Islamic Sirah

Islamic Sirah Islamic Lifestyle According to Prophet Muhammad (SAW).

24/12/2025

রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ।

১. সুদ (Riba):
যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে কখনো বারকাহ আসতে পারে না।
📖 রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা ২৭৯ — “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা।”

২. অকৃতজ্ঞতা:
যে রিযিককে তুমি তুচ্ছ করো, সেটাই ধীরে ধীরে তোমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
📖 রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম ৭ — “কৃতজ্ঞ হলে বাড়িয়ে দেব, অকৃতজ্ঞ হলে শাস্তি কঠিন।”

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা:
রিযিকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। সম্পর্ক কেটে দিলে রিযিকের দরজা বন্ধ হয়।
📖 হাদিস: “যে রিযিক বাড়াতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” — বুখারি ২৯৮৬

৪. অসততা:
ব্যবসায় মিথ্যা বললে সাময়িক লাভ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রিযিক নষ্ট হয়।

৫. প্রতারণা:
কারও হক মেরে খেলে প্রতিটি হারাম টাকা জীবনে অভাব ডেকে আনে।
📖 হাদিস: “যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের মধ্যে নয়।” — মুসলিম ১০২

৬. সালাত অবহেলা:
আজান–সালাত গুরুত্বহীন মনে করলে রিযিকের বারকাহ কমে যায়।
📖 হাদিস: “রিযিক সালাতে আছে।” — সহিহ অর্থে বহু বর্ণনায় প্রমাণিত

৭. গীবত:
অন্যের পিঠ পেছনে খারাপ বলা তোমার নিজ জীবনের বারকাহ খেয়ে ফেলে।
📖 সূরা হুজুরাত ১২

৮. অহংকার:
রিযিক উপহার, প্রমাণ নয় যে তুমি শ্রেষ্ঠ। অহংকার আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়।
📖 হাদিস: “যার অন্তরে অহংকারের অণু পরিমাণ থাকে, সে জান্নাতে যাবে না।” — মুসলিম ৯১

৯. যাকাত আটকে রাখা:
যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায় এবং ধ্বংস হতে থাকে।
📖 সূরা তাওবা ৩৪-৩৫

১০. কর্মচারীদের ওপর জুলুম:
যাদের তোমার ওপর কিছুটা অধিকার আছে, তাদের হক না দিলে রিযিক শুকিয়ে যায়।
📖 হাদিস: “মজদুরের মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ করো।” — ইবন মাজাহ ২৪৪৩

১১. বেচাকেনায় প্রতারণা বা জিনিসের দোষ লুকানো:
এতে সম্পদের বারকাহ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়।

১২. লোভ:
যে শুধু আরও আরও চায় কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ বলে না—সে শেষ পর্যন্ত কম পায়।
📖 হাদিস: “মানুষের মন যদি দুই পাহাড় ভরা সম্পদ পায়, তবুও সে তৃতীয়টি চাইবে।” — বুখারি ৬৪৩৯

১৩. বাবা–মাকে অবহেলা:
তোমার রিযিক তাদের দোয়া বা অভিশাপের সাথে জড়িত।
📖 হাদিস: “রিযিক ও আয়ু বাড়ে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখলে।” — মুসলিম (হাসান সনদে বহু রেওয়ায়েতে প্রমাণিত)

১৪. জুলুম করে সম্পদ অর্জন:
জুলুমের সম্পদে কোনো বারকাহ নেই, বরং ধ্বংস ডেকে আনে।

১৫. সদকা অবহেলা:
সদকা কখনো সম্পদ কমায় না, বরং বাড়ায়।
📖 হাদিস: “সদকা সম্পদ কমায় না।” — মুসলিম ২৫৮৮

১৬. হিংসা:
অন্যের রিযিক দেখে মন খারাপ করা নিজের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

১৭. নারীদের ও বাচ্চাদের প্রতি জুলুম:
যাদের যত্নের অধিকার সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রতি অন্যায় করলে রিযিক উঠে যায়।

১৮. মিথ্যা কসম খাওয়া:
টাকা বা ব্যবসার জন্য মিথ্যা শপথ বারকাহ পুড়িয়ে ফেলে।
📖 বুখারি ২০৮৭

১৯. অলসতা:
রিযিক চেষ্টা করা মানুষের কাছে আসে। যারা চেষ্টা করে না, ভাগ্যও দরজা খোলে না।

২০. তাকদির নিয়ে অসন্তুষ্টি:
আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করা ভবিষ্যতের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

📖 হাদিস: “আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকলে সে হৃদয়কে পরিপূর্ণ করেন।” — তিরমিজি ২৫১০

09/12/2025

‎দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরীক্ষা স্বরূপ। তাই জীবনে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি বা বিপদ-আপদ আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে ইসলামের দিকনির্দেশনা মেনে চললে এই পেরেশানি থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে ওঠে। নিচে কিছু সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।
‎.
‎১. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা:
‎আল্লাহর উপর এই বিশ্বাস রাখা যে, জীবনে যা কিছু ঘটছে, তা আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এবং এর মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে। আল্লাহ বলেছেন: "আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।" (সূরা তালাক: ৩) এবং সবসময় আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা যে, তিনি আপনার জন্য উত্তমটাই করবেন এবং খারাপ অবস্থা থেকে অবশ্যই উত্তরণ করবেন।
‎.
‎২. ধৈর্য ধারণ করা:
‎বিপদ-মসিবতে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আসার আশ্বাস দিয়েছেন: "নিশ্চয় কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আছে; অবশ্যই স্বাচ্ছন্দ্য আছে কষ্টের পর।" (সূরা ইনশিরাহ: ৫-৬)
‎.
‎৩. আল্লাহর সাহায্য চাওয়া ও দোয়া করা:
‎পেরেশানি দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা এবং সালাতুল হাজাত (বিশেষ প্রয়োজন পূরণের নামাজ) আদায় করা। এবং বিপদে পড়লে বেশিবেশি "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" পড়া।
‎.
‎৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য যে দোয়াটি করতেন সেটা পড়া:
‎উচ্চারণ: 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুাযানি, ওয়াল আজাযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজালি।'
অর্থ: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের নিপীড়ন থেকে।' (সুনানে নাসাঈ ৫৪৪৯)
‎.
‎৫. ইস্তেগফার ও দরূদ পাঠ
‎নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করলে আল্লাহ সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের সংস্থান করে দেন। এবং রাসূল (ﷺ)-এর ওপর দরূদ পাঠ করলেও তা পেরেশানি দূর করার জন্য এবং পাপ মোচনের জন্য যথেষ্ট।

11/09/2025

99 Names of Allah
1. Ar-Rahman (الرحمن) The All-Compassionate
2. Ar-Rahim (الرحيم) The All-Merciful
3. Al-Malik (الملك) The Absolute Ruler
4. Al-Quddus (القدوس) The Pure One
5. As-Salam (السلام) The Source of Peace
6. Al-Mu'min (المؤمن) The Inspirer of Faith
7. Al-Muhaymin (المهيمن) The Guardian
8. Al-Aziz (العزيز) The Victorious
9. Al-Jabbar (الجبار) The Compeller
10. Al-Mutakabbir (المتكبر) The Greatest
11. Al-Khaliq (الخالق) The Creator
12. Al-Bari' (البارئ) The Maker of Order
13. Al-Musawwir (المصور) The Shaper of Beauty
14. Al-Ghaffar (الغفار) The Forgiving
15. Al-Qahhar (القهار) The Subduer
16. Al-Wahhab (الوهاب) The Giver of All
17. Ar-Razzaq (الرزاق) The Sustainer
18. Al-Fattah (الفتاح) The Opener
19. Al-`Alim (العليم) The Knower of All
20. Al-Qabid (القابض) The Constrictor
21. Al-Basit (الباسط) The Reliever
22. Al-Khafid (الخافض) The Abaser
23. Ar-Rafi (الرافع) The Exalter
24. Al-Mu'izz (المعز) The Bestower of Honors
25. Al-Mudhill (المذل) The Humiliator
26. As-Sami (السميع) The Hearer of All
27. Al-Basir (البصير) The Seer of All
28. Al-Hakam (الحكم) The Judge
29. Al-`Adl (العدل) The Just
30. Al-Latif (اللطيف) The Subtle One
31. Al-Khabir (الخبير) The All-Aware
32. Al-Halim (الحليم) The Forbearing
33. Al-Azim (العظيم) The Magnificent
34. Al-Ghafur (الغفور) The Forgiver and Hider of Faults
35. Ash-Shakur (الشكور) The Rewarder of Thankfulness
36. Al-Ali (العلى) The Highest
37. Al-Kabir (الكبير) The Greatest
38. Al-Hafiz (الحفيظ) The Preserver
39. Al-Muqit (المقيت) The Nourisher
40. Al-Hasib (الحسيب) The Accounter
41. Al-Jalil (الجليل) The Mighty
42. Al-Karim (الكريم) The Generous
43. Ar-Raqib (الرقيب) The Watchful One
44. Al-Mujib (المجيب) The Responder to Prayer
45. Al-Wasi (الواسع) The All-Comprehending
46. Al-Hakim (الحكيم) The Perfectly Wise
47. Al-Wadud (الودود) The Loving One
48. Al-Majeed (المجيد) The Majestic One
49. Al-Ba'ith (الباعث) The Resurrector
50. Ash-Shahid (الشهيد) The Witness
51. Al-Haqq (الحق) The Truth
52. Al-Wakil (الوكيل) The Trustee
53. Al-Qawiyy (القوى) The Possessor of All Strength
54. Al-Matin (المتين) The Forceful One
55. Al-Waliyy (الولى) The Governor
56. Al-Hamid (الحميد) The Praised One
57. Al-Muhsi (المحصى) The Appraiser
57. Al-Mubdi' (المبدئ) The Originator
59. Al-Mu'id (المعيد) The Restorer
60. Al-Muhyi (المحيى) The Giver of Life
61. Al-Mumit (المميت) The Taker of Life
62. Al-Hayy (الحي) The Ever Living One
63. Al-Qayyum (القيوم) The Self-Existing One
64. Al-Wajid (الواجد) The Finder
65. Al-Majid (الماجد) The Glorious
66. Al-Wahid (الواحد) The Unique, The Single
67. Al-Ahad (الاحد) The One, The Indivisible
68. As-Samad (الصمد) The Satisfier of All Needs
69. Al-Qadir (القادر) The All Powerful
70. Al-Muqtadir (المقتدر) The Creator of All Power
71. Al-Muqaddim (المقدم) The Expediter
72. Al-Mu'akhkhir (المؤخر) The Delayer
73. Al-Awwal (الأول) The First
74. Al-Akhir (الأخر) The Last
75. Az-Zahir (الظاهر) The Manifest One
76. Al-Batin (الباطن) The Hidden One
77. Al-Wali (الوالي) The Protecting Friend
78. Al-Muta'ali (المتعالي) The Supreme One
79. Al-Barr (البر) The Doer of Good
80. At-Tawwab (التواب) The Guide to Repentance
81. Al-Muntaqim (المنتقم) The Avenger
82. Al-'Afuww (العفو) The Forgiver
83. Ar-Ra'uf (الرؤوف) The Clement
84. Malik-al-Mulk (مالك الملك) The Owner of All
85. Dhu-al-Jalal wa-al-Ikram (ذو الجلال و الإكرام) The Lord of Majesty and Bounty
86. Al-Muqsit (المقسط) The Equitable One
87. Al-Jami' (الجامع) The Gatherer
88. Al-Ghani (الغنى) The Rich One
89. Al-Mughni (المغنى) The Enricher
90. Al-Mani'(المانع) The Preventer of Harm
91. Ad-Darr (الضار) The Creator of The Harmful
92. An-Nafi' (النافع) The Creator of Good
93. An-Nur (النور) The Light
94. Al-Hadi (الهادي) The Guide
95. Al-Badi (البديع) The Originator
96. Al-Baqi (الباقي) The Everlasting One
97. Al-Warith (الوارث) The Inheritor of All
98. Ar-Rashid (الرشيد) The Righteous Teacher
99. As-Sabur (الصبور) The Patient One

03/09/2025

‘অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।’
(সুরা : নাহল : ৬১)

02/09/2025

যে ১০ টি আমল যে কোন বালা মুসিবত ও বিপদ থেকে অবশ্যই মুক্তি দিবে :

তাওবাহ :
কুরআনে আছে , যে কোন বিপদ গুনাহের কারণে হয়ে থাকে।
"মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোন কোন কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (অসৎ পথ হতে) ফিরে আসে।"
[ সূরা রুম - ৪১ ]
গুনাহ থেকে তাওবাহ মানুষ কে বিপদ থেকে মুক্তি দান করে।

তাকওয়া :
‘যে কেউ আল্লাহতায়ালার ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন করবে, আল্লাহ তার জন্য সঙ্কট থেকে উত্তোরণের কোনো পথ তৈরি করে দেবেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দেবেন যা তার ধারণারও বাইরে।'
[সূরা তালাক: ২]

তাওয়াক্কুল :
‘‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্যে যথেষ্ট।’’
[সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৩]

সবর ও সলাত :
আল্লাহ্‌ তা'আলা ই কুরআনে বলেছেন, সবর ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে।
'হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সহিত আছেন।'
[সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩]

দুয়া :
যে কোন বিপদাপদ কাটিয়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করা অত্যন্ত কার্যকর। হাদিসে আছে,
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'আ ব্যতীত অন্য কোন কিছুই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না এবং সৎকাজ ব্যতীত অন্য কোন কিছুই হায়াত বাড়াতে পারে না।
[তিরমিযী ২১৩৯, হাদীস সম্ভার ৩৬৪৪ সহীহুল জামে’ ৭৬৮৭) সহিহাহ ১৫৪ ইবনে মাজাহ ৯০-৪০২২ আহমাদ ২১৮৮১, ২১৯০৭, ২১৯৩২]

ইস্তিগফার :
‘যে ব্যক্তি নিজের জন্য ‘ইস্তিগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনা) আবশ্যক করে নেবে, আল্লাহ তাকে সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন, সব সংকীর্ণতা থেকে উদ্ধার করবেন এবং তাকে এমনভাবে জীবিকার ব্যবস্থা করবেন যা তার চিন্তার বাইরে। ’
[সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৮১৯]

দরুদ :
একজন সাহাবি রাসূলকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর উপর সর্বদা দরুদ পাঠ করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সকল চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর করা হবে (প্রয়োজন পূরণ হবে) এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’’
[তিরমিযি: ২৪৫৭, হাকিম: ২/৪৫৭, হাদিসটি সহিহ]

দুয়া ইউনুস :
সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নবী যুন-নূন ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকাকালে যে দু’আ করেছিলেন তা হলঃ “ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ- [সূরা আম্বিয়া ৮৭]
যে কোন মুসলিম লোক কোন বিষয়ে কখনো এ দু’আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তার দু’আ কবুল করেন। [তিরমিজি ৩৫০৫]

সদাকাহ :
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সদাকাহ আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং অপমানজনক মৃত্যু রোধ করে।
[তিরমিজি ৬৬৪]

29/08/2025

জীবনের সারকথা কী?
মুফতি তাকি উসমানী উত্তরে ২০টি সুক্ষ্ম বিষয়ের কথা তুলে ধরেন:

১. সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর।
২. চেষ্টা কর সারা জীবনে কেউ যেন তোমার অভিযোগ অন্য কারো কাছে না করে। আল্লাহর কাছে কখনই না।
৩. বংশীয় লোকদের সাথে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো না। ক্ষতি হলে মেনে নিও, তবে বিরোধিতা করো না। পরে ভালো ফল পাবে।
৪. কোথাও এ কথা বলো না যে, আমি আলেম। আমার সাথে অনুগ্রহ করেন। এটি কখনই কাম্য নয়। চেষ্টা কর দ্বীনদারী হয়ে চলার।
৫. সর্বোত্তম দস্তরখান হল নিজ ঘরের দস্তরখান। যে রিজিক পাবে তাই রাজার হালে খাবে।
৬. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো থেকে আশা করো না।
৭. প্রত্যেক আগামী দিনে পরিশ্রম বৃদ্ধি কর।
৮. বিত্তশালী ও অহংকারী ব্যক্তি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
৯. প্রতিদিন সকালে কিছু দান খয়রাত কর। আর সন্ধ্যায় এস্তেগফার পাঠ করার অভ্যাস কর।
১০. নিজের কথার মাঝে মিষ্টতা তৈরি কর।
১১. উচ্চস্বরে কথা বলো না। এমনকি ছোট বাচ্চাদের সাথেও নয়।
১২. যে জায়গা থেকে তোমার রিজিকের ব্যবস্থা হচ্ছে সে জায়গাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসো। যেমন সম্মান করবে তেমন রিজিক বৃদ্ধি পাবে।
১৩. চেষ্টা কর সারা জীবনে সফল মানুষদের সাথে ওঠাবসা করবে। একদিন তুমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
১৪. প্রত্যেক সেক্টরের যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান কর। তার সামনে আদবের সাথে আসা উচিত। হোক সে যে কোন ময়দানের।
১৫. পিতা মাতা, শিক্ষক ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে যেমন উত্তম আচরণ করবে তেমন রিজিক বৃদ্ধি পাবে।
১৬. সব কাজে মধ্যমপন্থা গ্রহণ কর।
১৭. জন সাধারণের সাথে সম্পর্ক রেখ। তাদের থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।
১৮. একজনের অভিযোগ অন্যের কাছে না করা। অভিযোগকারীকে আমাদের নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপছন্দ করতেন।
১৯. সব কথা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন কর। এর দ্বারা অনেক সমস্যার সমাধান হয়।
২০. বড়দের বৈঠকে চুপ থেক।

আজকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটে) মুফতি তারেক মাসুদের দেওয়া বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশঃ১। ইসলাম ...
25/07/2025

আজকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটে) মুফতি তারেক মাসুদের দেওয়া বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশঃ

১। ইসলাম জাতি-রাষ্ট্র বোঝে না, ধর্মের ওপর সম্প্রীতি ইসলামে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২। তোমরা নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাক।

৩। মদের মতো একটা বস্তু মুসলমানরা ১৪০০ বছর ধরে বর্জন করেছে শুধুমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশনা মেনেই। আর কোনো আদর্শ মানুষকে এটা থেকে বিরত রাখতে পারে না।

৪। নামাযকে খুব গুরুত্বের সাথে আদায় করতে হবে।

৫। বাবা-মায়ের মতো সন্তানকে কেউ ভালোবাসে না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বাবা- মায়ের দায়িত্ব তোমাদের ওপরেই।

৬। দুনিয়াবি জ্ঞান অর্জনে ইসলাম কখনোই বাঁধা দেয় না। উদাহরণস্বরূপ ইসলামে মানুষের জীবন রক্ষা করা অনেক বড় সওয়াব। শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্টির নিয়তে সব করতে হবে। সেই হিসেবে ডাক্তাররা অনেক বেশি নেকি হাসিল করে।

৭। গুনাহের চিন্তা মাথায় আসা খারাপ না, বরং যারা আল্লাহকে সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নফসের ইচ্ছা কে নিয়ন্ত্রণ করে তারাই সর্বোত্তম। নাচ-গান, কনসার্টের প্রসঙ্গে এ কথা বলেন।

৮। তোমরা বিবাহ-বর্হিভূত অবৈধ সম্পর্ক (যেনা) এর ধারে কাছেও যেও না। বরং কম বয়সে বিবাহ করাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম। আল্লাহ নিজে বলেছেন তোমরা বিবাহ করো, যদি তোমাদের আর্থিক অবস্থা খারাপও হয়, আমি আল্লাহ আমার রহমত দ্বারা তোমাদেরকে ধনী বানায়ে দেব। আর বিবাহ ব্যতীত এই হারাম থেকে বাঁচার আর কোনো উপায়ও নাই। এপ্রসঙ্গে উনি রসিকতা করে বলেন মুফতি সাহেবের কাছে অবিবাহিত অবসরপ্রাপ্ত একজন বয়স্ক ব্যক্তি পাত্রীর জন্য এসেছিলেন। তখন উনি মজা করে বলেছিলেন আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করেন আর বিয়ে করা লাগবেনা।

৯। কুরআনে অনেক কিছু সরাসরি বলা নাই, কিন্ত উদাহরণ হিসেবে দেওয়া। সেখান থেকেই আমাদের জন্য হাদিসে বিস্তারিতভাবে নিয়ম প্রণয়ন করে। যেমন, কুরআনে বলা নাই সরাসরি বাবা- মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করো, কিন্তু এটা বলা তারা যেন উহু শব্দটুকুও না করে বিরক্ত হয়ে। এখান থেকেই হাদিসে পিতামাতার প্রতি কেমন আচরণ হবে তার ওপর বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা।

১০। একটা মাসআলা সেটা হলো অভিভাবক ছাড়া মেয়েদের বিবাহ। মুফতি সাহেব বলেন, তিন ইমাম এটার বিরুদ্ধে। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা এটার পক্ষে কারণ তিনি কোনো মাসআলা দেওয়ার আগে একাধিক হাদিস যাচাই বাছাই করতেন। রেফারেন্সঃ একজন নারী আল্লাহর রাসুল(স:) এর নিকট বিবাহের উদ্দেশ্যে গেলে আল্লাহর রাসুল (সঃ) তাকে একজন সাহাবির সাথে বিয়ে দিয়ে দেন এবং এক্ষেত্রে তিনি অভিভাবকের মতামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন নি। মেয়েদের জানের মালিক মেয়ে নিজে। সে নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে মুফতি সাহেব এটাকে পছন্দনীয় না এবং এটা প্রমোট না করাকেই উত্তম হিসেবে অভিহিত করেছেন।

১১। মুফতি সাহবে বললেন এদেশের উপর তো আল্লাহর অনেক রহমত আছে। গতকাল রাতে যে পরিমাণ বৃষ্টি দেখলাম, আমি আমার জীবনে এত বৃষ্টি দেখিনি। রসিকতা করে বললেন করাচিতে একরাত এমন বৃষ্টি হলে পরেরদিন নিউজ আসবে তারেক মাসুদ সাহেব আর দুনিয়াতে নাই।

১২। তোমরা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ো, গতকাল বুয়েট সম্পর্কে শুনলাম , তোমাদেরকে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে, তোমরা বুঝলে এই জাতি বুঝবে, না হলে সাধারণ মানুষের কাছে ইসলাম কখনোই ভালোভাবে পৌঁছাবে না৷

১৩। সবসময় মনে রাখবা, সাহায্যকারী একমাত্র আল্লাহ্। আল্লাহ্ ছাড়া কখনোই কারো কাছে সাহায্য চাইবা না। এই মর্মে উর্দুতে একটা স্লোগান(নারা) দিয়েছিলেন।

১৪। আল্লাহর রাসুল (স:) এর দেওয়া মোটিভেশনই আমাদের জন্য সর্বোত্তম।

18/05/2025

আপনি যখন ঈমানের পথে আরও দৃঢ় হন, নামাজ বা পর্দা মেনে চলেন, তখন প্রায়ই বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের কেউ কেউ দূরে সরে যায়। আড্ডার গ্রুপগুলো নীরব হয়ে যায়। এটা মোটেও কাকতালীয় নয়, বরং এটা একটি পরীক্ষা।

এই একাকীত্ব আসে আপনার আধ্যাত্মিক উন্নতির কারণেই। এটিকে সূরা আল-আনকাবুত ২৯:২ এর আলোকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখুন: "মানুষ কি মনে করে যে, তারা বিশ্বাস করে বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে?" এই পরীক্ষার অংশ হলো সামাজিক সম্পর্কগুলো আলগা হওয়া।

আধ্যাত্মিক বিকাশ আপনার চারপাশের পরিবেশ, কথাবার্তা এবং কাজকর্মের প্রতি আপনার সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। পুরোনো বন্ধুত্বের সাথে আপনার মূল্যবোধের দূরত্ব স্পষ্ট হয়। এই সংবেদনশীলতা আপনার আধ্যাত্মিক জাগরণেরই একটি বৈশিষ্ট্য।

নবীদের জীবনেও এই পরীক্ষার প্রমাণ মেলে। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) সত্যকে বেছে নিয়েছিলেন, এমনকি তার জন্য তাঁকে একাকীত্ব বরণ করতে হয়। মানবশ্রেষ্ঠরাও এই একাকীত্বের মুখোমুখি হয়েছেন।

আজ আমরা অনেক সংযুক্ত থাকলেও, ঠিক তখনই আমরা গভীর একাকীত্ব অনুভব করি যখন আমাদের ঈমান শক্তিশালী হতে থাকে। নবীগণ সাবধান করে গেছেন এমন সময়ের ব্যাপারে যখন, ধর্ম ধরে রাখা হবে জ্বলন্ত কয়লা ধরার মতো কষ্টের। এই কষ্ট কখনও কখনও সম্পর্ক শিথিল হওয়ার মাধ্যমেই আসে।

আপনার জীবনে আল্লাহর রহমত বা প্রভাব যত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আপনার একাকীত্বের পরীক্ষাও তত বড় হতে পারে। এই একাকীত্ব ব্যর্থতার প্রমাণ নয়, বরং আপনার আহ্বানের স্বীকৃতি।

ছুটির দিন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো বন্ধুদের দেখে একাকীত্ব সবচেয়ে বেশি অনুভব হতে পারে। এগুলো হলো পুরোনো জীবনের জন্য শোক করার মুহূর্ত। এই কষ্টকে স্বীকার করুন এবং আল্লাহর কাছে নিয়ে যান।

পুরোনো সম্পর্কগুলো, আপনি আগে কেমন ছিলেন তার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। নাটকীয় আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সেই সম্পর্কগুলো সহজেই খাপ খাইয়ে নেবে এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

একাকীত্ব মানে আল্লাহ আপনাকে ছেড়ে দিয়েছেন এমন নয়, বরং আল্লাহ আপনাকে পরিশুদ্ধ করছেন, যেমন আগুনে সোনা খাঁটি হয় বা চাপে হীরা তৈরি হয়। আল্লাহ যা মূল্যবান মনে করেন, তার পরীক্ষাই নেন।

এই একাকীত্বকে ইতিবাচকভাবে দেখার জন্য CONNECT নামে একটি পদ্ধতি রয়েছে, যার মূল কথা হলো—এটাকে আধ্যাত্মিক পথের অংশ হিসেবে বোঝা, নিজের পরিবর্তনকে মেনে নেওয়া, নতুন সম্পর্ক তৈরি করা, পরিবারের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, বর্তমান অবস্থাকে গ্রহণ করা, একাকীত্বকে ভালো কাজে লাগানো এবং এই প্রক্রিয়াটির উপর ভরসা রাখা।

শেষ প্রশ্ন হলো, আপনি এই একাকীত্বকে ভুলের প্রমাণ মনে করবেন, নাকি সঠিক পথে থাকার স্বীকৃতি?

সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে আল্লাহকে বেছে নেওয়া আখিরাতের জন্য একটি বিনিয়োগ, নবীদের দেখানো পথে চলা এবং আল্লাহ আপনাকে যেমন বানিয়েছেন তেমন হওয়ার একটি ধাপ। সাময়িক বিচ্ছিন্নতা আপনার লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া নয়, বরং তার জন্য প্রস্তুতি।

06/04/2025

আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে নবীদের প্রত্যাখ্যানের পরেও সাথে সাথেই ধ্বংস করেননি। তাদের তাওবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা অন্য কোনো জাতির ক্ষেত্রে ঘটেনি। এটি ছিল তাদের জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ।

তবে, বনী ইসরাঈল তাদের নবীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ করেছিল, এমনকি হযরত ঈসা (আঃ)-কে হত্যার চেষ্টাও করেছিল। তারা তাঁকে যাদুকর বলেছিল এবং মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য ঘোষণা করেছিল।

অবশেষে আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা (আঃ)-কে আকাশে উঠিয়ে নেন। এর ৪০ বছর পর দ্বিতীয় বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস হয় এবং বনী ইসরাঈল বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরও তাদের আরেকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যখন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) আগমন করেন। তাদের বলা হয়েছিল, যদি তারা তাঁর উপর ঈমান আনে, তবে অতীতের ভুল সত্ত্বেও তারা মুক্তি পাবে।

আজকে আমরা বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের উপর যে অত্যাচার দেখছি, বিশেষ করে কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলীদের হাতে, তা বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিদিন হত্যা, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং এমনকি একজন ইউরোপীয় শান্তি কর্মীও রেহাই পাচ্ছে না।

তবে মুসলিম উম্মাহর এই আপাত দুর্বলতা ক্ষণস্থায়ী। ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে একটি বড় যুদ্ধ হবে, যেখানে প্রথমে খ্রিস্টানদের প্রাধান্য থাকবে। আশিটি পতাকার অধীনে বারো হাজার যোদ্ধা করে মোট ৯ লক্ষ ৬০ হাজার যোদ্ধা একত্রিত হবে।
অবশেষে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের বিজয় দান করবেন, যখন হযরত ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

হযরত ঈসা (আঃ) দাজ্জালকে পরাজিত করবেন, যার সাথে ৭০,০০০ ইহুদি থাকবে। সে সময় পাথর ও গাছের মতো জড় পদার্থগুলোও মুসলমানদের ডেকে বলবে যে তাদের পেছনে ইহুদি লুকিয়ে আছে, শুধু 'গারকাদ' গাছ ছাড়া।

অনেকের মতে, বর্তমানে ইসরায়েলে ইহুদিদের একত্র হওয়া শেষ জামানার সেই সময়েরই পূর্বাভাস। ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখলের পর যখন মোশে দায়ান বলেছিলেন, "আমরা আমাদের পবিত্র স্থানে ফিরে এসেছি, আর কখনো এখান থেকে যাব না," তখন তিনি আশ্চর্য হয়েছিলেন এবং এটিকে শেষ সময়ের শুরু হিসেবে দেখেছিলেন।

অতীতে রাজপুতদের মধ্যে একটি প্রথা ছিল, কোনো রাজপুত যুবক লজ্জাজনক কাজ করলে চামার সম্প্রদায়ের কেউ তাকে জুতা দিয়ে মাথায় আঘাত করত, যা চরম অপমান ও লজ্জার প্রতীক ছিল। এই উপমাটি ইসরায়েলীদের হাতে মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অপমান বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলার রহমত ও গজব বিভিন্ন জাতির সাথে তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট। প্রাথমিক অবকাশের পরেও যদি অন্যায় চলতে থাকে, তবে অবশ্যই কঠোর শাস্তি নেমে আসবে। তবে, তাওবার দরজা সবসময় খোলা থাকে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন।

বায়তুল মাকদিস: প্রেক্ষাপট ও বাঙালি মুসলমানদের ভাবনাআলহামদুলিল্লাহ, মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়াররা ১৪০০ বছরেরও বেশি স...
26/03/2025

বায়তুল মাকদিস: প্রেক্ষাপট ও বাঙালি মুসলমানদের ভাবনা

আলহামদুলিল্লাহ, মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়াররা ১৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সবচেয়ে পবিত্র স্থান। এরপর বায়তুল মাকদিসের স্থান, যা বারবার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। প্রায় ২০০ বছর ধরে চলা ক্রুসেডে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনহানি হয়েছে।

জেরুজালেম দখলের আকাঙ্ক্ষা পূর্বে ও পশ্চিমে বহুবার দেখা গেছে। এমনকি কলম্বাসও গ্রানাডার পতনের পর আমেরিকা থেকে সম্পদ এনে জেরুজালেম পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এই সংঘাতের মূল কারণ রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়, বরং বিশ্বাস ও আকিদা।

যদি এটি কেবল ইহুদিদের জন্য ভূমি দখলের বিষয় হত, তবে বিশ্বে তাদের বসতি স্থাপনের জন্য আরও অনেক স্থান ছিল। কিন্তু ফিলিস্তিনের উপর তাদের জোর দেওয়া গভীর ধর্মীয় উদ্দেশ্যকেই ইঙ্গিত করে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তারা মসজিদুল আকসা ও কুব্বাত আস-সাখরার স্থানে তৃতীয় মন্দির (হাইকাল-এ-সোলায়মান) পুনর্নির্মাণ করতে চায়।

টেম্পল ইনস্টিটিউটের মতো ইহুদি সংগঠন ইতিমধ্যেই পুনর্নির্মিত মন্দিরের নকশা ও আচার-অনুষ্ঠান তৈরি করেছে। তারা মনে করে, পরিশুদ্ধির জন্য একটি লাল গাভী ব্যবহারের পরই তারা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারবে। খ্রিস্টান জায়নবাদীরাও ইসরায়েলের শক্তিবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণকে যিশুর দ্বিতীয় আগমন ত্বরান্বিত করবে বলে বিশ্বাস করে।

ব্রিটিশ জেনারেল এডমান্ড অ্যালেনবির জেরুজালেমে প্রবেশ এবং সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সমাধিতে তার প্রতীকী কাজ ক্রুসেডারদের চেতনার প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদুল আকসার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় মসজিদ, যা সম্ভবত ফেরেশতা, আদম (আঃ) বা ইব্রাহিম (আঃ) কর্তৃক নির্মিত এবং পরবর্তীতে সুলাইমান (আঃ) এর সাথে সম্পৃক্ত। এটি নবীদের ভূমি, যেখানে অসংখ্য নবী বসবাস ও ইবাদত করেছেন।

আল-ইসরা ওয়াল-মিরাজের রাতে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় যান এবং সকল নবীদের ইমামতি করেন, যা তাঁর শেষ নবী হওয়ার মর্যাদাকে তুলে ধরে। হিজরতের পর প্রায় ১৬-১৭ মাস ধরে এটি মুসলমানদের প্রথম কিবলা ছিল।

বিশ্বাস করা হয়, কিয়ামতের দিন ইসরাফিল (আঃ) এই স্থান থেকেই শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন, সম্ভবত কুব্বাত আস-সাখরার নিচের পাথরটি থেকে। অনেক হাদিস অনুযায়ী, শেষ যামানায় বায়তুল মাকদিসে মুসলমানদের শক্তিশালী অবস্থান থাকবে এবং ঈসা (আঃ) দামেস্কে অবতরণ করে বায়তুল মাকদিসের কাছে দাজ্জালকে পরাজিত করবেন। মুসলমান ও ইহুদিদের চূড়ান্ত যুদ্ধ এখানেই হবে, যেখানে গাছপালা ও পাথর ইহুদিদের গোপন আস্তানা প্রকাশ করে দেবে।

বায়তুল মাকদিসের চূড়ান্ত সংঘাত কেবল রাজনৈতিক বা জাতীয়তাবাদী বিষয় নয়, বরং ইসলাম ও কুফরের মধ্যে আকিদা ও বিশ্বাসের লড়াই। আল-আকসার মুক্তি একটি প্রজন্মগত প্রকল্প, যেমনটি সুলতান নুরুদ্দিন জিনকি দেখিয়েছিলেন, যিনি সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর হাতে এর পুনরুদ্ধারের বহু দশক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

আমাদের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে এবং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে যারা এই মুক্তি প্রত্যক্ষ করবে। গাজার জনগণের ধৈর্য (সবর) এবং আল্লাহর একত্ববাদের (তাওহীদ) প্রতি অবিচল থাকা বিশাল কষ্টের মধ্যেও একটি শক্তিশালী নিদর্শন। বক্তা তাদের পরিস্থিতি সূরা আল-বুরুজের বিশ্বাসীদের সাথে তুলনা করেছেন, যাদের তাদের বিশ্বাসের জন্য আগুনে পোড়ানো হয়েছিল।

বক্তা বিশ্বাস করেন, বর্তমান ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধানের দিকে ইঙ্গিত করছে, সম্ভবত গাজা বা ইসরায়েলের সম্পূর্ণ ধ্বংস। আল-আকসা উম্মাহর সম্মিলিত পরিচয়ের অংশ এবং ইসলামী আকীদার সঠিক বুঝ এটিকে বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ।

উম্মাহর মধ্যে বাঙালি মুসলমানদের অনন্য অবস্থানের উপর জোর দিয়েছেন, যারা জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী এবং যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশের। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল প্রধান মুসলিম সাম্রাজ্যের সামরিক বা রাজনৈতিক কেন্দ্র না হওয়া সত্ত্বেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশে একটি "স্বৈরাচারী" শাসনের পতন এবং ভারতীয় "আধিপত্য" দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা ইসলামের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করেছে, যা অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায় একটি অনন্য ঘটনা। এই অঞ্চলের ইতিহাস ইসলামী আদর্শের জন্য এবং কুফর ও শিরকের বিরুদ্ধে মুসলিম পূর্বপুরুষদের সংগ্রামে পরিপূর্ণ।

আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এই অঞ্চলের (বাংলার) মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর কিছু এবং একটি ইতিবাচক পরিণতি রেখেছেন। একটি বিশ্বশক্তিতে পরিণত হতে হলে, বাংলাদেশের ভিত্তি অবশ্যই ইসলাম হতে হবে, এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাসের কারণে। অন্যান্য মতাদর্শ কেবল বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে।

আল-আকসা বাঙালি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের পরিচয়ের অংশ এবং বৃহত্তর উম্মাহর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম, বিশেষ করে তাদের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এবং অ-ইসলামিক সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে। আল-আকসার কারণকে ধারণ করার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানরা তাদের উম্মাহ চেতনা, পরিচয় এবং সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে পারে।

বিশ্ব "মহাকাব্যিক যুদ্ধের যুগে" প্রবেশ করছে, যার আগে "মহাকাব্যিক আত্মত্যাগের যুগ" দেখা যাচ্ছে, যেমন গাজা, সিরিয়া, কাশ্মীর, আফগানিস্তান, ইরাক, আরাকান এবং উইঘুরদের মধ্যে। ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর দামেস্ক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসে এর উল্লেখ রয়েছে।

দামেস্কে প্রবেশের সময় মুজাহিদীনদের উত্থাপিত স্লোগান ("লাব্বাইক ইয়া আল্লাহ" এবং "খায়বার ইয়া ইয়াহুদ") অত্যন্ত প্রতীকী হিসেবে দেখা হয়।

ইবনুল আছির বলেছেন, যখন আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট পরিণতি চান, তখন তিনি তার প্রেক্ষাপট তৈরি করেন এবং বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ মুসলমানদের বিজয়ের পথ তৈরি করছেন। এই বিজয় অর্জনে মুসলমানদের ভূমিকা গভীর চিন্তাভাবনা ও কর্মের দাবি রাখে।

19/03/2025

গাজায় ভয়াবহ পরিস্থিতি!

অবিরাম বোমা হামলায় জীবন ও মৃত্যুর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের আর্তনাদ, মিসাইলের শব্দে হারিয়ে যাচ্ছে সাহায্য প্রার্থনার মিনতি।

ইফতারের পর বিশ্রাম নিতে বসা একটি পরিবার মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেল। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসা একটি শিশুর হাত যেন সেই ভয়াবহতার প্রতীক। এটা কোনো যুদ্ধ বা প্রতিরোধ নয়, বরং একতরফা গণহত্যা।

১৮ই মার্চ, "কসাই" নেতানিয়াহুর বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরেও নির্বিচারে বিমান হামলা চলছে।

এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি সারি সারি অচেনা মৃতদেহ দেখেছেন, এমনকি একটি শিশুর শুধু মাথাটিও শনাক্ত করা যায়নি। এটা কি সভ্যতার পরিচয়?

গাজার শিশুদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, তাদের পৃথিবী পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ছোট্ট আমলের কথা ভাবুন, যার বাবা যুদ্ধ শেষে খেলনা কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সে তার পরিবারকে হারিয়েছে।

গাজার শিশুরা আজ এতিম, গল্প শোনা, স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করার মতো স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত। তাদের জীবন একটাই – মৃত্যুর হাত থেকে পালানো, এক নির্মম বাস্তবতা।

যদি প্যারিস, লন্ডন, নিউইয়র্ক বা বার্লিনে এমন হামলা হতো, বিশ্ব কি নীরব থাকত? গাজায় হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলেই কি বিশ্ব বিবেক ঘুমিয়ে আছে? এই নীরবতা কি চিরকাল চলবে?

এক বাবা তার মৃত সন্তানের পাশে বসে আছেন, হাতে আঁকা সূর্য, ঘর ও পরিবারের ছবি – যা এখন ধ্বংসস্তূপ। অতিরিক্ত শোকে তার চোখে জল নেই। তার প্রশ্ন, "এই গণহত্যা কবে থামবে?"

ইসরায়েলের কৌশল হলো আরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা, যাতে তারা ভূমি দখল করতে পারে। বাড়িঘর ধ্বংস করা, মৌলিক চাহিদা সীমিত করা – এটাই তাদের পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ, যা "জাতিগত নিধন" নামেও পরিচিত।

"ফিলিস্তিন মুক্ত না হলে মানবতা মুক্তি পাবে না।" গাজার আগুন পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গাজার শিশুদের জীবন রক্ষা পেলে তবেই বিশ্বের সকল শিশু নিরাপদ থাকবে।

যারা দেখছেন, তাদের কাছে অনুরোধ, গাজার মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন মনে রাখুন, তাদের জন্য आवाज তুলুন। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান যখন তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে, তখন মৃত বাবা-মায়ের পাশে শিশুদের কান্না – এটা মানবতার বিরুদ্ধে অমানবিক কাজ।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মাহমুদ নামের একটি ছোট্ট ছেলে, যার স্কুলব্যাগে একটি চিঠি ছিল – "কবে যুদ্ধ শেষ হবে?" এবং তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। ফাতেমার কথা ভাবুন, যে আর কখনো তার লাল জামা পরতে পারবে না। মাহমুদ ও ফাতেমার মৃত্যু শুধু গাজার নয়, "বিশ্ব মানবতার" ক্ষতি।

"যদি আজ ফিলিস্তিন মুক্ত না হয়, তবে বিশ্বের কোনো মানুষই মুক্ত নয়।" ফিলিস্তিনের লড়াই শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, সমগ্র মানবতার জন্য।

ধ্বংসস্তূপ থেকে হয়তো একদিন এক নতুন ফিলিস্তিন জেগে উঠবে, যেখানে প্রতিটি শহিদ শিশুকে স্মরণ করা হবে এবং মানবতা আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সেদিন মানুষ ফিলিস্তিনের মুক্তির ঘোষণা করবে, আর তার সাথে মুক্তি পাবে মানবতা।

"ফিলিস্তিনের মুক্তি ছাড়া আমাদের স্বাধীনতা অর্থহীন।" আমরা একটি শান্তিময় সকালের প্রত্যাশা করছি।

বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা, কাপুরুষতা এবং স্বার্থপরতার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা ক্ষমা চাইছি।

ফিলিস্তিন মুক্ত করো, আর নয় হত্যা, আর নয় মিথ্যা, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক!

সূরা আল-হাক্কাহ শুরু হয় বাস্তবতার এক চমকপ্রদ প্রশ্ন দিয়ে। মানুষ প্রায়শই নিজেদের বানানো বাস্তবতায় ডুবে থাকে, আসল সত্যকে উ...
16/03/2025

সূরা আল-হাক্কাহ শুরু হয় বাস্তবতার এক চমকপ্রদ প্রশ্ন দিয়ে। মানুষ প্রায়শই নিজেদের বানানো বাস্তবতায় ডুবে থাকে, আসল সত্যকে উপেক্ষা করে।

আল্লাহ আমাদের দৈনন্দিন তুচ্ছ ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে জীবনের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে বলেন। আমরা রুটিনে এতটাই মগ্ন থাকি যে, জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ভুলে যাই।

ব্যবসা জগতে যেমন দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, তেমনি জীবনেও চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকা জরুরি। মৌমাছি বা পিঁপড়ার মতো ছোট ছোট কাজগুলোও যেন বৃহত্তর লক্ষ্যের সাথে যুক্ত থাকে।

কিয়ামতের দিনে সবকিছু উল্টে যাবে। ছোট ছোট কাজগুলোর হিসাব আগে হবে, তারপর বড় ঘটনাগুলো।

শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার মাধ্যমে কিয়ামতের সূচনা হবে। যেন যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের জন্য যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।

শিঙ্গার আওয়াজে পুরো সৃষ্টি যেন রিজার্ভ সৈন্যের মতো প্রস্তুত হয়ে যাবে। পৃথিবী ও পাহাড়গুলো তুলে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।

'আল-ওয়াকিয়া' মানে অনিবার্য বাস্তবতা, যা অদৃশ্য জগত থেকে নেমে আসবে। সত্য ভারী, মিথ্যা হালকা।

আকাশ ফেটে যাবে, যেন কাপড় ছিঁড়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টির বাইরের জগত উন্মোচিত হবে।

আকাশ খুললে ফেরেশতারা সারি বেঁধে দাঁড়াবেন, যেন বিজয়ী বাহিনী পরাজিত শহরের দরজায় তাদের নেতার অপেক্ষায় আছে।

অদৃশ্য জগত (গায়েব), ফেরেশতা ও আমাদের কর্মের হিসাব আমাদের পাশেই আছে, কিন্তু আমরা দেখি না। 'কিতাবুম মারকুম' মানে আমাদের কর্মগুলো যেন পৃষ্ঠায় সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা।

কিয়ামতের দিন গায়েবের পর্দা সরে যাবে, আমরা ফেরেশতাদের দেখতে পাবো।

আল্লাহর আরশ সেদিন আটজন (অজ্ঞাত সত্তা) বহন করবেন। এটা আল্লাহর মহিমা ও বিচারের সূচনা নির্দেশ করে।

সব মানুষ আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, কোনো গোপন বিষয় লুকানো থাকবে না। আমাদের কর্মের পাশাপাশি মনের ইচ্ছা ও চিন্তাগুলোও প্রকাশ পাবে।

এই বিশাল আয়োজন, পৃথিবী ও আকাশের পরিবর্তন, ফেরেশতাদের আগমন এবং আরশের উপস্থিতি, সবই আমাদের বিচার করার জন্য।

আল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করার ক্ষমতা রাখলেও, এই বিশাল দৃশ্য ন্যায়বিচার প্রদর্শনের জন্য সাজানো হয়েছে।

ন্যায়বিচার শুধু ন্যায্য বিচার নয়, তা প্রদর্শিত ও সাক্ষ্য দেওয়াও জরুরি। এতে কেউ অজুহাত দিতে পারবে না।

সবাই আল্লাহর বিচারের ন্যায়বিচার দেখবে, এমনকি ছোট ভালো ও খারাপ কাজও। এজন্যই কিয়ামতের দিনের এত বিশাল প্রস্তুতি।

আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজ, যতই ছোট হোক না কেন, গুরুত্বপূর্ণ এবং এর হিসাব নেওয়া হবে। তাই কোনো কথা বা কাজকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।

যাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে এবং তা অন্যদের দেখাতে চাইবে।

সেদিন মানুষ এতটাই আতঙ্কিত থাকবে যে, নিকটাত্মীয়দেরও উপেক্ষা করবে, শুধুমাত্র নিজের ভাগ্য নিয়ে চিন্তিত থাকবে।

জান্নাতের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিদের খারাপ কাজগুলো আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন, যেন সাদা কালি দিয়ে ভুল ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

ছোট ছোট ভালো কাজগুলোও তাদের আমলনামায় বড় কাজ হিসেবে দেখা দেবে, যা তাদের আনন্দিত করবে।

তারা আনন্দের সাথে তাদের প্রিয়জনদের কাছে জান্নাতে ফিরে যাবে।

তারা কিয়ামতের দিনের দুশ্চিন্তা নিয়ে ভাববে এবং বুঝবে আল্লাহ তাদের হিসাব কত সহজ করে দিয়েছেন।

জান্নাতের জীবন হবে আনন্দ ও পরিপূর্ণতায় ভরপুর। যেখানে প্রতিটি অভিজ্ঞতা পরম তৃপ্তি দেবে।

জান্নাতকে 'জান্নাতিন আলিয়া' (উচ্চ বাগান) বলা হয়, যা শারীরিক উচ্চতা ও মর্যাদাকে বোঝায়। উঁচু স্থান থেকে দেখা দৃশ্য প্রশান্তি ও আধিপত্যের অনুভূতি দেবে।

জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও, এর অধিবাসীরা সাথে সাথেই আরাম ও সম্মানের অনুভূতি পাবে। ফল হাতের কাছেই থাকবে, তারা আনন্দে পানাহার করবে।

জান্নাতের জীবন আনন্দময় সঙ্গ ও আলাপচারিতায় পূর্ণ থাকবে।

এই দুনিয়ার জীবন দ্রুত খালি হয়ে যাওয়া বোতলের মতো ক্ষণস্থায়ী। তাই পরকালের জন্য ভালো কাজ জমা করতে সময়কে কাজে লাগানো উচিত।

আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত ডান হাতে আমলনামা পাওয়া এবং জান্নাতের উঁচু বাগানে বসবাস করা।

Address

Gulshan
Dhaka
1212

Telephone

+8809696352326

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Sirah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Islamic Sirah:

Share