Path Of Taqwa

Directions

Path Of Taqwa তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যে বিষয়ের ইঙ্গিত করা হচ্ছে তার অনুসরণ করো।
আল আহযাব : ০২

সম্পদ শুধু ভোগ করার জন্য নয়, আল্লাহর পথে কাজে লাগানোর জন্যও সৃষ্টি করা হয়েছে।পার্থিব জীবনের বড় একটা সময় আমরা অর্থ উপার্জ...
08/10/2026

সম্পদ শুধু ভোগ করার জন্য নয়, আল্লাহর পথে কাজে লাগানোর জন্যও সৃষ্টি করা হয়েছে।

পার্থিব জীবনের বড় একটা সময় আমরা অর্থ উপার্জনের পেছনে ব্যয় করি। কেউ ব্যবসা করেন, কেউ প্রতিষ্ঠান গড়েন, কেউ নিজের সামর্থ্য বাড়াতে দিনের পর দিন পরিশ্রম করেন।

কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য প্রশ্নটা শুধু ‘কত আয় করলাম?’ নয়। প্রশ্ন হলো, আল্লাহ আমাকে যে সম্পদ দিলেন, সেটার উদ্দেশ্য কী?

মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত একটি হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আমি সম্পদ নাযিল করেছি, যেন সালাত কায়েম করা যায় এবং যাকাত প্রদান করা যায়।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২১৯৮৮; আত-তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর; সহীহ আল-জামি‘, হাদিস: ১৭৮১)

খেয়াল করার বিষয় হলো, এখানে সম্পদের উদ্দেশ্য হিসেবে শুধু ব্যক্তিগত ভোগের কথা বলা হয়নি। সালাত কায়েম করা এবং যাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ সম্পদ এমন একটি শক্তি, যার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের ইবাদত যেমন ঠিক রাখতে পারে, তেমনি সমাজের অর্থনৈতিক দায়িত্বও পালন করতে পারে।

দরিদ্র, অসহায়, এতিম ও ঋণগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেমন সম্পদের দায়িত্ব, তেমনি দ্বীনের জ্ঞান, দাওয়াহ ও শিক্ষার কাজকে টিকিয়ে রাখাও সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার।

এ কারণেই পূর্ববর্তী যুগের অনেক আলেম সম্পদকে দূরে ঠেলে দেননি। বরং সম্পদকে তাঁরা দ্বীনের কাজে ব্যবহার করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) ছিলেন বড় আলেম ও মুহাদ্দিস, আবার একই সঙ্গে সফল ব্যবসায়ীও ছিলেন। তাঁর ব্যবসার সম্পদ দিয়ে মক্কা-মদিনার হাদিসের ছাত্রদের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া ও গবেষণায় সহযোগিতা করা হতো।

সুফিয়ান আস-সাওরী (রহ.)-এর কাছেও সম্পদ ছিল একজন মুমিনের শক্তির অন্যতম মাধ্যম। সম্পদ মানুষকে নিজের আত্মসম্মান ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং দ্বীনের কাজকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সীরাতেও অর্থনৈতিক শক্তির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কুরাইশদের প্রভাবের পেছনে কাবার কর্তৃত্বের পাশাপাশি শীত ও গ্রীষ্মের বাণিজ্যও ছিল বড় শক্তি। (সূরা কুরাইশ: ১-৪)

তাই ইসলামের ইতিহাসে অর্থনীতি কখনোই তুচ্ছ কোনো বিষয় ছিল না। বাণিজ্যপথ, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনৈতিক শক্তির প্রভাব সমাজ ও রাজনীতির ওপরও পড়ত।

সুমামা ইবনে উসাল (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর ইয়ামামা থেকে মক্কায় খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফলে মক্কার মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে খাদ্যের জন্য আবেদন করেছিল। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৪৩৭২)

তাহলে একজন মুসলিম উদ্যোক্তার জন্য সম্পদের অর্থ কী?

হালালভাবে উপার্জন করা, ব্যবসা বড় করা, ভালো পোশাক পরা কিংবা উন্নত জীবনযাপন করা নিজেই কোনো অপরাধ নয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৯১)

সমস্যা সম্পদে নয়, সমস্যা হলো সম্পদ যখন জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে যায়। তখন মানুষ সম্পদের মালিক থাকে না, বরং সম্পদই তাকে নিজের দাস বানিয়ে ফেলে।

একজন মুসলিম উদ্যোক্তার দৃষ্টিভঙ্গি তাই একটু ভিন্ন হতে পারে। ব্যবসার প্রতিটি বৈধ মুনাফাকে শুধু নিজের ভোগের অর্থ না ভেবে, আল্লাহর দেওয়া একটি আমানত হিসেবে দেখা।

নিজের পরিবার, কর্মী, সমাজ, দরিদ্র মানুষ, জ্ঞানচর্চা, দাওয়াহ এবং দ্বীনের কল্যাণকর কাজে সেই সম্পদকে প্রবাহিত করা।

তখন ব্যবসা শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম থাকে না। সঠিক নিয়ত ও হালাল পদ্ধতির মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বড় পথ।

আমাদের লক্ষ্য শুধু ধনী হওয়া নয়। এমনভাবে সম্পদশালী হওয়া, যাতে সেই সম্পদ আমাদেরও উপকার করে, মানুষেরও উপকার করে এবং দ্বীনের কল্যাণেও কাজে আসে।

12/09/2026

তিনি উহুদ যুদ্ধে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করে 'সাহাবী' হবার মর্যাদালাভ করেন।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করলে তিনি ইসলাম ত্যাগ করেন। শুধু ইসলাম ত্যাগ করেননি, নিজেকে 'নবী' দাবি করেন। তৃতীয় ব্যক্তি হিশেবে ভণ্ড নবুওয়তের দাবিদার।

খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন বাযাখার ময়দানে।

যুদ্ধে পরাজিত হলে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান সিরিয়ায়।

আল্লাহ তাকে আবার হেদায়াত দান করেন। আবার তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন৷

এবার তিনি ইসলামের পক্ষে যুদ্ধ করেন। আগের যুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ। এবারের যুদ্ধে তিনি আর খালিদ একসাথে যুদ্ধ করছেন, একই দলে দুজন।

নাহওয়ান্দের যুদ্ধে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান>সাহাবী>ভণ্ড নবী>ইসলাম গ্রহণ করে 'সাহাবী'। এমন বৈচিত্র্যময় জীবন ছিলো তুলাইহা ইবনে খুওয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর।

11/09/2026

সুরা আল কাহাফ কেন নাযিল হয়েছিল জানেন?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মক্কার মুশরিকরা আহলে কিতাবদের কাছ থেকে তিনটা প্রশ্ন ধার করে আনে। আহলে কিতাবরা মক্কা থেকে আগত মুশরিকদের বলে দিয়েছিল—সত্যিকারের নবি না হলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া কখনোই সম্ভব হবে না।

মুশরিকরা নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনোই সত্য নবি মনে করত না৷ তাদের ধারণা ছিল যে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মুহাম্মাদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই দিতে পারবেন না এবং তিনি যে আল্লাহর নবি নন, সেটা সকলের সামনে প্রমাণ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন তিনটা ছিল—

১. গুহার সেই বালকদের ঘটনাটা কী? কী ঘটেছিলো তাদের ভাগ্যে? (আসহাবে কাহাফের ঘটনা)

২. সেই ধর্ম অন্তপ্রাণ রাজা কে যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পূর্ব এবং পশ্চিমের গোটা রাজত্ব দান করেছিলেন? (যুলকারনাইন আলাইহিস সালামের ঘটনা)

৩. রুহ কী?

আমরা জানি—মুশরিকদের উত্থাপিত এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিয়ে সূরা আল কাহাফ সহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জিবরিল আলাইহিস সালামকে নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পাঠান।

এখানে আমার চিন্তাটা একটু অন্য জায়গায়৷ যদিও ষড়যন্ত্র আর কূটচালের অংশ, তবুও মুশরিকরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে জানতে চেয়েছিল কেবল তিনটা ঘটনা৷ কিন্তু সূরা আল কাহাফে আল্লাহ কি শুধু তিনটা ঘটনাই জানিয়েছেন?

মুশরিকদের উত্থাপিত তিনটা প্রশ্নের জবাব তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দিয়েছেনই, সাথে সূরা আল কাহাফে তিনি আরো দুটো বাড়তি ঘটনা জানিয়েছেন।

১. সেই দুই বাগানের মালিকের ঘটনা যে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার পর আল্লাহকে ভুলে গেল এবং ধ্বংস হলো।

২. মুসা আলাইহিস সালাম এবং খিযির আলাইহিস সালামের ঘটনা।

এই বাড়তি দুই ঘটনার কথা কিন্তু মুশরিকরা আল্লাহর কাছে জানতে চায়নি; তথাপি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বাড়তি দুটো ঘটনাও জানিয়েছেন।

হোক না তারা আল্লাহর দ্বীনের অকল্যাণ কামনা করেই প্রশ্নগুলোর জবাব চেয়েছে, কিন্তু উত্তর দানের বেলায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিন্তু তাঁর স্বভাবসুলভ বদান্যতা ঠিক ঠিক ধরে রেখেছেন৷ তারা জানতে চাইল তিনটে ঘটনা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জানালেন পাঁচটা।

মুশরিকদের চাওয়ার বিপরীতেই যদি আপনার রব এভাবে বাড়িয়ে দিতে পারেন, বাড়তি জানাতে পারেন, হাজার গুনাহ করলেও আমরা তো তাঁরই বান্দা, আমরা তো তাঁকেই দিনশেষে সিজদাহ করি, তাই না?

যিনি মুশরিকদেরকেই তাদের চাওয়ার বিপরীতে এতো বাড়িয়ে দেন, আমরা যদি তাঁর কাছে কোনোকিছু চাই, তিনি কতোগুণ বেশি করে আমাদের দিতে পারেন ভাবুন তাহলে!

11/09/2026

সূরা কাহাফের চারটি ঘটনা আসলে আমাদের জীবনের চারটি বড় পরীক্ষার কথা বলে।

ঈমানের পরীক্ষা, সম্পদের পরীক্ষা, জ্ঞানের পরীক্ষা এবং ক্ষমতার পরীক্ষা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, চারটি ঘটনা চার ধরনের হলেও প্রতিটি ঘটনার ভেতরেই আমাদের জন্য আজকের জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।

প্রথম ঘটনা আসহাবে কাহাফের। কয়েকজন যুবক ঈমান নিয়ে এমন এক সমাজে বসবাস করছিলেন, যেখানে তাদের ঈমানের ওপর নির্যাতন চলছিল। নিজেদের দ্বীন বাঁচাতে তারা গুহায় আশ্রয় নিলেন। তারা জানতেন না এরপর কী হবে। শুধু জানতেন, আল্লাহর জন্য নিজেদের ঈমানকে বাঁচাতে হবে। আল্লাহ তাদের এমনভাবে সাহায্য করলেন, যা তাদের ধারণারও বাইরে ছিল। দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকার পর যখন তারা জাগলেন, তখন তাদের শহরের পরিস্থিতিই বদলে গেছে।

এই ঘটনা আমাদের ঈমানের পরীক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। কখনো কখনো দ্বীনের ওপর থাকার কারণে মানুষ আপনাকে নিয়ে হাসবে, কথা বলবে, একা করে দেবে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও ঈমানকে আঁকড়ে ধরে থাকতে হয়। আর যদি এমন অবস্থা হয় যে নিজের দ্বীন ঠিকভাবে পালন করাই সম্ভব হচ্ছে না, তখন আল্লাহর জন্য জায়গা পরিবর্তন করতেও পিছপা হওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় ঘটনা দুই ব্যক্তির। একজনকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ দিয়েছিলেন। তার ছিলো সুন্দর বাগান, ফলমূল, পানি এবং অনেক কিছু। সম্পদের পরিমাণ এত বেশি ছিলো যে সে নিজের সম্পদ নিয়ে গর্ব করতে শুরু করলো। তার মনে হতে লাগলো, এই সম্পদ কখনো শেষ হবে না। এমনকি নিজের সম্পদ ও অবস্থান নিয়ে সে অন্য ব্যক্তির ওপর অহংকার করলো।

কিন্তু দুনিয়ার সম্পদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি যতটা স্থায়ী মনে হয়, আসলে ততটা নয়। একদিন তার বাগান ধ্বংস হয়ে গেলো। যে সম্পদ নিয়ে সে এত গর্ব করছিলো, সেটিই মুহূর্তের মধ্যে তার হাতছাড়া হয়ে গেলো। এখান থেকে শিক্ষা হলো, সম্পদ খারাপ কিছু নয়। সমস্যা হলো সম্পদ যখন মানুষের হৃদয়ে ঢুকে যায়। আল্লাহ সম্পদ দিলে শুকরিয়া করতে হবে, কিন্তু সম্পদকে নিজের নিরাপত্তার গ্যারান্টি মনে করা যাবে না।

তৃতীয় ঘটনা মূসা (আলাইহিস সালাম) এবং খিজির (আলাইহিস সালাম)–এর। এখানে আমাদের সামনে আসে জ্ঞানের পরীক্ষা। মূসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন আল্লাহর নবী। তারপরও আল্লাহ তাঁকে এমন একজন বান্দার কাছে পাঠালেন, যাকে আল্লাহ বিশেষ কিছু জ্ঞান দিয়েছিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছ থেকে শেখার জন্য সফর করলেন।

খিজির (আলাইহিস সালাম) এমন কিছু কাজ করলেন, যেগুলোর বাহ্যিক দিক দেখে মূসা (আলাইহিস সালাম) বিস্মিত হলেন। পরে যখন প্রতিটি ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হলো, তখন বোঝা গেলো, মানুষের জ্ঞান কতটা সীমিত। আমরা কোনো ঘটনা দেখে অনেক সময় মনে করি, আমরা সবকিছু বুঝে ফেলেছি। অথচ বাস্তবতার এমন অনেক দিক থাকতে পারে, যা আমাদের জানা নেই।

তাই জ্ঞান অর্জন করার পর সবচেয়ে বেশি দরকার বিনয়। আমি অনেক জানি, তাই আমি সবার চেয়ে বেশি বুঝি, এই চিন্তা জ্ঞানের বরকত নষ্ট করে দিতে পারে। সত্যিকারের জ্ঞান মানুষকে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে আরও সচেতন করে।

চতুর্থ ঘটনা যুলকারনাইনের। আল্লাহ তাঁকে বিপুল ক্ষমতা ও সামর্থ্য দিয়েছিলেন। তিনি চাইলে নিজের ক্ষমতা দিয়ে মানুষকে অত্যাচার করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতাকে নিজের অহংকারের কারণ বানাননি। বরং মানুষের উপকারে সেটিকে ব্যবহার করেছেন।

এক জাতি তাঁর কাছে এসে সাহায্য চাইল। ইয়াজুজ-মাজুজের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা তাঁর কাছে একটি প্রাচীর নির্মাণের আবেদন করলো। যুলকারনাইন তাদের সাহায্য করলেন। লোহা ও গলিত তামা ব্যবহার করে এমন একটি শক্ত প্রাচীর তৈরি করলেন, যা তাদের রক্ষা করলো।

এখানেই ক্ষমতার আসল পরীক্ষা। ক্ষমতা পাওয়া কঠিন, কিন্তু ক্ষমতা পেয়েও ন্যায়পরায়ণ থাকা আরও কঠিন। আপনার হাতে যদি কোনো কর্তৃত্ব থাকে, সেটা পরিবারে হোক, প্রতিষ্ঠানে হোক কিংবা সমাজে, তখন আপনি মানুষকে কীভাবে ব্যবহার করছেন সেটাই আপনার পরীক্ষা। আল্লাহ যাকে ক্ষমতা দিয়েছেন, তাকে একদিন সেই ক্ষমতার হিসাবও দিতে হবে।

সূরা কাহাফের এই চারটি ঘটনা তাই শুধু গল্প নয়। এগুলো মানুষের জীবনের চারটি বড় ফিতনার কথা বলে। ঈমানের ফিতনা, সম্পদের ফিতনা, জ্ঞানের ফিতনা এবং ক্ষমতার ফিতনা।

দাজ্জালের ফিতনার সাথেও এই চারটি বিষয়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সে মানুষের ঈমান, সম্পদ, জ্ঞান এবং ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। তাই সূরা কাহাফ শুধু পড়ার সূরা নয়। এর ঘটনাগুলো বুঝে নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখাও জরুরি।

সূরার শেষের আয়াতটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত আমাদের ফিরে যেতে হবে তাওহীদ, সৎকর্ম এবং ইখলাসের দিকে।

চারটি পরীক্ষা, কিন্তু মুক্তির পথও পরিষ্কার। ঈমানের ক্ষেত্রে আল্লাহকে আঁকড়ে ধরা, সম্পদের ক্ষেত্রে দুনিয়ার মোহ থেকে বেঁচে থাকা, জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিনয়ী থাকা এবং ক্ষমতার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা।

10/08/2026

দিনটাকে প্রফুল্লময় আর প্রোডাক্টিভ রাখতে আমি আপনাদের একটা উপায় বাতলে দিতে পারি। উপায়টা হলো—ভোরে ঘুম থেকে উঠেই কিংবা ফযর সালাত শেষ করা মাত্রই কোনোভাবে ফেইসবুক সহ কোনো ধরণের সোশ্যাল মিডিয়ায় লগ ইন করবেন না।

সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি করা যে, এখানে যেসব কন্টেন্ট বা সংবাদ আপনার ডোপামিন নিঃসরণ করতে সবচেয়ে বেশি পারঙ্গম, সেসব কন্টেন্টই আপনার সামনে বেশি বেশি আসবে। আর, নেগেটিভ সংবাদই সবচাইতে বেশি ডোপামিন নিঃসরণ করে থাকে। কারণ, নেগেটিভ কন্টেন্টগুলোই আপনাকে সবচেয়ে বেশি বিচলিত, প্ররোচিত এবং প্রলুব্ধ করে থাকে।

তাই, আপনি যদি একটা নির্ভেজাল, কর্মময় এবং বারাকাহপূর্ণ দিন কাটাতে চান, আপনার কোনোভাবেই উচিত নয় সকালের সজীব সময়টা, যে সময়টাতে আপনার মস্তিষ্ক থাকে চিন্তামুক্ত এবং ফ্রেশ, এই সময়টায় সোশ্যাল মিডিয়ার জঞ্জালপূর্ণ সংবাদ আর নেগেটিভ কন্টেন্টের নেতিবাচকতা দিয়ে সেটা ভর্তি করে ফেলা।

ভোরবেলার সময়টাকে যদি সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, বিশ্বাস করুন কাজের ক্ষেত্রে আপনার উন্নতি হবে চোখে পড়ার মতো৷ এর কারণ কি জানেন? আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুয়া। তিনি দুয়া করে বলেছিলেন, ‘ইয়া আল্লাহ, আমার উম্মতের ভোরের সময়ে আপনি বারাকাহ দিন।’

স্বয়ং আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভোরের সময়টাতে আপনার জন্য বারাকাহ চেয়ে দুয়া করে গিয়েছেন। সেই ভোরটাকে যদি আপনি নিরন্তর সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলের মাধ্যমে, নেগেটিভ চিন্তা গলাধঃকরণ করতে করতেই ব্যয় করে ফেলেন, দিনের শেষ সময়ে বসে নিজের জীবনটাকে আপনি হতাশার সমুদ্রেই আবিষ্কার করবেন।

Take your morning time seriously.

পহেলা বৈশাখের ‘অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’: তাওহিদি বিশ্বাসে কুঠারাঘাতবাংলা নববর্ষের আগমন উপলক্ষে অনেক মুসলিম কবি ও সাধারণ...
14/04/2026

পহেলা বৈশাখের ‘অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’: তাওহিদি বিশ্বাসে কুঠারাঘাত

বাংলা নববর্ষের আগমন উপলক্ষে অনেক মুসলিম কবি ও সাধারণ মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ’ কবিতার একটি জনপ্রিয় পঙক্তি ব্যবহার করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন:

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ শুভ নববর্ষ!

বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি নববর্ষের একটি সাধারণ কবিতা মনে হলেও এর গভীরের অর্থ ও বিশ্বাস ইসলামি আকিদার (বিশ্বাস) সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জেনে রাখা জরুরি যে, কেন এই শব্দচয়ন বা ধারণা আমাদের ইমানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

❂ অগ্নিস্নান কী?

‘অগ্নিস্নান’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো, আগুনের মাধ্যমে স্নান বা গোসল করা। সনাতন ধর্মীয় ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটে নিজেকে পবিত্র করার জন্য আগুনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার একটি রীতি প্রচলিত ছিল। যেমন— রামায়ণে সীতার সতীত্ব প্রমাণের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’র বিবরণ পাওয়া যায়। এছাড়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় দেহকে আগুনে আহুতি দেওয়াকেও অনেক সময় রূপক অর্থে ‘অগ্নিস্নান’ বলা হয়, যা তাদের বিশ্বাস মতে আত্মাকে পার্থিব কলুষতা থেকে মুক্ত করে পবিত্র করার প্রতীক।

❂ ইসলাম কেন এটি সমর্থন করে না?

ইসলামি শরিয়াহ ও আকিদার মানদণ্ডে এই বাক্যটি অগ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:

১. ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে (যেমন: ওজু, গোসল বা তায়াম্মুম)। কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে পবিত্র করার ক্ষমতা আগুন কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপাদানের নেই। ‘অগ্নিস্নানে পৃথিবী পবিত্র হবে’—এমন বিশ্বাস রাখা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে আগুনের মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতা আরোপ করা হয়।

২. আগুনকে পবিত্রকারী বা উপাস্য মনে করা অগ্নিপূজারীদের প্রাচীন প্রথা। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অমুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতির অনুকরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন:

مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

"যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।" [সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১]

৩. যদি কেউ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, আগুন পৃথিবী বা মানুষকে পবিত্র (শুচি) করতে পারে তবে সে ব্যক্তি ইসলামি আকিদা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। কারণ আগুনের দহন ক্ষমতা যেমন আল্লাহর সৃষ্টি, তাকে পবিত্রকারী মনে করাও তাওহিদ বা একত্ববাদের বিশ্বাস পরিপন্থী।

❑ জাতীয় উৎসব ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি:

ইসলামের দৃষ্টিতে দুই ঈদ ছাড়া জাতীয়ভাবে অন্য কোনো ঈদ-উৎসব পালন করা বৈধ নয়। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন দেখলেন সেখানকার মানুষেরা বছরে দুটি দিন (নওরোজ ও মেহেরজান) আনন্দ-উৎসব করে।

তিনি তাদের বললেন:

إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا الْأَضْحَى وَالْفِطْرَ

"আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য ওই দুই দিনের পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তা হলো, ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।" [সুনানে আবু দাউদ: ১১৩৪]

➧ বিভিন্ন নব উদ্ভাবিত উৎসব বা বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণে উৎসব পালন সম্পর্কে প্রখ্যাত আলেম আল্লামা বকর আবু যাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

الِاحْتِفَالَاتُ الْبِدْعِيَّةُ؛ مِنْهَا: الِاحْتِفَالُ بِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالِاحْتِفَالُ بِلَيْلَةِ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ، وَالِاحْتِفَالُ بِلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَالِاحْتِفَالُ بِرَأْسِ الْعَامِ الْهِجْرِيِّ وَالْمِيلَادِيِّ، وَالِاحْتِفَالُ بِرَأْسِ الْقَرْنِ الْهِجْرِيِّ، وَغَيْرُهَا مِنَ الْأَعْيَادِ الْمُبْتَدَعَةِ لَدَى الْعَالَمِ الْإِسْلَامِيِّ، وَالَّتِي أَدْخَلَهَا الْمُضَلِّلُونَ... وَلِذَا وَجَبَ عَلَى أَهْلِ الْعِلْمِ وَالْهُدَى الْبَيَانُ عَنْ تَحْرِيمِ الْأَعْيَادِ الْمُحْدَثَةِ، وَتَرْكِ الْأَعْمَالِ فِيهَا

"বিদআতি উৎসবসমূহ; তার মধ্যে রয়েছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মবার্ষিকী (ঈদে মিলাদুন্নবি) পালন করা, শবে মেরাজ পালন করা, শবে বরাত (১৫ই শাবান) পালন করা, হিজরি ও খৃষ্ট নববর্ষ উদযাপন করা এবং হিজরি শতাব্দী পালন করা। এছাড়াও মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত অন্যান্য নবউদ্ভাবিত উৎসবসমূহ যা পথভ্রষ্টরা প্রবর্তন করেছে... তাই দ্বীনি ইলম ও হেদায়াতের অধিকারীদের (ওলামায়ে কেরাম) জন্য আবশ্যিক হলো—এ সকল নবউদ্ভাবিত উৎসবের অবৈধতা (হারাম হওয়া) বর্ণনা করা এবং এই দিনগুলোতে বিশেষ আমল

এমন অনৈসলামিক উৎসবে যদি শিরক মিশ্রিত বাক্য ব্যবহার করা হয় তাহলে তা হবে হারামের উপরে হারাম। আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত আল্লাহর কাছে—তিনি যেন তাঁর রহমত ও ক্ষমার মাধ্যমে আমাদের জীবনের সব গ্লানি মুছে দেন

10/04/2026

৫৭ : ৬

یُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَ یُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ ؕ وَ هُوَ عَلِیْمٌ ۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ

তিনিই রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবিষ্ট করেন। তিনি অন্তরের গোপন কথা পর্যন্ত জানেন।

Address

Village
Cumilla

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Path Of Taqwa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share