20/06/2026
ইসলামে খেলাধুলার বিধান!
পবিত্র ইসলাম ধর্ম নিথর-নির্জীব জীবনবোধকে সমর্থন করেনা। বরং ইবাদতের মাধুর্যে শরীর-স্বাস্থ্যের বিকাশকেও উৎসাহ দেয়। খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক বিষয়াবলীকে ইসলাম ধর্মে খুব সর্তকতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়েছে। খেলাধুলা ও বিনোদন যখন শর্তসাপেক্ষে শরীয়তের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন ইসলাম এমন খেলা ও বিনোদনে বাধা প্রদান করেনা।
কারণ খেলাধুলা পৃথিবীর আদিকাল থেকে শিশু-কিশোরদের মজ্জাগত স্বভাব ছিল ও আছে; এটা সর্বজন স্বীকৃত একটি বিষয়। কিন্তু যখন এটাকে ব্যবসায়িক রূপ দেয়া হয়, যুবক-যুবতীরা খেলার নামে অশ্লীলতা ছড়ায়; আর কিছু মানুষ যখন এতে আসক্ত হয়ে মূল্যবান চরিত্র ও সময় নষ্ট করে, তখনই তাতে নিষেধাজ্ঞা চলে আসে।
প্রচলিত খেলাধুলা হারাম হওয়ার কারণ:
শরীয়তসম্মত খেলাধুলা করতে ইসলামে কোন বাঁধা-নিষেধ নেই। তবে যে সকল খেলাধুলায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিদ্যমান থাকবে, সে সকল খেলাধুলা শরীয়তে হারাম বলে বিবেচিত হবে। যেমন-
১) যে খেলাধুলায় অহেতুক প্রাণীর ছবি, নাচ-গান ও বাদ্য-বাজনা থাকে।
২) যে খেলাধুলায় পর্দার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন হয়। যেমন, ছেলেদেরকে মেয়েরা দেখে, আবার মেয়েদেরকে ছেলেরা দেখে থাকে। অন্যদিকে ছেলে এবং মেয়ে একসাথে বসে থাকে, কথাবার্তা বলে।
৩) যে খেলাধুলা ঝগড়া-বিবাদ ও নোংরামিকে প্ররোচিত করে। যেমন- বর্তমানে খেলা নিয়ে বিভিন্ন ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, এমনকি খুন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
৪) যে খেলাধুলার সাথে জুয়া সম্পৃক্ত থাকে। যেমন বর্তমানে খেলাধুলায় হার-জিতের পাশাপাশি বিরাট অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে, তা জুয়ার শামিল।
৫) যে খেলাধুলা ফরয কাজে বাধা দেয়। যেমন, নামাজ, রোযা, পর্দা প্রভৃতি। বর্তমানে খেলাধুলার কারণে অধিকাংশ খেলোয়ার, দর্শক ও সমর্থক নামাজসহ অন্যান্য ফরজ বিধান থেকে অত্যন্ত গাফেল থাকে।
৬) যে খেলাধুলা ওয়াজিব কাজে বাধা দেয়। যেমন, পিতা-মাতার আনুগত্য, পারিবারিক দায়-দায়িত্ব পালন, লেখা-পড়া ও জ্ঞানার্জন প্রভৃতি।
৭) যে খেলাধুলায় অর্থ অপব্যয় হয়ে থাকে। বর্তমানে এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট, যা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
৮) যে খেলাধুলায় সময় অপচয় হয়ে থাকে। এ বিষয়টিও দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।
৯) যে খেলাধুলায় ইসলামী শালীনতা বিরোধী কাজ হয়। যেমন সতর খোলা, হাঁটুর উপরে কাপড় তোলা, মেয়েদের খেলায় অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি।
১০) যে খেলাধুলায় কাফির মুশরিকদের সাপোর্ট বা সমর্থন করতে হয়, তাদের প্রশংসা করতে হয়।
১১) যে খেলাধুলা মানুষকে দ্বীন ইসলাম ও আখিরাতের চিন্তা থেকে গাফিল করে দেয়।
১২) যে খেলাধুলায় অসৎ সঙ্গে সময় দিতে হয়।
১৩) যে খেলাধুলায় কাফের-মুশরিকদের নিয়মাবলী গ্রহণ করতে হয়।
১৪) যে খেলাধুলায় অযথা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।
১৫) যে খেলাধুলায় হারাম প্রতিযোগিতা করা হয়।
১৬) যে খেলাধুলায় পরস্পরে প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ পয়দা হয়।
১৭) যে খেলাধুলায় সমাজে ফেতনা সৃষ্টি হয়।
১৮) যে খেলাধুলায় হারাম কাজে উৎসাহিত করা হয়।
১৯) যে খেলাধুলায় হারাম কাজে খুশী প্রকাশ করা হয়।
বিশ্বকাপ ফুটবল বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের মধ্যে উপরের প্রায় সব কয়টি কারণ বিদ্যমান আছে। সুতরাং তা হালাল হবে নাকি হারাম হবে, তা পাঠকদের উপর ছেড়ে দিলাম। একটি হারাম কাজ করতে গিয়ে যদি এতোগুলো হারাম সম্পৃক্ত হয়, তাহলে সেই হারামকে কিভাবে মুসলমানগণ গ্রহণ করতে পারে? কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা যায় না। এজন্যই কোন মুসলমান এসব হারাম মিশ্রিত খেলাধুলাকে সমর্থন করতে পারে না।
খেলাধুলা দেখা ও তা সমর্থনের বিধান:
শরয়ী দৃষ্টিতে যে খেলাধুলা করা হারাম, তা সমর্থন করা, তা দেখা ও দেখে তৃপ্তি পাওয়া, তা নিয়ে অহেতুক গল্প-গুজব করা সবই হারাম। সুতরাং তা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
কলমে : মাও: আ.জ.ম. ওবায়দুল্লাহ্
#ছারছীনা #ছারছীনানিউজ