28/12/2023
⚪ শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিঃ) ও আবদুল হালীম আবূ হুক্কাহ–এর মুসলিম না সালাফী মুসলিম বিতর্কঃ
প্রখ্যাত মিসরীয় বিদ্বান ও ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর যুগে নারী স্বাধীনতা’ গ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হালীম আবূ হুক্কাহ–এর সাথে ইমাম আলবানী (রাহিঃ)–এর এ বিষয়ে [ শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয় দেয়া ] একটি চিত্তাকর্ষক সংলাপ রয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।
আলবানীঃ হে আবূ শুক্কাহ! তোমাকে যদি বলা হয় যে, তোমার মাযহাব কী? তখন তুমি কি জবাব দিবে?
আবূ শুক্কাহঃ বলব, আমি মুসলিম।
আলবানীঃ কিন্তু এটা তো যথেষ্ট নয়!
আবূ শুক্কাহঃ কেন? আল্লাহ তো আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে নামকরণ করেছেন।
আলবানীঃ এ জবাব সঠিক হতো যদি আমরা ইসলামের প্রথম যুগে অবস্থান করতাম। যখন বিভিন্ন মতবাদের প্রসার ঘটেনি। আর যে মতবাদগুলোর সাথে আমাদের মৌলিক আকীদাগত মতপার্থক্য রয়েছে, তাদেরকে আমরা যদি এই প্রশ্ন করি তোমার মাযহাব কি, তখন তাদের জবাবও কিন্তু একই হবে। শীআ, রাফিযী, খারিজী, নুসাইরী, আলাবী–সহ সবাই বলবে ‘আমি মুসলিম’। অতএব, আজকের দিনে কেবল মুসলিম বলাই যথেষ্ট নয়।
আবূ শুক্কাহঃ ঠিক আছে। তাহলে আমি বলব, আমি কিতাব ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত মুসলিম।
আলবানীঃ এটাও তো যথেষ্ট নয়!
আবূ শুক্কাহঃ কেন?
আলবানীঃ শীআ, রাফিযী–সহ যাদের কথা আমি উদাহরণস্বরূপ বললাম, তাদের কেউ কি বলে যে, আমি মুসলিম, তবে কিতাব ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত নই? কেউ কি বলে যে, আমি কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী চলি না?
( অতঃপর তিনি ‘সালাফে সালিহীনের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ’ –এর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন)
আবূ শুক্কাহঃ ঠিক আছে। আমি সালাফে সালিহীনের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী মুসলিম।
আলবানীঃ কেউ তোমার মাযহাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তুমি কি তাকে এ কথাই বলবে?
আবূ শুক্কাহঃ হ্যাঁ।
আলবানীঃ আচ্ছা আমরা যদি এর ভাষাগত সংক্ষেপায়ন করে ‘সালাফী’ বলি সেক্ষেত্রে তোমার মতামত কি? কেননা সর্বোত্তম বাক্য তো সেটাই, যেটা সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ।
আবূ শুক্কাহঃ আমি আপনার প্রতি ভদ্রতা প্রদর্শনের খাতিরে ‘হ্যাঁ’ বলছি। কিন্তু আমার বিশ্বাস পূর্বের মতোই। কারণ, যখনই কোনো মানুষ শুনবে যে, আপনি সালাফী, তখনই তার চিন্তাধারা ঘুরে যাবে কঠোরতার প্রান্তসীমায় পৌঁছে যাওয়া এমন অনেক অনুসৃত বিষয়ের দিকে, যার মধ্যে সালাফীগণ ডুবে আছেন।
আলবানীঃ ধরে নিলাম তোমার কথাই সঠিক। কিন্তু যদি তুমি নিজেকে মুসলিমও বলো, তবে কি সেটা শীআ, রাফিযী বা ইসমাঈলীর দিকেও প্রত্যাবর্তিত হবে না?
আবূ শুক্কাহঃ হতে পারে। তবে আমি কুরআনের ঐ আয়াতেরই অনুসরণ করতে চাই, ‘আর তিনি পূর্বেই তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলিম’।
[ هُوَ سَمّٰىکُمُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ۬ۙ مِنۡ قَبۡلُ وَ فِی ]
[ সূরা হজ্জ ; আয়াতঃ ৭৮ (অংশবিশেষ) ]
আলবানীঃ না, হে ভাই! তুমি এই আয়াতে অনুসরণ করোনি। কেননা আয়াতটি দ্বারা সঠিক ও বিশুদ্ধ ইসলামকে বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া মানুষকে সম্বোধন করা উচিত তার জ্ঞানের পরিমাপ বুঝে। অথচ তোমার এই ‘মুসলিম’ পরিচয়দানের মাধ্যমে তুমি আয়াতটিতে উদ্দেশ্যকৃত মুসলিম কি না, তা কি কেউ বুঝবে?
ইতঃপূর্বে সালাফী বলার ক্ষেত্রে তুমি যে, আশঙ্কার কথা উল্লেখ করলে, সেটা সঠিক হতে পারে বা নাও হতে পারে। কেননা সালাফীদের কঠোরতার ব্যাপারে তোমার যে বক্তব্য, তা কোনো কোনো সালাফীর মধ্যে থাকতে পারে। কিন্তু সেটা সালাফীদের আকীদা ও জ্ঞানগত মানহাজ নয়। তুমি ব্যক্তির কথা ছেড়ে দাও। আমরা এখন কথা বলব মানহাজ নিয়ে। কেননা আমরা যদি শীআ, খারিজী, সূফী বা মুতাযিলীদের কথা বলি, তাহলে সেখানেও কিন্তু তুমি যে আশঙ্কার কথা বলছ, তা ফিরে আসবে।
অতএব, এটা আমাদের বিষয় নয়। বরং আমরা এমন একটি নাম খুঁজব, যা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল মযহাবের দিকে নির্দেশ করে।
অতঃপর আলবানী বলেন, আচ্ছা, সাহাবায়ে কিরামের সবাই কি মুসলিম ছিলেন না?
আবূ শুক্কাহঃ অবশ্যই।
আলবানীঃ কিন্তু তাদের মধ্যেও এমন কেউ ছিলেন যিনি চুরি করেছেন, জেনা করেছেন। তবুও তাদের কেউ কিন্তু একথা বলার অনুমতি দেননি যে, আমি মুসলিম ছিলাম না। বরং তিনি মানহাজ বা নীতিগতভাবে মুসলিম এবং আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি পূর্ণবিশ্বাসী। কিন্তু তিনি কখনো স্বীয় নীতির বিপরীত করে ফেলেছেন। কেননা তিনি তো নিষ্পাপ নন।
এ জন্যই আমরা এমন একটি শব্দ সম্পর্কে কথা বলছি, যা আমাদের আকীদা, চিন্তাধারা এবং যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর ইবাদত করি এরূপ দীন সংশ্লিষ্ট জীবনের সকল বিষয়কে নির্দেশ করবে। তবে যারা চরমপন্থি বা শৈথিল্যবাদী, তাদের বিষয়টি আলাদা।
অতঃপর আলবানী বলেন, আমি চাই যে তুমি ‘সালাফী’ নামক সংক্ষিপ্ত এই শব্দটি নিয়ে চিন্তা গবেষণা করো, যাতে তোমার মধ্যে ‘মুসলিম’ শব্দ নিয়ে আর জিদ না থাকে। কেননা তুমি জানো যে, মুসলিম শব্দ দ্বারা তুমি যা বোঝাতে চাচ্ছ, তা বোঝার মতো কখনই কাউকে পাওয়া যাবে না। সুতরাং মানুষের সাথে তাদের জ্ঞান মোতাবেক কথা বলো। আল্লাহ তোমাকে বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য তোমার চিন্তায় বরকত দিন!
[ লিমাযা ইখতারতুল মানহাজাস সালাফী? পৃ. ৩৬-৩৮ ]
Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ
পৃ. ৪৮-৫১
📖 মানহাজুস সালাফ
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম
✒️ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিঃ)
সংকলন, অনুবাদ ও টীকা
✒️ আব্দুল্লাহ মাহমুদ (হাফিঃ)
সম্পাদনা
✒️ শাইখ ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী (হাফিঃ)