14/08/2026
মিলাদুন্নবী (ﷺ)-কে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি: ১২ জন ইমামের উক্তি
আমার গবেষণা অনুযায়ী, মিলাদুন্নবী (ﷺ)-কে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ১২ জন ইমাম। (একজন আলেম বলেছেন ১০০-এর বেশি ইমাম এরূপ মন্তব্য করেছেন, তবে আমি এতদূর যাইনি।) উক্ত ১২ জনের কথাই নিচে উল্লেখ করছি।
১. ইমাম ইবনে ‘উব্বাদ (রহ.) – কিতাব: الرَّسَائِلُ الْكُبْرَى – তিনি বলেন:
أَمَّا الْمَوْلِدُ: فَالَّذِي يَظْهَرُ لِي أَنَّهُ مِنْ أَعْيَادِ الْمُسْلِمِينَ.
অনুবাদ: "মিলাদ সম্পর্কে আমার কাছে স্পষ্ট যে, এটি মুসলমানদের ঈদসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"
২. ইমাম শামসুদ্দীন আল-হাত্তাব (রহ.) – কিতাব: مَوَاهِبُ الْجَلِيلِ (পৃষ্ঠা ৪০৭) – (উক্তিটি এখানে উল্লেখিত নয়; তবে তিনি মিলাদকে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে উদ্ধৃত।)
৩. ইমাম তাক্বীউদ্দীন মাক্কী আল-হুসায়নী (রহ.) – কিতাব: شِفَاعُ الْغَرَامِ بِأَخْبَارِ بَلَدِ الْحَرَامِ (৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৩) – তিনি বলেন:
خَرَجَ الشَّرِيفُ إِدْرِيسُ لَيْلَةَ عِيدِ الْمَوْلِدِ.
অনুবাদ: "শরীফ ইদ্রিস মিলাদুন্নবীর ঈদের রাতে বের হন।"
৪. ইমাম হাফিজ আল-হুজ্জা আবূ ‘আবদিল্লাহ আল-ক্বাওরী (রহ.) – কিতাব: شَرْحُ مُقَدِّمَةِ (পৃষ্ঠা ২৪১) – (উক্তিটি উল্লেখিত নয়।)
৫. ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আন-নাহরাওয়ালী (রহ.) – কিতাব: إِعْلَامُ بِأَعْلَامِ بَيْتِ اللهِ الْحَرَامِ (পৃষ্ঠা ১৯৬) – তিনি বলেন:
وَكَيْفَ لَا يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ بِلَيْلَةٍ ظَهَرَ فِيهَا أَشْرَفُ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَيْفَ لَا يَجْعَلُونَهُ عِيدًا مِنْ أَكْبَرِ أَعْيَادِهِمْ؟
অনুবাদ: "মু’মিনরা কীভাবে সেই রাতে আনন্দ করবে না, যাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল (ﷺ)-এর আবির্ভাব ঘটেছে? আর তারা কীভাবে এটিকে তাদের বৃহত্তম ঈদগুলোর একটি হিসেবে গ্রহণ করবে না?"
৬. ইমাম ‘আব্দুল মালিক আল-হুসাইন আল-আ’সাবী (রহ.) – কিতাব: سَمْطُ النُّجُومِ الْأَوَائِلِ – তিনি বলেন:
سَارُوا إِلَى مِصْرَ فَدُخُولُهَا لَيْلَةَ عِيدِ الْمَوْلِدِ.
অনুবাদ: "তারা মিশরের দিকে যাত্রা করল এবং সেখানে প্রবেশ করল মিলাদুন্নবীর ঈদের রাতে।"
৭. ইমাম সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইবনে জা‘ফর আল-ক্বাত্তানী আল-ইয়ামানী (রহ.) – কিতাব: بِالْإِسْعَادِ بِمَوْلِدِ خَيْرِ الْعِبَادِ (পৃষ্ঠা ১৬) – তিনি বলেন:
ثُمَّ لَيْلَتُنَا الْمَوْلِدُ الشَّرِيفُ الْمُكَرَّمُ وَالْمِعْرَاجُ النَّبَوِيُّ الْمُعَظَّمُ: يَظْهَرُ أَنَّهَا خَيْرُ لَيَالِي الدُّنْيَا بِلَا تَرَدُّدٍ وَلَا امْتِرَاءٍ لِمَا ظَهَرَ وَوُجِدَ فِيهِمَا مِمَّا لَمْ يَكُنْ ظُهُورُهُ وَلَا وُجُودُهُ فِي غَيْرِهِمَا، وَمَاذَا الْيَوْمُ الَّذِي يَسْفِرَانِ عَنْهُ أَفْضَلُ الْأَيَّامِ كَمَا يَنْبَغِي الْجَزْمُ بِهِ فِي هَذَا الْمَقَامِ. وَإِذَا كَانَ هَكَذَا فِيهِمَا، فَهُمَا جَدِيرَانِ بِاتِّخَاذِ أَمْثَالِهِمَا مِنْ بَعْدِهِمَا عِيدًا مِنَ الْأَعْيَادِ.
অনুবাদ: "অতঃপর আমাদের এই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ মিলাদের রাত এবং মহিমান্বিত নববী মি‘রাজের রাত—এতে কোনো সন্দেহ ও দ্বিধা ছাড়াই স্পষ্ট যে, এরা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ রাত; কেননা এ দু’রাতে এমন বিষয় প্রকাশ পেয়েছে ও বিদ্যমান যা অন্য কোনো রাতে প্রকাশ পায়নি বা ছিল না। আর যে দিন এ দু’রাত প্রকাশ করে, তা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দিন—যেমন এই স্থানে নিশ্চিতভাবে বলা উচিত। আর যখন এ দু’রাতের অবস্থা এরূপ, তখন এগুলোর মতো দিন/রাতকে (অর্থাৎ মিলাদ ও মি‘রাজকে) ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা কর্তব্য।"
৮. ইমাম মুহাম্মদ খিজির আশ-শালক্বিতী (রহ.) – কিতাব: كَوْثَرُ الْمَعَانِي الدَّرَارِي (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭২) – তিনি বলেন:
مَا زَالَ الْمُسْلِمُونَ يُعَظِّمُونَ الْمَوْلِدَ الشَّرِيفَ جَاعِلِينَ لَهُ عِيدًا أَعْظَمَ مِنْ كُلِّ عِيدٍ.
অনুবাদ: "মুসলমানরা সর্বদা মিলাদুন্নবীকে মহিমান্বিত করে আসছে, একে সকল ঈদের চেয়ে বড় ঈদ হিসেবে গণ্য করে।"
৯. متن أبي شجاع – এতে বলা হয়েছে:
بَلْ هُوَ أَعْظَمُ مِنْ كُلِّ عِيدٍ.
অনুবাদ: "বরং এটি (মিলাদ) সকল ঈদের চেয়েও উত্তম ঈদ।"
১০. ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বলী (রহ.) – কিতাব: لَطَائِفُ الْمَعَارِفِ (পৃষ্ঠা ২৭৮) – তিনি বলেন:
كُلُّ يَوْمٍ كَانَ لِلْمُسْلِمِينَ عِيدًا فِي الدُّنْيَا.
অনুবাদ: "প্রত্যেক দিন যে দিনটি মুসলমানদের জন্য দুনিয়ায় ঈদরূপে গণ্য হয়।" (প্রসঙ্গক্রমে মিলাদকেও ঈদ বলা হয়েছে।)
১১. শায়খ ‘আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) – কিতাব: مَا ثَبَتَ مِنَ السُّنَّةِ فِي أَيَّامِ السَّنَةِ (পৃষ্ঠা ১০৭) – তিনি বলেন:
فَرَحِمَ اللهُ امْرَأً اتَّخَذَ لَيَالِي شَهْرِ مَوْلِدِهِ الْمُبَارَكِ أَعْيَادًا.
অনুবাদ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর বিশেষভাবে রহম করুন, যে তাঁর (ﷺ)-এর বরকতময় জন্মমাসের রাতগুলোকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করে।"
১২. ইমাম শিহাবুদ্দীন আল-ক্বাসতাল্লানী (রহ.) – কিতাব: الْمَوَاهِبُ اللَّدُنِيَّةُ (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৭) – তিনি ‘আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীর উক্তিটি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন:
فَرَحِمَ اللهُ امْرَأً اتَّخَذَ لَيَالِي شَهْرِ مَوْلِدِهِ الْمُبَارَكِ أَعْيَادًا.
অনুবাদ: (উপরোক্ত মতো) "আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে তাঁর জন্মমাসের রাতগুলোকে ঈদরূপে গ্রহণ করে।"
মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত লায়লাতুল কদরের চেয়ে উত্তম – উলামাদের বক্তব্য
১. ইমাম ক্বাসতাল্লানী (রহ.) – আল-মাওয়াহিবু ল্লাদুনিয়্যাহ (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৫) – তিনি তিনটি কারণে মিলাদের রাতকে লায়লাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলেছেন:
(১)
إِنَّ لَيْلَةَ الْمَوْلِدِ لَيْلَةُ ظُهُورِهِ ﷺ، وَلَيْلَةَ الْقَدْرِ مُعْطَاةٌ لَهُ، وَمَا شُرِّفَ بِظُهُورِ ذَاتِ الْمُشَرَّفِ مِنْ أَجْلِهِ أَشْرَفُ مِمَّا شُرِّفَ بِسَبَبِ مَا أُعْطِيَهُ، فَكَانَتْ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلَ.
অনুবাদ: "মিলাদের রাত হলো তাঁর (ﷺ)-এর আবির্ভাবের রাত, আর লায়লাতুল কদর তাঁকে প্রদত্ত উপহার। যে বস্তু তাঁর সম্মানিত সত্তার আবির্ভাবে সম্মানিত হয়েছে, তা তাঁকে প্রদত্ত বস্তুর কারণে সম্মানিত হওয়া অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ—অতএব মিলাদের রাত উত্তম।"
(২)
إِنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ شُرِّفَتْ بِنُزُولِ الْمَلَائِكَةِ فِيهَا، وَلَيْلَةَ الْمَوْلِدِ شُرِّفَتْ بِظُهُورِهِ ﷺ فِيهَا، وَمَنْ شُرِّفَتْ بِهِ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلُ مِمَّنْ شُرِّفَتْ بِهِمْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، فَتَكُونُ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلَ.
অনুবাদ: "লায়লাতুল কদর সম্মানিত ফেরেশতাদের অবতরণের কারণে, আর মিলাদের রাত সম্মানিত তাঁর (ﷺ)-এর আবির্ভাবের কারণে। যে সত্তার কারণে মিলাদের রাত সম্মানিত, তিনি সে ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ—অতএব মিলাদের রাত উত্তম।"
(৩)
إِنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَقَعَ التَّفَضُّلُ فِيهَا عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ، وَلَيْلَةَ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ وَقَعَ التَّفَضُّلُ فِيهَا عَلَى سَائِرِ الْمَوْجُودَاتِ، فَهُوَ الَّذِي بَعَثَهُ اللهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، فَعَمَّتْ بِهِ النِّعْمَةُ عَلَى جَمِيعِ الْخَلَائِقِ، فَكَانَتْ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَعَمَّ نَفْعًا، فَكَانَتْ أَفْضَلَ.
অনুবাদ: "লায়লাতুল কদরের অনুগ্রহ শুধু মুহাম্মদ (ﷺ)-এর উম্মতের ওপর, আর মিলাদের রাতের অনুগ্রহ সমস্ত সৃষ্টির ওপর। কেননা তিনিই (ﷺ) যাকে আল্লাহ সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, ফলে তাঁর মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টি নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাই মিলাদের রাত অধিক উপকারী এবং উত্তম।"
২. শায়খ ‘আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) – مَا ثَبَتَ مِنَ السُّنَّةِ (পৃষ্ঠা ৭৭-৭৮) –
إِذَا قُلْنَا إِنَّهُ وُلِدَ لَيْلًا، فَتِلْكَ اللَّيْلَةُ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ بِلَا شُبْهَةٍ، لِأَنَّ لَيْلَةَ الْمَوْلِدِ لَيْلَةُ ظُهُورِهِ ﷺ، وَلَيْلَةَ الْقَدْرِ مُعْطَاةٌ لَهُ.
অনুবাদ: "যদি আমরা বলি যে তিনি (ﷺ) রাতে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাহলে সেই রাতটি লায়লাতুল কদরের চেয়ে নিঃসন্দেহে উত্তম। কেননা মিলাদের রাত তাঁর (ﷺ)-এর আবির্ভাবের রাত, আর লায়লাতুল কদর তাঁকে দান করা হয়েছে।"
৩. ইমাম ইবনে ‘আবিদীন শামী (রহ.) – রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী) – কিতাবুল হজ্জ, ২/৫১১ – তিনি কিছু শাফেঈ আলেমের মত উল্লেখ করে বলেন:
أَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ ﷺ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ، ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ.
অনুবাদ: "নিশ্চয় সর্বোত্তম রাত হলো মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত, তারপর লায়লাতুল কদর, তারপর শবে মি‘রাজ, তারপর আরাফার রাত, তারপর জুম‘আর রাত, তারপর শবে বরাত এবং তারপর দুই ঈদের রাত।"
৪. ইমাম আশ-শিরওয়ানী (রহ.) – হাশিয়াতুশ শিরওয়ানী ‘আলা তুহফাতিল মুহতাজ – ২/৪০৫ – তিনি বলেন:
وَأَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ، هَذَا بِالنِّسْبَةِ لَنَا، وَأَمَّا بِالنِّسْبَةِ لَهُ ﷺ فَلَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ أَفْضَلُ اللَّيَالِي؛ لِأَنَّهُ رَأَى فِيهَا رَبَّهُ بِعَيْنَيْ رَأْسِهِ عَلَى الصَّحِيحِ.
অনুবাদ: "আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হলো মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত, তারপর লায়লাতুল কদর, তারপর জুম‘আর রাত, তারপর মি‘রাজের রাত। আর তাঁর (ﷺ)-এর দৃষ্টিকোণ থেকে মি‘রাজের রাতই সর্বশ্রেষ্ঠ, কারণ সঠিক মতে তিনি সে রাতে তাঁর রবকে স্বচক্ষে দর্শন করেছিলেন।"
৫. তাফসীরে রূহুল মা‘আনী – ২০/১৯৪ (উদ্ধৃত) – কিছু হানাফী ও শাফেঈ আলেমের বক্তব্য উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়েছে:
أَفْضَلُ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ ﷺ ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ.
অনুবাদ: (উপরোক্ত অনুরূপ) "সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হলো নবী (ﷺ)-এর জন্মরাত্রি, তারপর কদরের রাত, তারপর মি‘রাজের রাত, তারপর আরাফার রাত, তারপর জুম‘আর রাত, তারপর শবে বরাত, তারপর ঈদের রাত।"
৬. আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাবী আল-মালিকী (রহ.) – হাশিয়াতুস সাবী ‘আলা তাফসীরিল জালালাইন (সূরা জুম‘আ, ৯ম আয়াতের ব্যাখ্যা) – তিনি বলেন:
أَفْضَلُ اللَّيَالِي: لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ، فَالْجُمُعَةِ، فَنِصْفِ شَعْبَانَ، فَالْعِيدِ.
অনুবাদ: "রাতগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ: ১. মিলাদুন্নবীর রাত, ২. লায়লাতুল কদর, ৩. মি‘রাজের রাত, ৪. জুম‘আর রাত, ৫. শবে বরাত, ৬. ঈদের রাত।"
ও তিনি আরও বলেন:
وَأَفْضَلُ الْأَيَّامِ يَوْمُ عَرَفَةَ، ثُمَّ يَوْمُ نِصْفِ شَعْبَانَ، ثُمَّ الْجُمُعَةُ، وَاللَّيْلُ أَفْضَلُ مِنَ النَّهَارِ.
অনুবাদ: "আর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ: ১. আরাফার দিন, ২. মধ্য শা‘বানের দিন, ৩. জুম‘আর দিন। আর রাত দিনের চেয়ে উত্তম।"
৭. ইমাম আল-‘আসামী (রহ.) – سِمْطُ النُّجُومِ الْعَوَالِي – তিনিও তিনটি কারণে মিলাদের রাতকে লায়লাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করেছেন (উপরোক্ত ক্বাসতাল্লানীর মতই):
لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ ﷺ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ مِنْ وُجُوهٍ ثَلَاثَةٍ: (১) ... (২) ... (৩) ...
(অনুবাদ উপরে প্রদত্ত)
শেষ বক্তব্য: ইমাম ক্বাসতাল্লানী, ইমাম ইবনে ‘আবিদীন, ইমাম আশ-শিরওয়ানী, আল্লামা সাবী, ইমাম ‘আসামী প্রমুখ বিশিষ্ট আলেমদের মতে, মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত লায়লাতুল কদরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ও অধিক ফজিলতপূর্ণ। তাঁরা একে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এর গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর হাবীবের প্রতি ভালোবাসা ও অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।