09/11/2025
হক্কানিত্ব যেন হারিয়ে যাওয়া এক মণি...
*** *** ****
আজকের বাংলাদেশে “হক্কানী” শব্দটি যেন তার আসল মাহাত্ম্য হারিয়ে ফেলেছে।
একসময় এই শব্দ ছিল আল্লাহভীরু, সত্যনিষ্ঠ, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পথের অনুসারীদের প্রতীক।
কিন্তু আজ এর ব্যবহার ক্রমেই এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে হক্কানী বলা যেন বিতর্কের, এমনকি বিদ্রূপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রত্যেক দলই নিজেকে “হক” বলে ঘোষণা করছে—
প্রত্যেক ঘরানা, প্রত্যেক দল, প্রত্যেক পীর, প্রত্যেক আলিমই দাবি করছে,
“আমরাই হক্কানী, অন্যরা ভ্রান্ত!”
কিন্তু এ দাবি করতে করতেই আমরা ভুলে যাচ্ছি,
হক্কানী হওয়া মানে নিজের দল ও ঘরানাকে বড় করা নয়—
বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর পথে বিনয়ী, বিশ্বস্ত ও আমানতদার হয়ে চলা; যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্য ও ন্যায়ের ওপর অটল-অবিচল থাকা; মিথ্যা ও অন্যায়ের সাথে আপস না করা।
দুঃখের বিষয়,
আজ সেই হক দাবিদাররাই নিজেদের মধ্যে বিভক্ত অসংখ্য দল, শাখা-উপশাখায়।
প্রত্যেক দল অন্য দলকে অবজ্ঞা করছে, অভিযোগ করছে, এমনকি তাকফীর পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
হাফিয ইবনু হাজার (রাহ.) কত সুন্দর বলেছেন—
كلَّ طائفةٍ تدعي أن مخالفيها مبتدعةٌ، وقد تُبالغ فتكفِّر مخالفيها، فلو أُخِذَ ذلك على الإطلاق لاستلزم تكفير جميعِ الطوائفِ.
“প্রত্যেক দলই তার বিরোধী দলগুলোকে বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করে, কেউ কেউ তো এতটাই বাড়াবাড়ি করে যে তাকফীর পর্যন্ত করে ফেলে।
কিন্তু যদি এ অভিযোগগুলোকে সর্বজনীনভাবে গ্রহণ করা হয়, তবে তো পুরো উম্মতই কাফের সাব্যস্ত হবে!
(অর্থাৎ, তাহলে তো হক বলার মতো একজন মু’মিনও অবশিষ্ট থাকত না!)”
আহ! যদি এমন কোনো যন্ত্র থাকত—যে যন্ত্রে মাপা যেত আসল হক্কানী কে!
যার পরিমাপে ধরা পড়ত- কে সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে, আর কে কেবল নিজের দলের স্তুতিতে মগ্ন!
আজ কুরআন ও হাদীসের আলোকে নয়,
বরং দলীয় মতবাদ, নেতা, শাইখ বা পীরের বক্তব্য, কিংবা গোষ্ঠীগত চিন্তার আলোকে যাচাই করা হয় “হক” আর “নাহক”-এর মানদণ্ড।
এভাবে আমরা অজান্তেই দূরে সরে যাচ্ছি,
আল্লাহর ঐক্যের দাওয়াত থেকে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আহ্বান থেকে।
ফলাফল—
আমাদের অন্তরে ঐক্যের আলো নিভে যাচ্ছে ধীরে ধীরে,
বিভেদের আঁধার ঘনিয়ে আসছে প্রতিদিন,
আর হক্কানিত্ব যেন এক হারিয়ে যাওয়া মণির সন্ধানে অবিরাম ব্যাকুলতার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়ে সত্য ও ন্যায়কে চিনবার আলো দিন,
আমাদেরকে এমন হক্কানী বানান,
যারা হকের জন্য লড়বে, কিন্তু অহংকারে নয়—
আপনার সন্তুষ্টির জন্য, রাসূলের পথে অবিচল থাকার জন্য।