20/08/2026
দেশাচার, কুলাচার ও শাস্ত্রের মধ্যে যদি মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব হয়: সেই দ্বন্দ্বের সঠিক সমাধান কী? দেশাচার, কুলাচার আর শাস্ত্রের মধ্যে মতের অমিল হলে আমরা কোনটা মানবো?
আমাদের সমাজে অনেক আচার-অনুষ্ঠান আছে, যেগুলো আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। বাবা-মা, দাদা-দাদি, পূর্বপুরুষেরা যেভাবে করে এসেছেন, আমরাও অনেক সময় সেভাবেই করে থাকি। এগুলো আমাদের দেশাচার, কুলাচার বা লোকাচারের অংশ হয়ে গেছে।
কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়।
কোনো কুলাচার বা দেশাচার যদি শাস্ত্রের কথার সঙ্গে না মেলে, তখন কী করা উচিত?
আমার মনে হয়, শুধু এই কারণে কোনো বিষয়কে ধর্মসম্মত বলা ঠিক নয় যে, আমাদের বংশে এভাবেই চলে আসছে”।
কারণ ধর্মের ক্ষেত্রে শাস্ত্রের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন—
তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবস্থিতৌ।
📖 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৬.২৪
অর্থাৎ কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শাস্ত্রকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে আমাদের সব দেশাচার বা কুলাচার ভুল। বরং অনেক কুলাচার ও দেশাচার শাস্ত্রসম্মত এবং সেগুলো আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সুন্দর অংশ।
কিন্তু কোনো একটি প্রথা যদি সত্যিই শাস্ত্রবিরোধী হয়, তাহলে শুধু “পুর্বপুরুষেরা করে গেছেন” বলে সেটাকে ধর্মের অপরিহার্য বিধান বলা ঠিক হবে না।
আবার অনেক সময় আমরা কোনো শাস্ত্রের একটি কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। এটাও ঠিক নয়। কোনো বিষয় শাস্ত্রবিরোধী কি না, সেটা বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পূর্ণ বক্তব্য, প্রসঙ্গ, দেশ-কাল-পাত্র এবং আচার্যদের ব্যাখ্যাও দেখতে হবে।
তাই আমার কাছে মনে হয়, সঠিক পথ হলো:
👉 প্রথমে শাস্ত্রের বক্তব্য জানা।
👉 তারপর প্রচলিত দেশাচার ও কুলাচারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।
👉 দ্বন্দ্ব থাকলে বিষয়টির প্রকৃত শাস্ত্রীয় অর্থ যাচাই করা।
👉 শুধু আবেগ বা বংশপরম্পরার দোহাই দিয়ে কোনো প্রথাকে ধর্ম বলে দাবি না করা।
শেষ কথা হলো, দেশাচার ও কুলাচারকে সম্মান করব, কিন্তু ধর্মের প্রকৃত সিদ্ধান্ত জানার জন্য শাস্ত্রের আশ্রয় নেব।
কারণ “আমাদের এলাকায় এমন হয়” আর “শাস্ত্রে এমন বলা হয়েছে” এই দুটি কথা সবসময় এক নয়।
ধর্মকে জানার চেষ্টা করি, শুধু প্রচলিত বলে পালন না করে শাস্ত্রের আলোকে বিচার করি।