ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির।

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির।

ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির। ভান্তের জীবন দর্শন সম্পর্কে জানা

ফটিকছড়ি অঞ্চলের আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, অষ্টগ্রাম ভিক্ষু সমিতির সভাপতি, নানুপুর গৌতম বিহার ও পালিডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ,প্রয়াণগ...
22/01/2026

ফটিকছড়ি অঞ্চলের আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, অষ্টগ্রাম ভিক্ষু সমিতির সভাপতি, নানুপুর গৌতম বিহার ও পালিডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ,প্রয়াণগত স্বদ্বর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্বালংকার মহাথের'র ৮০তম জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও নিবার্ণসুখ কামনায় পুণ্য দান।

-আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুরের পরিচিতি--আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুরএই মহাবিশ্বে তথাগত গৌতম বুদ্ধের অমৃত বা...
15/01/2026

-আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুরের পরিচিতি--

আধ্যাত্মিক সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুর
এই মহাবিশ্বে তথাগত গৌতম বুদ্ধের অমৃত বাণী অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী, করুণা, উপেক্ষাকে ধারণ করে ও চারি আর্য্যসত্য, অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথকে অবলম্বন করে যাঁরা এ দুর্লভ মনুষ্য জীবনকে ধ্যান সাধনায় নিমগ্ন থেকে কলুষিত অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করেছেন এবং দুঃখ-মুক্তির অন্বেষণের মাধ্যমে পরম সুখ নির্বানকে প্রত্যক্ষ করতে পেরেছেন তাঁদের মধ্যে আধ্যাত্মিক সাধক, সিদ্ধ পুরুষ গুরু গৌবিন্দ ঠাকুর অন্যতম। পরম পূজ্য গুরু গোবিন্দ ঠাকুর ঊনবিংশ শতাব্দীর আশির দশকের ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে আষাঢের ঘন বরিষণে বারিধারা স্নাত এই বাংলার গ্রামীণ জনপদে ধরাধামে আর্ভিভুত হন। বীর প্রসবিনী চট্টলার হাটহাজারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুর্মানমদ্দন বৌদ্ধ জনপদে ছিল তাঁর পৈত্রিক নিবাস। তাঁর পিতা ফেজারাম বড়ুয়া-এই গুমার্নমদ্দন গ্রাম থেকে ছুটে আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জোবরা গ্রামে। পিতা-মাতার তিন পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় পুত্র। জন্মের পরে তাঁর নাম রেখেছিল গোবিন্দ বড়ুয়া। জীবন জীবিকার তাগিদে তাঁর পিতা ফেজারাম বড়ুয়া জোবরা গ্রামে যখন স্বস্ত্রীক স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তখনি শৈশব ও কৈশোরে গোবিন্দ বড়ুয়া এই জোবরা গ্রামে বেড়ে ওঠেন। কৈশোরে বেড়ে ওঠার প্রাক্কালে তাঁর পিতার সংসারে অভাব গ্রস্থতার কারণে লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ত্রৈমাসিক বর্ষবাসের শেষের দিকে শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষিত হন। তাঁর উপ-সম্পদা গুরু ছিলেন চাকমা ভিক্ষু রামমনি মহাস্থবির। ২১ বছর বয়সে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁরই প্রিয় গুরুভান্তের নিকট এ উপসম্পদা লাভ করনে। গোবিন্দ শব্দের অর্থ জেনেই তাঁর গুরু কর্তৃক গোবিন্দ বড়ুয়া থেকে গোবিন্দ শ্রামণ নাম রূপ ধারণ করেন। এভাবে গোবিন্দ শ্রামণ থেকে গোবিন্দ ভিক্ষু এবং পরবর্তীতে গুরু গোবিন্দ ঠাকুর নামে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে জোবরা গ্রামে সুগত বিহার প্রতিষ্ঠিত হলেগোবিন্দ ভিক্ষু সেখানে অবস্থান করতেন না। তিনি ষড়র বাপের বিহারে তার গুরুর পথ অনুসরন করে শ্মশানচারী হয়ে দুঃখ-মুক্তির জন্য ধ্যান-সাধনায় নিবিষ্ট হলেন। মহা সতিপট্ঠান সূত্রের মর্ম সর্ম্পকে বিশেষ ভাবে অধিগত না হলেও তিনি শ্মশানিক ধুতাঙ্গ চর্চার মাধ্যমে লোকোত্তর মার্গ ধর্মের অমৃতস্বাদ পেয়েছিলেন। তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গৌরিক বসন পরিহিত হয়ে শীলবান ভিক্ষু জীবন অতিবাহিত করেন। সুদীর্ঘ ২৬ বছরের ভিক্ষু জীবন ধ্যান-সাধনায় কেটেছিল তাঁর। বিশেষ করে তাঁর ধ্যান-সাধনার বিষয় ছিল শমথ ভাবনা। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, গোবিন্দ ভিক্ষুর আটাশ বছর বয়োপূর্তিতে স্বর্ণালী যৌবনের সকল বীর্য শক্তি, পঞ্চ নিবারণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধ্যানানুশীলনে স্বীয় আধ্যত্মিক অনুভূতির উন্নতি সাধনে খুবই বিভোর ছিলেন। গুরুর তত্ত্বাবধান ব্যতীত তাঁর ধ্যানানুশীলন চলছিল। তিনি ভয়-ভীতিময় পরিবেশে অহোরাত্রে ধ্যানমগ্ন থাকায় তাঁর প্রতি সকলের অলৌকিক অনুভূতি কাজ করছিল। এই অলৌকিক শক্তি অর্জন পরিপূর্ণ একজন আধ্যাত্মিক সাধকে পরিনত হল। তাঁর এই ধর্মের সুবাতাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। ক্রমশঃ বিকশিত করতে লাগল বুদ্ধের ধর্ম প্রচার। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্থবির অভিধায় বরিত হওয়ার বয়োপ্রাপ্ত হলেও অভিষিক্ত হতে পারেন নি। তিনি অহোরাত্র ধ্যান আসনের শ্মশান ভূমিতে পূর্বের মতো সময় না কেটে স্মৃতির সাধনায় নিজস্ব পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেন। ডানহাতের মধ্যমা উপরে রেখে তর্জনী নিচে থেকে ঘর্ষণের প্রক্রিয়ায় যে ‘তুড়ি’ উৎপন্ন হতো, তার সাথে তিনি যোগ করতেন ‘হুম মারে মা পাপ’ এই অমোঘ উচ্চারণ। লোভ, দ্বেষ, মোহ, মান, দৃষ্টি, বিচিকিৎসা. ইত্যাদি ক্লেশ দুঃখ উৎপত্তির কারণ। মানুষ এই ক্লেশকে আপন স্বার্থ উদ্ধারে প্রতিনিয়ত সুখ বলে জানছে। এই সুখ যে, সত্যি দুঃখ, তাই তাঁর স্মৃতি রক্ষায় এ পদ্ধতিতে মানুষকে বিজ্ঞাপিত করতেন। তিনি তাঁর লব্দ অনুভূতির নিরিখে পরের অনুভূতি নিজের মধ্যে স্পষ্ট করতে সমর্থ হতেন। এ ছাড়াও শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা এবং আধ্যাত্মিকতায় একজন পরিপূণ আলোকিত মানুষ হওয়ায় তিনি সকলের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেন । ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ থেকে আমত্যু তিনি রাউজান উপজেলাধীন বিনাজুরীস্থ ইদিলপুরে সর্বানন্দ বড়ুয়ার গৃহে অহোরাত্র যাপন করতেন। অনুভুতির গভীরতায় তিনি সমৃদ্ধ ছিলেন। তাই কোন গ্রামে কোন ভক্ত তাঁকে স্মরণ করলে তিনি তা জানতে পারতেন।পরে সেই ভক্তের কাছে ছুটে যেতেন। এভাবে তাঁর আধ্যাত্মিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল। এ যুদ্ধে দুর্ভিক্ষ, দূরাচার, অত্যাচার, সমাজ কাঠামোকে খুবই বিপন্ন করে তুলেছিল। এই গুরু ঠাকুর ছিলেন আত্মজয়ী। তাঁর জ্ঞানে বিধৃত হয়েছিল সংসারের সব সংস্কার ব্যয়ধর্মী অর্থাৎ পরিবর্তনশীল। যিনি নিজে প্রতিনিয়ত নিজের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনিই আত্মজয়ী। এই মহাসাধক ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ আগস্ট, শুক্রবার, ১৬ ভাদ্র পারলৌকিক নির্বাণ যাত্রায় চির শায়িত হন। তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে রাউজানের ইদিলপুরে এবং হাটহাজারীর জোবরা গ্রামে ২টি পৃথক স্মৃতি মন্দির গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর তাঁর স্মৃতি মন্দির এলাকাজুড়ে ১৫ জানুয়ারি, ২ মাঘ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় সাধক গুরু গোবিন্দ ঠাকুর ও উপ-সংঘরাজ গুণালংকার স্মরণে নানা ধর্মীয় উৎসব ও মেলা। এই মহাপুরুষের শ্মশানভূমি গোবিন্দ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত পূর্ব ইদিলপুর শাক্যমুণি বিহার এ ২ দিনব্যাপী মাঘী পূর্ণিমার মেলা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সাধু সাধু সাধু।
জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।
সংগৃহীত :-

15/10/2025
08/10/2025

শুভ প্রবারণা।
নানুপুর গৌতম বিহার।

পূণ‍্যই সকলের রক্ষকড. বরসম্বোধি ভিক্ষুভগবান তথাগত বুদ্ধ বলেছেন-‘পূণ‍্যই সকল মানুষের রক্ষক। পূণ‍্যই সকলের অভিভাবক এবং পূণ...
22/06/2025

পূণ‍্যই সকলের রক্ষক

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

ভগবান তথাগত বুদ্ধ বলেছেন-‘পূণ‍্যই সকল মানুষের রক্ষক। পূণ‍্যই সকলের অভিভাবক এবং পূণ‍্যই সকল সুখের মূল।’ বুদ্ধ আরো বলেছেন-‘ভিক্ষুগণ! পূণ‍্য কর্ম করতে কেহ ভয়ভীত হবেনা। পূণ‍্য কর্ম করার জন‍্য কেহ লজ্জিত হবেনা। কেননা পূণ‍্যই হল সমস্ত সুখের উৎস।’ এখন গম্ভীর প্রশ্ন হল পূণ‍্য কর্ম কি এবং তা কিভাবে অর্জন করতে হবে?

এর উত্তর পাওয়ার পূর্বে আমাদের সবসময় মনে করতে হবে যে, দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সমস্ত সুখ অনুভব করে থাকি, সেগুলি কোনো না কোনো পূণ‍্য কর্মের ফলরূপে এসে থাকে। সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে মনুষ‍্য লোকের মানবীয় সুখ, দিব‍্য সুখ, ব্রহ্মত্ব সুখ এবং লোকুত্তর নির্বাণ সুখ সবই মানুষেরা পূণ‍্যের প্রভাবেই লাভ করে থাকে।

আমর সাধারণত: পূণ‍্য কর্ম বলতে বুঝে থাকি যে, বিহারে যাওয়া, বুদ্ধকে বন্দনা করা, ফুল তোলা, প্রদীপ জ্বালানো, ধূপ জ্বালানো, নানা উপকরণ সহকারে বুদ্ধ পূজা করা, ভিক্ষুদের আহার দান করা, বিহার নির্মাণ করিয়ে দেওয়া ইত‍্যাদিকেই বেশী প্রাধান‍্য দিয়ে থাকি। সচরাচর প্রায় সাধারণ বৌদ্ধেরাই উপরি উক্ত কুশল কর্ম সমূহ কম-বেশী সম্পাদন করে থাকেন। কিন্তু এগুলি নিষ্ঠার সাথে পালন করার পরও দেখা যায় মানুষের মনে শান্তি নাই, মৈত্রী নাই, করুণা নাই, সদ্ভাব-সম্প্রীতি নাই এবং সেজন‍্য পূণ‍্য কর্ম সম্পাদনে যেভাবে সুখ-শান্তি পায় বলে বুদ্ধ বর্ণনা করেছেন বাস্তবে আমরা তা পেতে কাউকে দেখিনা। এরকম হওয়ার কারণ কি? তাহলে বুদ্ধ বচন কি মিথ‍্যা?

পূণ‍্য মানে হল এমন কর্ম যদ্বারা মন পুণীত হয়, পবিত্র হয়, নির্মল হয় এবং শুদ্ধ হয়। মন পুনীত, পবিত্র, নির্মল ও শুদ্ধ হয় একমাত্র লোভ শূণ‍্য হলে, দ্বেষ বা হিংসা-ক্রোধ শূণ‍্য হলে এবং মোহ অজ্ঞানতা শূণ‍্য হলে। মন লোভ-দ্বেষ, মোহ শূণ‍্য না হলে বা সেগুলি শূণ‍্য করার কৃত‍্য সম্পাদন না করলে মন কখনও শান্ত, শুদ্ধ, পবিত্র তথা পুণীত হয়না। আর পুণীত না হলে শান্তি-সুখের নাগাল পাওয়াও দুষ্কর।

লোভ-দ্বেষ-মোহরূপ চিত্ত মলিনতা নির্মূল হয় একমাত্র ধ‍্যানাদি কর্ম সম্পাদনের দ্বারা। তাই যারা প্রকৃত সুখ লাভের প্রত‍্যাশী হয়, তাদেরকে অবশ্যই নির্মল চিত্তের অধিকারী হতে হবে। ভগবান তথাগত বুদ্ধ বিশ্বের সকলকে বাহিরে অন‍্য কোথা হতে সুখের প্রত‍্যাশা না করে নিজের ভিতরের অকুশল বৃত্তি সমূহ দূর করে শান্তি উৎপন্ন করতে বলেছেন। দানাদি পূণ‍্য ক্রিয়া সমূহে কোনো রকমের পক্ষপাতিত্ব না করে নি:স্বার্থভাবে সম্পাদন করতে হবে। শীলপালনে আন্তরিক ও নিষ্ঠা থাকতে হবে এবং লোভ-দ্বেষ-মোহমুক্ত নির্মল চিত্ত করতে দৃঢ়বীর্য সহকারে ভাবনা অনুশীলন করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের কায়, বাক‍্য, মন এবং আনুষাঙ্গিক অন‍্যান‍্য ইন্দ্রিয় সমূহ শান্ত-সংযত হবেনা ততক্ষণ বাস্তবিক শান্তি-সুখের নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়।

সাধারণত: লোকদেরকে দানাদি পূণ‍্য ক্রিয়া সমূহ অনুশীলনের আগ্রহ যেভাবে দেখা যায়, সেভাবে শীল পালন কিংবা ভাবনা অনুশীলন করতে দেখা যায়না। দানাদি পূণ‍্য কর্মে সাময়িক চিত্ত নির্মল হলেও তাতে স্থায়ী শুদ্ধিতা কিংবা নির্মলতা আসেনা। স্থায়ী নির্মলতা না আসলে বাস্তবিক সুখ-শান্তি লাভ করার প্রত‍্যাশা করাও অবাস্তব।

নির্মল চিত্তের অনুশীলন হল পূণ‍্য কর্ম করা এবং তাতে হয় বুদ্ধের অনুসরণ। বাক‍্য শুদ্ধিতা এবং সংযমতার অনুশীলন করা হল পূণ‍্য কর্ম সম্পাদন করা এবং তাতে হয় বুদ্ধের অনুশীলন। অহিংস, অক্রোধী, অমোহী হওয়ার অনুশীলন হল বুদ্ধ শাসনের ছায়ায় থাকা। বুদ্ধ শাসনের বাহিরে কোথাও বাস্তবিক শান্তি নাই। বিশ্বের সকলে সুখ-শান্তি চায়। কিন্তু অধিকাংশ ধর্মগুরু অফুরন্ত সুখ-শান্তি পরলোকে অর্থাৎ মৃত‍্যুর পরে পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে থাকেন। কিন্তু বুদ্ধ কাউকে মৃত‍্যুর পর শান্তি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বলেছেন, ইহ জীবনে বেঁচে থাকতে থাকতে দৈনন্দিন জীবনে সুখ-শান্তি যদি অধিগত না হয়, তাহলে মৃত‍্যুর পর তা পাওয়ার নিশ্চয়তা কি? এখানে কষ্ট করে মৃত‍্যুর পরে সুখ লাভ, তা এক প্রকার কল্পনা ব‍্যতীত অন‍্য কিছু নয়।

বুদ্ধ শাসন কিংবা বুদ্ধের শিক্ষা কোন সম্প্রদায়ের জন‍্য নয়। বুদ্ধের কাছে কোনো জাতি নেই, সম্প্রদায় নেই, কোনো কট্টর পরম্পরাও নেই। ইহা হল সুখী সুন্দর ও সদ্ভাব সততাপূর্ণ জীবন-যাপনের মার্গ। মনের লোভ—হিংসা-মোহ দূর করে সকলকে ভালবাসা, সকলকে রক্ষা করার প্রয়াস করা এবং উপকার করাই হল বুদ্ধের শিক্ষা। এগুলি অনুশীলন করতে কাউকে কারো বশ‍্যতা স্বীকার করতে হয়না। ধর্মান্তরিত হতে হয়না। যিনিই মৈত্রীকামী তিনি বুদ্ধের অনুসারী। যিনি সদাচারী তিনি বুদ্ধের অনুসারী এবং যিনি অসাম্প্রদায়িক তিনি বুদ্ধের অনুসারী। যিনি পরোপকারী তিনিই বুদ্ধের অনুসারী। যিনি অপরকে কায়ের দ্বারা আঘাত করেননা, বাক‍্যের দ্বারা আঘাত করেননা এবং মনের দ্বারা আঘাত করেননা তিনিই সত‍্যিকার বুদ্ধের অনুসারী। তিনিই বাস্তবিক পূণ‍্যবান। সর্ব প্রাণীর প্রতি দয়াশীল, যিনি অপরকে না ঠকিয়ে, অপরের সাথে প্রতারণা না করে, লোককে ভেজাল পণ‍্য না দিয়ে, ঘুষ, দুর্নীতি না করে, কুঠিলতা-শঠতা ত‍্যাগ করে সততা সহকারে জীবন-যাপন করে থাকেন, তিনিই বাস্তবিক পূণ‍্যবান এবং তিনিই বাস্তবিক সুখ-শান্তি লাভ করতে পারেন। যাঁর মধ‍্যে সকল জীবের প্রতি কল‍্যাণ ভাবনা নাই, শঠতা ভরা চিত্ত তিনি অসুখী এবং অশান্ত।

এজন‍্য প্রত‍্যককে সার্বজনীন, সার্বকালিক এবং সার্বদেশিক বুদ্ধের শিক্ষা অনুশীলন করা উচিত এবং এরূপ শিক্ষা নিজেরা অনুশীলন করে মানুষের দোরগোড়ায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব কর্তব্য। সকলের মঙ্গল হোক।

27/03/2025

অপরুপ দৃষ্টি নন্দন বৌদ্ধ বিহার।

24/03/2025

এই এক অপূর্ব দৃশ্য, দৃষ্টি নন্দন বৌদ্ধ বিহার।

পরমারাধ্য গুরুদেবের চতুর্থ প্রয়াণ বাষিকী উপলক্ষে বিনম্র বন্দনা ও পুণ্য দান।
09/03/2025

পরমারাধ্য গুরুদেবের চতুর্থ প্রয়াণ বাষিকী উপলক্ষে বিনম্র বন্দনা ও পুণ্য দান।

22/02/2025
27/01/2025

ত্রিপিটকধর এবং ত্রিপিটককোবিদ সেয়াদগণের ত্রিপিটকধর এবং ত্রিপিটককোবিদ হওয়ার সময় বয়স ও বর্ষা –

১। ভদন্ত ৰিচিত্তসারাভিৰংস মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪২ বছর, পরীক্ষার বয়স ৪ বছর।
২। ভদন্ত নেমিন্দ মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৩২ বছর, পরীক্ষার বয়স ৬ বছর।
৩। ভদন্ত কোসল্ল থের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৩৬ বছর, পরীক্ষার বয়স ৯ বছর।
৪। ভদন্ত সুমঙ্গলালঙ্কার থের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ২৭ বছর, পরীক্ষার বয়স ৬ বছর।
৫। ভদন্ত সিরিন্দাভিৰংস মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪২ বছর, পরীক্ষার বয়স ১৫ বছর।
৬। ভদন্ত ৰামিয়ামিন্দাভিৰংস থের- ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৩৯ বছর, পরীক্ষার বয়স ১৭ বছর।
৭। ভদন্ত সীলক্খন্ধাভিৰংস থের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৩৬ বছর, পরীক্ষার বয়স ১৫ বছর।
৮। ভদন্ত ৰংসপালালঙ্কার থের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৩৪ বছর, পরীক্ষার বয়স ১৫ বছর।
৯। ভদন্ত গন্ধমালালঙ্কার থের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৩৩ বছর, পরীক্ষার বয়স ১৪ বছর।
১০। ভদন্ত সুন্দর মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪৮ বছর, পরীক্ষার বয়স ২৯ বছর।
১১। ভদন্ত ইন্দপাল মহাথের- ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪২ বছর, পরীক্ষার বয়স ২১ বছর।
১২। ভদন্ত অভিজাতাভিৰংস মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪১ বছর, পরীক্ষার বয়স ১৫ বছর।
১৩। ভদন্ত ইন্দাচরিয় মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪৭ বছর, পরীক্ষার বয়স ২৫ বছর।
১৪। ভদন্ত বিরিয়ানন্দ মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪৭ বছর, পরীক্ষার বয়স ২৫ বছর।
১৫। ভদন্ত পঞ্ঞাৰংসাভিৰংস মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪৫ বছর, পরীক্ষার বয়স ১৬ বছর।
১৬। ভদন্ত পঞ্ঞাসীরিলঙ্কার মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৫৯ বছর, পরীক্ষার বয়স ৩৯ বছর।
১৭। ভদন্ত সেট্ঠঞাণালঙ্কার মহাথের - ত্রিপিটকধর হওয়ার বয়স ৪৫ বছর, অভিজ্ঞতার মেয়াদ ২৪ বছর।

এই ত্রিপিটকধর, ত্রিপিটককোবিদ সেয়াদগণের মধ্যে ২০১৯ সালে ৯ নম্বর ত্রিপিটকধর সেয়াদ ভদন্ত গন্ধমালালঙ্কার ভান্তের সাথে সোয়োডাগন প্যাগোডায় সাক্ষাত হয়।

*পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা-
ত্রিপিটকধর, ত্রিপিটককোবিদ নির্বাচন পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীর কমপক্ষে “আজিদেইন, ৰিনয়ৰিধূ, সামণেক্য (তৃতীয়স্তর)” কৃতকার্য হতে হবে। পাঠ্যক্রম ত্রিপিটকের ২০-টি গ্রন্থ মুখস্ত পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে “ত্রিপিটকধর” ডিগ্রী প্রদান করা হয়। উক্ত পাঠ্যক্রমগুলোর “অর্থকথা, টীকা, অনুটীকা, য়োজনা, গণ্ঠি, অনুগ্রণ্ঠি” ইত্যাদি গ্রন্থগুলো হতে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোকে অর্থসহ লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে “ত্রিপিটকধর, ত্রিপিটককোবিদ” ডিগ্রী প্রদান করা হয়। উক্ত ত্রিপিটকধর, ত্রিপিটককোবিদ নির্বাচন পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া ভিক্ষুর জন্য রাষ্ট্র হতে “স্থলপথ, পানিপথ, আকাশপথ” এর যাতায়াতের সমস্ত খরচসহ সাথে দুইজন ব্যক্তিকে মাসিক ভোজন দানের জন্য দান করা হয় ।

ত্রিপিটক-
বিনয়পিটক- গ্রন্থসংখ্যা ৫, খন্ড-৫, পৃষ্ঠাসংখ্যা- ২২৬০
সুত্রপিটক- গ্রন্থসংখ্যা- ৪২, খন্ড-২৩, পৃষ্ঠাসংখ্যা- ৯৫০৮
অভিধর্মপিটক- গ্রন্থসংখ্যা- ৭, খন্ড-১২, পৃষ্ঠাসংখ্যা- ৪৯৮৭

*পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত পিটক বা ত্রিপিটকধর, ত্রিপিটককোবিদ নির্বাচন পরীক্ষার পাঠ্যক্রম পিটক-
বিনয়পিটক- গ্রন্থসংখ্যা-৫, খন্ড-৫, পৃষ্ঠাসংখ্যা- ২২৬০
সূত্রপিটক- গ্রন্থসংখ্যা- ৩, খন্ড-৩, পৃষ্ঠাসংখ্যা- ৭৭৯
অভিধর্মপিটক- গ্রন্থসংখ্যা- ৭, খন্ড-১২, পৃষ্ঠাসংখ্যা- ৪৯৮৭

তিনটি পিটকের মোট ২০-টি খন্ড, সর্বমোটপৃষ্ঠা ৮০২৬টির পরীক্ষা দিতে হয়। তাই পরীক্ষাটি মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়, এবং এটি রাষ্ট্রীয় শাসন মন্ত্রণালয় আয়োজন করে।

ভদন্ত ৰিৰেকাজোতি
পুঝ ১৪ (চান লামনি) ২৫৬৮ সাসনৰস্স
২৭.১.২০২৫
ইয়াঙ্গুন, মিয়ানমার

Address

Chittagong

Telephone

+8801857652692

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to ফটিকছড়ি'র আঞ্চলিক সংঘ নায়ক, স্বদ্ধর্মধ্বজ শ্রীমৎ শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির।:

Share