22/05/2026
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতায় উম্মতের উপকার করতে পারেন তথাকথিত আমির হামজার বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব
১. হযরত জাবের (রা.)-এর বিশাল ঋণ পরিশোধে অলৌকিক উপকার
হযরত জাবের (রা.)-এর পিতা ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ ঋণ রেখে যান। পাওনাদার ইহুদীরা কোনোভাবেই ছাড় দিচ্ছিল না এবং জাবের (রা.)-এর বাগানের সমস্ত খেজুর দিয়েও সেই ঋণ শোধ হওয়া সম্ভব ছিল না। রাসূলুল্লাহ (দ.) সেখানে গিয়ে বরকতের দোয়া করেন এবং অলৌকিক উপায়ে ঋণ শোধের ব্যবস্থা করেন।
আরবী ইবারত:
"... فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " جُذَّ لَهُ فَأَوْفِ لَهُ ". فَجَذَّهُ بَعْدَمَا طَافَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَوْفَاهُ وَفَضَلَ مِنْهُ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأُبَشِّرَهُ، فَوَجَدْتُهُ قَائِمًا يُصَلِّي، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَنْهَيْتُ إِلَيْهِ ذَلِكَ، فَقَالَ: " تَبَارَكَ اللَّهُ "."
উৎস: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ২৪০৫ (ঋণ পরিশোধ অধ্যায়)।
অনুবাদ: "...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খেজুরের স্তূপের চারদিকে ঘুরে দোয়া করে) বললেন: 'তুমি খেজুর কেটে তাকে তার পুরো পাওনা পরিশোধ করে দাও।' জাবের (রা.) বলেন, আমি কেটে তাকে পুরো পাওনা পরিশোধ করলাম, তবুও খেজুর উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (দ.)-এর কাছে সুসংবাদ দিতে এলাম। তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। সালাত শেষে আমি তাঁকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন: 'তাবারাকাল্লাহ' (আল্লাহ বরকতময়)।"
২. দুর্ভিক্ষ ও খরা থেকে সাহাবীদের বাঁচাতে দোয়া ও তাৎক্ষণিক বৃষ্টি
মদীনায় যখন তীব্র অনাবৃষ্টি ও খরা দেখা দিল, তখন সাহাবীগণ চরম সংকটে পড়লেন। জুমার খুতবা চলাকালীন এক সাহাবীর অনুরোধে নবীজী (দ.) হাত তুলে দোয়া করার সাথে সাথেই মেঘ জমা হয়ে বৃষ্টি শুরু হয় এবং সাহাবীগণ অভাব থেকে রক্ষা পান।
আরবী ইবারত:
"... فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلَكَتِ المَوَاشِي، وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ، فَادْعُ اللَّهَ يُغِيثُنَا. فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ فَقَالَ: " اللَّهُمَّ اسْقِنَا، اللَّهُمَّ اسْقِنَا، اللَّهُمَّ اسْقِنَا ". قَالَ أَنَسٌ: وَاللَّهِ مَا نَرَى فِي السَّمَاءِ مِنْ سَحَابٍ وَلاَ قُزْعَةٍ ... فَخَرَجَتْ مِنْ وَرَائِهِ سَحَابَةٌ مِثْلُ التُّرْسِ، فَلَمَّا تَوَسَّطَتِ السَّمَاءَ انْتَشَرَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ..."
উৎস: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ১০১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৮৯৭।
অনুবাদ: "...এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! গবাদিপশু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (দ.) দুই হাত তুলে দোয়া করলেন: 'হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দিন।' আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা আকাশে কোনো মেঘ বা মেঘের কানাও দেখছিলাম না... (দোয়ার পর) ঢালের মতো একখণ্ড মেঘ উদিত হলো এবং তা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে বৃষ্টি বর্ষণ শুরু করল।"
৩. খন্দকের যুদ্ধে ক্ষুধার্ত হাজারো সাহাবীকে সামান্য খাবারে তৃপ্ত করা
খন্দকের (পরিখা) যুদ্ধের সময় সাহাবীগণ চরম ক্ষুধায় কাতর ছিলেন। হযরত জাবের (রা.) একটি ছোট ছাগলছানা এবং এক সা' (সামান্য) যব দিয়ে নবীজী (দ.) ও কয়েকজন সাহাবীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু নবীজী (দ.) খন্দকের সমস্ত সাহাবীকে (প্রায় ১০০০ জন) নিয়ে যান এবং তাঁর থুথু মোবারক ও বরকতের দোয়ার উসিলায় সেই সামান্য খাবার দিয়ে সবাই তৃপ্তিসহকারে আহার করেন।
আরবী ইবারত:
"... فَأَقْسَمَ بِاللَّهِ لَقَدْ أَكَلُوا حَتَّى تَرَكُوهُ وَانْحَرَفُوا، وَإِنَّ بُرْمَتَنَا لَتَغِطُّ كَمَا هِيَ، وَإِنَّ عَجِينَنَا لَيُخْبَزُ كَمَا هُوَ."
উৎস: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৪১০১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২০৩৯।
অনুবাদ: "(জাবের রা. বলেন) ...আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, তারা সবাই তৃপ্তিসহকারে খেয়ে অবশিষ্ট রেখে চলে গেলেন। অথচ আমাদের ডেগটি আগের মতোই টগবগ করছিল এবং আমাদের আটার খামির থেকে আগের মতোই রুটি তৈরি হচ্ছিল।"
৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.)-এর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপকার
হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) হাদীস মনে রাখতে পারতেন না বলে নবীজী (দ.)-এর কাছে অভাব উম্মোচন করেন। নবীজী (দ.) তাঁর চাদরটি বিছাতে বলেন এবং অলৌকিক উপায়ে তাঁর স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন, যা তাঁর সারাজীবনের শ্রেষ্ঠ উপকারে আসে।
আরবী ইবারত:
"قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَسْمَعُ مِنْكَ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنْسَاهُ. قَالَ: " ابْسُطْ رِدَاءَكَ ". فَبَسَطْتُهُ، قَالَ: فَغَرَفَ بِيَدَيْهِ فِيهِ، ثُمَّ قَالَ: " ضُمَّهُ ". فَضَمَمْتُهُ، فَمَا نَسِيتُ شَيْئًا بَعْدَهُ."
উৎস: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ১১৯ (علم বা জ্ঞান অধ্যায়)।
অনুবাদ: "(আবু হুরায়রা রা. বলেন) আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার থেকে অনেক হাদীস শুনি কিন্তু ভুলে যাই। তিনি বললেন: 'তোমার চাদরটি বিছিয়ে দাও।' আমি তা বিছালাম। তারপর তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে (আকাশ থেকে যেন কিছু নিয়ে) চাদরের মধ্যে ঢেলে দিলেন এবং বললেন: 'এটি বুকের সাথে জড়িয়ে নাও।' আমি তা বুকের সাথে মিলিয়ে নিলাম। এরপর থেকে আমি আর কোনোদিন কিছুই ভুলিনি।"
৫. হযরত আলী (রা.)-এর চোখের রোগ নিরাময় (খায়বার যুদ্ধ)
খায়বার যুদ্ধের দিন হযরত আলী (রা.) চোখের তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন, যাঁর পক্ষে যুদ্ধ করা অসম্ভব ছিল। নবীজী (দ.) তাঁর চোখের উপকারে নিজের লালা মোবারক ব্যবহার করেন এবং তিনি তাৎক্ষণিক সুস্থ হয়ে যান।
আরবী ইবারত:
"... فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ فِي عَيْنَيْهِ، وَدَعَا لَهُ فَبَرَأَ، كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ، فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ..."
উৎস: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ২৯৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৪০৬।
অনুবাদ: "...অতঃপর আলী (রা.)-কে আনা হলো। নবীজী (দ.) তাঁর দুই চোখে নিজের লালা মোবারক লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। এতে তিনি এমনভাবে আরোগ্য লাভ করলেন যেন তাঁর কোনো ব্যথাই ছিল না। এরপর নবীজী (দ.) তাঁর হাতে যুদ্ধের ঝাণ্ডা তুলে দিলেন।"
৬. যুদ্ধের ময়দানে হযরত কাতাদাহ (রা.)-এর উপড়ে যাওয়া চোখ ঠিক করা
উহুদের যুদ্ধে কাফেরদের তীরে হযরত কাতাদাহ ইবনুন নু'মান (রা.)-এর একটি চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে উপড়ে তাঁর গালের ওপর ঝুলে পড়েছিল। সাহাবীগণ তা কেটে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (দ.) নিজের হাত মোবারক দিয়ে সেই চোখটি যথাস্থানে বসিয়ে দেন এবং অলৌকিক উপায়ে তা সুস্থ হয়ে যায়।
আরবী ইবারত:
"أُصِيبَتْ عَيْنُ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ يَوْمَ أُحُدٍ حَتَّى وَقَعَتْ عَلَى وَجْنَتِهِ، فَرَدَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ، فَكَانَتْ أَحْسَنَ عَيْنَيْهِ وَأَحَدَّهُمَا."
উৎস: দালায়েলুন নুবুওয়াহ (বাইহাকী), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫২; আল-ইসাবাহ (ইবনে হাজার), ৫/৪২০। (হাদীসটি হাসান)।
অনুবাদ: "উহুদের দিন কাতাদাহ ইবনুন নু'মানের চোখটি জখম হয়ে তাঁর গালের ওপর ঝুলে পড়ে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত মোবারক দিয়ে তা (চোখের কোটরে) ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই চোখটি তাঁর অপর চোখের চেয়েও সুন্দর এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হয়ে উঠেছিল।"
৭. হযরত আনাস (রা.)-এর জন্য ধন-সম্পদ ও সন্তানের দোয়া
হযরত আনাস (রা.)-এর মা উম্মে সুলাইম (রা.) নবীজী (দ.)-এর কাছে এসে আবেদন করেন যেন তিনি আনাসের জন্য দোয়া করেন। নবীজী (সা.) তাঁর বৈষয়িক ও পারলৌকিক উপকারের জন্য বিশেষ দোয়া করেন, যার ফলে তিনি দীর্ঘজীবী ও বিপুল সম্পদের অধিকারী হন।
আরবী ইবারত:
"قَالَتْ أُمِّي: يَا رَسُولَ اللَّهِ، خَادِمُكَ أَنَسٌ ادْعُ اللَّهَ لَهُ. قَالَ: " اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ "."
উৎস: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৬৩৪৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৪৮১।
অনুবাদ: "(হযরত আনাস বলেন) আমার মা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ছোট খাদেম আনাসের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন নবীজী (দ.) দোয়া করলেন: 'হে আল্লাহ! আপনি তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং তাকে আপনি যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন'।"
(হযরত আনাস পরবর্তীতে বলেছিলেন, এই দোয়ার বরকতে আমি একশো সন্তানের জনক হয়েছি এবং আমার বাগানের গাছ বছরে দু'বার ফল দিত)।
৮. তাবুক যুদ্ধে হাজারো সাহাবীর পানির কষ্ট দূর করা (তাবুকের ঝরনা)
তাবুক যুদ্ধের দীর্ঘ সফরে সাহাবীগণ তীব্র পানির সংকটে পড়েন। সেখানে 'তাবুকের ঝরনা' নামক একটি জায়গায় সামান্য একটু পানি চুইয়ে পড়ছিল, যা দিয়ে একজনের ওযুও সম্ভব ছিল না। নবীজী (দ.) সেখানে তাঁর হাত মোবারক ধুয়ে সেই পানি ঝরনায় দিতেই অলৌকিক অবর্ণনীয় উপকার সাধিত হয়।
আরবী ইবারত:
"... فَغَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْعَيْنِ قَلِيلاً قَلِيلاً حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَيْءٍ، وَغَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا، فَجَرَتِ الْعَيْنُ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ أَوْ قَالَ غَزِيرٍ ... حَتَّى اسْتَقَى النَّاسُ ..."
উৎস: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৭০৬ (মু'জিযা অধ্যায়)।
অনুবাদ: "...সাহাবীগণ হাত দিয়ে চুইয়ে পড়া পানি থেকে অল্প অল্প করে একটি পাত্রে জমা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দিয়ে নিজের মুখ ও হাত ধুলেন, এরপর সেই ধোয়া পানিটুকু ঝরনায় ঢেলে দিলেন। তৎক্ষণাৎ ঝরনাটি থেকে প্রচণ্ড বেগে বিপুল পরিমাণ পানি প্রবাহিত হতে লাগল এবং উপস্থিত সমস্ত মানুষ (হাজারো সৈন্য ও বাহন) তৃপ্তিসহকারে পানি পান করল।"
9. জাবের (রা.)-এর দুর্বল ও ক্লান্ত উটকে দ্রুতগামী বাহনে পরিণত করা
এক সফরে হযরত জাবের (রা.)-এর উটটি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, তা আর হাঁটতে পারছিল না এবং তিনি কাফেলা থেকে পেছনে পড়ে যাচ্ছিলেন। নবীজী (দ.) তাঁর এই অসহায়ত্ব দেখে উটটিকে অলৌকিক উপায়ে সতেজ করে দেন।
আরবী ইবারত:
"... فَلَحِقَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ فَدَعَا لِي، وَضَرَبَهُ، فَسَارَ سَيْرًا لَمْ يَسِرْ مِثْلَهُ ..."
উৎস: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ২০৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৭১৫।
অনুবাদ: "...অতঃপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনের দিক থেকে এসে আমার সাথে মিললেন এবং উটটির জন্য দোয়া করলেন ও সেটিকে একটি আলতো আঘাত (বা তাড়া) করলেন। এরপর উটটি এমন দ্রুত গতিতে চলতে লাগল, যা আগে কখনো চলেনি (এবং কাফেলার সবার আগে চলে গেল)।"
১০. হযরত উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে সাহাবীদের শক্তি বৃদ্ধি
মক্কার প্রাথমিক জীবনে মুসলমানরা চরম নির্যাতিত হচ্ছিলেন এবং প্রকাশ্যে ইবাদত করতে পারছিলেন না। নবীজী (দ.) বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে উমর (রা.)-কে ইসলামের ছায়াতলে এনে পুরো সাহাবী জামাতকে এক মহাসংকট থেকে উদ্ধার করেন।
আরবী ইবারত:
"اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلاَمَ بِأَحَبِّ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ إِلَيْكَ: بِأَبِي جَهْلٍ أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ. فَكَانَ أَحَبَّهُمَا إِلَيْهِ عُمَرُ"
উৎস: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৬৮১ (হাসান সহীহ)।
অনুবাদ: রাসূলুল্লাহ (দ.) দোয়া করেছিলেন: "হে আল্লাহ! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যে আপনার কাছে বেশি প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী (ও সম্মানিত) করুন: আবু জাহেল অথবা উমর ইবনুল খাত্তাব।" আর তাদের মধ্যে উমরই আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ছিলেন।
(হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছিলেন, "উমরের ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমরা সর্বদা শক্তিশালী ও সম্মানিত বোধ করেছি।")