Shahpur Darbar Sharif, Comilla, BD

Shahpur Darbar Sharif, Comilla, BD Is a Spritual organization which provide proper Aqidah of Islam under Qaderia Tariqa. shahjada Gulam

৩১ শে অক্টোবর...১৯২৯ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় ফাঁসি দেওয়া হয় ২১ বছর বয়সী ইলমুদ্দিনকে।ইলমুদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত ভারতে...
01/11/2019

৩১ শে অক্টোবর...

১৯২৯ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় ফাঁসি দেওয়া হয় ২১ বছর বয়সী ইলমুদ্দিনকে।ইলমুদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত ভারতের একজন মুসলিম।তার পিতা একজন জুতার মিস্ত্রী ছিলেন। ইলমুদ্দিন 'রঙ্গিলা রসূল' নামক বইয়ের প্রকাশক রাজপালকে হত্যা করেন।এই বইয়ে রাসূল (সাঃ) নিয়ে কুৎসা রটনা করা হয়েছিল।মুসলিমরা এটিকে তাদের ধর্মবিশ্বাসের উপর আক্রমণ হিসেবে দেখেন।ভারতীয় মুসলিমরা বইটি নিষিদ্ধের দাবি জানায়। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার মুসলিমদের দাবির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেনি।ইলমুদ্দিন রাজপালকে হত্যার সংকল্প করে বাজার থেকে এক রুপি দিয়ে একটি ছুরি কিনেন।ছুরিটি প্যান্টের ভেতর নিয়ে তিনি রাজপালের দোকানে গিয়ে তাকে হত্যা করে।

পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ইলমুদ্দিনের আইনজীবী তাকে বলেছিল যে, "তুমি বল যে তোমার মানসিক অবস্থা ভাল ছিল না।তুমি অবচেতন মনে হত্যা করেছ।তাহলে হয়ত তোমাকে ফাঁসি থেকে বাঁচানো যাবে"।ইলমুদ্দিন একথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিল " আমি আমার কাজের জন্য গর্বিত"। দন্ডবিধি অনুসারে তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

১৯২৯ সালের ৩১ শে অক্টোবর তার ফাঁসি হয়।তার মৃতদেহ জানাজা ছাড়াই কারাগারে দাফন করা হয়।কিন্তু ড আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, মিয়া আমিরুদ্দিন এবং আবদুল আজিজের মত মুসলিম নেতাদের হস্তক্ষেপে লাশ কবর থেকে বের করা হয়।ইলমুদ্দিনের পিতা আল্লামা ইকবালকে জানাজার নামাজের ইমামতির জন্য অনুরোধ করেন। ইকবাল উত্তর দেন এই বলে, “এই মহান যোদ্ধার জানাজা পড়ানোর তুলনায় আমি একজন পাপী ব্যক্তি”। তিনি লাহোরের হিযবুল আহনাফের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ দিদার আলি শাহকে জানাজা পড়ানোর প্রস্তাব করেন।ইলমুদ্দিনের জানাজায় প্রায় ২ লাখেরও বেশী মানুষ উপস্থিত হয়েছিল।

মাওলানা জাফর আলী খান লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন,"হায়!আমি যদি তার মত উচ্চ মর্যাদা অর্জন করতে পারতাম!" আল্লামা ইকবাল ইলমুদ্দিনের লাশ কবরে রাখতে রাখতে বলেন,'এই নিরক্ষর যুবক ছেলেটি আমাদের আমাদের শিক্ষিতদের চেয়েও এগিয়ে গিয়েছে।' তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য মিয়ানওয়ালি কারাগারে গাজি ইলমুদ্দিন শহীদ মসজিদ নাম একটি মসজিদ তৈরী করা হয়।

সূত্র:উইকিপিডিয়া
https://bn.wikipedia.org/s/qz9
https://en.wikipedia.org/wiki/Ilm-ud-din

ছবিঃটুইটার
ইলমুদ্দিনের জানাজায় ছবি যেখানে আল্লামা ইকবাল উপস্থিত আছেন।

20/11/2017

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী ﷺ বিষয়ে ৩ পর্বের দালিলিক আলোচনা ও বিরুদ্ধবাদিদের বিরোধীতার পোস্টমর্টেম।
পর্ব-১

সম্পাদনায়ঃ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক ওয়েসী
শিক্ষার্থীঃ আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিসর।
_________________________________
আমরা আমাদের সম্পূর্ণ আলোচনাটা তিনটি পয়েন্টে ভাগ করেছি পাঠকদের সহজেই বুঝার জন্য।আর সেই তিনটি পয়েন্ট হলো-

১/দয়াল নাবীজী (ﷺ) এঁর আগমনের দিন কে উপলক্ষ করে মাহফিল করা, খুশি উদযাপন করা, একত্রিত হওয়া,তাবারুক বিতরণ করার বৈধতা কুরআন হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত।

২/জবাব তাদের কথার উপর যারা বলে, দয়াল নাবীজী (ﷺ) এঁর আগমনের দিন উপলক্ষে অনুষ্ঠান উদযাপন করা বিদয়াত বা নব্যসৃষ্টি।এবং জবাব তাদের জন্যও যারা এই দিনে ঈদ উদযাপন বা অনুষ্ঠান করাকে ঘৃনা করে।

৩/দয়াল নাবীজী (ﷺ) এর আগমন দিনে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কতিপয় ওলামায়ে কেরামদের অভিমত এবং তাদের কিতাব সমূহ।

নিশ্চয়ই দয়াল নাবীজী(ﷺ) এর আগমন দিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের বৈঠক নেক কাজসমূহ থেকে একটি নেক কাজ। যেটার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা যায়। এবং ঈমানের মূল।
নিম্নে ধারাবাহিক ভাবে এই ৩টি পয়েন্ট এবং পয়েন্টের দলীল উপস্থাপন করবো, ইনশাআল্লাহু তাআলা,আজ রয়েছে প্রথম পয়েন্টেরর আলোচনা ...

النقطة الأولى(প্রথম পয়েন্ট)

(إثبات جواز الاحتفال بالمولد النبوي الشريف من الكتاب والسنة)
অর্থাৎ দয়াল নাবীজী (ﷺ) এর আগমন দিনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করার বৈধতা পবিত্র ক্বুরআন সুন্নাহ্ দ্বারা প্রমাণিত

الدليل الأول(প্রথম দলীল)

(تعظيم أيام وأماكن ولادة بعض الأنبياء في الكتاب والسنة)
অর্থাৎ :(পবিত্র ক্বুরআন সুন্নাহর আলোকে কতিপয় আম্বিয়া আলাইহিস সালাম গনের জন্মের দিন এবং স্হান সমূহের মর্যাদা।)

জুমআর দিনের মর্যাদা :
কেননা এই দিনে হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে।
والحديث في (صحيح مسلم) عن أَبي هريرةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ، يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وفيه أُدْخِلَ الْجَنَّةَ، وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا، ولَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ».
অর্থাৎ সহীহ্ মুসলিম শরীফে রয়েছে :হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবীজী (ﷺ) বলেন -উত্তম দিন (যে দিন সূর্য উদিত হয়েছে) জুমআর দিন। কেননা এই দিনে হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তিঁনাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এই দিনেই তিঁনাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে , এই দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে")।

# #লক্ষ্য করুন
যদি জুমআর দিন হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করার কারনে এই দিনের এতো মর্যাদা হয়! তাহলে অবশ্যই দয়াল নাবীজী (ﷺ) এঁর আগমন দিন তিঁনার আগমনের কারনে অধিক মর্যাদাবান অধিক সম্মানিত হবে...এতে কারো কোন দ্বিমত থাকার কথানা!
আর ঐ যুগ /সময়, হযরত আদম (আঃ) এর আগমনের কারনে যদি এতো সম্মানিত হয়।
তাহলে কেমন অবস্থা হবে ঐ যুগ বা সময়ের, যে যুগে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সাইয়্যেদুনা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবির্ভূত হয়েছেন???
______________
"বাইতে লাহাম" নামক স্হানের মর্যাদা:
যে স্হানে হযরত ঈসা ইবনু মারইয়াম( আঃ) ভূমিষ্ঠ হয়েছেন।
و الحديث في (سنن النسائ): عن شداد بن أوس:" أن جبريل عليه السلام أمر النبي (ﷺ)بصلاة ركعتين ببيت لحم، ثم قال له "أتدري أين صليت؟ قلت: الله أعلم، قال صليت ببيت لحم حيث ولد المسيح عيسى بن مريم "
সূনানে নাসায়ীতে রয়েছে : হযরত শাদ্দাদ ইবনে আউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত :"নিশ্চয়ই জিবরাইল (আঃ) নাবীজী (ﷺ) কে বাইতে লাহম এ দুই রাকাত নামাজ পড়তে বললেন। অতপর তিঁনি নাবীজী (ﷺ) কে বললেন আপনি কি জানেন কোথায় নামাজ পড়েছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আল্লাহ্ তাআলাই ভালো জানেন, জিবরাঈল (আঃ) বললেন আপনি বাইতে লাহমে নামাজ পড়েছেন যেখানে হযরত ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে ভূমিষ্ঠ করা হয়েছে।
--------------
পবিত্র ক্বুরআনে হযরত আম্বিয়া (আঃ) গনের জন্মদিনের উপর সালাম বা শান্তি প্রদান করা হয়েছে :
كقوله تعالى حكاية عن عيسى عليه السلام: "والسلام علي يوم ولدت "
অর্থাৎ যেমনিভাবে আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআলা হযরত ঈসা (আঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করেন :"এবং ঐ সালাম আমার উপর যে দিনে আমি জন্মলাভ করেছি "।
তাহলে নাবীজী (ﷺ) কি তিঁনার আগমন দিনে সালাম দ্বারা অধিক আওলা বা অধিক শ্রেষ্ঠতর হবেন না!!
অতএব প্রথম দলিল থেকে আমরা পাই নির্দিষ্ট দিন, কাল, স্হান সরণ করার বৈধতা। আর দয়াল নাবীজী (দরুদ) এর আগমন দিন সরণ করে মাহফিল উদযাপন করা হচ্ছে সর্বাপেক্ষা উত্তম।
------------------
الدليل الثاني(দ্বিতীয় দলীল):

قصة عتق أبي لهب لثويبة الأسلمية فرحا بمولد النبي(ﷺ).
অর্থাৎ :নাবীজী (ﷺ) এর আগমনে খুশি হয়ে আবু লাহাব তার দাসী সুয়াইবা আল আসলামীয়া কে মুক্ত করে দেওয়ার ঘটনা:
ইবনু কাসীর (রহঃ) তাঁর (বিদায়া ওন নিহায়াহ) নামক কিতাবে বলেন :নিশ্চয়ই প্রথমে যিনি নাবীজী (ﷺ) কে দুগ্ধ পান করিয়েছেন তিনি হচ্ছেন সুয়াইবা, আবু লাহাবের দাসী। নাবীজী (ﷺ) এর বিলাদাতের সুসংবাদ পাওয়া মাএই আবু লাহাব তার দাসী সুয়াইবাকে মুক্ত করে দেয়। তার এই কাজের প্রতিদান হিসেবে প্রতি সোমবার তার শাস্তি কে কমিয়ে দেওয়া হয়। সহীহ্ বুখারী শরীফে এসেছে: ولهذا أن العباس بن عبدالمطلب رأى أبا لهب في النوم بعد وفاته فسأله عن حاله فقال: لم ألق خيرا بعدكم غير أني سقيت في هذه بعتاقتي ثويبة وإنه ليخفف علي في كل يوم اثنين أخرجه البخاري (5101) في النكاح والسهيلي في الروض الأنف (5/192) فتح الباري (1/124
অর্থাৎ :এটার কারনেই হযরত আব্বাস ইবনু আব্দুল মাত্তালিব (রাঃ) আবু লাহাবের ওফাতের পর তাকে সপ্নে দেখে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করলেন। আবু লাহাব বললো, তোমাদের পরে আমি ভালো কিছুর সাক্ষাৎ পাইনি,তবে আমার ভাতিজা (হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর ভূমিষ্ট হওয়ার সংবাদে খুশি হয়ে আমার দাসী সুয়াইবা কে মুক্ত করার কারনে আমাকে পান করানো হয়। এবং অবশ্যই ঐটার কারনে প্রতি সোমবার আমার শাস্তি কে হালকা করে দেওয়া হয়। ইমাম বুখারী কিতাবুন নিকাহর (৫১০১) নম্বর হাদীসে,এবং সুহাইলী রওদুল আনফের ৫ খন্ডের ১৯২ পৃষ্ঠায়,ফাতহুল বারী ১ খন্ডের ১২৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।
লক্ষ্য করুন :
এটাই যদি সত্য হয়, একটা কাট্টা কাফের যাকে পবিত্র ক্বুরআনে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে, নাবীজী (ﷺ) এর আগমনে খুশি হওয়ার কারণে যদি প্রতি সোমবার তার শাস্তি কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে একজন মুমিন একত্ববাদী যখন নাবীজী (ﷺ) এর আগমনে আনন্দ উদযাপন করে তার কি অবস্থা হবে...! এবং সে ঐটার উপরেই মৃত্যু বরণ করে।
-------------
الدليل الثالث(তৃতীয় দলীল):

(احتفاله(ﷺ) بمولده بصيامه يوم الإثنين):
অর্থাৎ নাবীজী (ﷺ) সোমবার দিনের রোযার দ্বারা তিঁনার আগমন দিন বা জন্ম দিন পালন করেছেন।
فقد أخرج مسلم في (صحيحه) عن أبي قتادة رضي الله عنه أن رسول الله(ﷺ) سئل عن صوم يوم الإثنين، فقال: "ذاك يوم ولدت فيه، ويوم بعثت فيه "
অর্থাৎ :অতএব অবশ্যই ইমাম মুসলিম (রাঃ) তাঁর সহীহ্ গ্রন্থে হযরত ক্বতাদাহ্ (রাঃ)থেকে উল্লেখ করেছেন,নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) কে সোমবার দিনের রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করা হলো, অতপর তিঁনি (ﷺ) বললেন "ঐ দিনেই আমি ভূমিষ্ঠ হয়েছি(সোমবার দিন) এবং ঐদিনেই আমার উপর ক্বুরআন প্রেরণ করা হয়েছে। ( সহীহ্ মুসলিম শরীফ দ্বিতীয় খন্ডের 819 পৃষ্ঠার 1162 নম্বর হাদীস)
আর এই উদ্ধৃতিটি নাবীজী(ﷺ) এর আগমন দিন পালন করার উপরই বহন করে। আর হাদীসের ব্যাপকতা থেকে বুঝা যায়, নিশ্চয়ই নাবীজী (ﷺ) তিঁনার আগমন দিনের রোযার ব্যাখ্যা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওতাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিকেই ইংগিত করেছেন। যেটা প্রত্যেক বছরের ঐদিন উদযাপন করার একটা দিক। এবং প্রত্যেক সোমবার।
---------------
الدليل الرابع(চতুর্থ দলীল):

ما صح عن النبي (ﷺ) في صيام يوم عاشوراء.
অর্থাৎ :আশুরার দিনের রোযার ব্যাপারে নাবীজী(ﷺ) থেকে যা সঠিক হয়েছে.
فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما قدم النبي (ﷺ) المدينة وجد اليهود يصومون عاشوراء، فسئلوا عن ذالك، فقالوا هذا اليوم الذي أظفر الله فيه موسى و بني إسرائيل على فرعون، ونحن نصومه تعظيما له، فقال رسول الله (ﷺ): "نحن أولى بموسى منكم "،ثم أمر بصومه.(متفق عليه)
অর্থাৎ :হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিঁনি বলেন:যখন নাবীজী (ﷺ) মাদীনায় গমন করলেন ইহুদিদেরকে আশুরার রোযা রাখা অবস্থায় পাইলেন, অতপর তাদেরকে রোযা রাখার কারন সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করা হইলো, তারা বললো এই দিনে আল্লাহ্ সুবহানাহু ও তাআলা হযরত মূসা (আঃ) এবং বনী ইসরাঈল কে ফেরাউন সমপ্রদায়ের উপর বিজয় দিয়েছেন। আর আমরা তার রোযা রাখি(আশুরার রোযা) তাঁর সম্মানার্থে(হযরত মূসা আঃ)। অতপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমরা মূসা (আঃ) এর প্রতি তোমাদের থেকে অধিক হক্বদার। অতপর তিঁনি(ﷺ) আশুরার রোযা রাখার নির্দেশ করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)।
** আর এই হাদীসটি যুগ বা কালের পর্যবেক্ষণের প্রতিই সুদৃঢ়করণ করে। কেননা নাবীজী (ﷺ) ধর্মের ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনা সমূহকে যুগ বা কালের সম্পৃক্ততায় তত্ত্বাবধায়ন করতেন।
তাহলে নাবীজী (ﷺ) এর আগমন দিনই হচ্ছে সর্বাপেক্ষা তত্ত্বাবধায়ন বা পর্যবেক্ষণ!
লক্ষ্য করুন :
নাবীজী (ﷺ) এর আশুরার দিনের রোযা সাইয়্যিদুনা মুসা (আঃ) এর মুক্তি উদযাপনের জন্যই ছিলো।
আর অবশ্যই শরিয়তের এই বড় উপলক্ষ সমূহকে সরণ করা এবং এর দ্বারা খুশি ও অনুষ্ঠান উদযাপন করা জায়েজ।
অতএব নাবীজী(ﷺ)এর আগমন দিনই হচ্ছে এই উপলক্ষ সমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ সর্ব মহান উপলক্ষ।
-------------------
الدليل الخامس(পঞ্চম দলীল):

أن النبي(ﷺ)عق عن نفسه بعد النبوة.
নিশ্চয়ই নাবীজী (ﷺ) স্বয়ং আকীকাহ্ করেছেন, নবুওয়াতের পরে।
يقول الإمام السيوطي رضي الله عنه في كتابه "حسن المقصد في عمل المولد "(أصل الاجتماع لصلاة التراويح سنة وقربة ...، وكذااك نقول: أصل الاجتماع لإظهار شعائر المولد مندوب وقربة)
ইমাম আস সূয়ুতী (রাঃ) তার( হুসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মওলিদ) এ বলেন :" তারাবীহ নামাজের জন্য একত্রিত হওয়ার মূল হচ্ছে সুন্নাত এবং নেক কাজ। অনুরূপ ভাবে আমরা বলবো: জন্মদিনের অনুষ্ঠান সমূহ প্রকাশের জন্য একত্রিত হওয়া হচ্ছে মানদুব এবং নেক কাজ। (হাবীলিল ফতওয়া (১/১৮৪-১৮৫)
ثم قال: وهو ما أخرجه البيهقي عن أنس رضي الله عنهما أن النبي(ﷺ) عق عن نفسه بعد النبوة. (أخرجه البيهقي في "الكبرى":(٩/٣٠٠)
অতপর তিনি বলেন :সেটা যা ইমাম বাইহাকী হযরত আনাস (রাঃ) থেকে উল্লেখ করেছেন, নিশ্চয়ই নাবীজী (ﷺ) স্বয়ং আক্বীকাহ্ করেছেন নবুওয়াতের পরে। (বাইহাকী তার "সুনানুল কুবরা "কিতাবের ৯খন্ডের ৩০০ পৃষ্ঠায় হাদীসটি উল্লেখ করেছেন)।
এটা সত্ত্বেও যে, নাবীজী(ﷺ) এর দাদা আব্দুল মোত্তালিব তাঁর (ﷺ) এর বিলাদাতের সপ্তম দিনে তাঁর (ﷺ) এর পক্ষ থেকে আকিকাহ্ দিয়েছেন। আর আকিকাহ্ দ্বিতীয় বার পুনরাবৃত্তি হয় না।
কিন্তু নাবীজী (ﷺ) দ্বিতীয় বারের নিজের আকীকাহ্ একমাত্র আল্লাহ্ সুবহানাহু ওতাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপরই বহন করবে। ঐটার জন্য আমাদের উপরও মুস্তাহাব একত্রিত ভাবে নাবীজী (ﷺ) এর আগমন দিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, খাবার পরিবেশ করা, ইত্যাদি নেক কাজসমূহ এবং আনন্দ সমূহ প্রকাশের দিক থেকে। (হাবীলিল ফতওয়ার প্রথম খন্ডের 188 পৃষ্ঠা)
-------------------
الدليل السادس(৬ষ্ঠ দলীল):

ذكر الله تعالى لقصص الأنبياء في القرآن. ومنها قصة ولادة يحيى ومريم وعيسى عليهم السلام.
অর্থাৎ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওতাআলা পবিত্র ক্বুরআনে অনেক আম্বিয়া (আঃ) ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তার থেকে :যেমন হযরত ইয়াহইয়া, হযরত মারইয়াম, হযরত ঈসা (আঃ) গনের বিলাদাতের বা জন্মের ঘটনা।
وقوله سبحانه وتعالى: "وكلا نقص عليك من أنباء الرسل ما نثبت به فؤادك "(سورة هود: من الآية١٢٠)
অর্থাৎ :আল্লাহ্ সুবহানাহু ওতাআলা বলেন:"আর আমি রসূলগণের সব বৃত্তান্তই আপনাকে জানিয়ে দিয়েছি, যা দ্বারা আপনার অন্তর কে মজবুত করেছি"।(সূরা হুদ, আয়াত 120)
**যদি আম্বিয়া (عليهم السلام) গনের বৃত্তান্তসমূহ অন্তরের জন্য সুদৃঢ়করণ হয়, **তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর জন্ম বৃত্তান্ত অন্তর দারা অধিক আওলা এবং অনেক বড় সুদৃঢ়করণ!!
-----------------
الدليل السابع(সপ্তম দলীল):

**قوله سبحانه وتعالى عز وجل:(قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون)
অর্থাৎ :"আল্লাহ্ সুবহানাহু ওতাআলা বলেন :"হে হাবীব (ﷺ) আপনি বলুন, আল্লাহ্ তাআলার অনুগ্রহ এবং তাঁরই দয়া আর ঐটার দ্বারাই যেন তারা আনন্দিত হয়, সেটা তাদের সমস্ত কিছু থেকে উত্তম। (সূরা ইউনূস আয়াত 57).
আর এখানে "রহমত" দ্বারা উদ্দেশ্য সাইয়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)। যেমনিভাবে নিশ্চয়ই সেখানে এই দৃষ্টিকোনের আলোকে তাফসীর কারকগনের থেকে যারা তাফসীর পেশ করেছেন:
(١) ففي "الدر المنثور " للحافظ السيوطي، (٤/٣٦٧) أخرج أبو الشيخ عن ابن عباس رضي الله عنهما في الآية قال: فضل الله العلم، ورحمته النبي(ﷺ) .
قوله سبحانه وتعالى: (وما أرسلناك إلا رحمة العالمين) "الأنبياء: ١٠٧"
(১)অর্থাৎ :ইমাম হাফেজ জালাল উদ্দিন আস সুয়ূতী (রাঃ) এর (দুর্রুল মানসীর) এ রয়েছে, তিঁনি আয়াতটি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "ফাদ্বলুল্লাহি" হচ্ছে, ইলম। আর "ও রহমাতুহু" হচ্ছে নাবীজী (ﷺ).(দুর্রুল মানসূর,৪ খন্ডের, ৩৬৭পৃষ্ঠায়)
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওতাআলা বলেন :আমি আপনাকে প্রেরণ করিনি, তবে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া আয়াত -১০৭.

(২)অনুরূপ ভাবে আলূসী তার তাফসীর গ্রন্থ "রুহুল মায়ানীতে" বলেন :আয়াতে বর্ণিত "রহমত " হচ্ছেন নাবীজী (ﷺ).তিনি বলেন নাবীজী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্য প্রসিদ্ধ হচ্ছে "রহমত" দ্বারা। (রুহুল মায়ানীর ১০ খন্ড,১৪১ পৃষ্ঠা)।
(৩) ইবনুল জাওযী তার তাফসীরের কিতাবের মধ্যে নকল করেন :আয়াতে বর্ণিত "রহমত " শব্দের অর্থের জন্য আটটি অভিমত রয়েছে, এর মধ্যে তৃতীয় নম্বর অভিমত হচ্ছে, "ফাদলুল্লাহ্ "হচ্ছে ইলম। "ও রহমাতুহু " হচ্ছে নাবীজী (ﷺ).(জাদু মাসীর ফি ইলমিত তাফসীর,৪ খন্ডের, ৪০ পৃষ্ঠা)
অতএব দয়াল নাবীজী (ﷺ) এর আগমন দিন পালন করা, এই দিনে খুশি উদযাপন করা, সমবেত হওয়া, মাহফিল করা বৈধ। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই।
উপরোক্ত প্রথম পয়েন্টের আটটি দলীল এটাই সাব্যস্ত করে এবং দয়াল নাবীজী (ﷺ) এর আগমন দিন পালনে উৎসাহ প্রদান করে।

আলহামদু‌লিল্লাহ্ এটিএন বাংলায় প্রচা‌রিত হ‌চ্ছে দর‌সে হাদীস অনুষ্ঠান। দরস্ প্রদান কর‌তে‌ছেন গোলাম মোহাম্মদ আবদুল ক্বা‌দ...
15/11/2017

আলহামদু‌লিল্লাহ্ এটিএন বাংলায় প্রচা‌রিত হ‌চ্ছে দর‌সে হাদীস অনুষ্ঠান। দরস্ প্রদান কর‌তে‌ছেন গোলাম মোহাম্মদ আবদুল ক্বা‌দের কাওক্বাব। পীর সা‌হেব, শাহপুর দরবার শরীফ, কু‌মিল্লা।

17/08/2017

নবী করিম (সঃ) যে নুরের তৈরি তার দলিল
কোরআন শরীফের আলোকেঃ

আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين-
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে।। (সূরা মায়িদা আয়াত- ১৫)
আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হলঃ-

দলিল নং ১
বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আববাস এর মধ্যে আছে-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني محمدا صلي الله عليه ؤسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আববাস পৃষ্ঠা ৭২)।

দলিল নং ২
ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রা) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني باالنؤر محمدا صلي الله عليه ؤسلم الذي انار الله به الحق واظهربه الاسلام ومحق به الشرك-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরিককে নিশ্চিহ্ন করেছেন। ( তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।

দলিল নং ৩
মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) (যিনি ‘খাজিন’ নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم انما سماه الله نور الانه يهداى بالنور في الظلام-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণ তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

দলিল নং ৪
ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-

والنور محمد عليه والسلام لانه يهتداي به كما سمي سراجا منيرا-
আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে। (তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

দলিল নং ৫
ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-

ان المراد بالنور محمد صلي الله عليه و سلم وبالكتاب القران-
অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
আর যারা বলে যে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রা) সে সম্পর্কে বলেন-

هذا ضعيف لان العطف يوجب المغايرة بين المعطوف والمعطوف عليه-
এই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা‘তুফ (সংযোজিত) ও মা‘তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা প্রমাণ করে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।

দলিল নং ৬
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রা) বলেনঃ

قد جاءكم من الله نور هو نور النبى صلي الله عليه وسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক।
(তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)

দলিল নং ৭
আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রা) বলেন-

قد جاءكم من الله نور هو نورعظيم هو نور الانوارالنبى المختار صلى الله عليه وسلم الى ذهب قتادة والزجاج-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে । আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহ ও যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭)।

দলিল নং ৮
আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রা) বলেন-
قيل المراد باالاول هو الرسول صلى الله عليه وسلم وبالثانى القران-
অর্থঃ বলা হয়েছে যে, প্রথমটা অর্থাৎ নূর দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয়টা অর্থাৎ কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯)
আর অগ্রসর হয়ে বলেন-

سمى الرسول نورا لان اول شيئ اظهره الحق بنور قدرته من ظلمة العدم كان نور محمد صلي الله عليه و سلم كما قال اول ما خلق الله نورى-
অর্থ: আল্লাহ তায়া‘লা রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম রেখেছেন নূর। কেননা আল্লাহ তায়া‘লা তাঁর কুদরতের নূর থেকে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ করেছেন তা তো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। যেমন তিনি ফরমায়েছেন- আল্লাহ তায়া‘লা সর্বপ্রথম আমার নূর মোবারক কে সৃষ্টি করেছেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯)।

দলিল নং ৯
ইমাম মুহীউস সুন্নাহ আবু মু‏হাম্মদ আল- হোসাইন আল-ফাররা আল-বাগাভী (রা) বলেন-

قد جاءكم من الله نور يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে মাআলিমুত তান্যীল, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৩, তাফসীরে খাযিনের পাদ টীকা)

এ ছাড়া আরো অনেক তাফসীর গ্রন্থর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূরঃ-
সুরা মায়েদা পারা ৬, ১৫ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৫৪।

২। তাফসীরে আবি সউদ ২য় খন্ড, পৃ- ২৫১,
৩। তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃ- ৩৬৯,
৪। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১ম খন্ড, পৃ- ৩৬০, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭,
৫। তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৮৬,
৬। তাফসীরে কবীর ১১তম খন্ড, পৃ- ১৬৩,
৭। তাফসীরে কুরতুবী ৬ষ্ঠ খন্ড পৃ- ১১৮,
৯। তাফসীরে বায়জাভী ১ম খন্ড, পৃ- ৬৪,
১০। তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড, পৃ- ৬৮,
১১। তাফসীরে কবীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৪৬২,
১২। ছফওয়াতুত তাফাসীর ২য় খন্ড, পৃ- ১৪০,
১৩। তাফসীরে দুররে মানসুর ২য় খন্ড, পৃ- ১৮৭, তাফসীরে নূরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬১, তাফসীরে নঈমী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫।
সূরা তাওবা পারা ১০, ৩২ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে দুররে মানসুর ৩ খন্ড, পৃ- ২০১,
২। তাফসীরে কবীর ১৬ম খন্ড, পৃ- ৩৪,
৩। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৪ম খন্ড, পৃ- ৪৮।
সুরা নূর পারা ১৮, আয়াত নং ৩৫ঃ-
১। তাফসীরে ইবনে আববাস ৪র্থ খন্ড, পৃ- ২৪,
২। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১০ম খন্ড, পৃ- ১৬৬।
সুরা আহযাব আয়াত নং ৪৬ঃ-
১। তাফসীরে আহকামুল কোরআন লিল ইবনুল আরাবী ৩য় খন্ড, পৃ- ১৫৪৬,
২। তাফসীরে মাওয়ারদী ৪র্থ খন্ড, পৃ- ৪১১।
হাদীস শরীফের আলোকেঃ

দলিল নং ১০

عن جابر بن عبد الله رضى الله عنه قال : قلت يا رسول الله بابى انت وامى اخبرنى عن اول شئ خلق الله تعالى قبل الاشياء ؟ قال يا جابر ان الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نورنبيك من نوره فجعل ذالك النور يدور بالقدرة حيث شاء الله تعالى ولم يكن في ذالك الوقت لوح ولا قلم ولا جنة ولا ملك ولا سماء ولا ارض ولا شمس ولا قمر ولا جن ولا انس – فلما اراد الله تعالى ان يخلق الخلق قسم ذالك النور اربعة اجزاء فخلق من الجزء الاول القلم و من الثاني اللوح ومن الثالث العرش ثم قسم الجزء الربع اربعة اجزاء فخلق من الاول حملة العرش ومن الثانى الكرسى ومن الثالث باقى الملائكة ثم قسم الربع اربع اجزاء فخلق من الاول السماوات ومن الثانى الارضين ومن الثالث الجنة والنار—————————————– الخ-
অর্থঃ হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মা-বাবা আপনার কদম মোবারকে উৎসর্গিত, আপনি দয়া করে বলুন, সকল বস্ত্তর পূর্বে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়া’লা কোন বস্ত্তটি সৃষ্টি করেছিলেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়’লা সমস্ত কিছুর পূর্বে তোমার নবীর (তোমার) নূর মোবারক তাঁরই নূর মোবারক হতে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর ওই নূর আল্লাহ তায়’লারই মর্জি মুতাবেক তাঁরই কুদরতি শক্তিতে পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল বেহেশ্ত-দোযখ, আর ছিলনা আসমান-যমীন, চন্দ্র-সূর্য, মানব ও দানব। এক পর্যায়ে মহান আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত পয়দা করার মনস্থ করেছিলেন, প্রথমেই ওই নূর মোবারককে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম অংশ দিয়ে কলম, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে লওহ, তৃতীয় অংশ দিয়ে আরশ, সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে পুণরায় চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমাংশ দিয়ে আরশবহনকারী ফেরেশতাদের দ্বিতীয় অংশ দ্বারা কুরসী, তৃতীয় অংশ দ্বারা অন্যান্য ফেরেশতাদের সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে আবারও চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে সপ্ত আসমান, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে সপ্ত যমীন, তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেশত-দোযখ এবং পরবর্তী ভাগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল বস্ত্ত সৃষ্টি করে। (আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭১)।

দলিল নং ১১
عن كعب الخبار رضى الله عنه قال : لما الله ان يخلق المخلوقات بسط الارض وقع السماء وقبض قبصة من نوره و قال لها كونى محمدا فصارت عمودا من نوره فعلا حتى انتهى الى حجب العظمة فسجد و قال فى سجوده الحمد لله فقال الله سبحانه و تعالى لهذا خلقتك و سميتك محمد صلى الله عليه و سلم منك ابدا الخلق و بك اختم الرسل-
অর্থঃ হযরত কাব আহবার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাববুল আলামিন যখন সৃষ্টি জগত সৃজন করার ইচ্ছা করলেন তখন মাটিকে সস্প্রসারিত করলেন, আকাশকে উঁচু করলেন এবং আপন নূও হতে এক মুষ্ঠি নূর গ্রহন করলেন। তারপর উক্ত নূরকে নির্দেশ দিলেন‘ তুমি মুহাম্ম্দ হয়ে যাও।’ অতএব সে নূও স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠতে থাকল এবং মহত্বের পর্দা পর্যন্ত পৈাছে সিজদায় পরে বলল,‘আলহামদুলিল্লাহ্’ তখন আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে ইরশাদ হল,এজন্যই তোমাকে সৃষ্টি করেছি আর তোমার নাম মুহাম্ম্দ রেখেছি। তোমার হতেই সৃষ্টি কাজ শুরু করব এবং তোমাতেই রিসালাতের ধারা সমাপ্ত করব । (সিরাতুল হালাভিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০)।

দলিল নং ১২

عن عائشة رضي الله عنها قالة : كنة في الشجر ثوبا لرسول الله صلي عليه و سلم فانطفا المصباح و سقطة الابرة من يدي فدخل علي رسول الله صلي الله عليه و سلم فاضاء من نور و جهه فجدة الابرة-
অর্থঃ ‘‘হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাপড় মোবারক সেলাই করেছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুচটি হারিয়ে ফেললাম। এরপরই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুচটি খুজে পেলাম’’। (ইমাম ইবনে হায়তামী (রাঃ) এর আন-নে’মাতুল কোবরা আলার আলম গ্রন্থে ৪১ পৃষ্ঠা)।
দলিল নং ১৩

اخرج ابن ابي عمر العدني فى مسنده عن ابن عباس ان قريشا كانت نورا بين يدي الله تعالى قبل ان يخلق ادم بالفى عام يسبح ذالك النور و تسبح الملائكة بتسيحه فلما خلق الله ادم القي ذالك النور فى صلب قال رسول الله صل اله عليه و سلم فاهبطنى الله الى الارض فى صلب ادم (عليه السلام) و جعلنى فى صلب نوح عليه السلام و ق ف بى فى صلب ابرهيم عليه السلام ثم لم يزل الله ينقلبى من الصلاب الكريمة و الارحام الطاهؤة حتى اخرجنى من بين ابوى لم يلتقيا على سفاح قط-
অর্থঃ হযরত ইবনে আলী ওমর আল-আদানী স্বীয় মুসনাদে হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে তাঁর সন্তানদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার তারতম্যটুকুও দেখাতে লাগলেন। তিনি ( আদম আলাইহিস সালাম ) তাদের মধ্যে শেষপ্রান্তে একটা উজ্জ্বল নূর দেখাতে পেলেন। তখন তিনি বললেন,‘‘ হে রব! ইনি কে? ( যাকে সবার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত নূর হিসাবে দেখতে পাচ্ছি?) উত্তরে মহান রববুল আলামীন ইরশাদ করলেন,‘‘ ইনি হলেন তোমার পুত্র-সন্তান হযরত আহমদ মুজ্তবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি হবেন আমার দরবারে প্রথম সুপারিশকারী (ক্বিয়ামতের দিনে)। ( আল-খাসাইসুল কুবরা ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯)

দলিল নং ১৪
ইমাম হাফেজ আবুল ফযল ক্বাযী আয়ায (রা) বলেন-

و قد سماه الله تعالى فى و سراجا منيرا فقال تعالي قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين و قال تعالى انا ارسلناك شاهدا و مبشيرا و نذيرا و داعيا الى الله باذنه و سراجا منيرا و قال فى غير هذا الموضع انه كان لاظل لشخصه في شمس و لا قمر لانه كان نورا الذباب كان لا يقع على جسده و لا ثيابه-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া‘লা কোরআন করীমে তাঁর নাম রেখেছেন নূর ও সিরাজুম্ মুনীর। যেমন তিনি ফরমায়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। আরো ফরমায়াছেন, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি হাজের ও নাজেররূপে, আল্লাহর অনুমক্রিমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ (সিরাজুম মুনীর ) রূপে। নিশ্চয়ই তাঁর ছায়া ছিল না. না সূর্য়ালোকে না চন্দ্রালোকে কারণ তিনি ছিলেন নূর। তাঁর শরীল ও পোশাক মোবারকে মাছি বসত না। (শিফা শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৪২)।

দলিল নং ১৫
وعن ابلى هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم سائل جبريل عليه السلام فقال يا جبريل كم عمرك من السنين فقال يا رسول الله مست اعلم غير ان فى الحجاب الرابع نجما يطلع في سبعين الف سنة مرة رايته اثنين و سبعين الف مرة فقال يا جبريل و عزة ربى جل جلا له انا ذالك الكوب–
অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জিবা্রঈল আলায়হিস সালামকে জিজ্ঞেসা করলেন , ওহে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? উত্তরে জিব্রাঈল বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো সঠিক জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি ( সৃষ্টি জগত সৃষ্টির পূর্বে) আল্লাহ তায়‘লা নূরানী আযমতের পর্দা সমূহের চতুর্খ পর্দায় একটি নূরানী তারকা সত্তর হাজার বছর পরপর উদিত হত। আমি আমার জীবনে সেই নূরানী তারকা বাহাত্তর হাজার বার উদিত হতে দেখেছি। অতঃপর নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম ইরশাদ করলেন মহান রাববুল আলামীনের ইজ্জতের কসম করে বলছি, সেই অত্যুজ্জ্বল নূরানী তারকা আমিই ছিলাম। (সীরাতে হালাভীয়া পৃষ্ঠা ৪৯, তাফসীরে রুহুল বয়ান পৃষ্ঠা ৫৪৩)।

দলিল নং ১৬
لم يكن له صلى الله عليه و سلم ظل في شمس و لا قمر لانه كان نورا-
অর্থঃ ‘‘সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা, তিনি ছিলেন আপদমস্তক নূর’’। (যুরকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২২০)।
এ ছাড়া আরো অনেক হাদীস শরীফ গ্রন্থ এর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূর তা নিম্নরূপঃ-
১। মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা ৫১৩, ২৪ এর ১০নং হাশিয়া, ৫১১ এর ৬নং হাশিয়া, তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৭, মাওয়াহিবে লাদুনিয়া পৃষ্ঠা ৪৫,শরহে সুন্নাহ ১০ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২০৭, মিরকাত ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৬,১৬৬,১৯৪। তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, প- ৩৭, মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়ার ২য় খন্ড, পৃ- ২৮৬, ১৮। নশরুততীব পৃ- ৫, কৃতঃ আশরাফ আলী থানবী, ১৯। এমদাদুছ ছুলূক পৃষ্ঠা কৃতঃ রশিদ আহমেদ গাংগুহী । ২০। শুকরে নিয়ামত কৃতঃ কাসেম নানুতুবী, গাওহারে সিরাজী পৃষ্ঠা ৬৯, কৃতঃ সিরাজুল ইসলাম।

10/06/2017

প্রচলিত ছয় উছুলী তাবলীগ ওয়ালারা মানুষকে কুফরী আক্বীদা শিক্ষা দেয়, তাদের সেই কুফরীগুলো ধরিয়ে দেয়া কি অপরাধ ?
প্রচলিত ছয় উছুলী তাবলীগওয়ালারা মানুষকে কুফরী আক্বীদা শিক্ষা দেয়, তাদের সেই কুফরীগুলো ধরিয়ে দেয়া কি অপরাধ? তাদের কিছু কুফরী আক্বীদা উল্লেখ করা হলো – “মালফুযাত’এর ৪৩ পৃষ্ঠার ৪২ নম্বর মালফুযে, ‘নবুওয়ত’ ও ‘মাওলানা ইলিয়াছ’ নামক কিতাবের ৩০-৩২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “মুসলমান দু’প্রকার-একদল প্রচলিত তাবলীগের জন্য হিজরত করবে, দ্বিতীয় দল নুছরত বা সাহায্য করবে, এ দু’দলই মুসলমান। অর্থাৎ যারা প্রচলিত তাবলীগও করবে না আর তাবলীগকারীদেরকে সাহায্যও করবে না, তারা মুসলমান নয়।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ১৭৪, দাওয়াতে তাবলীগ কি ও কেন? লেখক- মাওলানা ওবায়দুল হক পৃষ্ঠা ২১, হযরতজীর কয়েকটি স্মরণীয় বয়ান ২য় খ- পৃষ্ঠা ১১)

*প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের সমর্থনপুষ্ট প্রায় কিতাবেই একথা লেখা আছে যে, নবী আলাইহিমুস সালামগণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল করেছিলেন। যেমন - হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি গন্দম খেয়ে ভুল করেছিলেন ও হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি দাওয়াত না দিয়ে ভুল করেছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ! (মালফুযাতে শায়খুল হাদীস) পৃষ্ঠা ২৩১, তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬১)

*হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকদের আক্বীদা হলো যে, “দাওয়াত বন্ধ করার কারণে আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উনাকে গযবে ফেলিলেন।” “হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছের পেটে ৪০ দিন আবদ্ধ থাকিয়া নিজ ত্রুটি স্বীকার করিয়া তওবা করিবার কারণে বিপদ হইতে উদ্ধার পাইলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬২ ও ৮৯)

প্রচলিত ছয় উছুলী তাবলীগওয়ালারা মানুষকে কুফরী আক্বীদা শিক্ষা দেয়, তাদের সেই কুফরীগুলো ধরিয়ে দেয়া কি অপরাধ ?
*প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা আরও বলে থাকে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গারে হেরায় চিল্লা দেয়ার উসীলাই কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে তাদের কিতাবে বিবৃত হয়েছে- “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৪০ দিন পর্যন্ত ‘গারে হেরা’ পর্বতে থাকিয়া আল্লাহর ধ্যান ও যিকিরে চিল্লা দিলেন, যাহার ফলে তিনিও কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হইলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৮৯)

*মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত ‘তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “লক্ষাধিক সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অধিকাংশই মূর্খ ছিলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (শরীয়তের দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব লেখক - মাওলানা জাকারিয়া সাহেব পৃষ্ঠা ১৩, তাবলীগী জামায়াতের প্রধানের তর্ক ও ইচ্ছা পৃষ্ঠা ৮)

*প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা বলে থাকে যে, হিদায়েতের ক্ষেত্রে মূর্খরাই সমধিক উপযুক্ত। যেক্ষেত্রে নবীগণ এবং আলেমরা ফেল করে, সেখানেও মূর্খরা কৃতিত্ব দেখায়। নাউযুবিল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত ‘তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ১১৬ পৃষ্ঠায় একথা লেখা আছে যে, “অনেক স্থলে নবীগণ পর্যন্ত হিদায়েতে বিরাট সঙ্কটে ও বিপদে পড়িয়াছিলেন, তাই অনেক স্থলে বিরাট আলেমও ফেল পড়িতেছে। কিন্তু মূর্খগণ তথায় দ্বীন জয় করিতেছে।” নাউযুবিল্লাহ! এ ধরনের আরও বহু কুফরী বক্তব্য ও আক্বীদা তাদের কিতাবে রয়েছে।

কুরআন সুন্নাহর তাবলীগের মতঃ যা আজকের ইলিয়াসি তাবলিগের সাথে সাঙ্গরষিক নিচে তার বর্ণনা করা হলো।
১। মূল কিতাব কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস।
২। নিজের পরিবার ও সমাজ থেকে শুরু। (তোমরা নিজেরা ও পরিবার কে জাহান্নাম হতে বাঁচাও- সুরা তাহরিম-আয়াত নং-৬)
৩। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ ছালাম তথা মিলাদ কিয়াম করা আল্লাহর হুকুম।
৪। নবীগণ সকল গুনাহ্ হতে মুক্ত ও সাহাবীদেরকে ভালবাসা ঈমান এবং সাহাবীগন সকলযুগের হক্কানী আলেমদের শ্রেষ্ঠ। (মুসলিম, মিশকাত, মিরকাত ইত্যাদি)
৫। ইসলামের স্তম্ভ বা বেনা বা উছুল পাঁচটি- কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত। (বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি)
৬। ইসলামের ফরজ হজ্জ কাবা ঘরের হজ্জ। হজ্জ্বের সাথে অন্য কিছুকে তুলনা করা কুফরী।
৭। কাবা ঘরে ১ রাকায়াত নামাজ এক লক্ষ ও মসজিদে নববীতে ১ রাকায়াত নামাজ পঞ্চাশ হাজার রাকায়াত নামাজের ছওয়াব ও যেকোন দানের সওয়াব ২০ থেকে সাত শত গুন বৃদ্ধি হয়।
৮। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ মানুষ।
৯। স্বেচ্ছায় মসজিদে ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করা নিষিদ্ধ।

ছয় উছুলী তাবলিগ জামাত সম্পর্কে ছহীহ বুখারী হাদিস শরীফের ভবিষ্যৎবানী : সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে, নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম ইরশাদ করেছেন, আমার বিছাল শরীফের পর শেষ যামানায় আমার উম্মতের মধ্যে হতে পূর্বের কোন দেশ( আরব থেকে পূর্বে ভারত) থেকে একটি জামাত দ্বীনের তাবলীগের নামে বের হবে, তারা কোরআন পাঠ করবে, তাদের কোরআন পাঠ তোমাদের কোরআন পাঠের তুলনায় খুবই সুন্দর হবে। কোরআনের প্রতি বাহ্যত তাদের ভক্তি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা দেখে মনে হবে যেন ওরা কোরআনের জন্য এবং কোরআনও ওদের জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওরা কোরআনের প্রতিটি আয়াতের ওপরে ঈমান রাখবে না এবং কোরআনের সবগুলো নির্দেশের উপর আমল করবে না।

এই জামাতের অধিকাংশ লোক হবে অশিক্ষিত ও মূর্খ। যেমন - কোরআন ও হাদিসের জ্ঞানে হবে মূর্খ তেমন সাধারন জ্ঞানেও হবে মূর্খ। এই জামাতে যদি কোন শিক্ষিত লোক যোগদান করে তাহলে তার আচরন ও স্বভাব হয়ে যাবে জামাতে যোগদানকারী অন্যান্য মূর্খদের মত। মূর্খরা যেমন মূর্খদের আনুগত্য করবে তেমনি শিক্ষিত লোকটিও মূর্খদেরই আনুগত্য করবে। এই জামাতের বয়ান ও বক্তৃতায় থাকবে কেবল ফযিলাতের বয়ান। বিভিন্ন আমলের সর্বোচ্চ ফযিলাতের প্রমান বিহীন বর্ণনাই হবে তাদের বয়ানের বিষয়বস্তু। হে মুসলমানগন! ঐ জামাতের লোকদের নামায, রোযা অন্যান্য আমল এতই সুন্দর হবে যে, তোমরা তোমাদের নামায, রোযা ও আমল সমূহকে তাদের তুলনায় তুচ্ছ মনে করবে। এই জামাতের লোকেরা সাধারন মানুষকে কোরআনের পথে তথা দ্বীনের পথে চলার নামে ডাকবে, কিন্তু চলবে তারা তাদের তৈরী করা পথে। সত্য পথে ডাকলেও তারা কোরআনের পথে চলবে না।

তাদের ওয়াজ ও বয়ান হবে মধুর মত, ব্যবহার হবে চিনির মত সুস্বাদু, তাদের ভাষা হবে সকল মিষ্টির চাইতে মিষ্টি। তাদের পোশাক পরিচ্ছদ ধরন-ধারন হবে খুবই আকর্ষনীয়, যেমন সুন্দর হরিণ তার দিকে মানুষের মন আকৃষ্ট করে। হরিণ শিকারী সুবর্ণ হরিণ দেখে হরিনের পেছনে যেমন ছুটতে থাকে তেমন সাধারন মানুষ তাদের মিষ্ট ব্যবহার, আমলের প্রদর্শনী ও সুমধুর কথা শুনে তাদের জামাতের দিকে ছুটতে থাকবে।

তাদের অন্তর হবে বাঘের মত হিংস্র। বাঘের অন্তরে যেমন কোন পশুর চিৎকারে মমতা প্রবেশ করে না, তেমন কোরআন ও হাদিসের বানী যতই মধুর হোক তাদের অন্তরে প্রবেশ করবে না। তাদের কথাবার্তা আমল আচরন, বয়ান যেগুলি তারা তাদের জন্য নির্ধারন করে নিয়েছে, তার-ভিতরকার কোরআন সুন্নার বিরোধী আমলগুলি বর্জন করে কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার জন্য যতবার কেউ কোরআন ও সুন্নাহ প্রদর্শন করুক বাঘের অন্তরে যেমন মমতা প্রবেশ করেনা তেমন তাদের অন্তরে কোরআন সুন্নাহর মমতা প্রবেশ করবে না।

তাদের জামাতে প্রবেশ করার পর তাদের মিষ্টি ব্যবহারে মানুষ হবে মুগ্ধ, কিন্তু ঐ মনমুগ্ধ ব্যবহারের পেছনে জীবন ধংসকারী আর্সেনিকের মত ঈমান বিনষ্টকারী, ইসলামী মূল্যবোধ বিনষ্টকারী মারাত্মক বিষ বিরাজমান থাকবে। তাদের প্রশিক্ষন ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর হতে আল্লাহপাক ও রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর আনুগত্যের প্রেরনা শেষ করে দিবে এবং জামাতের আমিরদের আনুগত্যের প্রতি মরনপন আকৃষ্ট করবে। আমীরগন দেখতে হবে খঁটি পরহেজগার দ্বীনদার ব্যক্তিদের মত, কিন্তু অন্তর হবে শয়তানের মত, কোরআন সুন্নাহর প্রতি বিদ্রোহী। আমীরগন যা করে যাচ্ছে তার মধ্যে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ কখনও কেউ ধরিয়ে দিলে কোনক্রমেই তা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত হবে না। অর্থাৎ কোরআন হাদীস উপস্থাপন করার পর তারা কোরআন হাদীস দেখেও কোরআন হাদিস বর্জন করে মুরুব্বীদের কথা মানবে। কোরআন হাদিসের প্রতি তাদের অনীহা এতই তীব্র হবে যে, তারা অর্থসহ কোরআন হাদিস কখনই পড়বে না, পড়ানোও যাবে না বলে মন্তব্য করবে। (কারও ওয়াজ শুনবেনা তাদের দল ব্যতিত অন্য কারও বই পড়বেনা)।

এই জামাতটি ইসলামের তাবলীগ করার কথা যতই বলুক কোরআন যত সুন্দরই পাঠ করুক, নামায রোযা যতই সুন্দর হোক, আমল যতই চমৎকার হোক, মূলতঃ ঐ জামাতটি ইসলাম বহির্ভূত হবে। (নবী ও সাহাবীদের ব্যাপারে ভুল আক্বিদার জন্য)।

সাহাবী রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম, ঐ দলটি চিনবার সহজ উপায় কি হবে? তা দয়া করে আমাদিগকে জানিয়ে দিন।

এই ভিডিওটি দেখুন। >>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>।

তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বললেন, ইসলামের নামে এই ইসলাম বহির্ভূত জামাতটি চিনবার সহজ উপায় হল –

(১) তারা যখন তালীমে বসবে, গোল হয়ে বসবে।
(২) অল্প সময়ের মধ্যে এই জামাতের লোকদের সংখ্যা খুব বেশী হবে।
(৩) এই জামাতের আমীর ও মুরুব্বীদের মাথা ন্যাড়া হবে। তারা মাথা কামিয়ে ফেলবে, এবং তা সুন্নত নামে চালিয়ে দিবে যদিও তা সুন্নত নয়।

তীর মাড়লে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। ঐ তীর আর কখনও ধনুকের দিকে যেমন ফিরে আসে না, তেমনই যারা এই জামাতে যোগদান করবে তারা কখনও আর সঠিক দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে না। অর্থাৎ, এই জামাতকে সঠিক দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কোরআন হাদিস যত দেখান হোক, যত চেষ্টাই করা হোক না কেন দলটি সঠিক দ্বীনের পথে ফিরে আসবে না। এদের সাথে তোমাদের যেখানেই সাক্ষাত হোক, সংগ্রাম হবে তোমাদের অনিবার্য। এই সংগ্রাম যদি কখনও যুদ্ধে পরিণত হয় তাহলে তা থেকেও পিছ পা হবে না।

এই সংগ্রামে বা যুদ্ধে যারা মৃত্যবরন করবে, তাদেরকে যে পুরস্কার আল্লাহপাক দান করবেন তা অন্য কোন নেক কাজে দান করবেন না। সুবহানাল্লাহ। প্রমানঃ (১) বুখারী আরবী দিল্লীঃ ২য় ভঃ পৃঃ ১১২৮, (২) বুখারী আরবী দিল্লীঃ ২য় ভঃ পৃঃ ১০২৪, ( ৩) মুয়াত্তা ইমাম মালেক, আরবী ১ম ভঃ পৃঃ ১৩৮, ( ৪) আবু দাউদ, আব্বী দিল্লী ২য় ভঃ পৃঃ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।

Address

SHAHPUR DARBAR SHARIF, SADAR
Cumilla
3500

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shahpur Darbar Sharif, Comilla, BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share