প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রামণ প্রশিক্ষণ ও সাধনা পরিবেণ

  • Home
  • প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রামণ প্রশিক্ষণ ও সাধনা পরিবেণ

প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রামণ প্রশিক্ষণ ও সাধনা পরিবেণ সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক চর্চা কেন্দ্র।

বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শ্রামণদের (নবদীক্ষিত) পরিয়ত্তি শিক্ষা খুব ছোট বয়স থেকেই ধাপে ধাপে দেওয়া হয়। “পরিয়ত্তি” বলতে মূলত বৌদ্ধ ধর...
24/05/2026

বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শ্রামণদের (নবদীক্ষিত) পরিয়ত্তি শিক্ষা খুব ছোট বয়স থেকেই ধাপে ধাপে দেওয়া হয়। “পরিয়ত্তি” বলতে মূলত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ, পালি ভাষা, বিনয় ও ধর্মতত্ত্বের পাঠকে বোঝায়। সেখানে এই শিক্ষাব্যবস্থা সমাজ ও সংঘজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

-

সংক্ষেপে পদ্ধতিটা এমন—

১. অল্প বয়সে শ্রামণ দীক্ষা

অনেক ছেলে ৭–১২ বছর বয়সের মধ্যেই অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে শ্রামণ (সামণের) দীক্ষা নেয়।
পরিবারগুলো এটাকে ধর্মীয় গৌরব মনে করে। কেউ কয়েক মাস থাকে, কেউ আজীবন সংঘে থেকে যায়।

২. মঠভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা

শুরুতে তারা মঠেই থাকে এবং শেখে—

পালি বর্ণমালা

বুদ্ধবন্দনা ও সূত্রপাঠ

শিষ্টাচার ও বিনয়

মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা

মুখস্থবিদ্যা

Pali ভাষা শেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩. মুখস্থকেন্দ্রিক শিক্ষা

থেরবাদী পরিয়ত্তি শিক্ষায় মুখস্থ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুরা ছোটবেলা থেকেই—

সূত্র

অভিধর্ম

বিনয়ের অংশ

পালি ব্যাকরণ

মুখস্থ করে।

অনেক মঠে প্রতিদিন সমবেত আবৃত্তি হয়।

৪. ধাপে ধাপে উচ্চতর পরিয়ত্তি

বয়স ও যোগ্যতা বাড়লে তারা পড়ে—

ত্রিপিটক

পালি ব্যাকরণ

টীকা ও উপটীকা

অভিধর্মের গভীর বিশ্লেষণ

ধর্মদেশনা দেওয়ার কৌশল

৫. পরীক্ষাভিত্তিক ব্যবস্থা

খুব সম্মানজনক।

যারা অসাধারণ মেধাবী, তারা পুরো Tipitaka মুখস্থ পর্যন্ত করতে পারে।

৬. কঠোর শৃঙ্খলা ও জীবনযাপন

পরিয়ত্তি শিক্ষা শুধু বই নয়; এর সঙ্গে যুক্ত—

ভোরে জাগা

ধ্যান

ভিক্ষান্ন সংগ্রহ

বিনয় পালন

গুরু-শিষ্য সম্পর্ক

অর্থাৎ শিক্ষা ও জীবন একসঙ্গে চলে।

৭. সমাজের সমর্থন

সাধারণ মানুষ দান করে মঠ ও শিক্ষাব্যবস্থা চালায়।
তাই পরিবার থেকেও অনেক শিশু উচ্চমানের ধর্মীয় শিক্ষা পায়।

বুদ্ধের শাসন চিরজীবী হোক ❤️🌿

বৌদ্ধ প্রতিরূপদেশ শ্রীলঙ্কায় গুরুভান্তে ❤️
21/05/2026

বৌদ্ধ প্রতিরূপদেশ শ্রীলঙ্কায় গুরুভান্তে ❤️

Today is going on a religious trip Bhadanta Shilamitra Mahathero -Bhadanta Silamitra Mahathero, the International Affair...
19/05/2026

Today is going on a religious trip Bhadanta Shilamitra Mahathero
-

Bhadanta Silamitra Mahathero, the International Affairs Secretary of the Bangladesh Sangharaj Bhikkhu Mahasabha, the founder and chief director of Prajyamita Buddhist Bhikkhu Sramam Training and Sadhana Pariven, is going to Sri Lanka and Thailand on a religious trip.
Today, May 19, on Monday-Tuesday, at 8:30 am, he left Cox's Bazar for Dhaka. He is expected to leave Dhaka at 12:55 pm and reach Colombo, Sri Lanka at 3:40 pm local time.

It is to be noted that on May 24, on Sunday, he will participate in an international religious conference on the occasion of the auspicious Buddha Purnima. After the conference, after visiting various religious pilgrimage sites in Sri Lanka for a few days, on May 27, Wednesday, His Holiness the 14th Sangharaja, Honorable President and Secretary General Bhante, along with 6 Bhante Sanghas, as representatives of the Bangladesh Sangharaj Bhikkhu Mahasabha, will simultaneously participate in an international religious conference in Thailand.

On behalf of the Pragya Parivar, we wish that Venerable Bhante's religious visit will be a great success, as well as a safe and auspicious journey for Venerable Bhante.

Today is going on a religious trip Vadanta Shilamitra

After the conference, after visiting various religious pilgrimage sites in Sri Lanka for a few days, on May 27, Wednesday, His Holiness the 14th Sangharaja, Honorable President and Secretary General Bhante, along with 6 Bhante Sanghas, as representatives of the Bangladesh Sangharaj Bhikkhu Mahasabha, will simultaneously participate in an international religious conference in Thailand.

On behalf of the Pragya Parivar, we wish that Venerable Bhante's religious visit will be a great success, as well as a safe and auspicious journey for Venerable Bhante.

“দেবদূত”সূত্রের মূল বিষয় :--এটি মূলত মানুষকে সতর্ক করে যে জীবনে পাপ ও অকল্যাণকর কর্মের ফল ভয়াবহ হতে পারে, এবং জন্ম–জরা–ব...
17/05/2026

“দেবদূত”সূত্রের মূল বিষয় :-

-

এটি মূলত মানুষকে সতর্ক করে যে জীবনে পাপ ও অকল্যাণকর কর্মের ফল ভয়াবহ হতে পারে, এবং জন্ম–জরা–ব্যাধি–মৃত্যু আমাদের জন্য সতর্কতা স্বরূপ -

যখন কোনো মানুষ জীবনে দান, শীল, সৎকর্ম না করে পাপকর্মে লিপ্ত থাকে, মৃত্যুর পর সে যমলোকের দুঃখ ভোগ করে। তখন যমরাজ তাকে প্রশ্ন করেন— তুমি কি জীবনে “দেবদূত” দেখনি? [ মজ্ঝিম নিকায়-এর ১৩০ নম্বর সূত্র ]

এই “দেবদূত” পাঁচটি:

১. বৃদ্ধ মানুষ
একজন জীর্ণ, ন্যুব্জ, দাঁতহীন বৃদ্ধকে দেখে বোঝা উচিত ছিল— আমিও একদিন বৃদ্ধ হবো।
তাই অহংকার ও পাপ ত্যাগ করা উচিত।

২. অসুস্থ মানুষ
রোগাক্রান্ত মানুষ দেখে বোঝা উচিত— আমিও রোগে আক্রান্ত হতে পারি।
অতএব সৎপথে চলা প্রয়োজন।

৩. মৃত মানুষ
মৃতদেহ দেখে উপলব্ধি করা উচিত— আমাকেও একদিন মরতে হবে।

৪. শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধী
অপরাধীর দুঃখজনক শাস্তি দেখে বোঝা উচিত— অসৎ কাজের ফল ভয়াবহ।

৫. নবজাত শিশুর অসহায়তা
জন্ম মানেই দুঃখের সূচনা— এই সত্য স্মরণ করানো হয়।

কর্মফল অবশ্যম্ভাবী -
▪️জীবন অনিত্য
▪️পাপ কর্ম দুঃখ ডেকে আনে
▪️সৎ জীবনই মুক্তির পথ
▪️জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু আমাদের জাগ্রত হওয়ার আহ্বান

বুদ্ধ এই সূত্রের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন হতে এবং ধর্মময় জীবন যাপন করতে উপদেশ দিয়েছেন।

“যে ব্যক্তি জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুকে দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে, সে কখনও অপ্রমাদী জীবন থেকে বিচ্যুত হয় না।”

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি -প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রামণ প্রশিক্ষণ ও সাধনা পরিবেণ'র-ভিক্ষু নিবাস ( পরিকল্পিত নকশা) ১. ভবনের বাহ...
11/05/2026

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

-

প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রামণ প্রশিক্ষণ ও সাধনা পরিবেণ'র
-ভিক্ষু নিবাস

( পরিকল্পিত নকশা)

১. ভবনের বাহ্যিক ডিজাইন (Exterior Aesthetics)

​ছাদ: বার্মিজ প্যাগোডা স্টাইলে কার্নিশ যুক্ত তিন স্তরের ছাদ দেওয়া হবে।

​রঙ: সাদা বা অফ-হোয়াইট রঙের ব্যবহার করা হবে।

​বারান্দা: প্রশস্ত বারান্দা থাকবে যেখানে খিলানযুক্ত (Arched) জানালার নকশা আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করবে।

​২. ফ্লোর অনুযায়ী পরিকল্পনা (Floor-wise Planning)
​নিচ তলা (Ground Floor): সার্বজনীন ও প্রশাসনিক

​প্রবেশ পথ: একটি বড় হলঘর বা ওয়েটিং এরিয়া।

​অফিস কক্ষ: পরিবেণের প্রশাসনিক কাজের জন্য একটি ছোট রুম।

​ডাইনিং ও রান্নাঘর: ভিক্ষু এবং শ্রামণদের জন্য একটি বড় ভোজনশালা (Refectory) এবং আধুনিক কিচেন।

​সংগ্রহশালা/লাইব্রেরি: ধম্ম বিষয়ক বই এবং পাণ্ডুলিপি রাখার জন্য একটি ঘর।

​শৌচাগার: দর্শনার্থী এবং নিবাসীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা।
​দ্বিতীয় তলা (First Floor): প্রশিক্ষণ ও উপাসনা

​ধ্যান কেন্দ্র (Meditation Hall): মাঝখানে একটি বড় হল রুম যেখানে বুদ্ধমূর্তি থাকবে এবং শ্রামণরা সাধনা করবেন।

​শ্রেণীকক্ষ: শ্রামণদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ১-২টি ক্লাসরুম।

​অতিথি ভিক্ষু কক্ষ: বাইরে থেকে আসা জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুদের থাকার জন্য ২-৩টি এটাচড বাথসহ রুম।

​তৃতীয় তলা (Second Floor): ব্যক্তিগত আবাস (ভিক্ষু নিবাস)

​ভিক্ষু কক্ষ (Kuti): ছোট ছোট একক বা দ্বৈত শয্যার কক্ষ। প্রতিটি রুমে পড়ার টেবিল ও আলমারি থাকবে।

​বারান্দা: দীর্ঘ একটি বারান্দা যা হাঁটার জন্য বা চংক্রমণ করার জন্য উপযুক্ত।

​কমন স্পেস: নিবাসীদের আলোচনার জন্য ছোট একটি বসার জায়গা থাকবে।

সকলের সহযোগিতা পেলে খুব শীঘ্রই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

প্রধান কার্যালয় - ফারিকুল বিবেকারাম বৌদ্ধ বিহার কমপ্লেক্স, উত্তর ফতেখাঁরকুল, রামু,কক্সবাজার।

মহামান্য এয়োদশ সংঘরাজকে জীবিতকালীন সময়ে সেবাদান গুরুভান্তের। (অতীত)
10/05/2026

মহামান্য এয়োদশ সংঘরাজকে জীবিতকালীন সময়ে সেবাদান গুরুভান্তের। (অতীত)

প্রথম দব্ব সূত্র-আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান রাজগৃহে বাস করছিলেনবেলুবনে, কলন্দকনিবাপে। তারপর মল্লপুত্র আয়ুষ্মান দব্ব ভ...
09/05/2026

প্রথম দব্ব সূত্র
-

আমি এরূপ শুনেছি।
একসময় ভগবান রাজগৃহে বাস করছিলেন
বেলুবনে, কলন্দকনিবাপে।

তারপর মল্লপুত্র আয়ুষ্মান দব্ব ভগবানের কাছে গেলেন, গিয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে বসার পর মল্লপুত্র আয়ুষ্মান দব্ব ভগবানকে বললেন, "হে সুগত, এখন আমার পরিনির্বাণের সময়।" "হে দব্ব, এখন তোমার যা ভালো মনে হয়।" তারপর মল্লপুত্র আয়ুষ্মান দব্ব আসন হতে উঠে ভগবানকে অভিবাদন ও প্রদক্ষিণ করে, শূন্যে উঠে আকাশে অন্তরীক্ষে পদ্মাসনে বসে তেজধাতুতে প্রবেশ করে এবং বেরিয়ে এসে পরিনির্বাপিত হলেন।

এভাবে মল্লপুত্র আয়ুষ্মান দব্ব শূন্যে উঠে আকাশে অন্তরীক্ষে পদ্মাসনে বসে তেজধাতুতে প্রবেশ করে এবং বেরিয়ে এসে পরিনির্বাপিত হলে তাঁর শরীরটি পুড়ে যাওয়ার সময়, দগ্ধ হওয়ার সময় ছাই কিংবা কালি কিছুই দেখা গেল না। ঘি কিংবা তেল পুড়ে যাওয়ার সময়, দগ্ধ হওয়ার সময় যেমন ছাই কিংবা কালি কিছুই দেখা যায় না, তেমনি মল্লপুত্র আয়ুষ্মান দব্ব শূন্যে উঠে আকাশে অন্তরীক্ষে পদ্মাসনে বসে তেজধাতুতে প্রবেশ করে এবং বেরিয়ে এসে পরিনির্বাপিত হলে তাঁর শরীরটি পুড়ে যাওয়ার সময়, দগ্ধ হওয়ার সময় ছাই কিংবা কালি কিছুই দেখা গেল না।

এরপর ভগবান এই বিষয়টি জ্ঞাত হয়ে সেই সময় এই উদান উচ্চারণ করলেন:

"দেহ ভেঙে গেল, সংজ্ঞা নিরুদ্ধ হলো, সংস্কারগুলো উপশান্ত হলো,
সমস্ত বেদনা প্রশমিত হলো।
বিজ্ঞান অস্তগত হলো।"

-বুদ্ধের শাসন চিরজীবী হোক ❤️

রাহুলের প্রব্রজ্যা-বুদ্ধত্ব লাভের পর তথাগত বুদ্ধ যখন কপিলবাস্তুতে গিয়েছিলেন, তখন মমতাময়ী মাতা যশোধরা তাঁর পিতার পরিচয়...
07/05/2026

রাহুলের প্রব্রজ্যা

-

বুদ্ধত্ব লাভের পর তথাগত বুদ্ধ যখন কপিলবাস্তুতে গিয়েছিলেন, তখন মমতাময়ী মাতা যশোধরা তাঁর পিতার পরিচয় দিয়ে এবং তাঁকে চেনার উপায় জানিয়ে পুত্র রাহুলকে বলেছিলেন-‘ প্রাণধন পুত্র! যাও, স্বীয় পিতার সাথে সাক্ষাত করো এবং তাঁর কাছ হতে পিতৃধন অর্থাৎ উত্তরাধিকারী চেয়ে নাও।তাঁর নিকট রয়েছে স্বর্ণরত্ন ভর্তি চার কলসী।’

মাতা যশোধরা যে চার স্বর্ণরত্ন ভর্তি কলসীর কথা বলেছেন, সে চার স্বর্ণ ভর্তি কলসী কি কি? সেগুলি হল চার আর্যসত্য, অর্থাৎ দু:খ আর্য সত্য, দু:খ সমুদয় আর্য সত্য, দু:খ নিরোধ আর্য সত্য এবং দু:খ নিরোধের উপায় বা আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ আর্য সত্য, যা হল স্বর্ণ রত্ন হতেও অধিক মূল্যবান এবং বস্তুত: সেগুলিই হল অমূল্য সম্পদ।

এজন্যই রতন সুত্রে বলা হয়েছে-

‘ যং কিঞ্চি বিত্তং ইধ বা হুরং বা
সগ্গেসু বা যং রতনং পণীতং।
ন নো সমং অত্থি তথাগতেন,
ইদম্পি বুদ্ধে রতনং পণীতং।’
( খুদ্দক পাঠ, সুত্র-৩)

অর্থাৎ যা কিছু ধন-সম্পত্তি এখানে বা ইহলোকে রয়েছে অথবা সেখানে বা অন্য লোকে রয়েছে এবং স্বর্গেও যে সমস্ত রত্ন সম্পত্তি সমূহের রাশি রয়েছে, সেগুলির মধ্যে কোন রত্ন সম্পত্তিই সে সম্পত্তির সাথে তুলনা হয়না, যে সম্পত্তি তথাগত বুদ্ধের নিকট রয়েছে। সেগুলিই হল সবচেয়ে উন্নত ও প্রণীত সম্পদ বা রত্ন।

বুদ্ধের কাছে যে রত্ন আছে, তা হল অতুলনীয়, অমূল্য ও সর্বোত্তম। বুদ্ধের আবিস্কৃত চার আর্যসত্য সম্পদ হল অমূল্য রত্ন, যা তিনি স্বয়ংই অর্জন করেছেন, যেগুলি তিনি অকাতরে দিকে দিকে লোকদেরকে অহর্নিশি বিতরণ করে চলেছেন। স্নেহময়ী মাতা যশোধরা প্রাণধন পুত্র রাহুলকে বলেছেন-‘ তুমিই হলে এ রত্ন সম্পদের উত্তরাধিকারী। সেগুলি হল তোমার সম্পদ। শীঘ্র যাও, তুমি তা চেয়ে নাও।’

মাতা যশোধরা নিজেও মনে মনেই ভাবতে লাগলেন-‘ আমিও এ অমূল্য রত্ন সম্পদের ভাগীদার হব। কিন্তু বুদ্ধ যে কোন কারণে এখনও ভিক্ষুণী সঙ্ঘের স্থাপনা করেননি। আমার বিশ্বাস যে, বিলম্বে হলেও তিনি তা করবেন। যখন তিনি ভিক্ষুণী সঙ্ঘের স্থাপনা করবেন, তখন আমিও কালবিলম্ব না করে প্রব্রজ্যিতা হয়ে বুদ্ধের চরণ চিহ্নের অনুগমণ করে গৃহত্যাগ করব এবং নিজেকে ভবমুক্ত করে তথাগতের লোক সুখায় ও লোক হিতায় ধর্মাভিযানে সামিল হব। আমার প্রাণ প্রতিম পুত্র এ রাহল রাজমহলের বিত্ত-বৈভবের বিলাস বহুল ও ইন্দ্রিয়াসক্ত জীবনে আবদ্ধ থেকে কি করবে?

দেব-মানবের শাস্তা স্বীয় করুণাময় পিতা বুদ্ধের অপার কল্যাণদায়ী ছত্রছায়ায় পালিত হলে সে তখন সদ্ধর্মের অমূল্য রত্ন লাভ করতে পারবে। তার জীবনকে ধন্য ও সফল করতে পারবে। এ সমস্ত ভাবতে ভাবতে মাতা যশোধরা স্বীয় প্রাণ প্রিয় পুত্রকে বিদায় দিতে দিতে বলেছিলেন-‘ যাও, বাচাধন! স্বীয় পিতার কাছ হতে উত্তরাধিকার চেয়ে নাও।’

সপ্ত বর্ষীয় বালক পুত্র রাহল সুপ্রসন্ন চিত্তে ভগবান তথাগতের নিকট পৌঁছলেন এবং নির্ভিকভাবে পিতা বুদ্ধের হাত ধরলেন। পৌঁছতেই তিনি এতই গভীর দিব্য সুখ, প্রশান্তি ও শীতলতা অনুভব করলেন যে, তাঁর মুখ হতে অজানতেই বেরিয়ে পড়ল -

‘ সুখা তে, সমণ ছাযাতি।’

শ্রমণ, আপনার ছায়া বড়ই সুখদায়ক।

করুণাঘন ভগবানের ছায়া কার না সুখদায়ক হয়? তাঁর সান্নিধ্যে আসলে প্রত্যেকের সমস্ত পাপ দূর হয়ে যায়। অমানুষ মানুষ হয়ে যায়, দুর্বিনীত সুবিনীত হয়ে যায়, নিরাশ্রয় আশ্রয় পেয়ে যায়, দিশাহীন দিশা পেয়ে যায়, অধার্মিক ধার্মিক হয়ে যায়, শোকগ্রস্থ নি:শোক হয়ে যায়, দু:খী সুখী হয়ে যায়, ভয়গ্রস্থ নির্ভয় হয়ে যায়, অন্ধ পেয়ে যায় দিব্য আলো এবং দুর্গতির লোকেরা পেয়ে থাকে সুগতি । পুণ্য পারমী সম্পদে ধনী পুত্র রাহুল তখন পিতার এরকম সুখদায়ক শান্তিপ্রদ ছত্রছায়া লাভ করলেন। সে ছত্রছায়া লাভের জন্যই তিনিও অসংখ্য জন্মাবধি পারমী পূরণ করে আসছিলেন। করুণাময় পিতা বুদ্ধ সুযোগ্য পুত্র রাহুলকে ধর্মরত্নের অমূল্য উত্তরাধিকার দিলেন। তাঁকে ভগবানের মহান অগ্রশ্রাবক ধর্মসেনাপতি আয়ুস্মান সারিপুত্র স্থবিরের হাতে তুলে দিলেন। ভদন্ত সারিপুত্র স্থবির রাহুলকে যথানিয়মে প্রব্রজ্যা প্রদান করলেন।

অরহতগণের ধর্মময় পরিবেশে পালন-পোষণ হয়ে রাহুল বড় হলেন এবং বিদর্শন সাধনা-ভাবনা নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা করলেন এবং তা সমর্পণভাবে অনুশীলন করতে করতে অরহন্ত অবস্থা পর্যন্ত প্রাপ্ত করেছিলেন। এখন ধন্য হল বুদ্ধপুত্র রাহুলের জীবন। ধন্য হয়েছে রাহুলের প্রাপ্ত পিতার উত্তরাধিকার। যথার্থ উত্তরাধিকার রত্ন সম্পদে সমৃদ্ধ হলেন আয়ুস্মান রাহল!

-বুদ্ধের শাসন চিরজীবী হোক ❤️

গুরুভান্তের USA ভ্রমণ (অতীত)
07/05/2026

গুরুভান্তের USA ভ্রমণ (অতীত)

বুদ্ধ যখন বোধিলাভ করে কপিলবস্তুতে ফিরে এসে তাঁর পিতা শুদ্ধোধনকে উপদেশ। -শুদ্ধোধন মহারাজ শুনলেন তাঁর পুত্র এখন সম্যকসম্বু...
06/05/2026

বুদ্ধ যখন বোধিলাভ করে কপিলবস্তুতে ফিরে এসে তাঁর পিতা শুদ্ধোধনকে উপদেশ।

-

শুদ্ধোধন মহারাজ শুনলেন তাঁর পুত্র এখন সম্যকসম্বুদ্ধ হয়ে কপিলবস্তুতে এসেছেন।
তিনি আশা করেছিলেন রাজপুত্রের মতো প্রাসাদে আসবেন।
কিন্তু বুদ্ধ কী করলেন?
তিনি ভিক্ষুসংঘসহ নগরে পিণ্ডচারণে বের হলেন—অর্থাৎ ঘরে ঘরে ভিক্ষা সংগ্রহ করতে লাগলেন।
এতে রাজা ব্যথিত হয়ে বললেন:
“পুত্র, তুমি কেন আমাকে লজ্জিত করছ?
তুমি রাজবংশের সন্তান, এভাবে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছ কেন?”
তখন বুদ্ধ তাঁর পিতাকে প্রথম যে কথাটি বলেন, সেটিই মূল শিক্ষা—
“মহারাজ, এটি আমাদের বংশের রীতি নয়—এটি বুদ্ধবংশের রীতি।
অতীতের সকল বুদ্ধই পিণ্ডচারণ করে জীবন ধারণ করেছেন।”
অর্থাৎ— “রাজবংশের অহংকার নয়, ধর্মবংশের বিনয়ই শ্রেষ্ঠ।”
এটাই ছিল শুদ্ধোধনের প্রতি বুদ্ধের প্রথম প্রত্যক্ষ উপদেশ।

⚫ বুদ্ধ বললেন - “উঠে দাঁড়াও, অপ্রমত্ত হও, সুকর্ম করো;
ধর্মচারী এ জীবন ও পরজীবনে সুখে থাকে।”
এই উপদেশ শুনে শুদ্ধোধন মহারাজের অন্তরে ধর্মচক্ষু উদিত হয়।

⚫ বুদ্ধ তাঁর পিতাকে তিনটি বিষয় বুঝিয়েছিলেন—
▪️জন্মগৌরব ক্ষণস্থায়ী
▪️রাজা হওয়া, বংশ, সম্পদ—সবই নশ্বর।
▪️ ভিক্ষু জীবন লজ্জার নয়, মুক্তির পথ
যে হাত রাজদণ্ড ধরতে পারত, সে হাত ভিক্ষাপাত্র ধরেছে—কারণ মুক্তি রাজত্বের চেয়ে বড়। অপ্রমাদই শ্রেষ্ঠ সম্পদ মানুষের জাগরণ আসে অহংকার ছেড়ে ধর্মে দাঁড়ালে।

“হে মহারাজ, রাজবংশ নয়—বুদ্ধবংশের ধর্ম হলো বিনয়, পিণ্ডচারণ ও অপ্রমাদ; তুমি জাগো, ধর্মমতে চলো।”

- বুদ্ধের শাসন চিরজীবী হোক ❤️

06/05/2026

গুরুভান্তে সহ শিষ্যগণ পিন্ডচারণের একাংশ।

-বুদ্ধের শাসন চিরজীবী হোক ❤️

Address


Telephone

+8801815363742

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রামণ প্রশিক্ষণ ও সাধনা পরিবেণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রামণ প্রশিক্ষণ ও সাধনা পরিবেণ:

  • Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship?

Share