31/10/2025
অজ্ঞানতা অন্ধকার, প্রজ্ঞাই আলো
ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু
অন্ধকারকে দূর করার জন্য আলোর প্রয়োজন হয়। আলো ব্যতীত অন্ধকার দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় আলো হল আভ্যন্তরীণ জ্ঞানের আলো।
আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসব হল আত্ম-জ্ঞানের আলোকোৎসব। অর্থাৎ আত্ম-জ্ঞানের উন্মেষ করা, উন্মোচন করা।
দিওয়ালী বা দীপাবলীর প্রকৃত অর্থ হল নিজের অভ্যন্তরের অন্ধকারকে দূর করা এবং জ্ঞানের আলোকে প্রকাশিত ও প্রসারিত করা। সুপ্ত শক্তির জাগরণ, অবোধ হতে বোধ বা বোধির প্রকাশেই বিদূরিত হয় ভিতর-বাহিরের সমস্ত তমানিশা।
বাহিরের আলোর চেয়ে অধিক মহত্বপূর্ণ হল নিজের অভ্যন্তরের আলোকে জ্বালানো। যতক্ষণ পর্যন্ত ভিতরের আলো প্রকাশিত হবেনা, ততক্ষণ বাহিরে হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে কোনো লাভ নাই।
জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েই আমরা স্বীয় জীবনকে আলোকিত করতে পারি। জ্ঞানের আলোই বাস্তবিক অজ্ঞান-অন্ধকারকে বিদূরিত করে থাকে।
দীপক এবং মোমবাতি জ্বালানো দ্বারা কৃত্রিম আলোর প্রকাশ হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যক্তিকে ব্যক্তির জীবনে বাস্তবিক আলোকিত করতে হবে। আর তা হবে অভ্যন্তর অর্থাৎ ভিতরের জ্ঞানকে তথা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণকে বিকশিত করার মাধ্যমে, যাতে আমাদের আভ্যন্তরীণ অজ্ঞানতা, অন্ধশ্রদ্ধা এবং অন্ধবিশ্বাসরূপী অন্ধকার দূর হয়।
এজন্য তথাগত ভগবান বুদ্ধ জোর দিয়ে বলেছেন যে, ‘অত্ত দীপো ভব’ নিজের দীপক নিজেই হও। নিজেকে নিজে আলোকিত করো।
নিজের মূল্যকে বুঝতে হবে এবং সত্যের অনুসন্ধান করো, কোনো বিষয়কে এজন্য অনুসরণ করো না, কেননা তা শতাব্দীর পর শতাব্দী হতে চলে আসছে, বা তা আমাদের পরম্পরায় মেনে আসছে এবং এজন্যও মান্য করোনা, কেননা শাস্ত্রের মধ্যে তা লিখা রয়েছে, বা কোনো ধর্মগুরু, আচার্য, সাধু-সন্ত বা জ্যোতিষী দ্বারা বলা হয়েছে। যদি তোমাদের মার্গে আমিও কোনোভাবে বাঁধা হয়ে থাকি, তাহলে তোমরা আমাকেও ছেড়ে দিতে পারো। কিন্তু সত্যকে নিজের অনুভবের দ্বারা অনুসন্ধান করে জানো, প্রত্যেক বিষয়কে প্রথমে বুদ্ধি, বিবেক, যুক্তি এবং স্বীয় হৃদয়ের গম্ভীর পরীক্ষায় যাচাই-বাচাই করো, পরীক্ষা করো, যদি যে কোনো বিষয় নিজের জন্য, মানব সমাজের জন্য এবং সমগ্র জগতের জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই গ্রহণ করো। তবে কখনও অন্ধানুকরণ করতে যেওনা। অন্ধানুসরণ করবেনা।
প্রত্যেক কিছু প্রথমে ভালভাবে জানো, অতঃপর গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করো।’ অন্ধভক্তি প্রদর্শন করবেনা। পরম্পরার নাম দিয়ে অন্ধভক্তি দেখাতে যাওয়া মুর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়।