30/05/2026
দুর্গা গায়ত্রী মন্ত্র অনুধ্যান
দুর্গা গায়ত্রী মন্ত্র:
কাত্যায়নায় বিদ্মহে কন্যকুমারী ধীমহি তন্নো দুর্গিঃ প্রচোদয়াৎ।
মহানারায়ণ উপনিষদ- ১/২৬ এর সায়নভাষ্য অবলম্বনে আমরা পাই:
কৃত্তিং বস্ত ইতি কাত্যো রুদ্রঃ। স এব অধিষ্ঠানম্ উৎপাদকো যস্যা দুর্গায়াঃ সা কাত্যায়নী।
অর্থাৎ -- কৃত্তি বা পশুচর্ম যিনি ধারণ করেন তিনি কাত্য অর্থাৎ রুদ্র। কাত্য যার অয়ন অর্থাৎ অধিষ্ঠান বা উৎপাদক সেই দুর্গা হচ্ছেন কাত্যায়নী।
বিদ্মহে জানীমহি লভেমহি বা।
অর্থাৎ -- জানতে বা লাভ করতে পারি ।
কুৎসিতং অনিষ্টং মারয়তি নিবারয়তি ইতি কুমারী।
অর্থাৎ -- কুৎসিত বা অনিষ্টকে যিনি বিনষ্ট করেন, তিনি কুমারী।
কন্যা চ অসৌ কুমারী চ ইতি কন্যকুমারী।
অর্থাৎ -- যিনি কন্যা এবং কুমারী তিনিই কন্যকুমারী।
দুর্গিঃ দুর্গা।
দুর্গি অর্থাৎ দুর্গা।
ধীমহি ধ্যায়েম।
অর্থাৎ -- ধীমহি অর্থাৎ আমরা ধ্যান করি।
তন্নো তৎ তত্র ধ্যানে নো অস্মান্।
অর্থাৎ -- তাঁর ধ্যানে আমাদেরকে।
প্রচোদয়াৎ প্রচোদয়তু প্রেরয়তু।
অর্থাৎ প্রেরিত করুন।
সম্পূর্ণ মন্ত্রার্থ: আমরা সেই কাত্যায়নী দুর্গাদেবীকে জানতে বা লাভ করার উদ্দেশ্যে কন্যাকুমারীকে ধ্যান করি । দেবী দুর্গা তাঁর ধ্যানে আমাদেরকে প্রেরিত করুন।
কঠোপনিষদের বিখ্যাত মন্ত্রের ভাব এখানেও ধ্বনিত হচ্ছে।
যম্ এব এষ বৃণুতে তেন লভ্যঃ।
তস্যৈষ আত্মা বিবৃণুতে তনূং স্বাম্। (১/২/২৩/
অর্থাৎ -- যাঁর প্রতি ইনি অনুগ্রহ করেন, তিনি তাঁকে লাভ করেন। তাঁরই সকাশে এই আত্মা স্বীয় রূপ প্রকটিত করেন।
তাহলে কি আমরা সাধন ভজন করবো না? নিশ্চয়ই করতে হবে। যন্ সাধন তন্ সিদ্ধি। সাধন যেন পাখির ডানা ঝাপটানো। এক পক্ষী দম্পতির একটি ডিম সমুদ্রে পড়ে গেল। উভয়ে প্রতিজ্ঞা করলো সমুদ্রের সমস্ত জল সেচে ডিমটি উদ্ধার করবে। দুজনের ছোট চারটি ডানায় করে তারা বিন্দু বিন্দু জল সমুদ্রের তীরে এনে ফেলতে লাগল। এভাবে উদয়াস্ত করে কয়েকদিন তারা জল সেচ করলো। তাদের এ আন্তরিক কঠোর অধ্যবসায় দেখে সমুদ্র দেবতার মনে দয়া হলো।
তখন সমুদ্র এক ঢেউয়ের সাথে ডিমটি তীরে তুলে দিলো। সাধকও যখন সাধন করতে করতে ভগবৎচরণে শরণাগত হয়, তখন কৃপাময় দয়াময় তাঁর অহেতুকী কৃপায় স্বীয় আত্মস্বরূপে প্রকাশিত হয়ে সমস্ত সংশয় সন্দেহ ভঞ্জন করে ভক্তহৃদয় আলোকিত করেন। তাই মহর্ষি নারদ তাঁর ভক্তিসূত্রে (৮২ নং) বলেছেন: সর্বদা সর্বভাবেন নিশ্চিন্তিতৈঃ ভগবান্ এব ভজনীয়ঃ । অর্থাৎ সব সময় সর্বতোভাবে অন্য সব ভাবনা বাদ দিয়ে একমাত্র ভগবানকেই ভজনা করা ভক্তের কর্তব্য।
শ্রীমা সারদাদেবী বলেছেন: 'জপতপের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলো শান্ত হয়। কিন্তু প্রেমভক্তি না হলে ভগবানকে পাওয়া যায় না। ' আবার বলেছেন: জপাৎ সিদ্ধিঃ, জপাৎ সিদ্ধিঃ।
এজন্য গুরুপদিষ্ট জপ ধ্যান, শাস্ত্র অধ্যয়ন, প্রার্থনা-পূজা, সাধুসঙ্গ, মাঝে মাঝে নির্জন বাস এসব নিত্য নিয়মিতভাবে করা উচিৎ।
লেখক © স্বামী হরপদানন্দ মহারাজ
৩০ মে, ২০২৬
রামকৃষ্ণ মিশন, কুমিল্লা।