07/05/2026
বউ প্রেগন্যান্ট, কদিন পর সন্তান ভূমিষ্ট হবে। এসময় তার নিজের জীবন নিয়েই হাসফাস অবস্থা, পেটের মধ্যে বাবু খুব নড়াচড়া করে, পায়ে পানি জমে পা ফুলে যাচ্ছে, হিমোগ্লোবিন কমে শরীরে জ্বালাপোড়া বেড়েছে। এ অবস্থায় শারিরিক সম্পর্ক করা কোনোভাবেই সম্ভব না। কিন্তু আপনার তো শারিরিক সম্পর্ক করতেই হবে, হারাম কাজ না করে তাই আপনি আরেকটা বিয়ে করে ফেললেন। তাই তো?
আপনি পঙ্গুত্ব বা বড় কোনো অসুখে ৬ মাস বিছানায় পড়ে থাকলে আপনার স্ত্রীও তো শারিরিক চাহিদার প্রয়োজনে আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করতে পারে। সেটিও তো নিশ্চয়ই হারাম কাজ হবেনা। তখন আপনার অনুভূতি কেমন হবে তা আমরা জানতে চাই।
সংসারে সবকিছু হালাল হারাম হিসেব করে চলেনা, ৪০/৫০ বছর একটা সংসার শারিরিক চাহিদার ভিত্তিতে টিকে থাকে না। টিকে থাকে ভালোবাসা, মায়া, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও সহমর্মিতা থেকে। এগুলোও ধর্মের ই অংশ।
আমাদের মায়েরা শুধু মায়া ও ভালোবাসার টানে আজীবন সংসারে স্যাক্রিফাইস করে যায়। এমনকি দেনমোহরের টাকা পর্যন্ত এদেশের মেয়েরা চায়না শুধু স্বামীর মুখের দিকে চেয়ে। স্ত্রীর শরীর স্পর্শ করার আগেই যা পরিশোধ করা ইসলামে বাধ্যতামূলক।
এদেশে স্বামীর ইনকামে সংসার চলেনা, নুন আনতে পান্তা ফুরায়, স্ত্রীও তাই চাকরি খোঁজে, অশিক্ষিত হলে বাড়িতে হাঁসমুরগি পালন করে, দরজির কাজ শিখে, জমিতে গিয়ে স্বামীর সাথে ধান মাড়াই করে। এতো কিছু করতে স্ত্রী কী বাধ্য? ইসলামে ঠিকমতো স্ত্রীর ভরনপোষণ দিতে প্রতিটি স্বামী বাধ্য। তবুও সে স্বামীর কাছে মুখ ফুটে কখনো কিছু চায়না, জানে স্বামী দিতে পারবেনা। এই সব ত্যাগ শুধু মায়া ও ভালোবাসার টানে, বুঝেছেন হুজুর?
স্ত্রী তার সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো হারাম না, স্বামীর পিতারমাতার দেখাশোনা না করা পূত্রবধুর জন্য হারাম না, অসুস্থ স্বামীর সেবাযত্ন না করে শারিরিক চাহিদা মেটাতে আরেকজনকে বিয়ে করা হারাম না। শুধু হালাল হারামের হিসেব কষে সংসার টিকেনা হুজুর, সংসার টিকে দায়িত্ববোধ, মায়া ও ভালোবাসায়।