Syed Muhaimenul Bari Orphanage

Syed Muhaimenul Bari Orphanage Syed Muhaimenul Bari Orphange

27/08/2026

মৃত স্বজনদের জন্য আমাদের দোয়া যখন হয়ে যায় ‘আসমানি উপহার’!

হযরত বাশশার ইবনু গালিব (রহ.) বলেন, আমি একবার হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.)-কে স্বপ্নে দেখলাম। আমি তাঁর জন্য অনেক বেশি দোয়া করতাম।

স্বপ্নে তিনি আমাকে দেখে বললেন,

“হে বাশশার! তোমার পাঠানো উপহারগুলো নূরের থালায় করে, রেশমি রুমাল দিয়ে ঢেকে আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়!”

আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,“এটি কীভাবে সম্ভব?”

তিনি বললেন,

“জীবিত মুমিনরা যখন মৃতদের জন্য দোয়া করে এবং সেই দোয়া কবুল হয়, তখন সেই দোয়াকে নূরের থালায় সাজানো হয় এবং রেশমি রুমাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর তা মৃত ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বলা হয়,‘এটি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে তোমার জন্য পাঠানো একটি উপহার।’”

কী অপূর্ব কথা!

আমরা দুনিয়ায় কাউকে ভালোবাসলে তার হাতে উপহার তুলে দিই। কিন্তু আমাদের কোনো প্রিয়জন যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়, তখনও তাকে উপহার দেওয়ার দরজা বন্ধ হয়ে যায় না।

আমরা তার জন্য দোয়া করতে পারি।

আমরা যখন আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বলি, হে আল্লাহ! আমার প্রিয়জনকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করে দিন, তাঁকে রহমত করুন।

তখন হয়তো আমাদের চোখে সেই দোয়া শুধু কয়েকটি শব্দ। কিন্তু আল্লাহর কাছে তা হতে পারে আমাদের মৃত প্রিয়জনের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।

তাই আপনার প্রিয় যারা আজ কবরের বাসিন্দা, তাদের ভুলে যাবেন না।

তাদের জন্য দোয়া করুন। ক্ষমা প্রার্থনা করুন। সদকা করুন। কারণ দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া মানুষটির কাছে সবচেয়ে সুন্দর উপহার হতে পারে আপনার ছোট্ট একটি দোয়া।

সূত্র: শরহুস সুদূর — ইমাম সুয়ূতি (রহ.)

27/08/2026

তাওয়াক্কুল: আমি জানি না কী হবে, কিন্তু আমি জানি—আল্লাহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে

আল্লাহ তাআলা কুরআনের কোথাও বলেননি যে, ঈমানদার হলে আমাদের জীবন সবসময় সুখে কাটবে। তিনি এমনও প্রতিশ্রুতি দেননি যে, নামাজ পড়লে, কুরআন তিলাওয়াত করলে, মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করলে, সৎ ও দয়ালু হলে জীবনে আর কোনো কঠিন সময় আসবে না।

বরং কুরআন আমাদের জানায় যে, মুমিনদেরও পরীক্ষা করা হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৫

অর্থাৎ, ইসলাম আমাদের এমন কোনো জীবন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় না যেখানে কোনো দুঃখ থাকবে না, কোনো ব্যর্থতা থাকবে না, কোনো বিপদ আসবে না।

ঈমানের অর্থ ঝড় আসবে না—এমন নয়।
ঈমানের অর্থ হলো, ঝড়ের মধ্যেও আমরা জানব কে আমাদের রব।

জীবনে কখনো চাকরি হারানোর আশঙ্কা আসবে, কখনো ব্যবসায় ক্ষতি হবে, কখনো সম্পর্ক ভেঙে যাবে, কখনো অসুস্থতা বা অন্য কোনো বিপদ সামনে আসবে। কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, যার কোনো পূর্বাভাসই আমাদের কাছে ছিল না।

তখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—

“এটা আমার সাথেই কেন হলো?”
“এরপর কী হবে?”
“আমি কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হব?”

ইসলাম আমাদের শেখায়—সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা থাকা জরুরি নয়।

আমরা জানি না আগামীকাল কী হবে।
আমরা জানি না কোন দরজা খুলবে।
আমরা জানি না কোন দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।
আমরা জানি না এই পরীক্ষার শেষ কোথায়।

কিন্তু আমরা জানি—আল্লাহ জানেন।

আর একজন মুমিনের জন্য এই বিশ্বাসই অনেক বড় শক্তি।

আল্লাহ বলেন:

“হতে পারে তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ কর অথচ তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে; আর হতে পারে তোমরা কোনো বিষয় পছন্দ কর অথচ তাতে তোমাদের জন্য অকল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:২১৬

তাই জীবনে কোনো কিছু আমাদের ইচ্ছামতো না ঘটলেই ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দিয়েছেন।

বরং কখনো কখনো আমরা যে পথটি বন্ধ হয়ে যেতে দেখি, আল্লাহ সেই পথের মধ্যেই এমন কিছু দেখেন যা আমরা দেখতে পাই না।

তাওয়াক্কুল কী?

তাওয়াক্কুল মানে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়।

তাওয়াক্কুল মানে এই নয় যে, আমরা কোনো চেষ্টা করব না এবং শুধু বলব—“আল্লাহ ভরসা।”

বরং আমাদের দায়িত্ব হলো সাধ্যমতো চেষ্টা করা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং এরপর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।

আল্লাহ বলেন:

“তুমি যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ওপর ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।”
— সূরা আলে ইমরান, ৩:১৫৯

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তাহলে তিনি তোমাদের রিজিক দিতেন যেমন পাখিদের দেন; তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পরিতৃপ্ত হয়ে ফিরে আসে।”
— জামে‘ আত-তিরমিজি, ২৩৪৪

পাখি বাসায় বসে থাকে না। সে বের হয়, চেষ্টা করে, খাবার খোঁজে। তারপর আল্লাহ তার রিজিকের ব্যবস্থা করেন।

সুতরাং—

চেষ্টা করা আমাদের দায়িত্ব।
ফলাফল আল্লাহর হাতে।

জীবনের সমুদ্র ও আমাদের জাহাজ

জীবনকে একটি বিশাল সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

আপনি একটি জাহাজে আছেন।

কখনো সমুদ্র শান্ত।
কখনো বিশাল ঢেউ।
কখনো ঝড়।
কখনো চারপাশ অন্ধকার।

আপনি জানেন না পরবর্তী ঢেউটি কত বড় হবে। জানেন না ঝড় কখন থামবে। জানেন না আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে আর কত সময় লাগবে।

কিন্তু আপনার একটি বিশ্বাস আছে—

“আমার রব জানেন আমি কোথায় আছি।”

এটাই তাওয়াক্কুল।

তাওয়াক্কুল মানে এই নয় যে জাহাজে কোনো ঢেউ আঘাত করবে না।

তাওয়াক্কুল মানে হলো—ঢেউ এলেও আপনি জানবেন, আল্লাহ আপনার রব।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
— সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩

মুমিনের জন্য কষ্টও কল্যাণের হতে পারে

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“মুমিনের ব্যাপারটি কতই না আশ্চর্য! তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর।”

তার সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য এলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে—এটা তার জন্য কল্যাণকর। আর বিপদ এলে সে ধৈর্য ধারণ করে—সেটাও তার জন্য কল্যাণকর।

— সহিহ মুসলিম, ২৯৯৯

তাই একজন মুমিনের জীবন অন্যদের জীবন থেকে আলাদা এই অর্থে নয় যে তার কোনো কষ্ট থাকবে না।

বরং পার্থক্য হলো—

কষ্টের মধ্যেও তার একজন রব আছেন।

সে জানে, তার কষ্ট আল্লাহর অজানা নয়।

সে জানে, তার কান্না আল্লাহ দেখেন।

সে জানে, তার দোয়া আল্লাহ শোনেন।

সে জানে, তার ভবিষ্যৎ তার নিজের হাতে না থাকলেও আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।

মুসা (আ.)-এর শিক্ষা

কুরআনে মুসা (আ.)-এর একটি ঘটনা তাওয়াক্কুলের অসাধারণ শিক্ষা দেয়।

সামনে সমুদ্র, পেছনে ফিরআউনের বাহিনী। মানুষের দৃষ্টিতে যেন কোনো পথ নেই।

তখন মুসা (আ.) বললেন:

“কখনোই নয়! নিশ্চয়ই আমার রব আমার সঙ্গে আছেন; তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।”
— সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬:৬২

পরিস্থিতি বলছিল:

“কোনো পথ নেই।”

কিন্তু ঈমান বলছিল:

“আমার রব আছেন।”

এটাই তাওয়াক্কুলের শক্তি।

তাই মনে রাখুন

আপনি জানেন না আগামীকাল কী হবে।

কিন্তু আল্লাহ জানেন।

আপনি জানেন না কোন দরজা খুলবে।

কিন্তু আল্লাহ জানেন কোন দরজা আপনার জন্য ভালো।

আপনি জানেন না এই ঝড় কখন থামবে।

কিন্তু আল্লাহ ঝড়েরও রব।

আপনি জানেন না আপনার জাহাজ কত দূর যাবে।

কিন্তু আল্লাহ জানেন আপনার গন্তব্য কোথায়।

তাই যখন জীবন অস্থির হয়ে যায়, যখন সামনে কোনো পথ দেখা যায় না, যখন মনে হয় সবকিছু হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে—তখন নিজেকে বলুন:

“আমি জানি না কী হবে।
কিন্তু আমি জানি—আল্লাহ জানেন।
আমি জানি না পথ কোথায়।
কিন্তু আমি জানি—আল্লাহ পথ দেখাতে পারেন।
আমি জানি না এই ঝড় কখন থামবে।
কিন্তু আমি জানি—আল্লাহ ঝড়েরও রব।
আমি জানি না আমার জাহাজ কত দূর যাবে।
কিন্তু আমি জানি—আল্লাহ আমার রব।”

এটাই তাওয়াক্কুল।
এটাই মুমিনের শক্তি।
এটাই অন্তরের প্রশান্তি।

আল্লাহ আমাদের সত্যিকারের তাওয়াক্কুলকারী বানান, বিপদের সময় সবর করার এবং নেয়ামতের সময় শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দিন। আমিন।

26/08/2026

🕊️ চার পাখির বিস্ময়কর ঘটনা: হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও পুনরুত্থানের মুজেজা ✨

১. ঈমানের পরও অন্তরের প্রশান্তির আকাঙ্ক্ষা

হযরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন মহান আল্লাহর প্রিয় নবী এবং খলিলুল্লাহ—আল্লাহর বন্ধু। তাঁর ঈমান ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। তিনি আল্লাহর ক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতির প্রতি কোনো সন্দেহ পোষণ করতেন না।

তবুও একদিন তাঁর অন্তরে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা জাগল। তিনি জানতে চাইলেন, মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে মানুষকে আবার জীবিত করবেন। তাই অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তিনি আল্লাহর কাছে আরজ করলেন,

“হে আমার রব! আপনি কীভাবে মৃতদের জীবিত করেন, তা আমাকে দেখান।”

আল্লাহ তাআলা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন,

“তুমি কি বিশ্বাস করো না?”

ইব্রাহিম (আ.) সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

“অবশ্যই বিশ্বাস করি। তবে আমি চাই, আমার অন্তর যেন আরও প্রশান্ত হয়।”

অর্থাৎ তাঁর প্রশ্ন ছিল অবিশ্বাস থেকে নয়; বরং সত্যকে নিজের চোখে দেখে অন্তরের প্রশান্তি লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকে।

২. চার পাখির মাধ্যমে এক মহান শিক্ষা

তখন মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-কে এক বিস্ময়কর নির্দেশ দিলেন। তাঁকে চারটি পাখি নিতে বলা হলো এবং সেগুলোকে এমনভাবে নিজের কাছে অভ্যস্ত করতে বলা হলো, যাতে তাঁর ডাক শুনলে তারা তাঁর কাছে ফিরে আসে।

এরপর আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পাখিগুলোকে জবাই করে তাদের দেহের অংশগুলো আলাদা করে মিশিয়ে নিতে বলা হলো।

ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করলেন। তিনি চারটি পাখি সংগ্রহ করে সেগুলোকে পোষ মানালেন এবং পরবর্তী নির্দেশের জন্য প্রস্তুত হলেন।

৩. পাহাড়ের চূড়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হলো দেহের অংশ

আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে ইব্রাহিম (আ.) পাখিগুলোকে জবাই করলেন। এরপর তাদের দেহের অংশগুলো বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে দূরবর্তী পাহাড়গুলোর চূড়ায় রেখে দিলেন।

চারদিকে ছড়িয়ে রইল পাখিগুলোর মাংস, হাড় ও অন্যান্য অংশ।

মানুষের দৃষ্টিতে তখন মনে হতে পারে—এগুলো আর কখনো একত্রিত হয়ে জীবিত হতে পারে না।

কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতার সামনে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

৪. একটি ডাক, আর শুরু হলো অলৌকিক পুনর্জীবন

সবকিছু প্রস্তুত হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আ.)-কে পাখিগুলোকে ডাকতে বললেন।

ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ পালন করে পাখিগুলোকে ডাক দিলেন।

তখন ঘটল সেই বিস্ময়কর ঘটনা!

দূরের পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা পাখিগুলোর দেহের অংশগুলো আল্লাহর হুকুমে একে অপরের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করল। হাড়গুলো নিজেদের জায়গায় ফিরে গেল, মাংস হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হলো এবং পাখিগুলোর দেহ পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করল।

যে পাখিগুলো কিছুক্ষণ আগেও ছিন্নভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন পাহাড়ে পড়ে ছিল, তারা আল্লাহর কুদরতে আবার জীবন্ত হয়ে উঠল।

তারপর তারা ডানা মেলে উড়ে এসে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সামনে উপস্থিত হলো।

৫. আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রত্যক্ষ নিদর্শন

এই ঘটনা ছিল আল্লাহর অসীম শক্তির এক মহান নিদর্শন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের চোখে দেখলেন—যে দেহের অংশগুলো আলাদা হয়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল, মহান আল্লাহ চাইলে সেগুলোকে আবার একত্রিত করে জীবন্ত করতে পারেন।

তাঁর অন্তর তখন আরও দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রশান্তিতে পূর্ণ হয়ে গেল।

মহান আল্লাহর এই শিক্ষা স্পষ্ট করে দেয়—যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনি মৃত্যুর পর পুনরায় সৃষ্টি করতেও সম্পূর্ণ সক্ষম।

১. আল্লাহ সর্বশক্তিমান:
মৃতকে জীবিত করা, ছিন্নভিন্ন দেহকে পুনরায় একত্রিত করা—সবই আল্লাহর জন্য সহজ।

২. ঈমানের সঙ্গে প্রশান্তি:
ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রশ্ন অবিশ্বাসের কারণে ছিল না। তিনি বিশ্বাসী হয়েও নিজের অন্তরের প্রশান্তির জন্য আল্লাহর কাছে নিদর্শন দেখতে চেয়েছিলেন।

৩. পুনরুত্থানের সত্যতা:
এই ঘটনা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে কিয়ামতের দিন মৃতদের পুনরায় জীবিত করা আল্লাহর ক্ষমতার বাইরে নয়।

৪. আল্লাহর হুকুমই চূড়ান্ত:
মানুষের চোখে কোনো বিষয় অসম্ভব মনে হলেও আল্লাহ যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর জন্য তা সম্পন্ন করা কঠিন নয়।

৫. অন্তরের প্রশান্তি আল্লাহর কাছ থেকেই আসে:
সত্য উপলব্ধি ও আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে গভীর চিন্তা মানুষের ঈমানকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করুন এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

26/08/2026

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া একটি দোয়া

কখনো কখনো এমন কিছু কথা থাকে, যা কাউকে বলা যায় না…
কিছু কষ্ট থাকে, যা কাউকে বোঝানো যায় না…
কিছু দুশ্চিন্তা থাকে, যা শুধু বুকের ভেতর নীরবে জমে থাকে।

কিন্তু মনে রাখবেন—আপনার না বলা কথাগুলোও আল্লাহ জানেন।
আপনার চোখের পানি, মনের কষ্ট, নীরব দীর্ঘশ্বাস—কোনোটিই তাঁর অজানা নয়।

আল্লাহ বলেন—

> “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার মন তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয়, তাও আমি জানি। আর আমি তার ঘাড়ের ধমনীর চেয়েও নিকটবর্তী।”
> — সূরা ক্বাফ, ৫০:১৬

তাই নিজের মনের কথাগুলো আল্লাহর কাছে বলুন।
কারণ মানুষের কাছে সবকিছু বলা সম্ভব না হলেও, আল্লাহর কাছে কিছুই লুকানো থাকে না।

একটি হৃদয়ছোঁয়া দোয়া—

اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَسْمَعُ كَلَامِي، وَتَرَى مَكَانِي، وَتَعْلَمُ سِرِّي وَعَلَانِيَتِي، أَسْأَلُكَ مَسْأَلَةَ الْمِسْكِينِ...

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা তাসমাউ কালামী, ওয়া তারা মাকানী, ওয়া তা‘লামু সির্রী ওয়া ‘আলানিয়াতী, আসআলুকা মাসআলাতাল মিসকীন...

অর্থ:
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আমার কথা শুনছেন, আমার অবস্থান দেখছেন এবং আমার গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু জানেন। আমি আপনার কাছে একজন অসহায় ও অভাবী বান্দার মতো প্রার্থনা করছি।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বলা একটি ঘটনা—

রাসূলুল্লাহ ﷺ তিন ব্যক্তির একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যারা সফরের সময় বৃষ্টির কারণে একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তারা বুঝতে পারল, নিজেদের শক্তিতে এখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।

তখন তারা আল্লাহর কাছে নিজেদের করা নেক আমলগুলোর কথা উল্লেখ করে দোয়া করতে লাগল।

• একজন তার পিতা-মাতার প্রতি করা সেবার কথা উল্লেখ করে দোয়া করল।
• আরেকজন আল্লাহভীতির কারণে করা একটি ভালো কাজের কথা উল্লেখ করল।
• তৃতীয়জনও নিজের একটি নেক আমলের কথা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইল।

প্রতিবার দোয়ার পর পাথরটি একটু একটু করে সরে গেল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের জন্য গুহা থেকে বের হওয়ার পথ খুলে দিলেন।

এই ঘটনাটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

যে আল্লাহ বন্ধ গুহার পাথর সরিয়ে দিতে পারেন, তিনি আমাদের জীবনের বন্ধ দরজাও খুলে দিতে পারেন।
যে সমস্যার কোনো সমাধান আমরা দেখতে পাচ্ছি না, আল্লাহর কাছে তার সমাধান অসম্ভব নয়।

তাই দোয়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন না।

দেরি হচ্ছে মানেই আল্লাহ শুনছেন না—এমন নয়।
কখনো তিনি আমাদের চাওয়া জিনিসটি দেন, কখনো তার চেয়েও উত্তম কিছু দেন, আবার কখনো কোনো বিপদ আমাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন।

• আপনি যখন নীরবে কাঁদেন, আল্লাহ তখনও জানেন।
• আপনি যখন কাউকে কিছু বলতে পারেন না, আল্লাহ তখনও শুনছেন।
• আপনি যখন শুধু মনে মনে কিছু চান, আল্লাহ তখনও আপনার অন্তরের কথা জানেন।

হে আল্লাহ,

আমাদের অন্তরের সব কষ্ট দূর করে দিন।
আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন।
আমাদের দুশ্চিন্তাগুলো সহজ করে দিন।
আমাদের হালাল ও কল্যাণকর সব আশা পূর্ণ করুন।
যে দরজাগুলো আমাদের জন্য বন্ধ, সেগুলো আপনার রহমতে খুলে দিন।
আর আমাদের এমন কিছু দান করুন, যার জন্য আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করতে পারি।

আল্লাহ আমাদের সকলের দোয়া কবুল করুন।
আমীন।

26/08/2026

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ও হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) সওর গুহায় পৌঁছালেন।

গুহার কাছে এসে হযরত আবু বকর (রা.) বললেন,

“হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আগে ভেতরে প্রবেশ করবেন না। আমি আগে ঢুকব। যদি ভেতরে কোনো ক্ষতিকর প্রাণী থাকে, তাহলে তা যেন আমাকে আঘাত করে, আপনাকে নয়।”

তিনি গুহার ভেতরে প্রবেশ করে জায়গাটি পরিষ্কার করলেন। গুহার দেয়ালে থাকা ছিদ্রগুলো নিজের কাপড় ছিঁড়ে বন্ধ করে দিলেন। দুটি ছিদ্র বাকি থাকলে তিনি নিজের দুই পা দিয়ে সেগুলোও চেপে ধরলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ভেতরে ডাকলেন।

নবীজি ﷺ তাঁর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন।

এমন সময় একটি বিষাক্ত প্রাণী আবু বকর (রা.)-এর পায়ে দংশন করল। প্রচণ্ড ব্যথা হলেও তিনি নড়লেন না - যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘুম ভেঙে যায়!

ব্যথায় তাঁর চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুখে পড়ল। নবীজি ﷺ জেগে উঠে জিজ্ঞেস করলেন,

“আবু বকর, তোমার কী হয়েছে?”

তিনি বিষয়টি জানালে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ক্ষতস্থানে নিজের লালা লাগিয়ে দিলেন। এরপর তাঁর ব্যথা দূর হয়ে গেল।

এদিকে মক্কায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে না পেয়ে কাফেররা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। তারা হযরত আলী (রা.)-কে মারধর করে কাবার কাছে আটকে রাখল।

এরপর তারা আবু বকর (রা.)-এর বাড়িতে গেল। তাঁর কন্যা হযরত আসমা (রা.) দরজা খুললে আবু জাহেল তাঁকে চড় মারে। আঘাতে তাঁর কানের দুল ছিঁড়ে পড়ে যায়।

কুরাইশরা ঘোষণা করল,

“যে ব্যক্তি মুহাম্মদ ﷺ অথবা আবু বকরকে জীবিত কিংবা মৃত ধরে আনতে পারবে, তাকে একশ উট পুরস্কার দেওয়া হবে।”

কুরাইশদের অনুসন্ধানী দল খুঁজতে খুঁজতে একসময় সওর গুহার একেবারে কাছে পৌঁছে গেল।

আবু বকর (রা.) খুব চিন্তিত হয়ে বললেন,

“হে আল্লাহর রাসূল! তারা যদি একটু নিচের দিকে তাকায়, তাহলে আমাদের দেখে ফেলবে!”

রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,

“হে আবু বকর! তুমি কী মনে কর - যে দুই ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ আছেন, তাদের কী হবে?”

অর্থাৎ, আমরা দুজন নই; আমাদের সঙ্গে আল্লাহর সাহায্য রয়েছে।

আল্লাহর কুদরতে কাফেররা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ভেতরে প্রবেশ করল না। গুহার মুখে মাকড়সার জাল ও কবুতরের বাসা দেখে তারা মনে করল, এখানে নিশ্চয় কেউ নেই।

এভাবে আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী ﷺ ও তাঁর সঙ্গী আবু বকর (রা.)-কে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করলেন।

তাঁরা তিন রাত সওর গুহায় অবস্থান করলেন। আবু বকর (রা.)-এর ছেলে আবদুল্লাহ (রা.) প্রতিদিন মক্কার খবর তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতেন। আর আমির ইবনে ফুহাইরা (রা.) ছাগলের দুধ দিয়ে তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন।

অবশেষে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য ও হেফাজতে হিজরতের এই ঐতিহাসিক সফর সফল হলো।

সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় প্রকাশ পায় না; প্রিয় মানুষকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি নিরাপদ রাখার চেষ্টা করার মধ্যেও ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায়।

হযরত আবু বকর (রা.) নিজের জীবনের কথা না ভেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

রদিয়াল্লাহু আনহু
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

তথ্যসূত্র: সীরাতে ইবনে হিশাম, ফাতহুল বারী,ফয়জুল কদির,আদ্দুররুল মানসুর

26/08/2026

মৃত মা-বাবার কাছে সওয়াব পৌঁছাতে হাদিস ও কোরআনের আলোকে সবচেয়ে উপকারী দুইটি আমল হলো:

১. তাঁদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন দো'আ ও ইস্তিগফার করা:

মা-বাবার জন্য সবচেয়ে বড় আমল হলো নিয়মিত তাঁদের মাগফিরাত ও রহমতের জন্য দো'আ করা। সন্তান যখন দো'আ করে, আল্লাহ তা'আলা কবরবাসীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

• কোরআনি দো'আ:"রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি সগীরা" (হে আমার রব! তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন। - সূরা বনি ইসরাঈল: ২৪)।

• ইস্তিগফার: প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে তাঁদের গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করা।

২. মা-বাবার পক্ষে 'সাদাকায়ে জারিয়া' ও দান-সদকা করা
:
মা-বাবার পক্ষ থেকে যে কোনো দান-সদকার সওয়াব সরাসরি তাঁদের আমলনামায় পৌঁছে। বিশেষ করে যে দানের উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয় (সাদাকায়ে জারিয়াহ)।
• উপকারী মাধ্যম: পানির কুয়া/টিউবওয়েল স্থাপন, এতিমখানায় নলকূপ বা বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা, মসজিদে কোরআন দান করা, কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা।

• নফল দান: কোনো দরিদ্র বা এতিমকে খাবার, পোশাক বা নগদ টাকা মা-বাবার নামে দান করে দেওয়া।

নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:"মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; কেবল তিনটি আমল ব্যতীত— ১. সদাকায়ে জারিয়াহ, ২. এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, এবং ৩. এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দো'আ করে।" (সহীহ মুসলিম)

26/08/2026

একবার ভাবুন তো! হযরত মু‘আয ইবনু জাবাল (রা.) কেমন অনুভব করেছিলেন, যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বলেছিলেন,“হে মু‘আয! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

কেউ যখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির মুখ থেকে শুনতে পান - “আমি তোমাকে ভালোবাসি”, তাঁর হৃদয়ের অবস্থা কেমন হতে পারে?

আর হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)-এর কথা ভাবুন। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে কাছে টেনে নিয়ে দোয়া করেছিলেন,“হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন।”

কী সৌভাগ্য! ভালোবাসার মানুষটি শুধু ভালোবাসলেন না, তাঁর জন্য দোয়াও করলেন।

তারপর হযরত আলী ইবনু আবি তালিব (রা.)...

রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন,

“আগামীকাল আমি এমন একজনের হাতে পতাকা তুলে দেব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাকে ভালোবাসেন।”

পরদিন যখন জানা গেল, সেই সৌভাগ্যবান মানুষটি হযরত আলী (রা.), তখন তাঁর হৃদয়ে কী আনন্দের ঢেউ উঠেছিল - একবার কল্পনা করুন!

আর হযরত সা‘দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা.)!

যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বলেছিলেন,“হে সা‘দ! তীর নিক্ষেপ করো। আমার মা-বাবা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক!”

এই কথাগুলো কি কোনো সাহাবির হৃদয়ে সারাজীবন গেঁথে থাকার জন্য যথেষ্ট ছিল না?

হযরত উসমান (রা.) তাবুকের যুদ্ধে যখন বিপুল পরিমাণ সম্পদ দিয়ে মুসলিম বাহিনীকে সহযোগিতা করলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সম্পর্কে বললেন, “আজকের পর উসমান যা-ই করুন, তা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।”

আর আবু মূসা আল-আশ‘আরি (রা.)-এর কণ্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর প্রশংসা করলেন। এমন প্রশংসা, যা একজন মুমিনের হৃদয়কে সারাজীবন আলোয় ভরিয়ে দিতে পারে।

সায়িব ইবনু ইয়াজিদ (রা.)-এর মাথায় রাসুলুল্লাহ ﷺ স্নেহের হাত রেখে তাঁর জন্য বরকতের দোয়া করেছিলেন।

আর আনসার সাহাবিদের জন্য তো রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসাই ছিল এক বিরাট সম্মান। তিনি বলেছেন, “আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন, আর তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখা নিফাকের (মুনাফিকির) নিদর্শন।”

এবার ভাবুন সিদ্দিকে আকবর আবু বকর (রা.)-এর কথা।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আমি যদি আমার উম্মতের কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম।”

আর উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা.)...

রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে যখন জিজ্ঞেস করা হলো,“মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে?”

তিনি বললেন, “আয়িশা।”

একবার ভাবুন, এই কথাটি হযরত আয়িশা (রা.)-এর হৃদয়ে কী অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল!

আর হযরত বিলাল (রা.)...

রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেন,

“হে বিলাল! বলো তো, ইসলামে এমন কোন আমল তুমি করেছ, যার ওপর তোমার সবচেয়ে বেশি আশা? কারণ আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার শব্দ শুনেছি।”

একজন সাহাবি জীবিত অবস্থায় জানলেন, জান্নাতে তাঁর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে!

সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছেন, প্রশংসা পেয়েছেন, দোয়া পেয়েছেন, সুসংবাদ পেয়েছেন। কিন্তু একদিন তো আমাদেরও তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে।

সেদিন যদি রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের দিকে তাকান,আমাদের হৃদয়ের অবস্থা কেমন হবে?

আমরা কি তাঁর ভালোবাসা পাওয়ার মতো জীবন নিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারব?

নাকি সেদিন আফসোস করে বলব,ইশ! দুনিয়ায় থাকতে যদি তাঁকে একটু বেশি ভালোবাসতাম!
তাঁর সুন্নাহকে যদি একটু বেশি আঁকড়ে ধরতাম!

আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরে রাসূল ﷺ-এর সত্যিকারের ভালোবাসা দান করুন। সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মতো রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক দিন। আমিন

রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

তথ্যসূত্র: বুখারী,মুসলিম,তিরমিযী,আবু দাউদ,মুসনাদে আহমদ

এক ব্যক্তি এক দরবেশকে জিজ্ঞেস করল,“আমাদের ওপর যে দুশ্চিন্তা বা বিপদ এসেছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা, নাকি শাস্তি? তা...
26/08/2026

এক ব্যক্তি এক দরবেশকে জিজ্ঞেস করল,

“আমাদের ওপর যে দুশ্চিন্তা বা বিপদ এসেছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা, নাকি শাস্তি? তা কীভাবে বুঝব?”

দরবেশ বললেন,

“যে বিপদ তোমাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যায়, সেটি পরীক্ষা। আর যে বিপদ তোমাকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, সেটিই শাস্তি।”

26/08/2026

রাসূল ﷺ-কে হত্যার ষড়যন্ত্র নিয়ে মদিনায় এলেন, এরপর...!

বদরের যুদ্ধে মুশরিকদের পরাজয়ের পর কুরাইশদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল। একদিন উমাইর ইবনু ওয়াহাব আল-জুমাহি ও সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া বসে বদরের নিহতদের কথা আলোচনা করছিল।

সাফওয়ান বলল,“আল্লাহর কসম! তাদের পর বেঁচে থাকার মধ্যে আর কোনো আনন্দ নেই।”

উমাইর বলল, “তুমি ঠিক বলেছ। আমার যদি ঋণ না থাকত এবং আমার পরিবারকে দেখাশোনার চিন্তা না থাকত, তাহলে আমি মদিনায় গিয়ে মুহাম্মদ ﷺ-কে হত্যা করে আসতাম। তাছাড়া আমার ছেলে মুসলমানদের হাতে বন্দি আছে।”

সাফওয়ান সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বলল, “তোমার ঋণ আমি পরিশোধ করে দেব। আর তোমার পরিবারের দায়িত্বও আমার পরিবার নেবে। তুমি শুধু মুহাম্মদ ﷺ-কে হত্যা করে এসো।”

উমাইর বলল, “আমাদের এই পরিকল্পনার কথা কাউকে বলবে না।”

সাফওয়ান রাজি হলো।

উমাইর তার তলোয়ার ধারালো করল এবং তাতে বিষ মাখিয়ে মদিনার দিকে রওনা হলো।

মদিনায় পৌঁছে সে মসজিদে নববীর কাছে এলে হযরত উমর (রা.) তাকে দেখে সন্দেহ করলেন। তার গলায় ঝোলানো তলোয়ার দেখে উমর (রা.) তাকে ধরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে নিয়ে গেলেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,“তাকে ছেড়ে দাও, উমাইরকে আমার কাছে আসতে দাও।”

উমাইর কাছে এগিয়ে এসে বললেন, “সুপ্রভাত।”

তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন,

“হে উমাইর! আল্লাহ আমাদেরকে তোমার অভিবাদনের চেয়েও উত্তম অভিবাদন দ্বারা সম্মানিত করেছেন। সেটি হলো ‘সালাম’; আর সালাম হলো জান্নাতবাসীদের অভিবাদন।”

এরপর নবীজি ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “উমাইর! কী জন্য এসেছ?”

সে বলল, “আমার যে ছেলে আপনাদের কাছে বন্দি আছে, তার ব্যাপারে ভালো ব্যবহার করার অনুরোধ করতে এসেছি।”

নবীজি ﷺ বললেন, “তাহলে তোমার গলায় এই তলোয়ার কেন?”

উমাইর বলল,“এগুলো তো এমন তলোয়ার, যা আমাদের কোনো উপকারই করতে পারেনি!”

তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,

“সত্য কথা বলো, উমাইর! তুমি আর সাফওয়ান মিলে কাবার পাশে বসে বদরে নিহতদের কথা আলোচনা করেছিলে। তুমি বলেছিলে, আমার ঋণ ও পরিবারের দায়িত্ব না থাকলে আমি মদিনায় গিয়ে মুহাম্মদকে হত্যা করতাম। আর সাফওয়ান তোমার ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর তুমি আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছ।”

এ কথা শুনে উমাইর স্তব্ধ হয়ে গেল।

কারণ এই গোপন কথোপকথন শুধু উমাইর ও সাফওয়ান ছাড়া আর কেউ জানত না।

সে সঙ্গে সঙ্গে বলল,“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল!”

এরপর বলল,

“হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এতদিন আসমান থেকে আসা সংবাদ ও ওহিকে মিথ্যা মনে করতাম। কিন্তু এই ঘটনা এমন একটি বিষয়, যা শুধু আমি ও সাফওয়ান জানতাম। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আপনাকে এটি জানাতে পারেন না।”

তারপর উমাইর ইবনু ওয়াহাব রা. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাতে শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন।

যে ব্যক্তি তলোয়ারে বিষ মেখে নবীজি ﷺ-কে হত্যা করতে এসেছিল, আল্লাহর কুদরতে সেই তলোয়ারই তার হৃদয় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে গেল।

মানুষ গোপনে যত পরিকল্পনাই করুক, আল্লাহর কাছে কিছুই গোপন নয়। আল্লাহ চাইলে সবচেয়ে কঠিন হৃদয়কেও মুহূর্তের মধ্যে হেদায়েতের আলোয় আলোকিত করে দিতে পারেন।

রদিয়াল্লাহু আনহু
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ﷺ ❤️

সূত্র: সীরাতে ইবনে হিশাম

26/08/2026

Address

Chandrima Model Town
Dhaka
MUHAMMADPUR

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Syed Muhaimenul Bari Orphanage posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share