10/02/2026
১০।『ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তোলা』
প্রতি বছরই দেখা যায়, পেশাদার বেসবলের পেন্যান্ট-রেস শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য থাকা দল আর লক্ষ্যহীন দলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লক্ষ্য থাকা দলগুলো অবিশ্বাস্য রকমের অসাধারণ খেলা একের পর এক দেখায়, আবার এমন মুহূর্তে—যখন এই এক বলেই হার নিশ্চিত—সেখান থেকে জন্ম নেয় ভাগ্য বদলে দেওয়া, শেষ মুহূর্তের সায়োনারা(কর অথবা মরো)-এর হোম রান।
এখানে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ বলি। কাজ করা পিঁপড়াদের ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পিঁপড়াদের মধ্যেও পরিশ্রমী পিঁপড়া আছে, আবার অলস পিঁপড়াও আছে। অলস পিঁপড়ারা চলাফেরা করলেও আসলে কোনো কাজ করে না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—যখন সেই অলস পিঁপড়ার সংখ্যা অর্ধেকে কমিয়ে দেওয়া হয়, যেই কাজ তারা অলসভাবে করছিল সেটি করতে তখন তারাই পরিশ্রমী পিঁপড়ায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।
মানুষের ক্ষেত্রেও শুরু থেকেই কেউ পরিশ্রমী, কেউ অলস—এমন হয় না। মানুষকে বদলে দেয় মূলত সে যে পরিবেশে অবস্থান করে, সেই পরিবেশের প্রভাব। এই বিষয়টি আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
একজন অভিভাবক যখন নিজের সন্তানকে দেখেন, অথবা একজন নেতা যখন তাঁর অধীনস্থদের দেখেন, তখন তাঁদের প্রথমেই আত্মসমালোচনা করা দরকার—আমি কি প্রত্যেক মানুষের ভেতরের ইচ্ছা ও উদ্যমকে জাগিয়ে তোলার মতো পরিবেশ দিতে পেরেছি?
— নিওয়ানো নিক্কিও
『প্রতিষ্ঠাতার অনুভব』
খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৫২–১৫৩ থেকে