25/12/2023
মায়েরা বাচ্চাদের নামাজ-রোযার তাৎপর্য বলে বোঝাচ্ছেন, বাচ্চা উৎসাহ নিয়ে করছে—এই বোঝানো সারাজীবনের জন্য, এটা মাথায় গেঁথে নিন৷
নিজের সময়কার আন্টি-আংকেলদের (আমরাও তা-ই এখন, ৯০ দশকের যারা) দিকে তাকান, অনেকেই খুব ধার্মিক পরিবার থেকে।
তাদের নামাজ-রোযা-আমল সব ফাটাফাটি, কিন্তু সেটায় প্রাণ নেই, তাদের ব্যবহার, তাদের আদব, বিশেষ করে সামাজিকতার কমনসেন্স ইসলামের সিলেবাসের সাথে যায় না।
সবার না, অনেকেরই।
কিন্তু মা-বাবা বেশ আমলদার, প্রাণবন্ত আমল সেসব।
কঠিন বাস্তবতা হলো, আমি আপনি যেভাবে দ্বীনকে অন্তরে নেব, তোতাপাখির মত শেখালেও আমাদের সন্তানরা সেভাবে নেবে—এটা গ্যারান্টেড না।
কারণ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়তে হয়। মা-বাবা কেবল পথ দেখাতে পারে কিংবা যে কেউ কেবল সেই পথে হাঁটার ফল বলতে পারে; কিন্তু অন্তরে ঢুকে সেই অনুভূতি জাগাতে পারে না, কেউ এসে আল্লাহ আর আরেক বান্দার মাঝে সম্পর্ক গড়ে দিতে পারে না।
ছোটবেলা থেকে দ্বীন শেখালে সন্তানরা অনেক গুনাহর কাজ থেকে ছোট থেকেই বিরত থাকতে পারে এটা যেমন ঠিক, তেমন ঐ যে, আমি-আপনি যেভাবে অনুভব করি, ঠিক সেভাবে সে অনুভব করবে না।
এজন্য কখনই রিমাইন্ডার দেওয়া, বোঝানো বন্ধ করা যাবে না।
আমরা যদি ভাবি ১২ বছর ধরে বুঝিয়ে যাচ্ছি, এখন তার বয়স ১৪। হয়েছে বড়, এবার নিজের দেখুক। এখনো নামাজটা ঠিকমতো পড়ছে না, আদবটা যেন কেমন ত্যাড়ামি মেশানো—তাহলে সমস্যাটা শুধু ওদের না, আমাদেরও।
আমরা যেন এটা ধরে না নিই, এই তো অর্থসহ কুরআন পড়িয়েছি, হিফয করিয়েছি, তাফসীর সে নিজেই তো পড়ল, তাও কেন তার এত ত্রুটি?
তাহলে মনে করুন ‘মুমিন মুমিনের আয়না’—এই কথার তাৎপর্য বা সিগনিফিক্যান্স কী। কেন এটা বলা হয়েছে।
বইয়ের স্বরহীন লেখা সবসময় অন্তরকে শব্দ করবে না, যেভাবে একটা স্বর করতে পারে।
এজন্য সপ্তাহে একটা বই আর একটা হালাকা, দুটোর মধ্যে হালাকা মানুষকে বেশি টানে।
যেভাবে কাছে নিয়ে সন্তানকে আদর দিয়ে নামাজ-রোযা-কুরআনের বিষয়গুলো বুঝিয়ে যাচ্ছি, এই বোঝানো যতদিন বেঁচে আছি ততদিন চালিয়ে যেতে হবে।
ব্যস্ততা তো সন্তানদেরও ছোঁবে, ছোঁয়। যেই মুহুর্তে সরে যাচ্ছে কিংবা আমলে প্রাণটা ছুটে যাচ্ছে, সেই মুহুর্তে হাতটাও না ছুটিয়ে হাতটা এনে সেই পিচ্চিবেলার মতো ধরতে হবে।
কেউ কেউ হয়তো মা-বাবার চেয়েও বেশি আল্লাহওয়ালা হবে, কিন্তু অনেকেই গতানুগতিক নিয়মের বাইরে প্রাণটা খুঁজে নিতে ব্যর্থ হবে।
দ্বীনের বাইরে চলে, এমন বাচ্চাদের দেখলে হিদায়াতের দুয়া করবেন, কখনও বিরক্তি আসলেও চেপে রাখবেন, নাক সিঁটকাবেন না। কারণ নিজ সন্তানকে যা শিখাচ্ছেন এটা সে ১০০% শিখে নিচ্ছে এটা নিশ্চিত না, কিংবা ১০০% সে প্রয়োগ করবে এটাও নিশ্চিত না।
আশেপাশের উদাহরণগুলো বারবার দেখুন। অতিরিক্ত তৃপ্তি থেকে আল্লাহ আমাদের হিফাযত করুন।
পরিশেষে এমন গোঁজামিল দেওয়া একটা লেখার জন্য আমাকে মাফ করবেন।
_______________
| প্রাণহীন আমল |
নুসরাত জাহান প্রমা
#রৌদ্রময়ী_প্যারেন্টিং