29/04/2026
বর্তমানে ব্লগিং ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আহলে সুন্নাতের ঐতিহ্যবাহী দরবারসমূহকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করছে। অথচ বাগদাদ শরীফ, আজমীর শরীফ, কিছৌছা শরীফ, দাতা হুজবেরী দরবার এবং মাইজভাণ্ডার শরীফ—এগুলো কেবল দরবার নয়, বরং বিশ্ব তাসাউফের গুরুত্বপূর্ণ মারকায।
শত শত বছর ধরে এই দরবারগুলোতে ওরশ শরীফ পালিত হয়ে আসছে গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশে। লাখো মানুষের অংশগ্রহণ, ইবাদত-বন্দেগী, জিকির-আযকার, সামা মাহফীল,লঙ্গরখানা,দাওয়াত ও বিভিন্ন দ্বীনি কর্মসূচির মাধ্যমে এগুলো পরিচালিত হয় এক খোদায়ী নিয়মে কারণ বিশ্বে এত বড় বড় সমাবেশ খুব কম জায়গায়ই হয় তাই যতই প্রস্তুতি বা ব্যবস্থাপনা করা হোক না কেন যারা যায় তারা জানে এই সমাবেশ সরাসরি আল্লাহ রহমতের চাদরে যদি পরিচালিত না হয় এত বড় সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। আজকের নেট দুনিয়ায় এসব ওরশ শরীফের অসংখ্য ভিডিও দেখলে সহজেই বোঝা যায়—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দরবারগুলো অবস্থান হলেও ওরশ শরীফ গুলোর কার্যক্রম এক অভিন্ন আধ্যাত্মিক ধারা বহন করছে।
এখন প্রশ্ন হলো—এত দীর্ঘ ঐতিহ্য ও গ্রহণযোগ্যতার পরও কেউ যদি নতুন করে এসব ওরশ শরীফকে ইনিয়ে বিনিয়ে “কিভাবে আয়োজন করতে হবে” তা শেখাতে আসে, তাহলে সেটি নিছক অজ্ঞতা নয়, বরং বেয়াদবীর পর্যায়ে পড়ে।
হ্যাঁ, এটা সত্য—কিছু ছোট বা স্থানীয় পর্যায়ের আয়োজন, যেখানে কোনো স্বীকৃত দরবারের তত্ত্বাবধান নেই, সেখানে যদি অনিয়ম হয়, তা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা বা সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু সেই অজুহাতে ঐতিহ্যবাহী, স্বীকৃত ও শতাব্দীপ্রাচীন সব ওরশ শরীফকে একসাথে প্রশ্নবিদ্ধ করা—এটা কখনোই ন্যায্য নয়।
👉 এমন সমালোচনা আসলে বিদ্বেষ, হিংসা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়।
আমাদের উচিত—ঐতিহ্যকে সম্মান করা, সত্যকে যাচাই করা এবং অযথা বিভাজন সৃষ্টি না করা।