27/07/2026
এক ব্যক্তি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গেল।
শরীয়াহ সম্মত দেখাশোনার সময় মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করল,
— আপনি কুরআনের কতটা মুখস্থ করেছেন?
ছেলেটি বলল, — আমি তেমন কিছু মুখস্থ করতে পারিনি, কিন্তু আমি সত্যিই একজন সৎ বান্দা হতে চাই।
তারপর ছেলেটি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল,
— আর আপনি?
মেয়েটি বলল, — আমি ‘জুজ আম্মা (সূরা আন-নাবা থেকে আন-নাস পর্যন্ত) ’ মুখস্থ করেছি।
এবং মেয়েটি প্রস্তাব মেনে নিল, কারণ সে অনুভব করেছিল যে ছেলেটি সত্যিই একজন সৎ মানুষ।
বিয়ের পর মেয়েটি স্বামীকে বলল,— তুমি কি আমাকে পুরো কোরআন মুখস্থ করিয়ে দেবে?
স্বামী উত্তর দিল,
— সমস্যা নেই, আমরা একসাথে মুখস্থ করি।
তারা সূরা মারিয়ম দিয়ে মুখস্থ শুরু করল।
এরপর একে একে সূরাগুলো মুখস্থ করতে করতে শেষ পর্যন্ত সে স্বামীর সামনে পুরো কোরআন খতম করল।
তারা দুজনেই হিফজ সম্পন্ন করল এবং ইজাজাহও (সার্টিফিকেট) লাভ করল।
পরে মেয়েটি প্রস্তাব দিল,
— "আমরা কি এবার সহীহ বুখারীর হাদিস মুখস্থ শুরু করতে পারি?"
একদিন স্ত্রীর বাবার বাড়ি সফরে গিয়ে স্বামী বলল,
— আলহামদুলিল্লাহ, আপনার মেয়ে পুরো কুরআন মুখস্থ করেছে।
এ কথা শুনে শ্বশুর অবাক হলেন।
তিনি মেয়ের ঘর থেকে অনেকগুলো কাগজপত্র নিয়ে এসে জামাতার সামনে রাখলেন।
আর স্বামী তো হতবাক!
স্ত্রী আসলে বিয়ের আগেই পুরো কুরআন এবং কুতুবুস সিত্তাহ (বুখারী,মুসলিম, নাসাঈ,আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ) মুখস্থ করেছিল।
“সুবহানাল্লাহ! স্বামীর জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে সে শুরুতেই তাকে লজ্জায় ফেলেনি। বরং যখন অনুভব করল সে একজন সৎ মানুষ, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে নিজে যেমন মুখস্থ করেছে, তেমনি তাকেও মুখস্থ করতে সাহায্য করেছে।”
এবং যখন বলেছিল, “আমি জুজ আম্মা (৩০ তম পারা) মুখস্থ করেছি,” তখন মিথ্যা বলেনি — কারণ বাকি অংশ মুখস্থের কথা সে অস্বীকারও করেনি।
হে আল্লাহ! যদি আমরা সৎ না হই, তবে আমাদের এমন সৎ জীবনসঙ্গী দিন, যারা আমাদেরকে আপনার নিকটবর্তী করবে। আর আমাদেরকেও সৎ বানিয়ে দাও।