06/02/2026
কেন গাদ্দাফির পুত্র ড: সাইফ আল ইসলামকে হত্যা করা হলো?
লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-গাদ্দাফির মুখোশধারী ঘাতকরা তাঁর বাসার নিরাপত্তা ক্যামেরা নিষ্ক্রিয় করে তারপর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে হত্যা করে। এই ঘটনার সময় তাঁর বাড়ির খুব নিকট উপরে উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ধারণা করা যায় এই ঘটনা কোন সাধারণ অস্ত্রধারীদের কাজ নয়। আর এই হত্যাকান্ডকে যারা লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও গৃহযুদ্ধের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এর পেছনে আছে গভীর সাম্রাজ্যবাদী ও ভূরাজনৈতিক কারণ-সমীকরণ।
সাইফ গাদ্দাফি তাঁর রাজনৈতিক দল পিএফএলএল’কে সংগঠিত করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে কোন বিবেচনায় তিনিই ছিলেন সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী। তার বাবার বিরুদ্ধে লড়াই করা গোত্রগুলোও তাঁকে সমর্থন করেছিল। পূর্ব ও পশ্চিমের দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাতদের বিরুদ্ধে তিনি নিজেকে জনপ্রিয় বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া তাঁর এক সাক্ষাৎকার ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেখানে তিনি বলেন, “আমাদের কোনো টাকা নেই, নিরাপত্তা নেই, এখানে কোনো জীবনও নেই। গ্যাস স্টেশনে যান সেখানে ডিজেল নেই। আমরা ইতালিতে তেল-গ্যাস রপ্তানি করি—ইতালির অর্ধেক আলোকিত করি—আর আমাদের এখানে বিদ্যুৎ নেই। এটা শুধু ব্যর্থতা নয়, ধ্বংস ও মহা বিপর্যয়।”
আপনারা সাইফ আল গাদ্দাফিকে একজন একনায়ক ও স্বৈরাচারের সন্তান বলতে পারেন, কিন্তু লিবিয়াতে এখন তাঁর বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ”গ্রিন মুভমেন্ট” জনগণের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। দ্য গার্ডিয়ান বলছে, “লিবিয়ার ভেতরের এক বড় জনগোষ্ঠী সাইফকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে সমর্থন করেন। যদি নির্বাচন হতো, সম্ভবত তিনি দবেইবা ও হাফতারের চেয়ে ভালো ফল করতেন।“
দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্স লিবিয়ার উৎপাদিত তেলের বড় অংশ দাবী করে আসছে। সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি সরাসরি লিবিয়ার তেলের ৩৫ ভাগ দাবী করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সই সেই নির্বাচনকে এগিয়ে নিতে তৎপর হয়েছে ঠিকই কিন্তু এক দশকেও তা করাতে পারেনি বা চায়নি। কেন চায়নি?? কারণ ড. সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার তেলসম্পদের লুটপাট থেকে দেশকে রক্ষার জন্য কাজ করছিলেন। তখনই তাঁর বুকে নেমে এলো ঘাতক বুলেট। সমীকরণটা কি বুঝতে পারেন??
অভ্যুত্থানের সময় যে বিদ্রোহীরা তাঁকে হাতের মুঠোয় বন্দি করে রেখেও হত্যা করেনি। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি করা, পাশ্চাত্যের চকচকে জীবনে অভ্যস্থ ড. সাইফ আল-গাদ্দাফি অনায়াসেই বিশ্বের উন্নত কোন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করে- বাকি জীবন আরাম-আয়েশ ও নিরাপদেই কাটাতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে লিবিয়াতেই অস্ত্র হাতে থেকে গেলেন, আবারো দেশটাকে স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন সেই স্বপ্নে। যার জন্য তিনি এক সাধারণ বাড়ীতে দীনহীনো অল্প আহারের জীবনযাপন বেছে নিয়েছিলেন।
নীচের ছবিতে দেখুন সেই রাজপুত্রকে। ছবিটি তোলা হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে। ঘাতকরা যেদিন তাঁকে হত্যা করে সেদিন তিনি রোজা ছিলেন। ইফতারের প্রস্ততির আগেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যা শুধু একজন ব্যক্তি সাইফের ছিল না এর সাথে সম্ভবনাময় এক লিবিয়ারও সমাধি হলো।
(সংগ্রহ)