03/08/2026
আমরা জানি যে সম্প্রতি শহীদ মেজর জাহিদকে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী মরোণত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অথচ এই একই রাষ্ট্র তাকে জঙ্গি বলে নির্মমভাবে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছিলো।
প্রশ্ন হলো, যদি তিনি অপরাধী হন, তবে এই সম্মান কেন? আর যদি নির্দোষ হন, তবে তাঁকে হত্যাযোগ্য করার জন্য বয়ান নির্মাণকারী এবং হত্যায় জড়িত অন্যান্যদের জবাবদিহি কোথায়?
মেজর জাহিদের ঘটনাকে ঘিরে আজ একটি মৌলিক প্রশ্ন বাংলাদেশের রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং সমাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রশ্ন সভ্য দাবিদার কোনো সমাজ এড়িয়ে যেতে পারে না।
যদি বর্তমান রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়ে থাকে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানজনকভাবে তাঁর অবসর স্বীকৃত হয়ে থাকে, তাহলে এই সিদ্ধান্তের অর্থ কী?
যদি তিনি সত্যিই একজন জঙ্গি, রাষ্ট্রদ্রোহী বা ভয়ংকর অপরাধী হয়ে থাকেন, তাহলে একটি রাষ্ট্র কেন তাঁকে মরণোত্তর পদোন্নতি দেবে? কেন তাঁর সামরিক মর্যাদা পুনর্বহাল বা স্বীকৃত হবে? রাষ্ট্র কি নিজেই নিজের অতীত অবস্থানকে অস্বীকার করছে?
অন্যদিকে, যদি বর্তমান রাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের অর্থ হয় যে অতীতের বয়ান ভুল, বিভ্রান্তিকর ও অন্যায় ছিল, তাহলে আরও কঠিন একটি প্রশ্ন সামনে আসে।
তাঁর বিরুদ্ধে যে বয়ান তৈরি করা হয়েছিল, যাঁকে জনমতের আদালতে আগেই দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাঁর সম্পর্কে যাচাইহীন বা একপাক্ষিক তথ্য বারবার প্রচারিত হয়েছিল—সেই প্রক্রিয়ার জন্য কারা জবাবদিহি করবে? তাদের কী বিচার হবে না?
কোনো মানুষকে আইনের বিচারের আগেই সমাজের চোখে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা কেবল একটি সাংবাদিকতার ভুল নয়; এটি সাংঘাতিক বড় অপরাধ এবং এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
যখন রাষ্ট্র, নিরাপত্তা সংস্থা বা গণমাধ্যমের বয়ান একজন মানুষের বিরুদ্ধে এমন একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে তাঁর মৃত্যু বা তার সাথে কঠোর ব্যবহারের প্রতি জনসমর্থন সৃষ্টি হয়, তখন সেই বয়ান নির্মাণের নৈতিক ও আইনী দায় অবশ্যই তাদেরকে বহন করতে হবে ।
রাষ্ট্র একই সঙ্গে দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান ধরে রাখতে পারে না। একদিকে কাউকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা, অন্যদিকে পরে তাঁকেই রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া—এই দুই অবস্থানের মধ্যে কোনটি সত্য, তার ব্যাখ্যা জনগণের পাওয়ার অধিকার আছে।