29/04/2026
হযরত আবু যার গিফারি (রা.) বলেন, এক রাতে আমি বের হলাম এবং দেখলাম রাসূলুল্লাহ ﷺ একাকী হাঁটছেন।
আমি ভাবলাম, হয়তো তিনি এখন কারো সঙ্গ পছন্দ করবেন না, তাই আমি চাঁদের আলো-ছায়ার আড়ালে (যাতে দেখা না যায়) হাঁটতে লাগলাম।
কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে দেখে ফেললেন এবং ডাকলেন। কিছুক্ষণ হাঁটার পর তিনি এক গভীর সত্য উন্মোচন করলেন:
“যাদের কাছে (দুনিয়াতে) সম্পদের প্রাচুর্য বেশি, কিয়ামতের দিন তারাই হবে সবচেয়ে রিক্ত ও নিঃস্ব; কেবল সে ছাড়া—যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন আর সে তা ডানে-বামে, সামনে-পেছনে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে এবং তাতে কল্যাণকর কাজ করেছে।”
এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে এক পাথুরে জায়গায় বসিয়ে দিয়ে বললেন, “আমি না ফেরা পর্যন্ত এখানেই থাকো।” তিনি মরুভূমির অন্ধকারের দিকে চলে গেলেন।
দীর্ঘ সময় পর ফেরার সময় আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, “যদিও সে চুরি করে, যদিও সে যিনা করে!”
রাসূলুল্লাহ ﷺ কাছে এলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “হে আল্লাহর নবী! আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন? আমি তো কারো সাড়াশব্দ পাইনি!”
তিনি বললেন:
“তিনি ছিলেন জিবরীল (আ.)। তিনি আমাকে এই সুসংবাদ দিয়ে গেছেন যে, আপনার উম্মতের মধ্যে যারা আল্লাহর সাথে শিরক না করে মৃত্যুবরণ করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! যদিও সে চুরি করে? যদিও সে যিনা করে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। আমি আবারো জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। এমনকি চতুর্থবার তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, যদিও সে মদ্যপান করে’।”
— (সহীহ মুসলিম: ৯৪)
আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সেই নবীর উম্মাত।
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ❤️
উল্লেখ্য, যিনা,চুরি,মদপান ইত্যাদির মতো গুনাহ করে তাওবা না করলে অবশ্যই এর শাস্তি পেতে হবে। আর তওবা করলে আল্লাহ তা'আলা শাস্তি ছাড়াই ক্ষমা করে দিতে পারেন।তাই, গুনাহ হয়ে গেলে তওবার বিকল্প নেই।
আহ! কতই না সৌভাগ্য। তবে তো নিরাশ হবার কোন কারই নাই। এখনই ক্ষমা চেয়ে নাও। কারণ মালিক - শিরক ব্যতীত সকল গুনাই ক্ষমা করবেন। যদি তুমি শিরক কর, আর সহি নিয়তে তওবা করে ফিরে আসো তবুও তিনি ক্ষমা করবেন। কারণ তিনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন । রাহমানুর রাহিম। আমিন।