✍️এিকালদর্শী মহাযোগী শিবকল্পতরুপ,
বাবা লোকনাথের নাম গান মহিমা,
প্রচার করা আমার জীবনের মূল লক্ষ্য 👏
Follow Me 👎 id https://www.facebook.com/share/14RD756KjcU/ ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●. শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী জীবনী ও বাণী ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
বাবা লোকনাথের আশ্রিত শিষ্যদের তিনি নানাভাবে
শিক্ষা দিয়ে গেছেন। যে ভক্ত যে পথ অনুকরণ করতে চায়, তিনি তাকে সেই পথেই পরিচালিত করেছেন। যাঁর যেমন প্রকৃতি বা জন্মান্তরের সংস্কার এবং যাকে যেভাবে পরিচালিত করলে তার মধ্যে দিব্য চেতনা লাভ হবে, গুরুরূপে তিনি তাকে সেই পথেই পরিচালিত করেছেন। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
ব্রহ্মানন্দ ভারতীর সহজাত বৃত্তি ছিল জ্ঞান, বাবা তাকে জ্ঞান মার্গেই পরিচালিত করেন। রজনী ব্রহ্মচারী, সুরথ ব্রহ্মচারী এবং অভয়চরণের মধ্যে দেখিয়েছিলেন সহজাত বৃত্তি কর্ম। তাই তিনি ওদের কর্মের মধ্যে দিয়েই পরিচালিত করেছিলেন । আবার যাদের মধ্যে সহজাত বৃত্তি ভক্তি দেখেছেন, তাকে গীতা উক্ত ভক্তিমার্গে পরিচালিত করেছেন।
যোগীদের তিনি দেখিয়েছেন প্রেম ও ভক্তির পথ, বৈষ্ণবদের দেখিয়েছেন প্রেম ও ভক্তির পথ । তান্ত্রিকদের তিনি
মহাসিদ্বকৌলরূপে তন্ত্রচারের পথ দেখিয়েছেন।
বাবা লোকনাথ ছিলেন দীর্ঘদেহী । অস্থিচর্মসার দেহ ছিল তাঁর, কিন্তু সেই দেহে সর্বদা এক জ্যোতি বিরাজমান থাকতো। বাবার আকর্ণ বিস্তৃত চক্ষু দুটি যেন মণির মতই চির উজ্জ্বল থাকতো সব সময়। তাঁর তেজদ্দীপ্ত চক্ষু দুটির দিকে চেয়ে থাকার ক্ষমতা কারও ছিল না। সর্বদাই তিনি বসে থাকতেন গোমুখ আসনে হাত দুটি চিৎভাবে কোলের ওপর থাকতো, মাঝে মাঝে ঠেস দিয়ে বসার জন্য পিঠের দিকে থাকতো একটা কাঠের অবলম্বন ।
দীর্ঘদিন যোগসাধনার দ্বারা তিনি তাঁর দেহটিকে একটি দিব্যভাবে রূপান্তরিত করেছিলন, তাঁর দেহের প্রতিটি রোমকূপ দিব্যভাবে পূর্ণ ছিল। তাই শরীরের প্রকৃতিগত বা স্বাভাবিক ধর্ম ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, ব্যাধি প্রভৃতি তাঁর দিব্যদেহে আশ্রয় নিতে পারেনি।
প্রকৃতির মধ্যে থেকেও তিনি ছিলেন অপাকৃত। নিয়মের মধ্যে থেকেও তিনি ছিলেন নিয়মের বহু ঊর্ধ্বে । কোনদিন কেউ তাঁকে বিশ্রাম নিতে দেখেনি। নিদ্রাকে তিনি সম্পুর্ণরূপে জয় করেছিলেন, সদা জাগ্রত থাকতেন তিনি।
সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হলো, বাবা যখন দীর্ঘদিন বারদীর আশ্রমে ছিলেন তখন কেউ তাকে যোগাভ্যাস করতে দেখেনি । সব সাধনার, সব ধর্মের ঊর্ধ্বে ছিলেন তিনি । নিত্যমুক্ত এই মহাপুরুষের সান্নিধ্যলাভ করলেই সবার অন্তরে জাগতো দিব্য জ্ঞান তাঁর কৃপাতে ঘটে যেত কত অঘটন। বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা করা যায় না।
বারদীর আশ্রমে প্রতিদিনই শত শত ভক্তের আগমন হতো। অনেকেই তাদের ভক্তির অর্ঘ্য বাবার চরণে দান করতে এসে তাঁর কৃপা লাভ করতো, কিন্তু সবার সঙ্গে মিশেও তিনি ছিলেন সবার থেকে দূরে। আশ্রমের মধ্যে থেকে সমস্ত কর্তব্য করেও তিনি ছিলেন কর্মমুক্ত। শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী জীবনী ও বাণী,
মহাপ্রয়ান
●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
গীতায় শ্রীভগবান অর্জুনকে বলেছেন-
"জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুধুং জন্ম মৃতস্য চ।" অর্থাৎ হে অর্জুন, এই জগতে যার জন্ম আছে তার মৃত্যুও সুনিশ্চিত। আবার মৃতের জন্মও অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু আত্মা অবিনশ্বর। আআর জন্মও নেই – মৃত্যুও নেই।
“ বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গুহ্লাতি নরোই পরাশি । তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণনান্যাণি সংযাতি নবানি দেহী ।।
• শ্রীশ্রীগীতা ২২২। হে অর্জুন ! মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র ত্যাগ করে নববস্ত্র ধারণ করে। সেইরকম আত্মাও জীর্ণদেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে।
“নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্ৰানি নৈনং দহতি পাবকঃ । ন চৈনং ক্লেদয়স্ত্যাপো ন শোষয়তি মরুত ।।
শ্রীশ্রীগীতা-২/২৩
আত্মাকে অস্ত্রে ছেদন করা যায় না, অগ্নি দগ্ধ করতে পারে না। জল সিক্ত করতে পারে না এবং বায়ু শুদ্ধ করতে পারে না । শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী জীবনী ও বাণী
●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
অচ্ছেদ্যোই য়মদাহ্যোই য়মক্লেদ্যোইশোষ্য এব চ। নিত্যঃ সর্ব্বগজ্ঞ স্থানুরচলোইয়ং সনাতনঃ ।।" অব্যক্তোই য় মচিন্ত্যোহয় মবিকাষ্যেহিয় মুচ্যতে ।।
শ্রীশ্রীগীতা-২/২৪
এই আআ অচ্ছেদ্য অদাহ্য অক্লেদ্য এবং অশোষ্য!
আত্মা নিত্য সর্বব্যাপী, স্থির, অচল ও অনাদি। আত্মা অব্যক্ত ও অবিকার্য রূপে কথিত ।
মুক্ত আত্মাগনকে মনুষ্য শরীরের ধর্ম অনুসারে মৃত্যুবরণ করতে হয় বটে, কিন্তু তারা আর ফিরে আসেন না। যখনই ধর্মের গ্লানি উপস্থিত হয় তখন ধর্ম স্থাপনের জন্য এবং সাধুদের পরিত্রাণের জন্য ও দুষ্টের দমনের জনা মনুষ্য দেহ ধারণ করে তাঁরা আবির্ভূত হন।●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
এইসব মুক্তপুরুষ ধর্মের প্রতিষ্ঠার জন্য মায়ার শরীর ধারণ করলেও, সাধারণ মায়াবদ্ধ জীবের মতন তাঁদের দেহাভিমান থাকে না। দেহাতীত একটা পরম সত্তায় তিনি বিরাজিত থাকেন। লোকনাথও ছিলেন জীবন্মুক্ত মহাপুরুষ, নররূপে স্বয়ং নারায়ণ। সেইজন্যই তিনি বলেছেন – “আমি অনিত্য নই – নিত্য বস্তু, আমার বিনাশ নাই।"●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
একদিন তাঁর নিদ্রা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করায় ব্রহ্মানন্দ ভারতীকে বাবা বলেছিলেন—“ওরে আমি মৃত্যু সময় অতিক্রম করেও বেঁচে আছি। এ অবস্থায় নিদ্রা এলে দেহপাত হবে। প্রভুপাদ বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীও বাবাকে দর্শন করে বলেছিলেন—ব্রহ্মচারী বাবা ইচ্ছাময়। যদি তিনি ইচ্ছা করেন এই মুহূর্তে দেহত্যাগ করতে পারেন, আবার ইচ্ছে হলে অনন্তকাল দেহধারণ করে থাকতে পারেন।
বাংলা ১২৮৭ সাল। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
তখন বাবার বয়স একশ' ষাট বছর । মহাপ্রয়াণের সময়ও এগিয়ে আসছে। দেহের প্রতি খেয়াল নেই বাবার। অধিকাংশ সময়েই তিনি আত্মা থেকে পৃথক হয়ে থাকেন, বাবা পূর্ণ সমাধিতে মগ্ন হয়ে থাকেন। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
ভক্তগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁর সমাধিমগ্ন দিব্যদেহের প্রতি উৎসুক ভাবে চেয়ে থাকেন ভক্তগণ এবং শিষ্যগণ সবাই ভাবেন, তাহলে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।
বাবার সমাধি ভঙ্গ হয়। ভক্তগণ ও শিষ্যগণ যেন আশার আলো দেখতে পান। তাদের মুখের দিকে চেয়ে বাবা বুঝতে পারেন তাদের মনোবেদনার কথা ! বাবা বলেন – - দেখ, এখন আর এই দেহটার কথা মনে থাকে না। অনেকদিন। হলো এসেছি, এবার আমার ফেরার পালা। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
একদিন বাবার সমাধি ভঙ্গ হয়েছে ভক্তগণ পরিবেষ্টিত হয়ে বসে আছেন তিনি। এমন সময় এক ভক্ত এসে বাবার চরণদুটি জড়িয়ে ধরেন। অশ্রু জলে বুক ভেসে যায় ভক্তটির। বাবা বলেন – • কি হয়েছে রে তোর ? এত কাঁদছিস কেন ? ভক্তটি বললেন – বাবা, আমার একমাত্র পুত্র দুরারোগ্য যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে।●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●. আপনি তাকে কৃপা করুন বাবা, আমার একটি মাত্র সন্তানকে ব্যাধিমুক্ত করুন। এই কথা বলে ভক্তটি তার মৃতপ্রায় যক্ষ্মারোগগ্রস্ত পুত্রকে বাবার চরণতলে বসিয়ে দিয়ে অশ্রু বিসর্জন করতে থাকে। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
স্নেহময় পিতার পুত্রের অমঙ্গল আশঙ্কায় আকুল ক্রন্দন দেখে করুণাময় বাবার হৃদয়ে করুণার ফল্গুধারা প্রবাহিত হতে থাকে। তিনি ছেলেটির দিকে ভালভাবে তাকিয়ে দেখেন, তারপর বলেন ভক্তটিকে উদ্দেশ্য করে – তোর ছেলের যে আয়ু শেষ হয়ে এসেছে রে । ওকে তো আর বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। সন্তান স্নেহে অন্ধ পিতার বিশ্বাস হয় না বাবার কথা তার মনে দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে বাবার কৃপা হলেই তার পুত্র ব্যাধিমুক্ত হবে। দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর ধরে দেখেছে শিবের অসাধ্য রোগও এই মহাপুরুষের সামান্য কৃপা হলে নিরাময় হয়েছে। তাই ভক্তটি বললেন, আপনার কৃপা হলে অসম্ভবও ব্যাকুল হয়ে বাবাকে জানাতে, বাবা বলেন - ওর যে সময় হয়েছিল রে, আর তো ওকে রাখা যাবে না। ওকে যেতে দে ।●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●. সময় হলেই সকলকে যেতে হবে। তার জন্য শোক করছিস কেন ?
বাবার দেহের অবস্থা দেথে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। তারা চিন্তা করেন, একি হলো, এর আগেও তো বাবা কত শরণার্থীর দুরারোগ্য ব্যাধি আপন দেহে গ্রহণ করেছেন কিন্তু বাবার কিছুই হয়নি, অগ্নিতে ঘৃতাহুতির মত সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
কিন্তু এবার কি হলো, আরোগ্য হওয়া দূরের কথা ক্রমে ক্রমে বেড়েই চলেছে রোগ। যক্ষ্মার প্রাণান্তকর কাশি এবং অন্যান্য দৈহিক যন্ত্রণা বাবা নির্বিকারচিত্তে সহ্য করে চলেছেন। বাবা বিকারহীন হয়ে আকাশের মতোই অবস্থান করছেন। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
ভক্তগণ চিন্তা করেন বাবার এই ব্যাধি তাহলে কি একটা হেতু । এই হেতুকে কেন্দ্র করেই বাবা তাদের ছেড়ে চলে যাবেন। এই কথা চিন্তা করে ভক্তদের মন ভারাক্রান্ত হয়ে
ক্রমে ক্রমে বাবার মহাপ্রয়াণের লগ্ন এগিয়ে আসতে থাকে। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●. ভক্তদের কাছে তিনি ঘোষণা করেন ওরে, আগামী ১৯শে জ্যৈষ্ঠ আমি এই নশ্বর দেহটা ত্যাগ করবো। আমার দেহটাকে আগুনে পুড়িয়ে দিবি
বাবা কথাগুলি বলে গেলেন নির্বিকারচিত্তে । কিন্তু ভক্তদের কাছে বাবার এই ক'টি কথা যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই শোনায় যেদিন থেকে তারা এই মহাপুরুষের আশ্রয় পেয়েছেন, সেদিন থেকে তাদের জীবন প্রবাহ গতানুগতিক পথ ত্যাগ করে এক নতুন পথে পরিচালিত হয়েছে।
গৃহী ভক্তগণ ভাবেন তাদের গৃহস্থ জীবনের সংঘাতময় বন্ধুর পথের সব কষ্টই এই মহাপুরুষের দয়ায় দূর হ'য়েছে। বাবাই তো তাদের জীবনের সুখ-দুঃখের সাথী একমাত্র ভরসা, আঁধার পথের দিশারী। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
এতদিনে তারা যেখানেই গেছেন, মনে হয়েছে বাবা তাদের সঙ্গীরূপে আছেন। সব বিপদেই বাবা রক্ষা করেন তাদের। ঈশ্বরের সম্পর্কে তারা পরম ধর্মের কথা যা শুনেছে, সবাই তারা পেয়েছিল বাবার কাছে। তিনি তাদের ছেড়ে চলে যাবেন শুনে সবাই নিরাশায় ভেঙে পড়েন । ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
সাধারণ মানুষ ধারণা করতে পারে না, মন-বুদ্ধির পারে যে এক মহাসত্য লুকিয়ে আছে। তারা বাবার সূক্ষ্ম দেহের কল্পনাই করতে পারে না, যোগী ভক্তেরা কিছুটা বুঝলেও গৃহী ভক্তগণ ধারণাও করতে পারে না সূক্ষ্ম দেহের কথা।●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●. প্রতিটি জীবের হৃদয়েই আমি বাস করবো। তোরা যে যখন আমায় স্মরণ করবি তখনই আমার কৃপা লাভ করবি। ভক্তগণ স্তব্ধ হয়ে শুনতে থাকেন বাবার কথাগুলি। বাবা বলেন— “যদি আমি উত্তরায়ণের দিবাভাগে দেহত্যাগ করি, আকাশ নির্মল থাকে এবং সূর্যকিরণে চারিদিক উদ্ভাসিত থাকে, তাহলে আমি সূর্যরশ্মি অবলম্বন করে সূর্য মণ্ডলের পরে চলে যাব, আর ফিরে আসবো না। তখন পুনর্জন্ম গ্রহণ সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।
একদিন দু’দিন করে দিন কেটে যেতে থাকে । সময় কারও অপেক্ষা রাখে না। নদীর স্রোতের মতই এগিয়ে যেতে থাকে সময় । ভক্তগণ উদগ্রীর হয়ে প্রহর গুণতে থাকে। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
সেদিন ১৮ই জ্যৈষ্ঠ । সারাদিন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে থাকে আকাশ। মাঝে মাঝে একটু আধটু বৃষ্টিও হয়। রাত্রেও দেখা যায় মেঘের ঘনঘটা। ভক্তদের মনে পড়ে যায় বাবার কথাগুলি। তাদের মনে দেখা দেয় একটা আশার ক্ষীণ আলো । বাবা বলেছিলেন-আকাশ নির্মল থাকলে এবং সূর্যের কিরণে চারিদিক উদ্ভাসিত থাকলে আর তিনি ফিরে আসবেন না পুনর্জন্ম নিয়ে দেহ ধারণ করে। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
কিন্তু আকাশের যা অবস্থা তাতে কাল সূর্যোদয় হবে বলে মনে হয় না। এই অবস্থা দেখে বাবা যদি তাঁর দেহত্যাগের ভক্তের আকুল প্রার্থনায় তিনি তো অনেক অঘটন ঘটিয়েছেন, কিন্তু ভক্তের প্রার্থনায় আরও দীর্ঘদিন তিনি দেহ ধারণ করে রইলেন না কেন ? এ প্রশ্নের উত্তর হলো-কাল তো সেই কালের নিয়স্তা পরমেশ্বরের সৃষ্টি। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্টা তো তাঁরই অমোঘ বিধানে চলছে। তাহলে বাবা সেই নিয়মের ব্যতিক্রম করবেন কি করে ? তাঁরই সৃষ্টি নিয়ম যদি তিনিই লঙ্ঘন করেন তাহলে তার প্রতিক্রিয়ায় যে ধ্বংস হবে সব ।●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●. তাইতো পূর্ণব্রহ্ম শ্রীরামচন্দ্র, পরম পুরুষ শ্রীভগবান শ্রীকৃষ্ণ যথাকালে ত্যাগ করলেন রক্ত মাংসের গড়া মানব দেহ। তা না হলে তিনি গীতায় উদাত্তম্বরে যা ঘোষণা করেছেন তা যে মিথ্যা হয়ে যাবে।
এইজন্যই বাবার দেহত্যাগ লীলা। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই গূঢ় রহস্য বোঝে না, বুঝতে চায় না । মায়ায় আবদ্ধ জীব আমার-আমার আমি-আমি করে ঘুরে বেড়ায় অন্ধের মতো, ভোগ করে সুখ-দুঃখ ।●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
বাবা ভক্তদের কাতরতা দেখে, কাছে ডেকে বলেন "তোরা ভাবছিস কেন? আমি কি আর তোদের ছেড়ে চলে যাচ্ছি ? তোরা মনে করিস না যে, এই দেহটা ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। এই রক্ত মাংসে গড়া স্থূল দেহ ত্যাগ করে আমি সূক্ষ্ম দেহে অবস্থান করবো । সংকল্প থেকে নিবৃত্ত হন। এই আশায় সকলে উদ্গ্রীব হয়ে বিনিদ্র রজনী যাপন করে, আর বার বার দেখে আকাশের অবস্থা। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
১৯শে জ্যৈষ্ঠ সকালে উঠেই ভক্তগণ বিস্মিত হয়ে যান। | আকাশে মেঘের নাম গন্ধ নেই। পূর্ব দিকচক্রবালে ধীরে ধীরে উদিত হচ্ছেন সূর্যদেব । অরুণ কিরণচ্ছটায় চারিদিক উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। ক্রমে ক্রমে সূর্যদেব তেজোদ্দীপ্ত হয়ে প্রকট হলেন আকাশে, মহাপ্রয়াণের বার্তা ঘোষণা করতে। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
আশ্রম দেখতে দেখতে লোকারণ্য হয়ে উঠলো। দূরদূরান্ত থেকে আবাল-বৃদ্ধ নর-নারী ছুটে এসেছে তাদের প্রাণের দেবতাকে শেষ দর্শন করতে, শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে তাঁর চরণে। সবার চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আসন্ন বিরহের গভীর বেদনা। ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
বাবা আসন ত্যাগ করে আশ্রমের বারান্দায় এসে বসলেন। অগণিত ভক্ত তাঁকে প্রণাম জানালো। বাবা স্নিগ্ধ মধুর হেসে সকলকে প্রসাদ গ্রহণ করতে বললেন। কারণ তিনি তো জানেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তাঁর পার্থিব দেহ ত্যাগ করে অমৃতের পথে যাত্রা করবেন। তাঁর বিরহে ভক্তগণ হবে শোকাকুল। তাদের খাওয়া হবে না। অভুক্ত থাকবে তাঁর সন্তানেরা। তাই তিনি সবাইকে প্রসাদ খেতে নির্দেশ দান করলেন। ভক্তরা বাবার নির্দেশে প্রসাদ গ্রহণ করলেন। আহার শেষ হবার পর বাবা ফিরে গিয়ে তাঁর ঘরে আসনে বসলেন ভক্তরা উদগ্রীব হয়ে বসে থাকেন।●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●.
ঘরের ভিতর থেকে ভক্তদের বললেন-“ওরে তোরা কাতর হয়ে পড়েছিস কেন আমি যাবো যেমন আমি তেমনই থাকবো, তবে এই জীর্ণ পুরাতন দেহটা থাকবে না। আমার কি মৃত্যু আছে ? তোরা ভক্তি আর বিশ্বাস নিয়ে ডাকলেই দেখবি, আমি তোদের কাছে আছি, তখনও তোদের কথা শুনবো ।. ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●. এখনও যেমন দুঃখ বিপদে আমার কৃপা পাচ্ছিস, তখনও তেমনি পাবি। আমার কথা মিথ্যে হবে না । যারা বিশ্বাস নিয়ে শ্রদ্ধাভরে আমায় স্মরণ করবে, তারাই আমার কৃপা পাবে । তোরা সত্যের পথ ধরে চলবি মনে রাখবি ভক্তি। দেখবি কোন বাধাই তোদের পথ রোধ করতে পারবে না। তবে ভক্তি আর বিশ্বাস রাখবি।”. ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●
এইভাবে উপদেশ দিয়ে বাবা মহাসমাধি মগ্ন হলেন । ভক্তগণ দেখছেন-বাবা যেমন আসনে সমাধিমগ্ন থাকেন, সেই রকমই বসে আছেন । চোখ দুটি তাঁর বিস্ফারিত, স্বাভাবিক দেহ, সারাদেহ সৌম্য-স্নিগ্ধ জ্যোতিতে পরিপূর্ণ ।. ●▬▬�•*''''*•�•*""*•�▬▬●
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেল, কিন্তু বাবার সমাধি ভঙ্গ হলো না দেখে ভক্তগণ ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। তবে কি বাবা তাদের ছেড়ে চলে গেলেন। বাবার দীর্ঘ ১৬০ বৎসরের অলৌকিক জীবনের সমাপ্তি হয়। আজ তিনি তাঁর পার্থিব স্থূল শরীরে আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তাঁর ভক্তগণের হৃদয়ে তিনি চির জাগ্রত। ওঁ শান্তি ! ওঁ শান্তি !! ওঁ শান্তি ”�����������, .
★লোকনাথ বাবার জীবন কাহিনী সংক্ষেপে তুলে ধরলাম..
পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে পড়বেন↓
জন্মাষ্টমী তিথিতেই জন্ম হয়েছিল লোকনাথ ব্রহ্মচারীর..
লোকনাথ ব্রহ্মচারী ১১৩৭ বঙ্গাব্দ বা ইংরেজি ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন যশোহর জেলা আর বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চৌরশী চাকলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম রামনারায়ণ ও মায়ের নাম কমলা দেবী। বাবা ছিলেন ধার্মিক ব্রাহ্মণ। পিতা-মাতার চতুর্থ সন্তান ছিলেন তিনি। লোকনাথকে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করানোর জন্য ১১ বছরে উপনয়ন দিয়ে পাশের গ্রামের ভগবান গাঙ্গুলীর হাতে তুলে দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গী হন বাল্যবন্ধু বেনীমাধব।
উপনয়ন শেষে লোকনাথ, বেনীমাধব ও ভগবান গাঙ্গুলী পদযাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন গ্রাম-শহর, নদ-নদী, জঙ্গল অতিক্রম করে প্রথমে কালীঘাটে এসে যোগ সাধনা শুরু করেন। এইরূপে গুরুর আদেশে বিভিন্ন স্থানে যোগ সাধনা ও ব্রত করে শেষ পর্যন্ত লোকনাথ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন। তারপর শুরু হয় দেশ ভ্রমণ। প্রথমে হিমালয় থেকে কাবুল দেশে আসেন। সেখানে মোল্লা সাদী নামে এক মুসলমানের সঙ্গে কোরান, বেদ-সহ বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করে ইসলামধর্মের তত্ত্বজ্ঞান লাভ করেন।
এবার গুরুকে বাদ দিয়ে তাঁরা দু’জনে পদযাত্রায় আবার দেশভ্রমণ শুরু করেন। প্রথমে আফগানিস্তান, পারস্য, আরব, মক্কা-মদীনা, মক্কেশ্বর তীর্থস্থান, তুরস্ক, ইতালি, গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইউরোপ-সহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে দেশে ফিরে আসেন এবং পরে দেশের ভিতর হরিদ্বার, হিমালয় তীর্থ, বদ্রীনাথ, সুমেরু পর্বত, কাশিধাম ও কাবুল পরিদর্শন করেন। দিনে দিনে গুরুর বয়স একশ বছর ও শিষ্যদের বয়স পঞ্চাশ বছর হলো। গুরুদেব ভগবান গাঙ্গুলী শিষ্য দু’জনকে শ্রী তৈলঙ্গস্বামীর (হিতলাল নামে যিনি পরিচিত) হাতে তুলে দিয়ে পরলোক গমন করেন।
নারায়ণগঞ্জের বারদীর জমিদার নাগ মহাশয় লোকনাথের কথা শুনে তাঁর জন্য জমি দান করেন এবং সেখানে মহা ধুম-ধামের সঙ্গে আশ্রম স্থাপন করা হয়। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমের কথা শুনে দেশ-দেশান্তর হতে বহু ভক্ত এসে ভিড় জমাতে থাকেন। অল্প সময়ের ব্যবধানেই বাবার আশ্রম তীর্থভূমিতে পরিণত হয়। কোনো এক সময় ভাওয়ালের মহারাজ তাঁর ফটো তুলে রাখেন। যে ফটো বর্তমানে ঘরে ঘরে পূজিত হয়।
সেদিন ছিল ১৯শে জৈষ্ঠ, রবিবার। বাবা নিজেই বললেন তার প্রয়াণের কথা। বহু মানুষ আসেন তাঁকে শেষ দর্শন করার জন্য। কথিত আছে একসময় লোকনাথ মহাযোগে বসেন। সবাই নির্বাক হয়ে অশ্রুসজল চোখে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন কখন বাবার মহাযোগ ভাঙ্গবে। কিন্তু ঐ মহাযোগ আর ভাঙেনি। শেষ পর্যন্ত ১১.৪৫ মিনিটে দেহ স্পর্শ করা হলে দেহ মাটিতে পড়ে যায়।
ত্রিকালদর্শী বাবা লোকনাথ বলেছেন, ‘প্রতিদিন রাতে শোবার সময় সারাদিনের কাজের হিসাব-নিকাশ করবি অর্থাৎ ভাল কাজ কী কী করেছিস আর খারাপ কাজ কী কী করেছিস? যে সকল কাজ খারাপ বলে বিবেচনা করলি সে সকল কাজ আর যাতে না করতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখবি।
জয় বাবা লোকনাথ ভক্ত, পেইজে যুক্ত থাকুন আরও
কিছু জানার জন্য ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য,
বাবার প্রচার ভুবনে আপনাকে স্বাগতম
Imo, JioChat, WhatsApp, Call Namebar.......
�+8801818554184