Qur'an And Sunnah

Qur'an And Sunnah দ্বীন প্রচার।

23/08/2026

اَللّٰهُمَّ اَعِنِّيْ عَلٰى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

হে আল্লাহ! আপনার যিকির করতে, আপনার শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।

প্রতিদিন যদি এই দুয়াটা আপনার স্মরণে আসে, তাহলে বুঝবেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে ভালবাসেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চাচ্ছেন আপনি সুন্দর করে ইবাদাত করার, যিকির করার ও শুকরিয়া আদায় করার নসিব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে চেয়ে নেন।
চাওয়ার তাউফিকও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সবাইকে দেন না।

ইবাদাতে অলসতা কাজ করে, অনেক সময় ইবাদাত বাদই যায়। যদি নাফসুল লাউওয়ামা নিজেকে না দোষারোপ করে, যদি এই দুয়াটা মনে না আসে, তাহলে নিজের জন্য দুঃখিত হওয়া উচিৎ। বুঝা উচিৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার সুনজর দিচ্ছেন না আমার দিকে। আমার উপর রাগান্বিত হয়ে আছেন।

আর যদি নাফসুল লাউওয়ামা নিজেকে দোষারোপ করে, এবং এই দুয়াটাও মনে আসে, ইবাদাত মন ভরে, সময় মত করতে না পারার জন্য ভারাক্রান্ত লাগে, দিন শেষে নিজের সাথেই ইবাদাতে যত্নশীল হতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই বার বার, তাহলে বুঝতে হবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এখনও আমাকে ভালবাসেন, সুনজর দিচ্ছেন ও উনি চাচ্ছেন আমি উনার আরও প্রিয় হই, উনার আরও কাছে যাই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের ইখলাস বাড়িয়ে দিন ও রিয়া থেকে হেফাজত করুন।

✍️যাইনাব‌ আল-গাযী

22/08/2026

ঘটনাটি পড়ছিলাম আর কাঁদছিলাম। মানুষের হিসাবে অসম্ভব মনে হলেও এমন দুয়া কবুলের ঘটনাগুলি সত্যই কাঁদিয়ে দেয়। আমাদের অনেকের জীবনে এমন ছোট বড় নানা ঘটনা আছে দুয়া কবুলের।
..
মক্কার একজন আলেম ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হলেন।

রাস্তায় খুঁজে পেলেন একটি ব্যাগ। ব্যাগটা নিয়ে ঘরে আসলেন। খুলে দেখলেন সেটাতে একটি হীরার নেকলেস!

তিনি বলেন, এমন নেকলেস আমি আমার জীবনে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক!

কিছুক্ষণ পর দরজায় একজন নক করলো। তিনি দরজা খুললেন। একজন বৃদ্ধ বললো, "আমি আমার একটি ব্যাগ হারিয়ে ফেলছি। সম্ভবত আশেপাশের কোথাও পড়েছে। কেউ যদি ব্যাগটি পেয়ে থাকেন, তাকে আমি ৫০০ দিনার দেবো।"

৫০০ দিনার মানে কয়েক কোটি টাকা!

যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাস্তায় বের হলেন, তিনি হীরা পেলেন, হীরা ফেরত দেবার বিনিময়ে কোটি টাকার অফার পেলেন, সেই ব্যক্তি আমাদের কাছে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে না?

কিন্তু, তিনি ভাবলেন অন্য কিছু। তিনি ভাবলেন, এই হীরার মালিক আমি নই, এগুলোর বিনিময়ে ৫০০ দিনার গ্রহণ করা আমার জন্য ঠিক হবে না।

ফলে, বৃদ্ধকে হীরার থলেটি ফিরিয়ে দিলেন।

মক্কায় জ্ঞানার্জন করতে লাগলেন। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেলো।

একবার তিনি কয়েকজনের সাথে ভ্রমণে বের হলেন। নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। মাঝপথে ঝড় ওঠে। নৌকা ডুবে যায়, প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করে।

সেই আলেম কোনোরকম একটা তীরে ফিরেন। অপরিচিত দ্বীপে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন নামাজের সময় হলো।

একজন তার পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলো, "আপনি নামাজ পড়াতে পারবেন?"

তিনি বললেন, "হ্যাঁ, পারবো।"

তার তেলাওয়াত শুনে সবাই মুগ্ধ। তাকে তারা ইমাম হিশেবে রেখে দিলো। তিনি কুরআন পড়তে পারতেন। সেখানকার বাচ্চাদের কুরআন শেখাতে লাগলেন।

প্রতিদিন নানান উপহার-উপঢৌকন আসতে থাকে। দ্বীপের লোকেরা ইমাম সাহেবকে ছাড়তে রাজি না। এমন ইমাম পেয়ে তারা খুব খুশি।

তিনিও ভাবতে লাগলেন, কই থেকে কই আসলেন? একেবারে অপরিচিত এলাকার মানুষ তাকে আপন করে নিলো। আল্লাহ তার রিযিকের কী সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন!

ইমাম সাহেব যেন তাদেরকে ছেড়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তারা একজন ইয়াতিম মেয়ের সাথে ইমামের বিয়ে দিতে চাইলো। অনেকটা জোর করেই বিয়ে দিলো!

ইমাম সাহেব বাসর রাতে স্ত্রীকে দেখে অবাক। তিনি দেখতে পেলেন স্ত্রীর গলায় সেই হীরার নেকলেস, যেটা তিনি মক্কায় ফেরত দিয়েছিলেন বৃদ্ধকে!

পরদিন লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?

লোকজন চিৎকার করে বললো, "আল্লাহু আকবর!"

এমন চিৎকারে ইমাম সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।

লোকজন বললো, "কয়েকবছর আগে আমাদের এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মক্কা থেকে ফিরে একটি ঘটনা শুনান। সেখানে এক যুবক তার হারিয়ে যাওয়া হীরের নেকলেস ফেরত দিয়েছে, যা তিনি নিজের মেয়ের জন্য কিনেছিলেন।

এলাকায় ফিরে তিনি আফসোস করতে থাকেন সেই যুবকের জন্য। তিনি ইচ্ছাপোষণ করেন সেই যুবকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন।

কিন্তু, তার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন!

দেখুন, আপনার তাকদীর, সেই সম্ভ্রান্ত লোকের দু'আ আপনাকে এখানে নিয়ে আসলো। আপনি সেই মেয়েকেই বিয়ে করেন, যার জন্য সেই মেয়ের বাবা দু'আ করে যান। যেই হীরার নেকলেস আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এখন সেই নেকলেস আপনার ঘরে!"

সেই মহান আলেমের নাম ছিলো কাদিল মারিস্তান।

তার মনে পড়লো কুরআনের একটি আয়াত:

"ধৈর্যধারণ করো। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রতিদান নষ্ট করেন না!" [সূরা হুদ: ১১৫]

- আরিফুল ইসলাম

20/08/2026

দরূদ শরীফের আমলের মাধ্যমে সফল হওয়ার কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ইচ্ছা খুব সহজে পূর্ণ হওয়ার অনেক ঘটনা শুনেছি এবং পড়েছি। তখন থেকে মনের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে, আমার যে কোনো সমস্যাতেও দরূদ শরীফকে উত্তম সমাধান হিসেবে পাবো।
আমার শোনা অনেক ঘটনাই এমন ছিল যে, ধারাবাহিকভাবে দরূদের আমলের মাধ্যমে অল্প কিছুদিনের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত বস্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা মিলিয়ে দিয়েছেন। আর এসব ঘটনা সমসাময়িক ব্যক্তিদের ব্যাপারেই ছিল। এসব কারণেই দরূদ শরীফের আমলের কার্যকারিতা সম্পর্কে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে অনিয়মিত মাঝেমাঝে দরূদ শরীফ পড়া হলেও একটা সময় মনে হলো ধারাবাহিকভাবে দরূদ শরীফ পড়া শুরু করি। নিঃসন্দেহে বিফলে যাবে না। তখন থেকেই নিয়মিত এক হাজার বার করে পড়ার চেষ্টা চালাতে থাকি। কখনো মিস হলে পরদিন সেটা পূরণ করে নেওয়া হতো।

অন্যান্যদের ব্যাপারে অল্প কিছুদিনেই সাফল্যের ঘটনা শুনলেও আমার দেড়-দুই মাস পার হয়ে তিন মাস চলে আসছিল। তবুও আশানুরূপ কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু এ পূর্ণ সময়ের মধ্যে এক মুহূর্তের জন্যও দরূদের কার্যকারিতার প্রতি অনাস্থা আসেনি। বরং মনে হচ্ছিল যতটুকু গুরুত্বের সাথে পড়া প্রয়োজন, সেখানে আমার ত্রুটি ছিল।

দরূদের ধারাবাহিকতার ৯০ তম দিন। এশার নামাজ পড়াতে মসজিদে গেলাম। পরিচিত এক মুসল্লি আঙ্কেলের পাশে বসছি। উনি আমার গায়ের পাঞ্জাবিটা দেখে বললেন, অনেক চমৎকার তো। আমি তোমার জন্য সৌদি থেকে একটা পাঞ্জাবি নিয়ে আসব। কথা এখানেই শেষ। এর মধ্যেই আবার বলে উঠলেন, তুমি যাবা আমার সাথে? আমি এক লক্ষ টাকা দিই, বাকিটা তুমি ব্যবস্থা করে চলো দুইজন ওমরা করে আসি। আনন্দে আমি মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। সাথে সাথেই মনে জেগে উঠলো এ তো আমার দরূদের ফসল। আমি যার নামে প্রতিদিন দরূদ পড়ে আসছিলাম, আজ সরাসরি যাওয়ার ডাক এসে পড়েছে।

আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি এতবড় পুরস্কার আমার জন্য অপেক্ষা করছে। মোটামুটি শূন্য হাত ছিল আমার। ব্যবসার টুকটাক কিছু টাকা ছিল, পুরোটা ঢেলে দিয়ে আশপাশ থেকে আরও কিছু ব্যবস্থা করে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষমাণ রইলাম প্রিয় হাবিবের রওজা মোবারক জিয়ারতের।

দরূদের আজ ১০৯ তম দিন। কিছুক্ষণের মধ্যে বিমান আমাদেরকে নিয়ে সরাসরি মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। আমার এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা জানা নেই। বারবার কেবল এটাই মনে হচ্ছে; পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে দরূদের আমলের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে একদম শূন্য হাত অবস্থায় বাইতুল্লাহ এবং রওজা মোবারক জিয়ারতের জন্য কবুল করে নিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
:
দরূদ শরীফের আমলের মাধ্যমে সফল হওয়ার কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ইচ্ছা খুব সহজে পূর্ণ হওয়ার অনেক ঘটনা শুনেছি এবং পড়েছি। তখন থেকে মনের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে, আমার যে কোনো সমস্যাতেও দরূদ শরীফকে উত্তম সমাধান হিসেবে পাবো।

— সংগৃহীত

🌸 দোয়া কবুলের গল্প 🌸আজ একটি ঘটনার কথা শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো, যদি কারও একটু হলেও কাজে আসে।আমাদের এলাকায় হঠাৎ যখন যুদ্ধ শুর...
20/08/2026

🌸 দোয়া কবুলের গল্প 🌸

আজ একটি ঘটনার কথা শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো, যদি কারও একটু হলেও কাজে আসে।

আমাদের এলাকায় হঠাৎ যখন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল, জীবন বাঁচাতে সবাই যে যেভাবে পারল ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে লাগল। আমি তখন আট মাসের গর্ভবতী। সেখানে আর এক মুহূর্ত থাকার মতো পরিস্থিতি ছিল না। সবশেষে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমরাও রওনা হলাম। মাইলের পর মাইল মরুভূমির পথ, গাড়ির কোনো ঠিকঠিকানা নেই, আর চলার মতো নির্দিষ্ট কোনো রাস্তাও ছিল না। একমাত্র ভরসা ছিলেন কেবল উপরওয়ালা।

পুরোটা পথ আমি একনাগাড়ে আমাদের প্রিয় নবীজির (সা.) ওপর দুরুদ পড়ে গেছি। মুখে বা মনে মনে সবসময় একটানা দুরুদ পাঠ চলেছে, কোনো বিরতি দিইনি। কারো সাথে কথা বলার সময়ও ভেতরে ভেতরে এটা জপছিলাম। বিশ্বাস করুন, আল্লাহ তখন কীভাবে যে সাহায্য পাঠালেন! মরুভূমির মধ্যে এমন কিছু ড্রাইভারের সাথে দেখা হলো, যারা রাতের বেলা আমাদের সাথে সেখানেই কাটালেন এবং পরদিন সকালে একদম নিরাপদে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিলেন।

আমার একদম মনেপ্রাণে বিশ্বাস, কেবল দরুদ পাঠের বরকতেই আল্লাহ সেদিন আমাদের এভাবে রক্ষা করেছিলেন।

আসলে পথটা কতটা যে কঠিন ছিল, বিশেষ করে একজন গর্ভবতী নারীর পক্ষে ওই রাস্তায় চলাফেরা করা কতটা বিপজ্জনক, তা কল্পনার বাইরে। রাস্তা বলতে কিছু ছিল না, শুধুই গর্ত আর তীব্র ঝাঁকুনি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ খুব নিরাপদে আমাকে নিয়ে গেলেন এবং পরবর্তীতে উনার অশেষ কৃপায় আমার একটি সুস্থ সন্তানও জন্মাল।

আজও মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমি যদি প্রতিটি মানুষের কাছে গিয়ে বলতে পারতাম, তোমরা অন্তত একবার মন থেকে নবীজির (সা.) ওপর দরুদ পাঠের ফজিলতটা অনুধাবন করার চেষ্টা করো! এটা মানুষ সত্যি সত্যি জানতে পারলে তাদের পুরো দুনিয়াই বদলে যেত।

(গল্পটি অনুবাদকৃত)

📌 দু'আ কবুলের গল্প ও আমল পেতে Quran Soul পেইজটি ফলো করে রাখুন।

20/08/2026

“ইস্তেগফার করে, ইস্তেগফার এর মাধ্যমেই ইস্তেগফার এর দোয়ার কবুলিয়াত…”

আমি আগে ভাবতাম — ৩০ হাজার ইস্তেগফার কীভাবে সম্ভব? অন্যদের গল্পে যখন দেখতাম কেউ দিনে হাজার হাজার বার ইস্তেগফার করছে — আমি অবাক হয়ে ভাবতাম,“আমি কখনোই পারব না... এটা আমার জন্য সম্ভব না...”

কিন্তু আমি থেমে যাইনি। আমি আল্লাহর কাছে কান্না করে দু'আ করতাম —“ইয়া আল্লাহ, আমাকে ইস্তেগফার পড়ার তাওফিক দিন, শক্তি দিন... আমি চাই আপনাকে বেশি বেশি ডাকতে।” আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করেছেন। যদি চাও, আর আল্লাহর কাছে তাওয়াক্কুল রেখে বারবার চাইতে থাকো —তবে কিছুই অসম্ভব না।

আজ আমার ইস্তিগফার যাত্রার ২য় দিন
🔸 ১ম দিনে পড়েছি ৩৫,০০০ বার ইস্তিগফার
🔸২য় দিনে পড়েছি ৪০,০০০ বার সাথে শুনেছি সূরা বাকারা ২ বার যদিও অন্যান্য যিকির কিছুটা কম হয়েছে, তবুও করছি একেবারে বাদ দেইনি…আলহামদুলিল্লাহ, চেষ্টা করছি।

আগে যেটা অসম্ভব মনে হতো —আজ সেটা সম্ভব হচ্ছে শুধুই আল্লাহর দয়ায়। তাই বলছি,কখনো হাল ছেড়ো না। যদি আজ থেকে তুমি কাঁদতে কাঁদতে শুধু বলো —
আস্তাগফিরুল্ল-হ… আস্তাগফিরুল্ল-হ…
হয়তো এটুকুই তোমার জন্য খুলে দেবে বরকতের আকাশ, ইন শা আল্লাহ... 🤎

✍🏻নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক বোন

16/08/2026

২ দিনের মধ্যে লোন শোধ করতে হবে।
২ দিনের মধ্যে অমুক সমস্যাটা সমাধান করতে হবে।
২ দিনের মধ্যে ডিসিশন নিতে হবে।

এমন সিচুয়েশন আপনার লাইফে আসছে না? আপনি বরাবরের মতোই হতাশ হয়ে গেছেন। কী করবেন কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বা পাচ্ছেন না। তাই না?

এমন ঘটনা কুরআনেও আছে৷ সূরা কাহফ পড়েছেন?
কাহফবাসীর স্টোরিটা বেশ ইন্টারেস্টিং। কাহফের ভাইয়েরা এমন সিচুয়েশনে পড়ে গেছেন। ধরা খেলে মেরে ফেলবে। বিদ্রোহ করেছেন। একটা গুহায় আশ্রয় নিলেন। গুহায় ঢুকেই ঘুম! এক ঘুমে ৩০০+ বছর কাটিয়ে দিলেন।

ব্যাপারটা একটু বোঝানে। আপনার মাথায় হেভি টেনশন। প্রবলেম কীভাবে সমাধান করবেন আপনি জানেন না। আল্লাহ'র উপর তাওয়াক্কুল করলেন। বিনিময়ে রব্বে কারীম আপনাকে আরামে ঘুম দিলেন। দিলেন তো দিলেন একদম সব চেঞ্জ হয়ে গেলো...

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও এমন একটা ইন্টারেস্টিং স্টোরি আছে। বদরের দিন। ৩১৩ বনাম ১০০০ এর লড়াই। ১০০০ এর আছে সবধরণের প্রস্তুতি। ৩১৩ একপ্রকার খালিহাতে। ব্যাপারটা এমন বলতে পারেন, আজ আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধ হলে যেমন। ঠিক তেমন। আকাশপাতাল। কোনো ইকুয়েশন মিলে না। জেতার কোনো চান্স নাই। নবীজি একমনে কাঁদলেন। কাঁদতেই থাকলেন। আল্লাহ্ একদিনের মধ্যে মুসলিমদের বিজয় দিলেন। ভয়ংকর বিজয়। ফেরেশতাসহ নামিয়ে দিলেন।

মূসা আলাইহিসালামের জীবনেও এমন একটা ঘটনা আছে। ফেরাউনের বাহিনী যখন উনাদের আক্রমণ করেন। উনার হাতে সামর্থ্য নাই। লড়াই করার শক্তি নাই। সবাই হতাশ। সেইসময় আল্লাহ'র নির্দেশে লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করলেন। বিশাল সমুদ্র দুইভাগ হয়ে গেলো।

এই সবগুলো স্টোরির একটা কমন প্যাটার্ন আছে। একদিনে, একমুহূর্তেই আল্লাহ'র সাহায্য চলে এসেছে। শুধু কীসের জোরে?
তাওয়াক্কুল। সর্বাবস্থায় আল্লাহ'র উপর নির্ভর হওয়া।

যেদিন আমরা আমাদের সব সমস্যায় আল্লাহ'র উপর তাওয়াক্কুল করবো, আল্লাহ'র উপর সন্তুষ্ট থাকবো সেদিন আমাদেরও সাহায্য আসবে। যেভাবে...

16/08/2026

দু‘আ জিনিসটাকে আমরা কঠিন করে ফেলেছি। আমাদের কাছে দু‘আ করা মানেই অজু করতে হবে, পশ্চিম দিকে ফিরতে হবে, হাত তুলতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এ ধরনের ফরমাল দু‘আ নবিজির জীবনে কম ছিলো। বরং তিনি ওঠতে-বসতে, হাঁটতে-চলতে এমনকি কথা বলতে বলতে দু‘আ করতেন। এমন উদাহরণ অসংখ্য-অগণিত। আমরা নবিজি থেকে যে শত শত দু‘আর কথা হাদিসে পাই, এর অধিকাংশই হাত না ওঠিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় করা।
এ থেকে বুঝা যায়, দু‘আ মুমিনের জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা তার প্রতিটি মুহূর্তে দরকার। সেজন্য এত ফরমালিটি অনুসরণ করতে হবে না। তবে, নিঃসন্দেহে অজু করে কিবলার দিকে মুখ করে হাত ওঠিয়ে দু‘আ করা সর্বোত্তম। কিন্তু সমস্যা হলো, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এভাবে দু‘আ করা সম্ভব হয় না। তাই, যখন হাত ওঠিয়ে অজু করে দু‘আ করা সম্ভব হবে না, তখন কেবল মুখ ফুটে দু‘আ করাই যথেষ্ট। হাত না ওঠিয়ে দু‘আ না করলে দু‘আ কবুল হবে না, এমন কথা কোথাও বলা হয়নি।
মোটকথা, দু‘আ জিনিসটাকে আমাদের জীবনে খুব সহজ করে তুলতে হবে। কারণ প্রতিটা মুহূর্তে বান্দা দু‘আর মুখাপেক্ষী। ভুল বুঝবেন না। হাত ওঠিয়ে ফরমাল ওয়েতে দু‘আ করার ব্যাপারে বিন্দুমাত্রও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না। নিঃসন্দেহে হাত ওঠিয়ে অজু করে কিবলার দিকে মুখ করে দু‘আ করা উত্তম। শুধু উত্তম নয়, বরং এগুলো দু‘আ কবুলের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু, জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে এভাবে দু‘আ করা সম্ভব হয় না। সেজন্য ব্যস্ত সময়গুলোতে হাত না ওঠিয়ে দু‘আ করে অভ্যস্ত হওয়া উচিত।
মনটা তত ভালো না। কোথাও হাঁটতে বা ঘুরতে বের হয়েছেন। আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন, ‘হে আল্লাহ! পরিবেশটা এমন করে দিন, যেন আমার মনটা ভালো হয়ে যায়।’
কাউকে নামাজের কথা বলছেন। আল্লাহর কাছে বলুন, ‘হে আল্লাহ! হিদায়াতের মালিক একমাত্র আপনি। আমার কোনোই সক্ষমতা নেই। আমার জবান দিয়ে এমন এমন প্রভাব বিস্তারকারী কথা বের করুন, যেন এসব কথায় প্রভাবিত হয়ে সে নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।’
আজকের খাবারটা তেমন রুচিসম্মত মনে হচ্ছে না। আল্লাহর কাছে বলুন, ‘আল্লাহ! এই খাবারটাতে ভরপুর স্বাদ ঢেলে দিন, যেন তৃপ্তিসহ খেতে পারি।’
এভাবে জীবনের ছোট থেকে ছোট বিষয়গুলো নিয়েও দু‘আ করা যায়। দু‘আকে যখন এভাবে জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ বানাবেন, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

14/08/2026

আজ রাতে ঘুমানোর আগে ১০০০ বার ইস্তিগফার করে ঘুমাবেন ইনশাআল্লাহ। চলেন এই আমল টার্গেট টা পূরণ করি সবাই মিলে।

ইস্তিগফার করলে আল্লাহ এই উসিলায় আপনার বিপদ দূর করবেন, কল্যাণের দরজা খুলে দিবেন, রিজিকে বারাকাহ আসবে, কারণ গুনাহ জমে জমে আমাদের জীবন থেকে বারাকাহ কমে যায়। সেই জায়গায় আপনার আন্তরিক তাওবাহ এবং ইস্তিগফারগুলো ঐ গুনাহের কালো দাগগুলো মুছে দেয়। তখন আবারো আপনার জীবনে বারাকাহ প্রবেশ করতে পারি। আবারো সাফল্য ঢোকার সুযোগ পায় আলহামদুলিল্লাহ।

ইস্তিগফার যে কত কল্যাণের দরজা খুলে দেয় তা আমরা সরাসরি কুরআন থেকে জানি। আল্লাহ বলেন,

“আমি বলেছি, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য প্রবাহিত করবেন নদীসমূহ।’”
📖 সূরা নূহ, ৭১:১০–১২

কী অপূর্ব শিক্ষ! ইস্তিগফার অতীতের গুনাহ মুছে তো দিলই। সেই সাথে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইস্তিগফারের সঙ্গে দুনিয়ার বরকত, রিযিক, সন্তান, বৃষ্টি ও সমৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেছেন! 'আস্তাগফিরুল্লাহ' মন দিয়ে বুঝে বুঝে পড়ুন! হতে পারে আজকের এই আমলের উসিলাহতে আল্লাহর রহমতের আপনার জীবনের কত দারুন দারুণ কল্যাণের দরজা খুলে যাবে!

তাহলে আর দেরি কেন?

টার্গেট নিয়ে নেন প্রিয় আপারা!

14/08/2026

পুরোপুরি সুস্থ একজন মানুষ আমি। জাস্ট নরমাল একটা চেকআপে গিয়েছিলাম সেদিন ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার বলছিলেন, "আপনি তো আলহামদুলিল্লাহ সুস্থই আছেন। তবুও যেহেতু আপনি ধারণা করছেন আপনার থাইরয়েড হয়েছে নাকি, তাহলে সাথে আরও কিছু টেস্ট দেই, একবারে করে যান।" মনে মনে বিরক্ত হলাম যে, এই তো শুরু হয়ে গেল অযথাই টেস্টের পালা।

তো যাই হোক, পরবর্তীতে ব্লাডের কয়েকটা টেস্ট, ইসিজি প্লাস আল্ট্রাসাউন্ডও দিল। এটা দেখে তো আমি আরও হতাশ যে, আল্ট্রা কেন? আমার তো পেটে আল্লাহর রহমতে একটু গ্যাসের সমস্যাও নেই। যাই হোক, দিয়েছে যেহেতু করেই যাই।

একশো নম্বর সিরিয়ালে আমাকে ডাকলেন আল্ট্রাসাউন্ড রুমে। স্ক্রিনে তাকিয়েই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, পেটে ব্যথা কেমন, ডায়াবেটিস আছে কিনা, আরও বেশ কিছু প্রশ্ন।

এদিকে এসবের কিচ্ছুটিই আমার নেই। তখন আল্ট্রাসাউন্ডের ডাক্তার বললেন, "তাহলে কেন আসছেন ডাক্তারের কাছে?" পরে বললাম যে নরমাল চেকআপে।

উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আমার কি সিরিয়াস কিছু হয়েছে কিনা?" উনি কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে যখন সব রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারকে দেখাই, তখন উনি ইমারজেন্সিভাবে হোল অ্যাবডোমেন সিটি স্ক্যান দেন। তখনও আমি একদমই ভাবিনি কী হতে যাচ্ছে আমার সাথে। পরদিন সিটি স্ক্যান করে চলে আসি। একদিন পর রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলে ডাক্তার জানান যে, আমার ক্যান্সার হয়েছে। দ্রুত যেন ঢাকায় ডাক্তার দেখাই।

এই খবর শোনার পর মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, সেই প্রসঙ্গে আর না গেলাম। রাতে বাসায় ফিরে ভীষণ কান্নাকাটি করে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। পরদিন সকালে উঠে থেকে কিভাবে যেন শক্ত হয়ে গেছি। আর খোঁজ শুরু করলাম, কী আমল করলে আমার রব্ব আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে দিবেন।

সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করলাম অগণিত বার। তাহাজ্জুদ, ইস্তিগফার, দরূদ—সবই বাড়িয়ে দিলাম। এর মধ্যেই ঢাকায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হলো। প্রথম সাক্ষাতে ডাক্তার বলছেন, "তোমার কিভাবে এই ক্যান্সার হতে পারে? এটা তো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আর এতটা সুস্থ থাকাও সম্ভব না, যদি হয়েও থাকে।"

এবং খুব আশ্বাস দিলেন যে, অন্তত ক্যান্সার না।

এরপর উনি আরও কিছু টেস্ট দিলেন। এর মধ্যে এমআরসিপি রিপোর্টে প্যানক্রিয়াসে বেশ বড়সড় একটা টিউমারই দেখা দিল। তখনও ডাক্তার আমাকে কনফিডেন্টলি বললেন যে, এটা ক্যান্সার না। তবুও আমি এফএনএসি দিচ্ছি। এটা করিয়ে কনফার্ম হয়ে ট্রিটমেন্ট করব তোমার। অপারেশনও নাও লাগতে পারে। যথারীতি এফএনএসি করা হলো এবং রিপোর্ট আসল ৪ দিন পর। খুবই আগ্রাসী ক্যান্সারের। কেন যেন এই রিপোর্ট দেখে তেমন আর মন খারাপ হয়নি। মানে খুব সহজেই মেনে নিচ্ছিলাম। কিন্তু ভাবছিলাম, অবশ্যই আল্লাহ আমাকে সুস্থ করবেন, পরিপূর্ণভাবে।

তারপর পিজি সহ ঢাকার সনামধন্য দুই-তিন হাসপাতালে ডাক্তার দেখালাম। পিজিতে বোর্ডও বসল যে, এটা কিভাবে সম্ভব এই বয়সে? কিন্তু রিপোর্ট তো এই কথাই বলে।

শেষ অবধি আমার কেমোথেরাপি শুরু হলো। আগে টিউমার ছোট করতে হবে, এরপর অপারেশন।

এর মধ্যে আমি একদম ভেঙে পড়িনি। এসব কিছুই আমি নিজে ফেস করেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমার তখন একটাই চিন্তা ছিল, আমার রব্বের কাছ থেকে চেয়ে নেব।

তখন একটা মোটামুটি রুটিন বানিয়ে নিলাম। এমন—

প্রতি ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর

৩ বার দরূদে ইবরাহিম

৭ বার সূরা ফাতিহা

৩ বার দরূদে ইবরাহিম

১ বার ইসমে আজম

আয়াতে শিফা

এরপর যত ইচ্ছা সূরা আন'আমের ১৭ নম্বর আয়াত।

এইটুকু ছিল ফিক্সড। তা ছাড়া অসংখ্য বার সূরা ফাতিহা, দরূদে ইবরাহিম, সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার পড়েছি। আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া পড়েছি। আরও আরও শিফার যত দোয়া যেখানে যা পেয়েছি, তাই পড়েছি।

আজান-ইকামতের মাঝখানের সময়টাতে অঝোরে কেঁদে দোয়া করেছি। তাহাজ্জুদে কান্নাকাটি করে চেয়েছি।

শুধু বলতাম, "ইয়া রব্ব, ইয়া শাফি, আপনি আমাকে সূরা ফাতিহার উসিলায় এমনভাবে পরিপূর্ণ শিফা দান করুন, যেন আমার শরীরে কোনো রোগই ছিল না।"

যত রকমভাবে আকুতি ভরে আল্লাহকে বলা যায়, সেভাবেই বলেছি। এভাবে করতে করতে অর্ধেক কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার পর টেস্ট করতে দিল, কতটুকু ছোট হলো টিউমার। ফলাফল—ছোট তো হয়ইনি, বরং আরও একটু বড় দেখাচ্ছে।

ডাক্তার সহজ ভাষায় জানিয়ে দিলেন, "আপনার ট্রিটমেন্ট কাজ করেনি। সার্জারি ডাক্তারের সাথে কথা বলে দেখেন। অপারেশন করে ফেলেন এভাবেই।" রিপোর্ট নিজেই প্রথমে দেখেছি এবং একটুও বিচলিত হইনি, আলহামদুলিল্লাহ।

আমার আব্বু আমার সাথে ছিলেন। খুবই ভেঙে পড়েছিলেন। আমি বলছিলাম, "আব্বু, আমার ক্যান্সারই হয়নি। এই জন্য কেমোথেরাপি কাজ করেনি।"

তখন আব্বু বলছিলেন, "এত পজিটিভ ভাবো কিভাবে, আম্মু?"

কিন্তু আমি পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখেছিলাম রব্বের প্রতি।

এরপর গেলাম সার্জারি ডাক্তারের কাছে। উনি রিপোর্ট দেখে কিছুটা বিচলিত হলেও বুঝতে না দিয়ে বললেন, ইমারজেন্সি ভর্তি হয়ে যেতে।

ভর্তি হওয়ার পর ১ সপ্তাহ অবজারভেশনে রেখেছিলেন। এর মধ্যে সব ডাক্তার বোর্ড বসল। আমাকে সহ গার্ডিয়ান ডাকল এবং বুঝিয়ে বলল যে, এমনও হতে পারে পেটে কেটে আবার সেলাই করে দিব। আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আবার এমনও হতে পারে, হাফ টিউমার এখন কাটব, আবার পরবর্তীতে হাফ কাটব। অন্য আরেক রোগীর উদাহরণ দিলেন, যেন ওদের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিই। ওদেরও দুইবার অপারেশন লেগেছে।

সবাই মোটামুটি ভেঙে পড়েছে ততদিনে। আমি শুধু একটা কথাই বলতাম যে, দেখবেন অপারেশন শেষে ডাক্তার বলবেন, "আপনার মেয়ের অপারেশন এত সহজ আর সুন্দর হয়েছে, আমাদের কল্পনার বাইরে।" আর বলতাম আম্মুকে যে, আমি সুস্থ হয়ে আমার দোয়া কবুলের গল্প সবাইকে বলব, ইনশা আল্লাহ।

অপারেশনের দিন আসল। আমাকে নেওয়া হলো অপারেশন থিয়েটারে। নেওয়ার পরেও প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আমার অপারেশন শুরু হয়। এই দেড় ঘণ্টা বোধহয় আমি দেড় মিনিটও দরূদে ইবরাহিম পড়া বাদ দিইনি।

আমার বিন্দুমাত্র কোনো ভয় লাগেনি, আল্লাহর রহমতে।

অলমোস্ট ৫ ঘণ্টার অপারেশন শেষে বের হয়ে ডাক্তার সেইম এই কথাটাই বলছিলেন যে, "তোমার মেয়ের অপারেশন এত সহজ আর সুন্দর হয়েছে, আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল এটা। পুরো টিউমার আমরা উঠিয়ে এনেছি এবং ওর সবকিছু ভালো আছে।" আলহামদুলিল্লাহ এভাবে করে অপারেশনের ৩ দিন পর আমার বায়োপসি রিপোর্ট আসে। আমি তখনও পোস্ট-অপারেটিভ রুমেই।

আমার হাসবেন্ড রিপোর্ট পেয়েই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাক্তারকে দেখিয়ে আমার কাছে এসে বলল, "তোমার বায়োপসি রিপোর্ট এসেছে এবং আলহামদুলিল্লাহ, এতে কোনো ক্যান্সার নেই।"

আমার তখন মনে হচ্ছিল যে, হ্যাঁ, এটাই তো হওয়ার ছিল। আমার রব্ব তো আমাকে নিরাশ করবেন না। আমি জানতাম।

তারপর রিপোর্ট নিয়ে মেইন ডাক্তার পুরো টিমসহ এসে সে কী উচ্ছ্বাস! বারবার বলছিলেন, "It's a miracle from Allah."

এরপর প্রতিবার ফলোআপে ডাক্তার একই কথা বলেন, "It's a miracle from Allah."

"আমরা অনেক রিস্ক নিয়ে তোমার অপারেশনে গিয়েছিলাম। ঠিক যেভাবে সুতার ওপর ভর দিয়ে মানুষ হাঁটে। কিন্তু আল্লাহ যে তোমাকে কই থেকে কই এনেছেন, এটা কল্পনাতীত।"

আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।

(এমনকি আমার সাথে ওই সময়েই আরও কয়েকটা রোগীর এরচেয়ে ছোট টিউমারও পুরোপুরি উঠে আসেনি, আর আমার টিউমার ছিল বেশ বড়।)

আজ এই গল্পটা লিখলাম শুধু একটা কথাই বলার জন্য—

মানুষের রিপোর্ট শেষ কথা নয়, শেষ কথা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ যখন "কুন" বলেন, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়। আলহামদুলিল্লাহ।

আমি আমার রব্ব এর এই "কুন" এর অপেক্ষায় ছিলাম আর প্রতিবার এই আয়াত পড়তে নিলেই আমার খুশি লাগতো।

সংগৃহীত

📍 দরূদ শরীফের ৭০টি ফজিলত ১। দরূদ পাঠকারীর মৃত্যুর সময় প্রাণ বের হওয়া সহজ হয়।২। দরূদের বরকতে নেক আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ...
13/08/2026

📍 দরূদ শরীফের ৭০টি ফজিলত

১। দরূদ পাঠকারীর মৃত্যুর সময় প্রাণ বের হওয়া সহজ হয়।
২। দরূদের বরকতে নেক আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
৩। দরূদ পাঠকারীর নাম ও পরিচয় প্রিয় নবী ﷺ–এর কাছে পেশ করা হয়।
৪। দরূদ পাঠকারী ঈমানের উপর অটল থাকার তাওফিক লাভ করেন।
৫। আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের রহমত ও দোয়া লাভ করেন।
৬। আমল, জীবন, সন্তান ও সম্পদে বরকত হয়।
৭। কিয়ামতের দিন তাঁর জিহ্বা নূরে উদ্ভাসিত হবে।
৮। চেহারায় নূর ও কথাবার্তায় মাধুর্য আসে।
৯। তাঁর মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রশান্তি অনুভব করেন।
১০। দরূদ পাঠের বরকতে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির আশা করা হয়।
১১। উত্তম উপদেশ গ্রহণের তাওফিক লাভ করেন।
১২। রিজিকে বরকত লাভ করেন।
১৩। দরূদ জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
১৪। এটি আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার একটি মাধ্যম।
১৫। দরূদের উপকার নিজ পাঠকারীর কাছেই ফিরে আসে।
১৬। নিজের জন্য দোয়া করার সমতুল্য একটি আমল।
১৭। মানুষের মাঝে সম্মান ও সুনাম বৃদ্ধি পায়।
১৮। বেশি দরূদ পাঠ করা হকপন্থী হওয়ার আলামত।
১৯। সর্বত্র সম্মান লাভ হয়।
২০। জান্নাত লাভের উপায়সমূহের একটি।
২১। অন্তর পরিশুদ্ধ হয়।
২২। মানুষের ভালোবাসা অর্জিত হয়।
২৩। গিবত ও অপবাদ থেকে হেফাজতের আশা করা যায়।
২৪। প্রিয় নবী ﷺ–কে স্বপ্নে দেখার সৌভাগ্যের আশা করা হয়।
২৫। একবার দরূদ পাঠে ১০টি রহমত, ১০টি নেকি, ১০টি গুনাহ মাফ এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি হয়।
২৬। দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম।
২৭। কবর প্রশস্ত হওয়ার আশা করা যায়।
২৮। কিয়ামতের দিন রাসূল ﷺ–এর নৈকট্য লাভ করবেন।
২৯। কিয়ামতের দিন প্রশংসিত হবেন।
৩০। দুনিয়া ও আখিরাতের দুশ্চিন্তা দূর করার একটি আমল।
৩১। মৃত্যুর আগে জান্নাতের সুসংবাদের আশা করা হয়।
৩২। সম্পদে বরকত আসে।
৩৩। এটি একটি মহান ইবাদত।
৩৪। আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় আমল।
৩৫। মজলিসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
৩৬। অভাব-অনটন দূর হওয়ার মাধ্যম।
৩৭। কিয়ামতের দিন রাসূল ﷺ–এর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবেন।
৩৮। মৃত ব্যক্তির জন্য দরূদসহ দোয়া করলে তিনি উপকৃত হন।
৩৯। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ–এর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম।
৪০। শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার আশা করা যায়।
৪১। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভ হয়।
৪২। আল্লাহর গজব থেকে মুক্তির আশা করা যায়।
৪৩। নিফাক থেকে মুক্তির সুসংবাদ রয়েছে।
৪৪। জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশা করা যায়।
৪৫। আরশের ছায়ায় স্থান লাভের আশা করা যায়।
৪৬। নেকির পাল্লা ভারী হয়।
৪৭। হাউজে কাউসারের নিকট বিশেষ সম্মান লাভ করবেন।
৪৮। কিয়ামতের কঠিন পিপাসা থেকে রক্ষা পাবেন।
৪৯। পুলসিরাত সহজে অতিক্রম করবেন।
৫০। পুলসিরাতে নূর লাভ করবেন।
৫১। দরূদ গুনাহের কাফফারা।
৫২। আমলসমূহ পবিত্র হয়।
৫৩। মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
৫৪। এক কিরাত নেকি লাভ হয়, যার পরিমাণ ওহুদ পাহাড়ের সমান বলা হয়েছে।
৫৫। বিপুল সওয়াব অর্জিত হয়।
৫৬। দরূদকে নিয়মিত আমল বানালে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয় সহজ করে দেন।
৫৭। এর সওয়াব গোলাম মুক্ত করার চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।
৫৮। ভয়-ভীতি থেকে মুক্তি লাভের আশা করা যায়।
৫৯। রাসূল ﷺ তাঁর ঈমানের সাক্ষ্য দেবেন।
৬০। রাসূল ﷺ তাঁর জন্য শাফাআত করবেন।
৬১। নবীজির প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
৬২। কবরের প্রশ্নোত্তর সহজ হয়।
৬৩। দরূদ পাঠরত ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকেন।
৬৪। নামাজের পর হামদ, সানা ও দরূদ পাঠের পর করা দোয়া কবুলের আশা বেশি থাকে।
৬৫। যে ব্যক্তি একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর ১০টি রহমত নাজিল করেন।
৬৬। যে ব্যক্তি ১০০ বার দরূদ পাঠ করে, তার জন্য নিফাক ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ এসেছে।
৬৭। যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০০ বার দরূদ পাঠ করে, মৃত্যুর আগে জান্নাতের স্থান দেখার সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে।
৬৮। নবী ﷺ–এর কাছে উম্মতের নাম ও পরিচয় পেশ করা হয়; তাই সুন্দর শব্দে দরূদ পাঠ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
৬৯। কিয়ামতের দিন দ্রুত হিসাব সম্পন্ন হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে অধিক দরূদ পাঠকারীর জন্য।
৭০। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ও জুমার দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠকারীর জন্য রাসূল ﷺ শাফাআতকারী ও সাক্ষী হবেন—এ মর্মে বর্ণনা রয়েছে।

সংগৃহীত

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Qur'an And Sunnah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share