14/03/2026
রওজায়ে পাকে মহান আওলাদে রাসূল (ﷺ) শাহজাদায়ে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী,সুফীকূল সম্রাট গাউসে জামান কুতুবুল আযম, হযরত শাহসুফী আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ শফিউল বশর আল-হাচানী ওয়াল-হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী (কঃ) পবিত্র রওজা শরীফ
রওজা শরীফ ও মসজিদ কমপ্লেক্স
মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ, ফটিকছড়ি চট্টগ্রাম।
#দয়াকরে_পুরো_লেখাটি_পড়ুন ---
মহান ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রচার,প্রসার,রূপদান,নীতিমালা প্রনয়ন,বিশ্বব্যাপী এলাহি শান আজমতের সহিত ত্বরিকা প্রচারের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারসহ যাকে ইচ্ছা তাকে ফয়েজপ্রদানের মাধ্যমে বেলায়েতের বিভিন্ন মর্যাদা প্রদানের মহান অভিপ্রায়ে মহান আল্লাহ্ ও তাঁর হাবীবের (সাঃ) ইচ্ছায় যুগল গাউছুল আজমের নয়ন মণি ও আওলিয়া কেরামগনের শিরতাজ হিসেবে হজরত গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) কেবলা কাবার পবিত্র ঔরসে ১৩২৫ বঙ্গাব্দের মহান ৭ ই ফাল্গুন (ইংরেজি ১৯১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি) সোনাঝরা এক আবির রাঙা প্রভাতে জন্মগ্রহন করেন মহান ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার রূপকার ও নিশানবরদার,নীতিমালা প্রণয়নকারী,মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচারক এবং আখেরি জামানার বেলায়েত বাগিচায় এক অতুলনীয় সৌরভময় সুরভিত মহান পবিত্র সত্তা আওলাদে রাসূল (সাঃ) হজরত গাউছে জামান,কুতুবুল আজম,সূফীকুল সম্রাট শাহ্ সূফী আলহাজ্ব মাওলানা আল ছৈয়দ শফিউল বশর আল হাচানী আল মাইজভাণ্ডারী বাবাজান কেবলা কাবা।
সদমারহাবা সদমারহাবা গাউছে জামান শফি বাবা পয়দা হুয়ে,রহনুমায়ে মুলকে এরফা,গাউছে খোদা পয়দা হুয়ে।
বাবাজানের জন্মের পরপর যথাসময়ে শিশু শফি বাবাকে তাঁর পিতা ও মুর্শিদ হজরত গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারী কেবলা কাবার সমীপে হাজির করা হয়। বাবাজান কেবলা (কঃ) তাঁর মহান ঔরসজাত শিশুকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেন এবং শিশু শফি বাবাকে পরম ভালোবাসায় নিজ কোলে নিয়ে আদর করলেন এবং -- 'তিঁনি শেষ জামানা শাফি' বলে মহান পবিত্র কালাম করলেন। পরবর্তীতে 'শাফি' থেকে শিশুর নাম রাখা হয় 'শফি বা শফিউল বশর'।
গাউছে জামান শফি বাবা জন্মগত বা মাদারজাত ওলী। তাই উনার শৈশব থেকেই উনার মাঝে পূর্ণ কামালিয়াত প্রাপ্ত ওলীর গুণ পাওয়া যায়। শফি বাবার বয়স যখন তিন বা চার তখন থেকেই তাঁর মহান কেরামত প্রকাশিত হতে থাকে। শৈশব থেকেই তিনি বাবা ভাণ্ডারীর (কঃ) রুহানী ইশারায় মাইজভাণ্ডার শরীফ জিয়ারতে আগত বিভিন্ন ভক্ত আশেকানদের মনোবাসনা পূরণ করতেন। যার ফলে তিনি শৈশব থেকেই বাবা ভাণ্ডারীর (কঃ) ফয়েজপ্রাপ্ত খলিফাসহ দরবারি আশেকান,জাকেরান ও ভক্তদের নয়নমণি হিসেবে সকলের মনিকোঠায় প্রেমাষ্পদের স্থান দখল করে নেন।
হজরত গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) তাঁর ঔরসজাত প্রিয় পুত্র,নয়নমণি ও কলিজার টুকরা প্রিয় ছোট শাহাজাদা শফি বাবাকে তাঁর যথাযোগ্য স্থলাভিষিক্ত হিসেবে শফি বাবার জন্মের পর হতেই বাবাজান কেবলা (কঃ) ইশারা ইঙ্গিত ও স্বপ্নযোগে তাঁর আওলাদে পাকগন, ফয়েজপ্রাপ্ত খলিফা ও আশেকানদের অবহিত করেন। যার ফলশ্রুতিতে শফি বাবা তাঁর শৈশব থেকেই আওলাদে পাক,পিতার খলিফাগন এবং আশেকানদের নয়নমণি হিসেবে সকলের হ্নদয়ে স্থান দখল করে নেন।
প্রিয় পিতা ও মুর্শিদ হজরত গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারীর (কঃ) উফাত পরবর্তী সময় থেকেই শফি বাবা মহান ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রচার,প্রসার,নীতিমালা প্রনয়ন সহ সার্বিক দিক থেকে ত্বরিকা প্রচারের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম প্রচারে নিজ প্রান আঞ্জাম করে দেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪১ সালে তিনি মাত্র ২২ বছর বয়সে আওলাদে রাসূল (সাঃ) মাইজভাণ্ডারী আওলাদে পাক হিসেবে তৎকালীন বার্মা (মিয়ানমার) সফরের মাধ্যমে মহান ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়াকে সর্বপ্রথম বিশ্ব দরবারে ব্যাপক শান আজমতের সহিত তুলে ধরেন।
বার্মা সফর ছাড়াও পরবর্তীতে এশিয়া,ইউরোপ,মধ্যপ্রাচ্য ভারত,ফিলিস্থিন,লিবিয়া,মিশর,সৌদিআরব,লন্ডন,মানচেষ্টার এবং বামিংহোম সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা প্রচার প্রসারে বে-মিসাল ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। এই সকল দেশে ত্বরিকা প্রচারের মাধ্যমে অগণিত দেশি-বিদেশি ভক্ত আশেকানদের বায়াত প্রদান করেন।
শুধুমাত্র দরবারের বাইরের বাইরের মানুষদের কে শফি বাবাজান বায়াত দান করেননি বরং মহান যুগল গাউছুল আজমের হুকুম প্রাপ্ত হয়ে মাইজভাণ্ডার শরীফের অনেক আওলাদে পাকগন প্রিয় মুর্শিদ গাউছে জামান শফি বাবার নিকট বায়াত হওয়ার মাধ্যমে শফি বাবার ফয়েজপ্রাপ্ত হয়ে তাঁহারাও শফি বাবাজানের হুকুমে মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা প্রচার প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন।
ত্বরিকা প্রচার প্রসারে শফি বাবাজান বাংলাদেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন দেশের যোগ্যতাসম্পন্ন আশেকানদের ফয়েজ প্রদানের মাধ্যমে খেলাফত দান করেন। বাবাজানের বিদেশি প্রতিনিধি বা খলিফাদের মধ্যে মিয়ানমার,ভারত,পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকগন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যারা গাউছে জামান শফি বাবার আদর্শে মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার অমীয় বাণী প্রচার করেছেন এবং বর্তমানেও সেই ধারাবাহিকতা তাদের দরবারগুলোতে বিরাজমান।
সূফীকুল সম্রাট ও বেলায়েতের অন্যতম মহান আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব গাউছে জামান শফি বাবা (কঃ) দেশে বিদেশে আহমদী-রহমানী বেলায়েতের উন্মোক্ত ফয়েজের মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা তাকে ফয়েজ দানের মাধ্যমে বেলায়েতের বিভিন্ন মর্যাদাসম্পন্ন পদমর্যাদা প্রদানের মাধ্যমে খোদার রাজত্ব পরিচালনায় খেদমত করার সুযোগ দান করতেন। বাবাজানের উন্মোক্ত বেলায়েতের মাধ্যমে গাউছ,কুতুব,আবদাল,পীর,ফকির,দরবেশ,,কবি, সাহিত্যিক,এবং ইসলামী গবেষক সহ অগণিত মহামানব সৃষ্টি হয়েছে,বর্তমানেও বাবাজানের উফাত পরবর্তী সময়েও হচ্ছে এবং যা কিয়ামত পর্যন্ত এই উন্মোক্ত বেলায়েতের ফায়েজ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
গাউছে জামান শফি বাবার শান আজমতে হাজার হাজার নাত,গজল,শান,কছিদা এবং মাইজভাণ্ডারী কালাম রচিত হয়েছে যার কিঞ্চিৎ অংশ বর্তমান সামাজিক মাধ্যম গুলোতে চোখ বুলালেও তা খুব সহজেই অনুভব করা যায়।
গাউছে জামান শফি বাবার মহান আদর্শ হ্নদয়ে লালন করে ও শফি বাবাজানের হুকুম অনুযায়ী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিগত সুদীর্ঘ ৪০ বছর যাবত থেকে বর্তমানেও মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা প্রচার প্রসারের মাধ্যমে করে কোটি কোটি আশেকানে মাইজভাণ্ডারীদের প্রেপাষ্পদ হিসেবে বিশ্বব্যাপী নিরলসভবে ইসলাম প্রচার করে যাচ্ছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ, রাহনুমায়ে শরিয়ত ও ত্বরিকত,তাজুল আশেকিন,শাজ্জাদানশীন শাহাজাদায়ে গাউছুল আজম হজরত শাহ্ সূফী আলহাজ্ব মাওলানা আল ছৈয়দ মুজিবুল বশর আল হাচানী আল মাইজভাণ্ডারী বাবাজান কেবলা কাবা।
সুতরাং যুগল গাউছুল আজমের পরবর্তীতে বেলায়েতের সুমহান উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত বিশ্বের গৌরব,আওলিয়াদের শিরতাজ ও নয়নমণি,কাশফ ও কারামাতের ভাণ্ডার,সূফীকুল সম্রাট,কুতুবুল আজম,সূফীরাজ,গাউছে জামান দয়াল শফি (কঃ) বাবাজান কেবলা কাবা মহান ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার রূপকার ও নিশানবরদার,নীতিমালা ও আইন প্রণেতা,উন্মোক্ত ফায়েজ দানের মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা তাকে বেলায়েতের মর্যাদায় ভূষিতকরন সহ যুগল গাউছুল আজমের পর মহান ত্বরীকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ত্বরিকা প্রচারক হিসেবে কোটি কোটি আশেকানে মাইজভাণ্ডারীদের অন্তরে কিয়ামত পর্যন্ত প্রেমাষ্পদ হিসেবে অধিষ্ঠিত রয়েছেন ইনশাআল্লাহ।
লেখক : ইয়াসির আরাফাত মাইজভাণ্ডারী।।