সংচাই নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা।

  • Home
  • Bangladesh
  • Debidwar
  • সংচাই নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা।

সংচাই নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা। সংচাইল নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ব?

23/06/2021

সন্তানের প্রতি লুকমান হাকীমের উপদেশ বাণী
লোকমান (এছাড়াও লোকমান হাকীম, লোকমান প্রজ্ঞাবান, এবং লুকমান, নামেও পরিচিত; আরবি: لقمان‎‎) ছিলেন একজন বিজ্ঞ লোক যার নামে আল কুরআনের একত্রিশতম সূরা, সূরা লুকমান (আরবি: سورة لقمان‎‎) এর নামকরণ করা হয়।
জমহুর (অধিকাংশ) উলামা-ই-কিরামের মতে লুকমান ছিলেন প্রজ্ঞাময় ও বিচক্ষণ একজন ওলী। তিনি নবী ছিলেন না। আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনুল কারীমে লুকমানের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রশংসা করেছেন। হযরত লুকমান তাঁর স্নেহধন্য পুত্রকে যে উপদেশ দিয়েছেন, আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনে তাও উল্লেখ করেছেন। লুকমান তাঁর পুত্রকে যে উপদেশগুলো দিয়েছেন তা হল-
١.وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ

٢.وَوَصَّيْنَا الإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ
٣.وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
٤.يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُن فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ

٥.يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الأُمُورِ
٦.وَلا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلا تَمْشِ فِي الأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

٧.وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ إِنَّ أَنكَرَ الأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ
লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বলল- হে বৎস! আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দু বছরে। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না, তবে দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে এবং যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে অবহিত করবো। হে বৎস! কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তর গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ-গর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সূক্ষ্মদর্শী, সবকিছুর খবর রাখেন। হে বৎস! নামায কায়িম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ। অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। [১]
উপরোক্ত আয়াতসমূহের ভিত্তিতে বিভিন্ন তাফসীর কারক লুকমান হাকিমের উপদেশগুলো বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তার মধ্য হতে কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হল-
● উপদেশ- ১
লুকমান তার পুত্রকে প্রথমে যে উপদেশটি দেন, তা হল,
يابني لا تشرك بالله إن الشرك لظلم عظيم .
'হে বৎস! আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক বড় জুলুম।' [২]
● উপদেশ- ২
وَ وَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡهِ ۚ حَمَلَتۡهُ اُمُّهٗ وَهۡنًا عَلٰی وَهۡنٍ وَّ فِصٰلُهٗ فِیۡ عَامَیۡنِ اَنِ اشۡکُرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیۡکَ ؕ اِلَیَّ الۡمَصِیۡرُ ,★و وصینا الانسان بوالدیه ۚ حملته امهٗ وهنا علی وهن و فصلهٗ فی عامین ان اشکر لی و لوالدیک الی المصیر★
আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই। [৩]
অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা প্রসঙ্গক্রমে পিতা-মাতা সম্পর্কে তার নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সন্তানের উপর পিতা-মাতার অধিকারের কথা, তারা মুশরিক হলে তাদের প্রতি সদাচরণের কথা এবং তাদের (বাতিল) দ্বীন কবুল করার ব্যাপারে তাদের আনুগত্য না করার কথা উল্লেখ করেছেন।
● উপদেশ- ৩
یٰبُنَیَّ اِنَّهَاۤ اِنۡ تَکُ مِثۡقَالَ حَبَّۃٍ مِّنۡ خَرۡدَلٍ فَتَکُنۡ فِیۡ صَخۡرَۃٍ اَوۡ فِی السَّمٰوٰتِ اَوۡ فِی الۡاَرۡضِ یَاۡتِ بِهَا اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَطِیۡفٌ خَبِیۡرٌ ﴿۱۶﴾یبنی انها ان تک مثقال حبۃ من خردل فتکن فی صخرۃ او فی السموت او فی الارض یات بها الله ان الله لطیف خبیر
‘হে আমার প্রিয় বৎস, নিশ্চয় তা (পাপ-পুণ্য) যদি সরিষা দানার পরিমাণ হয়, অতঃপর তা থাকে পাথরের মধ্যে কিংবা আসমানসমূহে বা যমীনের মধ্যে, আল্লাহ তাও নিয়ে আসবেন; নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ’। [৪]
লুকমান হাকিম সন্তান কে মানুষের প্রতি জুলুম করতে বারণ করলেন, যদিও তা সর্ষে পরিমাণ হয়, এমনকি তা দরজা জানালাহীন কিংবা ছিদ্র বিহীন কঠিন পাথরের মধ্যে রাখা হলেও আল্লাহ্ তা'আলা সেটি সম্পর্কে অবগত থাকেন।
● উপদেশ- ৪
یٰبُنَیَّ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ★
লুকমান তাঁর পুত্রকে বলল- 'হে বৎস! নামায কায়িম কর।'[৫]
● উপদেশ- ৫
وَ اۡمُرۡ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ انۡهَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ اصۡبِرۡ عَلٰی مَاۤ اَصَابَکَ★
এরপর লুকমান হাকিম তাঁর পুত্রকে বললেন- 'সৎকর্মের নির্দেশ দিবে আর অসৎ কর্ম নিষেধ করবে এবং বিপদে আপদে ধৈর্যধারণ করবে।'[৬]
● উপদেশ- ৬
لَا تُصَعِّرۡ خَدَّکَ لِلنَّاسِ وَ لَا تَمۡشِ فِی الۡاَرۡضِ مَرَحًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ کُلَّ مُخۡتَالٍ فَخُوۡرٍ ★و لا تصعر خدک للناس و لا تمش فی الارض مرحا ان الله لا یحب کل مختال فخور★
‘আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর যমীনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক, অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না’[৭]
অর্থাৎ:লুকমান হাকিম তাঁর পুত্রকে আরো বললেন- 'অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে উর্ধ্বভাবে বিচরণ করো না। কারণ, আল্লাহ্ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না।'
● উপদেশ- ৭
اقۡصِدۡ فِیۡ مَشۡیِکَ وَ اغۡضُضۡ مِنۡ صَوۡتِکَ ؕ اِنَّ اَنۡکَرَ الۡاَصۡوَاتِ لَصَوۡتُ الۡحَمِیۡرِ ★و اقصد فی مشیک و اغضض من صوتک ان انکر الاصوات لصوت الحمیر ★
‘আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, তোমার আওয়াজ নীচু কর; নিশ্চয় সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল গাধার আওয়াজ’। [৮]
সালাফদের উক্তি হতে,
• ইমাম আবী হাতিম কাসিম ইবনে মুখায়মারা থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, 'হে বৎস! হিম্মত ও প্রজ্ঞা দরিদ্রদেরকে রাজার আসনে বসিয়েছে'।
• আওন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, 'হে বৎস! তুমি কোন মজলিশে উপস্থিত হলে ইসলামের রীতি অর্থাৎ সালাম দ্বারা তাদের অন্যায় জয় করবে। তারপর মজলিশের একপাশে বসে পড়বে। ওদের কথা বলার পূর্বে তুমি কোন কথা বলবে না। তারা আল্লাহর যিকর ও আল্লাহ্ সম্পর্কে আলোচনায় নিয়োজিত হলে তুমি তাদের সাথে আলোচনায় অংশ নিবে। তারা যদি অন্য কোন বিষয়ে আলোচনা করে তবে তুমি তাদেরকে ত্যাগ করে অন্যদের কাছে চলে যাবে।'
• দাউদ ইবনে রশীদ আবু উছমান সূত্রে বলেন, লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, 'মূর্খদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে আগ্রহী হয়ো না। তাহলে সে মনে করবে যে, তার কর্মে তুমি সন্তুষ্ট।'
• আব্দুস সামাদ কাতাদা সূত্রে বলেন, লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, 'হে বৎস! মন্দ থেকে দূরে থাক। তাহলে মন্দ তোমা হতে দূরে থাকবে। কারণ মন্দের জন্যেই মন্দের সৃষ্টি।'
• আবু মুআবিয়া উরওয়া সূত্রে বলেন, হযরত লুকমানের প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্যে আছে, 'হে বৎস! অতিরিক্ত মাখামাখি পরিহার করবে। কারণ, অতিরিক্ত মাখামাখি ঘনিষ্ঠজনকে ঘনিষ্ঠজন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এবং প্রজ্ঞাকে ঠিক তেমনি বিলুপ্ত করে দেয়, যেমনটি আগে উচ্ছ্বাস করে থাকে। হে বৎস! অতি ক্রোধ বর্জন কর, কারণ তা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির অন্তঃকরণকে ধ্বংস করে দেয়।'
• সুফয়ান বলেন, লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, 'হে বৎস! নীরবতা অবলম্বন করে আমি কখনো লজ্জিত হইনি। কথা বলা যদি রূপা হয় তবে নীরব থাকা হচ্ছে সোনা।'
• সুফিয়ান ইবন উয়ায়না বলেন, লুকমান (আ) কে বলা হল, নিকৃষ্টতম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, 'যে ব্যক্তি এ কথার পরোয়া করে না যে, লোকে তাকে মন্দ কার্যে লিপ্ত দেখবে।[৯]
তথ্যসূত্র:
[১] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৩-১৯
[২] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৩
[৩] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৪
[৪] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৬
[৫] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৭
[৬] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৭
[৭] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৮
[৮] সূরা লুকমান আয়াত নং ১৯
[৯] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
লেখাঃ মারিয়াম বিনতে মোহাম্মাদ আলী (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)
(Y) শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ইন শা আল্লাহ !
_
#ওহী (Seeking The Way To Jannah)

19/06/2021

প্রিয় নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরা ভাই!

এশার নামাজের আযান দিলেন । নামাজের আগেই দুটি গুলি মাথা ও বুক ভেদ করল, আপনি মজলুম শহীদ হলেন। আপনি সফল হলেন। আপনার অপরাধ হলো , আপনি পাহাড়ি প্রথম মুসলিম ।

আপনার ছোট্ট মাইমুনা ও ইবরাহীম - এদের অশ্রু ঠেকানোর ক্ষমতা শুধু আল্লাহর। হে আল্লাহ! তাদের দিল ঠান্ডা করো। মুমিনদের বিজয়ী কর।

আমিন।

12/06/2021

'গাছ হতে এমন কোন পাতা ঝরে পড়ে না যার ব্যাপারে তিনি অবগত নন'। - আল আন'আম ৫৯

আয়াতটা চোখে পড়লেই আমি রীতিমতো ধাক্কা খাই। কী এক অসাধারণ ব্যাপার ভাবুন তো! পৃথিবীতে গাছের সংখ্যা কতো তা যদি আপনাকে বের করতে বলা হয়, আপনার কি সাধ্য আছে তা বের করার?

ধরে নিলাম যে যাবতীয় 'হতে পারে/প্রায়/ কাছাকাছি' জাতীয় কল্পনার আশ্রয় বাদ দিয়ে, এক অসাধ্য সাধন করে আপনি পৃথিবীর মোট গাছ সংখ্যা গুনে ফেললেন। কিন্তু সেসব গাছের পাতা সংখ্যা যদি আপনাকে গুনে বের করতে বলা হয়, সম্ভব কি আপনার দ্বারা?

আপনি এবার হয়তো মাথা চুলকে বলবেন, 'তা কী করে হয়?'

তা আসলেই অসম্ভব। বলা হয়ে থাকে— আমাজন বনের মধ্যে এখনো এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আজ অবধি কোন মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি। চিন্তা করে দেখুন— এমনই এক দূর্গম অঞ্চলে, যেখানে সূর্যরশ্মি পৌঁছাতে হিমশিম খেয়ে যায়, সেখান থেকে নীরবে-নিভৃতে, গভীর নিশিতে, অলক্ষ্য-অগোচরে যে পাতা ঝরে, তার ব্যাপারে দুনিয়ার আর কেউ না জানলেও, সেই ঝরা-পাতার খতিয়ান দুনিয়ার কোন রেকর্ড-বইতে তোলা না হলেও, তা আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।

গভীর নিশিতে, সবাই যখন নিশ্চিদ্র নিরুপদ্রব ঘুমে বিভোর, হালকা মিহি বাতাসে ওই সময়ে গাছের যে ক্ষুদ্র পাতাটা বিচ্ছিন্ন হয় তার শেকড়ের বন্ধন থেকে, যে ব্যাপারে আপনি কোনোদিনও জানবেন না, সে ব্যাপারটার ব্যাপারেও আল্লাহ অতি-অবশ্যই অবগত।

মহাবিশ্বের কতো কতো সৃষ্টি! কতো গ্যালাক্সি, মিল্কিওয়ে, কৃষ্ণগহ্বরের কতো রহস্য! কতো গ্রহ-উপগ্রহ, চাঁদ-তারা-সূর্য! এতো এতো সৃষ্টিরাজি থাকা সত্ত্বেও একটা ক্ষুদ্র পাতা ঝরার ব্যাপারেও তিনি বেখেয়াল নন— কতো অসাধারণ অভিভাবক আপনার রব ভাবুন তো!

গাছের একটা পাতা-ঝরার ব্যাপারকেও যিনি গুরুত্ব দেন, যিনি অতি-সামান্য, তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনার ব্যাপারেও খোঁজ নিতে ভুলেন না, কার্পণ্য করেন না, আপনার কি ধারণা সেই রব আপনার দুঃখ-দূর্দশা, যে নিরন্তর ক্লান্তি, যে অপরিসীম বেদনার ভিতর দিয়ে আপনি যাচ্ছেন, তা সম্পর্কে জানেন না?

বেদনার ভারে আপনি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েন, দুঃখের প্লাবনে যখন আপনি দুমড়েমুচড়ে যান, যখন নীরবে-নিভৃতে দু' ফোঁটা অশ্রু আপনার চোখ থেকে ঝরে পড়ে— নিশ্চিত থাকুন, সেই গভীর বনাঞ্চলের সুগভীর কোণে জন্ম নেওয়া সেই নাম না-জানা উদ্ভিদ, যার পাতা-ঝরার ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা বেখেয়াল নন, তিনি আপনার অশ্রু-ঝরার ব্যাপারেও সম্যক অবগত। তিনি আপনার দুঃখগুলো, যেগুলো আপনাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কেও জানেন।

হতাশ হবেন না। আপনার রবের পরিকল্পনায় আস্থা রাখুন।

08/06/2021

হাফেজ ছাত্রদের মেহনতের পদ্ধতি,,,
১/ প্রতিদিন ১ পাড়া করে উস্তাদকে পড়া শুনাবে।
(বিনা লোকমায় বিনা টোকায়)
২/প্রত্যেকটি শব্দ বাক্যকে কমপক্ষে ২০ বার করে বার বার পড়বে, উদাহরণস্বরূপঃ
الحمد لله. الحمد لله. الحمد لله. الحمد لله.الحمد لله.....رب العالمين. رب العالمين. رب العالمين. رب العالمين. رب العالمين....
الحمد لله رب العالمين. الحمد لله رب العالمين. الحمد لله رب العالمين.....
এভাবে ২০ বার করে পড়ার পর ১ বার না দেখে পরবে,,,, যদি প্রত্যেকটি হরফ, হরকত, নুকতা, শব্দ, বাক্য, চোখে ভাসে তাহলে ইয়াদ হয়েছে আর না হয় আবার নতুন করে প্রত্যেকটি শব্দ বাক্যকে ১০ বার করে পড়বে। এভাবে ১ পারা ইয়াদ করতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময় লাগবে।

৩/নিয়মিত কমপক্ষে ১০ পারা তিলাওয়াত দেখে দেখে করবে।
৪/এশার নামাজের পর নিয়মিত ১ পারা নামাজে তিলাওয়াত করবে।
৫/আসরের পর আধা ঘন্টা দুইজন পরষ্পর একে অপরকে কোরআনের যেকোনো যায়গা থেকে প্রশ্ন করবে।

৬/আসরের পর, খাবার সময়,অবসর সময়গুলোতে, বিশ্ববিখ্যাত হাফেজ ক্বারী যারা আছেন যেমনঃ( শায়খ মাহমূদ খলিল আল হুসারী রহঃ,শায়খ মুহাম্মাদ সিদ্দিক আল মিনশাবি রহঃ, শায়খ মুহাম্মাদ আইয়ূব রহঃ,শায়খ রাশেদ মাশারী আল আফাসী, শায়খ আব্দুর রহমান আস সুদাইস ,শায়খ আলী আল হুজাইফী,শায়খ সাউদ বিন ইব্রাহীম আশ শুরাইম, শায়খ বান্দার বালিলাহ,শায়খ মাহের আল মুয়াইকিলি,শায়খ আব্দুল ওয়ালী আরাকানী হাফিজাহুমুল্লাহ ) সহ এধরনের আরো যারা আছেন উনাদের তিলাওয়াত খুব বেশি শুনবে। সম্ভব হলে ভিডিও তিলাওয়াত দেখবে।

৭/ ইজতিমায়ী মশকের ইহতিমাম করবে।
৮/ ইনফিরাদী বা একাকী আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ ক্বারী উস্তাদের কাছে গিয়ে দৈনন্দিন এক পৃষ্ঠা করে মশকের মতো শুনাবে।

৯/ফজরের রয়েছে ২ রাকাত সুন্নাত নামাজ,যোহরের ৬ রাকাত, মাগরিবের ২ রাকাত, এশার ২ রাকাত সুন্নাত নামাজ এবং ৩ রাকাত বিতর নামাজ। এই নামাজগুলোর প্রত্যেক রাকাতে এক পৃষ্ঠা করে মোট ১৫ পৃষ্ঠা সুন্নাত এবং বিতর নামাজে তিলাওয়াত করবে।এবং ঘুমানোর সময় সিটে বসে ৫ পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করবে, এভাবে ১ পারা তিলাওয়াত পূর্ণ হলো।

১০/ হাটতে, চলতে, উঠতে, বসতে,মনে মনে দিনে রাতে ১ পারা তিলাওয়াত করবে।

১১/ সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে না হয় অন্তত প্রতি মাসে একবার বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজ পরে নফল নামাজে দাড়াবে এবং শুক্রবার ফজর পর্যন্ত ১৫ পারা অথবা সম্ভব হলে এক খতম নামাজে তিলাওয়াত করবে।
১২/যেকোনো একজন বিশ্ববিখ্যাত হাফেজ ক্বারীর সুর অনুসরণ করে নিজস্ব কিছু সুর সংযোজন করবে ।
১৩/ মাখারিজ,সিফাতসমূহ আয়ত্ত করবে।

১৪/ যথাসম্ভব একজন উস্তাদের কাছেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করবে।

১৫/ অবশ্যই তাহাজ্জুদের নামাজ পরবে।
১৬/খালেস নিয়ত রাখবে।
একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই মহাগ্রন্থ আল কোরআন শিখবে।
১৭/ধারাবাহিকভাবে একাগ্রচিত্তে মেহনত করবে।

১৮/ পড়া লেখার বিষয়ে উস্তাদের পরামর্শ মেনে চলবে।
১৯/ সর্বদা পাক পবিত্র এবং অজু অবস্থায় থাকবে।
বেশি বেশি رب زدني علما পড়বে।
২০/ উত্তম আখলাক,আদব, ইজতিহাদ,এবং ইত্তেবায়ে সুন্নাহর ইহতিমাম করবে।

***محمد زكريا***
***عفا الله عنه***

24/04/2021
09/11/2020

Address

Soncail Nuraniya Hafizia Madrasha
Debidwar

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সংচাই নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share