শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বাণী মেলা

  • Home
  • Bangladesh
  • Cox's Bazar
  • শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বাণী মেলা

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বাণী মেলা 🙏🙏JoyGuru🙏🙏

শরৎদা—আমাদের সঙ্গে কারও মতভেদ হ'লেই আমরা inferiority complex (হীনম্মন্যতা) ব'লে দোষ দিই, এটা কেন হয়?শ্রীশ্রীঠাকুর— Infer...
27/07/2025

শরৎদা—আমাদের সঙ্গে কারও মতভেদ হ'লেই আমরা inferiority complex (হীনম্মন্যতা) ব'লে দোষ দিই, এটা কেন হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর— Inferiority complex (হীনম্মন্যতা) অনেক সময় দুইজনেরই থাকে। Egoistic knot-এর (অহমিকার গেরোর) দরুন অকারণ গণ্ডগোল বাঁধে। 'বোধয়স্তঃ পরস্পরম্' হ'লে misunderstanding (ভুল বোঝা) হয় না। পরস্পরের প্রতি regard (শ্রদ্ধা) থাকলে প্রত্যেকে প্রত্যেকের stand-point (দৃষ্টিভঙ্গী)-টা বুঝতে চেষ্টা করে। সেখানে বিরোধের অবকাশ কমই থাকে। আবার, যারা খাঁটি মানুষ, কেউ তাদের ভুল-ভ্রান্তি, দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দিলে তারা চ'টে যায় না, বরং নিজেদের adjust (নিয়ন্ত্রণ) করতে চেষ্টা করে, এবং যে ভুল ধরিয়ে দেয়, তার প্রতি আরো বন্ধুভাবাপন্ন হ'য়ে ওঠে। তবে ভুল ধরানটাও প্রীতির সঙ্গে হওয়া চাই। মানুষের অন্যায়ের প্রতি যখন কঠোর হই, তখন স্মরণ রাখা লাগবে, মানুষটা কিন্তু আমার আপন, তাকে যেন পর করে না দিই। আবার, আমরা অন্যায় করলে মানুষের কাছে কী ব্যবহার প্রত্যাশা করি, সেটাও মনে রাখা লাগবে, তবে মাত্রা ঠিক থাকবে। হীনম্মন্যতা যে কতভাবে আত্মপ্রকাশ করে, তার লেখাজোখা নেই। আমি হয়তো অনেক অপরাধে অপরাধী। কিন্তু লোকের কাছে জানাতে চাই যে, সে-অপরাধের নামগন্ধও আমার চরিত্রে নেই, তখন সেই অপরাধে কাউকে অপরাধী দেখতে পেলে তাকে হয়তো শাসন করতে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হ'য়ে উঠি, ভিতরের উদ্দেশ্য, আমি যে তেমনতর অপরাধের উর্দ্ধে, লোকসমক্ষে সেইটে জাহির করা। এর উল্টো রকমটা অনেকের মধ্যে দেখা যায়, সেটাও হীনম্মন্যতারই ক্রিয়া। মানুষ যেমনতর অপরাধে অপরাধী, অন্যের ভিতর তেমনতর অপরাধ দেখলে অনেক সময় সেটাকেই সমর্থন করতে উদগ্র হ'য়ে ওঠে। এর কোনটার মধ্যেই আত্মসত্তায় বা পরসত্তায় প্রীতি নেই-আছে নিজের প্রবৃত্তির প্রতি প্রীতি, প্রবৃত্তিকে সত্তা করে নিয়ে তারই পোষকতার কণ্ডুয়ন। কেউ-কেউ আবার মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে সব সময় জানিয়ে দিতে চায় যে সে মস্তবড় ভক্ত; তার ভক্তির তুলনা নেই সেইটে দেখাতে গিয়ে সে কারও সঙ্গে সহজভাবে চলতে পারে না, ছুতানাতায় অন্যের খুঁত ধ'রে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়। এমনি করে অযথা খটাখটি বাধায়। তাই ব'লে এ-কথা কেউ মনে করো না যে, ভক্তির পথে চলতে গেলে অসৎ বা অন্যায়কেও সমর্থন করতে হবে, তা' নিরোধ করাই লাগবে-কিন্তু তা' শুভবুদ্ধি-প্রণোদিত হ'য়ে আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্যও নয়, কাউকে হীন প্রতিপন্ন করা বা জব্দ করবার জন্য নয়-সকলের মঙ্গলের জন্য, ইষ্ট-স্বার্থ-প্রতিষ্ঠার জন্য।
১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, বুধবার
(ইং ৩। ১২। ১৯৪১)
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏
ঠাকুর সম্পর্কে নিজে জানুন, আর অপরকে জানতে দেন।

প্রফুল্ল-ব্যাকুলতা জিনিসটা কী?শ্রীশ্রীঠাকুর-ব্যাকুলতা হ'লো urge (সম্বেগ)। সত্যিকার ব্যাকুলতা থাকলে তপস্যা ফুটবেই, করা বা...
27/07/2025

প্রফুল্ল-ব্যাকুলতা জিনিসটা কী?

শ্রীশ্রীঠাকুর-ব্যাকুলতা হ'লো urge (সম্বেগ)। সত্যিকার ব্যাকুলতা থাকলে তপস্যা ফুটবেই, করা বাদ দিয়ে শুধু ব্যাকুলতায়, শুধু কান্নায় তাঁকে পাওয়া যায় না। আবার, করার সঙ্গে যদি সম্বেগ বা ব্যাকুলতা না থাকে, তবে নিজেরও মন ভেজে না, অপরেরও মন ভেজান যায় না-নীরস শুষ্ক হ'য়ে যায় সব। ব্যাকুলতা যেন driving force (সঞ্চারণী শক্তি), তাই-ই বৃহৎ সৃষ্টিকে সম্ভব করে তোলে। বৈধী করণের মধ্যে দিয়েও অনেক সময় ধীরে-ধীরে ব্যাকুলতা ফুটে ওঠে।

শরৎদা (হালদার)-কেউ যদি সব কথাতেই বলে-'তিনি করাচ্ছেন', তখন কী করা?

শ্রীশ্রীঠাকুর-ও-সব তো ফাঁকিবাজি। বলতে হয়, তিনিই করান, আর যিনিই করান, তুমি এই-এই চাও কিনা, আর কিছু পেতে গেলে তো তদনুপাতিক করতে হয়। আবাব, তিনি করছেন যদি বল, তবে তিনি তো তুমি হ'য়ে আছেন, তুমি-তিনি যা' করবে, তার ফল তো তুমি-তিনির উপরই গড়াবে। তুমি-তিনির যদি কিছু কাম্য থাকে, বিধিমাফিক করার ভিতর-দিয়ে তা' আয়ত্ত করার দায়িত্বও তুমি-তিনিরই। ফলকথা, তিনি নিজেকে যা'-কিছুতে উৎসৃষ্ট করছেন, আমরা যে বেঁচে চলেছি, সে তাঁর শক্তিতেই। আমাদের যা'-কিছু তাঁরই, ইচ্ছা করলে তা' দিয়ে আমরা তম্মুখী চলনায় চ'লে সার্থকও হ'তে পারি, আবার তাঁর দিকে পিছনে ফিরে খোশখেয়াল মতো চ'লে ঐ চলার দোষ তাঁর ইচ্ছার উপরই চাপাতে পারি। কিন্তু বিধি বড় কঠিন বান্দা, সে কাউকে রেহাই দেয় না।

শরৎদা-Predestination (নিয়তি) ও free will (পুরুষকার)-এর কোন্টা কতখানি act (ক্রিয়া) করে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-রামকেষ্ট-ঠাকুর যে গরুর দড়ির উপমা দিয়েছেন-ওইটেই ঠিক। গরু সেই দড়ির শেষ সীমা পর্যন্ত এবং এর মাঝখানে যে-কোন জায়গায় চ'রে ঘাস খেতে পারে। আর, যদি গলার দড়ি একেবারে খুলতে হয়, তা'ও ঐ এলাকার মধ্যে থেকে কারও সাহায্যে খুলতে হবে। মানুষও তেমনি predestination (নিয়তি)-কে অতিক্রম করতে পারে। Predestination (নিয়তি) বলতে আমি বুঝি, যেমন করে যে সীমায়িত হ'য়ে আছে তাই, আর এক কথায় তাকে বলা যায় মায়া। গীতায় আছে-"মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরস্তি তে'-তিনি ছাড়া উপায় নেই। With all our passions and complexes (সমস্ত বৃত্তি-প্রবৃত্তি নিয়ে) তাঁ'তে Interested (অন্তরাসী) হ'তে হবে, তবেই আমরা মায়ার পারে যেতে পারব। কারণ, একমাত্র তিনিই মায়ার পারে দাঁড়িয়ে আছেন, মায়া তাঁরই সৃষ্ট। কিন্তু এই limitation-এর (সীমার) উর্দ্ধে উঠতে গেলে limitation-এর (সীমার) মধ্য-দিয়েই যেতে হবে। গরু যেমন একমাত্র গলার দড়ির range-এর (সীমার) মধ্যে দাঁড়িয়েই গলার দড়ি খুলতে পারে, মানুষকেও তেমনি প্রকৃতিদত্ত বৈশিষ্ট্যের উপর দাঁড়িয়ে, সেই অনুযায়ী ইষ্টকে অনুসরণ করে ব্রহ্মবোধে উপনীত হ'তে হয়। Parabolic line-এর (অধিবৃত্তের রেখার) মতো original line infinitely extend (মূলরেখা অনন্তপ্রসারিত) করা চলে। আমাদের শাস্ত্রে আছে, শূদ্রও ব্রাহ্মাণ হ'তে পারে, কিন্তু শূদ্রত্ব বাদ দিয়ে নয়, শূদ্রত্বের উপর দাঁড়িয়ে। আবার শরীর, মন, প্রবৃত্তি, সংস্কার, সামর্থ্য, যা' নিয়ে যেমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে, তা'ও তার ইচ্ছা ও কর্ম্মেরই সৃষ্টি। তাই, মানুষ যা' হ'য়ে আছে বা হ'য়ে উঠেছে তার উপর দাঁড়িয়ে আরো হওয়ার পথ খোলাই আছে। এই সম্ভাব্যতার ইতি নেই মানুষের। ঈশ্বর যেমন অনন্ত শক্তির আধার, মানুষও তেমনি-অবশ্য যদি তার উৎসের সঙ্গে যোগসূত্র অক্ষুণ্ণ থাকে। "God created man after his own image." (ভগবান মানুষকে নিজের প্রতিকৃতি-অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন।)

শ্রীশ্রীঠাকুর ভূষণদাকে দিয়ে অটলদার বৌদিকে ডাকিয়ে বললেন-বড় সাইজের পাঁচ সের রসগোল্লা করবি, ভিতরে ক্ষীরের পুর দিবি (সর্ব্ব-অঙ্গের অভিব্যক্তি দিয়ে) -একেবারে গন্ধে-বরণে-গানে মাত করে দেওয়া চাই। বাইরে পাঠাব, মনে থাকে যেন।

১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, বুধবার
(ইং ৩। ১২। ১৯৪১)
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏
ঠাকুর সম্পর্কে নিজে জানুন, আর অপরকে জানতে দেন।

১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, বুধবার (ইং ৩। ১২। ১৯৪১)ছেলে-মেয়েদের যৌন-বিজ্ঞান-সম্পর্কে কেমন করে শিক্ষা দেওয়া যায়, সেই সম্বন্ধে কথা...
27/07/2025

১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, বুধবার (ইং ৩। ১২। ১৯৪১)

ছেলে-মেয়েদের যৌন-বিজ্ঞান-সম্পর্কে কেমন করে শিক্ষা দেওয়া যায়, সেই সম্বন্ধে কথা উঠলো।

শ্রীশ্রীঠাকুর— যৌন-বিজ্ঞান ও প্রজনন-বিজ্ঞান সম্বন্ধে ভাল বই লিখতে হয়, আর শেখাতে গেলে খুব সুরুচি-সঙ্গত পন্থায় শেখাতে হয়। অযথা গোপনতা ভাল নয়, সহজ ও পবিত্রভাবে জীবনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব উদঘাটিত করে স্বচ্ছ করে বুঝিয়ে দিতে হয়। Distortion (বিকৃতি) ও abnormality (অস্বাভাবিকতা)-র প্রতি যা'তে একটা বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয়, সে-পথ দিয়ে যা'তে কেউ না মাড়ায়, তেমন মনোভাব পাকা কবে দিতে হয়। আবার, স্বাভাবিক যৌন-বোধের উন্মেষ ও অভিব্যক্তিতে তারা যা'তে নিজেদিগকে অপরাধী মনে করে দুর্ব্বল, অবসন্ন ও দিশেহারা হয়ে না পড়ে, বরং ঐ সম্বেগকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে জীবনকে উদ্বর্দ্ধন-মুখর করে তুলতে পারে, সেইভাবে তাদের শিক্ষিত করে তুলতে হয়। স্বাস্থ্য ও সদাচার-সম্বন্ধে কখন কোন্ অবস্থায় কী করণীয়, সেই সম্বন্ধেও ছেলে-মেয়েদের ওয়াকিবহাল ও অভ্যস্ত করে তুলতে হয়। আবার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সদাচারের পরিপোষণী আবহাওয়া সৃষ্টি করতে হয়-পরিবার, পরিবেশ, বিদ্যালয়-সর্ব্বত্র।

প্যারীদা (নন্দী) ভাগবতের একটা শ্লোক ব্যাখ্যা করতে নিয়ে আসলেন। তাই নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা নিজেদের মধ্যে হ'লো। পরে শ্রীশ্রীঠাকুর সেই প্রসঙ্গে বললেন—তিনি আমার সব করবেন, এটা ভক্তির অন্তরায়। ভক্তের মনের ভাব-আমার জন্য প্রভু যেন কষ্ট না পান, বরং আমিই তাঁর কষ্টের লাঘব করব, তাঁর ভার বহন করব, তাঁকে সোয়াস্তি দেব, তাঁর দায়িত্ব মাথা পেতে নেব, তাঁর ইচ্ছা পূবণ করব। এই আগ্রহ-উম্মাদনার ভিতর-দিয়েই তার শক্তি বেড়ে ওঠে, সে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে প্রতি মুহূর্তে গুরুর দয়া অনুভব করে, আর সহস্র মুখে তাঁর গুণগান করে। তা' না করে গুরুর কাছে যারা 'দেহি' 'দেহি' করে, স্বার্থ-প্রত্যাশা পূরণের জন্য তাঁর কাছে ঘোরে, তাদের শক্তি খর্ব্ব হ'য়ে যায়, তারা শাস্তি পায় না, অভাবও মেটে না তাদের। হনুমান রামচন্দ্রের relief-এর (স্বস্তির) জন্য কী না করেছে? এতে কিন্তু তার আত্মপ্রসাদ বই কষ্ট ছিল না, আর এমনি করেই সে বেড়ে উঠেছিল, কিন্তু তার ইতর অহঙ্কার ছিল না। একমাত্র গর্ব্ব ছিল তার রামচন্দ্রকে নিয়ে, তাঁকে নিয়েই বুক ভরেছিল তার, চাওয়া-পাওয়ার বালাই ছিল না। একমাত্র চাওয়া ছিল-তাঁর পরিপূরণ। তাই শান্তি, সন্তোষ ও শক্তি কোনদিন তাকে ত্যাগ করেনি। নয়নাভিরাম রামচন্দ্রের একটুখানি মুখের হাসি, একটুখানি সস্নেহ দৃষ্টি তার মনে যে কী আনন্দের ঢেউ তুলতো, সে সে-ই জানে। ফল কথা, fulfilling urge (পরিপূরণী সম্বেগ) নিয়ে তাঁর জন্য কুরাটা আমাদের যত keen (তীব্র) হয়, তাঁর ভালবাসাটাও আমরা তত অনুভব করতে পারি। নচেৎ আমাদের জন্য তাঁর লাখ ভালবাসা, লাখ করা আমরা বোধ করতে পারি না, উপভোগও করতে পারি না। আবার, আমরা যদি করিও এবং সে করাটা যদি হয় নিজেদের কেরামতি দেখাবার জন্য-তাঁর ভালবাসায় নয়-তাহ'লেও তাঁকে উপভোগ করা যায় না।

১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, বুধবার
(ইং ৩। ১২। ১৯৪১)
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏
ঠাকুর সম্পর্কে নিজে জানুন, আর অপরকে জানতে দেন।

প্রফুল্লদা— ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কথা এত জোর দিয়ে আমরা বলি, সে জিনিসটা কী?শ্রীশ্রীঠাকুর— প্রত্যেক মানুষ আলাদা হয়েছে যা' ...
22/07/2025

প্রফুল্লদা— ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কথা এত জোর দিয়ে আমরা বলি, সে জিনিসটা কী?

শ্রীশ্রীঠাকুর— প্রত্যেক মানুষ আলাদা হয়েছে যা' দিয়ে সেইটেই তার বৈশিষ্ট্য। বর্ণ ও বংশ এর মধ্যে বিশেষভাবে ক্রিয়া করে, তারপর জন্মকালে পিতা-মাতার মানসিক ভঙ্গী ও ভাবভূমিরও অনেকখানি অবদান আছে এতে। আর চারটে complex (প্রন্থি) আছে-OEdipus complex (এডিপাশ গ্রন্থি), এর স্বস্থরূপ হ'লো ছেলের মায়ের প্রতি অনুরাগ; Narcissus complex (নার্সিসাস গ্রন্থি), এর স্বস্থরূপ হ'লো আত্মপ্রীতি, আত্মপ্রত্যয়, আত্মমর্য্যাদাবোধ-এর মধ্যে কিন্তু হীনম্মন্যতা নেই, অন্যকে খাটো করার প্রবৃত্তি নেই; Homo-Sexual complex (সম যৌনগ্রন্থি), এর স্বস্থরূপ হ'লো মানুষের সামাজিকতাবোধ; আর আছে Hetero-Sexual complex (অসম যৌনগ্রন্থি)। সুস্থ যৌন-আকাঙ্ক্ষা যেখানে ধৰ্ম্মসঙ্গত বিহিত পথে আত্মপ্রকাশ করে নরনারীর বৈধী মিলনের ভিতর-দিয়ে সুপ্রজননে সার্থক হ'তে চায়, তার মধ্যে এর স্বস্থ অভিব্যক্তি দেখা যায়। এগুলির বিকৃতিও ঢের হয়। Psychology-তে (মনোবিজ্ঞানে) কী বলে আমি ঠিক জানি না, তবে আমি এইরকম বুঝি। যাহোক, প্রত্যেকের মধ্যে সব ক'টা complex (গ্রন্থি) থাকলেও, এক-একজনের মধ্যে এক-একটা prominent (প্রধান)। এইগুলি watch (লক্ষ্য) করে বৈশিষ্ট্য বুঝা যায়, আর সেই অনুযায়ী মানুষকে deal (ব্যবহার) করতে পারলে মানুষ elated (খুশি) হ'য়ে যায়-একটা expression (কথা) শুনেই বলবে, বাঃ, beautiful (সুন্দর), কী চমৎকার লোক, কেমন কথাটা বললো! এই যে একজনের বৈশিষ্ট্য ধরা-তাও নিজে obsessed (প্রবৃত্তি-অভিভূত) হ'য়ে থাকলে পারা যায় না—

"রঙ্গিল দৃষ্টি নয়কো যখন
আগ্রহ-নত মন,
তেমন মনই ধরতে পারে
সংস্কার কেমন।"

ইষ্টের রঙে যে যত রঙিয়ে থাকে সে তত uncoloured (অরঙ্গিল) অবস্থায় প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন করতে পারে। প্রায় লোকেই প্রবৃত্তির ঘোরে চলে, তাই বিশ বছর যার সঙ্গে একসঙ্গে একঘরে থাকে, তারও বৈশিষ্ট্যটা হয়তো বোঝে না। এই না-বোঝার দরুন কত ঠোকাঠুকি বাধায়, আবার শুধু মাথায় বুঝ হ'লেই যে হয় তা' নয়। প্রবৃত্তি-অভিভূতির কবলে যখন আমরা প'ড়ে যাই তখন কোথায় কার সঙ্গে কী ব্যবহার সমীচীন-তা' জানা সত্ত্বেও আচরণে ফুটিয়ে তুলতে পারি না। তাই, একটু বুদ্ধিমান লোক যারা তারা সর্ব্বক্ষণ ইষ্টরত হ'য়ে প্রবৃত্তি-অভিভূতির মুঠুম-হাত উপরে থাকতে চেষ্টা করে।

ফরিদপুর থেকে একটি দাদা আসলেন। শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর কাছে ফরিদপুরের অনেকের খবরাখবর জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি কুষ্টিয়া হ'য়ে এসেছেন শুনে ডাক্তারবাবার কথাও জিজ্ঞাসা করলেন।

শরৎদা (হালদার) পূর্ব্বপ্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন-ক্লাশে পড়াতে গিয়ে বা সভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে কী-ভাবে বলতে হবে? সেখানে তো নানা বৈশিষ্ট্যের বহু লোকের সমাবেশ।

শ্রীশ্রীঠাকুর— প্রত্যেকটা musical instrument-এ (বাদ্য-যন্ত্রে) কতকগুলি ঘাট থাকে, গ্রাম থাকে, তার সাহায্যে সব গৎ যেমন বাজান যায়, নানাবিধ প্রকৃতি-ওয়ালা একটা group (দল)-এর কাছে বলতে গেলে তেমনি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য nourishment (পোষণ) পায়-তেমন ধরণের ঢেউ তুলতে হয়। সব ক'টা pose (ভঙ্গী) নিতে পারলে, tune (সুর) ও touch (স্পর্শ) দিতে পারলে, প্রত্যেকে interested (অন্তরাসী) হবেই। Sublime language-এ (গুরুত্বপূর্ণ মনোজ্ঞ ভাষায়) topic (বিষয়)-এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে tactfully (সুকৌশলে) বলতে হয়। হয়তো বললেন-তোমার ছেলে, তোমার স্ত্রী না খেতে পেয়ে আজ পথে এসে দাঁড়াতে বসেছে-এর সমাধান কি তুমি চাও না? ছেলে-বৌয়ের কথা বলেছ না অমনি তার complex (প্রবৃত্তি) interested (অন্তরাসী) হ'য়ে উঠল-তার মন চেতে উঠল, সে ভাবলো কী কয় শুনে দেখি। তবে শুধু প্রবৃত্তিতে উস্কানি দিয়ে লাভ নেই, আর মানুষের হীন প্রবৃত্তি যেমন আছে, উন্নত প্রবৃত্তিও তেমনি ঢের আছে। বলতে গিয়ে সেগুলিকে আগুন করে তুলতে হয়-ইষ্ট, কৃষ্টি, ধৰ্ম্ম, বৃহত্তর পারিপার্শ্বিকের স্বার্থ ইত্যাদি বিষয়ে মানুষের আগ্রহকে উদ্দীপিত করে তুলতে হয়। সুকেন্দ্রিক মঙ্গলকৰ্ম্মে মানুষকে যতই উন্মাদ করে তুলতে পারবে ততই বোঝা যাবে তোমার বলা সার্থক হ'লো। মানুষ complex-এর (প্রবৃত্তির) রাজ্যে যেমন দাঁড়িয়ে আছে তেমনি প্রবৃত্তিকে sublimate (ভূমায়িত) করার ইচ্ছাও তার আছে। তাই, বাস্তবের সঙ্গে যোগ রেখে বললে সৎ-এর প্রতি নেশা ধরিয়ে দেওয়া কঠিন কিছু নয়। মানুষের যেমন স্বার্থপরতা আছে, পরার্থপরতার প্রবৃত্তিও তা'তে কম নেই এবং সেটা তা'তে কম প্রবল নয়। প্রকৃতপক্ষে, পরার্থপরতাই তার স্বার্থের ভিত্তি। মানুষের যেমন আরামপ্রিয়তা ও তথাকথিত ভোগাকাঙ্ক্ষা আছে, ইষ্টার্থী ক্লেশ-সুখ-প্রিয়তা, ত্যাগ ও দুঃখ-বরণের স্পৃহাও যে তার না আছে, তাও নয়। দরকার ঐগুলিকে উস্কে দেওয়া, ওগুলির প্রতি লোভ জন্মিয়ে দেওয়া। শিল্পীর কাজ হ'লো তাই। প্রত্যেকটি আঙ্গিনা থেকেই এর কর্ষণ যদি চলে, জাতের মধ্যে progressive mood (প্রকৃত প্রগতিমুখী মনোভাব) চারিয়ে যেতে বেশী দেরী লাগে না।

১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, মঙ্গলবার
( ২। ১২। ১৯৪১ইং )
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏
ঠাকুর সম্পর্কে নিজে জানুন, আর অপরকে জানতে দেন।

ভোরে বাঁধের ধারে তাসুতে মধুময়কে ঘিরে মধুচক্র জ'মে উঠেছে-বিভোর হ'য়ে সবাই সেই মধুময়ের মধুক্ষরা বচনসুধা পান করছেন, আর উপভোগ...
22/07/2025

ভোরে বাঁধের ধারে তাসুতে মধুময়কে ঘিরে মধুচক্র জ'মে উঠেছে-বিভোর হ'য়ে সবাই সেই মধুময়ের মধুক্ষরা বচনসুধা পান করছেন, আর উপভোগ করছেন তাঁর মধুর হাসি, মধুর কথা, মধুর চাউনি, মধুর স্নেহ। উপস্থিত সবার কাছে এখন-'সুন্দর আজি সবই সুমধুর, এইতো পূর্ণ এ হৃদয়পুর।'

একটু বেসুরোভাবেই প্রশ্ন করা হ'লো— হঠাৎ অনেক সময় এক-একজনের ব্যবহারে চ'টে যাই, প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছে করে, এর উপায় কী?

শ্রীশ্রীঠাকুর— আমাদের উদ্দেশ্য হ'লো মানুষকে জয় করা, তার হৃদয় অধিকার করা, তার ego-কে (অহংকে) কাবু করে ফেলা, repentance (অনুতাপ) জাগান। তা' যদি না পারলাম, আমাদের জিদের কিম্মত কী? আর, পারস্পরিক সুখই বা কোথায়? যার উপর প্রতিশোধ নেবো, সেও যদি ব্যথার মধ্যে সুখবোধ না করে, তাহ'লে কি সুখ হয়? আমরা মানুষটাকে পেতে চাই, একটা মানুষকে হারিয়ে লাভনেই, তবে তার মধ্যে সত্তাসম্বর্দ্ধনার পরিপন্থী যা' আছে তার নিয়ন্ত্রণ বা নিরসন প্রয়োজন। সেইজন্য তাকে শাসনে সংযত করা দরকার হ'তে পারে। এই শাসন হবে আবার প্রীতির শাসন, কঠোরতার মধ্যেও প্রীতি থাকবে। তার প্রতি তোমার প্রীতি যদি তার ভিতর তোমার প্রতি প্রীতি উদ্দীপ্ত করে তুলতে পারে, তাহ'লেই তুমি তাকে সংশোধন করার পথ পেলে। তবে কারও ভিতর obsession (অভিভূতি) থাকলেও বারংবার চেষ্টায় তাকে ফেরান যায়, কিন্তু treacherous habit (বিশ্বাসঘাতী অভ্যাস) ও instinct (সংস্কার) থাকলে তাদের হৃদয় জয় করে তাদের ভিতর পরিবর্তন আনা কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে পারাই যায় না।

প্রশ্ন— Treacherous (বিশ্বাসঘাতক) কিনা তা' বুঝবো কী করে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-Treacherous (বিশ্বাসঘাতক)-এর একটা লক্ষণ-সবটার মধ্যে সে directly (মুখ্যভাবে), indirectly (গৌণভাবে) নিজেকে establish (প্রতিষ্ঠা) করতে চায়, তার জন্য কে যে কত করছে সে-কথা মুক্ত কণ্ঠে ব'লে কৃতজ্ঞতা জানায় না, সে যে একটা অসাধারণ কৃতী-মানুষ এবং তার গুণের জন্যই সে সর্ব্বত্র তার সমাদর-এই কথাটাই সে কায়দা-করণে, হাবেভাবে, প্রকারান্তরে প্রতিনিয়ত জাহির করতে চায়। ফলকথা, কারও মমতায় সে কিছু করে না, নিজের হীনম্মন্যতার মমতায় যা'-কিছু করে।

কথায়-কথায় শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন-আর কিছু না, তোরা যা' ঠিক করেছিস্ সেইমতো heart and soul (প্রাণপণ) খেটে ১৩০ টাকার signatory (স্বাক্ষরকারী) ৫/৭ হাজার জোগাড় কর, আমি কিছুই বাকী রাখব না।

১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, মঙ্গলবার
( ২। ১২। ১৯৪১ইং )
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏
ঠাকুর সম্পর্কে নিজে জানুন, আর অপরকে জানতে দেন।

তাঁর দয়ার দরবার নিত্য অবারিত-তিনি অকাতরে বিলিয়ে চলেছেন মণিমাণিক্য, অমূল্য রত্নরাজি। কাঙ্গাল মানুষ বঞ্চিত হয় না, বিমুখ হয়...
21/07/2025

তাঁর দয়ার দরবার নিত্য অবারিত-তিনি অকাতরে বিলিয়ে চলেছেন মণিমাণিক্য, অমূল্য রত্নরাজি। কাঙ্গাল মানুষ বঞ্চিত হয় না, বিমুখ হয় না তাঁর কাছে এসে কখনও-তাই বারে-বারে আসে, ফিরে-ফিরে আসে, বিশ্বের ভাণ্ডারী যিনি, তাঁরই কাছে-নিখিলের জ্ঞান, গুণ, প্রেম ও প্রাণের রূপায়িত বিগ্রহ যিনি, তাঁরই কাছে।

বীরেনদা (ভট্টাচার্য্য)— সদগুরু গ্রহণ করে কিছু যদি না করে, তবে কিছু লাভ হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর—দীক্ষা গ্রহণ ক'রে যে যে-ভাবেই চলুক, যাই করুক, একটা খচ্খচানি লেগেই থাকে, এইটুকুই লাভ।

শৈলেনদা (ভট্টাচার্য্য)— ঋত্বিক্রা যদি কদাচারী হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে দীক্ষাও দেয়, তাতে কি লাভ হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর— ঋত্বিদের qualification (গুণ) দু-রকম, এক যুক্ত, আর realised (সিদ্ধ)। যুক্ত মানে interested (অন্তরাসী), attached (অনুরক্ত)। যে যত interested (অন্তরাসী), infusing-এ (ইষ্ট-অনুপ্রাণনা সঞ্চারে) সে তত successful (কৃতকার্য্য)। সবাই সমান না পারলেও আচার্য্যের রকমটা যা' মাথায় থাকে, imparting-এর (সঞ্চারণার) সময় তার কিছু-না-কিছু ঠিকরে বেরোয়ই— তা'তে কাজ হয়। তবে কদাচারী হ'লে অন্তরস্থিত দীপনা নিষ্প্রভ হ'য়ে যেতে থাকে, তখন অন্যের প্রাণকে ভাল ক'রে স্পর্শ করতে পারে না ।

প্রশ্ন— 'ঋত্বিক্' বই দেখে একজন যদি তা' অনুসরণ করে, কোন ঋত্বিকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যদি দীক্ষা না নেয়, তা'তে হয় না?

শ্রীশ্রীঠাকুর— তা'তে হয় না। একজনের কাছ থেকে impulse (প্রেরণা-সংঘাত)-টা পাওয়ার দরকার, সেইটুকুই আদত জিনিস।

ধূর্জ্জটিদা (নিয়োগী)-কোন বিষয়ে মানুষের taste (অনুরাগ) কোথা হ'তে আসে?

শ্রীশ্রীঠাকুর— যে যেমন instinct (সহজাত সংস্কার) ও temperament (প্রকৃতি) নিয়ে জন্মায় এবং তার মধ্যে যেটার আবার nurturing (পোষণ) বেশী পায়, তার সেইটেই prominent (প্রধান) হ'য়ে ওঠে। তাই শুধু জন্মগত সংস্কার থাকলেই হবে না, সেই সংস্কারের উদ্বোধনের জন্য আবার উপযুক্ত পারিবেশিক প্রেরণা চাই। এই পারিবেশিক প্রেরণার অভাবে, সুযোগ-সুবিধার অভাবে মানুষ তার অন্তর্নিহিত অনেক কিছু সম্ভাব্যতা সম্বন্ধেই সচেতন হ'তে পারে না, তাকে বাস্তবায়িত করা তো দূরের কথা।

প্রফুল্ল— জন্মের ব্যাপারে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর ক্রিয়া এবং অবদানের কথা বোঝা যায়, কিন্তু বাইরের একটা বায়ুভূত soul-এর (আত্মার) সঙ্গে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর সম্পর্ক বা সঙ্গতি কী বা কোথায়?

শ্রীশ্রীঠাকুর— স্ত্রীর যে ভাবধারা ও যেমনতর impulse (সাড়া)-দ্বারা পুরুষ স্ত্রীতে আনত হয়, পুরুষের brain-centre (মস্তিষ্ক-কেন্দ্রও) তেমনভাবে excited (উত্তেজিত) হয়, আর সেই সময়ই ঐ ভাবের range-এর (সীমার) মধ্যে যত soul (আত্মা) in tune (ঐকতানিক সূত্রে) থাকে, তারা এসে হাজির হয়। Scrotum-এর (অণ্ডকোষের) মধ্যে যে সমস্ত s***mcells (শুক্রাণুকোষ) থাকে, সে-সময় সেগুলি charged (শক্তিসম্ভূত) হ'য়ে নিয়ে life (জীবন) পায় অর্থাৎ ঐ আগত soul (জীবাত্মা)-গুলি s***mcell (শুক্রাণুকোষ)-কে life (জীবন) দিয়ে চলৎশীল, নড়নশীল, সজীব করে তোলে, মানুষের শরীরের মধ্যে তখন একটা contraction (আকুঞ্চন)-এর ভাব হয়। তারপর স্ত্রী-পুরুষের মিলনের সময় তারা o**m-এর (ডিম্বাণুর) সঙ্গে মেশার জন্য ছুটে যায়। স্ত্রী আবার স্বামীর ভাবভঙ্গী থেকে, আচার-ব্যবহার থেকে যেমনভাবে impressed (প্রভাবিত) হয়, o**m (ডিম্বাণু)-ও তেমনিভাবে impressed (প্রভাবিত) হয় তার ভাবভূমির ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে। অবশ্য, পুরুষও যে স্ত্রীর ভাবের দ্বারা প্রভাবিত হ'য়ে থাকে সে-কথা তো পূর্ব্বেই বলেছি। স্ত্রীর একনিষ্ঠ শ্রদ্ধাপ্লুত পরিচর্যা পুরুষকে যতখানি exalt (উন্নীত) করে তোলে, তত উন্নত স্তরের আত্মা নেমে আসে। কিন্তু শুক্রাণুগুলি যত উন্নত স্তরের আত্মা বহন করেই আনুক না কেন, ডিম্বাণু যে-রকম impressed (প্রভাবিত) হয়, সেই impression (প্রভাব ও ছাপ)-এর সঙ্গে affinity (সঙ্গতি)-ওয়ালা যে শুক্রাণু থাকে তারই সঙ্গে হয় মিলন-যেন খাঁজে-খাঁজে প'ড়ে গেল, আর ফাঁক রইল না, শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিশে একটা whole entity (গোটা সত্তা) হ'য়ে গেল, তারপর cell-division (কোষ-বিভাজন) আরম্ভ হয় as a whole (সামগ্রিকভাবে) সেই হোল ছেলে। পুরুষ ও নারী স্বভাবতঃই যদি উর্দ্ধমুখী না হয় বাস্তব জীবনে, তবে কিন্তু বুদ্ধি করে ঐ সময়ে উচ্চ ভাবভূমিতে থাকতে পারে না। তাই পুরুষের ইষ্টনিষ্ঠ চলন ও স্ত্রীর ইষ্টানুগ স্বামিভক্তির উপর অতো জোর দেওয়া হয়। তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে একটা পারস্পরিকতা চাই, সঙ্গতি চাই, গভীর প্রীতি চাই, শরীর, মন, চরিত্র ও প্রকৃতির সামঞ্জস্য চাই, আর এইটে পেতে গেলে বিয়েটা হওয়া চাই বিধিমাফিক। এতখানি হ'লে তবেই উন্নত আত্মার আবির্ভাব সম্ভব। আর, আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা s***m (শুক্রাণু)-ই micro-cosmic form-এ (ক্ষুদ্রাকারে) এক-একটা being (জীব), ও নষ্ট করা মানে micro-cosmic form-এর (ক্ষুদ্রাকারের) একটা মানুষ মেরে ফেলা। আমাদের বোধশক্তি ও মমত্ববোধ জাগলে তখন আর অযথা নিষ্প্রয়োজনে, নিজের সুখের জন্য, ইন্দ্রিয়-পরিতৃপ্তির জন্য লক্ষ-লক্ষ শুক্রাণু নষ্ট করে অতোগুলি soul (আত্মা)-কে মারতে পারবো না। নিজেরা জন্ম নিতে এসে বার-বার যদি অমন করে মারা পড়ি, তখন কী অবস্থা হয়, সেই কথা চিন্তা করে শিউরে উঠব। অবশ্য, ডিম্বাণু যে সাধারণতঃ একটার বেশী শুক্রাণু গ্রহণ করতে পারে না এবং একটা জীবনকে রূপায়িত করে তোলার ব্যাপারে যে বহু শুক্রাণুর জীবনাহুতির প্রয়োজন হ'য়ে পড়ে, প্রকৃতির এই বিধানের উপর তো কারও কোন হাত নেই। তাই প্রজননকল্পে ছাড়া অন্য কারণে শুক্রাণু যথাসম্ভব নষ্ট না করাই উচিত। তুমি-আমি সবই তো ঐ living s***m (জীবন্ত শুক্রাণু), প্রত্যেকে ওরই উপর দাঁড়িয়ে গজিয়েছে, ওই আজ কত কথা কইছে, ঘুরছে, ফিরছে, হাতি-ঘোড়া মারছে। তুমি যে-দশা পছন্দ কর না, অনর্থক সে-দশায় ওদের ফেলবে? ওরা যে তুমিই।

১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, সোমবার
(১।১২। ১৯৪১ ইং)
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏 জয়গুরু 🙏🙏
ঠাকুর সম্পর্কে নিজে জানেন এবং অন্য কেও জানান।।

পর-পর নানা প্রশ্নের অবতারণা হ'তে লাগলো। একজন জিজ্ঞাসা করলেন- মানুষ যে ইষ্টের কথা শুনতে চায় না, কিংবা শুনলেও গ্রহণ করতে চ...
14/02/2024

পর-পর নানা প্রশ্নের অবতারণা হ'তে লাগলো। একজন জিজ্ঞাসা করলেন- মানুষ যে ইষ্টের কথা শুনতে চায় না, কিংবা শুনলেও গ্রহণ করতে চায় না, এর উপায় কী?

শ্রীশ্রীঠাকুর-যে ইষ্টে interested (অন্তরাসী) নয়, সে যে passion-এ (প্রবৃত্তিতে) interested (অন্তরাসী) আছেই, সেই passion-এর (প্রবৃত্তির) দোর দিয়ে ঢুকতে হয়। তবু এ-কথা ঠিকই যে, কেউ চায় না যে প্রবৃত্তি-উপভোগ করতে গিয়ে তার সত্তা বিপন্ন হোক। সত্তাই যদি সাবাড় হ'য়ে যায়, উপভোগ করবে কে? এই সত্তার প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট করে, সত্তার ধারক ও পোষক হিসাবে ধৰ্ম্ম, ইষ্ট, কৃষ্টি ও দীক্ষার প্রয়োজনবোধ সহজেই মানুষের অন্তরে গেঁথে তুলতে পার। প্রতিটি পদক্ষেপে শ্বাসে- প্রশ্বাসে তুমি যদি ইষ্টকে নিয়ে চল, ইষ্টই যদি তোমার যথাসর্ব্বস্ব হ'য়ে ওঠেন, তখন যে-কোন মানুষকে তুমি লহমায় ইষ্টগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিতে পারবে সহজভাবে, তখন তার জন্য তোমার দর্শন-শাস্ত্র আওড়ান লাগবে না। নিজের জীবনটাকে ইষ্টে অচ্যুত, সুকেন্দ্রিক ও সুবিন্যস্ত করে তুলতে গিয়ে, নিজেকে অধ্যয়ন করতে গিয়ে তুমি যে বোধ, বিবেচনা, অনুভূতি ও নিয়মন-কুশলতা আয়ত্ত করবে, তারই সাহায্যে তুমি সারা দুনিয়াকে বোধ করতে পারবে, সুনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারবে, তোমার দর্শন অর্থাৎ দেখা তখন কতজনের দৃষ্টি খুলে দেবে। তাই ব'লে এ কথা নয় যে, perfect (পূর্ণ) হ'য়ে তবে যাজনে নামতে হবে। ইষ্টমুখী হ'য়ে যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি তিনই চালিয়ে যাওয়া লাগবে। ইষ্টকে অবলম্বন করে যতই আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ-তৎপর হব-নিরন্তর সক্রিয়তায়, ততই আমাদের যাজন ফলবতী হবে, সূক্ষ্ম আত্মসমীক্ষণের ভিতর-দিয়ে প্রত্যেককে যথাযথভাবে নিরীক্ষণ করতে পারব, তাই চলাগুলি হবে বাস্তব-অভিজ্ঞতাপ্রসূত ও যথা-প্রয়োজন। তার সঙ্গে আবার থাকবে ইষ্টসম্বেগ, মানুষের প্রতি দরদ, সবটা মিলিয়ে তা' মানুষকে বোধসন্দীপ্ত করে তুলবে। কিন্তু বহুলোক এমন আছে, যাদের প্রকৃতিই তা'দিগকে সৎ-এ অনুরক্ত হ'তে দেয় না। তবু যে যেমনই হোক, ইষ্টহীন ব্যক্তি যত হোমরা-চোমরাই হোক, ইষ্টনিষ্ঠ তুমি তার ঢের উপরে, এ-কথা স্মরণ রাখতে ভুলো না। তাই, কারও সম্বন্ধে আশা বা চেষ্টা ছেড়ো না, তোমার পারগতা-সম্বন্ধে সন্দিহান হ'য়ো না। সেই পরম-কারুণিক প্রাণন-দীপনারূপে সবার অন্তরেই বিদ্যমান। কে জানে, কোন্ মুহূর্তে, কার অনুপ্রেরণায়, কিসের ভিতর-দিয়ে কার জীবনে কী পরিবর্তন আসে।

ব্রজেনদা (চট্টোপাধ্যায়)-ব্যক্তিগতভাবে অনেকের মধ্যে ইষ্টপ্রাণতা বেশ দেখা যায়, তবু সমগ্রভাবে সংহতি যতখানি আসা উচিত তা' আসে না কেন?

শ্রীশ্রীঠাকুর- ইষ্টে অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও, প্রত্যেকের প্রবৃত্তি-সঞ্জাত কতকগুলি superstition (কুসংস্কার) থাকে, সে তা'তে isolated (বিচ্ছিন্ন সীমায়িত) হ'য়ে থাকে। বৃত্তিভেদী টান যত সময় না হয়, তত সময় ঐ গণ্ডী কেটে ইষ্টের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সকলকে আপন করে নিতে পারে না, নিজস্ব সঙ্কীর্ণজগতে বাস করে। কিন্তু ইষ্টের প্রতি টান হ'লে নিজের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেও সব বৈশিষ্ট্যকে শ্রদ্ধা করতে শেখে, ভালবাসতে শেখে, সবার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলতে শেখে। তারপর temperament-এরও (ধাতুগত প্রকৃতিরও) difference (পার্থক্য) থাকে, প্রত্যেকে তার নিজের temperament-এর (ধাতুগত প্রকৃতির) লোকদেরই পছন্দ করে, অন্য- প্রকৃতিসম্পন্ন লোকদের তত পছন্দ করে না। এই সমস্ত কারণে মোটামুটি ভাল লোক যারা তাদের মধ্যেও অনেক সময় পূর্ণ সংহতি ফুটে ওঠে না, তবে তাদের মধ্যে একটা পারস্পরিক বুঝ থাকে। এ তো বলছি ভাল লোকদের কথা। তা'ছাড়া ভোগলিঙ্গা, আত্মস্বার্থ ও আত্মপ্রতিষ্ঠার বুদ্ধি যাদের প্রবল তারা ঐক্যবদ্ধ হ'য়ে উঠতে পারে না। তবে মিলনের কেন্দ্র ঐ সর্ব্বাপূরক ইষ্ট-তাঁ'তে এতটুকু টানও যদি থাকে তবে সেই টানে সবাই একত্র হয়, পরস্পরের মেলামেশায় প্রত্যেকের প্রবৃত্তি, প্রকৃতি, স্বার্থ, চাহিদা ও কুসংস্কারে আঘাত লাগে, মানুষ ব্যথা পায়, কিন্তু গোড়ায় একজনের প্রতি টান থাকায় কেউ কাউকে দূরে সরিয়ে দিতে চায় না। কারণ, তাতে তাঁর মনে আঘাত লাগবে। এইভাবে আসে বুদ্ধি, বিচার, সহনশীলতা ও দরদ, মানুষ adjusted (নিয়ন্ত্রিত) হয়, তার ভুল ভাঙ্গে। ভুল-ত্রুটি, প্রকৃতি-বৈষম্য ও কুসংস্কার সত্ত্বেও পরস্পর পরস্পরকে আপন ব'লে স্বীকার করে নিয়ে, মানিয়ে-পাতিয়ে বন্ধুত্ব বজায় রেখে চলতে শেখে। গোড়ায় টান না থাকলে একটু জোর আঘাত লাগলেই হয়তো স'রে পড়ে।

শ্রীশ্রীঠাকুর বঙ্কিমদাকে (রায়) বললেন-যেগুলি অবশ্যপালনীয় এমন কতকগুলি ছড়া পঞ্চানন (কর্মকার)-কে দিয়ে লিখিয়ে নাও। যারা অভ্যাস করতে চায় তাদের চোখের সামনে থাকলে সুবিধা হবে।

১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, রবিবার
(ইং ৩০। ১১। ১৯৪১)
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏

প্রফুল্লদা- বড় হওয়া মানে তো কেবল খাটুনি, কেবল কষ্ট-দেহ-মনের আর বিশ্রাম থাকে না।শ্রীশ্রীঠাকুর-ঐ খাটুনির মধ্য-দিয়ে মানসিক ...
14/02/2024

প্রফুল্লদা- বড় হওয়া মানে তো কেবল খাটুনি, কেবল কষ্ট-দেহ-মনের আর বিশ্রাম থাকে না।

শ্রীশ্রীঠাকুর-ঐ খাটুনির মধ্য-দিয়ে মানসিক ও দৈহিক expansion (বিস্তার) যা' হয়, nerve-এর (স্নায়ুর) সাড়াপ্রবণতা যা' বাড়ে, fatigue-layer (অবসন্নতার স্তর) যেমন ক'রে, pass (অতিক্রম) করে, চৈতন্যের প্রসার যেমন হয়, অধিগমন ও আধিপত্যের পথে মানুষ যেমন বিবর্তিত হ'য়ে এগিয়ে চলে-তাই তো বিশ্রাম, তাই তো আরাম। তবে এগুলি কষ্টকর হ'য়ে ওঠে-যখন মানুষ নিজের জন্য করে, সার্থকতার জীবন-কেন্দ্র যখন তার না থাকে। তখন সমস্ত চাপটা নিজের ঘাড়ের উপর এসে পড়ে, উদ্দীপনী কেন্দ্র বলতে কিছু থাকে না, তাই সতত নিজেকে ভারাক্রান্ত বোধ করে। আত্মকেন্দ্রিক হ'য়ে চলে ব'লে অবসন্নতা ও উৎফুল্লতা দুই-ই তাকে অব্যবস্থ করে তোলে। কিন্তু শ্রেয়নিষ্ঠ হ'লে মানুষ সব সময়ই যেন একটা শক্তির যোগান পায়, ভালবাসার আবেগ তাকে-দিয়ে করিয়ে নেয়, সে দেখে, তাঁর দয়াতেই হচ্ছে, আমি নিমিত্ত মাত্র।

এরপর শিক্ষা-সম্বন্ধে কথা উঠলো। শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন-ছেলেদের প্রথম থেকে difficulties face করতে (বাধাবিঘ্নের সম্মুখীন হ'তে) দিতে হবে এবং সে-সব overcome (অতিক্রম) করতে দিতে হবে। এতে আত্মপ্রত্যয় ও ইচ্ছাশক্তি বাড়ে, বাস্তব জীবনের সমস্যা-সম্বন্ধে অতো ভীতি থাকে না, ব্যক্তিত্বের বিকাশ হয়। Teacher (শিক্ষক)-দের মধ্যে consolidation (সংহতি) ও Ideal (আদর্শ)-কে fulfil (পরিপূরণ) করার interested enthusiasm (অন্তরাসী উৎসাহ) থাকলে ছেলেদের মধ্যেও teacher (শিক্ষক)-এর প্রতি active attachment (সক্রিয় অনুরাগ) চারিয়ে যায়-তখন আর ছেলেদের শেখার কমতি হয় না, সব কাজেই interested (অন্তরাসী) হ'তে থাকে। ঐ urge-ই (আকৃতিই) তাদের after-life determine (পরবর্তী জীবন নির্দ্ধারিত) করে, সে-সব ছেলেরা difficulty (কষ্ট) দেখলে shirk করে না (এড়িয়ে যায় না), বরং পেখম তুলে দাঁড়ায়। তোমরা যদি ছেলেদের ভাল করে গ'ড়ে তুলতে চাও, এখানকার climate (আবহাওয়া)-ও তেমনি করে তুলতে হবে। বিরাট ঘূর্ণির মধ্যে নৌকা পড়লে তার যেমন আর নিস্তার থাকে না, কাজের একটা তেমন atmosphere (আবহাওয়া) create (তৈরী) করতে পারলে, নূতন ছেলেদেরও সেই কৰ্ম্মস্রোতের মধ্যে প'ড়ে নিষ্কর্মা থাকার উপায় থাকবে না। কাজের মধ্য-দিয়ে বহু শিক্ষা তাদের দিতে পারবে। হয়তো ইঞ্জিন মোছাচ্ছ-সেই সঙ্গে এমন science (বিজ্ঞান) শিখিয়ে দিলে যে, ছেলেদের science-এ (বিজ্ঞানে) interest (অনুরাগ) খুলে গেল এইভাবে রকমারি কাজকর্ম হাতে-কলমে করাতে হয়, আর তার মধ্য-দিয়ে নানা বিষয়ে অনুসন্ধিৎসা ও অনুরাগ জাগিয়ে দিতে হয়। প্রত্যেকটা ছেলের all-round development (সর্ব্বতোমুখী বিকাশ) যেন হয়। প্রত্যেকে সবরকম কাজ জানবে, শিখবে, তবে প্রত্যেকের নিজের একটা বিশিষ্ট বিষয় থাকবে, যা'তে সে normally interested (স্বতঃই অনুরাগী), আর সে-বিষয়ে মৌলিক গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখর করে তুলতে হবে তাকে। প্রত্যেকটা বিষয়ের জ্ঞান প্রত্যেকটা বিষয়ের জ্ঞানকে যাতে আরো সমৃদ্ধ ও পুষ্ট ক'রে তোলে, তেমনভাবে বিষয়গুলির যোগসূত্র ধরিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকটা বিষয়ের সঙ্গে প্রত্যেকটা বিষয়ের সম্পর্ক যেমন বুঝিয়ে দিতে হবে, তেমনি জীবনের ক্ষেত্রে তার বাস্তব উপযোগিতা ও প্রয়োগ-কৌশল ধরিয়ে দিতে হবে। সব জ্ঞানকে সার্থক করে তুলতে হবে সত্তাসম্বর্দ্ধনায়। এ তো করবেই, আরো প্রত্যেকটা ছেলের মধ্যে individuality (ব্যক্তিত্ব) set up (প্রতিষ্ঠা) ক'রে দিতে হবে, যা'তে সে environment (পরিবেশ) -কে mould (নিয়ন্ত্রণ) করতে পারে। সে যেখানে যাবে, ঠাকুর-কে carry (বহন) করে নিয়ে যাবে। Calculating (হিসাবী) টান না হ'য়ে টানের মতো টান হ'লে একটা enchanting magnetic influence (আকর্ষণী চৌম্বক প্রভাব) তার কথাবার্তা, চালচলন, ব্যবহারের ভিতর-দিয়ে ফুটে বেরুবে। হেঁটে বেড়াবে, তার personality (ব্যক্তিত্ব) over-powering (বিজয়ী) হ'য়ে উঠবে; তার তখন আসবে rational discussion (যুক্তিসঙ্গত আলোচনা), scientific investigation (বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান), consolidated service (সংহত সেবা), interested move (অন্তরাসী চলন) মানুষ দেখে মুগ্ধ হ'য়ে যাবে। মানুষ বিরুদ্ধ-তর্ক করতে আসলে সে তার enchanting emotional flow (মনোমুগ্ধকর ভাবদীপ্ত বাক্যস্রোত), active serviceable look (সক্রিয় সেবাপ্রাণ দৃষ্টি) নিয়ে দাঁড়িয়ে এমন করে তার ব্যক্তিগত problem (সমস্যা)-গুলি discover (আবিষ্কার) করে solution (সমাধান) দিতে থাকবে যে, সে একেবারে flooded (পরিপ্লাবিত) হ'য়ে যাবে,-"কহিতে গিয়া কথারই কথা মরম খুলিয়া দিয়াছে"-এমনতর হবে। পারিপার্শ্বিক তার প্রতি attracted (আকৃষ্ট) না হ'য়ে পারবে না। উপগুপ্তের এক গানের তানই অশোককে জাগিয়ে দিল। Enchanting attachment (মুগ্ধ অনুরাগ) থাকলে উপগুপ্তের মতো গান বেরোয়-যা'তে মানুষ মুগ্ধ হ'য়ে যায়। আবার, টান না থাকলে পিগুলে হরিদাসের মতো ভিতরে intention (ইচ্ছা) রেখে অভিনয় করতে-করতেও টান এসে পড়ে। হরিদাস ছিল চৈতন্যদেবের ভক্ত, সবাই কীর্ত্তন করতো, দরবিগলিত ধারে কতজনের প্রেমাশ্রু গড়িয়ে পড়তো, অষ্টসাত্ত্বিক বিকারের আরো-আরো কত অভিব্যক্তি তাদের হ'তো। কিন্তু হরিদাস ভাবত, আমার এ পোড়া হৃদয় পাষাণ, তাই প্রভুর প্রতি অনুরাগে আমার চোখ দিয়ে একফোঁটা জলও বেরোয় না। তার অন্তরের শুষ্কতাকে সরস করবার অভিপ্রায় নিয়ে সে তখন পিপুলের গুঁড়ো চোখে দিয়ে প্রভুর নাম করতে-করতে কাঁদতো, এই করতে-করতে তার অন্তরের ছাই- চাপা প্রেমের প্রস্রবণ খুলে গেল, সে ধন্য হ'য়ে গেল। তাই বলি, কারও নিরাশ হবার কারণ নেই, বৈধীভাবে সাধন করতে-করতে কোন্ মুহূর্তে কার অনুরাগের উৎস- কবাট মুক্ত হ'য়ে যাবে তার কি ঠিক আছে?

তাঁর ভাবদীপ্ত অমৃত-মধুর কন্ঠে কথাগুলি শরীরী দিব্যবাণীর মতোই ঝঙ্কৃত হ'য়ে উঠলো। উপস্থিত সকলের অন্তর-বাহির তখন সুধা-স্রোতে পরিপ্লাবিত। কেবলই মনে হচ্ছিল, 'বিশ্বে বহে প্রেমনদী সুধাব ধারা অবিরাম-প্রাণারাম! প্রাণারাম! প্রাণারাম!'

১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, রবিবার
(ইং ৩০। ১১। ১৯৪১)
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏

আজও ভোরে শ্রীশ্রীঠাকুর নিজে থেকেই কথা ওঠালেন-মানুষকে কেবল দিলেই হয় না, তার কাছ থেকে নিয়ে তার দেওয়ার অভ্যাস করে দিতে হয়, ...
14/02/2024

আজও ভোরে শ্রীশ্রীঠাকুর নিজে থেকেই কথা ওঠালেন-মানুষকে কেবল দিলেই হয় না, তার কাছ থেকে নিয়ে তার দেওয়ার অভ্যাস করে দিতে হয়, নিজে থেকে মানুষকে দিয়ে সে যা'তে খুশি হয়, তেমনতরভাবে তাকে প্রবুদ্ধ করে তুলতে হয়। কেবল দিয়ে গেলে তাকে খোঁড়া করা হয়। যে-মানুষ কেবল অন্যের কাছ থেকে নেয়, কাউকে কিছু দেয় না, সে অপদার্থ হ'য়ে যায়, দারিদ্র্য ঘিরে ধরে তাকে। এই জিনিসের প্রশ্রয় দিতে নেই কখনও। সেইজন্য আমি অনেক সময় কারও-কারও কাছে খামাকা একটা কিছু চেয়ে বসি। কিন্তু না চাইতেই যদি দেয়, সেই-ই ভাল। আমার বড় ভাল লাগে যখন দেখি, কেউ আপদ-বিপদে, দুঃখ-কষ্টে, সে না ডাকতেই আর একজন যেয়ে বুক দিয়ে পড়ে, স্বতঃপ্রবৃত্ত হ'য়ে সাহায্য করে, আশা-ভরসা-উদ্দীপনায় তুলে ধরে তাকে। পরস্পরের মধ্যে এইটে যত বাড়ে, সংহতিও তত দৃঢ় হ'য়ে ওঠে। অনেক সময় আবার দেখা যায়, মানুষ অন্যকে দেয়, কিন্তু যার কাছে থেকে পায়, তাকে আর দেয় না। তার কাছ থেকে নিতে হবে এই জানে, তাকে যে দিতে হবে এই খেয়াল থাকে না, তাকে দিয়ে তৃপ্তিলাভের প্রলোভনও তাকে উদ্ব্যস্ত করে তোলে না-এ রকমটা ভাল না, এটা অকৃতজ্ঞতারই নামান্তর, এতে মানুষের উন্নতি blocked (রুদ্ধ) হ'য়ে যায়। পাওয়ার উৎসকে পুষ্ট করে না অথচ অন্যকে দেয়- এই দেওয়ার পেছনে অনেক সময় দেখা যায় আত্মপ্রতিষ্ঠার বুদ্ধি। এইভাবে চলতে থাকলে প্রবৃত্তির আরো নানারকম ফ্যাকড়া বেরোতে থাকে। সেইগুলিতেই মানুষ জড়িয়ে যায়। সুস্থ কম্মদীপনা তার থাকে না। কর্মজঞ্জালের সৃষ্টি হয়। আর, বিশেষ কোন দিকে তার জেল্লা ফুটে উঠলেও সর্ব্বতঃ-সঙ্গতভাবে সুনিয়ন্ত্রিত চরিত্র ও জীবন লাভ করতে পারে না সে কিছুতেই। এমনতর মানুষ সুখের সন্ধান পায় না। ফল কথা, একজন উপকারীর উপকার করে না, মা-বাপের জন্য কিছু করে না, কিংবা গুরুজন বা গুরুর জন্য কিছু করে না, অথচ অন্যের করে-এমনতর দেখলেই বুঝে নিও, সে বৃত্তির সেবা করছে। আর, ঐ অমনতর সেবা তার নিজের বা পরের খুব একটা কাজে লাগবে না, শেষ-রক্ষা হবে না তা'তে।

বিমলদা (মুখোপাধ্যায়)-আচ্ছা, মানুষ দিন-দিন এত প্রবৃত্তিমুখী হ'চ্ছে কেন?

শ্রীশ্রীঠাকুর-Eugenic relation-এ (যৌন-সম্বন্ধে) গলদ ঢোকাতেই যত সর্ব্বনাশ হয়েছে। বিয়ে যদি ঠিকমতোও হয় তবু স্বামীর প্রতি স্ত্রীর attachment wisely conscious (অনুরাগ প্রজ্ঞাচেতন) না হ'লে অর্থাৎ চার-চোখো attention (অভিনিবেশ) না থাকলে, ছেলের শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো হ'লেও মানসিক স্বাস্থ্য vigorous (সতেজ) থাকে না, comparatively dull (অপেক্ষাকৃত মূঢ়) হয়, dull (মূঢ়) হ'লে চলনাও সেই ধাঁজের হয়। মোটের 'পর তাদের মধ্যে কোন-না-কোন প্রকারে অসঙ্গতি থাকবেই। কারণ, স্ত্রী যদি স্বামীর সত্তাস্বার্থিনী না হ'য়ে ওঠে সর্বতোভাবে, তার কতকগুলি চাহিদা, ইচ্ছা ও প্রবৃত্তি আলগা ও অসংলগ্ন যদি থাকে তবে তার ব্যক্তিত্ব সংহত হ'য়ে ওঠে না-তার ভিতরকার খণ্ডিত রূপই রূপায়িত হয়ে ওঠে সন্তানে। অবশ্য, স্বামীরও যে কিছু করণীয় নাই তা' নয়, তাকেও আদর্শ- প্রাণ হ'য়ে উঠতে হবে। কিন্তু প্রজনন-ব্যাপারে আমার মনে হয়, স্ত্রীর দায়িত্বই বেশী। যে-বেটার পেটে জন্ম নিয়েছে সে যা' করে দিয়েছে তাই নিয়েই সব কেরামতি। "যেখানে সেখানে যাও রে মাকু, চরকি ছাড়া নয়।" তাই দেখ, মায়ের প্রবৃত্তি-পরায়ণতা কেমন করে সন্তানে সঞ্চারিত হয়। অথচ প্রত্যেকটি মা চায় যে তার ছেলে সুখী হোক, সুস্থ হোক, সুদীর্ঘজীবী হোক, কৃতী হোক, ভাল হোক। কিন্তু গোড়া কেটে আগায় জল ঢাললে কী হবে? জন্মের পূর্ব্বেই তো একটা জীবনের বেশীর ভাগ রচিত হ'য়ে যায়। কারণ, যে শরীর-মন নিয়ে সে জন্মায়, তার উপর দাঁড়িয়েই তো তার চলা, কিন্তু জন্মের পরে যেমন-যেমন করে সন্তানকে সুগঠিত করে তুলতে হয়, ক'জন মা-বাপই বা তার ধার ধারে? ফলে, ছেলেপেলেদের নিয়েই কত কষ্ট পায়, আর অদৃষ্টকে ধিক্কার দেয়। অথচ নিজেদের যা' করণীয় তা' করে না, চলনাও শোধরায় না। আবার, অনেক সময় মানুষ দুঃখ, কষ্ট, রোগ, শোক, দারিদ্র্যে ভোগে, যত ভোগে তত পারিপার্শ্বিকের ঘাড়ে দোষ চাপায়। তা' না করে নিজের কী গলদের দরুন এমন হ'চ্ছে তার নিরাকরণ যদি করে, তবে কিন্তু দুঃখ ঘুচে যায়-তা' তো করবে না, সেদিকে blind (অন্ধ) হ'য়ে থাকে। মানুষ দোষ করলেও কিছু হয় না-যদি সেই experience (অভিজ্ঞতা)-টা মনে রেখে চলনা শোধরায়। আর, এটা কঠিন কিছু না, mal-adjust (কুনিয়ন্ত্রিত)-কে re-adjust (যথাযথ নিয়ন্ত্রণ) করা, এই তো কাজ!

১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮, রবিবার
(ইং ৩০। ১১। ১৯৪১)
"আলোচনা-প্রসঙ্গে"
১ম খন্ড
🙏🙏জয়গুরু🙏🙏

Address

South Hindu Para, Mohesh Khali
Cox's Bazar

Telephone

+8801826304220

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বাণী মেলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বাণী মেলা:

Share