27/09/2025
আদর্শ চরিত্র গঠন -১
ভূমিকা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন-
واحسنوا ان الله يحب المحسنين
তোমরা সদ্ব্যবহার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ব্যবহারকারীকে ভালবাসেন।
( সূরা কলাম: ০৪)
واعفو واصفحوا
তোমরা ক্ষমা কর (মানুষের দোষ ত্রুটি) এবং এড়িয়ে চলো। (সূরা বাকারা: ১৯৫)
وقولوا للناس حسنا
তোমরা মানুষের সাথে সুন্দর ভাবে কথা বলো। ( সূরা বাকারাহ:১০৯)
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -
ان من احبكم الي واقربكم مني مجلسا يوم القيامه احاسنكم اخلاقا
কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে প্রিয় ও নিকটবর্তী হবে তারা, তোমাদের মধ্যে যারা আখলাকে উত্তম। (তিরমিজি :২০০৪)
،اكمل المؤمنين ايمانا احاسنهم اخلاقا الموطؤون اكنافا، الذين يالفون ويؤلفون ولا خير في من لا يالف ولا يؤلف
"মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার তারা, যাদের আখলাক উত্তম, স্বভাব নম্র। যারা অন্যের সাথে সহজ ভাবে মিশে এবং যাদের সাথে সহজ ভাবে মিশা যায় এবং যে অন্যের সাথে মিশে না এবং যার সাথে সহজ ভাবে মিশা যায় না। তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।"
( তিরমিজি: ১১৬২)
ما من شيء اثقل في الميزان من حسن الخلق
মিজানের পাল্লায় উত্তম আখলাকের চেয়ে বাড়ি কোন আমল থাকবে না।
( আবু দাউদ: ৪৮০১)
ان الرجل ليبلغ بحسن خلقه درجه قائم الليل وصائم النهار
মানুষ তার উত্তম আখলাকের মাধ্যমে রাতভর নামাজ আদায়কারী এবং দিনভর রোজা পালনকারীর মর্যাদা লাভ করতে পারে।
( আহমদ : ২৫৫৩৭)
কে বেশি হকদার ভালো ব্যাবহারের??
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো-
يا رسول الله، مَنْ أحقُّ الناس بِحُسن صَحَابَتِي؟ قال أمك قال: ثم مَنْ ؟ قال: أمك، قال: ثم مَنْ؟ قال: أمك، قال: ثم مَنْ؟ قال: أبوك
‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকার রাখে? তিনি বললেন- ’তোমার মা।’ লোকটি বলল, তারপর কে? তিনি বললেন- ‘তোমার মা।’ সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন- ‘তোমার মা।’ সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন- ‘তারপর তোমার বাবা।’ (বুখারি ও মুসলিম)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, একব্যক্তি প্রশ্ন করলো-
يا رسول الله، مَنْ أحقُّ بحُسْنِ الصُّحْبَةِ؟ قال أمك، ثم أمك، ثم أمك، ثم أباك، ثم أدْنَاك أدْنَاك
হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা হকদার কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপর তোমার বাবা। এরপর তোমার নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজন। এরপর তোমার নিকটবর্তী লোকজন।’ (মুসলিম)
মা বাবার সাথে
আল্লাহ বলেন-
وقضى ربك الا تعبدوا الا اياه وبالوالدين احسانا. مما يبالغن عندك الكبر. احدهما اوكلاهما. فلا تقل لهما اف. ولا تنهرهما وكلهما قولا كريما، وخفض لهما جناح الظل من الرحمة و قل رب ارحمهما كما ربياني صغيرا
"তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারো এবাদত করো না এবং পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয় তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়। তবে তাদের "উফ" শব্দ বলিও না এবং তাদেরকে "ধমক" দিওনা বরং তাদের সাথে শিষ্টাচার পূর্ণ কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সাথে নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো- হে আমার প্রতিপালক! তাদের উপর রহম করো যেমন তারা আমাকে শৈশব কালে লালন পালন করেছে। "
এই আয়াতের আলোকে মা বাবার সাথে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আয়াতটা শুরু করলেন এইভাবে -
وقضى ربك الا تعبدوا الا اياه
"তোমার রব আদেশ করছেন তোমরা তাকে ছাড়া কারো ইবাদত করবে না"
আয়াতের প্রথম অংশ আমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার অধিকারের দাবি জানাচ্ছে।আর দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে-
وبالوالدين احسانا
তোমরা তোমাদের মাতা পিতার সাথে সর্ব উত্তম আচরণ করো ।
আয়াতে উল্লেখিত "ইহসান" শব্দটি দ্বারা জোরালো ভাবে উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, আপনি তাদের সাথে যথাসম্ভব ভালো ব্যবহার করবেন।
একটু লক্ষ্য করে দেখুন আয়াতের বাকি অংশে শুধু মা বাবার সাথে ভালো আচরণ নিয়ে বলা হয়েছে।
প্রথমে আল্লাহ বলছেন তুমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে তারপর বলছেন
اما يبلغن عندك الكبر
"তারা যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়।"
احدهما او كلاهما
"তাদের একজন বা উভয়জন।"
فلا تقل لهما اف
"তাহলে তোমরা তাদেরকে "উফ" শব্দ বলিও না।"
ولا تنهرهما
"তাদেরকে "ধমক" দিওনা বা দূরে ঠেলে দিও না।"
وكلهما قولا كريما
তাদের উভয়ের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বল।
একটার পর আরেকটা। এরপর আরেকটা। এভাবে একের পর এক শুধু পিতা-মাতাকে নিয়েই বলা হয়েছে। মাত্র একবার আল্লাহ তা'আলার সম্পর্কে বলা হয়েছে আর বাকি সব অংশ পিতা-মাতার ব্যাপারে বলা হয়েছে। একটু চিন্তা করে দেখুন। বিষয়টি কত গুরুত্বপূর্ণ।
এ আয়াতের একটি সুন্দর দিক হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা প্রথমে নিজেকে উল্লেখ করেছেন। তারপর পিতা-মাতার ব্যাপারটা উল্লেখ করেছেন।
এ থেকে বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালার একজন ভালো বান্দা হতে হলে পিতা মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।
যদি আপনি আপনার মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে না পারেন। তার অর্থ হচ্ছে- আপনি আল্লাহ তাআলার ভালো বান্দা হতে পারেননি। এটা হচ্ছে আয়াতের প্রথম পয়েন্ট।
দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো "পিতা মাতার সাথে সর্বোত্তম আচরণ করবে" এর মানে কী?
এর মানে হচ্ছে অন্যদের সাথে আপনি যেমন ভালো আচরণ করেন তার থেকেও বেশী ভালো আচরণ আপনার মা-বাবার সাথে করতে হবে।
কারণ, অন্যের সাথে ভালো আচরণ করাটা খুবই সহজ। যেমন আপনি আপনার বসের সাথে ভালো আচরণ করলেন এটা খুবই সহজ। কারণ, তার সাথে আপনি খারাপ আচর করলে বিপদে পড়বেন। আপনার শিক্ষকের সাথে ভালো আচরণ করাটা স্বাভাবিক। কারণ, তার সাথে ভালো আচরণ না করলে আপনাকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিতে পারে।একইভাবে আপনার বন্ধুদের সাথেও; কারণ, আপনি তাদেরকে হারাতে চান না। তারা আপনার বিরুদ্ধে যাক আপনি তা চান না। কিন্তু.. যখনই আপনার মা-বাবার কথা আসে তখন আপনি অনেকটা রিলাক্স!
ও মা বাবা! তারা তো সারা জীবন আমারই। তাই আল্লাহ বললেন নাহ!ব্যাপারটা এত হালকা না। ব্যাপারটা খুবই সিরিয়াস।
আল্লাহ তায়ালার অধিকারের পরেই মা বাবার অধিকারের ব্যাপারটা আলোচনা করার একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ধরুন,আপনি ফোনে বন্ধুর সাথে কথা বলছেন আর আপনার মা আপনাকে ডাক দিলো।আপনি তখনই তার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাবেন। ব্যাস! আর কোন কিন্তু... নেই। আপনি কোন কাজে ব্যস্ত আছেন আর আপনার মা ফোন দিছে আপনি সাথে সাথে তার ফোন রিসিভ করবেন। কোন ব্যস্ততা দেখাবেন না।বলবেন না আমি একটু ব্যাস্ত আছি পরে ফোন দিই। আপনি কোন ভিডিও দেখছেন বা কোন গেমস খেলছেন আপনার মা বললো 'নাস্তা রেডি! আপনি বলবেন না 'দাঁড়াও না! বললাম তো আসছি। একটু অপেক্ষা করো। এইগুলো করা চলবে না। সাথে সাথে মোবাইল ফোন রেখে দিন। তার ডাকে সারা দিন।
আপনি বন্ধু-বান্ধবের সাথে সময় কাটান। নিজের মতো করে চলেন। মা বাবাকে সময় দেন না। আপনি চাকরি থেকে বাড়ি ফিরলে বন্ধু- বান্ধবকেই বেশি সময় দেন। অনেক রাত পর্যন্ত তাদের সাথে আড্ডা দেন। তারপর বাড়ি ফিরে মায়ের ঘুমের ডিস্টার্ব করে দরজা খুলতে বলেন। এগুলো করা চলবে না। এগুলো ভালো আচরণ নয়।
এগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা আমাদের ধর্মের প্রাথমিক দায়িত্ব।
আয়াতের তৃতীয় পয়েন্ট হলো আল্লাহ বলেন- "তাদের একজন বা দুইজন যখন বার্ধক্যে উপনীত হয়" তখন বিষয়টা আরো গুরুতর হয় । কেননা যখন আপনার পিতা-মাতার বয়স বাড়তে থাকে তখন তাদের প্রয়োজনও বাড়তে থাকে।
একদিকে তাদের বয়স বাড়ছে আর আপনিও স্বাধীন হচ্ছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক হচ্ছেন। আপনি তখন ভাবেন নিজের সিদ্ধান্তগুলো নিজেই নিবেন।এখন আপনার একটা জীবন আছে। আপনার একটা ভবিষ্যৎ আছে। তারা আপনাকে বুঝতে পারে না এরকম অনেক অভিযোগ আপনার মাথায় ঘুরপাক খায়। আপনি আপনার বন্ধুদের কাছে এগুলো বলে বেড়ান। আর আপনার খারাপ বন্ধুগুলো আপনাকে কুপরামর্শ দেয় তাদের সাথে দূরব্যাবহার করতে। তাদের কথা না শুনতে।
কিন্তু.. আল্লাহ বলছেন যখন তারা বৃদ্ধ হয়ে পড়ে বা বয়স্ক হয়ে পড়ে,'বিশেষভাবে' যখন তারা অযৌক্তিক হয়ে যায়, 'বিশেষভাবে' যখন তারা আপনার অবস্থা বুঝতে পারে না, আপনার ওপর নানা দাবি চাপাতে থাকবে, তখনই সময় তাদের কাছে সর্বোত্তম হওয়ার। তাদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করার। এই সময়ই আপনাকে চিনা যাবে। আপনি মা-বাবার কেমন সন্তান?
আপনি আল্লাহর কেমন বান্দা?
আর যে আল্লাহর ভালো বান্দা নয়, তার জন্য এগুলো সহজ হবে না। এগুলো তাঁদের জন্য নয়; এগুলো আল্লাহর জন্য করতে হবে।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- "যদি কেউ তার বৃদ্ধ মা বাবার (রিজিক খোঁজার) চেষ্টায় বের হয়। তাহলে সে আল্লাহর রাস্তায় রয়েছে।"
আপনার পিতা মাতা বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা কোন কিছু উপার্জন করতে সক্ষম না। তাই আপনাকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। আপনি আগে অনেক জ্ঞান অর্জন করতেন। পড়াশুনা করতেন। অনেক ইবাদত করতেন। কিন্তু.. মা বাবার খেদমত করার কারণে আপনি এখন কিছুই করতে পারছেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অবস্থাকে কী বলেছেন?
আল্লাহর রাস্তা বলেছেন । (সুবহানাল্লাহ) ইসলাম কত সুন্দর!!
এরপর আল্লাহ বলেন "তাঁদেরকে ধমক দিওনা বা দুরে সরিয়ে দিও না।"
আপনার মা-বাবা আপনার সাথে কথা বলছে আপনি হুট করে চলে যান। কথা বলার সময় তার দিকে তাকান না, মোবাইল ফোন টিপতে থাকেন বা অন্য কোন কাজে মনোযোগী হয়ে যান। আপনি তাঁর ফোনের উত্তর দেন না। তার খোঁজ খবর নেন না। তারা আপনাকে কোন কথা বললে আপনি তাদের ধমকের স্বরে বলেন - "আপনারা আমার ব্যাপারে আমার থেকে বেশি বুঝেন।"
"বেশি কথা বলবেন না।"
কী চরম অকৃতজ্ঞত!শুধু আপনার মায়ের প্রতি না, প্রথমে আল্লাহ তাআলার উপর, তারপর আপনার মায়ের উপর। আপনি কি ভুলে গেছেন? আপনি তার গর্ভে ছিলেন। যে কারণে তার একটু পরপর বমি হতো। ভিতর থেকে আপনি তার পাজরে লাথি মারতেন। আর তার পেট থেকে বের হওয়ার সময় আপনি তাকে মেরে ফেলছিলেন, তিনি প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কত দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়ে আপনাকে লালন পালন করেছেন। আপনার কারণে সে কত রাত ঘুমাতে পারেনি।
আর এখন সব ভুলে গিয়ে তার সাথে যেমন তেমন আচরণ করছেন? একটা সময় আপনি তাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, এখন তিনিই আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বহীন? হাই! এটা কতটা ন্যায্য বিচার? তারা প্রতিদিন মনে মনে এই যন্ত্রনা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আমি আমার সন্তানের কাছে কিছুই না। আমি তাদের কাছে মূল্যহীন।
একটা সময় তাঁরা ছিল আপনার লাইফ সাপোর্ট। আপনার জন্য তাঁরা তাদের জীবন দিয়েছেন। অনেক কষ্ট করেছেন। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। নিজের ক্যরিয়ার বিষর্জন দিয়েছেন। আপনি আসার আগপর্যন্ত তাদের জীবনের একধরনের পরিকল্পনা ছিলো। আর আসার পর আপনি হয়েছেন তাঁদের পরিকল্পনা। আপনি তাদের সব। আপনি তাদের স্বপ্ন। আর এখন একটা কিছু আপনার মনমতো না হলে আপনি রেগে যান।আপনি কিছুতেই শুনতে চান না। আপনি তাদের সাথে চিৎকার করে কথা বলেন।
তারা আপনার জন্য কী করেছেন। আর আপনি তাদের জন্য কী ফিরিয়ে দিচ্ছেন??
এটা খুবই অন্যায়, অসমীচীন।
এরপর আল্লাহ বলেন -"তাদের উভয়ের সাথে সম্মানের সাথে শিষ্টাচার পূর্ণ কথা বল।" আপনাদের অনেকের মূখ থেকে মা বাবার ব্যাপারে বাজে শব্দ, খারাপ ভাষা বের হয়ে থাকে। তারা "বুড়া","বুড়ি", "বেডি" ইত্যাদি এই ধরনের মারাত্মক শব্দ ব্যাবহার করে। কেউ তো আবার গালি গালাজও করে(নাউজুবিল্লাহ)। তারা এগুলো বলার সময় একটু চিন্তাভাবনাও করে না। মা বাবার ব্যাপারে ভাষা ব্যাবহারে, শব্দ ব্যাবহারে খেয়াল রাখতে হবে।
এরপর আল্লাহতালা পিতা-মাতাকে কেন্দ্র করে আরো একটি আয়াত নাজিল করেন
واخفض لهما جناح الظل من الرحمه
তাদের দুজনের জন্য তোমার কোমলতা ও অভিনয়ের ডানা অবনত করো।
আরবিতে ডানা অবনত করার অর্থ হলো আপনার উড়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে তারপরও আপনি নিচে নেমে আসেন। আপনার চলে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। তাদের মুখের সামনে জোরে দরজা লাগিয়ে দিতে পারেন। কিংবা ফোন কেটে দিতে পারেন। তারপরও আপনি সহ্য করেন। তাদের বকবকানি।
আপনি হয়তো বলতে পারেন আমার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। আমার মা-বাবার মাথা পুরাই নষ্ট হয়ে গেছে, তারা অনেক বিরক্তিকর, আমার মা সারাদিন চেঁচামিচি করে। তারা সব সময় রাগী, তারা কখনো সূখী নয়, তারা এই, তারা সেই...
তারা প্রত্যেকেই ভাবে তাদের ব্যাপারটা অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কেউ ভাবে না এটা তার ক্ষেত্রেও খাটে। সবাই মনে করে এগুলো অন্য কাউকে বলা হচ্ছে। আপনার কি মনে হয় আল্লাহতালা আপনার অবস্থা না জেনেই এই আয়াতগুলো নাজিল করেছেন?
তিনি কি আপনার অবস্থাটা বুঝেন না? আপনার সমস্যার কথা কি তিনি জানেন না?
তিনি তার সৃষ্টির ব্যাপারে খুব ভালো করেই জানেন।তিনি আমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থেকেই এ কথাগুলো বলেছেন। আপনার মা বাবাকে তিনিই আপনার জন্য পছন্দ করেছেন। আর আপনাকে তাদের সন্তান হিসাবে তিনিই নির্বাচন করেছন। এরপর তিনিই আপনার জন্য এ-ই আয়াত গুলো নাজিল করেছেন।
তাই আল্লাহর আদেশ মেনে চলুন। তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনত করুন। তারা যেমনই হোক আপনি আপনার জায়গায় থেকে ভালো থাকুন। তারা কী করছে? সেটার ব্যাপারে আপনার হিসাব হবে না। আপনি আপনার জায়গা থেকে কেমন আচরন করেছেন তার হিসাব হবে। সুতরাং আপনি আপনার দায়িত্ব আদায় করুন। আল্লাহর কথা গুলো মেনে চলুন।
আয়াতের শেষ অংশ " মিনার রহমাহ" অর্থাৎ দয়া পরবশ হয়ে। আয়াতের এই ক্ষুদ্র অংশটি অন্তত তিনটি দিক বুঝায় -
প্রথমত. আপনি তাদের প্রতি বিনয়ী হবেন। যদিও তার বিপরীত হওয়ার ক্ষমতা আপনার আছে। আপনি তা করবেন কারণ, তারা এমন বয়সে উপনীত হয়েছে যে, আপনাকে তাদের খুব প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত. আপনি ছোট অবস্থায় তারা আপনার উপর দয়া করেছিলো। তারা কিন্তু এসব রেকর্ডে লিখে রেখে বিল বানিয়ে আপনাকে দিয়ে বলিনি দেখো আমরা তোমার এত সেবা যত্ন করেছি। আমরা তোমার পিছনে এত এত ঘন্টা শ্রম দিয়েছি। এখন তুমি তার মূল্য পরিশোধ করো।
না তারা এমনটি করেনি, তারা আপনার উপর দয়া দেখিয়েছে সুতরাং এখন আপনারও তাদের প্রতি দয়া করার সময় এসে গেছে।
তৃতীয়, এটি সর্বশেষ কথা। যদি চান আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুক তাহলে আপনি মা-বাবার প্রতি দয়া করুন। যদি জীবনে ভালো কিছু করতে চান বা পেতে চান তাহলে তাদের দোয়া নিন।
★যে ছেলে তার বাবার উপদেশ না শুনে। আর যে মেয়ে তার মায়ের উপদেশ না শুনে। তারা এই দুনিয়াতে কামিয়াব হতে পারবে না। এবং আখেরাতেও নয়।
★রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন "আল্লাহর সন্তুষ্টি মা বাবার সন্তুষ্টির মাঝেই।"
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে মা-বাবার সাথে উত্তম আচরণ করার তৌফিক দান করুক। আমিন 🤲
~~~~~~~রিয়াজুল ইসলাম
゚
#মাবাবা