21/01/2026
বাবার অলৌকিক লীলা: মুমুর্ষ রুগীর জীবনদান।
হাসপাতালের একটি ঘরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিল এক মুমূর্ষু রোগী। ডাক্তাররা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হাত তুলে নিয়েছেন। ওষুধ, ইনজেকশন, যন্ত্র—সবই যেন নিষ্ফল। মনিটরের শব্দে শুধু ভেসে আসছিল জীবনের ক্ষীণ স্পন্দন। নার্সদের চোখে ক্লান্তি, ডাক্তারদের মুখে হতাশা। সকল আশা নিভে গেছে।
রোগীর পিতা-মাতা তখন ভেঙে পড়েছিলেন। চোখের জল আর বুকভরা কষ্ট নিয়ে তারা বুঝে গিয়েছিলেন, মানুষের শক্তিতে আর কিছু বাকি নেই। তখনই তারা স্মরণ করলেন একমাত্র আশ্রয়—বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীকে। কাঁপা কণ্ঠে, অশ্রুসজল চোখে, রোগীর শয্যার পাশে বসে তারা বলতে লাগলেন—
“বাবা, তুমি ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আমাদের সন্তানের প্রাণ তুমি রক্ষা করো। তোমার চরণে আজ আমরা সব সমর্পণ করলাম।”
ঠিক সেই মুহূর্তে যেন ঘরের পরিবেশ বদলে গেল। বাতাসে এক অপার্থিব শান্তি নেমে এলো। আলো ম্লান হাসপাতাল ঘরের মাঝেই এক উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে পড়ল। সেই আলোর মধ্যেই আবির্ভূত হলেন বাবা লোকনাথ। তাঁর মুখে অদ্ভুত করুণাময় হাসি, চোখে অশেষ মমতা, মাথায় জটাজুট, কপালে তিলক, দেহে গেরুয়া বসন।
বাবা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন রোগীর শয্যার কাছে। স্নেহভরে তাঁর হাত রাখলেন রোগীর কপালে। মুহূর্তের মধ্যেই এক অলৌকিক পরিবর্তন দেখা গেল। যেই দেহ এতক্ষণ নিস্তেজ ছিল, সেখানে জীবনের সঞ্চার শুরু হল। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে লাগল। মনিটরের রেখায় ফিরে এলো শক্ত স্পন্দন।
হঠাৎ করেই রোগী চোখ খুলল। ধীরে ধীরে উঠে বসলো বিছানায়। তার মুখে বিস্ময় আর শান্তির ছাপ। যেন মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে এসেছে নতুন জীবনে।
এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত ডাক্তার, নার্স, এবং আত্মীয়-স্বজন সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাইরে গিয়ে যে ঘটনা ঘটছে, তা তারা নিজের চোখে দেখছিলেন। বিস্ময়ে, ভক্তিতে সবাই একে একে বাবা লোকনাথের চরণে প্রণাম করলেন। ডাক্তার বললেন,
“আজ আমরা বুঝলাম, চিকিৎসার ঊর্ধ্বেও এক মহাশক্তি আছেন।”
রোগীর পিতা-মাতা কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবার পায়ে মাথা ঠেকালেন। কৃতজ্ঞতার অশ্রু ঝরতে লাগল তাঁদের চোখ থেকে।
বাবা লোকনাথ তখন শান্ত কণ্ঠে বললেন— “বিশ্বাস রাখলে অসম্ভব কিছু নেই। ভক্তের ডাক কখনো বৃথা যায় না।”
এইভাবেই বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর কৃপায় মৃত্যুপথযাত্রী এক রোগী ফিরে পেল নতুন জীবন। এ ছিল বাবার এক অলৌকিক লীলা, যা আজও প্রমাণ করে—
“যেখানে মানুষের শক্তি শেষ, সেখানেই শুরু হয় বাবার করুণা।”
জয় বাবা লোকনাথ 🙏🙏🪔🪔