আশেকে পাক পাঞ্জেতন

আশেকে পাক পাঞ্জেতন পাক পাঞ্জেতন (আলাইহিস সালাম) গণেই হলেন ইসলাম।
উনাদের বাদ দিয়ে মুসলমানিত্ব কল্পনাও করা যায় না । Group of Industres

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ🌿 ২৮ সফর ১৪৪৮ হিজরি💔 মজলুম ইমাম, নবীজির প্রিয় নাতি—ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)-এর শাহা...
12/08/2026

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

🌿 ২৮ সফর ১৪৪৮ হিজরি

💔 মজলুম ইমাম, নবীজির প্রিয় নাতি—ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)-এর শাহাদাত স্মরণ

সফর মাস...

একদিকে এই মাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বেদনাবিধুর বিদায়কে; অন্যদিকে স্মরণ করিয়ে দেয় তাঁরই প্রিয় নাতি, সাইয়্যিদুশ শুব্বানিল জান্নাত, ইমাম হাসান ইবনে আলী (আ.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাতকে।

যাঁকে নবীজি (সা.) নিজের বুকে তুলে নিয়ে বলেছিলেন—

«حَسَنٌ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ»

“হাসান আমার থেকে, আর আমি হাসানের থেকে।”

তিনি শুধু কারও সন্তান ছিলেন না—

তিনি ছিলেন মাওলা আলী (আ.) ও সাইয়্যিদা ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর পুত্র, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় নাতি, আহলে কিসার অন্যতম সদস্য এবং আল্লাহর মনোনীত ইমামদের দ্বিতীয় ইমাম।

---

🌹 জন্ম

১৫ রমজান, ৩ হিজরি

মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন সেই মহান সন্তান, যার আগমনে নবীজির ঘর আনন্দে ভরে উঠেছিল।

তিনি ছিলেন ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর কোলে বেড়ে ওঠা সেই হাসান, যাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.) ভালোবাসতেন নিজের সন্তানের মতোই।

---

🕊️ তাঁর পরিচয়—ক্ষমতার নয়, হকের

শিয়া বিশ্বাসে ইমাম হাসান (আ.) কেবল একজন ঐতিহাসিক শাসক নন।

তিনি ছিলেন আল্লাহর হুজ্জত, আহলে বাইতের ইমাম এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বড় ভাই।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বলেছেন—

«الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ»

“হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের নেতা।”

তাঁদের ভালোবাসা তাই কেবল আত্মীয়তার ভালোবাসা নয়—এটি নবীজির ভালোবাসারই অংশ।

---

⚔️ খিলাফত নয়—ইমামতের উত্তরাধিকার

মাওলা আলী (আ.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম হাসান (আ.) মুসলিম সমাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

কিন্তু তাঁর সামনে ছিল এক কঠিন বাস্তবতা—

একদিকে হকের পতাকা, অন্যদিকে মুয়াবিয়ার বিশাল রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি।

ইমাম (আ.) যুদ্ধ করতে অক্ষম ছিলেন না।

বরং তিনি এমন এক সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যখন তাঁর নিজের বাহিনীর মধ্যেই বিশ্বাসঘাতকতা, বিভক্তি ও দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছিল।

তাই তাঁর সন্ধিকে পরাজয় বলা ইতিহাসের গভীরতাকে অস্বীকার করা।

ইমাম হাসান (আ.) নিজের জন্য রাজত্ব চাননি।

তিনি চেয়েছিলেন—

হকের অস্তিত্ব টিকে থাকুক, রাসূলের উম্মাহ সম্পূর্ণ রক্তস্নাত হয়ে ধ্বংস না হোক এবং মুনাফিকতার মুখোশ একদিন নিজেই খুলে পড়ুক।

কারবালার ময়দানে যে সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, তার রাজনৈতিক ভূমিকা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ইমাম হাসান (আ.)-এর সেই সন্ধি।

হাসান (আ.) তরবারি নামিয়েছিলেন—হক ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয়; বরং ইতিহাসকে সত্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার জন্য।

---

💔 সন্ধির পরেও ষড়যন্ত্র থামেনি

সন্ধির পর ইমাম হাসান (আ.) মদিনায় ফিরে আসেন।

তিনি রাজপ্রাসাদ বেছে নেননি।

বেছে নিয়েছিলেন ইবাদত, জ্ঞান, ধৈর্য ও মানুষের হেদায়েতের পথ।

কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতি তাঁকে শান্তিতেও থাকতে দিল না।

ঐতিহাসিক ও শিয়া বর্ণনায় তাঁর বিষপ্রয়োগে শাহাদাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। শিয়া ঐতিহ্যে এই বিষপ্রয়োগের পেছনে মুয়াবিয়ার ষড়যন্ত্র এবং জা'দা বিনতে আশআসের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক সূত্রে ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে মতভেদ থাকলেও, ইমাম হাসান (আ.) বিষপ্রয়োগে ইন্তেকাল করেছেন—এটি বহু প্রাচীন ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে।

---

🩸 কারবালার আগে আরেকটি মজলুম শাহাদাত

ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাতকে শুধু একটি ব্যক্তিগত মৃত্যু হিসেবে দেখলে ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায় অদৃশ্য হয়ে যায়।

কারণ—

হাসান (আ.)-এর ওপর বিষ,
হুসাইন (আ.)-এর ওপর তরবারি।

একজনকে বিষ দিয়ে নিঃশেষ করতে চাওয়া হলো,

আর অন্যজনকে কারবালার প্রান্তরে রক্ত দিয়ে ইতিহাস লিখতে হলো।

দুই ভাইয়ের পথ আলাদা ছিল—

কিন্তু লক্ষ্য ছিল এক—হকের সংরক্ষণ।

হাসান (আ.)-এর ধৈর্য ছিল হকের কৌশল,

আর হুসাইন (আ.)-এর কিয়াম ছিল হকের বিস্ফোরিত ঘোষণা।

---

🥀 ২৮ সফর—একটি প্রশ্নের দিন

আজ আমরা ইমাম হাসান (আ.)-কে স্মরণ করছি।

কিন্তু শুধু কাঁদার জন্য নয়।

নিজেকে প্রশ্ন করার জন্য—

আমি কি হাসানকে ভালোবাসি?

তাহলে তাঁর ধৈর্য কোথায়?

আমি কি হুসাইনকে ভালোবাসি?

তাহলে তাঁর হকের প্রতি আনুগত্য কোথায়?

আমি কি আহলে বাইতের অনুসারী?

তাহলে অন্যায়ের সামনে আমার অবস্থান কোথায়?

আহলে বাইতের ভালোবাসা শুধু মুখের স্লোগান নয়।

আহলে বাইতের ভালোবাসা মানে তাঁদের আদর্শকে জীবনে ধারণ করা।

---

🕌 ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)—

আপনি ছিলেন নবীজির বুকের ধন,

ফাতিমা যাহরার নয়নের মণি,

আলী মুরতাজার সন্তান,

হুসাইনের বড় ভাই,

আর হকের পথের এক মজলুম ইমাম।

আপনার কবর আজও বাকী কবরস্থানে সাধারণ একটি চিহ্নহীন স্থান হয়ে আছে—

কিন্তু আপনার মর্যাদা কোনো কবরের গম্বুজের মুখাপেক্ষী নয়।

আপনার নাম কোটি কোটি মুমিনের হৃদয়ে লেখা।

---

🕯️ সালাম হে মজলুম ইমাম!

السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ

হে ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)!

আপনার ধৈর্য আমাদের শিক্ষা দিক,

আপনার শাহাদাত আমাদের বিবেক জাগিয়ে তুলুক,

আপনার জীবন আমাদের হকের পথে অটল রাখুক,

আর আপনার ভাই হুসাইন (আ.)-এর কিয়াম আমাদের বাতিলের সামনে মাথা নত না করার শিক্ষা দিক।

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ

اللَّهُمَّ الْعَنْ أَعْدَاءَ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ

ইয়া আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদের ভালোবাসায় জীবিত রাখুন।

আমিন।

#ইমাম_হাসান_মুজতবা_আ

#আহলে_বাইত
#ইমাম_হাসান
#হুসাইনি_চেতনা
#আলে_মুহাম্মদ
#মজলুম_ইমাম

উম্মে কুলসুম (সা.আ.) ও উমর ইবনে খাত্তাবের কথিত বিবাহ—ইতিহাসের ধোঁয়াশা, নাকি পরিচয়-ভুলের ফাঁদ?“ফাতিমা (সা.আ.)-এর ওপর যদ...
12/08/2026

উম্মে কুলসুম (সা.আ.) ও উমর ইবনে খাত্তাবের কথিত বিবাহ—ইতিহাসের ধোঁয়াশা, নাকি পরিচয়-ভুলের ফাঁদ?

“ফাতিমা (সা.আ.)-এর ওপর যদি অত্যাচার হয়েই থাকে, তাহলে আলী (আ.) কীভাবে তাঁর কন্যা উম্মে কুলসুমকে উমরের সঙ্গে বিয়ে দিলেন?”

এই প্রশ্নটি বহুদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট বয়ানের পক্ষে সবচেয়ে বড় “যুক্তি” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

কিন্তু ইতিহাস কি সত্যিই এত সরল?

নাকি একই নামে একাধিক নারীকে এক ব্যক্তি ধরে নেওয়া, ভিন্ন বংশপরিচয়কে একত্র করা এবং পরবর্তী যুগের বর্ণনাকে পূর্ববর্তী ইতিহাসের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই আজ এই প্রশ্ন এত শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে?

চলুন আবেগ নয়—নাম, বংশপরিচয়, জন্মকাল, বিবাহকাল, সন্তান, পরবর্তী জীবন ও প্রাচীন সূত্রের পারস্পরিক সামঞ্জস্য—সবকিছু একসঙ্গে দেখি।

---

প্রথম প্রশ্ন: “উম্মে কুলসুম”—নাম, নাকি কুনিয়া?

“উম্মে কুলসুম” মূলত একটি কুনিয়া। আরবি সংস্কৃতিতে একই কুনিয়া একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

অতএব, কোনো গ্রন্থে শুধু “উম্মে কুলসুম” লেখা থাকলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে তিনি অবশ্যই মাওলা আলী (আ.) ও সাইয়্যিদা ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর কন্যা।

এখানেই প্রথম ঐতিহাসিক প্রশ্ন:

কোন উম্মে কুলসুম?

কারণ ইতিহাসে একাধিক “উম্মে কুলসুম”-এর উল্লেখ রয়েছে।

---

দ্বিতীয় প্রশ্ন: জন্মতারিখ ও বয়সের হিসাব কি মেলে?

কিছু বর্ণনায় উমরের সঙ্গে বিবাহিত উম্মে কুলসুমের জন্ম ১২ বা ১৩ হিজরীর দিকে দেখানো হয়েছে এবং বিবাহ ১৭ হিজরীতে।

অন্যদিকে মাওলা আলী (আ.) ও সাইয়্যিদা ফাতিমা (সা.আ.)-এর কন্যা হিসেবে পরিচিত উম্মে কুলসুম/জয়নব আল-সুগরার জন্মকাল এর আগের বলে বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়ায়—

যদি কোনো সূত্রে উম্মে কুলসুমের জন্ম ১২/১৩ হিজরী বলা হয়, তাহলে তাঁকে কীভাবে ১১ হিজরীতে ইন্তেকালকারী সাইয়্যিদা ফাতিমা (সা.আ.)-এর কন্যা বলা হবে?

এটি কোনো আবেগের প্রশ্ন নয়।

এটি সরাসরি কালানুক্রমের প্রশ্ন।

---

তৃতীয় প্রশ্ন: কারবালার উম্মে কুলসুম কে?

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আলী (আ.)-এর পরিবারের উম্মে কুলসুম নামে পরিচিত একজন নারী কারবালার ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন—এমন বর্ণনা শিয়া ঐতিহাসিক সাহিত্যে রয়েছে।

অর্থাৎ যদি উমরের সঙ্গে বিবাহিত উম্মে কুলসুম এবং কারবালায় উপস্থিত উম্মে কুলসুম একই ব্যক্তি হন, তাহলে তাঁদের জীবনপঞ্জির মধ্যে অসংখ্য কালানুক্রমিক প্রশ্ন তৈরি হয়।

আর যদি তাঁরা একই ব্যক্তি না হন—

তাহলে “উমর + উম্মে কুলসুম” বর্ণনার উম্মে কুলসুমের পরিচয়টি নতুন করে যাচাই করা অপরিহার্য।

---

চতুর্থ প্রশ্ন: আবু বকরের কন্যা উম্মে কুলসুমের বিষয়টি কোথায় যাবে?

এখানেই বিষয়টি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ঐতিহাসিক সূত্রে আবু বকরের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইসের গর্ভে একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণের বর্ণনা রয়েছে—যার নাম উম্মে কুলসুম।

আসমা বিনতে উমাইস প্রথমে জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন। জাফর (রা.) শাহাদাতবরণ করার পর তিনি আবু বকর (রা.)-কে বিবাহ করেন। পরবর্তীতে আবু বকর (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি মাওলা আলী (আ.)-এর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

অর্থাৎ এই পরিবারের সঙ্গে আলী (আ.), জাফর (রা.), আবু বকর (রা.)—তিনটি ঐতিহাসিক সম্পর্কই যুক্ত।

এবং এখানেই “উম্মে কুলসুম” পরিচয়ের প্রশ্নটি আরও জটিল হয়ে যায়।

একই কুনিয়ার একাধিক নারীকে এক করে ফেললে ইতিহাসের চেহারাই বদলে যেতে পারে।

---

তাহলে কি নিশ্চিতভাবে বলা যায়—উম্মে কুলসুম বিনতে আলী (সা.আ.)-এর সঙ্গে উমরের বিবাহ হয়েছিল?

এখানেই আমাদের বক্তব্য:

শুধু “উম্মে কুলসুম” নামটি পাওয়া গেলেই সেটিকে মাওলা আলী (আ.)-এর কন্যা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঐতিহাসিকভাবে নিরাপদ নয়।

কারণ—

নাম এক নয়, পরিচয় যাচাই করতে হয়।
কুনিয়া এক নয়, বংশপরিচয় দেখতে হয়।
বিবাহের উল্লেখ এক নয়, কালানুক্রম মিলাতে হয়।
একটি সূত্র নয়, সব সূত্রকে পাশাপাশি রাখতে হয়।

---

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

যদি বলা হয়—

“উমর আলী (আ.)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেছিলেন”—

তাহলে সেই দাবির পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে:

তিনি কোন উম্মে কুলসুম?
তাঁর পূর্ণ বংশপরিচয় কী?
জন্মসন কত?
তাঁর মায়ের নাম কী?
বিবাহের সময় তাঁর বয়স কত?
পরবর্তীতে তাঁর স্বামী কে ছিলেন?
তিনি কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
কারবালার উম্মে কুলসুমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী?

শুধু “উম্মে কুলসুম” নামটি বললে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না।

---

ইতিহাস আবেগ দিয়ে নয়, সূত্র দিয়ে পড়তে হয়

কোনো একটি বর্ণনা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রচলিত থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকাট্য সত্য হয়ে যায় না।

আবার কোনো বর্ণনা আমাদের আকিদা বা আবেগের সঙ্গে অসুবিধাজনক হলেই সেটিকে প্রমাণ ছাড়া “জাল” বলাও গবেষণার পদ্ধতি নয়।

সত্যকে সত্য প্রমাণ করতে দলিল লাগে।
মিথ্যাকে মিথ্যা প্রমাণ করতেও দলিল লাগে।

তাই আমাদের প্রশ্ন খুব সহজ—

«“উম্মে কুলসুম” নামটি কি যথেষ্ট, নাকি তাঁর পরিচয়ও প্রমাণ করতে হবে?»

ইতিহাসের পাতায় নামের মিল অনেক সময় সত্যকে কাছে আনে না—বরং সত্যকে আড়াল করে।

আর তাই এই আলোচনার উদ্দেশ্য কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়।

উদ্দেশ্য একটাই—

যে ইতিহাস আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটিকে আরেকবার দলিলের আলোয় দেখা।

কারণ—

সত্য কোনো পক্ষের সম্পত্তি নয়।
সত্যকে ভয় পায় কেবল সেই ব্যক্তি, যার হাতে সত্যের পরিবর্তে প্রচলিত বয়ান রয়েছে।

আসুন, আবেগ নয়—দলিল দিয়ে বিচার করি।
ব্যক্তি নয়—বর্ণনার সনদ ও সামঞ্জস্য পরীক্ষা করি।
প্রচলন নয়—সত্যকে অনুসরণ করি।

হুসাইন (আ.)-এর শিক্ষা তো এটাই—
সত্যের পথে একা হলেও দাঁড়াতে হয়।

اللَّهُمَّ أَرِنَا الْحَقَّ حَقًّا وَارْزُقْنَا اتِّبَاعَهُ، وَأَرِنَا الْبَاطِلَ بَاطِلًا وَارْزُقْنَا اجْتِنَابَهُ.

হে আল্লাহ! আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের তাওফিক দিন; আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন।

আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

#আহলে_বায়ত #উম্মে_কুলসুম #মাওলা_আলী #ফাতিমা_যাহরা #ইতিহাসের_দলিল #কারবালা #হুসাইনি_চেতনা

চারটি ঐশী যিকির যা প্রতিটি মুমিনের জীবনের শক্তি....কত মানুষ আজ ভয়, দুশ্চিন্তা, ষড়যন্ত্র আর দুনিয়ার অস্থিরতায় দিশেহার...
25/07/2026

চারটি ঐশী যিকির যা প্রতিটি মুমিনের জীবনের শক্তি....
কত মানুষ আজ ভয়, দুশ্চিন্তা, ষড়যন্ত্র আর দুনিয়ার অস্থিরতায় দিশেহারা! অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য কুরআনে এমন কিছু মহান যিকির দান করেছেন, যা হৃদয়কে প্রশান্ত করে, ঈমানকে দৃঢ় করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা বাড়িয়ে দেয়।

ইমাম জাফর আস-সাদিক (আঃ) বলেন,
"আমি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে আশ্চর্য হই, যে চারটি অবস্থার সম্মুখীন হয়, অথচ সে চারটি মহান যিকিরের আশ্রয় গ্রহণ করে না।"

১। ভয় ও আতঙ্কে আক্রান্ত হলে

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল।

অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৭৩)

২। দুশ্চিন্তা, বিপদ ও সংকটে পড়লে

لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায-যালিমীন।

অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি মহাপবিত্র। নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি জুলুমকারী ছিলাম।
(সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-৮৭)

৩। ষড়যন্ত্র, অপবাদ বা চক্রান্তের শিকার হলে

وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

উচ্চারণ: উফাওয়িদু আমরি ইলাল্লাহ। ইন্নাল্লাহা বাসীরুন বিল ইবাদ।

অর্থ: আমি আমার সব বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সর্বদ্রষ্টা।
(সূরা গাফির, আয়াত-৪৪)

৪। দুনিয়ার কল্যাণ, বরকত ও নেয়ামত কামনা করলে

مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: মা শা-আল্লাহু, লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহ যা চান তাই হয়, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
(সূরা আল-কাহাফ, আয়াত-৩৯)

★এই চারটি যিকির শুধু উচ্চারণের শব্দ নয়; এগুলো একজন মুমিনের ভরসা, ধৈর্য, আত্মসমর্পণ ও তাওয়াক্কুলের জীবন্ত প্রকাশ। তাই জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে কুরআনের এই মহান যিকিরগুলোকে নিজের সঙ্গী বানিয়ে নিন★

কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরীর ২৫শে মুহররম আজকের এই দিনে শাহাদত বরণ করেন ইমাম জয়নুল আবেদীন আস-সাজ্জাদ (আঃ)।_________...
11/07/2026

কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরীর ২৫শে মুহররম আজকের এই দিনে শাহাদত বরণ করেন ইমাম জয়নুল আবেদীন আস-সাজ্জাদ (আঃ)।

________________________________________

আজ ২৫ শে মুহররম নবী বংশের নক্ষত্র ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.) [জয়নুল আবেদীন] এর শাহাদাত দিবসে সকল অনুসারীদেরকে জানাই গভীর শোক শোক ও সমবেদনা। ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.) [জয়নুল আবেদীন] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই‌হি ওয়া আ‌লেহী ওয়া সাল্লা‌মের আহ‌লে বাই‌তের চতুর্থ ইমাম ছি‌লেন। তিনি জয়নুল আবেদীন উপাধিতেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।তিনি কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরীর ২৫শে মুহররম মদীনা মুনাওয়ারা উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের দেয়া বিষে তিনি শাহাদত বরণ করেন।জান্নাতুল বাকী‌কে তাঁকে দাফন করা হয়।

নামঃ ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.)।
উপাধিঃ সাজ্জাদ, জয়নুল আবেদীন, সাইয়েদুশ সাজেদীন।
ডাক নামঃ আবুল হাসান।
পিতার নামঃ ইমাম হুসাইন (আ.)।
মাতার নামঃ হযরত শহর বানু (রাঃ)।
জন্ম তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার, ৫ই শাবান ৩৮ হিজরী।
জন্মস্থানঃ মদীনা মুনাওয়ারা।
আয়ুঃ ৫৭ বছর।
ইমামতকালঃ ৩৫ বছর।
হত্যাকারীঃ উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের দেয়া বিষে তিনি শহীদ হন।
শাহাদতঃ ২৫ মহরম ৯৫ হিজরী মদীনা মুনাওয়ারা।
দাফনের স্থানঃ জান্নাতুল বাক্বী।
সন্তানঃ ১৫জন, ১০জন ছেলে এবং ৫জন কন্যা।

কাবা ঘরের হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরের কাছে হাজিদের প্রচণ্ড ভিড়। উমাইয়া শাসক আবদুল মালিক কালো পাথরের কাছে যাবার জন্যে অনেক কষ্ট করেও ভিড় ঠেলে তেমন একটা এগুতে পারছিলেন না। অথচ দেখা গেল সৌম্য ও নুরানি চেহারার এক ব্যক্তিকে মানুষ প্রাণঢালা সম্মান জানিয়ে পথ ছেড়ে দেয়ায় ঐ ব্যক্তি সহজেই পৌঁছে গেলেন কালো পাথরের কাছে। হিশাম ওই ব্যক্তিকে চিনেও না চেনার ভান করে বিরক্ত চেহারা নিয়ে জানতে চাইলেন কে এই ব্যক্তি!? সেখানে উপস্থিত কবি ফারাজদাক খলিফার প্রশ্নের উত্তর দিলেন কাব্যিক ভাষায়ঃ

এতো তিনি প্রতিটি ধূলিকণার কাছে যাঁর পদক্ষেপ পরিচিত
যিনি অতি আপন এই কাবা ঘরের কাছে যে ঘর সর্বজন-নন্দিত
ইনি তো তাঁর সন্তান যিনি খোদার রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম
আর ইনি তো নিজেই শ্রেষ্ঠ ইবাদতে ও তাসবীহ তাহলিলে,
নির্মল নিষ্কলুষ, নিশানবরদার ইসলামের, পূত-পবিত্র, সততায় দীপ্ত
ইনি তো সন্তান মা ফাতেমার,যদি না জেনে থাকো তুমি পরিচয় তাঁর
জেনে রাখো এঁর প্রপিতামহের মাঝেই সমাপ্তি নবুয়্যত ধারার
খোদাকে যে চিনেছে সে-ই তো জানে ইনিই তো মর্যাদায় ও শ্রেষ্ঠত্বে আগে সবার
যেহেতু সারা বিশ্বে পৌঁছেছে ধর্মের বাণী এঁরই রক্তধারার উসিলাতে।

হ্যাঁ, আজ আমরা এমন এক মহাপুরুষের কথা বলছি যাঁর রক্তধারা পৃথিবীর বুকে প্রকৃত ইসলামকে টিকিয়ে রেখেছে। ইসলামকে বিলীন করে দেয়ার উমাইয়া ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে শহীদগণের নেতা ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন সে বিপ্লবের বাণী ও প্রকৃত ঘটনা যিনি পরবর্তী যুগের মুসলমানদের জন্যে সংরক্ষিত করেছিলেন তিনিই হলেন আমাদের আজকের আলোচ্য মহাপুরুষ হযরত আলী বিন হুসাইন জয়নুল আবেদীন (আ.)।

৬১ হিজরীতে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পরে ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালাম সমর্থক-অনুসারীরা কেউ সমাজে প্রকাশ্যে ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর পক্ষে কথা বলতে পারত না। মসজিদের ইমামরা ইয়াজিদের আনুগত্য প্রকাশ করত,শহরের কাজীরা রাজতন্ত্রের সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়ে দিত। ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়ার সময় থেকেই তার অধীন মসজিদসমূহে হযরত আলী আলাইহিস সালামকে গালি দেয়া হত। ইবনে আবীল হাদিদ ও আল্লামা মাজলিসি তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ সে সময় আহলে বাইতে রাসূল আলাইহিমুস সালামকে ভালোবাসতো মক্কা-মদীনায় এমন মানুষের সংখ্যা বিশ জনও ছিল না।পিতা ইমাম হুসাইন (আঃ)’র পর নতুন ইমাম হিসেবে তিনি কুফা ও দামেস্কে জালিম শাসকদের দরবারে বীরত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়ে তাদের আতঙ্কিত করে তুলেন। ফলে গণ-বিদ্রোহের ভয়ে আতঙ্কিত জালিম ইয়াজিদ কারবালা থেকে বন্দী করে আনা নবী-পরিবার ও ইমামের সঙ্গীদেরকে মুক্তি দিতে এবং তাঁদেরকে সসম্মানে মদীনায় পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) তাঁর পিতার শাহাদাতের পর প্রায় ৩৪ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং সমগ্র জীবনকাল নিবেদিতচিত্তে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও শহীদ পিতার স্মরণের মধ্যে অতিবাহিত করেন।দশই মহরমের সেই ভয়াবহ ঘটনার দিনে মারাত্মক অসুস্থ থাকায় তিন জিহাদে যোগ দিতে পারেন নি। ইয়াজিদের সেনারা তাকে হত্যা করতে গিয়েও তাঁর ফুফু হযরত যয়নব (সাঃআঃ)’র প্রতিরোধের মুখে এই মহান ইমামকে জীবিত রাখতে বাধ্য হয়।পরবর্তীকালেও আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান । আসলে মহান আল্লাহই এভাবে তাঁকে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেয়াসহ কারবালার কালজয়ী বিপ্লবের পরবর্তী অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করা ও এ বিপ্লবের প্রকৃত বাণী মুসলমানদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে জীবিত রেখেছিলেন।কারবালা বিপ্লবের প্রকৃত ঘটনা ও শিক্ষা প্রচারের পাশাপাশি ইসলাম বিরোধী নানা চিন্তাধারার মোকাবিলায় ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতেন ইমাম সাজ্জাদ।সে সময় ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালামের একমাত্র জীবিত পুত্র ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) উমাইয়া খলিফাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ্যে ইসলামের প্রচার, বক্তব্য, জুমার খুতবা-নামাযের ইমামতি করতে পারতেন না। এমতবস্থায় তিনি মদীনায় তাঁর বাড়ির একটা ঘরে ইবাদত-বন্দেগী ও দোয়া-দরুদ পাঠ করতেন এবং মানুষ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে তাদের কারাবালার শাহাদাতের ঘটনা বর্ণনা করতেন, কাঁদতেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ ও সিজদায় রত থাকতেন বিধায় ‘সাজ্জাদ’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) আল্লাহ তাআলার প্রতি এত বেশি মনোযোগী থাকতেন যে, নামাযের প্রস্তুতির জন্য ওজু করার সময়ই তাঁর চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেত এবং নামাযে দণ্ডায়মান অবস্থায় আল্লাহর ভয়ে তাঁর শরীর কাঁপতে থাকত। কেন এমন হয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন: ‘তোমরা কি জান, নামাযে আমি কার সামনে দাঁড়াই এবং কার সাথে কথা বলি?’

শুধু তাই নয়, আশুরার সেই ভয়াল দিনটিতে ইয়াযীদের বাহিনী যখন তাঁর পিতা, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখনও এই মাসুম ইমাম তাঁর প্রভুর বন্দেগিতে নিমগ্ন ছিলেন।ইয়াযীদের বর্বর বাহিনীর লোকেরা যখন মহিলা ও শিশুদের বন্দি করে উটের খালি পিঠে করে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও ইমামের ঘাড়ে ও পায়ের গোড়ালিতে ভারী শিকল পরিয়ে খালি পায়ে কারবালা থেকে কুফা ও দামেস্ক পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য করেছিল, তখনও এই খোদায়ী আত্মা এক মুহূর্তের জন্য তাঁর প্রভুর আরাধনা থেকে মনোযোগ হারাননি।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) যে ঘরে বসে কারাবালার ঘটনা বর্ণনা করতেন সে ঘরটাকে ‘বাইতুল হুজন’ বা দুঃখের ঘর বলা হত। মসজিদে যেহেতু কারবালার ঘটনা আলোচনা করার সুযোগ ছিল না সেহেতু ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর সমর্থক-অনুসারীরা নিজ নিজ এলাকায় শুধু কারবালা-ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালামে কে কেন্দ্র করে বিশেষ ঘর নির্মাণ করতেন। যে প্রথাটা তখন থেকে এখনও সমগ্র বিশ্বে বিদ্যমান। সেই বিশেষ ঘরগুলোকে আরব-পারস্যে হোসাইনিয়া, পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশে আশুরাখানা/ইমামবাড়া(ইমামবারগাহ)/পাক পান্জাতন মোকাম বলা হয়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সেসময় যে দোয়া-মুনাজাতগুলো পাঠ করেছিলেন, সেগুলো পরবর্তীতে ‘সহীফায়ে সাজ্জাদিয়া’ নামে সংকলন করা হয়। সম্প্রতি হুজ্জাতুল ইসলাম আব্দুল কুদ্দুস বাদশা এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি আরবী ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।সহিফায়ে সাজ্জাদিয়া’ নামে তাঁর দোয়া ও মুনাজাতের অমর গ্রন্থটি আত্মিক পরিশুদ্ধি ছাড়াও সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংস্কারের নানা দিক-নির্দেশনায় সমৃদ্ধ। ইমামের রেখে যাওয়া ‘রিসালাতাল হুক্বুক্ব’ শীর্ষক অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশনা মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার চেয়েও বিস্তারিত ও আধ্যাত্মিক ঔজ্জ্বল্যে ভরপুর।

কারবালার ঘটনার পর ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) ও হযরত জয়নাব (সাঃআঃ) যদি জীবিত না থাকতেন তাহলে কারবালার শহীদদের আত্মত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঐ বিপ্লবকে নিছক একটা দুর্ঘটনা বলে প্রচার করার ইয়াজিদী চক্রান্ত সফল হতো। উমাইয়া শাসকরা তখন এটাও প্রচার করতো যে ইমাম হুসাইন (আ.) ইয়াজিদের মতো তাগুতি শাসকের শাসন মেনে নিয়েছিলেন। আর এর ফলে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে অবিচারের ব্যাপারে আপোসকামী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রও সফল হতো। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) ও হযরত জয়নাব (সাঃআঃ) কারবালা থেকে বন্দী অবস্থায় কুফা ও দামেস্কে যাবার পথেই স্বল্প সময়ে জনগণকে জানিয়ে দেন যে কারবালায় প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল এবং কারা ছিল ইসলামের জন্যে নিবেদিত-প্রাণ ও কারা ছিল ইসলামের লেবাসধারী জালেম শাসক মাত্র।

কারবালার ঘটনার পর তিনি যখনই পানি দেখতেন বাবাসহ কারবালার শহীদদের চরম পিপাসার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন এই পশুকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আমার (তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত) বাবাকে পানি না দিয়েই জীবন্ত অবস্থায় জবাই করেছিল ইয়াজিদ-সেনারা। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সব সময় রোজা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতেন: রাসূল (সা.)’র সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সব সময় দিনে রোজা রাখতেন ও পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন। রোজা ভাঙ্গার সময় তিনি বাবার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করে এত বেশি কাঁদতেন যে অশ্রুতে খাবার ভিজে যেত। জীবনের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল তাঁর।

একদিন তাঁর খাদেম ইমামের কান্নারত অবস্থায় তাঁকে বলেনঃ আপনার দুঃখ ও আহাজারি শেষ হয়নি?

উত্তরে তিনি বলেনঃ তোমার জন্য আক্ষেপ! ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর একজন নবী ছিলেন। তাঁর ১২ জন সন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এক পুত্র ইউসুফকে চোখের আড়ালে রাখায় শোকে, দুঃখে ও অতিরিক্ত কান্নায় তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে পড়েন, চুল পেকে যায় ও পিঠ বাঁকা হয়ে যায়। সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর এ অবস্থা হয়েছিল। আর আমি আমার পিতা, ভাই এবং পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে মাটিতে পড়ে যেতে ও শহীদ হতে দেখেছি; তাই কিভাবে আমার দুঃখ ও অশ্রু থামতে পারে!

আবারও ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ)-এর শাহাদাত দিবসে সকল অনুসারীদেরকে জানাই আন্তরিক শোক-সমবেদনা ও মহান সত্তার শানে পেশ করছি অশেষ দরুদ ও সালাম।

“আল্লাহুম্মা লা’আন আউয়ালা জালামা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ।আল্লাহুমা সাল্লে ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ আত তাইয়েবিন আত তাহেরিন ওয়াল মাসুমিন আল মজলুমিন ওয়া লা’নতুল্লাহে ‘আলা আদাইহিম।আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম।”

#ইমাম_জয়নুল_আবেদীন #ইমাম_সাজ্জাদ #আলী_ইবনে_হুসাইন #শাহাদাত_দিবস ুহররম #মুহররম #কারবালা #কারবালার_শিক্ষা #কারবালার_বিপ্লব #ইমাম_হুসাইন #আহলে_বাইত #আহলুল_বাইত #বেলায়াত #সহিফায়ে_সাজ্জাদিয়া #রিসালাতুল_হুকুক #জান্নাতুল_বাকী #ইসলামের_প্রকৃত_বার্তা

ইতিহাস যা লুকায়: মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদের আসল লড়াইটা কাদের বিরুদ্ধে ছিল?সেই লুকানো ইতিহাস আজ কারবালার কাঠগড়ায়: "কারবাল...
02/07/2026

ইতিহাস যা লুকায়: মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদের আসল লড়াইটা কাদের বিরুদ্ধে ছিল?
সেই লুকানো ইতিহাস আজ কারবালার কাঠগড়ায়: "কারবালা কথা কয়" 🔴
****************************************************
আমরা অনেকেই মনে করি, ইসলামের ইতিহাসে সমস্ত যুদ্ধ বুঝি কেবল মক্কার মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধেই হয়েছিল। কিন্তু আপনি কি জানেন, নবীজি (সাঃ) থেকে শুরু করে তাঁর পবিত্র পরিবার বা আলে মুহাম্মদের (আঃ) প্রত্যেকেই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে যুদ্ধটি করে গেছেন এবং যে যুদ্ধে তাঁরা প্রত্যেকেই শহীদ হয়েছেন—তা কোনো কাফেরের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল ইসলামের খোলস পরা 'মুনাফিকদের' বিরুদ্ধে!

আজ একটু হৃদয়ের কান পেতে, আবেগ আর ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে সত্যটা বোঝার চেষ্টা করি:

📖 কোরানের নির্দেশ এবং নবীজি (সাঃ)-এর মিশন
কুরআনের সূরা আত-তাওবাহ (৯:৭৩) এবং সূরা আত-তাহরীমে (৬৬:৯) স্পষ্ট নির্দেশ ছিল: "হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন।"

নবীজি (সাঃ) আল্লাহর এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। কাফেররা যখন বাইরে থেকে আক্রমণ করেছে, তিনি তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। আর মুনাফিকরা যখন মদীনার ভেতরে থেকে ইসলামের ক্ষতি করতে চেয়েছে, তিনি ওহীর আলোতে তাদের গোপন ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে এক তীব্র আদর্শিক ও রাজনৈতিক যুদ্ধ (জিহাদে কাবীর) চালিয়ে গেছেন।

🎯 ১২ মুনাফিকের ষড়যন্ত্র ও নবীজির শাহাদাতঃ

ইতিহাস সাক্ষী, তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে 'আকাবা'-এর গিরিপথে একদল চরমপন্থী মুনাফিক (জলিল ক্বদর সাহাবী) নবীজিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। নবীজি ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আইনি কারণে তাদের নাম প্রকাশ না করলেও, এই মুনাফিক চক্রের গোপন বিষপ্রয়োগ ও ধারাবাহিক চক্রান্তের শিকার হয়েই নবীজিকে (সাঃ) চূড়ান্ত পর্যায়ে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছিল। তিনি কোরানের নির্দেশ মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ পালন করতে গিয়েই নিজের জীবন বিলিয়ে দেন।

🕌 গদীরে খুমের অভিষেক এবং মুনাফিকদের গোপন ঐক্যঃ
লড়াইটা তীব্র রূপ নেয় তখন, যখন বিদায় হজের পর 'গদীরে খুমে' লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে নবীজি (সাঃ) মওলা আলী (আঃ)-এর হাত উঁচিয়ে ঘোষণা করলেন—"আমি যার মওলা (নেতা/অভিভাবক), এই আলীও তার মওলা।" Ghadir Khumm - Wikipedia আল্লাহর নির্দেশে মওলা আলীর এই ঐশ্বরিক অভিষেকের পরই মদীনার মুনাফিক চক্রের বুকে কাঁপন ধরে যায়। তারা বুঝতে পারে, মওলা আলীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের দুনিয়াবী ক্ষমতার লোভ চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ফলে, তারা পর্দার আড়ালে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা শপথ নেয়—নবীজির ওফাতের পরই তারা এই খেলাফত কেড়ে নেবে।

💔 নবীজির নিঃসঙ্গ দাফন:
ক্ষমতার লোভ বনাম রক্তের কান্নাঃ
সেই মুনাফেকীর চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল নবীজি (সাঃ)-এর ওফাতের ঠিক পর মুহূর্তেই। যে রাসুল (সাঃ) নিজের জীবনের চেয়ে উম্মতকে বেশি ভালোবেসেছেন, তাঁর পবিত্র মরদেহ যখন ঘরের ভেতরে পড়েছিল, তখন মদীনার একটি বড় অংশ নবীজির দাফন-কাফনের দিকে না তাকিয়ে মদীনার 'সাকীফা' নামক স্থানে ক্ষমতার চেয়ার দখল করতে মত্ত হয়ে উঠেছিল!

কত বড় নির্মমতা! মওলা আলী (আঃ), মা ফাতিমা (সাঃ) এবং বনু হাশেমের মাত্র কয়েকজন সদস্য যখন অশ্রুসজল চোখে আল্লাহর রাসুলকে দাফন করছিলেন, তখন মুনাফিকরা মেতেছিল বিজয়ের উল্লাসে, তারা ক্ষমতার মসনদ ভাগাভাগি করছিল।

🔥 ফাদাকের কান্না এবং ওহীর ঘরে আগুনঃ

নবীজিকে বিদায় দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা। রাসূলের কলিজার টুকরা, জান্নাতের নারীদের সর্দার মা ফাতিমা জোহরা (সাঃ আঃ)-এর ওপর শুরু হলো অবর্ণনীয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

নবীজির উপহার দেওয়া 'ফাদাক' বাগানের আইনি অধিকার কেড়ে নিয়ে সৈয়দা ফাতিমাকে সা. আ. করা হলো রিক্ত, নিঃস্ব।

সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়টি ঘটল তখন, যখন মওলা আলীর কাছ থেকে জোরপূর্বক আনুগত্য (বায়াত) আদায়ের জন্য তারা সেই ঘরে চড়াও হলো, যে ঘরে স্বয়ং জিবরাইল (আঃ) ওহী নিয়ে আসতেন।

নবীজির ওফাতের মাত্র কয়েকদিন পর, সৈয়দা ফাতিমার সা. আ. পবিত্র ঘরের দরজায় আগুন দেওয়া হলো! সেই জ্বলন্ত দরজা ভেঙে যখন তারা ভেতরে ঢুকল, দরজার চাপে পিষ্ট হলেন নবী-দুহিতা। গর্ভেই শহীদ হলো তাঁর সন্তান মহসিন আঃ। এই গভীর ক্ষত ও চোখের পানি নিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে দুনিয়া ছাড়লেন মা ফাতিমা সা. আ.

⚔️ কারবালার কাঠগড়ায় একই যুদ্ধের সমাপ্তিঃ

নবীজিকে (সাঃ) যারা ১২ মুনাফিকের গোপন ষড়যন্ত্রে বিষপ্রয়োগে শহীদ করেছিল, মা ফাতিমার পাজর যারা ভেঙেছিল, মওলা আলীকে যারা মিহরাবে সেজদারত অবস্থায় শহীদ করেছিল এবং ইমাম হাসানকে যারা বিষ দিয়ে নীল করেছিল—তারা কেউ কাফের ছিল না! তারা সবাই ছিল কালেমা পড়া, নামাজ পড়া ছদ্মবেশী জলিল কদর সাহাবীএ মুনাফিক।

আর এই মুনাফেকীরই চূড়ান্ত এবং সবচেয়ে বীভৎস রূপ প্রকাশ পেয়েছিল কারবালার প্রান্তরে। ইয়াজিদের ছদ্মবেশী মুসলিম বাহিনী ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর ৬ মাসের শিশু আলী আসগরের গলায় তীর বিঁধিয়েছিল, নবীজির আহলে বাইতের নারীদের বন্দি করে কুফা ও শাম-এর বাজারে ঘুরিয়েছিল।

😭 পরাজয় নাকি চিরন্তন মহাবিজয়?

বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হতে পারে মুনাফিকদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, চক্রান্ত আর নির্মমতার কাছে মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদ (আঃ) পরাজিত হয়ে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু না! এটি পরাজয় ছিল না, এটি ছিল শাহাদাতের মাধ্যমে অর্জিত এক চিরন্তন মহাবিজয়।

কারবালার তপ্ত বালুচরে ইমাম হুসাইন (আঃ) নিজের রক্ত দিয়ে এই মুনাফিকদের ছদ্মবেশ চিরতরে টেনে ছিঁড়ে দিয়েছেন। আজ কারবালার কাঠগড়া দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলছে—ক্ষমতার চেয়ারে বসলেই বা মাথায় রাজমুকুট পরলেই কেউ সত্যের ওপর থাকে না। সত্য কেবল সেখানেই থাকে, যেখানে আলে মুহাম্মদ (আঃ)-এর আদর্শ থাকে।

নবীজি এবং তাঁর পবিত্র বংশধরেরা নিজেদের জীবন দিয়ে কোরানের হুকুম পূর্ণ করে গেছেন এবং ইসলামকে কেয়ামত পর্যন্ত খাঁটি ও নিষ্কলঙ্ক রেখে গেছেন। আজ কারবালা কথা কয়ে আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তুলছে!

04/06/2026

গাদীরে খুমে রাসূলে কারীম ﷺ কর্তৃক আমীরুল মু'মীনীন সাইয়্যিদুনা আলী ইবনু আবি তালিব (আঃ) এর বেলায়ত ঘোষণা স্বরণে দিবস উদযাপন যদি বিদ'আত হয়, তাহলে তার চেয়ে বড় বিদ'আত হিসেবে বিবেচিত হবে ১২ রবিউল আউয়াল জুলুশ পালন, পীরের ওরশ পালন, পীরের মৃত্যুর পর মাজার নির্মাণ, খতমে কুরআন-খতমে বুখারী অথবা অন্যান্য খতম পড়ে টাকা উপার্জন ইত্যাদি। গাদীরে খুমের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থ সমূহে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে ১২ই রবিউল আউয়াল জুলুশ পালন থেকে শুরু করে উপরে যা উল্লেখ করলাম তার বিষয়ে কোনো একটি নির্ভরযোগ্য হাদীসও পাওয়া যায় না। সুন্নী পরিচয়ধারী ভাইয়েরা এসব আমল পবিত্র কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনাকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে থাকেন। এর সুস্পষ্ট কোনো বর্ণনা নেই। যা সত্য তাই বলেছি।

কি! রাগ করলেন?

আরবি মাসের ১৮ জিলহজ্ব গাদীরে খুম দিবসে(ঈদে গাদির) রোজা রাখার ফজিলত।মওলা ইমাম জাফর বিন মুহাম্মদ আল সাদিক (আ.) এক হাদীসে ত...
04/06/2026

আরবি মাসের ১৮ জিলহজ্ব গাদীরে খুম দিবসে(ঈদে গাদির) রোজা রাখার ফজিলত।

মওলা ইমাম জাফর বিন মুহাম্মদ আল সাদিক (আ.) এক হাদীসে তার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে এই রোজা সম্পর্কে বলেছেনঃ এই দিনের একটি রোজা অন্য সময়ের ৬০ মাসের (ষাট মাসের) রোজার সমতুল্য।

সূত্রঃ ইকবালুল আ’মাল, পৃষ্ঠা-৪৬৫।

‎عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: مَنْ صَامَ يَوْمَ ثَمَانِيَةَ عَشْرَةَ مَنْ ذِي الْحِجَّةِ كُتِبَ لَهُ صِيَامُ سِتِّينَ شَهْرًا، وَهُوَ يَوْمُ غَدِيرِ خُمٍّ، لَمَّا أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ بِيَدِ عَلِيِّ ابْنِ أَبِي طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: أَلَسْتَ وَلِيَّ الْمُؤْمِنِينَ؟ ، قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ

অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি ১৮ জিলহজ্বের দিনে রোজা রাখে সে ৬০ মাস রোজা রাখার সমপরিমান সওয়াব পাবে। এদিনটি গাদীরে খুমের দিন। সেদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবি তালিব (আ.) এর হাত ধরে বলেছিলেন, আমি কি মুমিনদের ওয়ালী? লোকজন বললো, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা।

সূত্রঃ খতীব বাগদাদী: তারিখে বাগদাদ, ৮/২৯০পৃ/ইমাম তাবারানী: আল মুজামূল আওসাত, ৩/৩২৪পৃ/ইবনে আসাকির: তারিখে দামেস্ক, ৪৫/১৭৯পৃ/ওয়াহিদী: আসহাব উন নুজুল, ১০৮পৃ/ইমাম রাজী: তাফসীরে কবীর, ১১/১৩৯পৃ/ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৭, অধ্যায়-১৩, হাদীস-৪৪ ও মানাকেবে ইবনে মাগাজেলী, পৃষ্ঠা-১৯, হাদীস-২৪।

এছাড়া হাদিসটি সনদসহ ইমাম শাজরী মারফু হাদিস হিসেবে ‘আল আমালিল খামিসিয়্যাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—

‎(حديث مرفوع) حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ التَّنُوخِيُّ ، إِمْلَاءً ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْوَاعِظُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعْدٍ الرَّقِّيُّ . ح قَالَ : وَحَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الزَّجَّاجُ الشَّاهِدُ النَّبِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ حَيْشُونُ بْنُ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْحَلَّالُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الشَّافِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ ، عَنْ مَطَرٍ ، عَنْ شَهْرٍ يَعْنِي ابْنَ حَوْشَبٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : مَنْ صَامَ يَوْمَ ثَمَانِيَةَ عَشْرَةَ مَنْ ذِي الْحِجَّةِ كُتِبَ لَهُ صِيَامُ سِتِّينَ شَهْرًا ، وَهُوَ يَوْمُ غَدِيرِ خُمٍّ ، لَمَّا أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ بِيَدِ عَلِيِّ ابْنِ أَبِي طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ : " أَلَسْتَ وَلِيَّ الْمُؤْمِنِينَ ؟ " ، قَالَ : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : " مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ " . فَقَالَ عُمَرُ : بَخٍ بَخٍ لَكَ يَا ابْنَ أَبِي طَالِبٍ ، أَصْبَحْتَ مَوْلَاهُ وَمَوْلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ سورة المائدة آية

অর্থাৎ (হাদিসে মারফু) কাজী আবুল কাসিম আলী বিন হুসাইন বিন আলী আত তানুখী হতে বর্ণিত। তিনি আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন উসমান হতে। তিনি আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালিম হতে। তিনি আলী বিন সাঈদ আর রকি হতে। তিনি আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দ হতে। তিনি আবু নসর হায়শুন বিন মুসা বিন আইয়ুব হাল্লাল হতে। তিনি আলী বিন সাঈদ শাফেঈ হতে। তিনি জমরা বিন রবীআ হতে। তিনি ইবনে শাওজাব হতে। তিনি মাতার হতে। তিনি শাহর ইয়ানি বিন হাওশাব হতে। তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি ১৮ জিলহজ্বের দিনে রোজা রাখে সে ৬০ মাস রোজা রাখার সমপরিমান সওয়াব পাবে। এদিনটি গাদীরে খুমের দিন। সেদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবি তালিব (আ.) এর হাত ধরে বলেছিলেন, আমি কি মুমিনদের ওয়ালী? লোকজন বললো, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা। এ কথা শুনে উমর বিন খাত্তাব বললেন, হে ইবনে আবি তালিব! আপনাকে অভিনন্দন। আপনি আমার মাওলা এবং প্রত্যেক মুমিনের মাওলা। এরপর ওহী নাজিল হলো, আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ধর্ম) পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো (সূরা মায়েদা-৩)।

সূত্রঃ ইমাম শাজরী: আল আমালিল খামিসিয়্যাহ, হাদিস নং-১৩৯।

ইমাম যাহাবী হাদিসটি সনদসহ স্বীয় কিতাব ‘আহাদিসে মুখতার’-এ উল্লেখ করেন। যেমন—

‎أبو معاذ الشاه ثنا حبشون بن موسى ثنا علي بن سعيد الرملي ثنا ضمرة عن ابن شوذب عن مطر الوراق عن شهر بن حوشب عن أبي هريرة عن النبي من صام يوم ثماني عشر من ذي الحجة كتب له صيام ستين شهرا وهو غدير خم ثم أخذ يدي علي فقال من كنت مولاه فعلى مولاه وقال له عمر بخ بخ يا ابن أبي طالب أصبحت مولاي

অর্থাৎ হযরত আবু মা’আজ আশ শাহ হতে বর্ণিত। তিনি হাবশুন বিন মুসা হতে। তিনি আলী বিন সাঈদ রমলী হতে। তিনি জমরা হতে। তিনি ইবনে শাওজাব হতে। তিনি মাতার ওয়ারাক হতে। তিনি শাহর বিন হাওশাব হতে। তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি ১৮ জিলহজ্বের দিনে রোজা রাখে সে ৬০ মাস রোজা রাখার সমপরিমান সওয়াব পাবে। এদিনটি গাদীরে খুমের দিন। সেদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবি তালিব (আ.) এর হাত ধরে বলেছিলেন, আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা। এ কথা শুনে উমর বিন খাত্তাব বললেন, হে ইবনে আবি তালিব! আপনাকে অভিনন্দন। আপনি আমার মাওলা।

অন্য এক হাদীসে বলেছেনঃ ঈদে গাদীরে খুমের একদিনের রোজা, আল্লাহর নিকট একশ’টি গহণযোগ্য হজ্জ ও ওমরার সমতুল্য।

সূত্রঃ আল-গাদীর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৮৫।

অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেনঃ গাদীরে খুমের রোজা পৃথিবীর আয়ুর (জীবনের) সমস্ত রোজার সমান, যদি কেউ এ ধরনের বয়সের অধিকারী হয় এবং সে যদি সারা জীবন রোজা রাখে।

সূত্রঃ ইকবালুল আ’মাল, পৃষ্ঠা-৪৬৩।

এটি মূলত ইসলামের পূর্ণতা লাভের দিন (সূরা মায়েদাহ: ৩)। আল্লাহর এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো এই দিনে রোজা রাখা এবং বেশি বেশি ইবাদত করা।আসুন, আগামী ১৮ জিলহজ্ব পবিত্র গাদীরে খুম দিবসে রোজা রাখি এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও বরকত লাভ করি।

#ঈদে_গাদির #গাদীরে_খুম িলহজ্ব #ইসলামিক_ফজিলত #রোজা

Address

Chittagong
4340

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আশেকে পাক পাঞ্জেতন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share