noor-e-ilma

noor-e-ilma "Innad dina indallahil islam."
- In fact religion (blessed) by Allah is only Islam.

12/03/2026

"২৩ তম রামাদান"
🕋সম্ভাবনাময় বিজোড় রাত🕋
❤️ জুম্মাবার রাত ❤️
ইবাদত ও দোয়ার অতি উত্তম সুযোগ

10/03/2026

" ২১ রামাদান "
সম্ভাবনাময় বিজোড় রাত্রি ...

09/03/2026
শয়তান সবাইকে একভাবে ধোঁকা দেয়না।এই যেমন ধরুন একজন আমলি মানুষ সে হয়তো সালাত ছাড়েনা, সিয়াম ছাড়ে না। তার হয়তো দাড়িও...
08/03/2026

শয়তান সবাইকে একভাবে ধোঁকা দেয়না।

এই যেমন ধরুন একজন আমলি মানুষ সে হয়তো সালাত ছাড়েনা, সিয়াম ছাড়ে না। তার হয়তো দাড়িও আছে, হয়তো সে পর্দা করে। কিন্তু দেখবেন সে গীবতে লিপ্ত, তার ব্যবহার হয়তো অতি রুক্ষ।
আবার দেখবেন কোমল ব্যবহার করি, অন্যের উপকার করে কিন্তু দেখবেন সে সালাত আদায় করে না। পর্দার ক্ষেত্রে বেখেয়াল।

আবার এমন অনেকে আছে উপকার করে খোটা দিচ্ছে।
আমল করে তা মানুষকে দেখিয়ে বা বলে বেড়াচ্ছে।
প্রচুর দান সদকা করছে আবার অবৈধ ভাবে আয় উপার্জন করছে।

এমন হাজারো নমুনা আমার আমাদের চার পাশে একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাই। এইগুলোই শয়তানের ধোঁকা। আপনি একটা ভালো কাজ করছেন তো শয়তান আপনাকে তার থেকে বড় কোনো গুনাহ করাতে ব্যস্ত। কারণ সে আপনার আমার শত্রু।

অনেক কাফের, মুশরিককে দেখবেন তারা অনেক পরোপকারী, ভদ্র ব্যবহার কারী, অন্যের সম্পত্তি মেরে খায়না কিন্তু শিরক, কুফর আর জেনায় লিপ্ত।

এভাবেই শয়তান আমাদের ধোঁকা দিচ্ছে, জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি বিতাড়িত শয়তান ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য।

"আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম"

06/03/2026

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। আল্লাহ কুরআনে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন শয়তান আমাদের শত্রু।
আর শত্রু কখনও মানুষের (আপনার আমার) ভালো চাইবেনা। তার কাজ হচ্ছে মানুষকে ধোঁকা দেয়া, ভুল পথে পরিচালিত করে পাপে নিমজ্জিত করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া। শয়তান আল্লাহর নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মানুষদের জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তাই আমাদের শয়তানের ধোঁকা সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন।

শয়তান সবাইকে একভাবে ধোঁকা দেয়না। যাকে যেভাবে ধোঁকায় ফেলা সম্ভব তাকে সেভাবেই দেয়।

06/03/2026
প্রথমত, ইরান-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরাইল, এবং সে যুদ্ধনীতি এবং বর্তমান বিশ্বের জাতিসংঘের সকল নীতি লঙ্ঘন করে তারা ইর...
04/03/2026

প্রথমত, ইরান-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরাইল, এবং সে যুদ্ধনীতি এবং বর্তমান বিশ্বের জাতিসংঘের সকল নীতি লঙ্ঘন করে তারা ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের নেতৃপর্যায়ের বা বিজ্ঞানীদের তারা হত্যা করেছে এবং তাদের ওপর ব্যাপকভাবে বোমা হামলা করেছে। এভাবেই যুদ্ধটা ইসরাইল চাপিয়ে দিয়েছে, ইরান তার উত্তর দিয়েছে। পরবর্তীতে আজকের একদম তাজা খবর হচ্ছে আমেরিকাও ইরানের ওপর আক্রমণ করেছে।

প্রথম কথা, এই যুদ্ধটা কি হক আর বাতিলের যুদ্ধ? এই যুদ্ধটা কি সকল মুসলিম এবং তার বিপরীত অমুসলিমদের যুদ্ধ? উত্তর হচ্ছে যে না, এই যুদ্ধটা এভাবে শুরু হয়নি। এর বিশাল একটা প্রেক্ষাপট আছে, কিন্তু যুদ্ধটা এভাবে শুরু হয়নি। বহু আগ থেকেই ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধের একটা অবস্থা ছিল এবং তারা একে অপরের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

আমাদের মধ্যে একটা জিনিস ভুল হয়ে যায় যখন আমরা কোনো না কোনো ভাবে পক্ষভুক্ত হই এবং তারপর এর সাথে আকিদা, ঈমান এসব কিছুকে জড়িয়ে ফেলি। যদিও একটু বিশ্লেষণ করলে আপনারা দেখবেন এটা আকিদার যুদ্ধ নয়, ঈমানের যুদ্ধ নয়, এটা হলো পৃথিবীর শাসকদের যুদ্ধ।

এখানে একটা প্রতিপক্ষ হচ্ছে ইসরাইল, সারা পৃথিবীকে অন্যায়ভাবে যারা শাসন করছে। আমি অন্যায়ভাবে বলছি এজন্যে যে তারা সংখ্যায় খুব কম, কিন্তু সারা পৃথিবীর ওপর তাদের দাপট তারা তৈরি করেছে নানাভাবে, নানা বাহানায়, নানা প্রটোকলের মধ্য দিয়ে। এবং বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে নিঃশংস হামলাকারী হচ্ছে ইসরাইল, যেটা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম দীর্ঘদিন ধরে গাজায়। গাজাকে তারা প্রায় মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার নিষ্পাপ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। নারী, শিশু কিংবা হাসপাতালের আহতরাও তাদের এই করাল আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। এ হল ইসরাইলের দানবীয় একটা রূপ। ইসরাইল একে একে মধ্যপ্রাচ্যের আরো অন্যান্য রাষ্ট্রে কিংবা জায়গায় হামলা করবে, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ জড়ানোর কারণে তাদের যে আকিদাগত ত্রুটি আছে সেটা শুদ্ধ হয়ে গেছে, এটা বলার কোনো সুযোগ নেই। যদিও মুসলিমরা সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ইহুদিদেরকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে এবং শত্রুর পরাজয় মুসলিমদের কাছে কাম্য। কিন্তু আমরা ইরানের প্রেক্ষাপটটাও যদি দেখি, তাদের অতীত ইতিহাস কিংবা অতি সম্প্রতি সিরিয়ায় তাদের আহলে সুন্নাল জামাতের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসন, সেটাও কিন্তু আরেকটা বিষয়। অর্থাৎ, আপনি আমি কিভাবে যুদ্ধটাকে নেব—এই জিনিসগুলো কিন্তু এই ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথেও রিলেটেড।

মোটা দাগে আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি, আজকাল আমাদের অনেকেই—মানে কেউ বলছেন যে তিনি শিয়া হয়ে যাচ্ছেন (মানে আকিদাকে তারা এই জায়গাটা নিয়ে এসেছেন) এবং অনেককে আমরা দেখি তারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের প্রতি তারা হয়তো রেগে যাচ্ছেন। ফলে নিজেকে নিজেই আরেকটা ক্ষতির মুখোমুখি করছেন। আমার কাছে মনে হয় এটা করাটা আমাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

এখানে যুদ্ধের যে বর্তমান অবস্থা, সারা বিশ্বে আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি অনেক খারাপ লোকও সে অনেক সময় মাজলুম হতে পারে, আকিদায় বিভ্রান্ত লোকও অনেক সময় মাজলুম হতে পারে। আবার অনেক সময় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের মৌলরা তারা ম্যাক্সিমাম সময় তারা জালেমের ভূমিকায় তারা অবতীর্ণ হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে আরও যুদ্ধ দেখেছি—ইউক্রেন এবং রাশিয়ার যুদ্ধ। আপনি কোন পক্ষ নেবেন, তাই না?

সত্যিকার অর্থে যুদ্ধ আমাদের কাছে কাম্য নয়। যুদ্ধ মনুষ্য সমাজের শান্তিকে বিঘ্নিিত করে। যুদ্ধ জুলুম, জেদ এবং সমাজে আরও হাজারো রকমের অমঙ্গল কাজগুলোকে একদম সামনে নিয়ে আসে। যুদ্ধের কারণে মানুষ বিশালভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রিয়জনকে হারায়, বিকলাঙ্গ হয়, আহত হয়, সমাজভঙ্গ হয়ে পড়ে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও যুদ্ধ কিন্তু থেমে থাকেনি, থেমে থাকছে না।

যুদ্ধের কিছু নীতিমালা আছে। আমরা দেখেছি নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সে সকল নীতিমালা তিনি কখনোই লঙ্ঘন করেননি। বরং সবসময় যুদ্ধের চমৎকার নীতিমালা তিনি নিজে অনুসরণ করেছেন আর মানুষকে অনুসরণ করতে বলেছেন। তিনি শিশুকে আঘাত করা নিষেধ করেছেন, নারীকে আঘাত করা নিষিদ্ধ করেছেন, বৃদ্ধকে আঘাত করা নিষিদ্ধ করেছেন, সিভিলিয়ানদের ঘর-বাড়ি ধ্বংস করা, জ্বালিয়ে দেওয়া, পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা উদ্ভিদ জগৎ, আবহাওয়া নষ্ট করা—এগুলোকে তিনি নিষেধ করে দিয়েছেন। কিন্তু আজকের যুদ্ধ কি সেগুলো মেনে চলছে, তাই না?

তো সুতরাং এখানে আমরা বলব যে ইরান এবং ইসরাইলের যুদ্ধ নিয়ে আমাদের অবজার্ভ করার মতো অনেক বিষয় আছে। আমরা যদিও যারা দানবীয় কান্ড করছে তাদের ধ্বংস দেখার জন্য আমরা উন্মুখ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ কিভাবে এ মানবজাতিকে আরও পরীক্ষার মুখোমুখি করেন সেটা একটা দেখার বিষয়।

আমরা পাশাপাশি আরও দেখছি যে মুসলিম দেশগুলো এর অনেকগুলোই নীরব ভূমিকা পালন করছে, কেউ কেউ কি ভূমিকা পালন করছেন এটা আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের কাছে টার্কির ভূমিকাটাও অস্পষ্ট। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের আরও অনেকগুলো দেশকে কোনো বক্তব্য দিতে দেখছি না। আমরা যদিও অনেকগুলো দেশ সৌদি আরবসহ তারা জুলুমের বিরুদ্ধে অথবা চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছে। আমরা দেখেছি ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সামরিক প্রধান তিনি আবার আমেরিকাতে গিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন যেটা হয়তো অনেক মুসলমানের কাছে এটা ভালো বোধ হচ্ছে না।

তাহলে সাহার মধ্যে (অর্থাৎ ময়দানে) নানা রকম ভূমিকা, মানুষের মধ্যে নানা রকম কথাবার্তা, মুসলিম দেশগুলোর কার্যক্রম কিংবা তাদের পলিসি স্ট্রাটেজি অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট না। এখানে আরেকটা জিনিস আমাদের একটু মনে রাখতে হবে যে আসলে আমরা তাহলে এমন দেশেহারা টাইপের হলাম কেন? আমাদের ইন্ডিভিজুয়াল মুসলিমদের কথা বলেন, আমাদের জনগণের কথা বলেন অথবা বিভিন্ন মুসলিম দেশের লোকদের কথা বলেন, মুসলিমদের কথা বলেন, শাসকদের কথা বলেন—মুসলিমরা একটা উম্মাহ হওয়া সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ কোনো প্ল্যাটফর্ম আমরা তাদেরকে পাচ্ছি না।

আসলে এটাই চাচ্ছে পাশ্চাত্য জগৎ। এটাই চাচ্ছে ইহুদি এবং নাসারারা। এবং তারা এজন্যই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে তারা প্রভাবিত করেছে, আমাদের কৃষ্টি কালচারকে তারা তাদের হাতের মুঠো নিয়ে নিয়েছে এবং তাদের যে কৃষ্টি কালচার—অবাধ যৌনাচার, সমকামিতা এবং তাদের যে নাইট ক্লাব কালচার, বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড কালচার—এগুলো আমাদের বিভিন্ন মুসলিম সমাজের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে যাতে করে আমরা আর ইসলামের উপরে ঐক্যবদ্ধ না থাকি, কোরআন-সুন্নাহর ওপর ঐক্য না থাকে।

ইতিমধ্যে মুসলিমদের মধ্যে অনেকগুলো গ্রুপ দেখেছেন, অনেক ধরনের আকিদা, প্রত্যেকেই নিজেকে জাস্টিফাই করে। যেমনটি আল্লাহতালা বলেছেন: প্রত্যেক গোত্র, প্রত্যেক দল তারা নিজেদের কাছে যা আছে সেটা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট, নিজেকে জাস্টিফাই করে, নিজেকে ঠিক মনে করে, অন্যদেরকে ভুল মনে করে।

যাই হোক, যেকোনো একটা ইভেন্ট, যেকোনো একটা যুদ্ধ, যেকোনো একটা আক্রমণ, যেকোনো একটা লাগালাগি মারামারি—এ সম্পর্কে মুসলিমদের খুব তাড়াহুড়ো করে কোনো একটা পক্ষভুক্ত হয়ে যাওয়াটা উচিত না। আমরা যদিও দেখেছি ইসরাইল ইরানের ওপর আক্রমণ করেছে, কিন্তু আবার কিছুকাল আগে ইরানও তো সিরিয়াতে বাশার আল আসাদের পক্ষভুক্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ সুন্নি মুসলিমকে হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাই না?

এই মুহূর্তে আসলে এতসব হিসাব কোষে আমি কিংবা আপনি আমরা কি কোনো প্রভাবক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবো? পারবো না। আমরা দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি। সর্বাবস্থায় মুসলিমকে মনে রাখতে হবে তাকে হকের পক্ষে থাকতে হবে। সারা পৃথিবীতে যদি যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে আর মানুষ একে অপরকে খুন করতে থাকে, বোমাবাজি করতে থাকে, আমাকে আপনাকে কী করতে হবে? আমাকে আপনাকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমানকে ধরে রাখতে হবে, তৌহীদের প্রতি আমাদের যে শ্রদ্ধা, তৌহীদকে আঁকড়ে যে ধরার জরুরত, সেটা আমাদেরকে প্রতিপালন করতে হবে।

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে নিজেকে, নিজের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো। অহেতুক তর্কের মধ্যে জড়িয়ে এবং অহেতুক আলতুফালতু কথাবার্তা বলে পক্ষভুক্ত হয়ে একদল আরেকদলকে গালিগালাজ করে এর মধ্যে কোনো কল্যাণ নাই। আমি আমাদের দর্শক ভাই বোনদেরকে বলব, মাথা ঠান্ডা রাখুন, অবজার্ভ করুন আর নিজের ঈমানকে হারাবেন না, বিশুদ্ধ আকিদাকে বর্জন করবেন না।

কার প্রতি অভিমান করে আপনি শিয়া হয়ে যাবেন, বলেন তো? কার প্রতি অভিমান করে আপনি তৌহিদ থেকে বের হয়ে যাবেন, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা থেকে বের হয়ে যাবেন? আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বহু মানুষ অনেকেই অসহায় অবস্থায় আছেন। মানে কেউ কেউ যদি আপনি মনে করছেন চুপ করে আছেন, হয়তো উনি চুপ করে নেই। আর চুপ করা মানে কী আর চুপ না করা মানে কী—এটাও তো একটা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষতার দাবি রাখে।

আজকে যারা ফেসবুকে অনেক গরম গরম কথা বলছেন তারা কি তাহলে যুদ্ধের কোনো একটা পার্ট? তারা কি যুদ্ধ করছেন? তারা কি যুদ্ধের পক্ষভুক্ত কোনো ব্যক্তি? না। আমি আশা করব ইরান-ইসরাইলের যুদ্ধকে নিয়ে, অবশ্যই যুদ্ধকে আমরা ঘৃণা করব, জুলুমকে আমরা ঘৃণা করব, আমরা মাজলুমের পক্ষে আমাদের অবস্থানকে আমরা ঘোষণা করব। যদিও মনে রাখবেন মাজলুম অমুসলিমও হতে পারে, মাজলুম এমন ব্যক্তিও হতে পারে যার আকিদা শুদ্ধ নেই। এটা মানবিক কারণে, এটা মানবিক কারণে।

গাজাতে যখন ইহুদিদের হাতে মুসলিমদের এই হত্যাকাণ্ড জেনোসাইড হয়েছে, আমরা তাদের প্রত্যেকের এই মাজলুমদের পক্ষে আমাদের কথা বলেছি। কিন্তু আমরা তো যারা নিহত হয়েছে, প্রত্যেকের আকিদাকে তো আমরা খুঁটিয়ে দেখার অথরিটি না। এটা আল্লাহ দেখবেন, আল্লাহ দেখবেন। সুতরাং যেই জিনিসটা আসলে আমাদের দেখার বিষয় নয়, সেটা নিয়ে আমরা অযথা ঝগড়া-বাগবিতন্ডা করে পক্ষভক্ত হয়ে একে অপরকে তুচ্ছ-তাৎল্য করে, আবার নিজেরা রাগ করে গিয়ে বিশুদ্ধ আকিদা, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা এবং দল থেকে বের হয়ে গিয়ে আমাদের কোনো কল্যাণ নেই।

আমাদের কল্যাণ হচ্ছে নিজের অবস্থানকে হকের ওপর সুদৃঢ় রাখা এবং হকের পক্ষে যারা আছে পৃথিবীব্যাপী তাদের পক্ষে নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করা। অনেক জায়গায় এরকম আছে যখন আমরা ঠিক বুঝতে পারি না কী করা উচিত, আমরা হুকুম দিতে পারি না। কারণ ওটার পুরো তাসবর, পুরো রূপরেখা আমাদের কাছে নাই। আরবিতে একটা কথা আছে, "আল হুকম আলাইন..."। কোনো জিনিসকে ভালোভাবে বুঝলেই হুকুম দেওয়া যাবে। যদি ভালোভাবে বুঝা না যায়, তাহলে কিসের ভিত্তিতে আপনি হুকুম দেবেন? কিসের ভিত্তিতে আপনি পলিসি মেক করবেন? কিসের ভিত্তিতে আপনি স্ট্রাটেজি তৈরি করবেন? সেজন্যই আমরা অনেক মুসলিম দেশগুলোকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হিসেবে দেখতে পাচ্ছি।

যদিও মনে রাখবেন, উম্মাহ যদি তাদের আইডেন্টিটি এটাকে স্পষ্ট করে তুলতে না পারে, আমরা প্রত্যেক মুসলিম হককে যদি স্পষ্ট করে তুলতে না পারি, তাহলে হকের পক্ষে আমাদের অবস্থান দুরূহ হয়ে পড়বে। মনে রাখবেন, আমরা যদি নিজেদের মাথা ঠান্ডা রাখতে না পারি, আমরা যদি বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারি, আমরা যদি কোরআন-সুন্নাহর পক্ষে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিকভাবে দাঁড় করাতে না পারি, তাহলে পৃথিবীতে যেখানে যাই ঘটুক না কেন, আমাদের কোনো কল্যাণ হবে না। আর যদি আমরা হকের পক্ষে থাকি, তাহলে কল্যাণ শেষ পর্যন্ত আহলুল হকের পক্ষেই থাকবে।

আর আপনারা তো জানেন যে যুদ্ধ তো শুধুমাত্র যে শিয়া এবং ইহুদিদের মধ্যে হয়েছে এমনটা না। খ্রিস্টানদের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে, ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল—বিশাল হত্যাকাণ্ড। যুদ্ধ মানেই হচ্ছে হত্যার পর হত্যা। এই জিনিসগুলো মানবতার জন্য ভালো নয়। মানুষ মানুষের উচিত হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে সবকিছু সমাধান। যেমনটি আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম করেছিলেন। তায়েফের ময়দানে কী ধৈর্য ধরেছেন তিনি। তিনি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে, ফেরেশতাদের সাহায্য নিয়ে সেখানে একটা বড় ইভেন্ট ঘটাতে পারতেন। কারণ ফেরেশতা এসে বলেছিলেন, এই জনপদের লোকেরা আপনাকে রক্ত করেছে, আপনি চাইলে আল্লাহ এখানে ভূমিকম্প দিতে পারেন, পাহাড়কে উল্টে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি চেয়েছেন যে না, এরা যেন আল্লাহর পথে আসে। মক্কা বিজয়ের দিন আমরা দেখেছি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, অল্প কয়েকজন দুর্বৃত্ত ছাড়া। তাহলে এটা হলো ইসলামের বিউটিফুল এপ্রোচ।

আজকের এই যুদ্ধ যখন বিরাজ করছে, আমরা চাইব পৃথিবীর মলিপনা যারা করছেন, যারা সারা বিশ্বে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিয়েছেন, মুসলিম জনপদগুলোকে যারা রক্তাক্ত করেছেন—আমরা তাদের পরাজয় চাইব। আমরা চাইব আল্লাহ যেন যেকোনোভাবেই হোক এদেরকে ধ্বংস করেন। আল্লাহ যেন মুসলিমদেরকে বিজয়ী করেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা হকের অনুসারী, আল্লাহ যেন নেতৃত্বে তাদেরকে নিয়ে আসেন।

এতটুকু কথাই আমি এই প্রশ্নের উত্তরে বলব। কারণ খুব মোটা দাগে ছোট্ট করে উত্তর দিলে অনেকের কাছেই জিনিসটি স্পষ্ট হবে না। আশা করছি আমাদের কী স্ট্যান্ড হওয়া উচিত সেটা আপনাদের কাছে কিছুটা হলেও স্পষ্ট হয়েছে এবং এখানে আরও হয়তো ব্যাখ্যায় বিশ্লেষণ প্রয়োজন আছে। আমরা আমাদের বিজ্ঞ স্কলারগণ এ বিষয় নিয়ে যা বলেন, আমরা তাদের কথাও শুনে হয়তো আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে পারব।

- Dr Manzur Elahi حفظه الله

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when noor-e-ilma posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share