী ২৯২, ইবনু মাজাহ ৮৬৭, দারিমী ১৩৫৭, মুসনাদে হুমায়দী ৮৮৫, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ ৪৭৭, সহীহ আবু দাউদ ৭১৭, ইরওয়াউল গালীল ২/৬৮-৬৯।

20/09/2025

পরিচ্ছেদঃ ১৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাশাহুদ

৯১১-[৬] ওয়ায়িল ইবনু হূজর (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি (তাশাহুদের বৈঠক সম্পর্কে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিলেন। বাম হাতকে বাম রানের উপর রাখলেন। এভাবে তিনি ডান কনুইকে ডান রানের উপর বিছিয়ে রাখলেন। এরপর (নব্বইয়ের বন্ধনের ন্যায়) ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা বন্ধ করলেন। (মধ্যমা ও বৃদ্ধার দ্বারা) একটি বৃত্ত বানালেন এবং শাহাদাত আঙ্গুল উঠালেন। এ সময় আমি তাঁকে দেখলাম, তিনি তাশাহুদ পাঠ করতে করতে ইশারা করার জন্য শাহাদাত আঙ্গুল নাড়ছেন। (আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

وَعَن وَائِلِ بْنِ حَجَرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَحَدَّ مِرْفَقَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ ثِنْتَيْنِ وَحَلَّقَ حَلْقَةً ثُمَّ رَفَعَ أُصْبُعَهُ فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد والدارمي

وعن واىل بن حجر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ثم جلس فافترش رجله اليسرى ووضع يده اليسرى على فخذه اليسرى وحد مرفقه اليمنى على فخذه اليمنى وقبض ثنتين وحلق حلقة ثم رفع اصبعه فرايته يحركها يدعو بها. رواه ابو داود والدارمي
[1] সহীহ : নাসায়ী ৮৮৯, ইরওয়া ৩৬৭, আবূ দাঊদ ৭২৬। তবে আবূ দাঊদে আঙ্গুল নাড়ানোর কথা নেই।

মাসআলাহ : তাশাহহুদে আঙ্গুল উত্তোলন ও নাড়ানো(১) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে ...
20/09/2025

মাসআলাহ : তাশাহহুদে আঙ্গুল উত্তোলন ও নাড়ানো

(১) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন এবং ডান হাতের সবগুলো আঙ্গুল মুষ্ঠিবদ্ধ করে তর্জনী দ্বারা কিবলার দিকে ইঙ্গিত করতেন এবং এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন। [মুসলিম, আবূ ‘আওয়ানাহ ও ইবনু খুযাইমাহ। হাদীসটি হুমাইদী স্বীয় মুসনাদে- (১৩১/১) এবং আবূ ই‘য়ালা (২৭৫/১) ইবনু ‘উমার থেকে সহীহ সনদে এ বর্ধিত অংশটুকু বর্ণনা করেন যে, ‘‘এটি শয়তানকে আঘাতকারী, কেউ যেন এমনটি করতে না ভুলে, (এই বলে) হুমাইদী স্বীয় অঙ্গুলি খাড়া করলেন, হুমাইদী বলেন, মুসলিম ইবনু আবূ মারইয়াম বলেছেন, আমাকে জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি স্বপ্নে নাবীগণকে সিরিয়ার এক গীর্জায় স্বাকারে সালাত আদায় অবস্থায় এমনটি করতে দেখেছেন (এই বলেন) হুমাইদী স্বীয় অঙ্গুলি উঠান।’’ আলবানী (রহঃ) বলেন, এটি একটি দুষ্প্রাপ্য অজানা উপকারী তথ্য, এর সানাদ ঐ ব্যক্তিটি পর্যন্ত সহীহ]

(২) অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করা কালে কখনও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার উপর রাখতেন। (মুসলিম ও আবূ ‘আওয়ানাহ)

(৩) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো উক্ত অঙ্গুলিদ্বয় দ্বারা গোলাকৃতি করতেন এবং অঙ্গুলি উঠিয়ে নাড়ানো পূর্বক দু‘আ করতেন। [আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনুল জারুদ ‘আল-মুনতাক্বা’ (২০৮), ইবনু খুযাইমাহ (১/৮৬/১-২), সহীহ ইবনু হিব্বান (৪৮৫) সহীহ সনদে। ইবনু মুলাক্বিন একে সহীহ বলেছেন (২৮/২)। অঙ্গুলি নাড়ানোর হাদীসের পক্ষে ইবনু ‘আদীতে সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে (২৮৭/১)। ‘উসমান ইবনু মুকসিম বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেন, তিনি এমন পর্যায়ের যঈফ রাবী যার হাদীস লিখা যাবে। হাদীসের শব্দ ‘এর মাধ্যমে দু‘আ করতেন’ এর মর্ম সম্পর্কে ইমাম ত্বাহাবী বলেন, এতে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, এটি সালাতের শেষাংশে ছিল]

(৪) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এটি (তর্জনী) শয়তানের বিরুদ্ধে লোহা অপেক্ষা কঠিন। [আহমাদ, বাযযার, আবূ জা‘ফার, বাখতূরী ‘আল-আমলী’ (৬০/১), ত্বাবারানী ‘আদ্দু‘আ’ (ক্বাফ৭৩/১), ‘আবদুল গনী মাক্বসিদী ‘আস-সুনান’ (১২/২) হাসান সনদে, রুইয়ানী তার মুসনাদ (২৪৯/২) এবং বায়হাক্বী]

(৫) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ (এটা পরিত্যাগের উপরে) একে অপরকে জবাবদিহি করতেন অর্থাৎ অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করার বেলায় তারা এমনটি করতেন। [ইবনু আবূ শায়বাহ (২/১২৩/২) হাসান সনদে]

(৬) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় তাশাহহুদেই এই ‘আমল করতেন। (নাসায়ী ও বায়হাক্বী সহীহ সনদে)

(৭) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দুই অঙ্গুলি দিয়ে দু‘আ করতে দেখে বললেনঃ একটি দিয়ে কর, একটি দিয়ে কর এবং তর্জনী দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। [ইবনু আবূ শায়বাহ (১২/৪০/১, ২/১২৩/২), নাসায়ী, ইমাম হাকিম একে সহীহ প্রমাণ করেছেন এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং এর সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা ইবনু আবূ শায়বাহর নিকট রয়েছে]

এ সম্পর্কে বিভিন্ন মত ও পর্যালোচনাঃ

ইমাম নাববী বলেনঃ তাশাহহুদের ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় ইশারা করতে হবে। সুবুলুস সালাম প্রণেতা বলেনঃ বায়হাক্বীর বর্ণনানুসারে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় এরূপ করতে হবে। আল্লামা ত্বীবী ইবনু ‘উমার বর্ণিত একটি হাদীসের বরাত দিয়ে বলেনঃ ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় ইশারা করতে হবে, যাতে কথায় ও কাজে তাওহীদের সামঞ্জস্য হয়ে যায়। মোল্লা ‘আলী ক্বারী হানফী বলেনঃ হানাফী মতে ‘লা ইলাহা’ বলার সময় তর্জনী আঙ্গুল তুলতে হবে এবং ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় তা রেখে দিতে হবে। আল্লামা ‘আবদুর রহমান মুবারকপুরী বলেনঃ ঐসব মতের কোনটারই প্রমাণে আমি কোন সহীহ হাদীস পাইনি। (দেখুন, তুহফাতুল আহওয়াযী ১/২৪২)

উল্লেখ্য, শাফিঈদের মতেঃ ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙ্গুল দিয়ে একবার ইশারা করতে হবে। মালিকীদের মতেঃ আত্তাহিয়্যাতুর শুরু থেকে সালাম পর্যন্ত আঙ্গুলটিকে ডানে ও বামে নাড়াতে হবে। আর হাম্বালীদের মতেঃ যখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ হবে তখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করবে, কিন্তু তা নাড়াবে না। (দেখুন, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৭০, আইনী তুহফা)

সালাতুর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রন্থে রয়েছেঃ তাশাহহুদের বৈঠকের সময় বাম হাতের আঙ্গুলগুলো বাম হাঁটুর প্রান্ত বরাবর কিবলামুখী ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে এবং ডান হাত ৫৩-এর ন্যায় মুষ্টিবদ্ধ থাকবে এবং শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে- (মুসলিম, মিশকাত হা/৯০৬, ৯০৭)। সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত ইশারা করতে থাকবে- (মুসলিম, মিশকাত হা/৯০৭-৯০৮, আবূ দাউদ, নাসাঈ, দারিমী)। ইশারার সময় আঙ্গুল সামান্য হেলিয়ে উঁচু রাখা যায়- (নাসাঈ হা/১২৭৫)। একটানা নাড়াতে গেলে এমন দ্রুত নাড়ানো উচিত নয়, যা পাশের মুসল্লীর দৃষ্টি কেড়ে নেয়- (মুত্তাঃ মিশকাত হা/৭৫৭, মিরআত ১/৬৬৯)। ‘আশহাদু’ বলার সময় আঙ্গুল উঠাবে ও ‘ইল্লাল্লা-হু’ বলার সময় আঙ্গুল নামাবে’ বলে যে কথা চালু আছে তার কোন ভিত্তি নেই- (তাহক্বীক্ব মিশকাত অনুঃ ‘তাশাহহুদ’ হা/৯০৬, টিকা নং ২)। মুসল্লীর নযর ইশারা বরাবর থাকবে। তার বাইরে যাবে না- (আহমাদ, আবূ দাউদ, মিশকাত হা/৯১১, ৯১২, ৯১৭)।

* হাফিয ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদের জন্য বসতেন, তখন বাম ঊরূর উপর বাম হাত এবং ডান ঊরূর উপর ডান হাত রাখতেন। ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা কিবলার দিকে ইংগিত করতে থাকতেন। এ সময় আঙ্গুলটি পুরোপুরি দাঁড় করাতেন না, আবার নিচু করেও রাখতেন না, বরং উপরের দিকে ঈষৎ উঠিয়ে রাখতেন এবং নাড়াতে থাকতেন। বুড়ো আঙ্গুল মধ্যমার উপর রেখে একটা বৃত্তের মতো বানাতেন আর শাহাদাত আঙ্গুল (তর্জনী) উঁচিয়ে দু‘আ করতে থাকতেন এবং সেটির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখতেন। এ সময় বাম ঊরূর উপর বাম হাত বিছিয়ে রাখতেন। (দেখুন, যাদুল মা‘আদ)

তিনি দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকেও অনুরূপ করতেন। তিনি শাহাদাত অঙ্গুলি উপরের দিকে উঠিয়ে দু‘আ পড়তে থাকতেন এবং সেটিকে নাড়াতেন। এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ)।

আবূ দাউদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর থেকে এ সম্পর্কে যে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, তাতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) বলেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ পড়ার সময় শাহাদাত অঙ্গুলি দিয়ে ইশারা করতে থাকতেন, নাড়াতেন না।’’

এই ‘নাড়াতেন না’ কথাটি পরবর্তীতে কেউ (কোন বর্ণনাকারী) বাড়িয়ে বলেছেন বলে মনে হয়। কারণ এ কথাটুকুর বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থেও ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। তাতে তিনি এই বর্ধিতাংশ অর্থাৎ ‘নাড়াতেন না’ কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং তাতে তিনি এভাবে বলেছেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে বসতেন তখন বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর রাখতেন। ডান হাত ডান উরূর উপর রাখতেন এবং তর্জনী দিয়ে ইশারা করতেন।’’ আবূ দাউদের হাদীসে যে ‘নাড়াতেন না’ কথাটি আছে, সেটা এখানে নেই। তাছাড়া আবূ দাউদের হাদীসের এই ‘নাড়াতেন না’ কথাটি যে সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সে কথা বলা হয়নি। এক্ষেত্রে ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ)-এর হাদীস মজবুত ও অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। তাছাড়া আবূ হাতিম তাঁর সহীহ সংকলনে বলেছেন, এটি সহীহ হাদীস।

* শায়খ ‘আবদুল ‘আযীয বিন বায (রহঃ) বলেনঃ মুসল্লীর জন্য সুন্নাত হচ্ছে তাশাহহুদের সময় ডান হাতের অঙ্গুলিগুলো মুষ্ঠিবদ্ধ করবে এবং দু‘আকালে তাওহীদের ইশারা স্বরূপ তর্জনী অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে ও হালকাভাবে নাড়াবে। (দেখুন, ফাতাওয়াহ শায়খ বিন বায, ১১/১৮৫)

* শায়খ সালিহ আল-উসাইমিন (রহঃ) বলেছেনঃ তর্জনী আঙ্গুল নাড়ানো শুধুমাত্র দু‘আর সময় হবে। পুরো তাশাহহুদে নয়। যেমনটি হাদীসে এসেছেঃ ‘‘তিনি তা নাড়াতেন ও দু‘আ করতেন।’’- (ফাতহুর রব্বানী-৩/১৪৭, সানাদ হাসান)। এর কারণ হচ্ছেঃ দু‘আ আল্লাহর কাছেই করা হয়। আর মহান আল্লাহ আসমানে আছেন। তাই তাঁকে আহবান করার সময় উপরে আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করবে। আল্লাহ বলেনঃ ‘‘তোমরা কি নিরাপদে আছো সেই সত্ত্বা থেকে যিনি আসমানে আছেন...’’- (সূরাহ মুলক : আয়াত ১৬-১৭)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে কর না? অথচ যিনি আসমানে আছেন আমি তাঁর আমানতদার’’- (বুখারী ও মুসলিম)। এ কারণে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজ্জে খুত্ববাহ্ প্রদান করে বলেন, ‘‘আমি কি পৌঁছিয়েছি?’’ তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি আসমানের দিকে আঙ্গুল উঠালেন এবং লোকদের দিকে আঙ্গুলটিকে ঘুরাতে থাকলেন এবং বললেন, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।’’ এর দ্বারা প্রমাণিত হয় আল্লাহ সকল বস্ত্তর উপরে অবস্থান করেন। এ বিষয়টি বিবেক যুক্তি ও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সুষ্পষ্ট ও সুপ্রমাণিত। এ ভিত্তিতে আপনি যখনই আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকবেন তাঁর কাছে দু‘আ করবেন, তখনই আসমানের দিকে তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবেন এবং তা নাড়াবেন। আর অন্য অবস্থায় তা স্থির রাখবেন।

এখন আমারা অনুসন্ধান করি তাশাহহুদে দু‘আর স্থানগুলোঃ (১) আসসালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। (২) আসসালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস্ সলিহীন। (৩) আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলি মুহাম্মাদ। (৪) আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলি মুহাম্মাদ। (৫) আ‘উযুবিল্লাহি মিন ‘আযাবি জাহান্নাম। (৬) ওয়া মিন ‘আযাবিল ক্বাবরি। (৭) ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাত। (৮) ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জাল। এ আটটি স্থানে আঙ্গুল নাড়াবে এবং তা আকাশের দিকে উত্থিত করবে। এগুলো ছাড়া অন্য কোন দু‘আ পাঠ করলেও আঙ্গুল উপরে উঠাবে। কেননা দু‘আ করলেই আঙ্গুল উপরে উঠাবে। (দেখুন, ফাতাওয়াহ আরকানুল ইসলাম, ২৫৪ নং প্রশ্নের জবাব)

* শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ সুন্নাত হলো সালাম ফিরানো পর্যন্ত আঙ্গুলের ইঙ্গিত ও দু‘আ চালু রাখা, কেননা দু‘আর ক্ষেত্র সালামের পূর্বে, এটি ইমাম মালিক ও অন্যান্যদের গৃহিত মতও বটে। ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাতে কি মুসল্লী ব্যক্তি স্বীয় অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করবে? উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কঠিনভাবে। এটি ইবনু হানি স্বীয় মাসায়িলি আনিল ইমাম আহমাদ গ্রন্থে (৮০ পৃষ্ঠায়) উল্লেখ করেছেন।

আমি বলতে চাইঃ এত্থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাশাহহুদে আঙ্গুলি নাড়ানো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুসাব্যস্ত সুন্নাত। যার উপরে ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য হাদীসের ইমামগণ আমল করেছেন। অতএব যেসব লোকেরা এ ধারণা পোষণ করেন যে, এটি সালাতের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অনর্থক কাজ এবং এ কারণে সাব্যস্ত সুন্নাত জানা সত্ত্বেও অঙ্গুলি নাড়ায় না- উপরন্তু আরবী বাকভঙ্গির বিপরীত ব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালায় যা ইমামগণের বুঝেরও বিপরীত, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে। আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তাদের কেউ এই মাসআলাটি ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে হাদীস বিরোধী কথায় ইমামের সাফাই গায় এই যুক্তিতে যে, ইমামের ভুল ধরা তাকে দোষারোপ ও অসম্মান করার নামান্তর। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা সে কথা ভুলে গিয়ে এই সুসাব্যস্ত ও প্রমাণিত হাদীস পরিত্যাগ করে এবং এর উপর ‘আমলকারীদেরকে বিদ্রূপ করে। অথচ সে জানুক বা না জানুক তার এ বিদ্রূপ ঐসব ইমামদেরকেও জড়াচ্ছে যাদের বেলায় তার অভ্যাস হলো বাত্বিল দ্বারা হলেও তাদের সাফাই গাওয়া। বস্ত্তত এক্ষেত্রে তাঁরা (ঐসব ইমামগণ) সুন্নাত সম্মত কথাই বলেছেন। বরং তার এ বিদ্রূপ স্বয়ং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গড়াচ্ছে। কেননা তিনিই তো আমাদের নিকট এটি নিয়ে এসেছেন। অতএব এটিকে কটাক্ষ করা মুলতঃ তাঁকে কটাক্ষ করাই নামান্তর। আর ইঙ্গিত করার পরেই আঙ্গুল নামিয়ে ফেলা অথবা ‘লা’ বলে উঠানো এবং ‘ইল্লাল্লাহু’ বলে নামানো- হাদীসে এগুলোর কোনই প্রমাণ নেই। বরং (‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুল উঠিয়ে তা নাড়ানোর মাধ্যমে দু‘আ করতেন’’- সহীহ সনদে বর্ণিত) এ হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী তা হাদীস বিরোধী কাজ। এমনিভাবে যে হাদীসে আছে যে, তিনি অঙ্গুলি নাড়াতেন না- এ হাদীস সনদের দিক থেকে সাব্যস্ত নয়। যেমন আমি তা যঈফ আবূ দাউদে তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ করেছি। আর যদি সাব্যস্ত ধরেও নেয়া হয় তথাপি এটি হচ্ছে না বোধক। হাঁ বাচক না বাচকের উপর প্রাধান্যযোগ্য- যা আলিম সমাজে জানা-শুনা বিষয়। সুতরাং অস্বীকারকারীদের কোন প্রমাণ অবশিষ্ট থাকলো না। (দেখুন, সিফাতু সালাতিন্ নাবী- সাঃ)

16/07/2025

আল্লাহ ততক্ষণ বান্দাকে সাহায্য করতে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে

📌 এই একটি বাক্য সৎকর্মশীল সমাজসেবী মুসলিমদের যতটা উদ্বুদ্ধ করতে পারে, আর কোন কিছুই বোধহয় এতটা উদ্বুদ্ধ করবে না। অন্য হাদীসে নবী (সা.) বলেন:
وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ
যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকেন!
[বুখারী (২৪৪২), মুসলিম (২৫৮০)]

✅ পরোপকারের পুরস্কার হিসেবে আর কী চাই?

কুরআনের আয়াত বা সাধারণ আরবি অক্ষর দ্বারা ক্যালিগ্রাফি সংক্রান্ত জরুরি কয়েকটি বিধান:প্রশ্ন: কুরআনের আয়াত কিংবা আরবি হরফ দ...
14/08/2024

কুরআনের আয়াত বা সাধারণ আরবি অক্ষর দ্বারা ক্যালিগ্রাফি সংক্রান্ত জরুরি কয়েকটি বিধান:
প্রশ্ন: কুরআনের আয়াত কিংবা আরবি হরফ দ্বারা রাস্তার দেওয়ালে ক্যালিগ্রাফি করার বিধান কী? অনুরূপভাবে ঘর ডেকোরেশনের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি কৃত ফলক বা ক্যালেন্ডার ঝুলানোর বিধান কী?
উত্তর:
রাস্তা, মসজিদ বা বাড়ির দেওয়াল, প্রাচীর ইত্যাদির সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত দ্বারা ক্যালিগ্রাফি করা জায়েজ নেই। অনুরূপভাবে ঘর ডেকোরেশনের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি সম্বলিত ফলক ঝুলানোও জায়েজ নয়। সর্বনিম্ন তা অ পছন্দনীয় কাজ। কারণ আল্লাহ তায়ালা ঘরবাড়ি বা দেওয়ালের ডেকোরেশন বা শোভা বর্ধনের উদ্দেশ্যে কুরআন নাজিল করেননি। সুতরাং তা কুরআনকে অপাত্রে ব্যবহার করার অন্তর্ভুক্ত।
❑ কুরআন নাজিলের উদ্দেশ্য:
কুরআন হলো, মানবজাতির গাইডবুক ও সংবিধান। মহান আল্লাহ তা নাজিল করেছেন এ জন্য যে, মানুষ কুরআন তিলাওয়াত করবে, কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং তদনুযায়ী আমল করবে। তৎসঙ্গে কুরআনের বিধানাবলীকে মানুষ তাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি ইত্যাদি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ ঘটাবে।
এ মর্মে কুরআন-হাদিসে পর্যাপ্ত বক্তব্য এসেছে। নিম্নে এ বিষয়ে কয়েকটি আয়াত ও হাদিস পেশ করা হলো:
✪ এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, (হে নবি আপনি বলুন যে),
وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ-‏ وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ
“আমি আরও আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের (আল্লাহর উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণকারীদের) দলভুক্ত হই এবং যেন আমি কুরআন তিলাওয়াত করি।” [সূরা নামল: ৯১-৯২]
✪ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
“আর আপনার নিকট পাঠিয়েছি উপদেশ গ্রন্থ (কুরআন) যেন আপনি মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে তা বিবৃত করে দেন, যা তাদের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ করা হয়েছে। হয়ত এতে তারা চিন্তা-ভাবনা করবে।” [সূরা আনআম: ৪৪]
✪ তিনি আরও বলেন,
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلۡقُرۡءَانَ أَمۡ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقۡفَالُهَآ
“তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?” [সূরা মোহাম্মাদ: ২৪]
তিনি আরও বলেন,
‏ وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
“আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব কোন চিন্তাশীল আছে কি? ” [সূরা কামার: ১৭]
✪ কুরআনের পরিচয় বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ

‘রমজান মাস; যে মাসে মানুষের পথ নির্দেশনা এবং সঠিক পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও (সত্য-মিথ্যার মাঝে) পার্থক্য নিরূপণকারী হিসেবে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।” [সূরা বাকরা: ১৮৫]
✪ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ ».
“আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, তোমরা বিভ্রান্ত হবে না যতদিন এ দুটি আঁকড়ে থাকবে। আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং তাঁর নবির সুন্নাহ (হাদিস)।” [মুয়াত্তা মালিক : ৩৩৩৮]
এ ছাড়া বহু আয়াত ও হাদিসে কুরআন নাজিলের উদ্দেশ্য বিবৃত হয়েছে। তাই আমাদের কর্তব্য, কুরআনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়া এবং কুরআনকে অপাত্রে ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
❑ কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক কেন?
আমাদের অজানা নয় যে, কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি করতে কুরআনের অক্ষরগুলোকে আঁকাবাঁকা করে বিভিন্ন ফন্ট ব্যবহার করে উপর-নিচ করে সাজানো হয়। একটা অক্ষর আরেক অক্ষরের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। তাতে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করে ডিজাইন করা হয়। ফলে কুরআনের অক্ষরগুলো স্পষ্টভাবে বুঝা যায় না। ফলে মানুষের তা ভুল পড়ার আশঙ্কা থাকে। অথবা আদৌ পড়া সম্ভব হয় না। কারণ এখানে মানুষকে কুরআন শেখানো বা কুরআনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে না। বরং উদ্দেশ্য থাকে শৈল্পিক ভাবে ঘর বা দেওয়ালের শোভা বর্দ্ধন।
অনেকেই কুরআনের আয়াত দ্বারা ডিজাইন কৃত ক্যালিগ্রাফির ফলক বা ক্যালেন্ডার ঘরে ঝুলিয়ে রাখে অথবা সাধারণভাবে বিশেষ কোনও সূরা বা আয়াত সম্বলিত ফলক ঘরে ঝুলিয়ে রাখে ডেকোরেশনের উদ্দেশ্য নয় বরং বরকতের আশায় বা বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে। কেউ আবার জিন-শয়তানেরে উপদ্রব, জাদু, বদনজর, অসুখ-বিসুখ, চুরি-ডাকাতি, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে। এমন উদ্দেশ্য থাকলে তা হবে জঘন্য বিদআত। কেননা, ঘরে কুরআন-হাদিসে এমন কোনও নির্দেশনা আসেনি। আর সালাফ তথা সাহাবি ও তাদের একনিষ্ঠ অনুসারী তাবেয়ীদের থেকে এমন কোনও বিষয় পাওয়া যায় না।
আবার অনেকে কুরআনের আয়াতকে এমনভাবে ডিজাইন করে যা দেখতে কোনও মানুষ, ঘোড়া, বা বিভিন্ন পশু-পাখির সাদৃশ্য মনে হয়। এমনটি করা আরও বেশি গর্হিত কাজ ও হারাম।
এগুলো সব নিঃসন্দেহে কুরআন নাজিলের উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ। সুতরাং আল্লাহর কালামকে এহেন কাজে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।
❑ এ বিষয়ে কতিপয় বিজ্ঞ আলেমের ফতোয়া:
◆ হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত আলেম আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রাহ. বিখ্যাত ফতোয়ে শামীতে লিখেছেন,
“وتُكره كتابة القرآن، وأسماء الله تعالى على الدرهم، والمحاريب، والجدران، وما يُفرش، والله تعالى أعلم”
“কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর নামসমূহ দেরহাম, মেহরাব, দেওয়ালে ও আসবাব-পত্রের উপর লেখা মাকরুহ বা অ পছন্দনীয় কাজ। আল্লাহ ভালো জানেন। ” [ফাতাওয়ে শামী: ১/১৭৯]
◆ শাফেয়ী মাজহাবের বিখ্যাত ইমাম শরফুদ্দিন আন নওয়াবি রাহ. বলেছেন,
مذهبنا أنه يُكره نقش الحيطان والثياب بالقرآن، وبأسماء الله تعالى”
“আমাদের মাজহাব হল, কুরআনের আয়াত বা আল্লাহ তায়ালার নাম দ্বারা দেওয়াল বা কাপড়ের উপর নকশা করা মাকরূহ।” [তিবইয়ান: ৮৯ ও ৯৭]
◆ কুরআনের আয়াত দিয়ে ডেকোরেশন করার বিধান প্রসঙ্গে ইমাম নাসির উদ্দিন আলবানি রাহ. বলেন,
هذا التعليق (الديكورات في البيوت بآيات قرآنية) غير مشروع -أما الذين يصنعونها فهم لا يعملون عمالاً مشروعا ، لأن القرآن ما نزل لتزيين الجدر ، وإنما لتعمير القلوب لما فيها من الحكمة والموعظة الحسنة
“ডেকোরেশন বা সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কুরআনের আয়াত লটকানো শরিয়ত সিদ্ধ নয়। যারা এমন কাজ করে তারা শরিয়ত সম্মত কাজ করে না। কারণ কুরআন দেওয়াল সাজানোর জন্য অবতীর্ণ হয়নি; বরং কুরআনে যে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশ আছে তার মাধ্যমে সুসংহত অন্তর নির্মাণ করার জন্য এসেছে।” [তুরাসুল আলবানী ফিল ফিকহ, ১৭/৭১৬, ফাতাওয়ায়ে আলবানী ৪৩৫, al-fatawa]
❑ কুরআন ও আল্লাহর নাম ছাড়া কেবল আরবি অক্ষর বা আরবি সাধারণ আরবি বাক্য দ্বারা ক্যালিগ্রাফি:
কুরআনের আয়াত ছাড়া সাধারণ আরবি অক্ষর, আরবি কবিতা, প্রবাদ বাক্য, কারো উক্তি, এমনকি হাদিস দ্বারা ক্যালিগ্রাফি করতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সতর্ক হতে হবে, হাদিস বা আল্লাহ-রসুলের নাম সম্বলিত কোন বাক্য এমন স্থানে ক্যালিগ্রাফি করা জায়েজ নেই এখানে তাদের সম্মানহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে করা হলে, তা নানাভাবে সম্মানহানি ঘটে।
পাশাপাশি মনে রাখতে হবে যে, অন্যের ঘরের দেওয়ালে এসব ক্যালিগ্রাফি করতে হলে মালিকের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অনুমতি ছাড়া করা বৈধ নয়।
➤ উল্লেখ্য যে, কুরআনে বিশেষ কোনও আয়াত বা হাদিস যদি বৈঠকখানা, ঘর, অফিস, ব্যাংক, সম্মানহানি ঘটবে না এমন নিরাপদ স্থানে দেওয়ালে স্পষ্টভাবে লেখা হয় মানুষের কাছে কুরআন-হাদিসের মর্মবাণীকে পৌঁছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাহলে তাতে কোনও সমস্যা নেই। অনুরূপ বাড়িতে বাচ্চাদেরকে শেখানোর উদ্দেশ্য থাকে তাহলে তাতে কোনও সমস্যা নেই।
আল্লাহু আলাম।
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

কারীন জিন: আপনার নিত্যসঙ্গী এ ভয়ানক শয়তান সম্পর্কে আপনি কতটা সচেতন?▬▬▬◄❖►▬▬▬প্রশ্ন: আমি শুনেছি, প্রত্যেক মানুষের সাথে এক...
14/08/2024

কারীন জিন: আপনার নিত্যসঙ্গী এ ভয়ানক শয়তান সম্পর্কে আপনি কতটা সচেতন?
▬▬▬◄❖►▬▬▬
প্রশ্ন: আমি শুনেছি, প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি করে জিন থাকে। তাকে না কি ‘কারীন জিন’ বল হয়। আরও বলা হয়ে থাকে: ‘কোন ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে সে সাথী হারা হয়ে পড়ে এবং মৃত ব্যক্তির রূপ নিয়ে মানুষকে ভয় দেখায়।” এটা কতটুকু সঠিক? আর যাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাদের কারীন জিন এর অবস্থান কোথায় থাকে?
আর কারীন জিন এর কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে কি সকাল সন্ধ্যার আমলেই যথেষ্ট?
উত্তর:
কারীন ((قرين)) আরবি শব্দ। এর অর্থ হল: সঙ্গী, সাথী ও সহচর।
কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত যে, প্রতিটি মানুষের নিকট একজন করে জিন-শয়তান নিযুক্ত করা আছে। তার কাজ মানুষকে পথভ্রষ্ট করা, অন্যায়, অশ্লীল ও কুকর্মে প্ররোচিত করা এবং ভালো কাজে নিরুৎসাহিত করা বা বাধা দেয়া। একেই কারীন বা সহচর শয়তান বলা হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটও এই জিন-শয়তান ছিল কিন্তু সে ইসলাম কবুল করেছিলো। যার কারণে সে নবী সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুমন্ত্রণা দিতে সক্ষম হত না। যেমন:
▪ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
ما مِنكُم مِن أحَدٍ، إلَّا وقدْ وُكِّلَ به قَرِينُهُ مِنَ الجِنِّ قالوا: وإيَّاكَ؟ يا رَسولَ اللهِ، قالَ: وإيَّايَ، إلَّا أنَّ اللَّهَ أعانَنِي عليه فأسْلَمَ، فلا يَأْمُرُنِي إلَّا بخَيْرٍ. غَيْرَ أنَّ في حَديثِ سُفْيانَ وقدْ وُكِّلَ به قَرِينُهُ مِنَ الجِنِّ وقَرِينُهُ مِنَ المَلائِكَةِ.
“তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার সহচর জিন (শয়তান) নিযুক্ত করে দেয়া হয়নি।
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: আপনার সাথেও কি হে আল্লাহর রাসূল?
তিনি বললেন: আমার সাথেও তবে আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছেন। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে ( বা আমার অনুগত হয়ে গেছে)। ফলে সে আমাকে কেবল ভাল কাজেরই পরামর্শ দেয়।”
সুফিয়ানের বর্ণনায় আছে:
وقد وكِّل به قرينُه من الجنِّ وقرينُه من الملائكة
“(তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে) তার সহচর জিন (শয়তান) এবং সহচর ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেয়া হয় নি।” [সহিহ মুসলিম, হা/২৮২৪]
▪ কুরআনেও আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন মানুষের সার্বক্ষণিক সঙ্গী
এই শয়তান এবং মানুষের মাঝে বাক-বিতণ্ডার কথা উল্লেখ করেছেন:
قَالَ قَرِينُهُ رَبَّنَا مَا أَطْغَيْتُهُ وَلَكِنْ كَانَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ * قَالَ لَا تَخْتَصِمُوا لَدَيَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ إِلَيْكُمْ بِالْوَعِيدِ
“তার কারীন বা সঙ্গী শয়তান বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি। বস্তুত: সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রান্তিতে লিপ্ত। আল্লাহ বলবেন: আমার সামনে বাকবিতণ্ডা করো না। আমি তো পূর্বেই তোমাদেরকে আজাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম।” (সূরা ক্বাফ: ২৭ ও ২৮)
ইবনে আব্বাস রা. এর ব্যাখ্যায় বলেন:
هو الشيطان الذي وُكِّل به
”এটাই হল, নিয়োগ কৃত শয়তান।”
ইকরিমা, মুজাহিদ প্রমুখ তাফসীর কারকগণও একই কথা বলেছেন।
▪ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلاَ يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّ مَعَهُ الْقَرِينَ
“তোমাদের কেউ যখন সালাত পড়ে, তখন সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। যদি সে অস্বীকার করে (বাধা মানতে না চায়) তবে সে যেন তার সাথে লড়াই করে। কেননা তার সাথে তার সঙ্গী শয়তান রয়েছে।” (সহিহ মুসলিম, হা/৫০৬)
💠 মানুষ মারা যাওয়ার পর তার কারীন (সহচর শয়তান) কি সঙ্গী হারা হয়ে উক্ত মৃত মানুষের রূপ ধরে অন্যদেরকে ভয় দেখায়? বা পরিণতি কী হয়?
“মানুষ মারা যাওয়ার পর তার কারীন (সহচর শয়তান)
উক্ত মৃত মানুষের রূপ ধরে অন্যদেরকে ভয় দেখায়”-এ কথা কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং হাদিস থেকে বুঝা যায়, মানুষের সাথে নিযুক্ত শয়তানের কাজ তাকে বিপথগামী করার জন্য প্ররোচিত করা এবং পাপাচার ও নানা অন্যায়-অপকর্মের রাস্তা দেখানো।
সুতরাং সে ব্যক্তি যখন মারা যায় -চাই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হোক অথবা অস্বাভাবিক অথবা আত্মহত্যা হোক- তখন তার কাজ শেষ হয়ে যায়। তবে মানুষ মৃত্যুর পর তার সহচর শয়তান কোথায় থাকে বা তার পরিণতি কী হয় সে ব্যাপারে কুরআন-সুন্নায় কিছু বলা হয় নি। সুতরাং আমরা সে ব্যাপারে কিছু জানি না। অবশ্য মানুষ এটাও বলে থাকে যে, সে মানুষের কবর পর্যন্ত যায় কিন্তু এটাও ভিত্তিহীন কথা। এ ব্যাপারে কুরআন-সুন্নায় কোনো বক্তব্য আসে নি।
তাই বলব, আল্লাহু আলাম-আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
💠 কারীন বা সঙ্গী জিন-শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে কী সকাল সন্ধ্যার আমলেই যথেষ্ট?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে সকাল-সন্ধ্যা ও দৈনন্দিন জীবনে যে সকল দুআ, জিকির ও আমল শিক্ষা দিয়েছেন (যেমন: টয়লেটে প্রবেশ ও টয়লেট থেকে বের হওয়ার দুআ, বাড়ি থেকে বের হওয়া, বাড়িতে প্রবেশ, কাপড় পরিধান, কাপড় খুলে রাখা, পানাহার করা, স্ত্রী সহবাস করা ইত্যাদি) সে সকল দুআ ও জিকির পাঠ করলে সর্বপ্রকার শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলা হেফাজত করবেন।
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেল, আমাদের চিরন্তন দুশমন একটি জিন শয়তান (কারীন) আমাদের সাথে নিযুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সে সার্বক্ষণিক আমাদের সাথে বসবাস করে এবং সর্বদা আমাদেরকে অন্যায়-অপকর্মের দিকে প্ররোচিত করে। আমরা যখন দুনিয়াবি কর্ম ব্যস্ততায় আল্লাহকে ভুলে থাকি তখন আমাদের এই অসচেতনতার সুযোগে আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিতে পারে, টেনে নিয়ে যেতে পারে অন্যায়, অশ্লীলতা ও পাপাচারের অন্ধকার জগতে।
সুতরাং আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি এবং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনার পাশাপাশি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক শেখানো সকাল-সন্ধ্যার দুআ জিকির পাঠ ও নির্দেশনা মেনে চলা অপরিহার্য।
আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
▬▬▬◄❖►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
fb id: AbdullaahilHadi
https://www.facebook.com/235040300248856/posts/783490465403834/

Address

39-40 Hatkhola Road
Dhaka
1203

Telephone

+8801835226959

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tikatuly Jame Masjid - টিকাটুলি জামে মসজিদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Tikatuly Jame Masjid - টিকাটুলি জামে মসজিদ:

Share

Category