26/07/2026
বনী ইসরায়েলের এক আবেদকে পথভ্রষ্ট করার জন্য শয়তান অনেক চেষ্টা করল, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হলো। একদিন সেই আবেদ যখন বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বের হলেন, শয়তানও এক মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় তাঁর পিছু নিল।
প্রথমে শয়তান তাঁর মনে কামভাব ও ক্রোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করল, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। এরপর সে আবেদকে ভয় দেখানোর পথ বেছে নিল। পাহাড় থেকে তাঁর ওপর বিশাল এক পাথর গড়িয়ে দিল, কিন্তু আবেদ আল্লাহর যিকির করতেই পাথরটি দিক পরিবর্তন করল। এরপর শয়তান হিংস্র পশুর রূপ ধরে এল, কিন্তু আবেদ বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করলেন না।
সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি হলো, যখন আবেদ নামাযে দাঁড়ালেন। শয়তান একটি বিশাল সাপের রূপ ধরে তাঁর পায়ের নিচ থেকে পেঁচিয়ে সারা শরীরে উঠে এল এবং মাথায় গিয়ে ফণা তুলল। আবেদ যখন সেজদায় যেতে চাইলেন, সাপটি সেজদার জায়গায় মুখ হাঁ করে রইল। যেন সেজদা দিলেই মাথা গিলে ফেলবে। কিন্তু আবেদ ভয় না পেয়ে সাপটিকে সরিয়ে দিয়েই সেজদা পূর্ণ করলেন।
নামায শেষে শয়তান নিজের আসল রূপে আবেদের সামনে এসে বলল, "আমি অনেক চেষ্টা করেও আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারলাম না। আজ থেকে আমি আর আপনাকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করব না, বরং আমি আপনাকে কিছু সত্য কথা বলতে চাই।"
আবেদ বললেন, "তোমার বন্ধুত্বের প্রয়োজন নেই। তবে তুমি বলো, আদম সন্তানদের ধ্বংস করার জন্য তোমার গোপন অস্ত্রগুলো কী কী?"
শয়তান তখন মানুষের ধ্বংসের ৩টি প্রধান কারণ ফাঁস করে দিল:
১. মানুষ যখন কৃপণ হয়, তখন আমরা তার নিজের সম্পদকে তার চোখের সামনে খুব সামান্য করে দেখাই। ফলে সে সঠিক পথে খরচ করে না এবং অন্যের সম্পদের প্রতি লোভী হয়ে ওঠে।
২. যখন কোনো মানুষ রেগে যায়, তখন আমরা শয়তানরা তাকে নিয়ে সেভাবেই খেলি, যেভাবে শিশুরা বল নিয়ে খেলে। সে যদি তার দোয়ার মাধ্যমে মৃতকেও জীবিত করার ক্ষমতা রাখে, তবুও আমরা তার ব্যাপারে নিরাশ হই না। কারণ সে সারাজীবনে যা গড়ে, রাগের মাথায় বলা এক কথাতেই তা ধ্বংস করে দেয়।
৩. যখন কেউ নেশাগ্রস্ত হয়, আমরা তাকে পশুর মতো কানের লতি ধরে যেখানে ইচ্ছা টেনে নিয়ে যাই এবং সব ধরণের পাপ করাই।
ক্রোধ বা রাগ হলো শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র। রাগের মাথায় মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং শয়তানের হাতের পুতুলে পরিণত হয়। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, ইবাদতের পাশাপাশি নিজের রাগ এবং লোভ নিয়ন্ত্রণ করা মুমিনের জন্য কতটা জরুরি।
© Salman Farsi
(সূত্র: তাম্বিহুল গাফিলিন-ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ.)