তৈয়্যবীয়া হেদায়েতীয়া যুব ফোরাম

  • Home
  • Bangladesh
  • Comilla
  • তৈয়্যবীয়া হেদায়েতীয়া যুব ফোরাম

তৈয়্যবীয়া হেদায়েতীয়া যুব ফোরাম "প্রেমিক মানুষ যা কিছুই বলেন, তার মুখ থেকে প্রেমের সুগন্ধ ছড়ায়"

🕛আজ ২৪ মে ২০২৬ ইং।🔷প্রেমের কবি,দ্রোহের কবি,সুফি কবি কাজী নজরুল ইসলাম(রহঃ) এর ১২৭তম জন্ম বার্ষিকী। তিনি ছিলেন আল্লাহ প্রে...
24/05/2026

🕛আজ ২৪ মে ২০২৬ ইং।

🔷প্রেমের কবি,দ্রোহের কবি,সুফি কবি কাজী নজরুল ইসলাম(রহঃ) এর ১২৭তম জন্ম বার্ষিকী।
তিনি ছিলেন আল্লাহ প্রেমিক,রাসূল প্রেমিক,আহলে বায়াত প্রেমিক এবং ওলি-আউলিয়া প্রেমিক।তার এই প্রেম তিনি প্রকাশ করেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে।তিনি রাসূল(সঃ) এর প্রেমে বিভোর হয়ে অনেক গজল রচনা করেছিলেন।যেমন:
১.আল্লাহ কে যে পাইতে চায় হযরত কে ভালবেসে
২.নূরের দরিয়ায় সিনান করিয়া কে এলো মক্কায় আমিনার কোলে
৩.তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম
৪.মোহাম্মদ নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে
৫.খোদার প্রেমের সরাব পিয়ে...সহ
আরও অনেক গজল তিনি রচনা করেছেন।যেগুলো পড়ে আজ মানুষ রাসূলের প্রতি মোহব্বত প্রকাশ করে।তার জীবদ্দশায় আরও দেখা যায় যে তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি।অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় তিনি কলম ধরে গেছেন।
"মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই"তিনি এই লেখনীর মাধ্যমে জানান দিয়ে গিয়েছিলেন যেন তার সমাধিস্থল মসজিদের পাশে করা হয়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই তার সমাধিস্থল রয়েছে।

 #পবিত্র_উরুছ_মোবারক  হযরত শাহজালাল মুজাররদ ইয়ামেনী (রঃ)"যেখানে ৩৬০ আউলিয়ার পদধূলি মিশে আছে, যেখানে আকাশ-বাতাস আজও আল্লা...
07/05/2026

#পবিত্র_উরুছ_মোবারক

হযরত শাহজালাল মুজাররদ ইয়ামেনী (রঃ)

"যেখানে ৩৬০ আউলিয়ার পদধূলি মিশে আছে, যেখানে আকাশ-বাতাস আজও আল্লাহর জিকিরে মুখরিত—সে তো পুণ্যভূমি সিলেট। আর সেই আধ্যাত্মিক বিপ্লবের মহানায়ক সুলতান-উল-বেঙ্গল, হযরত শাহজালাল মুজাররদ ইয়ামেনী (রঃ)।" 🕌✨

ইয়েমেনের তপ্ত মরুভূমি থেকে আসা এক নূরানি কাফেলা, যাদের হাতে কোনো তলোয়ার ছিল না, ছিল কেবল #ইশকে_ইলাহি’ আর অটল ঈমান।

গোবিন্দর অন্যায়ের প্রাচীর ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছিল মাত্র এক আজানের ধ্বনিতে।

☝️তিনি কেবল একজন ধর্মপ্রচারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন রূহের জগতের এক সম্রাট।
তাঁর পরশপাথরের ছোঁয়ায় এই জনপদ ধন্য হয়েছে, অন্ধকার দূর হয়ে জ্বলে উঠেছে তাওহীদের আলো।

আজও মাজারের ওই নিস্তব্ধতায় গেলে হৃদয়ে এক প্রশান্তি অনুভব হয়, মনে হয় যেন কোনো এক অদৃশ্য আধ্যাত্মিক চাদর আমাদের আগলে রেখেছে।

হে আল্লাহ, আপনার এই প্রিয় অলির উসিলায় আমাদের অন্তরে দ্বীনের সহিহ মহব্বত দান করুন।
আমীন। 🤲🌷

#বাংলা_ও_আউলিয়া

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।🌐  াহ_জালাল_ইয়ামেনী (রহ.):💠 ১৯ জিলক্বদ ১৪৪৭ হিজরী : হযরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহ.)’র (১২৭১ – ১৩...
07/05/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
🌐 াহ_জালাল_ইয়ামেনী (রহ.):
💠 ১৯ জিলক্বদ ১৪৪৭ হিজরী : হযরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহ.)’র (১২৭১ – ১৩৪১) বার্ষিক উরস শরিফ।

🌀 ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি দরবেশ। তার পুরো নাম শেখ শাহ্ জালাল কুনিয়াত মুজাররদ। ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ খ্রিষ্টীয় সালে ৩২ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে অধুনা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। সিলেট আগমনের সময়কাল নিয়ে যদিও বিভিন্ন অভিমত রয়েছে, তদুপরি শাহ্ জালালের সমাধির খাদিমগণের প্রাপ্ত ফার্সি ভাষার একটি ফলক-লিপি থেকে উল্লেখিত সন-তারিখই সঠিক বলে ধরা হয়। ফার্সি ভাষায় লিখিত ফলক-লিপি বর্তমানে ঢাকা যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সিলেটে তার মাধ্যমেই ইসলামের বহুল প্রচার ঘটে সিলেট বিজয়ের পরে শাহ্ জালালের সঙ্গী-অনুসারীদের মধ্য হতে অনেক পীর-দরবেশ এবং তাদের পরে তাদের বংশধরগণ সিলেট সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসবাস করেন। শাহজালালের সফরসঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তার ওফাতের পর তাকে সিলেটেই কবর দেয়া হয়।
🔷 প্রাথমিক জীবন:
হিজরী ষষ্ঠ শতকের শেষাংশে মক্কার কোরায়েশ বংশের একটি শাখা মক্কা শহর হতে হেজাজ ভূমির দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তে ইয়েমেন প্রদেশে গিয়ে বসবাস করেন। ঐ শাখার মোহাম্মদ বা মাহমুদ শাহজালালের পিতা। মাহমুদের পিতা ছিলেন ইব্রাহিম।
হযরত শাহ্ জালালের (রহ.) রওজায় প্রাপ্ত ফলক-লিপি সুহেলি ইয়্যামনি অনুসারে, শাহ জালাল ৩২ বছর বয়সে ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট আগমন করেন। সুহেলি ইয়্যামনিতে উল্লেখিত তথ্য হতে জানা যায় যে, ৬৭১ হিজরী (১২৭১ খ্রিষ্টাব্দে) শাহজালাল জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর জন্মভূমি ছিল প্রাচীন আরবে আযমের হেজাজ ভূমির তৎকালীন প্রদেশ ইয়ামন দেশের কুনিয়া নামক শহর। শাহ্ জালাল যখন তিন মাসের শিশুবালক, তখনই তাঁর মাতার ইন্তিকাল হয়।
হযরত শাহ্ জালাল শিশুকালেই মাতৃহীন হন এবং পাঁচ বছর বয়সে পিতাকে হারান। মামা আহমদ কবির তাঁকে দত্তক নেন। আহমদ কবির আরবী ভাষায় কোরআন হাদিস শিক্ষা দেয়া সহ ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক বিষয়ে (নামায, রোজায়) অভ্যস্ততার গুরুত্ব প্রদান করেন। পরবর্তিতে আহমদ কবীর শাহ্ জালালকে ইয়েমেন থেকে মক্কায় নিয়ে যান। মক্কা শহরে আহমদ কবীরের একটি আস্তানা (হোজরা) ছিল। সেখানে অন্যান্য শিষ্যদের সাথে শাহ্ জালালকেও উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়।
🔷 গুরু পরিচিতি:
শাহ্ জালাল-এর মামা ও শিক্ষাগুরু শায়েখ সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দি, সাধারণত; আহমদ কবির নামে তিনি বহুল পরিচিত। সৈয়দ আহমদ কবিরের পিতা নাম সৈয়দ জালাল সুরুখ বোখারী। সৈয়দ জালাল সুরুখ বোখারী শাহ্ জালালের জন্মের আগে ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে মুলতানের নিকট আউচে এসে বসবাস করেন এবং সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দির পিতা সৈয়দ জালাল সুরুখ বোখারী ছিলেন তার মুরশীদ।
🔷 শাহ্ জালাল (রহ.) এর পীরদের ঊর্ধঃস্তন পীরগণের তালিকা নিম্নরূপঃ
• প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)
• হযরত আলী (রা.)
• শেখ হাসান বসরী
• শেখ হবিব আজমী
• শেখ মারুফ কর্খী
• শেখ সিররি সুকতি
• শেখ মমশাদ সিকন্দরী
• শেখ আহমদ দিন্নুরী
• শেখ আমুবিয়া
• শেখ আজি উদ্দীন সোহরাওয়ার্দী
• শেখ আবু নজিব জিয়াউদ্দিন
• শেখ হিসাব উদ্দীন
• শেখ মাখদুম
• শেখ বাহাউদ্দীন জাকারিয়া
• সৈয়দ জালাল সুরুখ বোখারী
• সৈয়দ শায়েখ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দি
• শাহ জালাল।
🔷 আধ্যাত্মিকতা:
শাহ্ জালালকে সুফি মতবাদে দীক্ষিত করাই আহমদ কবিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে জানা যায়; যে কারণে আহমদ কবিরের শাহ জালালকে নিয়ে মক্কায় আসা। মক্কা শহরে সোহরাওয়ার্দি তরিকার প্রবর্তক সিহাবুদ্দীনের প্রতিষ্ঠিত খানকায় (মরমী স্কুল) তত্কালে আহমদ কবির ছিলেন প্রধান তত্ত্বাবধায়ক। আহমদ কবির শাহ্ জালালকে ইসলামের শরীয়ত ও মারিফত উভয়ধারায় শিক্ষাদানে দীক্ষিত করেন।
🔷 দরবেশী জীবন:
জন্মগতভাবে শাহ্ জালাল দরবেশ পরিবারে জন্ম নিয়েছেন। জানা যায়, তাঁর পিতা ছিলেন একজন ধর্মানুরাগী মোজাহিদ, ইয়্যামনে ধর্ম যুদ্ধে তিনি নিহত হন এবং তাঁর মাতার দিক দিয়ে তিনি সৈয়দ বংশের প্রখ্যাত দরবেশ সৈয়দ জালাল সুরুখ বোখারীর দৌহিত্র ছিলেন। তদুপরি দরবেশ আহমদ কবির তাঁর মামা, যাঁকে শাহ্ জালালের শিক্ষা গুরু হিসেবে পাওয়া যায়, তিনিও তত্কালের একজন বিখ্যাত দরবেশ ছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। আহমদ কবির যখন শাহ্ জালালের লালন-পালনের ভার গ্রহণ করেন সেই ছোটবেলা থেকেই তাকে দরবেশী তর-তরিকায় জীবন যাপনের প্রণালী শিক্ষা দিয়েছেন বলেও পাওয়া যায়।
🔷 সিলেট আগমন পর্ব:
শাহ্ জালাল মুজাররদ তার মামা ও গুরু সৈয়দ আহমদ কবিরের আস্তানায় আরব দেশে ছিলেন। শাহজালাল ভারতবর্ষে ধর্ম প্রচারের স্বপ্ন দেখার পরে সৈয়দ আহমদ কবির-এর কাছে ব্যক্ত করেন। মামা ও মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবিরকে তা জানান। কবির এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে শাহজালালকে ভারতবর্ষে যাবার পরামর্শ দেন। যাত্রাকালে কবির শাহ জালালেরর হাতে এক মুঠো মাটি তুলে দিয়ে বললেনঃ যে স্থানে এই মাটির "স্বাদ" "গন্ধ" ও "বর্ণের" মিল এক হবে, সেখানেই ধর্ম প্রচারের জন্য আস্তানা গড়বে। মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবির (রহ) এর দোয়া নিয়ে শাহ্ জালাল (রহ) ধর্মপ্রচার অভিযানে আরবের মক্কা শরিফ হতে একা-একাই যাত্রা শুরু করেন।
🔷 হিন্দুস্থানে প্রবেশ:
শাহ্ জালাল মক্কা হতে বিদায় কালে যে কয়েক জন সঙ্গী তাঁর সাথে যাত্রা করেন তাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হাজী ইউসুফ, হাজী খলীল, হাজী দরিয়া এবং আরেকজন সঙ্গী চাশনী পীর ছিলেন মৃত্তিকার তহবিলদার। হিন্দুস্থানে আসার পূর্ব পর্যন্ত সমরকন্দ থেকে সৈয়দ ওমর, রোম থেকে করিমদাদ, বাগদাদ থেকে নিজাম উদ্দীন, ইরান, জাকারিয়া ও শাহ্ দাউদ এবং সৈয়দ মুহম্মদ প্রমুখ তার অনুগামী হলেন। তাদের নিয়ে তিনি হিন্দুস্থানে প্রবেশ করলেন। এরপর পাঞ্জাবের মুলতান থেকে আরিফ, গুজরাট থেকে জুনায়েদ, আজমীর শরীফ থেকে মুহম্মদ শরীফ, দাক্ষিণাত্য থেকে সৈয়দ কাসিম, মধ্যপ্রদেশের হেলিম উদ্দীন প্রমুখ তার মুরীদ হয়ে তার সঙ্গে সঙ্গে চললেন। এভাবে দিল্লী পর্যন্ত এসে পৌঁছালেন তখন শিষ্যদের সংখ্যা ২৪০ জন বলে ধারণা পাওয়া যায়।
🔷 হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়ার (রহ.) সাথে সাক্ষাৎ:
দিল্লিতে আসার পর নিজামুদ্দিন আউলিয়ার জনৈক শিষ্য গুরুর কাছে শাহ্ জালালের কুত্সা প্রচার করে। সঙ্গে সঙ্গে নিজাম্মুদ্দীন অন্যের কুত্সা রটনাকারী এ শিষ্যকে উপযুক্ত শাস্তিস্বরূপ দরবার থেকে তাড়িয়ে দেন এবং অন্য দুই শিষ্যকে ডেকে তাদের মারফতে শাহ্ জালালের কাছে সালাম পাঠান। শাহ্ জালাল সালামের উত্তরে উপটৌকনস্বরূপ ছোট একটি বাক্সে প্রজ্জলিত অঙ্গারের মধ্যে কিছু তুলা ভরে নিজামুদ্দীন আউলিয়ার নিকট পাঠান। নিজামুদ্দিন আউলিয়া হযরত শাহ্ জালালের আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে তাঁকে সাদরে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান। বিদায়কালে প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ নিজামুদ্দিন আউলিয়া তাঁকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দেন। মাজার সংলগ্ন এলাকায় সুরমা রঙের যে কবুতর দেখা যায় তা ঐ কবুতরের বংশধর। যা জালালি কবুতর নামে খ্যাত।
🔷 শেখ্ বুরহান উদ্দীনের দেখা ও দুঃখ প্রকাশ:
উল্লেখ্য যে, শ্রীহট্টে ইসলাম জ্যোতি সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থের বর্ণনা অনুসারে তুর্কি বিজয়ের মধ্য দিয়ে শ্রীহট্টে মুসলমান জনবসতি গড়ে ওঠে ছিল। সিলেটের টুলটিকর মহল্লায় ও হবিগঞ্জের তরফে তত্কালে মুসলমানরা বসতি গড়েছিলেন। এ সময় শ্রীহট্টের গৌড় রাজ্যে গৌড়-গোবিন্দ নামে এক অত্যাচারী রাজা ছিল। গৌড় রাজ্যের অধিবাসী বুরহান উদ্দীন নামক জনৈক মুসলমান নিজ ছেলের আকিকা উপলক্ষে গরু জবাই করে গৌড়ের হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দের কাছে অপরাধী সাব্যস্ত হন।এ কারণে, গোবিন্দ বুরহান উদ্দীনের শিশু ছেলেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। বুরহান উদ্দীন বাংলার তত্কালীন রাজা শামস উদ্দীন ফিরুজ শাহের নিকট গিয়ে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করলে রাজা তার ভাগিনেয় সিকান্দর গাজীকে প্রকাণ্ড সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে শ্রীহট্টের গৌড় রাজ্যে প্রেরণ করেন। শাহী সৈন্য যখন ব্রহ্মপুত্র নদী পার হতে চেষ্টা করে তখনই রাজা গোবিন্দ ভৌতিক শক্তির সাহায্যে মুসলিম সৈন্যের উপর অগ্নিবাণ নিক্ষেপ করে সমস্ত চেষ্টাকে বিফল করে ফেলে। গোবিন্দের ঐন্দ্রজালিক শক্তির প্রভাবে সিকান্দর গাজীর প্রতিহত ও বিফল মনোরথের সংবাদ দিল্লীর সম্রাট আলাউদ্দীন খিলজীর নিকট পৌঁছলে সম্রাট এ সংবাদে মর্মাহত হন। পরবর্তিতে সম্রাট তার রাজদরবারী আলেম-উলামা সহ জ্যোতিষিদের সাথে আলোচনায় এই মর্মে অবহিত হন যে, সুলতানের সেনাবাহিনীতে আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন এক ব্যক্তি রয়েছে, তার নেতৃত্বে অভিযান প্রেরণ করা হলে গৌড়গোবিন্দের যাদু বিদ্যার মোকাবেলা করে সিলেট বা শ্রীহট্ট জয় সম্ভব হবে। জ্যোতিষিরা উক্ত আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির পরিচয়ের পন্থা হিসেবে এও বলে ছিল, আগামী দুই/এক রাত্রের মধ্যে দিল্লী নগরীতে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টিতে সমস্ত নগরী ভেসে যাবে, প্রতিটি ঘর বাড়ির বিষম ক্ষতি লক্ষিত হবে, কোথায় কোন প্রদীপ থাকবে না; একটি মাত্র তাবু ব্যতীত। সম্রাট জ্যোতিষিদের কথামত অনুসন্ধান করে সেই ঝড় বৃষ্টির রাতে দেখতে ফেলেন একজন সাধারণ সৈনিক একটি তাঁবুতে একাগ্র মনে বসে কোরান পড়ছেন। সম্রাট সেখানে উপস্থিত হয়ে তার সব বিষয় অবগত হয়ে সিলেট অভিযানের নেতৃত্ব দেয়ার অনুরোধ জানান। তিনি সৈয়দ নাসির উদ্দীন সম্রাটের আদেশে সম্মত হলে সম্রাট তাকে সিপাহসালার সনদ প্রদানের মাধ্যে সিকান্দর গাজীর কাছে প্রেরণ করেন। এদিকে গাজী বুরহান উদ্দীন তখন দিল্লীতে অবস্থান করছিলেন। এসময় শাহ্ জালালও তার সঙ্গীদের নিয়ে দিল্লীতে আসেন। ঐতিহাসিক আজহার উদ্দীন ধরনা করে দিল্লীতেই বুরহান উদ্দীনের সাথে শাহ্ জালালের সাক্ষাৎ হয় এবং এখানেই বুরহান উদ্দীন নিজের দুঃখময় কাহিনী তার নিকট বর্ণনা করেন।
🔷 সিপাহশালার নাসির উদ্দীনের দেখা:
শাহ্ জালাল দিল্লী হতে বুরহান উদ্দীনকে সহ ২৪০ জন সঙ্গীসহচর সিলেটের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলেন। শাহ্ জালাল সাতগাঁও এসে ত্রিবেণীর নিকট দিল্লীর সম্রাট প্রেরিত অগ্রবাহিনী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীনের সাথে মিলিত হন। সৈয়দ নাসির উদ্দীন শাহ্ জালাল সম্পর্কে অবগত হয়ে তদীয় শিষ্যত্ব গ্রহণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। পথে পথে শাহ্ জালালের শিষ্য বর্ধিত হতে লাগল। ত্রিবেণী থেকে বিহার প্রদেশে আসার পর আরো কয়েকজন ধর্মযোদ্ধা অনুষঙ্গী হলেন। যাদের মধ্যে হিসাম উদ্দীন, আবু মোজাফর উল্লেখযোগ্য। এখান থেকে সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীনের আনিত এক হাজার অশ্বারোহী ও তিন হাজার পদাতিক সৈন্যসহ শাহ্ জালাল নিজ সঙ্গীদের নিয়ে সোনারগাঁ অভিমুখে সিকান্দর গাজীর সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
🔷 সিকান্দর গাজীর দেখা ও ব্রহ্মপুত্র পার:
শাহ্ জালাল সোনারগাঁ আসা মাত্রই শাহ্ সিকান্দর গাজীর সাথে সাক্ষাৎ ঘটল। সিকান্দর গাজী শাহ্ জালালকে সসম্মানে গ্রহণ করলেন। শাহ্ জালাল তার সঙ্গী অনুচর ও সৈন্যসহ শাহ্ সিকান্দরের শিবিরে সমাগত হয়ে সিকান্দর হতে যুদ্ধ বিষয়ে সব বিষয় অবগত হন। সিকান্দর শাহ্ জালালের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শিষ্যগ্রহণপূর্বক সিলেট অভিমুখে যাত্রা করলেন। এভাবে শাহ্ জালালের শিষ্য সংখ্যা বেড়ে ৩৬০ জনে পৌঁছায়। এদিকে গৌড় গৌবিন্দ নিজস্ব চর দ্বারা শাহ্ জালালের সমাগম সংবাদ পেয়ে; নতুন এ দল যাতে ব্রহ্মপুত্র নদী পার না হতে পারেন, সে জন্য নদীর সমস্ত নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেয়। শাহ্ জালালের ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, তিনি তার শিষ্যদের নিয়ে বিনা বাধায় জায়নামাযের সাহায্যে ব্রহ্মপুত্র নদী অতিক্রম করেন।
🔷 সিলেটে প্রবেশ:
খ্রিস্টিয় দশম শতকে শ্রীহট্টভূমি লাউড়, জয়ন্তীয়া ও গৌড় নামে তিনটি স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। উক্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে গৌড় অন্যতম রাজ্য হিসেবে বিবেচিত ছিল। এ রাজ্যে প্রাচীন সীমা রেখা বর্তমান মৌলভীবাজার জেলা সহ হবিগঞ্জ জেলার কিয়দংশ নিয়ে বিস্তৃত থাকায় গৌড় রাজ্যের দক্ষিণ সীমাভূমি নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগণার পাশে রাজা গোবিন্দের চৌকি ছিল। শাহ্ জালাল তারসঙ্গীদের নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদী পার হয়ে প্রথমত সেখানে অবস্থান করেন। এখানে গৌড়ের সীমান্ত রক্ষীরা অগ্নিবাণ প্রয়োগ করে তাদেরকে প্রতিহত করতে চায়; কিন্তু মুসলমান সৈন্যের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। গোবিন্দ সমস্ত বিষয় অবগত হয়ে উপায়ান্তর না পেয়ে বরাক নদীতে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে। শাহ্ জালাল পূর্বের মতো জায়নামাজের সাহায্যে বরাক নদী পার হন। বরাক নদী পারাপারে বাহাদুরপুর হয়ে বর্তমান সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলায় ফতেহপুর নামক স্থানে রাত্রিযাপন করেন। উল্লিখিত তথ্য-সম্বলিত প্রাচীন গ্রন্থ তোয়ারিখে জালালীতে উল্লেখ আছেঃ
চৌকি নামে ছিল যেই পরগণা দিনারপুর
ছিলটের হর্দ্দ ছিল সাবেক মসুর
সেখানে আসিয়া তিনি পৌছিলা যখন
খবর পাইলা রাজা গৌবিন্দ তখন।
এপারে হজরত তার লস্কর সহিতে
আসিয়া পৌছিলা এক নদীর পারেতে
বরাক নামে নদী ছিল যে মসুর
যাহার নিকট গ্রাম নাম বাহাদুরপুর।
যখন পৌছিলা তিনি নদীর কেনার
নৌকা বিনা সে নদীও হইলেন পার।
সর্ব প্রকার কলাকৌশল অবলম্বন করে রাজা গৌড়গোবিন্দ যখন দেখলেন সকল প্রয়াসই বিফলে হচ্ছে, তখন শেষ চেষ্টা করার লক্ষে যাদুমন্ত্রসহ এক প্রকাণ্ড লৌহধনুক শাহ্ জালালের কাছে প্রেরণ করে; যার শর্ত ছিল যদি কেহ একা উক্ত ধনুকের জ্যা ছিন্ন করতে পারে তখন গোবিন্দ রাজ্য ছেড়ে চলে যাবে। শাহ্ জালাল তার দলের লোকদের ডেকে বললেন, যে ব্যক্তির সমস্ত জীবনে কখনও ফজরের নামাজ কাযা হয়নি বা বাদ পড়েনি একমাত্র সেই পারবে গোবিন্দের লৌহ ধনুক "জ্যা" করতে। অতপর মুসলিম সৈন্যদলের ভেতর অনুসন্ধান করে সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীনকে উপযুক্ত পাওয়া গেল এবং তিনিই ধনুক জ্যা করলেন।
🔷 সুরমা নদী পারাপার:
উত্তর-পূর্ব ভারতের বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হয়ে যায়। সিলেট বিভাগের বেষ্টনী হিসেবে ধর্তব্য এ নদীগুলো প্রাচীন কালে প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হত। বর্ষাকালের দৃশ্য প্রায় সাগরের মত দেখাতো। ঐতিহাসিক পর্যটক ইবন বতুতা সুরমা নদীকে নহরি আজরফ বলে আখ্যায়িত করেছেন । শাহ্ জালাল ফতেপুর হতে যাত্রা করে যখন সুরমা তীরে অবস্থান নিলেন, এ নদী পার হয়েই গৌড়ের রাজধানী। শাহ্ জালাল আউলিয়ার কেরামতি ও আলৌকিক বিভিন্ন ঘটনায় রাজা গোবিন্দ বীতশ্রদ্ধ হন। গোবিন্দ শক্রবাহিনীকে কিছু সময় ঠেকিয়ে রাখার জন্য সুরমা নদীতে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করেন। তা সত্ত্বেও শাহ্ জালাল নদী পার হন।
শাহ্‌ জালাল বিসমিল্লাহ্ বলে সকল মুরিদকে নিয়ে জায়নামাযে করে, অনায়াসে গেলেন চলে নদীর ওপারে।
গোবিন্দ গড়দুয়ারস্থিত রাজবাড়ি পরিত্যাগ করে পেচাগড়ের গুপ্তগিরি দুর্গে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তার আর কোন হদিস মেলেনি। শাহ্ জালাল তিন দিন সিলেটে অবস্থান করার পর, মিনারের টিলায় অবস্থিত রাজবাড়ি প্রথমে দখল নিলেন।
🔷 সিলেট প্রথম আজান ধ্বনি:
সিলেট শহরে সর্বপ্রথম হযরত শাহজালাল এর আদেশে সৈয়দ নাসিরুদ্দিন সিপাহসালার আজান দেন।
গৌড় গোবিন্দের আত্মগোপন:
মূল নিবন্ধ: গৌড় গোবিন্দ
গৌরগোবিন্দের মুসলিম নির্যাতনের কথা জানতে পেরে বাংলার তৎকালীন সুলতান ফিরজ শাহ গৌরগোবিন্দের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন, কিন্তু প্রথম অভিযান ব্যর্থ হলে ফিরজ শাহ সিকান্দার শাহের সহযোগিতা নিয়ে নাসির উদ্দীন নামের একজন সেনাপতিকে তার বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। এই সময় শাহজালাল তার সেনাবাহিনীসহ সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছিলেন; এই উভয় বাহিনী শাহজালালের নেতৃত্বে গৌরগোবিন্দের বিরুদ্ধে অভিযান করেন এই খবর শুনে গৌরগোবিন্দ পলায়ন করেন।
[উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে]

"নিস্তব্ধতাই যখন তাঁর সাথে কথোপকথনের ভাষা হয়ে ওঠে..." 🕯️  ু_আলী_শাহ_কালান্দার (রঃ) বলেন— "মানুষের ভিড় থেকে দূরে সরে গেলে...
06/05/2026

"নিস্তব্ধতাই যখন তাঁর সাথে কথোপকথনের ভাষা হয়ে ওঠে..." 🕯️

ু_আলী_শাহ_কালান্দার (রঃ) বলেন—

"মানুষের ভিড় থেকে দূরে সরে গেলে তবেই তাঁর ফিসফিসানি শোনা যায়।"

🕊️নিজের ভেতর ডুব দিলে দেখা যায়, যে একাকীত্বকে আমরা ভয় পাই, সেই নির্জনতা আসলে স্রষ্টার সাথে মিলনের সবচেয়ে পবিত্র মুহূর্ত। যখন দুনিয়ার সব দরজা বন্ধ হয়, তখনই আরশের জানালা খুলে যায়।

#হৃদয়ের_আলো #সুফি_দর্শন #নিভৃত_চারণ #মারেফাত

⚫শোক বার্তামাইজভাণ্ডারী ত্বরিকত জগতে আলেমগণের মাঝে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, আল্লামা শায়েস্তা খান আল-আজহারী, আল-মাইজভাণ্ডারী হু...
03/05/2026

⚫শোক বার্তা

মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকত জগতে আলেমগণের মাঝে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, আল্লামা শায়েস্তা খান আল-আজহারী, আল-মাইজভাণ্ডারী হুজুর ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা আজ (০৩-০৫-২০২৬ খ্রি., রবিবার) মাগরিব নামাজের পর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে ও দ্বিতীয় নামাজে জানাজা আগামীকাল (০৪-০৫-২০২৬ খ্রি., সোমবার) জোহরের নামাজের পর হজরত এয়াছিন শাহ পাবলিক স্কুল ও কলেজ মাঠে (এয়াছিন নগর, রাউজান, চট্টগ্রাম) অনুষ্ঠিত হবে।

❤️"যারা আধ্যাত্মিক পথে চলতে চায়, তাদের কম খাওয়া উচিত। পেট ভরে খাওয়া মানুষের জন্য বস্তুগত মোহ তৈরি করে। কেবল ইবাদতের শক্ত...
25/04/2026

❤️"যারা আধ্যাত্মিক পথে চলতে চায়, তাদের কম খাওয়া উচিত। পেট ভরে খাওয়া মানুষের জন্য বস্তুগত মোহ তৈরি করে। কেবল ইবাদতের শক্তি অর্জনের জন্যই আহার করা প্রয়োজন।"❤️

-খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী (রঃ)

"দেহের খোরাক যখন বেড়ে যায়, আত্মার খোরাক তখন কমে যায়। যারা আল্লাহর নৈকট্য বা আধ্যাত্মিক পথ বেছে নিতে চান, তাদের জন্য পরিমিত আহার এক অনিবার্য সুন্নাহ। অতিরিক্ত ভোজন হৃদয়কে কঠোর করে দেয় এবং ইবাদতে একাগ্রতা কেড়ে নেয়। "

প্রবাদ আছে: 'অতিরিক্ত আহার আত্মার অন্তরায়।'

ইবাদতের শক্তিটুকু সঞ্চয় করাই হোক আমাদের আহারের মূল লক্ষ্য। বস্তুগত মোহে অন্ধ না হয়ে আসুন আমরা রুহানি জগতের দিকে মনোনিবেশ করি। 🌿

🤲আমিন।
আসরা-এ-তৈয়্যবীয়া

শরীয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব নয়। নবীর (সা.) আদর্শ বাদ দিয়ে কেউ মারেফাত বা আধ্যাত্মিকতা অর্জন কর...
23/04/2026

শরীয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব নয়। নবীর (সা.) আদর্শ বাদ দিয়ে কেউ মারেফাত বা আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে পারে না।

— হযরত খাজা বাকী বিল্লাহ নকশবন্দী (রহ.) 🌷

পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকবর্তিকা ছাড়া আধ্যাত্মিকতার পথ চলা অন্ধকার। প্রকৃত মারেফাত হলো আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর প্রতিটি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
🤲 আমীন।

#নকশবন্দী #আস্রা_এ_তৈয়্যবীয়া

"রমেশ আজি বিনয় করি প্রেমের গুরু মাইজভাণ্ডারী, প্রাণ ছাড়িলে ছাড়তে পারি প্রেম ছাড়িব না''🕛 মহান ২৩শে চৈত্র। 🔵বাংলার জমিনে প...
06/04/2026

"রমেশ আজি বিনয় করি প্রেমের গুরু মাইজভাণ্ডারী,
প্রাণ ছাড়িলে ছাড়তে পারি প্রেম ছাড়িব না''

🕛 মহান ২৩শে চৈত্র।
🔵বাংলার জমিনে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা বিশ্ব সমাদৃত 'ত্বরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া'র অন্যতম সূফি সাধক গাউসুল আযম, কুতুবুল আকতাব, ইউসুফে ছানি, জামালে মুস্তফা, মওলায়ে রহমান হযরত মাওলানা শাহসূফি সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী (প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী)(ক.) কেবলা কাবা'র দয়ায় ধন্য হযরত রমেশ ফকির মাইজভাণ্ডারী (রহ.)'র ওফাত বার্ষিকী।

ফকির রমেশ শীল (১৮৭৭-১৯৬৭)

মহর্ষী রমেশ শীল যখন দেহত্যাগ করলেন, তখন তাঁর মৃতদেহ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় । রমেশ শীলের স্বজাতিরা তাঁর মৃত দেহকে পুড়িয়ে ফেলার দাবি জানায়; অপরদিকে তাঁর মুর্শিদের দরবারের অর্থাৎ মাইজভান্ডার শরীফের সাধুজনেরাও লাশ দাফনের প্রস্তাব জানায়। যেহেতু মহাসাধক রমেশ ছিলেন মাইজভান্ডার দরবারের শিষ্য । লাশ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই আলোচনা চলতে থাকে । আলোচনার এক পর্যায়ে মাইজভান্ডার দরবারের সূফিগণ প্রস্তাব জানায় যে: যেহেতু রমেশ আমাদের সঙ্গী, তাই তাঁর উপর আমাদেরও অধিকার রয়েছে; সুতরাং প্রথমে আমাদেরকে দাফন কার্য্য সম্পাদন করতে দাও, তারপর তোমরা যা করার করিও; যেহেতু আগে পুড়িয়ে ফেললে দাফন করার উপায় থাকবে না, কিন্তু দাফনের পর তোমাদের কাজ করার সুযোগ ঠিকই রয়ে যাবে।

হিন্দুরা এ শর্তে রাজি হলো। অতঃপর তাঁর মুর্শিদের পক্ষের লোকেরা দাফন কার্য সম্পন্ন করে দরবারে ফিরে গেলেন এবং হিন্দুদেরকে তাদের কাজ করার কথা বলে আসলেন । হিন্দুরা তাঁর লাশ পোড়াবার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন; কিন্তু কবর খুঁড়ে তারা দেখতে পেলো যে, কবরে একটি গোলাপ ফুল পড়ে আছে; কবরের ভিতরে তারা রমেশ শীলের দেহ খুঁজে পেলো না!
মরমী কবি ফকির রমেশ শীল মাইজভাণ্ডারী মওলায়ে রহমান হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) এর ফয়েজ প্রাপ্ত ছিলেন। প্রাথমিক ভাবে কবিয়াল হিসেবে বাংলায় পরিচিতি ছিল।

পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে প্রতিবেশী সারধা চরণ দে এর সাথে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গমন করেন যা রমেশ শীলের জীবন পরিবর্তন করেন। প্রথম সাক্ষাতে তিনি বাবাভাণ্ডারী নজরে পড়েন এবং বাবাজান কেবলা নিজ হাত মোবারকে তাকে তবারুক খাইয়ে দেন। এরপর শুরু হয় রমেশের মাইজভাণ্ডারী দর্শনে পথচলা। রমেশের নিজ উক্তি, তবারুক খাওয়ার পর কে যেন তাকে বলতেছেন রমেশ তুমি লিখ, মাইজভাণ্ডারীরা তোমার গান শুনতে চাই।এরপর বাবাজান কেবলার অশেষ রহমতে তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীর শানে অসংখ্য গান রচনা করেন যা মাইজভাণ্ডারী প্রচার প্রসারে ভূমিকা রাখতেছে।

তাঁর গানের মূল তত্ত্ব ছিল মুর্শিদ প্রেম এবং ত্বরিকার মহত্ত্ব। বাংলার মরমী জগতে তিনি ভাণ্ডারী গানের সফল গীতিকার। তাঁর লিখিত মাইজভাণ্ডারী কালাম সাধারন মানুষকে অতি সহজে মুর্শিদ প্রেম ধাবিত করত।

তিনি তাঁর লিখিত গানের জন্য অসংখ্য পুরস্কার পান যার মধ্যে একুশে পদক (মরোনোত্তর) অন্যতম। জাত-ধর্ম সনাতন হলেও দরবারের একটি ঘটনার পরিপেক্ষিতে বাবাজান কেবলা তাকে রুহানী ভাবে ১৯৪২ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কাউকালি বাবাজান কেবলা'র এক ভক্তের মাধ্যমে মুসলমান করেন। নাম পরিবর্তন না করে নামের পাশে #ফকির লাগাতে বলেন।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।🔷মহান ২২শে চৈত্র,৫ এপ্রিল ২০২৬ইং। রোজ: রবিবার।আওলাদে রাসুল (সাঃ), ইউসুফে সানি,জামালে মোস্তফা...
04/04/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
🔷মহান ২২শে চৈত্র,৫ এপ্রিল ২০২৬ইং।
রোজ: রবিবার।

আওলাদে রাসুল (সাঃ), ইউসুফে সানি,জামালে মোস্তফা,মাজহারে নূরে খোদা, হযরত গাউছুল আজম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী-ওয়াল হোসাইনী, আল-মাইজভান্ডারী (ক:);(প্রকাশ-বাবা ভান্ডারী কেবলা কাবা) এর ৯০ তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ।
মহান আল্লাহ তায়ালা এই মহান অলিয়ে পাকের উছিলায় আমাদের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন।সকল নেক আশা পূরণ করুন।আমিন।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।🕛মহান ৪ চৈত্র, ১৮ মার্চ ২০২৬ ইং। 🔷বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকায়ে ...
18/03/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
🕛মহান ৪ চৈত্র, ১৮ মার্চ ২০২৬ ইং।
🔷বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক আওলাদে রাসুল (দ.) গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)'র খালাতো ভাই, সহপাঠি, পীর ভাই, ফয়েজপ্রাপ্ত এবং তাঁর পবিত্র জানাযা শরিফের ইমাম মুফতি হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ মছিহ্ উল্লাহ্ মির্জাপুরী (ক.)'র মহান বার্ষিক উরুশ শরিফ।

Address

পীর বাড়ি, ভরাসার, বুড়িচং
Comilla
3500

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তৈয়্যবীয়া হেদায়েতীয়া যুব ফোরাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share