19/05/2026
অনেক বোন যিলহজের প্রথম ১০ দিন আসলে মন খারাপ করে ফেলেন।
“সবাই রোজা রাখছে, আমি পারছি না…”
“সবাই নামাজ, তিলাওয়াত, ইবাদত করছে, আমি পিছিয়ে যাচ্ছি…”
“পিরিয়ডের কারণে কি আমার আমলের সুযোগ কমে গেল?”
কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এই দিনগুলোতে আপনি একদম আমলহীন হয়ে যাবেন।
যিলহজের প্রথম ১০ দিন এমন বরকতময় সময়, যে সময়ের নেক আমল আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “এমন কোনো দিন নেই, যেদিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।”
📚 সহিহ বুখারি
এখানে শুধু সালাত বা রোজার কথা বলা হয়নি; বলা হয়েছে—নেক আমল। আর নেক আমলের দরজা অনেক বড়।
আপনি বেশি বেশি যিকির করতে পারেন—
সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার।
আপনি তাকবির পড়তে পারেন—
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
আপনি দরুদ পড়তে পারেন। ইস্তিগফার করতে পারেন। সকাল-সন্ধ্যার আজকার পড়তে পারেন। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দো‘আ করতে পারেন। আরাফার দিনে দীর্ঘ সময় দো‘আ করতে পারেন।
কুরআনের তিলাওয়াত শুনতে পারেন। তাফসির পড়তে পারেন। ইসলামিক বই পড়তে পারেন। সদকা করতে পারেন। পরিবারের খেদমত করতে পারেন। কারও মন ভালো করে দিতে পারেন। নিজের জবান, চোখ, মোবাইল, রাগ, গীবত—এসব গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে পারেন।
কুরআন স্পর্শ করা বা মুখে তিলাওয়াত করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। তাই এ বিষয়ে নিজের অনুসরণীয় আলেম/মাযহাবের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তবে কুরআন শোনা, অর্থ ও তাফসির পড়া, দো‘আ-যিকির করা—এসব করতে কোনো সমস্যা নেই ইন শা আল্লাহ।
একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা—
অনেক সময় আমরা আমল বলতে শুধু নামাজ-রোজাকেই বুঝি। অথচ একজন বোন পিরিয়ড অবস্থায়ও নিজের নিয়ত, যিকির, দো‘আ, ইলম অর্জন, সদকা, sabr, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা—এসবের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় হয়ে যেতে পারেন।
হয়তো আপনি রোজা রাখতে পারছেন না, কিন্তু আপনি আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকছেন।
হয়তো আপনি সালাত পড়তে পারছেন না, কিন্তু আপনি সারাদিন জবানকে যিকিরে ভেজাচ্ছেন।
হয়তো আপনি কুরআন হাতে নিতে পারছেন না, কিন্তু কুরআনের অর্থ শুনে নিজের জীবন বদলানোর নিয়ত করছেন।
আল্লাহ শুধু বাহ্যিক আমল দেখেন না; আল্লাহ অন্তরের নিয়তও জানেন।
তাই পিরিয়ডে আছেন বলে হতাশ হবেন না। নিজেকে দূরে মনে করবেন না। এই দিনগুলোকে “আমি কিছুই করতে পারবো না” ভেবে নষ্ট করবেন না।
বরং বলুন—
“ইয়া আল্লাহ, আপনি যে অবস্থায় রেখেছেন, সেই অবস্থাতেই আমাকে আপনার প্রিয় আমল করার তাওফিক দিন।”
প্রিয় বোন, যিলহজের এই দিনগুলোতে আপনার জবান থামতে দেবেন না।
আপনার দো‘আ থামতে দেবেন না।
আপনার ইস্তিগফার থামতে দেবেন না।
আপনার অন্তরের আল্লাহমুখী হওয়া থামতে দেবেন না।
কারণ সালাত-রোজা সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে,
কিন্তু আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
🌿 পিরিয়ড অবস্থায় যিলহজে করা যায় এমন আমল:
১. বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার পড়া।
২. তাকবির পড়া: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
৩. দরুদ, ইস্তিগফার ও সকাল-সন্ধ্যার আজকার পড়া।
৪. কুরআনের তিলাওয়াত শোনা এবং অর্থ-তাফসির পড়া।
৫. বেশি বেশি দো‘আ করা, বিশেষ করে আরাফার দিনে।
৬. সদকা করা এবং পরিবারের খেদমত করা।
৭. চোখ, জবান, মোবাইল, গীবত ও হারাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করা।
---
সংগৃহীত
━━━━━━━━━━━━━━━