Path Of Taqwa

Path Of Taqwa তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যে বিষয়ের ইঙ্গিত করা হচ্ছে তার অনুসরণ করো।
আল আহযাব : ০২

পহেলা বৈশাখের ‘অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’: তাওহিদি বিশ্বাসে কুঠারাঘাতবাংলা নববর্ষের আগমন উপলক্ষে অনেক মুসলিম কবি ও সাধারণ...
14/04/2026

পহেলা বৈশাখের ‘অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’: তাওহিদি বিশ্বাসে কুঠারাঘাত

বাংলা নববর্ষের আগমন উপলক্ষে অনেক মুসলিম কবি ও সাধারণ মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ’ কবিতার একটি জনপ্রিয় পঙক্তি ব্যবহার করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন:

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ শুভ নববর্ষ!

বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি নববর্ষের একটি সাধারণ কবিতা মনে হলেও এর গভীরের অর্থ ও বিশ্বাস ইসলামি আকিদার (বিশ্বাস) সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জেনে রাখা জরুরি যে, কেন এই শব্দচয়ন বা ধারণা আমাদের ইমানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

❂ অগ্নিস্নান কী?

‘অগ্নিস্নান’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো, আগুনের মাধ্যমে স্নান বা গোসল করা। সনাতন ধর্মীয় ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটে নিজেকে পবিত্র করার জন্য আগুনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার একটি রীতি প্রচলিত ছিল। যেমন— রামায়ণে সীতার সতীত্ব প্রমাণের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’র বিবরণ পাওয়া যায়। এছাড়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় দেহকে আগুনে আহুতি দেওয়াকেও অনেক সময় রূপক অর্থে ‘অগ্নিস্নান’ বলা হয়, যা তাদের বিশ্বাস মতে আত্মাকে পার্থিব কলুষতা থেকে মুক্ত করে পবিত্র করার প্রতীক।

❂ ইসলাম কেন এটি সমর্থন করে না?

ইসলামি শরিয়াহ ও আকিদার মানদণ্ডে এই বাক্যটি অগ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:

১. ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে (যেমন: ওজু, গোসল বা তায়াম্মুম)। কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে পবিত্র করার ক্ষমতা আগুন কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপাদানের নেই। ‘অগ্নিস্নানে পৃথিবী পবিত্র হবে’—এমন বিশ্বাস রাখা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে আগুনের মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতা আরোপ করা হয়।

২. আগুনকে পবিত্রকারী বা উপাস্য মনে করা অগ্নিপূজারীদের প্রাচীন প্রথা। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অমুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতির অনুকরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন:

مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

"যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।" [সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১]

৩. যদি কেউ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, আগুন পৃথিবী বা মানুষকে পবিত্র (শুচি) করতে পারে তবে সে ব্যক্তি ইসলামি আকিদা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। কারণ আগুনের দহন ক্ষমতা যেমন আল্লাহর সৃষ্টি, তাকে পবিত্রকারী মনে করাও তাওহিদ বা একত্ববাদের বিশ্বাস পরিপন্থী।

❑ জাতীয় উৎসব ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি:

ইসলামের দৃষ্টিতে দুই ঈদ ছাড়া জাতীয়ভাবে অন্য কোনো ঈদ-উৎসব পালন করা বৈধ নয়। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন দেখলেন সেখানকার মানুষেরা বছরে দুটি দিন (নওরোজ ও মেহেরজান) আনন্দ-উৎসব করে।

তিনি তাদের বললেন:

إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا الْأَضْحَى وَالْفِطْرَ

"আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য ওই দুই দিনের পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তা হলো, ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।" [সুনানে আবু দাউদ: ১১৩৪]

➧ বিভিন্ন নব উদ্ভাবিত উৎসব বা বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণে উৎসব পালন সম্পর্কে প্রখ্যাত আলেম আল্লামা বকর আবু যাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

الِاحْتِفَالَاتُ الْبِدْعِيَّةُ؛ مِنْهَا: الِاحْتِفَالُ بِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالِاحْتِفَالُ بِلَيْلَةِ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ، وَالِاحْتِفَالُ بِلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَالِاحْتِفَالُ بِرَأْسِ الْعَامِ الْهِجْرِيِّ وَالْمِيلَادِيِّ، وَالِاحْتِفَالُ بِرَأْسِ الْقَرْنِ الْهِجْرِيِّ، وَغَيْرُهَا مِنَ الْأَعْيَادِ الْمُبْتَدَعَةِ لَدَى الْعَالَمِ الْإِسْلَامِيِّ، وَالَّتِي أَدْخَلَهَا الْمُضَلِّلُونَ... وَلِذَا وَجَبَ عَلَى أَهْلِ الْعِلْمِ وَالْهُدَى الْبَيَانُ عَنْ تَحْرِيمِ الْأَعْيَادِ الْمُحْدَثَةِ، وَتَرْكِ الْأَعْمَالِ فِيهَا

"বিদআতি উৎসবসমূহ; তার মধ্যে রয়েছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মবার্ষিকী (ঈদে মিলাদুন্নবি) পালন করা, শবে মেরাজ পালন করা, শবে বরাত (১৫ই শাবান) পালন করা, হিজরি ও খৃষ্ট নববর্ষ উদযাপন করা এবং হিজরি শতাব্দী পালন করা। এছাড়াও মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত অন্যান্য নবউদ্ভাবিত উৎসবসমূহ যা পথভ্রষ্টরা প্রবর্তন করেছে... তাই দ্বীনি ইলম ও হেদায়াতের অধিকারীদের (ওলামায়ে কেরাম) জন্য আবশ্যিক হলো—এ সকল নবউদ্ভাবিত উৎসবের অবৈধতা (হারাম হওয়া) বর্ণনা করা এবং এই দিনগুলোতে বিশেষ আমল

এমন অনৈসলামিক উৎসবে যদি শিরক মিশ্রিত বাক্য ব্যবহার করা হয় তাহলে তা হবে হারামের উপরে হারাম। আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত আল্লাহর কাছে—তিনি যেন তাঁর রহমত ও ক্ষমার মাধ্যমে আমাদের জীবনের সব গ্লানি মুছে দেন

10/04/2026

৫৭ : ৬

یُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَ یُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ ؕ وَ هُوَ عَلِیْمٌ ۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ

তিনিই রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবিষ্ট করেন। তিনি অন্তরের গোপন কথা পর্যন্ত জানেন।

04/07/2025

ربنا اتنا في الدنيا حسنة وفي الاخرة حسنة وقنا عذاب النار

ইবনুল জাওযী রাহেমাহুল্লাহ
13/06/2025

ইবনুল জাওযী রাহেমাহুল্লাহ

22/05/2025

“স্ত্রী” বুঝাতে কোরআন সর্বমোট তিন প্রকার শব্দ ব্যবহার করেছে।

১) امرأة [ ইমরাআহ ]
যে স্ত্রীর সাথে শুধু দৈহিক সম্পর্কই স্থাপিত হয়, মনস্তাত্ত্বিক কিংবা চিন্তাভাবনার আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকে না তাকে কোরআন [ ইমরাআহ ] বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। বাংলায় বলা যেতে পারে- “পত্নী”।

২) زوجة [ যাওজাহ ]
যে স্ত্রীর সাথে দৈহিক ও মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া খুব ভালো তাকে কোরআন [ যাওজাহ ] বলেছে। বাংলায় আমরা বলতে পারি “স্ত্রী”।

৩) صاحبة [ সাহিবাহ ]
যে স্ত্রীর সাথে মূলত কোন সম্পর্কই কাজ করেনা, কিংবা যে স্ত্রীর কোন অস্তিত্বই যেন নেই তাকে কোরআন [ সাহিবাহ ] বলে বুঝিয়েছে। আমরা বাংলায় বলতে পারি সাথী।

এবার দেখা যাক কোরআনের ক্যানভাসে এ শব্দত্রয়ের বর্ণিল শিল্প, যা কোরআনের অনুপম অলৌকিকতাকে নতুন রূপে তুলে ধরেছে।

নূহ ও লূত (আ.) এর যে স্ত্রীদ্বয় ছিল, তবে তাদের মধ্যে ঈমান ও চিন্তা চেতনার কোন সম্পর্কই ছিল না, তাই কোরআন তাদের স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছে- ইমরাআহ নূহ (নূহ-পত্নী), ইমরাআহ লূত (লূত-পত্নী)।

“আল্লাহ তা’আলা কাফেরদের জন্যে নূহ-পত্নী ও লূত-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল আমার দুই ধর্মপরায়ণ বান্দার গৃহে। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হল: জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নামে চলে যাও। [ সূরা তাহরীম- ১০ ]

লক্ষ্য করুন, এখানে ‘যাওজাহ’ (স্ত্রী) না বলে ‘ইমরাআহ’ (পত্নী) বলেছেন। একইভাবে আসিয়া ও ফিরাউনের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল কিন্তু ঈমান ও চিন্তার সূত্র ছিল না তাই সেখানেও আল্লাহ “স্ত্রী” না বলে পত্নী বলে অভিহিত করেছেন।

“আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের জন্যে ফেরাউন-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। সে বলল: হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে জালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।” [ সূরা তাহরীম- ১১ ]

এবার আসুন ‘যাওজাহ’ বা প্রকৃত “স্ত্রী” কোন কোন ক্ষেত্রে হয়েছে তা পরখ করা যাক।

আদম (আ) এর স্ত্রী হাওয়া (আ) এর ক্ষেত্রে-
“এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী (যাওজাহ) জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।” [ সূরা বাক্বারাহ- ৩৫ ]

মুহাম্মাদ (স) ও তার স্ত্রীগণ-

“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” [ সূরা আহযাব- ৫৯ ]

এবার একটি মজার বিষয় লক্ষ্য করা যাক।

যাকারিয়া (আ) যখন আল্লাহর কাছে স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব স্বত্বেও সন্তানের জন্যে দোয়া করছিলেন সেই কথাটি কোরআন কোট করেছে “ইমরাআহ” বা “পত্নী” শব্দযোগে।

“আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার পত্নী (ইমরাআহ) বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান করুন।”

সম্ভবত এর কারণ হিসেবে বলা যায়, সেই সময়ে যাকারিয়া (আ) ও তার স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য ছিল কিংবা চিন্তার দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এর সমাধান হয়ে যায়। এই কারণেই যাকারিয়া (আ) এর সন্তান লাভের পরের জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে আল্লাহ পাক উল্লেখ করেছেন ‘যাওজাহ’ বা “স্ত্রী” শব্দ দিয়ে।

“অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে (যাওজাহ) সংশোধন করে দিয়েছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।” [ সূরা আম্বিয়া- ৯০ ]

এই কারণেই যখন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছে তখন কি করা উচিত সেই বিষয়ে বিধান দিতে গিয়েও কোরআন নারীকে “পত্নী” বা “ইমরাআহ” বলে বর্ণনা করেছে।

“যদি কোন “পত্নী” (ইমরাআহ) স্বীয় স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে পরস্পর কোন মীমাংসা করে নিলে তাদের উভয়ের কোন গোনাহ নাই। মীমাংসা উত্তম। মনের সামনে লোভ বিদ্যমান আছে। যদি তোমরা উত্তম কাজ কর এবং খোদাভীরু হও, তবে, আল্লাহ তোমাদের সব কাজের খবর রাখেন।” [ সূরা নিসা- ১২৮ ]

আর এরকমের কোন সম্পর্ককে ফোকাস না করে যখন সাধারণ স্বামী স্ত্রীর বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তখন কোরআন স্ত্রীকে “নিসা” (স্ত্রীগণ) বলে প্রকাশ করেছে।

যখন কোরআন বুঝাতে চেয়েছে যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আদৌ কোন সম্পর্ক নেই তখন “সাহিবাহ” বা “সাথী” বলে জানিয়েছে। যেমন কেয়ামতের ময়দানে কেউ যখন কারো থাকবেনা, সবাই দিগ্বিদিক ছুটবে, কোন সম্পর্কই আর কোন কাজে আসবেনা… এমন অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে কোরআন স্ত্রীকে “সাহিবাহ” বা “সাথী” বলেছে।

“সেদিন পলায়ন করবে মানুষ তার ভ্রাতার কাছ থেকে,তার মাতা, তার পিতা, তার #সাথী (সাহিবাহ) ও তার সন্তানদের কাছ থেকে।” [ সূরা আবাসা- ৩৪-৩৬ ]

এমনিভাবে যে স্ত্রীর বাস্তবিক কোন অস্তিত্বই নেই তাকেও কোরআন “সাহিবাহ” বলে অভিহিত করেছে। যেমন, আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের কোন পত্নী কিংবা সঙ্গী নেই মর্মে ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন-

“তিনি নভোমন্ডল ও ভূমণ্ডলের আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সাথী নেই ? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ।” [ সূরা আনআম- ১০১ ]

এই সেই কোরআন, যার প্রতিটি শব্দ বুননের পিছনেও রয়েছে কার্যকরী মূলনীতি। প্রতিটি শব্দের গভীরতায় রয়েছে সমাজ দর্পণের এপিঠ-ওপিঠ। আল্লাহ, তুমি আমাদের কোরআনের জ্ঞান বাড়িয়ে দাও,
আমীন।

আমেরিকা আফগান থেকে পালানোর সময় ৭ বিলিয়ন মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হইছে।বহুকাল পরে ট্রাম্প সেগুলো ফেরত চাইছে।এর জব...
27/02/2025

আমেরিকা আফগান থেকে পালানোর সময় ৭ বিলিয়ন মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হইছে।বহুকাল পরে ট্রাম্প সেগুলো ফেরত চাইছে।এর জবাবে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন,

❝কেউ যেন এটা মনে না করে যে, তারা আফগানিস্তানকে আদেশ দিতে পারে। আমরা কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ বা প্রশাসনের অধীনে নই। আমেরিকান বাহিনী যে অস্ত্রগুলো রেখে গেছে, সেগুলো এখন আফগান জনগণের সম্পত্তি।কেউ যদি সেগুলো আমাদের থেকে নিতে চায়, তাহলে আমরা সেসব অস্ত্রের ভাষায়ই জবাব দেবো।❞

সারাবিশ্বে আমেরিকা গনতন্ত্রের নামে ওদের শ্যাডো অর্ডার চাপাইয়া দিতে পারলেও আফগানিস্থানে ওরা পারে নাই।শুধু ওরা না বরং গত ১০০০ বছর মাল্টিপল টাইম যুগের সুপারপাওয়ারগুলো ওদের দখল করতে গেলেও শেষমেষ পরাস্ত হয়ে ফিরেছে।তাই আফগানকে বলা হয় "সাম্রাজ্যের কবরস্থান(Graveyard of empires) "।

তারা শহীদ হবে,প্রতিরোধ করবে তবুও গোলামী করবে না।পরাশক্তির মুখের উপর এমন হুংকার ছুড়তে পারার একটা ভাষা আছে তাদের,এর নাম তাওহীদের ভাষা।

17/01/2025

রাজনীতির সাথে কুরআনের কি আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে?

আসুন জেনে নেই ..

সমাজ ও রাষ্ট্রে যদি জুলুম ও দুঃশাসন মুক্ত ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা রাজনীতির উদ্দেশ্যে হয় তাহলে বলতে হবে কুরআনের সাথে রাজনীতির গভীর সম্পর্ক সম্পর্ক রয়েছে। কেননা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বহুবার নির্দেশ দিয়েছেন।

কুরআনের ভাষায় ..
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ.

'নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।' —সূরা নাহল ১৬/৯০।

মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেন ..

إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ.

'(হে নবী) নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের মধ্যে শাসনকার্য পরিচালনা কর সে অনুযায়ী যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন।' —সূরা নিসা ৪/১০৫।

মুমিনগণ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে তাদের করণীয় কি, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন ..

الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ.

'তারা এমন, যাদেরকে আমি পৃথিবীর বুকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।'
—সূরা হজ্জ ২২/৪১।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ..

الْإِسْلَامُ وَالسُّلْطَانُ أَخَوَانِ تَوْأَمٌ، لَا يَصْلُحُ وَاحِدٌ مِنْهُمَا إِلَّا بِصَاحِبِهِ، فَالْإِسْلَامُ أُسُّ وَالسُّلْطَانِ حَارِسٌ، وَمَا لَا أُسَّ لَهُ مُنْهَدِمٌ، وَمَا لَا حَارِسَ لَهُ ضَائِعٌ.

'ইসলাম ও রাষ্ট্রব্যবস্থা দুই সহোদর ভাইয়ের ন্যায়। তাদের একজন অপরজনকে ছাড়া সংশোধন ও পরিপূর্ণ হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইসলাম হচ্ছে কোন অট্টালিকার ভিত। আর রাষ্ট্রশক্তি তার পাহারাদার। যে অট্টলিকার ভিত নেই তা যেমন পড়ে যেতে বাধ্য, তেমনি যার পাহারাদার বা রক্ষক নেই তাও ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য।' —ইমাম দাইলামী, আল ফিরদাউস ১/১১৭; ইমাম সুয়ূতী, জামউল জাওয়ামি হাঃ ১০১২২; কানযুল উম্মাল হাঃ ১৪১৬১৩।

যদি রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে কুরআনকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, সেক্ষেত্রে কুরআনকেই আঁকড়ে ধরতে হবে এবং নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও কুরানের শাসনব্যবস্থা কায়েম করার জন্য রাজনৈতিক কর্ম তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে। হযরত মু'আয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন ..

أَلَا إِنَّ رَحَى الْإِسْلَامِ دَائِرَةٌ ، فَدُورُوا مَعَ الْكِتَابِ حَيْثُ دَارَ، أَلَا إِنَّ الْكِتَابَ وَالسُّلْطَانَ سَيَفْتَرِقَانِ، فَلَا تُفَارِقُوا الْكِتَابَ، أَلَا إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يَقْضُونَ لِأَنْفُسِهِمْ مَا لَا يَقْضُونَ لَكُمْ، إِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ، وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّوكُمْ .قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ نَصْنَعُ؟ قَالَ: كَمَا صَنَعَ أَصْحَابُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، نُشِرُوا بِالْمَنَاشِيرَ، وَحُمِلُوا عَلَى الْخَشَبِ، مَوْتٌ فِي طَاعَةِ اللهِ خَيْرٌ مِنْ حَيَاةٍ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ.

'জেনে রাখো, ইসলামের চাকা প্রতিনিয়ত ঘুর্নায়মান অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাব কুরআনের সাথে ঘুর্নায়মান হও। মনে রাখবে, আল্লাহর কিতাব আল কুরআন ও শাসনক্ষমতা উভয়ই অচিরেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তবে সাবধান, তোমরা কুরআনের সঙ্গ ত্যাগ করবে না। ভবিষ্যতে এমন সব ব্যক্তি তোমাদের শাসক হয়ে বসবে যারা তোমাদের উপর (কুরআন বিরোধী) শাসন ফায়সালা প্রতিষ্ঠা করবে। তোমরা যদি তাদের মেনে চলো তবে তারা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে। আর যদি তোমরা তাদের অমান্য করো তোমাদের মৃত্যুর মুখে নিক্ষেপ করবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) তখন আমরা কী করব? জবাবে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তখন তোমরা তাই করবে, যা হযরত ঈসা (আঃ) এর সাথীরা করেছেন। তাঁদেরকে করাত দিয়ে দীর্ণ করা হয়েছে, তাঁরা শুলবিদ্ধ হয়েছেন (তবুও আল্লাহর নাফরমানী করেননি)। কেননা আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত জীবনের চেয়ে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে মৃত্যুবরণ অনেক উত্তম।' —তাবারানী ফিল মু'জামুল কাবীর ২০/৯০, ১৭২; মু'জামুস সাগীর ২/৪২; হিলয়াতুল আউলিয়া ৫/১৬৫; মাজমাউজ জাওয়ায়িদ ৫/২৪১।

আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন ..

ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺑَﻨُﻮْ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴْﻞَ ﺗَﺴُﻮْﺳُﻬُﻢْ ﺍﻷَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﻛُﻠَّﻤَﺎ ﻫَﻠَﻚَ ﻧَﺒِﻲٌّ ﺧَﻠَﻔَﻪُ ﻧَﺒِﻲٌّ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻧَﺒِﻲَّ ﺑَﻌْﺪِﻱْ ﻭَﺳَﻴَﻜُﻮْﻥُ ﺧُﻠَﻔَﺎﺀُ فَيَكْثُرُونَ.

'বনী ইসরাঈলের নবীগণ তাঁদের উম্মাতদের মাঝে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিতেন ও শাসন করতেন। যখন কোন একজন নবী মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন। আর আমার পরে কোন নবী নেই। তবে অনেক খলীফা হবে (যারা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেবেন)।' —সহীহ বুখারী, হাঃ ৩৪৫৫; সহীহ মুসলিম হাঃ ১৮৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৯৪৭; সুনান ইবনে মাজাহ হাঃ ২৮৭১; আইনী, উমদাতুল ক্বারী হাঃ ৩৪৫৫; ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী ৬/৪৯৫, ৮/১১০, ১০/৫৭৭।

সুতরাং যারা বলে রাজনীতির সাথে কুরআনের কোনো সম্পর্ক নেই; আমরা বলবো, তারা মূলতঃ ইসলামই বুঝেন না। তাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্কও নেই।

সালাতের জন্য অযূ করার ফলে যদি আপনার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, সালাতের দিকে হেঁটে যাওয়ার বিনিময়ে যদি আসমানে আপনার সম্...
20/12/2024

সালাতের জন্য অযূ করার ফলে যদি আপনার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, সালাতের দিকে হেঁটে যাওয়ার বিনিময়ে যদি আসমানে আপনার সম্মান আর মর্যাদাকে উন্নীত করা হয়, সালাত শেষ করে সালাতের জায়গায় যতক্ষণ বসে থাকেন ততক্ষণ যদি ফেরেশতারা আপনার জন্য দুয়া করতে থাকে, তাহলে একটাবার ভাবুন তো—সালাতের মূল বিনিময়টা তাহলে কী হতে পারে?

আমি ভাবি—আমি যদি আগামিকাল থেকে না থাকি, আমার পরিবারটার কী হবে, আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো, কেমন অদ্ভুত একটা জীবনে এসে পড়বে ...
19/12/2024

আমি ভাবি—আমি যদি আগামিকাল থেকে না থাকি, আমার পরিবারটার কী হবে, আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো, কেমন অদ্ভুত একটা জীবনে এসে পড়বে তারা!

তবে, যখন থেকে সুরা আল কাহফের সেই দুজন ইয়াতীম বালকের ঘটনাটা পড়েছি, তখন থেকে এই ভয়টাও আর তীব্র হয়ে হানা দিতে পারে না আমার মনে।

সুরা আল কাহাফের শেষের দিকে, মুসা আলাইহিস সালাম আর খিযির আলাইহিস সালামের ঘটনায় বিষয়টা পাওয়া যায়। খিযির আলাইহিস সালাম সেদিন বেশ অদ্ভুত অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করছিলেন যা অবাক করে দিচ্ছিল নবি মুসা আলাইহিস সালামকে। তারা একটা বাড়িতে খাবারের খোঁজে গিয়ে খালি হাতে ফেরত আসলেন। বাড়ির লোকেরা তাদের কোনো খাবার দিতে চাইল না।

যে বাড়ির লোকেরা খাবার দেয়নি, সেই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে, সেই বাড়ির একটা ভাঙা দেওয়াল খিযির আলাইহিস সালাম মেরামত করে দেন।

ব্যাপারটা আশ্চর্য করে দেয় মুসা আলাইহিস সালামকে। তিনি জিগ্যেস করে বসেন, ‘এই লোকগুলো আমাদের তিরস্কিত করল। কোনো খাবারই দিলো না। আর আপনি কী না তাদের ভাঙা দেওয়া ঠিক করে দিয়ে এলেন?’

খানিক বাদে নবি মুসা আলাইহিস সালামের এই প্রশ্নের জবাব দিলেন খিযির আলাইহিস সালাম।

তিরস্কিত হওয়া সত্ত্বেও কেন সেই বাড়ির ভাঙা দেয়াল তিনি মেরামত করে দিয়েছিলেন সেটা খোলাসা করতে গিয়ে খিযির আলাইহিস সালাম বলেন যে—‘এই দেয়ালটা দুজন ইয়াতীম ছেলের। কিন্তু তারা এখনো নাবালক। এই দেয়ালের নিচে তাদের জন্য তাদের পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ গুপ্ত অবস্থায় আছে। দেয়ালটা যদি এখনই ভেঙে যায়, সেই সম্পদ সকলের গোচরে চলে আসবে আর তা অন্যেরা ভোগদখল করে নেবে। তিনি দেয়াল পুনঃনির্মাণ করে দিয়েছেন যাতে বালকেরা যৌবনে পৌঁছাবার আগে এই সম্পদ লুকোনো আর সুরক্ষিত থাকে।’

কিন্তু, বালকদ্বয়ের জন্য এই যে উপকার, এই উপকারটা খিযির আলাইহিস সালাম কেন করেছিলেন জানেন? একই আয়াতে এই কাজটার নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন—‘তাদের বাবা ছিলেন একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি’।

তাদের বাবা একজন সৎকর্মশীল, পরহেযগার, মুত্তাকী মানুষ ছিলেন। ঠিক এই কারণে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের মতো একজন প্রসিদ্ধ নবি আর খিযির আলাইহিস সালামের মতো একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিলেন যাতে উক্ত মুত্তাকী, সৎকর্মশীল ব্যক্তির সন্তানদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকে। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি!
মৃত্যুর পরে আমাদের পরিবার, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানাদি এদের ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আমরা যারা পেরেশান, আমাদের জন্য চমৎকার একটা উদাহরণ সুরা আল কাহাফের এই ঘটনাটি।

যদি আমরাও আল্লাহর মুত্তাকী বান্দা হতে পারি, যদি আমরাও হয়ে উঠতে পারি সৎকর্মশীল, ন্যায়পরায়ণ আর সত্যিকার সালেহিন বান্দা, আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হয়তো কোনো একজন খিযিরকে ঠিক ঠিক পাঠিয়ে দেবেন।

মানুষ তার ধর্ম-বিশ্বাস আর নফসের তাড়না নিয়ে সারাক্ষণই এক দোটানায় ভুগতে থাকে। দীন সবসময়ই মানুষকে একটা সীমানার মধ্যে রাখতে ...
12/12/2024

মানুষ তার ধর্ম-বিশ্বাস আর নফসের তাড়না নিয়ে সারাক্ষণই এক দোটানায় ভুগতে থাকে। দীন সবসময়ই মানুষকে একটা সীমানার মধ্যে রাখতে চায়। আর ইসলাম—যার অর্থই হলো আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করা। এককথায়, আত্মসমর্পণ। কিন্তু আমাদের নফসানিয়াত নির্ভর এই পৃথিবীর স্লোগান ঠিক তার উল্টো— "বাঁধ ভেঙে দাও।"

যাদের হৃদয়ে একফোটা ঈমান আছে, তারা সারাক্ষণ এই দোটানার মধ্যেই অস্থিরতায় ভোগে। কেউ কেউ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করেও বসে—
"ইয়া আল্লাহ! কেন এই লাগামছাড়া নফস দিলে, এরপর আবার সেটায় লাগাম পরানোর গুরু দায়িত্ব দিলে? এ-যে পৃথিবীর কঠিনতম পরীক্ষা!"

আমরা দুনিয়ার জন্য কত প্ল্যান করি। আবার বারবার ব্যর্থ হই। ব্যর্থতার ক্ষত থেকে জন্ম নেওয়া হতাশা দূর করতে কাতর হই। চিন্তিত হই। তারপর আবার নতুন পরিকল্পনায় ঝাঁপিয়ে পড়ি।

কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন খেয়াল হয়—জীবন তো ফুরিয়ে আসছে! আখিরাত নিয়ে কোনো পরিকল্পনা তো করা হয়নি। আমল করা তো দূরের কথা! মাঝেসাঁজে দু-চার রাকাত নামাজ, কিছুদিন রোজা রেখে মনে হয়—"একদম উদ্ধার করে ফেলেছি!"

বোধ আর অনুশোচনা মাঝেমধ্যে আসে না, তা নয়। কিন্তু আমরা দুনিয়ার সুখ-দুঃখ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকি যে, সেই অনুশোচনাকে পুঁজি করে আমল করার সময় আর হয়ে ওঠে না।

আমরা ভাবি—অমুক যদি এমন হতো, তমুক যদি আমাকে বুঝতো, তাহলে দীন-দুনিয়া ম্যানেজ করা অনেক সহজ হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কারো মন নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। এমনকি নিজেদের নফসকেও ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

হারুত-মারুতের মতো ফেরেশতারাও মানুষের এই দোটানাকে বুঝতে পারেনি। তারা ভেবেছিল—মানুষের জায়গায় থাকলে সব ঠিকঠাক করে ফেলতাম। কিন্তু যখন তাদের মানুষ বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হলো, তারাও পথভ্রষ্ট হলো।

তাহলে, মানুষের জীবনের আসল হাকিকত কী?

দুনিয়াতে নফস কখনো তৃপ্ত হবে না। তাকে যদি সোনার তৈরি একটি উপত্যকা দেওয়া হয়, সে তখন দ্বিতীয়টা চাইবে। মানুষের চাহিদা পূর্ণ হয় না। বরং, আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমেই তার অতৃপ্ত নফস কিছুটা শান্তি পেতে পারে।

আমরা ভাবি—সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখন না পেলে, কখন? কিন্তু সত্যটা হলো—সময় আর আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরের বাইরে কেউই যেতে পারে না।

আমরা কেউই আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করতে চাই না। কিন্তু তার সীমানা পেরিয়েও যেতে পারি না।

দুনিয়ায় নফসকে খুশি করার চেষ্টা করতে গিয়ে, আমরা কি আখিরাত হারিয়ে ফেলছি?

ভাবুন... সময় তো ফুরিয়ে যাচ্ছে!

29/11/2024

সূরা আদ-দোহা (আল-কোরআন, সূরা নং ৯৩) মক্কায় অবতীর্ণ একটি সূরা। এই সূরায় আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এটি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নবুওয়াতের প্রাথমিক সময়ে নাযিল হয়েছিল।

বাংলা অনুবাদ:

১. শপথ, দিনের আলো!
২. এবং শপথ, রাত্রির যখন তা স্থির হয়।
৩. আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হননি।
৪. নিশ্চয়ই আপনার জন্য পরবর্তী (জীবন) আগের (জীবন) থেকে উত্তম।
৫. এবং আপনার প্রতিপালক শীঘ্রই আপনাকে দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
৬. তিনি কি আপনাকে এতিম অবস্থায় পাননি, তারপর আশ্রয় দিয়েছেন?
৭. এবং তিনি আপনাকে পথহারা অবস্থায় পেয়েছেন, তারপর পথপ্রদর্শন করেছেন।
৮. এবং তিনি আপনাকে অভাবগ্রস্ত পেয়েছেন, তারপর সমৃদ্ধ করেছেন।
৯. অতএব, এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।
১০. আর সাহায্য প্রার্থীর প্রতি ধমক দিবেন না।
১১. আর আপনার প্রতিপালকের নিয়ামত বর্ণনা করুন।

---

মূল শিক্ষা:

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার প্রতি কখনো উদাসীন নন।

অতীতের কষ্ট ও সংগ্রামের পর ভবিষ্যৎ সবসময় উত্তম হবে।

এতিম ও অভাবগ্রস্তদের প্রতি সদয় আচরণ করার নির্দেশ।

আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

সূরা আদ-দোহা আমাদের শিখায় যে, জীবনে যদি কোনো সময় অসুবিধা বা দুঃসময় আসে, তখনও আল্লাহর রহমতের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। এই সূরা আমাদের জন্য সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণার উৎস।

Address

Village
Cumilla

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Path Of Taqwa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share