ঘিলাতলা দরবার শরীফ - Ghilatola Darbar Sharif

ঘিলাতলা দরবার শরীফ - Ghilatola Darbar Sharif Ghilatola Darbar Sharif is one of the well known centers of Sufism in Bangladesh where thousands of people have been getting the spiritual path of Islam

 #বঙ্গভবন প্রাঙ্গণের গোপন ইতিহাস : হযরত শাহজালাল দাখিনী (র.)-এর মাজার​রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বঙ্গভবন কেবল রাষ্ট্...
23/08/2026

#বঙ্গভবন প্রাঙ্গণের গোপন ইতিহাস : হযরত শাহজালাল দাখিনী (র.)-এর মাজার

​রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বঙ্গভবন কেবল রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনই নয়, এর সবুজ প্রাঙ্গণে ঘুমিয়ে আছে সুলতানি আমলের এক ট্র্যাজিক ও ঐতিহাসিক অধ্যায়।

বঙ্গভবনের ভেতরেই রয়েছে বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল দাখিনী (র.) এবং তাঁর সঙ্গীদের মাজার।

​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান বারবাক শাহের শাসনামলে হযরত শাহজালাল দাখিনী (র.) দাক্ষিণাত্য (দক্ষিণ ভারত) থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আগমন করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব ও সাধারণ মানুষের মাঝে দ্রুত জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে সুলতানের দরবারে এক ধরণের রাজনৈতিক শঙ্কা তৈরি হয়।

রাজকীয় ষড়যন্ত্র ও ভুল বোঝাবুঝির জেরে সুলতানের বাহিনী হযরত শাহজালাল দাখিনী (র.) এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর আক্রমণ চালায়। তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে এই প্রাঙ্গণেই শহীদ হন।

পরবর্তীতে সত্য উন্মোচিত হলে সুলতান অনুশোচনা করেন এবং তাঁদের অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে এই স্থানেই সমাহিত করার নির্দেশ দেন।

​আজও বঙ্গভবনের সংরক্ষিত প্রাঙ্গণে এই ঐতিহাসিক মাজারটি ঢাকার প্রাচীন সুফি ঐতিহ্য ও সুলতানি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে।


কপি পোস্ট

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এর বিরোধিতা করতে গিয়ে বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে সিরাতুন্নবী (দ.)  এখানে উদ্দেশ্য খারাপ ছ...
21/08/2026

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এর বিরোধিতা করতে গিয়ে বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে সিরাতুন্নবী (দ.)
এখানে উদ্দেশ্য খারাপ ছিল,তাই এটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।
আর অন্য দিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এর ব্যাপকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে,বিশ্ব ব্যাপী মুসলিম দেশ সমূহে সরকারী ছুটিসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজন হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ,এটাই আল্লাহ পাকের পরিকল্পনা।
একটা জিনিস মনে রাখবেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এর ভিতরে সিরাতুন্নবী (দ.) বিদ্যমান, কিন্তু সিরাতুন্নবী (দ.) এর ভিতরে মিলাদুন্নবী (দ.) নেই।

সকল ঈদের সেরা ঈদ, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

১৯৫০ সালে ঢাকার একটি ইংরেজি স্কুলে পবিত্র  #মিলাদুন্নবির অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন  #দেউবন্দিদের বিখ্যাত আলিম- মাওলান...
19/08/2026

১৯৫০ সালে ঢাকার একটি ইংরেজি স্কুলে পবিত্র #মিলাদুন্নবির অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন #দেউবন্দিদের বিখ্যাত আলিম- মাওলানা #জাফর_আহমদ উসমানি
---------------------------------

#সম্প্রতি ইন্টারনেটে পাওয়া ১৯৫০ সালের একটি পুরোনো আমন্ত্রণপত্রে এমনই একটি তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ঢাকার West End H.E. School এ। সময়টা ছিল, ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ,
শুক্রবার বিকেল ৩টা।

সবচেয়ে interesting বিষয় হলো, এটি কোনো মাদরাসা বা মসজিদের অনুষ্ঠান ছিল না।

এটি ছিল একটি স্কুলের বার্ষিক মিলাদ শরিফের আয়োজন।
আমন্ত্রণপত্রে অনুষ্ঠানের যে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে, সেখানে প্রথমেই ছিল পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত।

এরপর শিক্ষার্থীদের লেখা দুটি প্রবন্ধ পাঠ করার কথা ছিল—
“Life and Teaching of Hazrat Mohamed the Prophet”

“Early Life of Hazrat Mohamed the Prophet.”

অর্থাৎ, স্কুলের শিক্ষার্থীরাই মহানবি হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর জীবন ও শিক্ষা নিয়ে লেখা প্রবন্ধ অনুষ্ঠানে পাঠ করতেন।

এরপর ছিল উপস্থিত অতিথিদের বক্তব্য, সভাপতির বক্তব্য, ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং সবশেষে Light Refreshment।

#আরও interesting বিষয় হলো,
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তৎকালীন দেউবন্দি বিশিষ্ট আলিম মাওলানা জাফর আহমদ উসমানিকে। আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ আছে, তিনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি পুরস্কারও বিতরণ করবেন।

আর এই পুরো আয়োজনের প্রচ্ছদে লেখা ছিল, “PAKISTAN ZINDABAD” সঙ্গে ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের পতাকা।

মনে রাখতে হবে, তখনো বাংলাদেশের নাম পূর্ব পাকিস্তান হয়নি। ১৯৫০ সালে এই ভূখণ্ড ছিল পাকিস্তানের East Bengal প্রদেশের অংশ।

তাই মাত্র তিন বছর আগে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরের সময়ের এই একটি ছোট্ট আমন্ত্রণপত্র আমাদের সেই সময়ের ঢাকার সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশের একটি interesting ছবি দেখায়।

অর্থাৎ, মিলাদ শরিফের আয়োজন শুধু মসজিদ, মাদরাসা বা খানকাকেন্দ্রিক ছিল না।

তৎকালীন ঢাকার স্কুলেও মহানবী ﷺ এর জীবন ও শিক্ষা নিয়ে এমন আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হতো।

ভাবুন তো,
৭৬ বছর আগে ঢাকার একটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা মহানবী ﷺ-এর জীবন নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করছে,

আলেম সভাপতিত্ব করছেন, পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, আর সেই অনুষ্ঠানের একটি ছাপা আমন্ত্রণপত্র আজও আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।

একটি মাত্র আমন্ত্রণপত্র।

কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে আছে ১৯৫০ এর ঢাকার শিক্ষা, ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক-সামাজিক পরিচয়ের এক বিরল চিত্র।

Annual Milad-Sharif
West End H.E. School, Dacca
1950
---
কপি
সাদমান সজিব

أَقْوَالُ الْعُلَمَاءِ فِي مَشْرُوعِيَّةِ الِاحْتِفَالِ بِالْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ(পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদয...
18/08/2026

أَقْوَالُ الْعُلَمَاءِ فِي مَشْرُوعِيَّةِ الِاحْتِفَالِ بِالْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ
(পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের শরয়ী বৈধতা প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরামের বাণীসমূহ)
১. আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ
> «... فَتَعْظِيمُ الْمَوْلِدِ وَاتِّخَاذُهُ مَوْسِمًا قَدْ يَفْعَلُهُ بَعْضُ النَّاسِ وَيَكُونُ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ عَظِيمٌ لِحُسْنِ قَصْدِهِ وَتَعْظِيمِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “...অতএব, মিলাদকে সম্মান প্রদর্শন করা এবং একে একটি মৌসুম হিসেবে গ্রহণ করা—যা কিছু মানুষ করে থাকে—এতে তার উত্তম নিয়ত এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কারণে সে বিরাট সওয়াব লাভ করবে।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪); ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম
>
২. ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামী (রহ.)
> «وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْبِدْعَةَ الْحَسَنَةَ مُتَّفَقٌ عَلَى نَدْبِهَا، وَعَمَلُ الْمَوْلِدِ وَاجْتِمَاعُ النَّاسِ لَهُ كَذَلِكَ؛ أَيْ: بِدْعَةٌ حَسَنَةٌ»
> “সারকথা হলো, বিদ‘আতে হাসানা (উত্তম নতুন রীতি) মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। আর মিলাদের আমল এবং এর জন্য মানুষের একত্রিত হওয়াও তদ্রূপ; অর্থাৎ এটিও একটি বিদ‘আতে হাসানা।”
>
৩. ইমাম আবু শামা (ইমাম নববীর উস্তাদ) (রহ.)
> «وَمِنْ أَحْسَنِ مَا ابْتُدِعَ فِي زَمَانِنَا مَا يُفْعَلُ كُلَّ عَامٍ فِي الْيَوْمِ الْمُوَافِقِ لِيَوْمِ مَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ مِنَ الصَّدَقَاتِ وَالْمَعْرُوفِ وَإِظْهَارِ الزِّينَةِ وَالسُّرُورِ، فَإِنَّ ذَلِكَ مَعَ مَا فِيهِ مِنَ الْإِحْسَانِ لِلْفُقَرَاءِ مُشْعِرٌ بِمَحَبَّتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَتَعْظِيمِهِ فِي قَلْبِ فَاعِلِ ذَلِكَ، وَشُكْرًا لِلَّهِ عَلَى مَا مَنَّ بِهِ مِنْ إِيجَادِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ الَّذِي أَرْسَلَهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ»
> “আমাদের যুগে উদ্ভাবিত সর্বউত্তম কাজের অন্যতম হলো—প্রতি বছর নবী (সা.)-এর জন্ম দিবসের সাথে মিলিয়ে সদকা করা, নেক আমল সম্পাদন এবং সৌন্দর্য ও আনন্দ প্রকাশ করা। কেননা দরিদ্রদের প্রতি উপকারের পাশাপাশি তা আমলকারীর অন্তরে নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং আল্লাহ তাআলা যে তাঁর রাসূলকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ অস্তিত্ব দান করেছেন, সেই নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশ করে।”
>
৪. ইমাম আস-সাখাভী (রহ.)
> «لَمْ يَفْعَلْهُ أَحَدٌ مِنَ السَّلَفِ فِي الْقُرُونِ الثَّلَاثَةِ وَإِنَّمَا حَدَثَ بَعْدُ، ثُمَّ لَا زَالَ أَهْلُ الْإِسْلَامِ مِنْ سَائِرِ الْأَقْطَارِ وَالْمُدُنِ يَعْمَلُونَ الْمَوْلِدَ وَيَتَصَدَّقُونَ فِي لَيَالِيهِ بِأَنْوَاعِ الصَّدَقَاتِ وَيَعْتَنُونَ بِقِرَاءَةِ مَوْلِدِهِ الْكَرِيمِ وَيَظْهَرُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَرَكَاتِهِ كُلُّ فَضْلٍ عَمِيمٍ»
> “প্রথম তিন শতাব্দীর সালাফদের কেউ এটি করেননি, বরং পরবর্তীতে এর প্রচলন ঘটেছে। অতঃপর সকল অঞ্চল ও শহরের মুসলিমগণ মিলাদ উদযাপন করে আসছেন, এর রাতগুলোতে নানা প্রকার সদকা দিয়ে থাকেন, নবীজির সম্মানিত বেলাদতের বিবরণ পাঠে যত্নবান হন এবং এর মাধ্যমে তাঁদের ওপর ব্যাপক বরকত ও অনুগ্রহ প্রকাশ পায়।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪)
৫. ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.)
> «مِنْ خَوَاصِّهِ أَنَّهُ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ بِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ»
> “মিলাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সেই বছরের জন্য একটি নিরাপত্তার মাধ্যম এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের তাৎক্ষণিক সুসংবাদ।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪)
৬. ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.)
> «هُوَ مِنَ الْبِدَعِ الْحَسَنَةِ الَّتِي يُثَابُ عَلَيْهَا صَاحِبُهَا لِمَا فِيهِ مِنْ تَعْظِيمِ قَدْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَإِظْهَارِ الْفَرَحِ وَالِاسْتِبْشَارِ بِمَوْلِدِهِ الشَّرِيفِ»
> “এটি এমন উত্তম নতুন রীতির (বিদ‘আতে হাসানা) অন্তর্ভুক্ত যার ওপর আমলকারী সওয়াব লাভ করবে; কারণ এতে নবী (সা.)-এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর শুভ জন্ম উপলক্ষে আনন্দ ও সুসংবাদ প্রকাশ বিদ্যমান রয়েছে।”
> — আল-হাবী লিল ফাতাওয়া (১/২৯২)
> «يُسْتَحَبُّ لَنَا إِظْهَارُ الشُّكْرِ بِمَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَالِاجْتِمَاعُ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ وَنَحْوُ ذَلِكَ مِنْ وُجُوهِ الْقُرُبَاتِ وَإِظْهَارِ الْمَسَرَّاتِ»
> “আমাদের জন্য নবী (সা.)-এর শুভ জন্ম উপলক্ষে শুকরিয়া প্রকাশ করা, একত্রিত হওয়া, খানা খাওয়ানো এবং আনন্দ প্রকাশের মতো বিভিন্ন নৈকট্যপূর্ণ ভালো কাজ করা মুস্তাহাব।”
> — আল-হাবী লিল ফাতাওয়া (১/১৯৬)
> «مَا مِنْ بَيْتٍ أَوْ مَحَلٍّ أَوْ مَسْجِدٍ قُرِئَ فِيهِ مَوْلِدُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَفَّتِ الْمَلَائِكَةُ أَهْلَ ذَلِكَ الْمَكَانِ وَعَمَّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ»
> “যে ঘর, স্থান বা মসজিদে নবী (সা.)-এর মিলাদ পাঠ করা হয়, ফেরেশতারা সেই স্থানের অধিবাসীদের বেষ্টন করে নেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করে দেন।”
> — আল-ওয়াসাইল ফী শারহিল মাসাইল
৭ ও ৮. ইমাম ইবনুল হাজ্জ আল-মালিকী (রহ.)
> «فَكَانَ يَجِبُ أَنْ نَزْدَادَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِيَ عَشَرَ فِي رَبِيعٍ الْأَوَّلِ مِنَ الْعِبَادَاتِ وَالْخَيْرِ شُكْرًا لِلْمَوْلَى عَلَى مَا أَوْلَانَا مِنْ هَذِهِ النِّعَمِ الْعَظِيمَةِ وَأَعْظَمُهَا مِيلَادُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “আমাদের ওপর আল্লাহর দেওয়া এই মহান নিয়ামতসমূহের—যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মুস্তফা (সা.)-এর বেলাদত—শুকরিয়া হিসেবে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবারে আমাদের ইবাদত ও নেক কাজ আরও বৃদ্ধি করা উচিত ছিল।”
> — আল-মাদখাল (১/৩৬১)
> «وَمِنْ تَعْظِيمِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ الْفَرَحُ بِلَيْلَةِ وِلَادَتِهِ وَقِرَاءَةُ الْمَوْلِدِ»
> “আর নবী (সা.)-কে সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম একটি দিক হলো তাঁর জন্মলগ্নের রাতে আনন্দ প্রকাশ করা এবং মিলাদ পাঠ করা।”
> — আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ (পৃ. ১৯০)
৯. হাফেজ আব্দুর রাহীম আল-ইরাকী (রহ.)
> «إِنَّ اتِّخَاذَ الْوَلِيمَةِ وَإِطْعَامَ الطَّعَامِ مُسْتَحَبٌّ فِي كُلِّ وَقْتٍ، فَكَيْفَ إِذَا انْضَمَّ إِلَى ذَلِكَ الْفَرَحُ وَالسُّرُورُ بِظُهُورِ نُورِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الشَّهْرِ الشَّرِيفِ، وَلَا يَلْزَمُ مِنْ كَوْنِهِ بِدْعَةً كَوْنُهُ مَكْرُوهًا؛ فَكَمْ مِنْ بِدْعَةٍ مُسْتَحَبَّةٍ بَلْ قَدْ تَكُونُ وَاجِبَةً»
> “ওয়ালিমা ও খানা খাওয়ানোর আয়োজন করা সর্বদাই মুস্তাহাব; তাহলে এই সম্মানিত মাসে নবী (সা.)-এর নূরের আবির্ভাবের আনন্দ এতে যুক্ত হলে কেমন হতে পারে?! আর কোনো বিষয় নতুন (বিদ‘আত) হলেই তা মাকরূহ হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ কত বিদ‘আতই তো মুস্তাহাব, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তা ওয়াজিবও হতে পারে।”
> — শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ লিজ-যারকানী
>
১০. শায়খুল ইসলাম হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.)
> «أَصْلُ عَمَلِ الْمَوْلِدِ بِدْعَةٌ لَمْ تُنْقَلْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ السَّلَفِ الصَّالِحِ مِنَ الْقُرُونِ الثَّلَاثَةِ، وَلَكِنَّهَا مَعَ ذَلِكَ قَدِ اشْتَمَلَتْ عَلَى مَحَاسِنَ وَضِدِّهَا، فَمَنْ تَحَرَّى فِي عَمَلِهَا الْمَحَاسِنَ وَجَنَّبَ ضِدَّهَا كَانَ بِدْعَةً حَسَنَةً وَإِلَّا فَلَا. وَقَدْ ظَهَرَ لِي تَخْرِيجُهَا عَلَى أَصْلٍ ثَابِتٍ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، فَسَأَلَهُمْ، فَقَالُوا: هُوَ يَوْمٌ أَغْرَقَ اللَّهُ فِيهِ فِرْعَوْنَ وَنَجَّى مُوسَى فَنَحْنُ نَصُومُهُ شُكْرًا لِلَّهِ تَعَالَى؛ فَيُسْتَفَادُ مِنْهُ الشُّكْرُ لِلَّهِ عَلَى مَا مَنَّ بِهِ فِي يَوْمٍ مُعَيَّنٍ مِنْ إِسْدَاءِ نِعْمَةٍ أَوْ دَفْعِ نِقْمَةٍ، وَيُعَادُ ذَلِكَ فِي نَظِيرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ مِنْ كُلِّ سَنَةٍ، وَالشُّكْرُ لِلَّهِ يَحْصُلُ بِأَنْوَاعِ الْعِبَادَةِ كَالسُّجُودِ وَالصِّيَامِ وَالصَّدَقَةِ وَالتِّلَاوَةِ، وَأَيُّ نِعْمَةٍ أَعْظَمُ مِنَ النِّعْمَةِ بِبُرُوزِ هَذَا النَّبِيِّ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ؟ وَعَلَى هَذَا فَيَنْبَغِي أَنْ يُقْتَصَرَ فِيهِ عَلَى مَا يُفْهِمُ الشُّكْرَ لِلَّهِ تَعَالَى مِنَ التِّلَاوَةِ وَالْإِطْعَامِ وَإِنْشَادِ شَيْءٍ مِنَ الْمَدَائِحِ النَّبَوِيَّةِ الْمُحَرِّكَةِ لِلْقُلُوبِ إِلَى فِعْلِ الْخَيْرِ وَالْعَمَلِ لِلْآخِرَةِ، وَأَمَّا مَا يَتْبَعُ ذَلِكَ مِنَ السَّمَاعِ وَاللَّهْوِ وَغَيْرِ ذَلِكَ فَيَنْبَغِي أَنْ يُقَالَ: مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ مُبَاحًا بِحَيْثُ يَقْتَضِي السُّرُورَ بِذَلِكَ الْيَوْمِ لَا بَأْسَ بِإِلْحَاقِهِ بِهِ، وَمَا كَانَ حَرَامًا أَوْ مَكْرُوهًا فَيُمْنَعُ، وَكَذَا مَا كَانَ خِلَافَ الْأَوْلَى»
> “মিলাদের মূল ভিত্তি একটি বিদ‘আত, যা প্রথম তিন শতাব্দীর সালাফে সালেহীনের কারও থেকে বর্ণিত হয়নি। তবে তা সত্ত্বেও এতে যেমন ভালো কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তেমনি এর বিপরীত কিছু বিষয়ও রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে ভালো কাজগুলোর অনুসরণ করবে এবং এর বিপরীত বিষয়গুলো বর্জন করবে, তবে তা বিদ‘আতে হাসানা হবে, অন্যথায় নয়।
> আর এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শরয়ী মূলনীতির ওপর স্থাপন করা আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে; তা হলো সহীহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) প্রমাণিত রয়েছে যে, নবী (সা.) যখন মদিনায় আসলেন, তখন ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল: ‘এটি এমন এক দিন যেদিন আল্লাহ ফেরাউনকে ডুবিয়েছিলেন এবং মূসাকে রক্ষা করেছিলেন; তাই আমরা আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে এই দিন রোজা রাখি।’
> এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে কোনো বিশেষ নিয়ামত দান বা বিপদ দূরীকরণের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যায় এবং প্রতি বছর সেই নির্দিষ্ট দিনে এর পুনরাবৃত্তি করা যায়। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে হয়ে থাকে—যেমন সিজদা, রোজা, সদকা ও তিলাওয়াত। আর এই দিনে রহমতের নবী হিসেবে বিশ্বনবীর আবির্ভাবের চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে?!
> অতএব, এতে যা করা উচিত তা হলো: যেসব কাজে আল্লাহর শুকরিয়া প্রকাশ পায় কেবল সেগুলোর মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রাখা—যেমন তিলাওয়াত, খানা খাওয়ানো এবং নবীজির প্রশংসামূলক এমন কিছু কাব্য আবৃত্তি করা যা হৃদয়কে নেক কাজ ও আখিরাতের আমলের প্রতি আলোড়িত করে। আর এর অনুগামী যেসব গান-বাজনা ও বিনোদন রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে বলা যায়: যা আনন্দ প্রকাশের জন্য মুবাহ (বৈধ) সীমার মধ্যে থাকবে তা যুক্ত করতে অসুবিধা নেই; আর যা হারাম বা মাকরূহ হবে তা নিষিদ্ধ হবে, তেমনি যা অনুত্তম (খেলাফে আওলা) তাও বর্জনীয়।”
> — আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (১/১৯৬)
>
১১. আল্লামা ইবনে আবেদীন আশ-শামী (রহ.)
> «اعْلَمْ أَنَّ مِنَ الْبِدَعِ الْمَحْمُودَةِ عَمَلَ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ مِنَ الشَّهْرِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “জেনে রাখুন, নবী (সা.) যে মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন সে মাসে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা প্রশংসনীয় বিদ‘আতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।”
>
> «فَالِاجْتِمَاعُ لِسَمَاعِ قِصَّةِ صَاحِبِ الْمُعْجِزَاتِ عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَّلَوَاتِ وَأَكْمَلُ التَّحِيَّاتِ مِنْ أَعْظَمِ الْقُرُبَاتِ لِمَا يَشْتَمِلُ عَلَيْهِ مِنَ الْمُعْجِزَاتِ وَكَثْرَةِ الصَّلَوَاتِ»
> “মুজিযার অধিকারীর (নবীজির) জীবনী শোনার জন্য একত্রিত হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈকট্য লাভের মাধ্যম; কারণ এতে মুজিযাসমূহ এবং প্রচুর পরিমাণে দরূদ পাঠের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।”
> — শারহু মাওলিদি ইবনে হাজার
>
১২. শায়খ হাসানাইন মুহাম্মদ মাখলুফ (রহ.)
> «إِنَّ إِحْيَاءَ لَيْلَةِ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ وَلَيَالِي هَذَا الشَّهْرِ الْكَرِيمِ الَّذِي أَشْرَقَ فِيهِ النُّورُ الْمُحَمَّدِيُّ إِنَّمَا يَكُونُ بِذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى وَشُكْرِهِ لِمَا أَنْعَمَ بِهِ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ ظُهُورِ خَيْرِ الْخَلْقِ إِلَى عَالَمِ الْوُجُودِ، وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ إِلَّا فِي أَدَبٍ وَخُشُوعٍ وَبُعْدٍ عَنِ الْمُحَرَّمَاتِ وَالْبِدَعِ وَالْمُنْكَرَاتِ، وَمِنْ مَظَاهِرِ الشُّكْرِ عَلَى حُبِّهِ مُوَاسَاةُ الْمُحْتَاجِينَ بِمَا يُخَفِّفُ ضَائِقَتَهُمْ وَصِلَةُ الْأَرْحَامِ، وَالْإِحْيَاءُ بِهَذِهِ الطَّرِيقَةِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَأْثُورًا فِي عَهْدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَلَا فِي عَهْدِ السَّلَفِ الصَّالِحِ إِلَّا أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ وَسُنَّةٌ حَسَنَةٌ»
> “মিলাদুন্নবীর রাত এবং এই সম্মানিত মাসের রাতগুলো—যে মাসে মুহাম্মদী নূর উদ্ভাসিত হয়েছিল—উদযাপনের মাধ্যম হলো আল্লাহর জিকির এবং সৃষ্টির সেরা মানবের শুভাগমনে এই উম্মত যে নিয়ামত লাভ করেছে তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। আর তা হতে হবে কেবল আদব ও একাগ্রতার সাথে এবং যাবতীয় হারাম, বিদ‘আত ও পাপাচার বর্জনের মাধ্যমে। নবীপ্রেমের শুকরিয়ার অংশ হলো অভাবীদের দুর্দশা লাঘবে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা। এই পন্থায় পালন করা যদিও নবীজি (সা.) ও সালাফে সালেহীনের যুগে প্রচলিত ছিল না, তবুও এতে কোনো দোষ নেই এবং এটি একটি সুন্নাতুল হাসানা (উত্তম রীতি)।”
> — ফাতাওয়া শারইয়্যাহ (১/১৩১)
>
১৩. শায়খ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লী আশ-শাওরাভী (রহ.)
> «وَإِكْرَامًا لِهَذَا الْمَوْلِدِ الْكَرِيمِ فَإِنَّهُ يَحِقُّ لَنَا أَنْ نُظْهِرَ مَعَالِمَ الْفَرَحِ وَالِابْتِهَاجِ بِهَذِهِ الذِّكْرَى الْحَبِيبَةِ لِقُلُوبِنَا كُلَّ عَامٍ، وَذَلِكَ بِالاحْتِفَالِ بِهَا مِنْ وَقْتِهَا...»
> “এই সম্মানিত জন্ম উপলক্ষে আমাদের অন্তরের প্রিয় এই স্মৃতিতে প্রতি বছর যথাসময়ে উদযাপনের মাধ্যমে আনন্দ ও প্রফুল্লতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো আমাদের জন্য সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ...।”
> — আলা মাইদাতিল ফিকরিল ইসলামী (পৃ. ২৯৫)
>
১৪. শায়খ আল-মুবাশশির আত-তিরাযী (রহ.)
> «إِنَّ الِاحْتِفَالَ بِذِكْرَى الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ أَصْبَحَ وَاجِبًا أَسَاسِيًّا لِمُوَاجَهَةِ مَا اسْتَجَدَّ مِنَ الِاحْتِفَالَاتِ الضَّارَّةِ فِي هَذِهِ الْأَيَّامِ»
> “বর্তমান যুগে যেসব ক্ষতিকর উৎসবের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোর মোকাবিলার জন্য পবিত্র মিলাদুন্নবীর স্মৃতি উদযাপন করা একটি মৌলিক ওয়াজিবে পরিণত হয়েছে।”

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবীকে সকল ঈদের সেরা ঈদ বলা হয় কেন? এর জবাব।----------------------------------------------------------...
17/08/2026

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবীকে সকল ঈদের সেরা ঈদ বলা হয় কেন? এর জবাব।
-----------------------------------------------------------------------
ইবনে মাজাহ শরীফ কিতাবের ৭৬পৃষ্ঠায় বর্নিত রয়েছে >> عن ابي لبابة ابن عبد المنذر رضي الله تعالي عنه قال قال النبي صلي الله عليه و سلم ان يوم الجمعة سيد الايام و اعظمها عند الله و هو اعظم عند الله من يوم الاضحي و يوم الفطر فيه خمس حلال خلق الله فيه ادم و اهبط الله فيه ادم الي الارض و فيه توفي الله ادم و فيه ساعة لا يسءل الله فيها العبد شيءا الا اعطاه مالم يسءل حراما و فيه تقوم الساعة

উপরোক্ত হাদীস শরীফে পবিত্র জুমুআর দিনকে ঈদুল আদ্বহা এবং ঈদুল ফিতরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। এর কয়েকটি কারন আছে। এর মধ্যে অন্যতম কারন হচ্ছে- এই দিনে আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনেই উনাকে পৃথিবীতে পাঠান, এবং এই দিনেই উনাকে ওফাত শরীফ দান করেন।
আরেক বর্ননায় জুমুআর দিনকে ঈদের দিন বলা হয়েছে >>
عن ابن عباس رضي الله تعالي عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم ان هذا يوم عيد جعله الله للمسلمين

তাহলে এখন চিন্তা করুন মুসলমান! হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর সৃষ্টি, আগমন এবং ওফাত শরীফের কারনে যদি জুমুআর দিন ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আদ্বহার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয় এবং এটা ঈদের দিন হয়। তাহলে যেই নবীজিকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহপাক কোনো কিছুই সৃষ্টি করতেন না, এমনকি হযরত আদম আলাইহিস সালামকেও সৃষ্টি করতেন না, তাহলে সেই নবীজির আগমনের দিন ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ এটা কি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আদ্বহার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবেনা?
এটা কি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আদ্বহার চেয়ে বড় ঈদ বা বড় খুশীর দিন হবেনা?
অবশ্যই! সকল ঈদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঈদ, মহা পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আরেকটি কথা না বললেই নয় সেটা হচ্ছে, ঈদে মীলাদুন্নবীকে কিন্তু আমরা শাব্দিক অর্থে ঈদ বলি, এটাকে শরয়ী অর্থে ঈদ বলিনা।

আল্লাহ তায়ালা সবাইকে ছহীহ বুঝ দান করুন।

17/08/2026
মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পালনের ফজিলত:-ইমাম শিহাবুদ্দিন কাস্তালানী (رحمة الله) ও হাফিজ ইবনে জাওযী (ر...
16/08/2026

মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পালনের ফজিলত:-
ইমাম শিহাবুদ্দিন কাস্তালানী (رحمة الله) ও হাফিজ ইবনে জাওযী (رحمة الله) বলেছেন:
قال ابن الجوزي: من خواصه أنه أمان في ذلك العام،
-“মিলাদ শরীফের খুছুছিয়াত বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর উছিলায় লোকেরা ওই বৎসর নিরাপদে থাকবেন।”(হালভী: ইনছানুল উয়ুন, ১ম খ-, ১২৪ পৃ:; ইসমাঈল হাক্বী: তাফসিরে রুহুল বয়ান, ৯ম খ-, ৬৪ পৃ:; কাস্তালানী: মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া, ১ম খ-, ১৪৮ পৃ:;)হাফিজুল হাদিস ইমাম আবুল ফারাজ ইবনে জাওযী (رحمة الله) (ওফাত ৫৯৭ হি.) স্বীয় কিতাবে আরো বলেন,
ومن انفق فى مولده درهما كان المصطفى صلى الله عليه وسلم له شافعا ومشفعا
-“যারা রাসূল (ﷺ)’র মিলাদের জন্য এক দিরহাম খরচ করবে মুহাম্মদ মুস্তফা (ﷺ) তার জন্য শাফায়াতকারী হবেন।”(মাওলিদুন নববী শরীফ, ২৭ পৃ:;)

মিলাদুন্নবী (ﷺ)-কে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি: ১২ জন ইমামের উক্তিআমার গবেষণা অনুযায়ী, মিলাদুন্নবী (ﷺ)-কে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে...
14/08/2026

মিলাদুন্নবী (ﷺ)-কে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি: ১২ জন ইমামের উক্তি

আমার গবেষণা অনুযায়ী, মিলাদুন্নবী (ﷺ)-কে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ১২ জন ইমাম। (একজন আলেম বলেছেন ১০০-এর বেশি ইমাম এরূপ মন্তব্য করেছেন, তবে আমি এতদূর যাইনি।) উক্ত ১২ জনের কথাই নিচে উল্লেখ করছি।

১. ইমাম ইবনে ‘উব্বাদ (রহ.) – কিতাব: الرَّسَائِلُ الْكُبْرَى – তিনি বলেন:

أَمَّا الْمَوْلِدُ: فَالَّذِي يَظْهَرُ لِي أَنَّهُ مِنْ أَعْيَادِ الْمُسْلِمِينَ.

অনুবাদ: "মিলাদ সম্পর্কে আমার কাছে স্পষ্ট যে, এটি মুসলমানদের ঈদসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"

২. ইমাম শামসুদ্দীন আল-হাত্তাব (রহ.) – কিতাব: مَوَاهِبُ الْجَلِيلِ (পৃষ্ঠা ৪০৭) – (উক্তিটি এখানে উল্লেখিত নয়; তবে তিনি মিলাদকে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে উদ্ধৃত।)

৩. ইমাম তাক্বীউদ্দীন মাক্কী আল-হুসায়নী (রহ.) – কিতাব: شِفَاعُ الْغَرَامِ بِأَخْبَارِ بَلَدِ الْحَرَامِ (৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৩) – তিনি বলেন:

خَرَجَ الشَّرِيفُ إِدْرِيسُ لَيْلَةَ عِيدِ الْمَوْلِدِ.

অনুবাদ: "শরীফ ইদ্রিস মিলাদুন্নবীর ঈদের রাতে বের হন।"

৪. ইমাম হাফিজ আল-হুজ্জা আবূ ‘আবদিল্লাহ আল-ক্বাওরী (রহ.) – কিতাব: شَرْحُ مُقَدِّمَةِ (পৃষ্ঠা ২৪১) – (উক্তিটি উল্লেখিত নয়।)

৫. ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আন-নাহরাওয়ালী (রহ.) – কিতাব: إِعْلَامُ بِأَعْلَامِ بَيْتِ اللهِ الْحَرَامِ (পৃষ্ঠা ১৯৬) – তিনি বলেন:

وَكَيْفَ لَا يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ بِلَيْلَةٍ ظَهَرَ فِيهَا أَشْرَفُ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَيْفَ لَا يَجْعَلُونَهُ عِيدًا مِنْ أَكْبَرِ أَعْيَادِهِمْ؟

অনুবাদ: "মু’মিনরা কীভাবে সেই রাতে আনন্দ করবে না, যাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল (ﷺ)-এর আবির্ভাব ঘটেছে? আর তারা কীভাবে এটিকে তাদের বৃহত্তম ঈদগুলোর একটি হিসেবে গ্রহণ করবে না?"

৬. ইমাম ‘আব্দুল মালিক আল-হুসাইন আল-আ’সাবী (রহ.) – কিতাব: سَمْطُ النُّجُومِ الْأَوَائِلِ – তিনি বলেন:

سَارُوا إِلَى مِصْرَ فَدُخُولُهَا لَيْلَةَ عِيدِ الْمَوْلِدِ.

অনুবাদ: "তারা মিশরের দিকে যাত্রা করল এবং সেখানে প্রবেশ করল মিলাদুন্নবীর ঈদের রাতে।"

৭. ইমাম সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইবনে জা‘ফর আল-ক্বাত্তানী আল-ইয়ামানী (রহ.) – কিতাব: بِالْإِسْعَادِ بِمَوْلِدِ خَيْرِ الْعِبَادِ (পৃষ্ঠা ১৬) – তিনি বলেন:

ثُمَّ لَيْلَتُنَا الْمَوْلِدُ الشَّرِيفُ الْمُكَرَّمُ وَالْمِعْرَاجُ النَّبَوِيُّ الْمُعَظَّمُ: يَظْهَرُ أَنَّهَا خَيْرُ لَيَالِي الدُّنْيَا بِلَا تَرَدُّدٍ وَلَا امْتِرَاءٍ لِمَا ظَهَرَ وَوُجِدَ فِيهِمَا مِمَّا لَمْ يَكُنْ ظُهُورُهُ وَلَا وُجُودُهُ فِي غَيْرِهِمَا، وَمَاذَا الْيَوْمُ الَّذِي يَسْفِرَانِ عَنْهُ أَفْضَلُ الْأَيَّامِ كَمَا يَنْبَغِي الْجَزْمُ بِهِ فِي هَذَا الْمَقَامِ. وَإِذَا كَانَ هَكَذَا فِيهِمَا، فَهُمَا جَدِيرَانِ بِاتِّخَاذِ أَمْثَالِهِمَا مِنْ بَعْدِهِمَا عِيدًا مِنَ الْأَعْيَادِ.

অনুবাদ: "অতঃপর আমাদের এই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ মিলাদের রাত এবং মহিমান্বিত নববী মি‘রাজের রাত—এতে কোনো সন্দেহ ও দ্বিধা ছাড়াই স্পষ্ট যে, এরা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ রাত; কেননা এ দু’রাতে এমন বিষয় প্রকাশ পেয়েছে ও বিদ্যমান যা অন্য কোনো রাতে প্রকাশ পায়নি বা ছিল না। আর যে দিন এ দু’রাত প্রকাশ করে, তা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দিন—যেমন এই স্থানে নিশ্চিতভাবে বলা উচিত। আর যখন এ দু’রাতের অবস্থা এরূপ, তখন এগুলোর মতো দিন/রাতকে (অর্থাৎ মিলাদ ও মি‘রাজকে) ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা কর্তব্য।"

৮. ইমাম মুহাম্মদ খিজির আশ-শালক্বিতী (রহ.) – কিতাব: كَوْثَرُ الْمَعَانِي الدَّرَارِي (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭২) – তিনি বলেন:

مَا زَالَ الْمُسْلِمُونَ يُعَظِّمُونَ الْمَوْلِدَ الشَّرِيفَ جَاعِلِينَ لَهُ عِيدًا أَعْظَمَ مِنْ كُلِّ عِيدٍ.

অনুবাদ: "মুসলমানরা সর্বদা মিলাদুন্নবীকে মহিমান্বিত করে আসছে, একে সকল ঈদের চেয়ে বড় ঈদ হিসেবে গণ্য করে।"

৯. متن أبي شجاع – এতে বলা হয়েছে:

بَلْ هُوَ أَعْظَمُ مِنْ كُلِّ عِيدٍ.

অনুবাদ: "বরং এটি (মিলাদ) সকল ঈদের চেয়েও উত্তম ঈদ।"

১০. ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বলী (রহ.) – কিতাব: لَطَائِفُ الْمَعَارِفِ (পৃষ্ঠা ২৭৮) – তিনি বলেন:

كُلُّ يَوْمٍ كَانَ لِلْمُسْلِمِينَ عِيدًا فِي الدُّنْيَا.

অনুবাদ: "প্রত্যেক দিন যে দিনটি মুসলমানদের জন্য দুনিয়ায় ঈদরূপে গণ্য হয়।" (প্রসঙ্গক্রমে মিলাদকেও ঈদ বলা হয়েছে।)

১১. শায়খ ‘আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) – কিতাব: مَا ثَبَتَ مِنَ السُّنَّةِ فِي أَيَّامِ السَّنَةِ (পৃষ্ঠা ১০৭) – তিনি বলেন:

فَرَحِمَ اللهُ امْرَأً اتَّخَذَ لَيَالِي شَهْرِ مَوْلِدِهِ الْمُبَارَكِ أَعْيَادًا.

অনুবাদ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর বিশেষভাবে রহম করুন, যে তাঁর (ﷺ)-এর বরকতময় জন্মমাসের রাতগুলোকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করে।"

১২. ইমাম শিহাবুদ্দীন আল-ক্বাসতাল্লানী (রহ.) – কিতাব: الْمَوَاهِبُ اللَّدُنِيَّةُ (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৭) – তিনি ‘আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীর উক্তিটি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন:

فَرَحِمَ اللهُ امْرَأً اتَّخَذَ لَيَالِي شَهْرِ مَوْلِدِهِ الْمُبَارَكِ أَعْيَادًا.

অনুবাদ: (উপরোক্ত মতো) "আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে তাঁর জন্মমাসের রাতগুলোকে ঈদরূপে গ্রহণ করে।"

মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত লায়লাতুল কদরের চেয়ে উত্তম – উলামাদের বক্তব্য

১. ইমাম ক্বাসতাল্লানী (রহ.) – আল-মাওয়াহিবু ল্লাদুনিয়্যাহ (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৫) – তিনি তিনটি কারণে মিলাদের রাতকে লায়লাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলেছেন:

(১)

إِنَّ لَيْلَةَ الْمَوْلِدِ لَيْلَةُ ظُهُورِهِ ﷺ، وَلَيْلَةَ الْقَدْرِ مُعْطَاةٌ لَهُ، وَمَا شُرِّفَ بِظُهُورِ ذَاتِ الْمُشَرَّفِ مِنْ أَجْلِهِ أَشْرَفُ مِمَّا شُرِّفَ بِسَبَبِ مَا أُعْطِيَهُ، فَكَانَتْ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلَ.

অনুবাদ: "মিলাদের রাত হলো তাঁর (ﷺ)-এর আবির্ভাবের রাত, আর লায়লাতুল কদর তাঁকে প্রদত্ত উপহার। যে বস্তু তাঁর সম্মানিত সত্তার আবির্ভাবে সম্মানিত হয়েছে, তা তাঁকে প্রদত্ত বস্তুর কারণে সম্মানিত হওয়া অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ—অতএব মিলাদের রাত উত্তম।"

(২)

إِنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ شُرِّفَتْ بِنُزُولِ الْمَلَائِكَةِ فِيهَا، وَلَيْلَةَ الْمَوْلِدِ شُرِّفَتْ بِظُهُورِهِ ﷺ فِيهَا، وَمَنْ شُرِّفَتْ بِهِ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلُ مِمَّنْ شُرِّفَتْ بِهِمْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، فَتَكُونُ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلَ.

অনুবাদ: "লায়লাতুল কদর সম্মানিত ফেরেশতাদের অবতরণের কারণে, আর মিলাদের রাত সম্মানিত তাঁর (ﷺ)-এর আবির্ভাবের কারণে। যে সত্তার কারণে মিলাদের রাত সম্মানিত, তিনি সে ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ—অতএব মিলাদের রাত উত্তম।"

(৩)

إِنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَقَعَ التَّفَضُّلُ فِيهَا عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ، وَلَيْلَةَ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ وَقَعَ التَّفَضُّلُ فِيهَا عَلَى سَائِرِ الْمَوْجُودَاتِ، فَهُوَ الَّذِي بَعَثَهُ اللهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، فَعَمَّتْ بِهِ النِّعْمَةُ عَلَى جَمِيعِ الْخَلَائِقِ، فَكَانَتْ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَعَمَّ نَفْعًا، فَكَانَتْ أَفْضَلَ.

অনুবাদ: "লায়লাতুল কদরের অনুগ্রহ শুধু মুহাম্মদ (ﷺ)-এর উম্মতের ওপর, আর মিলাদের রাতের অনুগ্রহ সমস্ত সৃষ্টির ওপর। কেননা তিনিই (ﷺ) যাকে আল্লাহ সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, ফলে তাঁর মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টি নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাই মিলাদের রাত অধিক উপকারী এবং উত্তম।"

২. শায়খ ‘আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) – مَا ثَبَتَ مِنَ السُّنَّةِ (পৃষ্ঠা ৭৭-৭৮) –

إِذَا قُلْنَا إِنَّهُ وُلِدَ لَيْلًا، فَتِلْكَ اللَّيْلَةُ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ بِلَا شُبْهَةٍ، لِأَنَّ لَيْلَةَ الْمَوْلِدِ لَيْلَةُ ظُهُورِهِ ﷺ، وَلَيْلَةَ الْقَدْرِ مُعْطَاةٌ لَهُ.

অনুবাদ: "যদি আমরা বলি যে তিনি (ﷺ) রাতে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাহলে সেই রাতটি লায়লাতুল কদরের চেয়ে নিঃসন্দেহে উত্তম। কেননা মিলাদের রাত তাঁর (ﷺ)-এর আবির্ভাবের রাত, আর লায়লাতুল কদর তাঁকে দান করা হয়েছে।"

৩. ইমাম ইবনে ‘আবিদীন শামী (রহ.) – রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী) – কিতাবুল হজ্জ, ২/৫১১ – তিনি কিছু শাফেঈ আলেমের মত উল্লেখ করে বলেন:

أَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ ﷺ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ، ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ.

অনুবাদ: "নিশ্চয় সর্বোত্তম রাত হলো মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত, তারপর লায়লাতুল কদর, তারপর শবে মি‘রাজ, তারপর আরাফার রাত, তারপর জুম‘আর রাত, তারপর শবে বরাত এবং তারপর দুই ঈদের রাত।"

৪. ইমাম আশ-শিরওয়ানী (রহ.) – হাশিয়াতুশ শিরওয়ানী ‘আলা তুহফাতিল মুহতাজ – ২/৪০৫ – তিনি বলেন:

وَأَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ، هَذَا بِالنِّسْبَةِ لَنَا، وَأَمَّا بِالنِّسْبَةِ لَهُ ﷺ فَلَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ أَفْضَلُ اللَّيَالِي؛ لِأَنَّهُ رَأَى فِيهَا رَبَّهُ بِعَيْنَيْ رَأْسِهِ عَلَى الصَّحِيحِ.

অনুবাদ: "আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হলো মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত, তারপর লায়লাতুল কদর, তারপর জুম‘আর রাত, তারপর মি‘রাজের রাত। আর তাঁর (ﷺ)-এর দৃষ্টিকোণ থেকে মি‘রাজের রাতই সর্বশ্রেষ্ঠ, কারণ সঠিক মতে তিনি সে রাতে তাঁর রবকে স্বচক্ষে দর্শন করেছিলেন।"

৫. তাফসীরে রূহুল মা‘আনী – ২০/১৯৪ (উদ্ধৃত) – কিছু হানাফী ও শাফেঈ আলেমের বক্তব্য উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়েছে:

أَفْضَلُ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ ﷺ ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ.

অনুবাদ: (উপরোক্ত অনুরূপ) "সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হলো নবী (ﷺ)-এর জন্মরাত্রি, তারপর কদরের রাত, তারপর মি‘রাজের রাত, তারপর আরাফার রাত, তারপর জুম‘আর রাত, তারপর শবে বরাত, তারপর ঈদের রাত।"

৬. আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাবী আল-মালিকী (রহ.) – হাশিয়াতুস সাবী ‘আলা তাফসীরিল জালালাইন (সূরা জুম‘আ, ৯ম আয়াতের ব্যাখ্যা) – তিনি বলেন:

أَفْضَلُ اللَّيَالِي: لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ، فَالْجُمُعَةِ، فَنِصْفِ شَعْبَانَ، فَالْعِيدِ.

অনুবাদ: "রাতগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ: ১. মিলাদুন্নবীর রাত, ২. লায়লাতুল কদর, ৩. মি‘রাজের রাত, ৪. জুম‘আর রাত, ৫. শবে বরাত, ৬. ঈদের রাত।"

ও তিনি আরও বলেন:

وَأَفْضَلُ الْأَيَّامِ يَوْمُ عَرَفَةَ، ثُمَّ يَوْمُ نِصْفِ شَعْبَانَ، ثُمَّ الْجُمُعَةُ، وَاللَّيْلُ أَفْضَلُ مِنَ النَّهَارِ.

অনুবাদ: "আর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ: ১. আরাফার দিন, ২. মধ্য শা‘বানের দিন, ৩. জুম‘আর দিন। আর রাত দিনের চেয়ে উত্তম।"

৭. ইমাম আল-‘আসামী (রহ.) – سِمْطُ النُّجُومِ الْعَوَالِي – তিনিও তিনটি কারণে মিলাদের রাতকে লায়লাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করেছেন (উপরোক্ত ক্বাসতাল্লানীর মতই):

لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ ﷺ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ مِنْ وُجُوهٍ ثَلَاثَةٍ: (১) ... (২) ... (৩) ...

(অনুবাদ উপরে প্রদত্ত)

শেষ বক্তব্য: ইমাম ক্বাসতাল্লানী, ইমাম ইবনে ‘আবিদীন, ইমাম আশ-শিরওয়ানী, আল্লামা সাবী, ইমাম ‘আসামী প্রমুখ বিশিষ্ট আলেমদের মতে, মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর রাত লায়লাতুল কদরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ও অধিক ফজিলতপূর্ণ। তাঁরা একে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এর গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর হাবীবের প্রতি ভালোবাসা ও অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

আজ ১০ আগস্ট ২০২৬ইং কুমিল্লা ঘিলাতলা দরবার শরীফ - Ghilatola Darbar Sharif এর বড় শাহজাদা পীরে ত্বরীকত পেশোয়ায়ে আহলে সুন্না...
09/08/2026

আজ ১০ আগস্ট ২০২৬ইং কুমিল্লা ঘিলাতলা দরবার শরীফ - Ghilatola Darbar Sharif এর বড় শাহজাদা পীরে ত্বরীকত পেশোয়ায়ে আহলে সুন্নাত আলহাজ্ব আল্লামা মুফতী এস এম সাকীউল কাউছার মুদ্দাজিল্লুহুল আলী এর ৬০ তম মহান খোশরোজ শরীফ।
#জন্ম:-
১০ আগস্ট ১৯৬৬ইং ২৬ শ্রাবন ১৩৭১ বাংলা, ২২ রবিউচ্ছানি ১৩৮৬ হিজরি রোজ মঙ্গলবার সকাল ৭-৩০ মিনিটে ঘিলাতলা দরবার শরীফ এ পিতা তাজুল আশেকীন শাহসূফী আলহাজ্ব আল্লামা মুবারক আলী রহমাতুল্লাহি আলাইহির উরসে মাতা উম্মুল আশেকীন সৈয়দা শুকরুন নেসা খাতুন রহমাতুল্লাহি আলাইহার গর্ভে শুভ জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের ৩ দিন পূর্বে হুজুরের কনিষ্ট ফুফুজান স্বপ্নে নাম প্রাপ্ত হন সাকীউল কাউছার। আলা হুজুর শায়খুল হাদীস শাহসূফী আলহাজ্ব আল্লামা বশারত আলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এই নামই রাখেন। প্রথম নাতিকে কোলে নিয়ে অলীয়ে কামেল শায়খুল হাদীস শাহসূফী আলহাজ্ব আল্লামা বশারত আলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ❝আ'তায়তুকা কুল্লে শাইয়্যিন❞ আবার বাংলায় বলেন, ❝আমার এলেম কালাম বিবেক বুদ্ধি যা কিছু আছে কাউছার মিয়াকে দান করলাম।❞

#প্রাথমিক_শিক্ষা:
বাল্যকালে আপন দাদা হুজুরের নিকট তিনি কালিমা শরীফ ও সূরা ফাতিহার তা'লীম নেন। অত:পর আপন পিতা-মাতার নিকট কুরআন শরীফ পাঠ শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ১৯৭৫ ইং সনে পঞ্চম শ্রেণী ও শংকুচাইল উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৮২ ইং সনে এস এস সি পাশ করেন।
#ইসলামী_শিক্ষা:
অত:পর পিতামহের নির্দেশনা মোতাবেক ইসলামি শিক্ষার্জনের জন্য কুমিল্লা ইসলামিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ১৯৮৬ ইং সনে দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তিসহ ১ম বিভাগ ও ১৯৮৮ ইং সনে আলীম, ১৯৯০ ইং সনে ফাজিল (ডিগ্রি) পরীক্ষায় বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগ লাভ করেন এবং ১৯৯২ ইং সনে কামিল হাদীছ ১ম শ্রেণী ও ১৯৯৫ ইং সনে কামিল ফিকহা ১ম শ্রেণী লাভ করেন। তাছাড়া ১৯৯৩ ইং সনে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা তেজগাঁ কলেজ হতে হতে স্নাতক (বি-এ) ডিগ্রী অর্জন করেন।

Address

Ghilatola Darbar Sharif
Cumilla
3526

Telephone

+8801979120190

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ঘিলাতলা দরবার শরীফ - Ghilatola Darbar Sharif posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to ঘিলাতলা দরবার শরীফ - Ghilatola Darbar Sharif:

Shortcuts

Share