Risshō Kōsei-kai Youth Bangladesh

Risshō Kōsei-kai Youth Bangladesh The Gift of Life,
The Power to Live.. The Gift of Life, The Power to live !

RISSHO KOSEI KAI YOUTH BANGLADESH IS A TOP RANKED AND ORGANISED BUDDHIST YOUTH COLLABORATION IN THE WORLD WHICH WORKS WITH THE MAIN SPIRIT OF BUDDHISM AND PRINCIPLES OF SHAKYOMUNI BUDDHA. HERE THE MEMBERS PRACTISE BODHISATTVA LIFE BY IMPLEMENTING THOSE PRINCIPLES IN THEMSELVES.

10/02/2026

১০।『ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তোলা』

প্রতি বছরই দেখা যায়, পেশাদার বেসবলের পেন্যান্ট-রেস শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য থাকা দল আর লক্ষ্যহীন দলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লক্ষ্য থাকা দলগুলো অবিশ্বাস্য রকমের অসাধারণ খেলা একের পর এক দেখায়, আবার এমন মুহূর্তে—যখন এই এক বলেই হার নিশ্চিত—সেখান থেকে জন্ম নেয় ভাগ্য বদলে দেওয়া, শেষ মুহূর্তের সায়োনারা(কর অথবা মরো)-এর হোম রান।

এখানে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ বলি। কাজ করা পিঁপড়াদের ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পিঁপড়াদের মধ্যেও পরিশ্রমী পিঁপড়া আছে, আবার অলস পিঁপড়াও আছে। অলস পিঁপড়ারা চলাফেরা করলেও আসলে কোনো কাজ করে না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—যখন সেই অলস পিঁপড়ার সংখ্যা অর্ধেকে কমিয়ে দেওয়া হয়, যেই কাজ তারা অলসভাবে করছিল সেটি করতে তখন তারাই পরিশ্রমী পিঁপড়ায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।

মানুষের ক্ষেত্রেও শুরু থেকেই কেউ পরিশ্রমী, কেউ অলস—এমন হয় না। মানুষকে বদলে দেয় মূলত সে যে পরিবেশে অবস্থান করে, সেই পরিবেশের প্রভাব। এই বিষয়টি আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

একজন অভিভাবক যখন নিজের সন্তানকে দেখেন, অথবা একজন নেতা যখন তাঁর অধীনস্থদের দেখেন, তখন তাঁদের প্রথমেই আত্মসমালোচনা করা দরকার—আমি কি প্রত্যেক মানুষের ভেতরের ইচ্ছা ও উদ্যমকে জাগিয়ে তোলার মতো পরিবেশ দিতে পেরেছি?

— নিওয়ানো নিক্কিও
『প্রতিষ্ঠাতার অনুভব』
খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৫২–১৫৩ থেকে

10/02/2026

৯।『দোলনায় নিজেকে সঁপে দেওয়া』

যেসব মানুষ নৌকায় উঠলে সহজেই বমিভাব অনুভব করে, তাদের লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে তারা নৌকার দোলনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। শরীর শক্ত করে ধরে রাখে, নৌকা ডানদিকে হেলে গেলে তারা নিজে বামদিকে ঝুঁকে পড়ে, আবার বামদিকে হেলে গেলে ডানদিকে ঝোঁকে। এভাবে সবসময় বিপরীত দিকে শরীর নাড়ানোর ফলে দোলন দ্বিগুণ হয়ে যায়।

আমি নৌবাহিনীতে ছিলাম, তাই জাহাজে অভ্যস্ত। নৌকায় অসুস্থ না হওয়ার কৌশল হলো—নৌকার দোলনায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সঁপে দেওয়া। যত বেশি দোলায়, তত বেশি মনে মনে বলা—“আরও দোলাও!”—এই মনোভাব রাখলে একেবারেই নিজেকে স্বাভাবিক রাখা যায়।

জীবনও ঠিক তেমনই। আমরা যখন “আমি এভাবে করব, ওভাবে করব” বলে নিজের অহং (ইগো) জাহির করে কৌশল খাটাতে যাই, তখনই বিষয়গুলো জটিল হয়ে ওঠে।
পরিকল্পনা ও সময়সূচি ঠিক করার পর, অপ্রয়োজনীয় চালাকি ত্যাগ করে সবকিছু সর্বদা বিরাজমান বুদ্ধের ওপর সঁপে দিয়ে, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা—এটাই আসল পথ। নিঃস্বার্থভাবে সর্বশক্তি প্রয়োগ করলে মনে কোনো দ্বিধা থাকে না। তখন অশুভ শক্তির দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে না।

যখন সবাই নৌকায় অসুস্থ হয়ে মুখ ফ্যাকাশে করে বসে থাকে, তখন যদি একজন শান্ত ও স্থির মানুষ থাকে, তাতেই সবাই নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। সবার সঙ্গে একসাথে ফ্যাকাশে মুখ করে থাকলে তা চলে না। ধর্মজীবী মানুষদের উচিত সমাজে এমন ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হওয়া।

—নিওয়ানো নিক্কিও
『প্রতিষ্ঠাতার অনুভব』
খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৪৮–১৪৯ থেকে

10/02/2026

৮। উজ্জ্বল মুখ

মানুষের হৃদয়কে আকর্ষণ করতে হলে, প্রথমে নিজের মধ্যে গভীর অনুভূতি বা অনুপ্রেরণা থাকতে হয়।

বুদ্ধ শাক্যমুনি যখন বোধিলাভ করলেন, তাঁর প্রথম ধর্মদেশনার জন্য তিনি নির্বাচন করেছিলেন সেই পাঁচ ভিক্ষুকে, যাদের সঙ্গে তিনি আগে কঠোর সাধনা করেছিলেন।কিন্তু ওই পাঁচ ভিক্ষু মনে করেছিলেন, শাক্যমুনি কঠোর তপস্যা ছেড়ে দিয়ে বিপথগামী হয়েছেন, তাই তারা তাঁর কথা শুনতে চাননি। তখন বুদ্ধ তাদের উদ্দেশে বললেন, “আমার মুখ কি কখনও তোমরা এভাবে জ্যোতির্ময় হতে দেখেছ?” বুদ্ধের সেই দীপ্তিময় রূপে মুগ্ধ হয়ে, তাঁর উপদেশ শুনে যে ভিক্ষু আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর নাম ছিল অশ্বজিৎ (আস্সজি)।

আবার অশ্বজিৎ-এর সেই উচ্ছ্বসিত চেহারা দেখে শারিপুত্র সঙ্গে সঙ্গেই বুদ্ধের শিষ্য হয়ে গিয়েছিলেন । সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তির পথ শুনে যে আনন্দ, তা অশ্বজিতের সমগ্র সত্তায় ভরে উঠেছিল।
আমরাও যখন মনে করি, “এত কৃতজ্ঞতা, এত আনন্দ—মাথা নত না করে পারি না,” তখন যে কাউকেই সেই অনুভূতির কথা বলতে ইচ্ছে করে।

যখন মানুষের সারা দেহে শক্তিতে ভরে ওঠে, তখন নাকি শরীর থেকে এক ধরনের আলো বিচ্ছুরিত হয়, সাম্প্রতিক বিজ্ঞান নাকি সেই আলোর ছবিও তুলতে পেরেছে।

সেটাই হল প্রকৃত ‘প্রভামণ্ডল’। আমাদেরও এমনভাবে বাঁচতে ইচ্ছে করে, যাতে আমাদের মধ্য থেকেও সেই প্রভা বিচ্ছুরিত হয়।

— নিক্কিও নিওয়ানো, কাইসো জুইকান (প্রতিষ্ঠাতার ভাবনা), খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৯৪–১৯৫ থেকে।

10/02/2026

৭।মানুষের সাথে মানুষের সংলাপ(১ফেব্রুয়ারী)

আজ ধর্মের সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গভীরভাবে উত্থাপিত হচ্ছে, তা হলো—ধর্ম কি মানুষে-মানুষে প্রকৃত সংলাপকে সম্ভব করে তুলতে পারে?

ধর্ম বৈঠক (হোজা) হলো সেই সংলাপের ক্ষেত্র। যে কোনো সমস্যাই হোক না কেন, যদি কেউ কিছু বলতে চায় বা কিছু জানতে চায়, তবে তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত শোনা, এবং সে যেন হৃদয় থেকে বলতে পারে, “আমি বুঝতে পেরেছি”—সেই পর্যায় পর্যন্ত তার সঙ্গে কথা বলা। এটাই হল হোজা।

অন্যের কথা মাত্র এক-দু’টি শব্দ শুনেই যদি আমরা মনে করি, “এর পরের কথা তো আর শোনার দরকার নেই, আমি সবই বুঝে গেছি”—এই রকম মনোভাব থাকলে, মানুষের মধ্যে সত্যিকারের সংলাপ কখনোই গড়ে উঠে না।

ভগবান শাক্যমুনি বুদ্ধের কাছে শিষ্যরা যে কোনো প্রশ্নই করুক না কেন, তিনি শুধুমাত্র মুখের কথার দুএকটি কথায় নয় “সাধু, সাধু”, বলে গভীরভাবে প্রশংসা করতেন। তারপর তিনি বলতেন, “হে সজ্জন…”—বলে ধীরে ধীরে, স্নেহভরে তাদের সঙ্গে কথা বলতেন।
তাই বুদ্ধের সঙ্গে শুধু একবার সাক্ষাৎ করলেই, যে কোনো মানুষের হৃদয় মুহূর্তেই নির্মল ও প্রশান্ত হয়ে যেত।

প্রত্যেক মানুষই নিজ নিজ মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে—এই সত্যটি হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে ধারণ না করলে, এবং অপর মানুষকে অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা করতে না পারলে, মানুষে-মানুষে প্রকৃত সংলাপ কখনোই সম্ভব নয়।

নিওয়ানো নিক্কিও রচিত
『কাইসো জুইকান』 (প্রতিষ্ঠাতার অনুভব)
৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪২–১৪৩ থেকে

10/02/2026

৬।「ভালোবাসা পেতে চাইলে, আগে ভালোবাসো」(৩১ই জানুয়ারি)

কে-ই বা চায় না মানুষের ভালোবাসা পেতে, আর কে-ই বা চায় ঘৃণিত হতে? বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই আকাঙ্ক্ষা আরও প্রবল। সেই কারণেই অনেক সময় তারা উল্টো মনে করে বসে যে, “আমি বুঝি সবার কাছেই অপছন্দের মানুষ”—এবং এ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ভোগে।

মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার কৌশল আসলে খুবই সহজ। মানুষ স্বভাবতই তাকে ভালোবাসে, যে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। তাই যদি আপনি চান মানুষ আপনাকে পছন্দ করুক, তাহলে আগে আপনিই মানুষকে ভালোবাসুন।

যারা মানুষের অপছন্দের হয়ে ওঠে, তাদের একটু লক্ষ্য করে দেখুন। তারা সব সময় নিজের কথাই বলে যায়। নিজের ওপর আস্থা না থাকার কারণে, তারা কেবল নিজেকে রক্ষা করতেই মরিয়া হয়ে ওঠে।

প্রথমেই ভেঙে ফেলতে হবে এই দেয়াল—“ও মানুষটা আমাকে অপছন্দ করে”—এই একতরফা ধারণার দেয়াল। রূঢ় আচরণের বদলে যদি আপনি হাসিমুখে একটুখানি কথা বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, খারাপ মনে করা সেই মানুষটি আপনার কল্পনার সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

একটি ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে,
“দান করতে গিয়ে দেহ ও মনে কোনো ক্লান্তি আসেনি।”
অন্যের ভাবনা কী, তা নিয়ে চিন্তা না করে—নিজের দিক থেকেই দেওয়া, নিজের দিক থেকেই ভালোবাসা শুরু করলেই হয়।

নিওয়ানো নিক্কিও রচিত
『কাইসো জুইকান』 (প্রতিষ্ঠাতার অনুভব)
৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪০–১৪১ থেকে

30/01/2026

৫। কারণ ও উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরতা দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা
(৩০ই জানুয়ারি)

আমরা কি প্রায়ই আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোর কেবল উপরের দিকটাই দেখে, নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি না? বাস্তবে এমন ঘটনা যে খুব কম নয়, তা বলা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিশু যদি কথায় নিজের অনুভূতি ভালোভাবে প্রকাশ করতে না-ও পারে, তবু তার মনে কত চিন্তা চলছে, কত অনুভূতি তার বুকে উথাল-পাথাল করছে—তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। যদি আমরা কারও মনের গভীর পর্যন্ত দেখতে সক্ষম হই, তবে কারো করা কোন বড় ভুল শুধু ভুল হিসেবে গ্রহণ করা বিরত থাকতে পারি, এবং সব জানার পর তার প্রতি একধরনের সহানুভূতিও কাজ করে।

‘লে মিজ়েরাব্ল’ নামে বিখ্যাত উপন্যাসের নায়ক জঁ ভলজাঁর-এর কথা আপনারা নিশ্চয়ই জানেন। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি এক রাতের আশ্রয় পেয়েছিলেন এক বিশপের বাড়িতে। কিন্তু তিনি সেখান থেকে রুপার বাসনপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। তবুও মানুষ তার প্রতি সহানুভূতি বোধ করে, কারণ আমরা জানি—তিনি কেন এমন কাজ করেছিলেন, তার অন্তরের অবস্থা কী ছিল।

কেন এমন হলো, তার কারণগুলো খুঁটিয়ে জানা—এটাই কারণ ও উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরতা দেখার সাথে সম্পর্কিত। এই বিষয়টি দেখার দৃষ্টি যদি আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে, তবে “লোকটি রূঢ়”, “সব সময় অন্ধকারমুখো”—এমন বাহ্যিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে কাউকে বিচার করা থেকে বিরত থাকতে পারবো। বরং আমরা না বলে থাকতে পারবো না যে—এই দিকটা ঠিক করে হয়তো তিনি যেন সুখী হতে পারেন।

নিওয়ানো নিক্কিও রচিত
『কাইসো জুইকান』 সপ্তম খণ্ড
(পৃষ্ঠা ১৩২–১৩৩) থেকে উদ্ধৃত

29/01/2026

৪। কথার চেয়েও শক্তিশালী কিছু (২৯ই জানুয়ারি)

নিজের ভাবনা ও অনুভূতি অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে ভাষা সত্যিই খুবই সুবিধাজনক একটি মাধ্যম। সে কারণে আমরা অনেক সময় অতিরিক্ত ভাবে কথার ওপর নির্ভর করে বিচার করি। সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রেও মায়েরা প্রায়ই খুব বেশি কথা বলে ফেলেন। কিন্তু তোব প্রাণী উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক নিশিয়ামা তোশিও বলেন,“প্রাণীদের মায়েদের কাছ থেকে আমাদের শেখা উচিত।”

প্রাণীদের মায়েদের কথা ধরুন—যেমন বানরের মা। তারা দলের মধ্যে খেলতে থাকা সন্তানদের নীরবে পর্যবেক্ষণ করে। শিশু যদি কোথাও আঘাত পায়, তখন সে মায়ের কাছে ছুটে আসে। কিন্তু মা তখন
“কি হয়েছে?”
“কোথায় লেগেছে?”
—এই ধরনের প্রশ্ন করে বিরক্ত করেন না।
তিনি চুপচাপ শিশুটিকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরেন। তাতেও যদি শিশুর কান্না না থামে, তবে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন।
শুধু এটুকুই যথেষ্ট—এরপর শিশুটি আবার আনন্দের সঙ্গে সঙ্গীদের কাছে ফিরে যায়।

শিশুরা বাবা-মায়ের কথা সব সময় শোনে না, কিন্তু বাবা-মা যা করেন, ঠিক সেটাই অনুকরণ করে। যতই বেশি কথা শোনাতে চাই না কেন, তাতে মনের ভাব যে তার কাছে পৌঁছাবেই—এমন নয়। বরং কখনো কখনো ভাষাই হৃদয়ের আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি করার, এক ধরনের এবোনাইট (অন্তরক) হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষয়টি যেন আমরা ভুলে না যাই।

— নিওয়ানো নিক্কিও রচিত
『開祖随感(কাইসো জুইকান)』
৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২০–১২১ থেকে

28/01/2026

3.আজকের বাণী

১/২৮ বুধবার

「গ্রাহকের অভিযোগ」

[বেশির ভাগ মানুষই বা আসলে কী চাইছে—তা আর একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না] এই বলে হতাশ হয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছেন—এমন মানুষের সংখ্যা নাকি কম নয়।

ব্যবসার জগতেও শোনা যায়, “কী পণ্য বিক্রি হবে, তা বোঝা যাচ্ছে না।” তাই একের পর এক নতুন পণ্য বাজারে আনা হচ্ছে, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে খুব অল্প কিছুই আশানুরুপ বিক্রি হচ্চছে। তবুও, এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা ধারাবাহিকভাবে হিট পণ্য তৈরি করছে। সেই সব প্রতিষ্ঠানকে খতিয়ে দেখলে একটি共通点(সাধারণ বৈশিষ্ট্য)পাওয়া যায়।

প্রথমত, তারা সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের অভিযোগ শোনার ওপর গুরুত্ব দেয়।দ্বিতীয়ত, পণ্য তৈরির পদ্ধতি থেকে শুরু করে বিক্রির কৌশল পর্যন্ত—সবকিছু তারা সম্পূর্ণভাবে দেখে ও পর্যবেক্ষণ করে।

প্রতিটি গ্রাহক নিজের মতো করে নানা কথা বলেন। সেই অভিযোগগুলো মন দিয়ে শোনা সহজ নয়, এর জন্য ধৈর্য দরকার। কিন্তু এইভাবে নিজেকে “নিচের আসনে” রেখে(下座行)অভিযোগ শোনার চর্চা চালিয়ে গেলে, ধীরে ধীরে গ্রাহকের হৃদয় ও মনও বোঝতে সক্ষম হওয়া যায়। আর সেখান থেকেই এমন পণ্য জন্ম নেয়, যা গ্রাহক সন্তুষ্ট হয়ে কিনতে চান। এটাই তো ঠিক সেই কথা—
「見聞触知(কেনমন সকুচি)、皆菩提(মিনা বোদাই)に近づく」,
অর্থাৎ দেখা, শোনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সবাই বোধিলাভের দিকে এগিয়ে যায়—এর বাস্তব উদাহরণ নয় কি?

মানুষ কী চায়, তা শুধু নিজের মাথার ভেতর ভেবে কখনোই বোঝা সম্ভব নয়। মানুষের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে আমাদের মানুষ থেকে শেখা ছাড়া অন্য কোন গতি নেই।

— নিওয়ানো নিক্কিও রচিত
『開祖随感(কাইসো জুইকান)』
৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৮–১১৯ থেকে

27/01/2026

২। উদ্ধারের রূপ গঠন করা (২৭ই জানুয়ারি)

সকাল ও সন্ধ্যার প্রার্থনা পাঠ বা অর্ঘ্যদান আমরা যখন প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করতে পারি, তখন একদিনও যদি তা বাদ পড়ে যায়, মনে হয় যেন কিছু ফেলে এসেছি, কিছু একটা মিস হয়ে গেলো—মনটা অস্বস্তিতে ভরে ওঠে। এমন অবস্থায় প্রতিদিন প্রার্থনা না করে থাকা যেন আর সম্ভব হয় না। শুনতে এটি খুব সাধারণ বিষয় মনে হলেও, আসলে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সকাল ও সন্ধ্যার এই প্রার্থনা বা অর্ঘ্যদানকে বলা হয় “ওৎসুতোমে(勤め)”, অর্থাৎ নিয়মিত করা একটি সাধনা বা কর্তব্য। যেমন যারা কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে যাবেন, সারাদিন কাজ করে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফিরবেন। সব সময় ঘড়ির সময় অনুযায়ী না চললেই হয় না।

ঠিক তেমনই, অর্ঘ্যদানের প্রার্থনা পাঠের কার্যাদিও এলোমেলো সময়ে না করে, নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে পালন করলে, তার প্রভাবে সকালে ওঠার সময়, কাজ করার সময়, বিশ্রামের সময়—এইভাবে সারাদিনের জীবনধারা ধীরে ধীরে সুসংগঠিত হয়ে ওঠে।

জীবন যখন গুছিয়ে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু আমরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারি এবং সহজ-সরল মনে কাজ করতে সক্ষম হই। এর ফলে নিজের অজান্তেই আমরা বুদ্ধের দেশিত পথের মহার্থ্য গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারি।
এইভাবে প্রতিদিনের প্রার্থনা পাঠ বা অর্ঘ্যদানের মাধ্যমে, আমরা নিজেরাই নিজেদের উদ্ধারের একটি রূপ গড়ে তুলতে পারি।

庭野日敬 রচিত 『開祖随感』 (কাইসো জুইকান), সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১০–১১১ থেকে

25/01/2026

1. 他を選り好みしない
(অন্যকে শুধুমাত্র পক্ষপাত মুলক বিচার না করা) (২৬ই জানুয়ারি)

নিজের সঙ্গে মতের অমিল আছে বা নিজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়—এমন মানুষের সঙ্গে কেবল জোর করে সহ্য করে চললে, শেষ পর্যন্ত আমাদের মন ছোট হয়ে যায়, জীবনও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। একে বলা যায় “সহ্য করা উচিত নয় এমন সহ্য”—এইভাবে জোর করে ধৈর্য ধরলে, কোথাও না কোথাও তা ভেঙে পড়বেই।

এই পৃথিবী নানা ধরনের স্বভাব ও চরিত্রের মানুষের সমষ্টিতে গঠিত। এবং বিভিন্ন স্বভাবের মানুষ থাকার কারণেই, আমরা আমাদের নিজের প্রকৃত মূল্য ও শক্তি সম্পর্কে ধারণা পাই। যেমন, কংক্রিট তৈরি করতে হলে শুধু সিমেন্ট দিয়ে তা সম্ভব হয় না। সেখানে বালি যোগ করতে হয়, পাথরকুচি যোগ করতে হয়, আর জল মিশিয়ে সবকিছু একত্র করলে তবেই সেই শক্তিশালী কংক্রিটের জন্ম হয়।

নিজের সঙ্গে মানায় না বলে যদি কাউকে শত্রু মনে করে আলাদা হয়ে থাকি বা আলাদা করে রাখি, তাহলে আমাদের নিজের মূল্যও হারিয়ে যায়। 和合僧(ওয়াগো-সো, ঐক্যবদ্ধ সংঘ) গড়ে তুলতে হলে, প্রথমেই আমাদের মনে এই ভাব গড়ে তুলতে হবে—“আমি অন্যকে বেছে বেছে গ্রহণ বা বর্জন করব না।” এই একটিমাত্র দৃঢ় সংকল্পই, নিজ নিজ স্বকীয়তা নিয়ে থাকা মানুষদের একত্র করে ওয়াগো-সোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে।
দাম্পত্যের সৌহার্দ্য, প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও ঐক্য, এমনকি বিশ্বের শান্তি—সব কিছুর মূল নীতি একটিই।

—庭野日敬著『開祖随感』第7巻 108~109頁より

নমস্কার,রিস্সো কোসেই-কাই বাংলাদেশ-এর সকল সদস্যদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। গতকাল ১৪ই নভেম্বর  ২০২৫,রোজ শুক্রবা...
15/11/2025

নমস্কার,
রিস্সো কোসেই-কাই বাংলাদেশ-এর সকল সদস্যদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
গতকাল ১৪ই নভেম্বর ২০২৫,রোজ শুক্রবার সকাল ১০:০০টা, রিস্সো কোসেই-কাই বাংলাদেশের লালখান বাজার টেম্পলে ইয়ুথদের আয়োজনে সাপ্তাহিক প্রার্থনা ও পূর্বনির্ধারিত ষষ্ট ধর্ম ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে দস্যি এর দায়িত্ব পালন করেন বাবু সৌরভ বড়ুয়া।
ওয়াকি দস্যি কানে এর দায়িত্ব পালন করেন
জিতু বড়ুয়া।
ওয়াকি দস্যি মকসু এর দায়িত্ব পালন করেন সুবর্ণ বড়ুয়া
সঞ্চালনায় ছিলেন বাবু সজীব চৌধুরী ।
আপনাদের সবার আন্তরিক অংশগ্রহণেই এই ধর্মীয় কার্যক্রমটি সুন্দর ও সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে।
ধর্মীয় ক্লাস নিয়ে সহযোগিতা করেছেন বাবু দেবপ্রিয় বড়ুয়া রিমন।
এই পূর্ণাঙ্গ প্রার্থনা ও ধর্ম ক্লাস অনুষ্টানে বক্তব্য রেখেছেন বাবু সৌমেন বড়ুয়া, শ্রদ্ধেয় কেউকাইচো মরি মাসানোবো সান এবং বাবু পিয়াস বড়ুয়া এর ধন্যবাদ জ্ঞাপন এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।
সকলের মঙ্গল প্রত্যাশায়
রিস্সো কোসেই-কাই, বাংলাদেশ ইয়ুথগ্রুপ

Address

85/A Chandmari Road, Lal-khan Bazar
Chittagong
4000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Risshō Kōsei-kai Youth Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Risshō Kōsei-kai Youth Bangladesh:

Share