Hare Krishna News

Hare Krishna News About Hare krishna related any program.

23/01/2026

. সংগৃহীত পোস্ট :
꧁ হরে✵কৃষ্ণ ꧂

পরমারাধ্য গুরুদেব ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্যবর অষ্টোত্তরশতশ্রী শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের কৃপাধন্য প্রিয় শিষ্য, ইসকন বাংলাদেশের মাননীয় বরিষ্ঠ অভিভাবক পূজ্যপাদ চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী প্রভুর হরিনাম দীক্ষা বার্ষিকীর আজ ৩৭বছর পূর্ণ আজ ( তিথি অনুসারে - বসন্ত পঞ্চমী,পুন্ডরীক বিদ্যানিধির শুভ আবির্ভাব তিথি)।

১৯৮৯সালে বসন্ত পঞ্চমীর শুভ লগ্নে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের নিকট হরিনাম দীক্ষা প্রাপ্ত হন পূজ্যপাদ চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী প্রভু।

গত ৩৭ বছর যাবৎ শ্রীপাদ চারুচন্দ্র প্রভু শ্রীল প্রভুপাদের ছত্রছায়ায় রয়েছেন। ১৯৮৫ সালে তিনি ইসকনের সাথে যুক্ত হন।

পরবর্তীতে বিশিষ্ট কীর্তনীয়া শ্রীপাদ্ কৃষ্ণকীর্তন প্রভুর নির্দেশে তিনি ইসকনের অন্যতম দীক্ষাগুরু শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের কাছ থেকে হরিনাম দীক্ষাপ্রাপ্ত হন। সেই সময়টা ছিল অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি দিন। ১৯৮৯ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি শ্রী পুন্ডরীক বিদ্যানিধি ঠাকুরের শুভ আবির্ভাব তিথিতে চট্টগ্রামের পুন্ডরীকধামে গুরুমহারাজ তাঁকে হরিনাম দীক্ষা প্রদান করেন। গুরুমহারাজ তাঁর পূর্বনাম চন্ডী দাস থেকে নতুন নাম চারুচন্দ্র দাস রাখেন। আর সেই সাথে জন্ম হয় ইসকন বাংলাদেশের আরেক রত্নের শুভসূচনা।

হরিনাম দীক্ষার দিনই গুরুমহারাজ চন্ডী দাস প্রভুকে বলেছিলেন,

"আজ থেকে তোমার নাম চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী এবং আজ থেকে তুমি ঢাকা মন্দিরের প্রেসিডেন্ট। এখন থেকে তুমি এ সেবাতেই নিজেকে উৎসর্গ করে তোমার মানবজন্মকে সার্থক করো।"

গুরুমহারাজের বাণী শিরধার্য করে গত ৩৩ বছর যাবৎ তিনি ঢাকা মন্দিরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োজিত থেকে বদ্ধজীবদের কাছে কৃষ্ণভক্তির বীজ রোপণ করে চলেছেন অনবরত। আরেকটি মজার তথ্য হলো, যেহেতু পুন্ডরীকধাম হচ্ছে চারুচন্দ্র প্রভুর আধ্যাত্মিক জন্মস্থান সেজন্য তিনি এ প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন,

"আমার দেহে যতদিন প্রাণ থাকবে ততদিন আমি এই পুন্ডরীক বিদ্যানিধি ঠাকুরের আবির্ভাব তিথিতে প্রত্যেক বছর পুন্ডরীকধামে অবশ্যই যাবো, এটা আমার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। বলা বাহুল্য, গত ৩৬ বছর যাবৎ কোন বছরই তিনি শুভ এই তিথিতে পুন্ডরীকধামে যাওয়া মিস করেননি।"

এই হচ্ছে শুদ্ধ বৈষ্ণব ঠাকুরের দৃঢ় মনোবল। হে প্রিয় বৈষ্ণব ঠাকুর, আপনার চরণকমলে আমার মতো পতিত জীবকে একটু আশ্রয় প্রদান করুন। আপনার চরণে সহস্রকোটি দন্ডবৎ প্রণতি।

জয় জগৎ গুরু শ্রীল প্রভুপাদ কি…জয় 🙌
জয় শ্রীল গুরুমহারাজ কি…জয় 🙌
জয় শ্রীপাদ চারুচন্দ্র প্রভু কি…জয় 🙌

11/01/2026

🤷🤷সুসন্তান লাভের জন্য কি করবেন🙏🙏

🛑 সুশ্রত সংহিতায় উল্লেখ আছে –

আহারাচার চেষ্টা ভিয়াদৃশোভি সমন্বিতৌ।
স্ত্রীপুংসৌ সমুপেয়াতাং তয়োঃ পুত্রোত্তপি তাদৃশঃ।।
( সুশ্রত সংহিতা / শরীর ২/৪৩/৫০ )

অর্থাৎ- নর নারী যেমন আহার করবেন, যে ব্যবহার বা প্রচেষ্টায় মিলিত হয়ে পরস্পর সহবাস করবেন, তাদের পুত্র সন্তানও তেমনি স্বভাব প্রাপ্ত হবে।

তাই স্বামী-স্ত্রী কে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সন্তান ধারণে প্রবৃত্ত হওয়া প্রয়োজন। সন্তান ধারণকালীন সময় এবং গর্ভে অবস্থানকালীন সময়, স্বামী স্ত্রীর সাধনার সময়। যার সাধনা যত পরিচ্ছন্ন তার সাধনার ফল তত পরিপক্ব।

একাদশী, দ্বাদশী বা কোন ব্রতের পূর্বে বা ব্রতের দিন বা ব্রতের পরের দিন সহবাস করলে সন্তান অসুর হয়ে জন্মায়।রাত ১২ টা থেকে রাত ৩ টা পর্যন্ত আসুরিক সময়। আসুরিক সময়কালে সন্তান ধারণ করলে সন্তানের মধ্যে আসুরিক গুণ পরিলক্ষিত হবে।

অমাবস্যা, পূর্ণিমা, চতুর্দশী, রবিবার, সংক্রান্তি, অষ্টমী, গ্রহণ, বারবেলা, কালবেলা, আসুরিকবেলা, শনিবার, মঙ্গলবার, পূজা পর্বের দিন সহবাসে উৎপন্ন সন্তান অাসুরিক কিংবা রাক্ষস মনোভাব নিয়ে জন্ম নেয়। সেই সন্তান দ্বারা সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র, পিতা- মাতা, আত্মীয় স্বজন সর্বদা উদ্বেগ প্রাপ্ত হবে।

সহবাসের উপযুক্ত সময় জানার আগে, প্রতিকূল দিন-ক্ষণ-তিথি জেনে নেওয়া খুব প্রয়োজন।

🛑আসুরিক গুণের সন্তান জন্ম হয়, যে সমস্ত দিন সহবাসে-

একাদশী, দ্বাদশী, ব্রতের আগের দিন-পরের দিন-অথবা ব্রতের দিন, পিতা-মাতার শ্রাদ্ধের দিন।

🛑রাক্ষস ও দুঃখী সন্তানের জন্ম হয়-

অমাবস্যা, পূর্ণিমা, অষ্টমী, চতুর্দশী, মঙ্গল-শনি-রবিবার, গ্রহণ, বারবেলা, পূজা-পর্বের দিনে।

এছাড়াও আগত সন্তানের গূণ-প্রকৃতি বিশেষভাবে নির্ভর করে, নারীদের ঋতুচক্রের সঠিক দিনের সহবাসে-

ঋতুচক্র

দিন....সন্তানের প্রকৃতি

প্রথম....অসুখ-বিসুখ

দ্বিতীয়....মৃত সন্তান

তৃতীয়....মৃত

চতুর্থ....গরীব

পঞ্চম....অতি ভাগ্যবতী কণ্যা

ষষ্ঠ.... ভাগ্যবান পুত্র

সপ্তম....ধর্মপরায়ণা কণ্যা

অষ্টম....পরম ধার্মিক পুত্র

নবম....কুলশ্রী বর্ধিনী কণ্যা

দশম....মহাসুখী পুত্র

**একাদশ....পরপুরুষ গামিনী কণ্যা

দ্বাদশ....বিখ্যাত যশস্বী পুত্র

**ত্রয়োদশ....স্ব-কুল নাশিনী কণ্যা

চতুর্দশ....ভক্তিমান পুত্র

পঞ্চদশ....সতী-সাধ্বী কণ্যা

ষষ্ঠদশ....সত্যবাদী,বিদ্বাণ ও বিষ্ণুভক্ত পুত্র।

ঋতুচক্রের ১৭--২৮ তম দিন পর্যন্ত সন্তানের কোনো সম্ভাবনা নেই। এগুলি সঠিকভাবে না জানার জন্যই, কত কত মৃত সন্তান, অথবা সন্তান উৎপন্নই হচ্ছে না।

সহবাসের দোষেই আগত সন্তানের নানাবিধ বিপদও সংঘটিত হয়। তাই সাবধানতা অবলম্বন অবশ্যই প্রয়োজন।

সহবাস অতি পবিত্র একটি বিষয়। তাই সু-সন্তান লাভে আগ্রহী হলে, স্নান করে, পবিত্র হয়ে, ঈশ্বর ও গুরু প্রণাম করে, সহবাস প্রয়োজন। সাথে আগের সমস্ত সংস্কার পালন করুন।

"ভোরবেলা, গোধূলি লগ্নে এবং দুপুরে
সহবাস নিষিদ্ধ"

🛑গর্ভাধান একটি পবিত্র কর্ম, একটি সাধনা।
শুদ্ধ বস্ত্রে, শুদ্ধ শয্যায়, শুদ্ধ চিত্তে সহবাসে লিপ্ত হতে হয় তবেই সুশীল, ধার্মিক, সুকুমার সুকুমারী পুত্র বা কন্যা সন্তান লাভ হয় । ক্লান্ত, চিন্তিত, ভয়ার্ত, বাহ্যক্রিয়া কিংবা প্রস্রাবের বেগ , ক্ষুধা, পিপাসা, মানসিক প্রতিকূলতার সময় সহবাস নিষিদ্ধ।

গর্ভধারণের সময় ধর্ম চিন্তা করলে সন্তান ধার্মিক হবে তা শতসিদ্ধ নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন শাস্ত্র।

🛑গর্ভাধানের আগে যে মন্ত্রটি পড়া আবশ্যক-

গর্ভং ধেহি সেনাবালি গর্ভং ধেহি প্রথুষ টুকে ।
গর্ভং তে অশ্বিনী দেবাবাধাতাং পুষ্কর স্রজৌ ।।

অর্থাৎ- সেনাবালি দেবি! এবং হে বিস্তৃত প্রথুষটুকা দেবী, তুমি এই স্ত্রীকে গর্ভধারণের সামর্থ দাও এবং তাকে পুষ্ট করো। কমল মালায় অশ্বিনীকুমার ভাতৃদ্বয় তার গর্ভকে পুষ্ট করুন।

তাই আমরা যদি সুসন্তান লাভ করতে চাই তাহলে অবশ্যই স্বামী স্ত্রীকে গর্ভধারণের সময়টাকে সাধনার সময়রুপে গ্রহণ করতে হবে।

🛑 মনে রাখা আবশ্যক,
আদর্শ পিতা মাতা হওয়ার প্রারম্ভিক সোপানই হলো, শাস্ত্রের নিয়মকে অনুসরণ করে সন্তান ধারণে প্রবৃত্ত হওয়া।

09/01/2026

*প্রশ্ন: #ব্রাহ্মণ_দীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কি ?

উঃ শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের শিক্ষা ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন অনুযায়ী, ব্রাহ্মণ দীক্ষা (যাকে দ্বিতীয় দীক্ষা বলা হয়) আধ্যাত্মিক জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এর প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য নিচে দেওয়া হলো:

*১। আধ্যাত্মিক পুনর্জন্ম ও দ্বিজত্ব*
শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বলেছেন যে, দীক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি 'দ্বিজ' বা দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করেন। প্রথম জন্মটি মাতা-পিতার মাধ্যমে শারীরিক জন্ম, কিন্তু দীক্ষার মাধ্যমে গুরু তাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও যজ্ঞোপবীত (পৈতা) প্রদানের মাধ্যমে নতুন এক পবিত্র জীবনের সূচনা করেন।

*২। বিগ্রহ সেবার অধিকার*
গৌড়ীয় বৈষ্ণব রীতিতে বিগ্রহ বা মূর্তির পূজা এবং রান্না করার জন্য ব্রাহ্মণ দীক্ষা থাকা আবশ্যক। প্রথম দীক্ষা বা হরিনাম দীক্ষা গ্রহণকারী ভক্তরা নাম জপ ও কীর্তনে অংশ নিতে পারেন, তবে শ্রীবিগ্রহ স্পর্শ করা বা গর্ভগৃহে সেবা করার জন্য ব্রাহ্মণ দীক্ষার মাধ্যমে বিশুদ্ধিকরণ প্রয়োজন।

*৩। গায়ত্রী মন্ত্রের শক্তি*
ব্রাহ্মণ দীক্ষার সময় গুরু শিষ্যকে পবিত্র গায়ত্রী মন্ত্র প্রদান করেন। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, গায়ত্রী মন্ত্র হলো মহা-মন্ত্র জপের একটি সহায়ক শক্তি, যা মনকে আরও শুদ্ধ করতে এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভে সাহায্য করে। এটি শিষ্যকে হরিনাম জপ করার ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগী ও অপরাধমুক্ত হতে সাহায্য করে।

*৪। চরিত্রের বিশুদ্ধি ও 'সুচি' হওয়া*
সংস্কৃত শব্দ 'সুচি' মানে বিশুদ্ধ বা পরিচ্ছন্ন। শ্রীল প্রভুপাদ শিখিয়েছেন যে, ব্রাহ্মণ মানেই হলো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। দ্বিতীয় দীক্ষার মাধ্যমে শিষ্য অঙ্গীকার করেন যে তিনি সত্য কথা বলবেন, সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করবেন এবং মন ও শরীরকে পবিত্র রাখবেন।

*৫। প্রচার ও শিক্ষার যোগ্যতা*
একজন ব্রাহ্মণ মানেই তিনি শাস্ত্র অধ্যয়ন করবেন এবং অন্যদের শিক্ষা দেবেন। প্রভুপাদ বলতেন, ব্রাহ্মণ দীক্ষা গ্রহণকারী ভক্তরা সমাজের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তারা প্রচার কাজ এবং ভক্তদের পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন।

*৬। বর্ণাশ্রম ও শাস্ত্রীয় স্বীকৃতি*
পূর্বের দিনে ব্রাহ্মণ হতে হলে ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নিতে হতো। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ এবং তাঁর পূর্বসূরিদের মতে, গুণের মাধ্যমেই ব্রাহ্মণ হওয়া যায়, জন্মের দ্বারা নয়। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এবং সব স্তরের মানুষের মধ্যে ব্রাহ্মণ তৈরি করার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে যে কেউ গুরুর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।

সুতরাং, যদিও হরিনাম জপই ভক্তিজীবনের মূল স্তম্ভ, তবুও বিগ্রহ সেবা, গায়ত্রী মন্ত্র জপ এবং নিজের ভক্তিজীবনকে আরও সুশৃঙ্খল ও উচ্চস্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্রাহ্মণ দীক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। (হরে কৃষ্ণ)

06/01/2026

🙏 পাপমোচন মন্ত্রঃ

পাপোহহং পাপকর্মাহং পাপাত্মা পাপসম্ভবঃ।
ত্রাহি মাং পুণ্ডরীকাক্ষ সর্বপাপহরো হরি।।

অর্থঃ

আমি পাপী, আমার কর্ম পাপপূর্ণ, আমি পাপাত্মা ও পাপের ফলস্বরূপ জন্মেছি। হে পদ্মাক্ষ, আমাকে রক্ষা করুন, হে হরি, আপনি সমস্ত পাপ হরণকারী।।

হরেকৃষ্ণ

06/01/2026

#শিখা_কেন_রাখতে_হয়??

শিখা রাখার গুরুত্ব। বৈদিক সংস্কৃতিতে দশবিধ সংস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে সপ্তম সংস্কার হচ্ছে চূড়াকরণ। চূড়াকরণসংস্কারে মাথায় শিখা রাখতে হয়। কেননা চূড়াকরণ বা শিখা রাখার পরেই উপনয়ণ বা দীক্ষা লাভ করা হয়। শিখা রেখে গুরুদেব তাঁর শিষ্যকে সংস্কারের পাত্র করে তোলেন। এখন শিখা ধারণের আবশ্যকতা নিয়ে আলোচনা করব।

"সদোপবীতিনা ভাব্যং সদা বদ্ধ শিখেন চ।
বিশিখো বি উপবিতশ্চ যৎ করোতি ন তৎ কৃতম্।।"
(কাত্যায়ন স্মৃতি ১/৪)।
অনুবাদ: সবসময় উপবীতি (উপবীতি অর্থ পৈতা ধারণ অথবা বাম কাঁধে পৈতার মতো উত্তরীয় বস্ত্র ধারণ), ও শিখা বন্ধন করে থাকবে। কারণ শিখা বিহীন কোন ধর্ম কাজ সফল হয় না। ঋষি ব্যাসদেব বলছেন-

"বিনা যৎ শিখয়া কর্ম বিনা যজ্ঞোপবীতম্।
রাক্ষসং তদ্ধি বিজ্ঞেয়ং সমস্তা নিষ্ফলা ক্রিয়াঃ।।"
অনুবাদ: সবসময় উপবীত (অথবা উত্তরীয় বস্ত্র) ও শিখা ধারণ করে থাকবে। অন্যথা সমস্ত কর্ম রাক্ষস কর্মে পরিণত হবে ও নিষ্ফল হয়ে যাবে। মানব জাতির পিতা মনু বলছেন-

"স্নানে দানে জপে হোমে সন্ধ্যায়াং দেবতার্চনে।
শিখাগ্রন্থিং সদা কুর্যাৎ ইত্যেন মনুঃ অব্রবীৎ।।"
অনুবাদ: স্নান, দান, জপ, হোম, সন্ধ্যা, বন্দনা, এবং পূজার্চনাতে সব সময় শিখা বন্ধন করে রাখবে। এটা মনুর নির্দেশ। শিখা ধারণে আরো লাভ আছে। যথা-

"দীর্ঘায়ুত্বায় বলায় বর্চসে শিখায়ৈ বষট্।"
অনুবাদ: শিখা ধারণ করলে দীর্ঘায়ু, তেজ, বল ও উজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধি পায়। কেউ যদি শিখা ছেদন করে তার অবস্থা কিহয়? উত্তরে লঘু হারীত নামক শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে -

"শিখাং ছিন্দন্তি যে মোহাদ্ দ্বেষাদ্ অজ্ঞানতোহপি বা।
তপ্তকৃচ্ছেন শুধ্যন্তি ত্রয়ো বর্ণা দ্বিজাতয়ঃ।।"
অনুবাদ: যদি কেউ মোহ, দ্বেষ, অথবা অজ্ঞতার ফলে শিখা কেটে ফেলে, তারা তপ্তকৃচ্ছ নামক ব্রত করলে তারপর ঐ পাপ থেকে মুক্তি লাভ করবে। আমাদের মধ্যে এই দৃঢ় মনোভাব থাকা উচিৎ যে, প্রয়োজনে শরীর থেকে মাথা কাটা যাবে কিন্তু মাথা থেকে কখনো শিখা কাটতে দেব না। মরতে হলে মাথায় পবিত্র শিখা নিয়ে মৃত্যু বরণ করব।

ভবিষ্য পুরাণে (২/২১/৭২) বলাহয়েছে-
"সংস্কৃতা শুদ্রবর্ণেন ব্রহ্মবর্ণমুপাগতা।
শিখা সূত্রং সমাধায় পঠিত্বা বেদমুত্তমম্।।"
অনুবাদ: শিখা এবং যজ্ঞসূত্র ধারণ করে শুদ্ররাও ব্রাহ্মণে পরিণত হয়ে উত্তমরূপে বেদ পাঠ করতে পারে।

তাহলে এখানে দেখা যাচ্ছে শুদ্রও শিখা ধারণ করতে পারে। ভবিষ্য পুরাণে (১/২২/২৫) বৈদিক ধর্মের বিরোধিতা কারীদের কতগুলো বৈশিষ্ঠ্য বলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে "শিখাহীনঃ" অর্থাৎ-মাথায়শিখা থাকবেনা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, অধিকাংশ সনাতনীরাই শিখা ধারণ করেনা। যখন তারা মাতা পিতার শ্রাদ্ধ করে তখন মন্ত্র পাঠ করে-

"ব্রহ্মবাণী সহস্রাণী শিববাণী শতেন চ।
বিষ্ণুর্নাম সহস্রেণ শিখা বন্ধং করোম্যহম্।।"
অনুবাদ: ব্রহ্মার নাম সহস্রবার উল্লেখ করে, শিবের নাম শতবার উল্লেখ করে ও বিষ্ণুর নাম সহস্রবার উল্লেখ করে আমি আমার শিখা বন্ধন করছি।

যদিও তাদের মাথায় শিখা থাকেনা, তবুও তারা "শিখা বন্ধন করছি "এই মন্ত্র বলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের নামে এক বিরাট মিথ্যাকথা বলে। অর্থাৎ মিথ্যা কথা দিয়ে শ্রাদ্ধ আরম্ভ করে। কখনো কখনো কতিপয় কৃষ্ণভক্ত পরিস্থিতির শিকার হয়ে শিখা রাখতে পারেননা। তাঁদের প্রতি অনুরোধ যদি পরিস্থিতি বর্তমানে আপনার অনুকূলে থাকে, তবে তারাতারি শিখা ধারণ করুন। কেননা শাস্ত্রে বলা হয়েছে -

"তিলকং তুলসীমালাং শিখা কৌপিন বহির্বাস।
হরের্নাম সদামুখে বৈষ্ণব পঞ্চ লক্ষণম্।।"
অনুবাদ: তিলক, তুলসীমালা, শিখা, কৌপিন বহির্বাস, ও মুখে হরিনাম, এই ৫টি বৈষ্ণবের লক্ষণ।

শিখার কিছু নিয়মাবলী-শ্মশানে গেলে, শৌচালয়ে গেলে, রাতে ঘুমানোর সময় শিখা খোলা থাকবে। আর অন্য সময় শিখা বন্ধন করা থাকবে। তাই সনাতন সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ এই শিখা ধারণ করে দ্বিজত্ব লাভ করা আমাদের কর্তব্য।

হরে কৃষ্ণ........
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

31/12/2025
31/12/2025

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ- ইসকন প্রতিষ্ঠাতা- আচার্য কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের কৃপাধন্য নিত্যলীলাপ্রবিষ্ট ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্যবর অষ্টোত্তরশতশ্রী শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজের অনুকম্পিত সুযোগ্য শিষ্য, ইসকনের বরিষ্ঠ সন্ন্যাসী,
দীক্ষাগুরু,বরিষ্ঠ প্রচারক ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্যবর অষ্টোত্তরশতশ্রী শ্রীল ভক্তিপ্রেম স্বামী গুরুমহারাজের মহিমান্বিত ৫৮ তম শুভ আবির্ভাব তিথি শ্রীশ্রী ব্যাসপূজা মহা-মহোৎসব।

আজ শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজের সুযোগ্য সন্ন্যাসী শিষ্য শ্রীমৎ ভক্তি প্রেম স্বামী মহারাজের ৫৪তম শুভ আবির্ভাব তিথি মহোৎসব। শ্রীমৎ ভক্তি প্রেম স্বামী মহারাজ ১৯৬৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর শ্রী লোচন দাস ঠাকুরের শুভ আবির্ভাব তিথিতে এই ধরাধামে আবির্ভূত হন।

১৯৯৪ সালে শ্রীমৎ ভক্তি প্রেম স্বামী মহারাজ শ্রীল প্রভুপাদের কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে শ্রীধাম মায়াপুরে ফুলটাইম ব্রহ্মচারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ইসকনের অন্যতম আচার্যপাদ শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ, ভক্তিপ্রেম স্বামী মহারাজকে ১৯৯৬ সালে হরিনাম-দীক্ষা এবং ১৯৯৮ সালে ব্রাহ্মণ-দীক্ষা প্রদান করেন।

পরবর্তীকালে শ্রীমৎ ভক্তি প্রেম স্বামী মহারাজ শ্রীধাম মায়াপুর মন্দিরের মেডিকেল ডিপার্টমেন্টের হেড হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সেবা করেন। তার পাশাপাশি মহারাজ মায়াপুর মন্দিরের ব্রহ্মচারী কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ সালে মহারাজ ভক্তিশাস্ত্রী কোর্স কমপ্লিট করেন। তারপর ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল অবধি যুবকদের কাছে প্রচার এবং ইসকন মন্দিরের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। উজ্জয়নে নতুন বৈদিক টেম্পল উদ্যোগের জন্য, ২০০৬ সালে ইসকন জিবিসি শ্রীমৎ ভক্তিপ্রেম স্বামী মহারাজকে "ISKCON Global Excellence Award for Significant Contribution" সম্মানে ভূষিত করেন।

পরবর্তীতে শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ ২০১৫ সালের ৫ই মার্চ শুভ গৌরপূর্ণিমা পুণ্যতিথিতে ইসকন উজ্জয়ন মন্দিরে শ্রীমৎ ভক্তি প্রেম স্বামী মহারাজকে সন্ন্যাস-দীক্ষায় দীক্ষিত করেন। বর্তমানে মহারাজ ইসকন উজ্জয়ন মন্দিরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন এবং পাশাপাশি ইনডোর, সাউথ অাফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্পেশালি বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রচারকার্যে নিয়োজিত রয়েছেন।

#শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিপ্রেম স্বামী গুরু মহারাজের ৫৭তম শুভ আবির্ভাব তিথি (ব্যাসপূজা-২০২৫)।*

শ্রীল প্রভুপাদের কৃপাধন্য সেনাপতি, পরম পূজনীয় *শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিপ্রেম স্বামী গুরু মহারাজের ৫৭তম শুভ আবির্ভাব তিথি (ব্যাসপূজা)* উপলক্ষে তাঁর মহিমান্বিত জীবনী নিচে অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হলো:

🌸 *শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিপ্রেম স্বামী মহারাজের সংক্ষিপ্ত জীবনী* 🌸
✨ *জন্ম ও পূর্বাশ্রমআবির্ভাব তিথি:* ১৯৬৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর (শ্রী লোচন দাস ঠাকুরের শুভ আবির্ভাব তিথিতে)।

*পূর্বাশ্রমের নাম:* শ্রী গঙ্গেশ চন্দ্র সরকার।

*পিতা-মাতা:* পিতা ক্ষিতীশ চন্দ্র সরকার এবং মাতা রেণু বালা রায় চৌধুরী।

*শিক্ষাজীবন:* ১৯৮৩ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৮৫ সালে উচ্চ-মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক অর্থাৎ MBBS ডিগ্রি অর্জন করেন।

👣 *আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা*
ছাত্রজীবন থেকেই পিতার অনুপ্রেরণায় গীতা ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠে আগ্রহী ছিলেন।

*গুরু-দর্শন:* ইসকন মন্দিরে আসার পর বরিষ্ঠ সন্ন্যাসী শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজের সাথে সাক্ষাৎ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গুরুদেবের চরণে পূর্ণ আত্মসমর্পণের অভিপ্রায়ে তিনি ১৯৯৪ সালে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে যোগদান করেন।

*ব্রহ্মচর্য জীবন:* ১৯৯৫ সালে শ্রীধাম মায়াপুরে তিনি 'ফুলটাইম' ব্রহ্মচারী হিসেবে জীবন উৎসর্গ করেন।

🐚 *দীক্ষা ও নাম প্রাপ্তিহরিনাম দীক্ষা:* ১৯৯৬ সালে শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর নামকরণ করা হয় "গঙ্গা নারায়ণ দাস"।

*ব্রাহ্মণ দীক্ষা:* ১৯৯৮ সালে তিনি দ্বিতীয় দীক্ষা বা ব্রাহ্মণ দীক্ষা লাভ করেন।

*সন্ন্যাস দীক্ষা:* ২০১৫ সালের ৫ই মার্চ, শুভ গৌরপূর্ণিমা তিথিতে উজ্জয়িনী মন্দিরে শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ তাঁকে সন্ন্যাস দীক্ষায় দীক্ষিত করেন এবং নতুন নাম প্রদান করেন "ভক্তিপ্রেম স্বামী"।

🏥 *সেবাকার্য ও সাংগঠনিক দায়িত্ব*

*মেডিকেল সেবা:* ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি শ্রীধাম মায়াপুর মন্দিরের চিকিৎসা বিভাগের প্রধান (Head of Medical Department) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

*কাউন্সিলিং:* মায়াপুর মন্দিরের ব্রহ্মচারী কাউন্সিলর এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

*ব্যক্তিগত সচিব:* দীর্ঘকাল তিনি তাঁর গুরুদেব শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিরলস সেবা প্রদান করেছেন।

*অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব:* ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ইসকন উজ্জয়িনী মন্দিরের অধ্যক্ষ (President) ছিলেন। এছাড়াও তিনি আমেরিকার ডিল্যান্ড, অরল্যান্ডো ও ফ্লোরিডা মন্দিরের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

🏆 *প্রাপ্ত সম্মান ও পদক*
ISKCON Global Excellence Award: উজ্জয়িনীতে নতুন বৈদিক মন্দির নির্মাণের মহৎ উদ্যোগের জন্য ২০০৬ সালে ইসকন জিবিসি (GBC) তাঁকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন।

*স্বর্ণ পদক:* ৩০ বছরের নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে পরম পূজনীয় শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরু মহারাজের নিকট হতে তিনি স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত হন।

📢 *প্রচার ও দীক্ষাগুরু হিসেবে অবদান*

*দীক্ষাগুরু:* ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ ইসকন জি.বি.সি কর্তৃক তিনি 'দীক্ষাগুরু' হিসেবে অনুমোদিত হন।

*প্রচার মাধ্যম:* তিনি বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় সমানভাবে দক্ষ। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ ও যুবকদের মধ্যে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারে তিনি অত্যন্ত নিপুণ।

*ভজন ও শাস্ত্র ব্যাখ্যা:* তাঁর কণ্ঠে বৈষ্ণবীয় ভজন অত্যন্ত সুমধুর। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের গীতায় গানের অর্থ অত্যন্ত সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় বিশ্লেষণ করেন।

*বিশ্বব্যাপী প্রচার:* ভারত (বিশেষত মধ্যপ্রদেশ), বাংলাদেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে তিনি নিয়মিত প্রচার কার্যে নিয়োজিত রয়েছেন।

🕊️ *ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য*
মহারাজ অত্যন্ত বিনম্র, সরল ও দয়ালু হৃদয়ের মানুষ। শুধু ভক্তদের সাথেই নয়, সাধারণ মানুষের সাথেও তাঁর প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক এবং বিনীত আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করে। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন শ্রীল প্রভুপাদের মিশন এবং পতিত জীবদের উদ্ধারের জন্য উৎসর্গ করেছেন।

মহারাজের এই শুভ আবির্ভাব তিথিতে তাঁর শ্রীচরণে আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণতি।

প্রিয় মহারাজ, শ্রীল প্রভুপাদ এবং গুরুমহারাজের অশেষ কৃপায় আপনার সঙ্গলাভ করার দুলর্ভ সুযোগ হয়েছিল আমার। আপনার বিনয়, সুমধুর ভজন-কীর্তন বিশেষভাবে আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। কৃপাপূর্বক আপনার অহৈতুকী কৃপাদৃষ্টি এই অধমের উপর, এবং সর্বদা আমাকে আপনার ছত্রছায়ায় রাখবেন - এ আমার বিনম্র মিনতি।

জয় শ্রীমৎ ভক্তি প্রেম স্বামী মহারাজ!
জয় শ্রীল প্রভুপাদ!

গুরুমহারাজের চরণাশ্রয় আকাঙ্খী,চরণাশ্রিত ও দীক্ষাপ্রাপ্ত শিষ্যসমূহের অর্ধ-দিবস উপবাস আবশ্যিক।
🙏🙏

সংগৃহীত ফেসবুক ।

30/12/2025

🌺🌻সনাতন ধর্ম বিষয়ক ১০০টি প্রশ্ন ও উত্তর 🌺🌻

১। পঞ্চ মহাভূত কি?
উঃ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম।

২। আত্মা কি?
উঃ জীবাত্মা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিত্য অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৩। আত্মার নিত্যধর্ম কি?
উঃ ভগবান পূর্ণ, আত্মা তার অংশ, তাই জীবাত্মার নিত্য ধর্ম হচ্ছে ভগবানের সেবা করা, কেন না অংশের কাজ হচ্ছে পূর্ণের সেবা করা।

৪। মনের ধর্ম কি?
উঃ মনের ধর্ম সংকল্প ও বিকল্প।

৫। দেহের ধর্ম কি?
উঃ দেহের ধর্ম ভোগ আর ত্যাগ।

৬। দেহের ছয়টি পরিবর্তন কি কি?
উঃ *জন্ম *বৃদ্ধি *সন্তান-সন্তুতি সৃষ্টি *স্থিতি *ক্ষয় *মৃত্যু।

৭। জীবের 'স্বরূপ' কি?
উঃ জীবের 'স্বরূপ' হয় কৃষ্ণের নিত্যদাস।

৮। আত্মার আকার কি?
উঃ আত্মার আকার চুলের অগ্রভাগের দশ হাজার ভাগের এক ভাগ। তা এতই ক্ষুদ্র যে এই জড় চক্ষু দিয়ে বা যন্ত্রের সাহায্যে আত্মাকে দর্শন করা যায় না। এ ছাড়া আত্মা জড় পদার্থ নয়, তাই জড়ীয় ইন্দ্রিয় ও যন্ত্র দিয়ে তা দেখা অসম্ভব।

৯। জড় জগৎ কি?
উঃ জড় জগৎটি ভগবানের বহিরঙ্গা ত্রিগুণাত্মিকা মায়া শক্তির প্রকাশ।

১০। কি কি উপাদান দিয়ে জড়-জগৎ তৈরী হয়েছে?
উঃ ভূমি, জল, বায়ু, অগ্নি, আকাশ, মন, ‍বুদ্ধি এবং অহংকার এই আটটি উপাদান দিয়ে এই জড়-জগৎ তৈরী হয়েছে।

১১। আমি কে?
উঃ আমি চিন্ময় আত্মা, স্থুল জড় দেহ নই।

১২। ইন্দ্রিয়ের পাঁচটি বিষয় কি কি?
উঃ রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ র্স্পশ।

১৩। পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় কি কি?
উঃ নাক, জিভ, চোখ, কান ও ত্বক।

১৪। পঞ্চ কমেন্দ্রিয় কি?
উঃ বাক, পানি, পাদ, উপস্থ, পায়ু।

১৫। স্থূল শরীরটি কি কি উপাদান দিয়ে তৈরী?
উঃ জীবের স্থূল শরীর ভূমি, জল, বায়ু, অগ্নি ও আকাশ দিয়ে তৈরী।

১৬। জীবের সূক্ষ্ম শরীরটি কি উপাদান দিয়ে তৈরী?
উঃ জীবের সূক্ষ্ম শরীরটি মন, বুদ্ধি ও অহংকার দিয়ে তৈরী।

১৭। জীবের মৃত্যুর পর তার কি গতি হয়?
উঃ জীবের মৃত্যুর পর দুই প্রকার গতি হয়।
এক-- যে সমস্ত জীর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট আত্মসর্মপণ করে, তারা ভগবদ্ভজনের প্রভাবে সমস্ত জড় কলুষ থেকে মুক্ত হয়ে নিত্য আলয় ভগবদ্ধামে গমন করে। সেখানে তারা দিব্য শরীর প্রাপ্ত হয়ে নিত্যকালের জন্য ভগবানের সেবায় নিযুক্ত হয়।
দুই-- যাদের জড়জাগতিক কামনা বাসনা আছে, তারা মৃত্যুর মাধ্যমে ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম দিয়ে তৈরী স্থুল শরীরকে পরিত্যাগ করে। কিন্তু মন, বুদ্ধি ও ‍অহংকার নির্মিত সূক্ষ্ম শরীর তাদের পাপ ও পূর্ণ কর্মফল বহন করে। পাপ কর্মের ফলস্বরূপ তারা যমযাতনা ভোগ করে আর পূর্ণ কর্মের ফলস্বরূপ স্বর্গসুখ ভোগ করে থাকে। এই ভোগের পর তাদের নিজ নিজ কর্ম ও চেতনা অনুসারে তারা আর একটি স্থুল জড় শরীর প্রাপ্ত হয়। এভাবে ৮৪ লক্ষ জীব প্রজাতির যে কোন একটি প্রজাতিতে তাদের জন্মগ্রহণ করতে হয়।

১৮। দেহ ও আত্মার পার্থক্য কি?
উঃ জড় বস্তুর দ্বার নির্মিত শরীর সদা পরিবর্তনশীল, নশ্বর, বিনাশশীল, অনিত্য, স্থুল, বহিরঙ্গা জড়া প্রকৃতির সৃষ্টি। জড়দেহ অচেতন, পরিমাপযোগ্য; তাকে কাটা যায়, শুকানো যায়, পোড়ানো যায়, ভেজানো যায়, তা দুঃখ ক্লেশের আধার স্বরূপ।
আত্মা ‍অপরিবর্তনীয়, অব্যয়, ‍অক্ষয়, অবিনশ্বর নিত্য, সনাতন, সূক্ষ্ম, অপরিমেয়, ভগবানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চেতন, অনেক, অদাহ্য, অক্লেদ্য, অশোষ্য, সর্বব্যাপ্ত, আনন্দময়।

১৯। জড় পদার্থ ও চিন্ময় বস্তু আত্মার মধ্যে পার্থক্য কি ?
উঃ জড় বস্তু চিন্ময় আত্মা

১। ভগবানের বহিরঙ্গা ১। ভগবানের অন্তরঙ্গা
প্রকৃতিজাত। প্রকৃতি হতে উদ্ভূত।
২। অচেতন, অজ্ঞান ২। চেতনাময়, জ্ঞানময়।
বস্তুপিণ্ড মাত্র।
৩। জড় ইন্দ্রিয় দ্বারা ৩। জড় ইন্দ্রিয়ের
অনুভবযোগ্য অগোচর।
৪। ব্যক্তিত্বহীন। ৪। ব্যক্তিত্বের কেন্দ্র,
প্রকৃত 'আমি'।

২০। আত্মা শরীরের কোন স্থানে অবস্থান করে?
উঃ আত্মা শরীরের হৃদ্দেশে ‍অবস্থান করে।

২১। দেহে আত্মার অবস্থানের লক্ষণ কি?
উঃ দেহে আত্মার অবস্থানের লক্ষণ হচ্ছে দেহে পরিব্যাপ্ত চেতনা। যে পর্যন্ত একটি দেহে আত্মার উপস্থিতি থাকে, সে পর্যন্ত ঐ জীর দেহে চেতনা প্রকাশিত থাকে। আত্মা-দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হলে দেহ একটি অচেতন, পচনশীল, জড়পিণ্ডে পরিণত হয়।

২২। জীব কত প্রকারের?
উঃ জীব তিন প্রকারের ১) নিত্যবদ্ধ ২) নিত্যমুক্ত ৩) বন্ধনমুক্ত। ভগবদবিমুখ জীব যারা এই জড় জগতে ত্রিগুণাত্মিকা মায়াশক্তির প্রভাবে বদ্ধ হয়ে আছে ও জড়া প্রকৃতির ত্রিগুণের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তাদেরকে নিত্যবদ্ধ জীব বলা হয়।
যে সমস্ত জীব ভগবদ্ভজন করে এই বদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে চিন্ময় জগতে প্রবেশে উন্মুখ, তাদেরকে বন্ধনমুক্ত জীব বলা হয়।

২৩। এই জড় জগতে কত প্রকার জীব প্রজাতি রয়েছে? তাদের বর্ণনা দাও।
উঃ এই জড় জগতে ৮৪ লক্ষ জীব যোনি রয়েছে। এদের মধ্যে কীটপতঙ্গ ১১ লক্ষ, জলচর ৯ লক্ষ, উদ্ভিদ ২০ লক্ষ, পশু ৩০ লক্ষ, পক্ষী ১০ লক্ষ এবং মানুষের মধ্যে রয়েছে ৪ লক্ষ প্রজাতি।

২৪। জীবের প্রকৃত সমস্যা বা দুঃখ কি?
উঃ জীবের প্রকৃত সমস্যা বা দুঃখ হচ্ছে-- জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধি।

২৫। ত্রিতাপ ক্লেশ কি?
উঃ জড় জগতে অবস্থান কালে জীবাত্মা যে তিন রকম অবশ্যম্ভাবী দুঃখ লাভ করে তাকে বলা হয় ত্রিতাপ ক্লেশ। সেগুলি হচ্ছে---
(১) আধিভৌতিক ক্লেশ
(২) আধিদৈবিক ক্লেশ
(৩) আধ্যাত্মিক ক্লেশ।
জীব তার নিজের মন ও শরীর থেকে যে ক্লেশ প্রাপ্ত হয় তা আধ্যাত্মিক ক্লেশ। যেমনঃ মানসিক কষ্ট এবং রোগ ব্যাধি ইত্যাদি।
অন্য জীব থেকে প্রাপ্ত ক্লেশকে আধিভৌতিক ক্লেশ বলা হয়। যেমনঃ সাপের কামড়, মশা-মাছি, চোর-গুণ্ডার উপদ্রব ইত্যাদি।
দৈবক্রমে অর্থাৎ দেবতাদের দ্বারা প্রদত্ত যে ক্লেশ, তাকে আধিদৈবিক ক্লেশ বলা হয়। যেমনঃ অনাবৃষ্টি, ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প।

২৬। জীব-চেতনা কয় প্রকার ও কি কি?
উঃ পাঁচ প্রকার - (১) আচ্ছাদিত চেতন, (২) সংকুচিত চেতন, (৩) মুকুলিত চেতন, (৪) বিকশিত চেতন, (৫) পূর্ণ বিকশিত চেতন। পাহাড়, বৃক্ষ আদিতে যে চেতনা, তাকে আচ্ছাদিত চেতনা বলা হয়। পশু, পাখিরা হচ্ছে সংকুচিত চেতন জীব। সাধারণ মানুষ হচ্ছে মুকুলিত চেতন। মানুষের মধ্যে যাঁরা ভগবদ্ভজনে নিযুক্ত হয়েছেন তারা হচ্ছেন বিকশিত চেতন। আর ভগবদ্ভজনে যাঁরা সিদ্ধি লাভ করেছেন তাঁদের চেতনাকে পূর্ণ বিকশিত চেতনা বলা হয়।

২৭। পুনর্জন্ম কি?
উঃ জীবাত্মা যে শরীরের মধ্যে অবস্থান করে সেই শরীর কৌমার থেকে যৌবন, যৌবন থেকে বার্ধক্য অবস্থায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হতে থাকে। কিন্তু দেহস্থ আত্মার কোন পরিবর্তন হয় না। ঠিক যেমন পুরানো কাপড় পরিত্যাগ করে নূতন কাপড় পরিধান করা হয়, ঠিক তেমনি জীবাত্মা অব্যবহারযোগ্য জরাজীর্ণ শরীর পরিত্যাগ করে তার কর্ম এবং বাসনা অনুসারে আরেকটি নূতন শরীর গ্রহন করে। আত্মার এই নূতন শরীর ধারণকে বলা হয় পুনর্জন্ম।

২৮। কর্মবন্ধন কি?
উঃ জীব এই জগতে বিভিন্ন প্রকারের জড় কামনা বাসনা নিয়ে কর্ম করে থাকে। কিন্তু সে তার প্রতিটি কৃতকর্মের ফলভোগ করতে বাধ্য থাকে। সেই কর্ম অনুসারে তাকে বারবার জড় শরীর ধারণ করতে হয়। নূতন শরীরে সে নূতন কর্ম করে ও ঐসব কর্মের ফল ভোগের জন্য আবার তাকে জন্ম নিতে হয়। এ রকম চলতেই থাকে। এইরূপ বদ্ধ অবস্থাকে বলা হয় কর্ম বন্ধন।

২৯। জীবের চরম লক্ষ্য কি?
উঃ জীবের চরম লক্ষ্য হচ্ছে - পরমেশ্বর ভগবানের সংগে তার হারানো সম্পর্ককে পুনঃস্থাপন করে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হওয়া, কৃষ্ণপ্রেম লাভ করা।

৩০। আনন্দের উৎস কি?
উঃ সর্ব আনন্দের উৎস হচ্ছেন সচ্ছিদানন্দময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। জীব যে নিত্য আনন্দ লাভের আশা করছে, তার জন্য তাঁকে পরম পুরুষ ভগবানের সংগে তাঁর নিত্য, অবিচ্ছেদ্য, প্রেমময়, সম্পর্কের পুনঃস্থাপন করতে হবে।

৩১। অহংকার কয় প্রকার ও কি কি? বর্ননা কর।
উঃ অহংকার দুই প্রকার - (১) সত্য অহংকার, (২) মিথ্যা অহংকার। আমি চিন্ময় আত্মা, কৃষ্ণের নিত্যদাস, এরকম যে ভাব নিয়ে কৃষ্ণের প্রীতিবিধানের উদ্দেশ্যে কর্ম করা হয়, সেই ভাবকে বলা হয় সত্য অহংকার। আমি এই জড় শরীর এবং আমার শরীরের প্রীতিবিধানের জন্য আমি কর্ম করব এরকম অহংকারকে বলা হয় মিথ্যা অহংকার।

৩২। প্রেয় ও শ্রেয় কি? জীবনে প্রেয় লাভ করা না শ্রেয় লাভ করা শ্রেষ্ঠ?
উঃ যা অল্প সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত হওয়া যায় কিন্তু ক্ষণস্থায়ী এবং অন্তিমে দুঃখজনক তাকে বলা হয় প্রেয়।
যা লাভ করা পরিশ্রম সাপেক্ষ, কিন্তু চিরস্থায়ী এবং সুখদায়ক, তাকে বলা হয় শ্রেয়।
আমাদের জীবনে শ্রেয় লাভ করাই শ্রেষ্ঠ বা উচিত।

৩৩। জীবনে প্রকৃত শ্রেয় কি? বর্ণনা কর।
উঃ জীবনে প্রকৃত শ্রেয় হচ্ছে নিজের স্বরূপ প্রাপ্ত হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণারবিন্দে অহৈতুকী ভক্তিভাবে তাঁর সেবায় যুক্ত হওয়া।

৩৪। ভগবান কে?
উঃ শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন ভগবান, যাঁর থেকে সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে। যিনি সমস্ত বিশ্বব্রহ্মান্ডের পালন করেন এবং সংহারের কারণ হন, তিনিই হচ্ছেন ভগবান।

৩৫। ভগবান শব্দের অর্থ কি?
উঃ যাহার মধ্যে সমগ্র ঐশ্বর্য্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য এই ছয়টি গুণ পূর্ণমাত্রায় বর্তমান তাকে বলা হয় ভগবান।

৩৬। ভগবান সাকার না নিরাকার?
উঃ ভগবান সাকার; তাঁর রূপ রয়েছে, তবে তা জড় নয়, অপ্রাকৃত। শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সচ্ছিদানন্দ বিগ্রহ, তিনি নিত্য, জ্ঞান ও আনন্দময় মূর্তিবিশিষ্ট।

৩৭। কয় প্রকার যোগী আছেন?
উঃ যোগী চার প্রকার - কর্মযোগী, জ্ঞানযোগী, ধ্যানযোগী ও ভক্তিযোগী।

৩৮। কোন প্রকার যোগী নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করেন?
উঃ জ্ঞানযোগী নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করেন।

৩৯। কোন প্রকার যোগী হৃদয়ে পরমাত্মার ধ্যান উপাসনা করেন?
উঃ অষ্টাঙ্গ যোগী বা ধ্যান যোগী ধ্যানের মাধ্যমে পরমাত্মার উপাসনা করিয়া থাকেন।

৪০। কোন প্রকার যোগী সরাসরি ভগবানের উপাসনা করেন?
উঃ ভক্তিযোগ অবলম্বনকারী ভগবানের ভক্তরাই ভগবানের উপাসনা করেন।

৪১। ভগবান যে আছেন তার প্রমাণ কি?
উঃ ভগবানের অস্তিত্বের প্রমাণ লাভ করবার জন্য আমাদের শাস্ত্রের সাহায্য গ্রহণ করতে হবে। শাস্ত্র থেকে আমরা বুঝতে পারব যে ভগবান আছেন। ভগবান হচ্ছেন তিনি যিনি এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয়ের কারণ। যিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ এ জগতে আমরা দেখতে পাচ্ছি - একটি বাড়ী আপনা থেকে তৈরী হয়ে যায় না। বাড়ীটি তৈরী করার জন্য কোন ইঞ্জিনিয়ার বুদ্ধি দিয়ে থাকে এবং মিস্ত্রিরা ইট, বালি, পাথর দিয়ে বাড়ীটি তৈরী করে থাকে। ঠিক সেই রকম এই বিশ্বব্রহ্মান্ড আপনা থেকেই এমন সুশৃঙ্খল হয়ে যায় না। সৃষ্টির পেছনে কারো না কারো হাত আছে। যিনি বুদ্ধি প্রদান করেছেন, এই সমস্ত উপাদান প্রদান করেছেন এবং যিনি এই বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছেন, তিনিই হচ্ছেন ভগবান।

৪২। ভগবানের সংগে জীবের সম্পর্ক কি?
উঃ ভগবানের সংগে জীবের সম্পর্ক হচ্ছে ভগবান নিত্যপ্রভু এবং জীব তাঁর নিত্যদাস।

৪৩। ভগবানের সংগে জড় জগতের সম্পর্ক কি?
উঃ জড়জগৎ হচ্ছে ভগবানের অনুৎকৃষ্টা বহিরঙ্গা শক্তির থেকে উৎপন্ন।

৪৪। ভগবান কেন জড় জগৎ সৃষ্টি করেছেন?
উঃ প্রথম কারণঃ এই জড় জগৎ হচ্ছে সমস্ত চিন্ময় সৃষ্টির একাংশে অবস্থিত ক্ষুদ্র কারাগার সদৃশ। তাই যারা ভগবানের প্রদত্ত নিয়ম ভঙ্গ করে, তাদেরকে এই জড় জগতে আসতে হয়। এখানে বহিরঙ্গা শক্তি দুর্গাদেবী জড় জগৎরূপ দুর্গের দেখাশুনা করেন এবং ত্রিতাপ ক্লেশ দিয়ে জীবকে শাসন করে শিক্ষা প্রদান করে থাকেন।
দ্বিতীয় কারণঃ ভগবান এই জড় জগৎ এইজন্য সৃষ্টি করেছেন যে, জীব যেন তার মিথ্যা প্রভুত্ব করার আকাঙ্ক্ষা ও ভোগবাসনা পরিত্যাগ করে ভগবদ্ভজনের মাধ্যমে ভগবদ্ধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে আবার ফিরে যেতে পারে।

৪৫। ভগবানের সৃষ্ট জীব দুঃখ কষ্ট পায় কেন?
উঃ কৃষ্ণ ভুলি সেই জীব অনাদি বহির্মুখ। অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ। (চৈঃ চঃ মধ্য ২০/১১৭)
এই জড় জগতে দুঃখ কষ্ট পাওয়ার কারণ হচ্ছে আমরা পরমেশ্বর ভগবানকে বিস্মৃত হয়েছি।

৪৬। আত্মা কিভাবে প্রসন্নতা লাভ করতে পারে?
উঃ যখন জীব তার নিত্য, শাশ্বত, ভালোবাসার বস্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সংগে তার সেই লুপ্ত সম্পর্ককে আবার পুনঃস্থাপন করে তাঁর প্রেমময়ী সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে পারে তখন সে প্রসন্নতা লাভ করে।

৪৭। আমি যে আত্মা তার প্রমাণ কি?
উঃ 'আমি' এই 'শরীর' নই, আমি মন নই, আমি বুদ্ধি নই, আমি আত্মা। এর প্রমাণ আমরা ভগবদগীতা আদি শাস্ত্র গ্রন্থ থেকে পেয়ে থাকি। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে, "জীবের আসল স্বরূপ হচ্ছে সে চিন্ময় আত্মা, এবং আমার নিত্য সনাতন অংশ"। কেউ যদি একটি শিশুকে দুই বছর বা এক বছর বয়সে তাকে দেখে এবং ৪০ বছর বয়সে তাকে দেখে তাহলে সে দেখবে যে ইতিমধ্যে শিশুটির রূপ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে, তার দেহের, মনের, বুদ্ধির পরিবর্তন হয়েছে। তবুও সেই লোকটি একই লোক অর্থাৎ তার মধ্যে একটিই সত্তা রয়েছে, যার পরিবর্তন হয় না। সেইটিই হচ্ছে আত্মা, সেটিই হচ্ছে জীবের আসল স্বরূপ, ব্যক্তিত্বের কেন্দ্র। আর একটি প্রমাণ হচ্ছে - ধরুন আপনার দিদিমা বাড়ীতে শুয়ে আছেন দেখে আপনি বাজার করতে গিয়েছেন। বাজারে আপনি শুনতে পেলেন যে আপনার দিদিমা মারা গেছেন। বাড়ী ফিরে এসে দেখছেন বাজার যাওয়ার আগে দিদিমা যেভাবে খাটের উপর শুয়ে ছিলেন এখনও ঠিক সেই রকম ভাবেই শুয়ে আছেন এবং তাঁর চার পাশে ঘিরে আপনার বাবা বলছেন, "ও আমার মা চলে গেলে" - ভাই বলছে, "দিদিমা চলে গেল" ইত্যাদি। আপনি দেখতে পাচ্ছেন আপনার দিদিমা খাটে শুয়ে আছে, আবার সবাই চিৎকার করছে, 'মা চলে গেল' দিদিমা চলে গেল' ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে - কে চলে গেল? সেইটাই হচ্ছে আত্মা। আত্মা চলে গেলে শরীর জড় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। শরীরে কোন চেতনার লক্ষণ দেখা যায় না, অর্থাৎ শরীরটা অচেতন হয়ে যায়। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে আমি এই 'দেহ' নই 'মন' নই-- আমি হচ্ছি চিন্ময় 'আত্মা'।

৪৮। প্রকৃতির তিনটি গুণ কি কি?
উঃ প্রকৃতির তিনটি গুণ -- সত্ত্বগুণ, রজগুণ এবং তমোগুণ।

৪৯। ভগবান কোথায় থাকেন?
উঃ এই জড় জগতের বাইরে চিন্ময় জগৎ বা বৈকুন্ঠলোক আছে, যেখানে অনেক গ্রহলোক আছে। বৈকুন্ঠ, দ্বারকা, বৃন্দাবন ইত্যাদি ধামে ভগবান বিভিন্ন ভগবৎ - স্বরূপে অবস্থান করেন। একই সংগে তিনি পরমাত্মা রূপে সর্বত্র প্রত্যেকটি অনুপরমাণু ও প্রত্যেকটি জীবের হৃদয়েও বাস করে থাকেন।

৫০। কে প্রকৃত ভগবান এবং কে নকল বা ভন্ড ভগবান তা জানব কি করে?
উঃ শাস্ত্রের মাধ্যমে ভগবানের আসল স্বরূপ জানা যায়।

৫১। ভগবান কেন এই জড় জগতে অবতীর্ণ হন?
উঃ ভগবান এই জড় জগতে অবতীর্ণ হন সাধুদেরকে পরিত্রাণ করবার জন্য, দুস্কৃতদের বিনাশ করবার এবং ধর্ম স্থাপন করবার জন্য। বিশেষ করে ভগবান এই জগতে অবতীর্ণ হয়ে তাঁর দিব্য লীলাবিলাস করে থাকেন, যে লীলার কথা শ্রবণ করে বদ্ধ জীব জড় জগতের বন্ধন মুক্ত হয়ে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারে।

৫২। শ্রীকৃষ্ণ ও বিষ্ণুর মধ্যে কি পার্থক্য আছে?
উঃ শ্রীকৃষ্ণ এবং বিষ্ণুর মধ্যে তত্ত্বতঃ কোন পার্থক্য নেই। তবে শ্রীকৃষ্ণ গোলক বৃন্দাবনে থাকেন এবং শ্রীবিষ্ণু বৈকুণ্ঠধামে বিরাজ করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণরূপে গোলক বৃন্দাবনে মাধুর্যরস আস্বাদন করে থাকেন এবং তিনিই বৈকুণ্ঠে শ্রীবিষ্ণুরূপে ঐশ্বর্যরস আস্বাদন করে থাকেন। ঠিক যেমন একটি লোক যখন আদালতে বিচারক তখন সে খুব গম্ভীর, সবাই তাকে সম্মান করেন এবং তিনি যা আদেশ দেন সবাই তা পালন করতে বাধ্য থাকেন। কিন্তু সেই লোক যখন গৃহে ফিরে আসেন তখন তাঁর নাত নাতনিরা তাঁর উপরে উঠে নানা বায়না করে এবং তাঁর সংগে খেলাধুলা করে। সেখানে কোন সম্ভ্রমের ভাব থাকে না। ঠিক তদ্রূপ ভগবান বিষ্ণুরূপে যখন বৈকুণ্ঠে থাকেন তখন তিনি তাঁর ভক্তদের সংগে সম্ভ্রম ভাবে অবস্থান করেন। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সংগে আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত হতে গেলে শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম বিকশিত করে গোলক বৃন্দাবনে যেতে হয়। সেখানে ভগবানের সংগে জীব সখ্য রসে, বাৎসল্য রসে কিংবা মধুর রসে সম্পর্ক স্থাপন করে ভগবানের আরও ঘনিষ্ঠ ও নিকটতম হয়ে প্রেমময় সেবাসুখ আস্বাদন করতে পারেন।

৫৩। ভগবানকে লাভ করার যথাযথ উপায় কি?
উঃ শাস্ত্রে বিভিন্ন উপায়ে বর্ণনা করা হয়েছে - যথা কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, ধ্যানযোগ, কিন্তু প্রকৃত-পক্ষে ভগবানকে লাভ করার একমাত্র সহজ উপায় হচ্ছে ভক্তিযোগ। ভক্তির দ্বারাই কেবল ভগবানকে লাভ করা যায়।

৫৪। ভক্তি কি ভাবে লাভ করা যায়?
উঃ "ভগদ্ভক্ত সঙ্গেন উপজায়তে" -- অর্থাৎ ভগবানের ভক্তের সঙ্গ করার মাধ্যমে ভগদ্ভক্তি লাভ করা যায়।

৫৫। নবধা ভক্তি কি কি?
উঃ শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, বন্দন, অর্চন, পাদসেবন, দাস্য, সখ্য ও আত্মনিবেদন।

৫৬। কে কোন প্রকার ভক্তি অবলম্বন করে ভগবানকে প্রাপ্ত হয়েছেন?
উঃ শ্রবণে পরীক্ষিৎ মহারাজ, কীর্তনে শুকদেব গোস্বামী, স্মরণে প্রহ্লাদ মহারাজ, পাদসেবনে লক্ষ্মী, বন্দনে অত্রুর, অর্চনে পৃথু মহারাজ, দাস্যে হনুমান, সখ্যে অর্জুন, এবং আত্মনিবেদনে বলি মহারাজ ভগবানকে প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

৫৭। কাম ও প্রেম কাকে বলে?
উঃ আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্ছা -- তারে বলে 'কাম'।
কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা ধরে 'প্রেম' নাম।
(চৈঃ চঃ আঃ ৪/১৬৫)
নিজের ইন্দ্রিয়ের বিধানের তৃপ্তি জন্য যে বাসনা তাকে বলে কাম। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধানের জন্য যে বাসনা তাকে বলে প্রেম। জীবের অন্তরে রয়েছে শুদ্ধ ভগবৎ প্রেম। জীব যখন জড় জগতে পতিত হয়, তখন তাঁর শুদ্ধ ভগবৎ প্রেম বিকৃত কামে পরিণত হয়।

৫৮। জীবের দুঃখের মূল কারণ কি?
উঃ জীবের দুঃখের মূল কারণ কৃষ্ণবিস্মৃতি। জীব যখন কৃষ্ণের সংগে তার নিত্য সম্পর্কের কথা ভুলে যায়, তখন তার নিত্য স্বরূপ চিন্ময় আত্মা, এ বিষয়ে বিস্মৃতির ফলে এবং এই দেহকে আত্মবুদ্ধি করার ফলে এ জগতে জীব নিয়ত দুঃখে জর্জরিত হয়।

৫৯। অষ্টাঙ্গ যোগ কি?
উঃ যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি। এই আট প্রকার যোগ পদ্ধতিকে বলা হয় অষ্টাঙ্গযোগ।

৬০। অষ্টসিদ্ধি কি কি?
উঃ অণিমা, মহিমা, লঘিমা, প্রাপ্তি, প্রাকাম্য, ঈশিত্বা, বশিতা ও কামবশয়িতা।

৬১। ভগবানের নিরাকার, নির্বিশেষ বিভাগ কাকে বলে?
উঃ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিত্যকাল গোলক বৃন্দাবনে অবস্থান করেন। তাঁর দেহ থেকে নির্গত ব্রহ্মজ্যোতি সমস্ত পরব্যোমে অর্থাৎ চিদাকাশে স্থিত চিন্ময় জগৎকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। সেই জ্যোতিকে বলা হয় নির্বিশেষ বিভাগ।

৬২। যোগীরা হৃদয়ে কার ধ্যান করেন?
উঃ যোগীরা হৃদয়ে পরমাত্মারূপী নারায়ণকে ধ্যান করেন।

৬৩। জ্ঞানযোগী কাকে বলে?
উঃ যাঁরা নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করে ব্রহ্মে লীন হওয়ার জন্য প্রয়াস করে, তাদেরকে জ্ঞান যোগী বলা হয়।

৬৪। ধ্যানযোগী কাকে বলে?
উঃ যাঁরা পরমাত্মাকে হৃদয়ে ধ্যান করে তাঁদেরকে ধ্যানযোগী বলে।

৬৫। ভক্তিযোগী কাকে বলে?
উঃ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিবিধানই যাঁর একমাত্র অভিলাষ, যিনি অনন্যচিত্তে প্রগাঢ় প্রেমের সংগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিমূলক সেবায় যুক্ত থাকেন, তিনিই ভক্তিযোগী।

৬৬। জ্ঞানী, যোগী ও ভক্তের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? এবং কেন?
উঃ ভক্তই সবথেকে শ্রেষ্ঠ। জ্ঞানীরা ভগবানের অব্যক্ত নিরাকার রূপকে উপলব্ধি করতে পারে। কিন্তু ভগবানকে প্রাপ্ত হয় না। যোগীরা ভগবানের আংশিক প্রকাশ পরমাত্মা রূপে ভগবানকে হৃদয়ে দর্শন করে থাকে কিন্তু ভগবানের সংগে ভাবের ততটা আদান প্রদান করতে পারে না। ভগবানের ভক্ত ভগবানের সব থেকে নিকটতম হয়ে ভগবদ্ধামে প্রবেশ করে প্রত্যক্ষভাবে ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। তাঁর প্রেমময়ী ভক্তিমূলক সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে পারে তাই ভক্ত ভগবানের অত্যন্ত প্রিয়। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এজন্য ভক্তের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন।

৬৭। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম-কর্ম ও জীবের জন্ম-কর্মের মধ্যে পার্থক্য কি?
উঃ শ্রীকৃষ্ণের জন্ম-কর্ম দিব্য, শ্রীকৃষ্ণ ত্রিগুণাতীত তাঁকে কর্মফল ভোগ করতে হয় না। শ্রীকৃষ্ণ স্ব-ইচ্ছায় জীব উদ্ধারের জন্য এই জগতে আবির্ভূত হন। কিন্তু জীবের জন্ম তাঁর অজ্ঞানতাবশতঃ হয়ে থাকে, সে তার কর্মফল ভোগ করবার জন্য একটি নির্দিষ্ট শরীর গ্রহণ করতে বাধ্য থাকে। জীবকে এই জগতে জন্ম গ্রহণ করতে হলে পুরুষের শুত্রুকে আশ্রয় করে তাঁর কর্ম অনুসারে সেই প্রকার যোনী লাভ করতে হয়। জীবের কর্ম ত্রিগুণ ও মায়ার দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। সেইজন্য জীবকে তার কর্মফলভোগ করতে হয়। জীবের সমস্ত কর্ম ভগবানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

৬৮। সমাজের যথার্থ কল্যাণ কিভাবে সাধিত হবে?
উঃ সমাজের সমস্ত মানুষকে যদি কৃষ্ণ চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলেই সমাজের যথার্থ কল্যাণ সাধিত হবে। কারণ কৃষ্ণচেতনাই চেতনার উচ্চতম স্তর।

৬৯। পরম ব্রহ্ম সাকার না নিরাকার?
উঃ পরম ব্রহ্ম সাকার এবং নিরাকার উভয়ই। পরম ব্রহ্মের আসল স্বরূপ সাকার রূপে তিনি গোলক বৃন্দাবনে অবস্থান করেন এবং তাঁর শরীর হতে নির্গত জ্যোতি -- যা চিন্ময় জগৎ কে উদ্ভাসিত করে বিদ্যমান তাঁকে তাঁর নিরাকার রূপ বলা হয়।

৭০। প্রত্যেকটি জীব কি ভগবান?
উঃ জীব হচ্ছে ভগবানের নিত্য অবিচ্ছেদ্য অংশ, ভগবান নয়।

৭১। জীব সাধন ভজন করে কোনদিন কি সাধনার সিদ্ধি স্বরূপ ভগবান হতে পারে?
উঃ জীব ভগবানের নিত্য দাস, নিত্য অংশ, অংশ কোন দিন পূর্ণ হতে পারে না, অংশের কাজ পূর্ণের সেবা করা সেই জন্য জীব কখনই ভগবান হতে পারে না।

৭২। জীব ও ভগবানের মধ্যে সম্বন্ধ কি?
উঃ জীব ভগবানের নিত্য দাস।

৭৩। যে কোন দেবতাকে পূজা করে কি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করা যায়?
উঃ যে দেবতাকে আমরা পূজা করব, আমাদের দেহান্তে সেই দেবলোকেই আমরা যাবো। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করতে হলে অবস্যই ভগবান মুকুন্দের শরণাগত হয়ে তাঁর সেবা করতে হবে। তবেই ভগবানকে লাভ করা যাবে।

৭৪। শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করবার জন্য কলিযুগে কোন পন্থা সর্বোৎকৃষ্ট?
উঃ শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করবার জন্য কলিযুগে 'হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র' কীর্তন করাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।

৭৫। ভগবানের ভজনা করলে পিতামাতার সেবা হয় কি?
উঃ ভগবানের ভজনা করলে পিতামাতারও সেবা হয়। কেবলমাত্র পিতামাতা নয়, মুনি ঋষি, দেবতা সকলের সেবা হয়ে থাকে। যেহেতু ভগবানের কাছ থেকে সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে তাই, ভগবান হচ্ছেন সবকিছুর মূল। যে ভাবে গাছের গোড়ায় জল দিলে তার শাখা প্রশাখা, পত্র, পুষ্প সবই পরিপুষ্ট হয় এবং উদরকে খাদ্য দিলে যেমন সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি পুষ্ট হয়, ঠিক সেইরূপ ভগবান সন্তুষ্ট হলে সবাই তুষ্ট হন। "যন্মিন্ তুষ্টে জগৎ তুষ্ট"।

৭৬। মানুষের কেমন খাদ্য আহার করা কর্তব্য?
উঃ মানুষের জীবনকে সফল করতে হলে ভগবানের প্রসাদই ভোজন করা উচিত। কেন না যা আমরা ভোজন করি সেই খাদ্য ভগবানকে অর্পণ করলে, তা প্রসাদে পরিণত হয়। প্রসাদ ভোজনের ফলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। নচেৎ আমরা পাপ ভক্ষণ করি।

৭৭। ভগবানকে কি প্রকার খাদ্য নিবেদন করা যায়?
উঃ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন "পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং" -- 'ভক্তি সহকারে আমাকে পত্র পুষ্প, ফল, জল প্রভৃতি অর্পণ করলে আমি তা গ্রহণ করে থাকি।' এভাবে তিনি নিরামিষ খাদ্যবস্তুর কথা বলেছেন, মাছ, মাংস প্রভৃতির কথা বলেন নি।

৭৮। ভগবানের কাছে কি প্রার্থনা করা উচিত?
উঃ ভগবানের কাছে আমাদের প্রার্থনা করা উচিত যে আমরা যেন তাঁর শ্রীচরণে অহৈতুকী ভক্তি লাভ করতে পারি। তাঁর শ্রীচরণে সেবা করার সুযোগ যেন জন্মজন্মান্তরে লাভ করতে পারি।

৭৯। শ্রীকৃষ্ণ ও নবদ্বীপ ধামে অবতীর্ণ শ্রীচৈতন্য দেবের মধ্যে কি পার্থক্য আছে?
উঃ 'ব্রজেন্দ্রনন্দন যেই শচীসূত হইল সেই।
বলরাম হইল নিতাই।।'
শ্রীকৃষ্ণই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন। তবে শ্রীকৃষ্ণ শুদ্ধভক্তি শিক্ষা দেবার জন্য ও স্বয়ং ভক্তিরসের অপূর্ব মাধুর্য আস্বাদনের জন্য ভক্তরূপে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন।
'শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য "রাধাকৃষ্ণ" নহে অন্য।'
ভক্ত ভগবানের সেবা করে কি প্রকারের আনন্দ লাভ করে তা জানবার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পরম শ্রেষ্ঠ ভক্ত শ্রীমতী রাধারানীর অঙ্গকান্তি ও ভাবকে গ্রহণ করে শ্রীচৈতন্যরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।

৮০। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অবতীর্ণ হয়ে কি প্রচার করেছিলেন?
উঃ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অবতীর্ণ হয়ে 'হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র' কীর্তনের মাধ্যমে কিভাবে কৃষ্ণপ্রেম লাভ করা যায় তা প্রদর্শন ও প্রচার করেছিলেন।

৮১। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কোন ভবিষ্যদ্বাণীকে প্রভুপাদ বাস্তবে রূপায়িত করেছেন?
উঃ পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম।
সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম।।
এই ভবিষ্যদ্বাণীকে শ্রীল প্রভুপাদ বাস্তবে রূপায়িত করে সারা বিশ্বে এই হরিনাম প্রচার করেছেন।

৮২। ভগবানের মায়াশক্তিকে কত ভাগে বিভক্ত করা যায়? সেগুলি কি এবং কোথায় কাজ করে?
উঃ ভগবানের মায়াশক্তি দু-প্রকারের -- ১। যোগমায়া, ২। মহামায়া। অন্তরঙ্গা যোগমায়া শক্তির দ্বারা চিন্ময় জগৎ পরিচালিত হয়। বহিরঙ্গা মহামায়া শক্তির দ্বারা জড় জগৎ পরিচালিত হয়।

৮৩। ভগবানের সমস্ত শক্তিকে কয় ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে? সেগুলি কি কি?
উঃ ভগবানের অনন্ত শক্তিকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে-- ১। অন্তরঙ্গা শক্তি ২। বহিরঙ্গা শক্তি এবং ৩। তটস্থা শক্তি।

৮৪। জীব ভগবানের কোন শক্তি?
উঃ জীব ভগবানের তটস্থা শক্তি।

৮৫। জড়জগতে বদ্ধ জীব ভগবানের কোন শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়?
উঃ জড়জগতে বদ্ধ জীব ভগবানের বহিরঙ্গা ত্রিগুণাত্মিকা মায়া শক্তির দ্বারা পরিচালিত হয়।

৮৬। চিন্ময় জগতের সবকিছু ভগবানের কোন শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়?
উঃ চিন্ময় জগতের সবকিছু ভগবানের অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা পরিচালিত হয়।

৮৭। মানুষের ছয়টি প্রধান শত্রু বা ষড়রিপু কি?
উঃ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য-- এই ছয়টি হচ্ছে ষড়রিপু--মানুষের প্রধান শত্রু।

৮৮। ষড় রিপু কি ভাবে দমন করা যায়?
উঃ কায়, মন ও বাক্য দ্বারা ভগবানের সেবা করলে, হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নিষ্ঠা সহকারে কীর্তন করলে, ভগবানকে নিবেদিত প্রসাদ ভোজন করলে ষড়রিপু সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তের তত্ত্বাবধানে ভক্তিসেবা অনুশীলনই একমাত্র উপায়।

৮৯। কর্মফল থেকে কি ভাবে মুক্তি লাভ করা যায়?
উঃ আমরা যা কর্ম করি সেই সমস্ত কর্মের ফল যদি ভগবানকে অর্পণ করি তাহলে আমরা কর্মবন্ধন বা কর্মফল থেকে মুক্তি পেতে পারব।

৯০। ভক্তির সংজ্ঞা কি?
উঃ "হৃষিকেন হৃষিকেষ সেবনং ভক্তিরুচ্যতে"...... আমার ইন্দ্রিয় দিয়ে ইন্দ্রিয়ের অধিপতি ভগবানের সেবা করাকেই ভক্তি বলা হয়।

৯১। সমস্ত ইন্দ্রিয়গণের প্রভাবকে জয় করবার উপায় কি?
উঃ সমস্ত ইন্দ্রিয়কে কৃষ্ণসেবায় নিযুক্ত করার মাধ্যমে তাদের জয় করা যায়। ইন্দ্রিয় স্বভাবতঃ সবসময় বিষয় ভোগের দিকে ধাবিত হয়। সেই ইন্দ্রিয় সকলকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবারূপ উন্নত স্বাদ প্রদান করলে তারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ঠিক যেভাবে জিহ্বাকে জয় করবার উপায় কৃষ্ণপ্রসাদ সেবা, কৃষ্ণকথা আলোচনা, কর্ণ দিয়ে কৃষ্ণের গুণ শ্রবণ এবং হরিকথা শ্রবণ। নাসিকা দিয়ে কৃষ্ণের চরণে অর্পিত তুলসীর ঘ্রাণ গ্রহণ করা, চক্ষু দিয়ে শ্রীবিগ্রহকে দর্শন করা, হাত দিয়ে মন্দির মার্জন করা।

৯২। ভগবানের তুষ্টি বিধান করলে সমস্ত জগৎ সন্তুষ্ট হবে কি?
উঃ হ্যাঁ যস্মিন্ তুষ্টে জগৎ তুষ্ট..........
যেহেতু এই সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা ভগবান সেই হেতু ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানে সমগ্র জগৎ তুষ্ট হবে।

৯৩। যথার্থ জ্ঞান কাকে বলে?
উঃ আমি এই 'শরীর' নই, আমি চিন্ময় 'আত্মা'-- ভগবানের নিত্য অংশ। এইটি জানাকে বলা হয় যথার্থ জ্ঞান।

৯৪। আত্মোপলব্ধির প্রথম সোপান কি?
উঃ আমি এই দেহ নই, আমি হচ্ছি চিন্ময় আত্মা এইটিকে জানা।

৯৫। ত্রিগুনাত্মিকা জড়া প্রকৃতির কার্য কি?
উঃ এর প্রভাবে জীব এই জড় জগতের সমস্ত কার্য সম্পাদন করে।

৯৬। গুণের প্রভাব থেকে কিভাবে মুক্তি লাভ করা যায়?
উঃ গুণের প্রভাবে আমরা যা কর্ম করি সেই কর্ম যদি ভগবানের উদ্দেশ্যে অর্পিত হয়, তাহলে আস্তে আস্তে আমরা গুণের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারি।

৯৭। চারটি যুগের নাম কি?
উঃ সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি।

৯৮। বিভিন্ন যুগে ভগবানকে লাভ করবার উপায় কি?
উঃ সত্যযুগে ভগবানকে লাভ করবার উপায় হচ্ছে ধ্যান। ত্রেতাযুগে -- যজ্ঞ, দ্বাপর যুগে -- অর্চনা, আর কলিযুগে হরিনাম সংকীর্তন।

৯৯। ভক্তিযোগ বা কৃষ্ণনামের পূর্ণফল লাভের জন্য আমাদের করণীয় কি?
উঃ আমাদের চারটি পাপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে যথা -- আমিষাহার, দ্যুতক্রীড়া, নেশা পান ও অবৈধ নারী সঙ্গ।

১০০। কৃষ্ণনামে কি ফল?
উঃ কৃষ্ণনামের ফল হচ্ছে কৃষ্ণপ্রেম লাভ করা।

হরেকৃষ্ণ ।

Address

Dhaka
0088

Telephone

+8801912498480

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hare Krishna News posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Hare Krishna News:

Share