14/06/2026
ডাক্তারি পেশায় না আসলে সমাজের এই বিশ্রী অবস্থা জানতে পারতাম না। আপনার সন্তানের দিকে নজর রাখুন।
মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী টা আসছে। বয়স ২৪/২৫ হবে। ৪ মাস ধরে জ্বর। সাথে তীব্র গা ব্যথা আর জয়েন্টে জয়েন্টে যন্ত্রণায় ছটফট করছে।
এ পর্যন্ত বাজারে যত রকমের হাই অ্যান্টিবায়োটিক আছে,আরলিন থেকে শুরু করে মেরোপেনাম সব দেওয়া শেষ। কিন্তু জ্বরের কোনো কমতি নাই। ওষুধ চললে ১-২ দিন একটু শান্ত থাকে, তারপর আবার সেই জ্বর।
হিস্ট্রি নেওয়ার সময় যখন জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, কোনো নেশাটেশা করেন?"
ছেলেটার সরল উত্তর, "না স্যার, ওসবের ধারেকাছেও কোনোদিন যাইনি।"
পেশায় সে একজন ড্রাইভার, সৌদি আরবে ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে একটু সন্দেহ ছিল যে হয়তো কিছু লুকোচ্ছে। কিন্তু সে বারবারই অস্বীকার করল।
কোনো উপায় না দেখে শেষমেশ তাকে 'Adult-onset Still's disease' (AOSD) ধরে নিয়ে চিকিৎসা চলতে লাগল।
ছেলেটার স্ত্রী সব জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতেছে, টেস্ট করা থেকে শুরু করে ওষুধ কেনা সব। অনেক নম্র ভদ্র মহিলা। বুঝতে পারতেছি তার কষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই দৌড়াদৌড়ি তে। কিন্তু সে আমাদেরকে একটু বুঝতে দিচ্ছে না। একটা ছোট বাচ্চাও আছে বয়স ১ বছর মতো হবে। মহিলার এই অবস্থা দেখে খারাপ লাগতো। স্বামী অসুস্থ, পরিবারের ভারকর্তা অসুস্থ। তাইলে স্ত্রীর মুখে কি আর নাওয়া খাওয়া থাকবে!!
রোগীর স্ত্রী বারবার জিজ্ঞেস করত "স্যার সব ওষুধ খাওয়াচ্ছি, সব টেস্ট করতেছি, কিন্তু স্যার এখনো জ্বর কমতেছে না কেন, রোগী সুস্থ হচ্ছে না কেন?"
আমাদের কাছেও উত্তরটা ছিল অজানা। কারন আমরা তখনো কোন সঠিক ডায়াগনোসিস এ পৌঁছাতে পারি নাই।
একদিন হসপিটালের ডায়গনোসিস বিশেষজ্ঞ এনামুল স্যার রাউন্ডে এলেন। পুরো ফাইলটা দেখে উনি শান্ত মাথায় বললেন, "একটা Anti-HIV Antibody টেস্ট করাও।" টেস্ট করতে পাঠানো হলো পিজি হসপিটালে ।
টেস্টের রেজাল্ট যখন হাতে এলো, আমাদের সবার চোখ চড়কগাছ! Anti-HIV টেস্ট পজিটিভ।
HIV এমন একটা ভাইরাসজনিত রোগ, যার কোন প্রতিষেধক এখনো তৈরি হয় নাই। এই রোগে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এবং সবশেষে রোগী মারা যায়।
কিন্তু এই এইচআইভি উনার শরীরে আসলো কেমনে???
এবার যখন রোগীকে আলাদা ডেকে একটু 'ডাক্তারি কায়দায়' চাপ দিলাম, তখন আসল বিড়াল থলে থেকে বের হলো।
ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে স্বীকার করল সে সমকামী। গত ১০-১২ বছর ধরে নিজের আপন চাচাতো ভাইয়ের সাথেই তার 'ইটিশ-পিটিশ' সম্পর্ক চলেছে।
সৌদি আরবে গিয়েও সে একই কাজ করছে।
এরপর রোগীকে আমরা পিজি হসপিটালে রেফার করে দিলাম। যেহেতু স্বামী এইচআইভি পজিটিভ, স্ত্রীরও এইচআইভি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ওই বাচ্চাটার ও হতে পারে। কারণ এই রোগটা ছড়ায় রক্ত, বীর্য,লালা, দুধের মাধ্যমে .
বর্তমানে বাংলাদেশের সমকামিতা অনেক বেশি পরিমাণে বাড়ছে, আবাসিক মাদ্রাসা থেকে শুরু করে গুলশানের হাই সোসাইটিতে এই কাজ অহর চলতেছে। শুধু সমকামিতা না, ছেলে মেয়ের অবৈধ মেলামেশা বর্তমান সমাজের একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে।
নিজের সন্তানের দিকে খেয়াল রাখুন । যদি এসব কাজ থেকে আপনার সন্তানকে দূরে না রাখতে পারেন তাহলে বাবা-মা হিসেবে আপনি ব্যর্থ।
এরপর মনে মনে উনার স্ত্রী এবং সন্তানের কথা ভাবতে ছিলাম। স্বামীর অপকর্মের দায়ে তাদের কপালে দুঃখ আসলো। পরিবারটা এখন দুর্বিষহ জীবন যাপন করবে। ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো বা সুস্থ হতে পারে অথবা মারা যাবে। মারা যাওয়ার সম্ভাবনায় বেশি।
কিন্তু উনি মারা গেলে ওই স্ত্রী এবং বাচ্চাটাকে কে দেখবে ?এই প্রশ্নের উত্তর কই খুঁজবো?
✍️— Dr. Mehedi Hassan Sagor