ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির।

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির।

ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির। ভান্তের জীবন দর্শন সম্পর্কে জানা

15/08/2026

বৌদ্ধধর্মানুসারে সংসারের শেষ কোথায়?

ভূমিকা
বৌদ্ধধর্মে সংসার (Saṃsāra) বলতে জন্ম, জরা, ব্যাধি, মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের অবিরাম চক্রকে বোঝানো হয়। যতদিন জীবের মধ্যে অবিদ্যা (Avijjā), তৃষ্ণা (Taṇhā) ও উপাদান (Upādāna) বিদ্যমান থাকে, ততদিন সে কর্মের দ্বারা পরিচালিত হয়ে এক জীবন থেকে অন্য জীবনে প্রবাহিত হয়। বুদ্ধের শিক্ষা অনুসারে সংসারের কোনো নির্দিষ্ট স্থানিক শেষ নেই; বরং এর শেষ হলো নির্বাণ (Nibbāna) লাভের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যুর চক্রের অবসান।

১. সংসারের ধারণা
পালি Saṃsāra শব্দের অর্থ হলো "বারবার প্রবাহিত হওয়া" বা "ঘুরে বেড়ানো"। জীব কর্মের (Kamma) প্রভাবে বিভিন্ন গতি বা অস্তিত্বে জন্মগ্রহণ করে—
দেবলোকে,
মনুষ্যলোকে,
তির্যকযোনিতে,
প্রেতলোকে,
নরকলোকে।
এই জন্ম-মৃত্যুর ধারাবাহিকতাই সংসার।

বুদ্ধ বলেছেন—
"Anamataggoyaṃ bhikkhave saṃsāro"
অর্থ: "হে ভিক্ষুগণ, এই সংসারের কোনো আদি-অন্ত খুঁজে পাওয়া যায় না।"

অর্থাৎ সংসারের শুরু নির্ণয় করা যায় না; অসংখ্য অতীত জন্ম ধরে জীব এই চক্রে আবদ্ধ।

২. সংসারের মূল কারণ
বৌদ্ধ দর্শনে সংসারের কারণকে প্রতীত্যসমুৎপাদ (Paṭiccasamuppāda) দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এর মূল সূত্র:
অবিদ্যা → সংস্কার → বিজ্ঞান → নামরূপ → ষড়ায়তন → স্পর্শ → বেদনা → তৃষ্ণা → উপাদান → ভব → জাতি → জরা-মরণ
এখানে—

(ক) অবিদ্যা (Avijjā)
চার আর্যসত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা হলো অবিদ্যা। জীব অনিত্যকে নিত্য, দুঃখকে সুখ এবং অনাত্মাকে আত্মা মনে করে।

(খ) তৃষ্ণা (Taṇhā)
ইন্দ্রিয়সুখ, অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের প্রতি আকাঙ্ক্ষাই তৃষ্ণা।

(গ) উপাদান (Upādāna)
তৃষ্ণা গভীর আসক্তিতে পরিণত হলে জীব কর্ম সৃষ্টি করে এবং পুনর্জন্মের কারণ তৈরি হয়।

৩. সংসারের শেষ কোথায়?
বৌদ্ধধর্মে সংসারের শেষ কোনো ভৌগোলিক স্থান নয়। এটি কোনো পাহাড়, সমুদ্র বা বিশেষ জগত নয়। সংসারের প্রকৃত শেষ হলো—
নির্বাণ (Nibbāna)
নির্বাণ অর্থ:
তৃষ্ণার ক্ষয়,
লোভ, দ্বেষ ও মোহের বিনাশ,
জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি।

বুদ্ধ বলেছেন—
"Khīṇā jāti, vusitaṃ brahmacariyaṃ, kataṃ karaṇīyaṃ, nāparaṃ itthattāyāti pajānāti."
অর্থ: "জন্ম ক্ষয় হয়েছে, পবিত্র জীবন সম্পন্ন হয়েছে, যা করার ছিল তা করা হয়েছে; এখন আর পুনর্জন্ম নেই।"
এটাই সংসারের চূড়ান্ত অবসান।

৪. নির্বাণই কেন সংসারের শেষ?

১. তৃষ্ণার অবসান
সংসারের প্রধান চালিকাশক্তি হলো তৃষ্ণা। যখন তৃষ্ণা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়, তখন নতুন কর্ম ও পুনর্জন্মের কারণ থাকে না।

২. কর্মের বন্ধন ছিন্ন হয়
অরহৎ ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় পূর্বকর্মের ফল ভোগ করলেও নতুন জন্মের জন্য কর্ম সঞ্চয় করেন না।

৩. অনিত্য ও অনাত্ম জ্ঞান লাভ
যিনি সমস্ত অস্তিত্বের অনিত্যতা, দুঃখ ও অনাত্ম প্রকৃতি উপলব্ধি করেন, তাঁর মধ্যে আসক্তি থাকে না।

৫. অরহত্ত্ব ও সংসারের অবসান
বৌদ্ধধর্মে অরহৎ (Arahat) হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি—
দশ সংযোজন (Saṃyojana) ধ্বংস করেছেন,
লোভ, দ্বেষ ও মোহ নির্মূল করেছেন,
নির্বাণ উপলব্ধি করেছেন।
মৃত্যুর পর অরহতের ক্ষেত্রে বলা হয়—
Parinibbāna (পরিনির্বাণ)
অর্থাৎ পুনরায় কোনো জন্ম গ্রহণ করতে হয় না।

৬. সংসারের শেষ সম্পর্কে বুদ্ধের শিক্ষা
বুদ্ধ সংসারের শুরু খোঁজার চেয়ে সংসারের শেষ করার পথকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ অতীতের শুরু জানা নয়, বরং বর্তমান দুঃখের অবসান করাই মানুষের প্রকৃত লক্ষ্য।

তিনি শিক্ষা দিয়েছেন—
চার আর্যসত্য (Cattāri Ariyasaccāni):
১. দুঃখ (Dukkha) — সংসার দুঃখময়।
২. দুঃখসমুদয় (Dukkhasamudaya) — তৃষ্ণা দুঃখের কারণ।
৩. দুঃখনিরোধ (Dukkhanirodha) — তৃষ্ণার ক্ষয়ে দুঃখের অবসান সম্ভব।
৪. দুঃখনিরোধগামিনী প্রতিপদা — অষ্টাঙ্গিক মার্গ মুক্তির পথ।

৭. সংসারের শেষের পথ
সংসার থেকে মুক্তির জন্য বুদ্ধ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ শিক্ষা দিয়েছেন—

প্রজ্ঞা (Paññā)
১. সম্যক দৃষ্টি (Sammā Diṭṭhi)
২. সম্যক সংকল্প (Sammā Saṅkappa)

শীল (Sīla)
৩. সম্যক বাক্য
৪. সম্যক কর্ম
৫. সম্যক আজীবিকা

সমাধি (Samādhi)
৬. সম্যক প্রচেষ্টা
৭. সম্যক স্মৃতি
৮. সম্যক সমাধি
এই পথ অনুশীলনের মাধ্যমে তৃষ্ণা ক্ষয় হয় এবং নির্বাণ লাভ হয়।

৮. সংসারের শেষ সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত বিশ্লেষণ
যদি সংসারের কারণ থাকে, তবে তার ফলও থাকবে। বৌদ্ধ যুক্তি অনুযায়ী—
কারণ = অবিদ্যা ও তৃষ্ণা
ফল = জন্ম, জরা, মৃত্যু ও দুঃখ
যদি কারণ ধ্বংস করা যায়, তবে ফলও ধ্বংস হয়। যেমন প্রদীপে তেল ও সলতে না থাকলে আগুন নিভে যায়, তেমনি তৃষ্ণা ও অবিদ্যা না থাকলে পুনর্জন্মের আগুনও নির্বাপিত হয়।

এ কারণে বৌদ্ধধর্মে সংসারের শেষ হলো নির্বাণ, যেখানে আর জন্ম, মৃত্যু ও দুঃখের প্রবাহ থাকে না।

উপসংহার
বৌদ্ধধর্ম অনুসারে সংসারের শেষ কোনো স্থান নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও মুক্তির অবস্থা। অবিদ্যা, তৃষ্ণা ও আসক্তির কারণে জীব সংসারে আবদ্ধ থাকে। শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার অনুশীলনের মাধ্যমে যখন তৃষ্ণা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়, তখন নির্বাণ লাভ হয়। আর নির্বাণই হলো সংসারের চূড়ান্ত শেষ—জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে পরম মুক্তি।

তথ্যসূত্র:
দীঘনিকায় (Dīgha Nikāya)
মজ্ঝিমনিকায় (Majjhima Nikāya)
সংযুক্তনিকায় (Saṃyutta Nikāya)
ধম্মপদ (Dhammapada)
অভিধর্ম পিটক (Abhidhamma Piṭaka)

ফটিকছড়ি অঞ্চলের আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, অষ্টগ্রাম ভিক্ষু সমিতির সভাপতি, নানুপুর গৌতম বিহার ও পালিডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ,প্রয়াণগ...
22/01/2026

ফটিকছড়ি অঞ্চলের আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, অষ্টগ্রাম ভিক্ষু সমিতির সভাপতি, নানুপুর গৌতম বিহার ও পালিডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ,প্রয়াণগত স্বদ্বর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্বালংকার মহাথের'র ৮০তম জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও নিবার্ণসুখ কামনায় পুণ্য দান।

-আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুরের পরিচিতি--আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুরএই মহাবিশ্বে তথাগত গৌতম বুদ্ধের অমৃত বা...
15/01/2026

-আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুরের পরিচিতি--

আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুর
এই মহাবিশ্বে তথাগত গৌতম বুদ্ধের অমৃত বাণী অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী, করুণা, উপেক্ষাকে ধারণ করে ও চারি আর্য্যসত্য, অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথকে অবলম্বন করে যাঁরা এ দুর্লভ মনুষ্য জীবনকে ধ্যান সাধনায় নিমগ্ন থেকে কলুষিত অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করেছেন এবং দুঃখ-মুক্তির অন্বেষণের মাধ্যমে পরম সুখ নির্বানকে প্রত্যক্ষ করতে পেরেছেন তাঁদের মধ্যে আধ্যাত্মিক সাধক, সিদ্ধ পুরুষ গুরু গৌবিন্দ ঠাকুর অন্যতম। পরম পূজ্য গুরু গোবিন্দ ঠাকুর ঊনবিংশ শতাব্দীর আশির দশকের ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে আষাঢের ঘন বরিষণে বারিধারা স্নাত এই বাংলার গ্রামীণ জনপদে ধরাধামে আর্ভিভুত হন। বীর প্রসবিনী চট্টলার হাটহাজারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুর্মানমদ্দন বৌদ্ধ জনপদে ছিল তাঁর পৈত্রিক নিবাস। তাঁর পিতা ফেজারাম বড়ুয়া-এই গুমার্নমদ্দন গ্রাম থেকে ছুটে আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জোবরা গ্রামে। পিতা-মাতার তিন পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় পুত্র। জন্মের পরে তাঁর নাম রেখেছিল গোবিন্দ বড়ুয়া। জীবন জীবিকার তাগিদে তাঁর পিতা ফেজারাম বড়ুয়া জোবরা গ্রামে যখন স্বস্ত্রীক স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তখনি শৈশব ও কৈশোরে গোবিন্দ বড়ুয়া এই জোবরা গ্রামে বেড়ে ওঠেন। কৈশোরে বেড়ে ওঠার প্রাক্কালে তাঁর পিতার সংসারে অভাব গ্রস্থতার কারণে লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ত্রৈমাসিক বর্ষবাসের শেষের দিকে শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষিত হন। তাঁর উপ-সম্পদা গুরু ছিলেন চাকমা ভিক্ষু রামমনি মহাস্থবির। ২১ বছর বয়সে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁরই প্রিয় গুরুভান্তের নিকট এ উপসম্পদা লাভ করনে। গোবিন্দ শব্দের অর্থ জেনেই তাঁর গুরু কর্তৃক গোবিন্দ বড়ুয়া থেকে গোবিন্দ শ্রামণ নাম রূপ ধারণ করেন। এভাবে গোবিন্দ শ্রামণ থেকে গোবিন্দ ভিক্ষু এবং পরবর্তীতে গুরু গোবিন্দ ঠাকুর নামে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে জোবরা গ্রামে সুগত বিহার প্রতিষ্ঠিত হলেগোবিন্দ ভিক্ষু সেখানে অবস্থান করতেন না। তিনি ষড়র বাপের বিহারে তার গুরুর পথ অনুসরন করে শ্মশানচারী হয়ে দুঃখ-মুক্তির জন্য ধ্যান-সাধনায় নিবিষ্ট হলেন। মহা সতিপট্ঠান সূত্রের মর্ম সর্ম্পকে বিশেষ ভাবে অধিগত না হলেও তিনি শ্মশানিক ধুতাঙ্গ চর্চার মাধ্যমে লোকোত্তর মার্গ ধর্মের অমৃতস্বাদ পেয়েছিলেন। তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গৌরিক বসন পরিহিত হয়ে শীলবান ভিক্ষু জীবন অতিবাহিত করেন। সুদীর্ঘ ২৬ বছরের ভিক্ষু জীবন ধ্যান-সাধনায় কেটেছিল তাঁর। বিশেষ করে তাঁর ধ্যান-সাধনার বিষয় ছিল শমথ ভাবনা। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, গোবিন্দ ভিক্ষুর আটাশ বছর বয়োপূর্তিতে স্বর্ণালী যৌবনের সকল বীর্য শক্তি, পঞ্চ নিবারণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধ্যানানুশীলনে স্বীয় আধ্যত্মিক অনুভূতির উন্নতি সাধনে খুবই বিভোর ছিলেন। গুরুর তত্ত্বাবধান ব্যতীত তাঁর ধ্যানানুশীলন চলছিল। তিনি ভয়-ভীতিময় পরিবেশে অহোরাত্রে ধ্যানমগ্ন থাকায় তাঁর প্রতি সকলের অলৌকিক অনুভূতি কাজ করছিল। এই অলৌকিক শক্তি অর্জন পরিপূর্ণ একজন আধ্যাত্মিক সাধকে পরিনত হল। তাঁর এই ধর্মের সুবাতাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। ক্রমশঃ বিকশিত করতে লাগল বুদ্ধের ধর্ম প্রচার। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্থবির অভিধায় বরিত হওয়ার বয়োপ্রাপ্ত হলেও অভিষিক্ত হতে পারেন নি। তিনি অহোরাত্র ধ্যান আসনের শ্মশান ভূমিতে পূর্বের মতো সময় না কেটে স্মৃতির সাধনায় নিজস্ব পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেন। ডানহাতের মধ্যমা উপরে রেখে তর্জনী নিচে থেকে ঘর্ষণের প্রক্রিয়ায় যে ‘তুড়ি’ উৎপন্ন হতো, তার সাথে তিনি যোগ করতেন ‘হুম মারে মা পাপ’ এই অমোঘ উচ্চারণ। লোভ, দ্বেষ, মোহ, মান, দৃষ্টি, বিচিকিৎসা. ইত্যাদি ক্লেশ দুঃখ উৎপত্তির কারণ। মানুষ এই ক্লেশকে আপন স্বার্থ উদ্ধারে প্রতিনিয়ত সুখ বলে জানছে। এই সুখ যে, সত্যি দুঃখ, তাই তাঁর স্মৃতি রক্ষায় এ পদ্ধতিতে মানুষকে বিজ্ঞাপিত করতেন। তিনি তাঁর লব্দ অনুভূতির নিরিখে পরের অনুভূতি নিজের মধ্যে স্পষ্ট করতে সমর্থ হতেন। এ ছাড়াও শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা এবং আধ্যাত্মিকতায় একজন পরিপূণ আলোকিত মানুষ হওয়ায় তিনি সকলের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেন । ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ থেকে আমত্যু তিনি রাউজান উপজেলাধীন বিনাজুরীস্থ ইদিলপুরে সর্বানন্দ বড়ুয়ার গৃহে অহোরাত্র যাপন করতেন। অনুভুতির গভীরতায় তিনি সমৃদ্ধ ছিলেন। তাই কোন গ্রামে কোন ভক্ত তাঁকে স্মরণ করলে তিনি তা জানতে পারতেন।পরে সেই ভক্তের কাছে ছুটে যেতেন। এভাবে তাঁর আধ্যাত্মিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল। এ যুদ্ধে দুর্ভিক্ষ, দূরাচার, অত্যাচার, সমাজ কাঠামোকে খুবই বিপন্ন করে তুলেছিল। এই গুরু ঠাকুর ছিলেন আত্মজয়ী। তাঁর জ্ঞানে বিধৃত হয়েছিল সংসারের সব সংস্কার ব্যয়ধর্মী অর্থাৎ পরিবর্তনশীল। যিনি নিজে প্রতিনিয়ত নিজের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনিই আত্মজয়ী। এই মহাসাধক ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ আগস্ট, শুক্রবার, ১৬ ভাদ্র পারলৌকিক নির্বাণ যাত্রায় চির শায়িত হন। তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে রাউজানের ইদিলপুরে এবং হাটহাজারীর জোবরা গ্রামে ২টি পৃথক স্মৃতি মন্দির গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর তাঁর স্মৃতি মন্দির এলাকাজুড়ে ১৫ জানুয়ারি, ২ মাঘ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুর ও উপ-সংঘরাজ গুণালংকার স্মরণে নানা ধর্মীয় উৎসব ও মেলা। এই মহাপুরুষের শ্মশানভূমি গোবিন্দ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত পূর্ব ইদিলপুর শাক্যমুণি বিহার এ ২ দিনব্যাপী মাঘী পূর্ণিমার মেলা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সাধু সাধু সাধু।
জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।
সংগৃহীত :-

Address

Chittagong

Telephone

+8801857652692

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির।:

Shortcuts

Share