01/10/2025
শারদোৎসবের প্রায় শেষ লগ্ন, আজ মহানবমী।🌺🔱 যজ্ঞ হয় আজ, তাই এটিও "মহা"নবমী বলা যায়। কুমারী পূজা আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুজোর অংশ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা মহাষ্টমীতে হয়, কিছু ক্ষেত্রে মহানবমীতেও হয়।
পুরাকালে কোলাসুর নামক এক দানবকে দেবী কুমারীরূপে বধ করেন। আর ছড়িয়ে যায় কুমারী পুজোর কথা। এক থেকে ষোলো বছর বয়সী
কন্যাকে কুমারী পুজো করা যায়। বয়স অনুযায়ী এনাদের ভিন্ন ভিন্ন নাম। কন্যার বয়স এক হলে "সন্ধ্যা", দুই হলে "সরস্বতী", তিন হলে "ত্রিধামূর্তি", চার হলে "কালিকা", পাঁচ হলে "সুভগা", ছয়ে"উমা", সাতে "মালিনী", আট-এ "কুব্জিকা", নয় হলে "কালসন্দর্ভা", দশ হলে "অপরাজিতা", এগারো হলে "রুদ্রাণী", বারোয় "ভৈরবী", তেরোয় "মহালক্ষ্মী", চোদ্দোয় "পীঠনায়িকা", পনেরো হলে "ক্ষেত্রজ্ঞা" ও
ষোলো হলে "অম্বিকা "।
বিবেকানন্দ ও কুমারী পুজো করেছিলেন
বেলুড় মঠে। এই পুজোর মূল উদ্দেশ্য আদিশক্তি মহামায়া যার ক্ষুদ্র অংশ কুমারীর মধ্যে নিহিত তা উপাসনা করা। ১৩০৮ বঙ্গাব্দে তিনি যখন কুমারীপূজা শুরু করলেন বেলুড়মঠে, গৌরিমায়ের সহায়তায় যিনি ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্য, নয়জন কুমারীকে পূজা করেছিলেন। বিবিধ উপাচার ও নৈবেদ্য সহকারে তিনি পূজা করেছিলেন। বিভিন্ন বয়সের কুমারী ছিল সেখানে, যার মধ্যে সবথেকে ছোট বয়সী কুমারীকে মাথায় তিলক পরাতে গিয়ে এমনই তিনি ভাবে নিমগ্ন ছিলেন শিউরে উঠে তিনি বলেছিলেন "আহা দেবীর তৃতীয় নয়নে আঘাত লাগেনি তো?"
স্বামীজির মতো ব্যক্তিত্ব কুমারী পূজাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আজকের কিছুজনের কাছে এটি নাকি ছোট মেয়েদের উপর অত্যাচার, বেসলেস বিষয়। বাস্তবে কুমারী পূজার তন্ত্র উপাসনার অঙ্গ যা বৃহদ্ধর্ম পুরাণ ও অন্যান্য পুরাণে উল্লেখিত। আর স্বামীজির এই কুমারী পূজাকে মান্যতা দিয়েছিলেন স্বয়ং জগদ্ধাত্রী মা সারদা নিজেই। নিজেও করেছিলেন "এয়োরাণী পূজা"।
স্বামীজি কে যদিও কেউ বা না মানেন, মা কে মানতেই হয়, মা সারদার আদর্শকে মানতেই হয়।