পূজা পার্বণ

পূজা পার্বণ পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের উৎসাহিত করুন!�

23/06/2026

বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ৫ কোটির কম নয়!
বাংলাদেশ সরকার কেনো বারবার হিন্দুদের সংখ্যা কমিয়ে, দুর্বল করতেছে?

পুরাণে দেবী ষষ্ঠীস্বায়ম্ভুব মনুর সর্বদা তপস্যাপরায়ণ যোগীন্দ্র পুত্র হলেন প্রিয়ব্রত। তিনি বিবাহ না করে সর্বদা ঈশ্বরের স...
20/06/2026

পুরাণে দেবী ষষ্ঠী

স্বায়ম্ভুব মনুর সর্বদা তপস্যাপরায়ণ যোগীন্দ্র পুত্র হলেন প্রিয়ব্রত। তিনি বিবাহ না করে সর্বদা ঈশ্বরের সাধনায় মগ্ন থাকতে চেয়েছেন।কিন্তু পরবর্তীতে সৃষ্টির রক্ষার্থে পিতামহ ব্রহ্মার আজ্ঞায় তিনি বিবাহ করেন।বিবাহের বহুদিন পরেও তার কোন পুত্র সন্তান লাভ হয় না। পুত্রের কামনায় তিনি কশ্যপ মুনিকে দিয়ে পুত্রেষ্টি যজ্ঞ সম্পন্ন করলেন। যজ্ঞশেষে কশ্যপমুনি প্রিয়ব্রত রাজাকে একবাটি যজ্ঞের চরু প্রদান করেন। রাজা পুত্র কামনায় সেই চরু রাজমহিষীকে প্রদান করেন । রাজমহিষী যজ্ঞের সেই চরু খেয়ে গর্ভ ধারণ করলেন। রাজমহিষী কনককান্তি সম্পন্ন অপূর্ব সৌন্দর্যমণ্ডিত মৃত সন্তান প্রসব করলেন। বন্ধুবান্ধব পত্নী প্রভৃতি স্ত্রী সকলেই সেই মৃতবালককে দেখে কান্নাকাটি করতে লাগলেন।মহারাণী অপূর্ব সৌন্দর্যমণ্ডিত মৃত পুত্রকে দর্শন করে শোকে মূর্চ্ছা গেলেন। রাজা মৃতপুত্রকে কোলে করে নিয়ে অন্তেষ্টিক্রিয়া করতে শ্মশানে গমন করলেন। তিনি পুত্রকে বুকে জড়িয়ে ধরে গহন বনে কান্না করতে লাগলেন। রাজা মৃত পুত্রকে কোন প্রকারে ত্যাগ না করে, মনে আত্মহত্যার চিন্তা শুরু করে দিলেন। তিনি পুত্রশোকে সকল দিব্যজ্ঞান বিস্মৃত হয়ে গেলেন।

ইতিমধ্যে সেই গহন কাননে মহারাজ প্রিয়ব্রত শুভ্র স্ফটিক বর্ণের বহুমূল্য রত্নরাজিবিরাজিত, তেজঃপুঞ্জে সর্বদা জাজ্বল্যমান শ্বেতবস্ত্রে শোভিত নানাপ্রকার চিত্রে বিচিত্রিত এবং পুষ্পমাল্য দ্বারা অলঙ্কৃত এক বিমান দর্শন করলেন। রাজা সেই রথমধ্যে কমনীয়া মনোহারিণী শ্বেতচম্পকের ন্যায় শুভ্রবর্ণা, নিরন্তর স্থিরযৌবনা, মন্দ মন্দ হাস্য হেতু প্রসন্নবদনারবিন্দা, বিবিধ রত্নভূষণে ভূষিতা, দয়াময়ী যোগসিদ্ধা ভক্তানুগ্রহ-পরায়ণা, দেবীকে দর্শন করলেন। মৃত সন্তানকে ভূমিতে রেখে তিনি দেবীর সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে পরমাদরে দেবীর স্তব করতে শুরু করলেন। সাধ্যমত উপাচারে দেবীর পূজা করলেন। গ্রীষ্মকালীন সূর্যের মত তেজোরাশিসমুজ্জ্বল স্কন্দপ্রিয়া দেবীকে জিজ্ঞাসা করলেন:

কা তৃং সুশোভনে কান্তে কস্য কান্তাসি সুব্রতে।
কস্য কন্যা বরারোহে ধন্যা মান্যা চ যোষিতাম্ ॥
নৃপেন্দ্রস্য বচঃ শ্ৰুত্বা জগন্মঙ্গলচণ্ডিকা।
উবাচ দেবসেনা সা দেবানাং রণকারিণী।।
দেবানাং দৈত্যগ্ৰস্তানাং পুরা সেনা বভূব সা।
জয়ং দদৌ সা তেভ্যশ্চ দেবসেনা চ তেন সা।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৬.২২-২৪)

"হে বরারোহে। আপনি কি নিমিত্ত এ স্থানে উপস্থিতা হয়েছেন? হে সুব্রতে! সুশোভনে! আপনি কাঁর কামিনী এবং স্ত্রীগণের মধ্যে ধন্যা মান্যা আপনি কাঁর ঔরসজাতা কন্যা?
দেবগণের জন্য রণকারিণী-সেই দেবসেনা মঙ্গলচণ্ডিকা দৈত্যগণের বাহুবলে পীড়িত দেবগণের সেনা হয়ে তাঁদের বিজয়সাধন করে দেবসেনা নামে খ্যাত হয়েছেন।"

রাজা প্রিয়ব্রতের প্রশ্ন শুনে দেবী বললেন, "হে পৃথিবীপতে। আমি ব্রহ্মার মন হতে উৎপন্না ঈশ্বররূপিণী দেবসেনা। বিধাতা আমাকে মন হতে সৃষ্টি করে কার্তিককে সম্প্রদান করেছেন। আমি ষোড়শমাতৃকা মধ্যে স্কন্দপত্নী সুব্রতা দেবসেনা নামে মাতৃকা। জগতে ষষ্ঠী নামেও আমি বিখ্যাতা। আমি পুত্রহীন মনুষ্যকে পুত্র প্রদান করি। প্রিয়বিহীন ব্যক্তিকে প্রিয় আকাঙ্ক্ষিত বিষয় দান করি। দরিদ্রকে ধন এবং কৰ্মহীন ব্যক্তিকে শুভ কৰ্ম প্রদান করি। কর্মের ফলাফল হিসেবে জীবগণ— সুখ, দুঃখ, ভয়, শোক, হর্ষ, মঙ্গল, সম্পদ বিপদ্ প্রভৃতি অনুভব করে। কৰ্মদোষে বহুপুত্রগণের পিতাও বংশহীন হয়। স্বীয় কৰ্মবশে লোক অতিশয় রূপবানও হয়। কৃত কর্মের ফলে মৃতপুত্র, কৰ্মবশে দীর্ঘজীবী পুত্র লাভ করে। কৰ্মবশে বহু ভাৰ্য্যাশালী ব্যক্তিও ভাৰ্য্যাহীন হয়। কৃত কর্মের ফলে গুণবান পুত্র লাভ করে এবং কৰ্মদোষে অঙ্গহীন পুত্রও লাভ করে। কৃত কর্মের ফলে মানুষ ব্যাধিগ্রস্থ হয়, আবার কৃত কর্মের ফলে পুনরায় আরোগ্য লাভ করে। হে রাজা! বেদে কর্মেরই প্রাধান্য বর্ণিত।"

দেবসেনা ষষ্ঠী দেবী রাজকে এই প্রকার সান্ত্বনা দিয়ে রাজার মৃত বালককে কোলে নিয়ে পুনরুজ্জীবিত করে দিলেন। রাজা আকাশপথে দেখলেন কনককান্তি সেই সদ্যোজাত কুমার হাসছে। সন্তানকে পুনরুজ্জীবিত করে দেবসেনা ষষ্ঠী দেবীও রাজার নিকট বিদায় নিয়ে গগনপথে গমনের উদ্যমে নিলেন। ভয়ে রাজার ওষ্ঠ, কণ্ঠ, তালু শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হল। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তিনি পুনরায় দেবীর স্তব করতে শুরু করলেন।দেবী দেবসেনা রাজার স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে বেদোক্ত কৰ্মকাণ্ড তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন। দেবী বললেন, "হে স্বায়ম্ভুষ মনুপুত্র রাজন ! ত্রিলোকে তোমার আধিপত্য; অতএব স্বয়ং আমায় পূজা করত স্বীয় সাম্রাজ্যে ইহা প্রচার করতে থাক। এই সুব্রত নামক কুমার তোমার কুল-কমঙ্গ-স্বরূপ মনোহর গুণবান্ ও পণ্ডিত হবে। এই পুত্র জাতিস্মর, যোগিগণের প্রধান নারায়ণের অংশ-স্বরূপ, ব্রতাবলম্বী এবং যজ্ঞ করে ক্ষত্রিয়গণের বন্দনীয় হবে। মঙ্গলাধার মহাবলশালী সুব্রত, একাই লক্ষ মত্ত হাতির বল শরীরে ধারণ করবে। মঙ্গলময় ধনুর্দ্ধারী, গুণবান, পবিত্র পণ্ডিতগণের প্রিয়পাত্র, যোগী, জ্ঞানী, এবং তপস্বিগণের সিদ্ধিস্বরূপ এবং যশস্বী—এই পুত্র দান করে সকল সম্পত্তি শেষ করে জগতের কল্যাণ করবে।"

এ বাক্য বলে দেবী রাজাকে সেই পুত্র প্রদান করলেন । রাজাও তাঁর পুজাপ্রচারে অঙ্গীকার করলেন। দেবী দেবসনা ষষ্ঠী রাজার সম্মুখ থেকে অন্তর্হিত হলেন। জগতে এভাবেই দেবী ষষ্ঠীর পূজা প্রচলিত হল। রাজা প্রিয়ব্রত আনন্দিতচিত্তে নিজ প্রাসাদে গমন করলেন তিনি সবাইকে মৃত পুত্রের পুনরুজ্জীবিত হওয়ার বৃত্তান্ত সবাইকে বর্ণনা করলেন। প্রাসাদের রমণীগণ সেই বৃত্তান্ত শ্রবণ করে পুত্রের কল্যাণের জন্য ষষ্ঠী দেবীর পূজা করলেন। বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণগণকে বিবিধ প্রকারের দ্রব্যাদি দান করলেন। এভাবে রাজা প্রিয়ব্রত প্রতি মাসের শুক্লপক্ষীয় ষষ্ঠী তিথিতে মহোৎসব সহকারে নগরে ষষ্ঠীদেবীর পূজা শুরু করলেন।ভূমিষ্ঠ বালকগণের কল্যাণকামনায় ষষ্ঠ এবং একবিংশ দিনে যত্নপূর্বক ষষ্ঠীদেবীর পূজা করতে আদেশ করলেন। বালকগণের শুভকর কার্য্যে এবং শুভান্নপ্রাশন প্রভৃতি উপলক্ষে সর্বত্র ষষ্ঠী পূজার আদেশ করলেন। নিজেও স্বয়ং অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেবীর পূজা করতে লাগলেন। শালগ্রামশিলায়, ঘটে, বটবৃক্ষের মূলে কিংবা ভিত্তিতে পুত্তলিকা চিত্রিত করে ষষ্ঠী দেবীর পূজা করতে হয়। প্রকৃতির ষষ্ঠাংশরূপিণী, পবিত্রা, সুপ্রতিষ্ঠা, অনন্তপ্রভাযুক্ত, সুপুত্রদায়িনী, শুভদায়িনী, দয়াময়ী, জগজ্জননী, শ্বেতচম্পকবর্ণা, রত্নভূষণে বিভূষিতা এবং পরম পবিত্রা দেবী দেবসেনার উপাসনা করি—বিজ্ঞ ব্যক্তি এই প্রকারে ধ্যান করে নিজ মস্তকে পূষ্প প্রদান করবে এবং পুনরায় ধ্যান করে মূলমন্ত্র উচ্চারণপূর্বক পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়, গন্ধ, পুষ্প, দীপ, নানাপ্রকার নৈবেদ্য এবং সুস্বাদু ফল দ্বারা দেবী ষষ্ঠীর পূজা করতে হয়। মনুষ্য, “ওঁ হ্রীং ষষ্ঠীদেব্যৈ স্বাহা” এই অষ্টাক্ষর মহামূলমন্ত্র যথাশক্তি জপ করবে। এরপরে ধন, পুত্র এবং সর্বসিদ্ধিদায়ী সাম-বেদোক্ত স্তোত্রে স্তব করে শুদ্ধচিত্তে ভক্তিপূর্বক স্তব করতে হবে। দেবীর এই প্রধান অষ্টাক্ষর মহামন্ত্র—যে ব্যক্তি লক্ষবার জপ করে, নিশ্চয় সে সর্বগুণান্বিত পুত্রের পিতা হয়। দেবীভাগবতে রাজা প্রিয়ব্রত দেবীর একটি অনন্য স্তোত্র করেন:

নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ সিদ্ধ্যৈ শান্ত্যৈ নমো নমঃ।
শুভায়ৈ দেবসেনায়ৈ ষষ্ঠ্যৈ দেব্যৈ নমো নমঃ ॥
বরদায়ৈ পুত্রদায়ৈ ধনদায়ৈ নমো নমঃ ॥
সুখদায়ৈ মোক্ষদায়ৈ ষষ্ঠ্যৈ দেব্যৈ নমো নমঃ।
সৃষ্টেঃ ষষ্ঠাংশরূপায়ৈ সিদ্ধায়ৈ চ নমো নমঃ ॥
মায়ায়ৈ সিদ্ধযোগিন্যৈ ষষ্ঠীদেব্যৈ নমো নমঃ।
সারায়ৈ শারদায়ৈ চ পরাদেব্যৈ নমো নমঃ ॥
বালাধিষ্ঠাতৃদেব্যৈ চ ষষ্ঠীদেব্যৈ নমো নমঃ ।
কল্যাণদায়ৈ কল্যাণ্যৈ ফলদায়ৈ চ কৰ্মণাম্ ॥
প্রত্যক্ষায়ৈ স্বভক্তানাং ষষ্ঠ্যৈ দেব্যৈ নমো নমঃ ৷
পূজ্যায়ৈ স্কন্দকান্তায়ৈ সর্বেষাং সর্বকৰ্ম সু ॥
দেবরক্ষণকারিণ্যৈ ষষ্ঠীদেব্যৈ নমো নমঃ ।
শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপায়ৈ বন্দিতায়ৈ নৃণাং সদা ॥
হিংসাক্রোধ-বজ্জিতায়ৈ ষষ্ঠীদেব্যৈ নমো নমঃ।
ধনং দেহি প্রিয়াং দেহি পুত্রং দেহি সুরেশ্বরি ॥
মানং দেহি জয়ং দেহি দ্বিষো জহি মহেশ্বরি ।
ধর্মং দেহি যশো দেহি ষষ্ঠীদেব্যৈ নমো নমঃ॥
দেহি ভূমিং প্রজাং দেহি বিদ্যাং দেহি সুপূজিতে ৷
কল্যাণঞ্চ জয়ং দেহি ষষ্ঠীদেব্যৈ নমো নমঃ।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৬.৫৮-৬৭)

"হে মহাদেবী ! দেবদেবি ! ষষ্ঠীদেবি! তুমি সকল কার্য্যের সিদ্ধিবিধায়িনী, শান্তিরূপিণী, তোমাকে নমস্কার করি। তুমি সর্বশুভদায়িনী তোমার বরে অপুত্রক ব্যক্তিও গুণবান্ পূত্র লাভ করে। তোমার অনুগ্রহে ধন, সুখ ও মোক্ষ লাভ হয়। হে ষষ্ঠীদেবি ! অতএব তোমাকে প্রণাম করি। হে ষষ্ঠীদেবি ! তুমি প্রকৃতির ষষ্টাংশরূপিণী ; হে সিদ্ধে। তুমি নিজমায়াবলে সকলের কার্য্য সাধন কর। হে যোগিনি ! তোমাকে নমস্কার । হে সর্বকর্মসাধিকে! তুমি জগতের সারস্বরূপিণী হয়ে সারবস্ত প্রদান কর। অতএব হে ষষ্ঠীদেবি! তুমি বালকগণের অধিষ্ঠাত্রীদেবতা, তোমাকে নমস্কার করি। হে কল্যাণদায়িনি ! তুমি কল্যাণকর কৰ্মসসূহের ফলদায়িনী । হে ষষ্ঠীদেবি ! তুমি বালকদিগের বিঘ্ন বিনাশ কর, তোমাকে প্রণাম করছি। হে কার্তিককান্তে ! তুমি কর্মিগণের সকল কর্মেই পূজনীয়া এবং ভক্তগণের প্রত্যক্ষদর্শনদায়িনী। হে ষষ্ঠীদেবি ! তুমি দেবতাগণের রক্ষাকারিণী, তোমাকে নমস্কার। হে শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপিণি। হে ষষ্ঠীদেবি ! মনুষ্যগণ তোমার সদা বন্দনা করে। আমিও ভক্তিপূর্বক তোমাকে প্রণাম করছি। হে দেবদেবি ষষ্ঠীদেবি । হিংসা, ক্রোধ প্রভৃতি কুৎসিত ধৰ্ম তোমাকে স্পর্শও করতে পারে না। তোমার চরণে ভক্তিপূৰ্বক প্ৰণত আমি । আমাকে ধন, প্রিয়া, পুত্র, ধৰ্ম, যশ দান কর। হে ষষ্ঠীদেবি ! তোমাকে নমস্কার করছি । হে পূজ্যে ! আমাকে রাজ্য, প্রজা এবং বিদ্যা প্রদান কর। হে ষষ্ঠীদেবি ! আমাকে কল্যাণ এবং জয় দান করুন, আপনাকে নমস্কার করি।"

দেবী ষষ্ঠীই কার্তিকের শক্তিস্বরূপা সুব্রতা দেবসেনা কৌমারী। এই দেবসেনা কৌমারীকে অসুরবিনাশিনী রূপে শ্রীচণ্ডীর উত্তরচরিত্রে দেখা যায়। দেবী ময়ূরবাহনা হয়ে রক্তবীজ বধে উদ্যত হন। তিনি এক অচিন্ত্য, অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের আদিশক্তি। আবার তিনিই ব্রহ্মাণী আদি অষ্ট মাতৃকারূপে অষ্ট মূর্তিতে বিরাজিতা।

কৌমারী শক্তিহস্তা চ ময়ূরবরবাহনা ।
যোদ্ধুমভ্যাযযৌ দৈত্যানম্বিকা গুহরূপিণী ॥
(শ্রীচণ্ডী:৮.১৭)

"কার্তিকেয়রূপিণী দেবী কৌমারী শ্রেষ্ঠ ময়ূরে আরোহণপূর্বক শক্তি নামক অস্ত্র হাতে নিয়ে দৈত্যগণের সাথে যুদ্ধ করতে আসলেন।"

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

আবারও ময়মনসিংহ সিটি মহাশ্মশান নিয়ে... শ্মশানের সৎকার কাজ পরিচালনা ও পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত প্রায় দশটি পরিবার প্রায় পঞ্...
21/04/2026

আবারও ময়মনসিংহ সিটি মহাশ্মশান নিয়ে...

শ্মশানের সৎকার কাজ পরিচালনা ও পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত প্রায় দশটি পরিবার প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে শ্মশানের পাশে বসবাস করে আসছে। আজ হঠাৎ করে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মোঃ মানিক নামে একজন রাজনৈতিক নেতা পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই সেখানে দলবল নিয়ে যায় এবং সেই জায়গাকে নিজের বলে দাবী করে। তিনি সেখানে খুঁটি স্থাপন করে সীমানা নির্ধারণ করে এসেছে!

(এই ঘটনা নতুন নয়! গত ২/৩ বছর পূর্বেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রিয়াদ ফয়সাল শুভ এই জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়!)

আজ অনেক খুঁজাখুঁজির পর শ্মশান কমিটির সভাপতিকে এই ঘটনা জানাই আমি। তাঁর বক্তব্য হলো - "শ্মশানের জায়গা আছেই কি, আর নিবেই কি! শ্মশানের উন্নয়নের জন্য টাকা দরকার। আমাদের টাকা নাই।" এবং সে আমাকে এই ব্যাপারে শহরের আরেকটি মন্দিরের কোনো একজন সম্পাদকের সাথে কথা বলতে বললেন...।

তারমানে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? বর্তমান শ্মশান কমিটি জাস্ট নামে মাত্র রয়েছে; এঁরা কোনোকিছু করার ক্ষমতা রাখে না!

সকলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, শ্মশানের জায়গা কম নয়; সেটা একদম ব্রহ্মপুত্র নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। নদীর ঐ পাড়েও বেদখল শ্মশানের জায়গা রয়েছে। অনতিবিলম্বে যদি বাউন্ডারি দেওয়া না যায় তাহলে আর ভবিষ্যতে এই জায়গা উদ্ধার সম্ভব হবে না।

আরোকিছু সমস্যা -

১. শ্মশানের নিচ দিয়ে মাটি ক্ষয় হতে হতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোনোসময় উপরের ঢালাই ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মেইন মন্দিরের একদিকের নিচের মাটি ক্ষয় হয়ে গেছে! শ্মশানের পিছনের দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধির ২/৩টা স্মৃতিফলকও ধ্বসে পড়ে গিয়েছে।

২. দিনে-রাতে অবাধে নেশাদ্রব্য গ্রহণ চলছে! মন্দিরের ভেতরেই ছিনতাইসহ নানা ধরনের ঝামেলা হচ্ছে কিছুদিন পরপর!

৩. ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় আশেপাশের মানুষজন শ্মশানের রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে!

৪. শ্মশান থেকে নদী পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তার ভয়াবহ অবস্থা! বর্ষাকালে ও রাত্রিবেলা নদী পর্যন্ত যাওয়া-আসা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠে!

এরকম অনেক সমস্যাই রয়েছে; সমাধানও আছে। কিন্তু সবচেয়ে আগে আমাদের বর্তমান যেটা প্রয়োজন তা হলো শ্মশান কমিটি পুনর্গঠন করা। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে -
১. শ্মশানের উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ, ধার্মিক, স্পষ্টভাষী ও কর্মঠ লোকদের দ্বায়িত্ব দিতে হবে।
২. উল্লেখসংখ্যক ঐ এলাকার লোকদের কমিটিতে রাখতে হবে।
৩. শহরের যুব সমাজকে শ্মশান কমিটিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাখতে হবে।

অন্যান্য মন্দির কমিটির মতো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কমিটির দ্বায়িত্ব দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শ্মশান থাকবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।

-উদ্দীপ সরকার প্রান্ত
সভাপতি
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট
ময়মনসিংহ জেলা শাখা

বুয়েট উপাসনালয় থেকে প্রকাশিত ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বর্ষপঞ্জী………অলঙ্করণ ও শব্দবিন্যাস: নির্লিপ্তা মজুমদার শ্রেয়াসংগ্রহ
14/04/2026

বুয়েট উপাসনালয় থেকে প্রকাশিত ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বর্ষপঞ্জী………
অলঙ্করণ ও শব্দবিন্যাস: নির্লিপ্তা মজুমদার শ্রেয়া

সংগ্রহ

শ্রী হনুমান জ্বী কি আদো কোনো পশু ছিলেন নাকি মনুষ্য ?মানুষ ইতিহাসে বন্দি, এবং ইতিহাস মানুষে।— জেমস বাল্ডুইন এর উক্তি থেকে...
01/04/2026

শ্রী হনুমান জ্বী কি আদো কোনো পশু ছিলেন নাকি মনুষ্য ?

মানুষ ইতিহাসে বন্দি, এবং ইতিহাস মানুষে।

— জেমস বাল্ডুইন এর উক্তি থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি আমাদের আদর্শ ও অনুপ্রেরণার জন্য ইতিহাস কতটুকু প্রয়োজনীয়। সনাতনীদের ইতিহাস খুবই বর্ণিল এবং গৌরবের। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইতিহাসও বহু বিতর্ক ও অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয় যা ইতিহাসকে করে তোলে সংশয়ী।

তেমনি একটি ইতিহাস আমাদের গর্বের ও গৌরবের রামায়ণ। যা শুধু এক অনবদ্য ঐতিহাসিক গ্রন্থই নয় বরং তার রয়েছে ন্যায়, নৈতিকতা ও কর্তব্যের এক আদর্শ। সে মহান গ্রন্থের একটি সুপ্রসিদ্ধ চরিত্র শ্রী হনুমানজ্বী। কিন্তু সে ঐতিহাসিক চরিত্রকে নিয়ে রয়েছে কিছু সংশয়, বিতর্ক। যা দ্বারা অসৎ উদ্দেশ্যের মানুষরা রামায়ণকে করতে চায় কাল্পনিক এবং আমাদের আদর্শের ভিত্তিকে করতে চায় ভঙ্গুর।

তবে চলুন আজকে সে রহস্যকে দূর করে সত্যকে তুলে ধরার প্রয়াস করি সকলের নিকট।

নমস্কার সকল অমৃতের সন্তানগণ। বৈদিক অমৃত জ্ঞান প্রচারে নিয়োজিত VEDA পেজ এ আপনাদের স্বাগতম।

শ্রী হনুমানজ্বী কি মনুষ্য ছিলেন নাকি পশু?

আমরা কিছু প্রশ্ন-সমাধানের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি যে শ্রী হনুমান বানর (monkey) ছিল নাকি মনুষ্য!

যোগরূঢ় অর্থে "বানর" শব্দ দ্বারা 'বন মধ্যে উৎপন্ন হওয়া অন্ন ভোজনকারী' বুঝায় । যেমন পর্বত অর্থাৎ গিরিমধ্যে অবস্থানকারী এবং সেখানকার অন্ন গ্রহনকারী কে "গিরিজন" বলে। তেমনই বন মধ্যে উৎপন্ন হওয়া অন্ন ভোজনকারী ও অবস্থানকারীকে 'বানর' বলা হয়।

কিন্তু প্রচলিত সমাজে বানরশ্রেণী (monkey) মনুষ্যের ন্যায় কথা বলতে পারেনা, এটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারা সিদ্ধ। এটি সাধারণ হইতে বিজ্ঞানমনস্ক ব্যাক্তিরাও মানেন যে, বানর (monkey) মনুষ্যের ন্যায় কথা বলতে পারে না এবং পারতোও না।

কিন্তু আমরা রামায়ণে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ পাই যে, শ্রী হনুমান জ্বী ছিলেন বিদ্বান ও জ্ঞানী।

মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র স্বয়ম্ ঋচ্যমূক পর্বতে শ্রী হনুমানের সহিত প্রথম সাক্ষাৎকারে কথন করে, ভ্রাতা লক্ষ্মণকে বলেছেন -

নানৃগ্বেবেদবিনীতস্য নাযজুর্বেদধারিণঃ।
নাসামবেদবিদুষঃ শক্যমেবম্ প্রভাষিতুম্।।”
-------বাল্মীকি রামায়ণ-৪/৩/২৮

অনুবাদ : ইনি উচ্চকোটির বিদ্বান্ ব্যক্তি, কেননা ঋগ্বেদ অধ্যয়নে অনভিজ্ঞ, যজুর্বেদের জ্ঞানহীন এবং সামবেদের বোধ শূণ্য ব্যক্তি এরূপ পরিষ্কৃত কথন করতে পারবেন না।

নূনং ব্যাকরণং কৃত্স্নমনেন বহুধা শ্রুতম্।
বহু ব্যাহরতানেন ন কিঞ্চিদপশব্দিতম্।।

-------বাল্মীকি রামায়ণ-৪/৩/২৯

অনুবাদ : নিশ্চয়ই তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্র অনেকবার অধ্যয়ন করেছেন, কারন এই যে - এতক্ষণ যাবৎ কথনের মধ্যে তিনি কোন ত্রুটিই করেননি।

উপরিউক্ত শ্লোক থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, শ্রী হনুমান এর বাচন ভঙ্গি এতই পরিমার্জিত ছিল যা স্বয়ং শ্রীরামকে মুগ্ধ করেছিলেন। এবং তিনি বলেছিলেন,

সংস্কারকমসম্পন্নামদুতামৰিলম্বিতাম্।
উচ্চারয়তি কল্যাণীং বাচং হৃদয়হারিণীম্॥
-------বাল্মীকি রামায়ণ-৪/৩/৩২

অনুবাদ : তাঁহার বাণী ব্যাকরণ দ্বারা সংস্কারিত, ক্রম সম্পন্ন তথা না তো খুবই ধীরে বলেছে আর নাতো খুব শীঘ্র বলেছে। তাঁহার বাণী (বাক্য) হৃদয়কে হর্ষিত করার মতো এবং খুবই মধুর।

স্বয়ম্ হনুমানজী অশোক বাটিকা মধ্যে সীতাকে নিজ পরিচয় দেবার পূর্বে চিন্তা করলেন যে-

যদি বাচম্ প্রদাস্যামি দ্বিজাতিরিব সংস্কৃতাম্।
রাবণম্ মন্যমানা মাম্ সীতা ভীতা ভবিষ্যতি।।
---------(বাল্মীকি রামায়ণ -৫/৩০/১৮)

অনুবাদ : যদি আমি দ্বিজাতির (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য) ন্যায় পরিমার্জিত সংস্কৃত ভাষা প্রয়োগ করি তাহলে আমাকে রাবণ ভেবে, সীতা ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে যাবে।

তাহলে আমরা এখানে সত্যি জানতে পারি যে শ্রী হনুমান জ্বী অবশ্যই মনুষ্য ও বিদ্বান ছিলেন। কিন্তু শুধুই কি তিনি এমন সুযোগ্য, বিদ্বান ছিলেন? না! শুধু তিনি নন বরং সে সমাজে সুগ্রীব, অঙ্গদ ও তারা সহ অনেক বানরই বৈদিক বিদ্বান্ ছিলেন। অঙ্গদ সম্পর্কে হনুমানজী বলেছেন -

বুদ্ধ্যা হ্যষ্টাঙ্গয়া যুক্তম্ চতুর্বলসমন্বিতম্।
চতুর্দশ গুণম্ মেনে হনুমান্ বালিনঃ সুতম্।।
---------(বাল্মীকি রামায়ণ -৪/৫৪/২)

অনুবাদ : বালীপুত্র অঙ্গদ অষ্টাঙ্গ বুদ্ধিসম্পন্ন, চার প্রকার বলযুক্ত এবং রাজনীতির চৌদ্দ প্রকার গুণে সমলঙ্কৃত।

তাহলে এত গুণ সম্পন্ন ব্যক্তিরা কি কখনো পশু হতে পারে?

➡️ বানরদের কি মানুষের মতো আলাদা আলাদা নাম থাকে?

☞আমরা সকলেই জানি যে, মানুষের ন্যায় বানরদের আলাদা আলাদা নাম থাকেনা। কিন্তু রামায়ণে উল্লেখিত বানরদের আলাদা আলাদা নাম ছিল, যেমন -

ক. সুগ্রীব (বাল্মীকি রামায়ণ -৪/২/১)
খ. হনুমান (বাল্মীকি রামায়ণ -৪/২/১৩)
গ. বালী (বাল্মীকি রামায়ণ -৪/২/১৪)
ঘ.অঙ্গদ (বাল্মীকি রামায়ণ -৪/৫৪/১)
ঙ.তারা (বাল্মীকি রামায়ণ -৪/১৫/৬)........

বানর কি রাজা, রাজকুমার, মন্ত্রী হতে পারে?

রাজা, রাজকুমার, মন্ত্রী এইসকল যে কেবল মানুষ হয় /হয়েছিল সেটা সকলেই জানে এবং বানরের দ্বারা রাজা,মন্ত্রী আদি হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

কিন্তু রামায়ণে উল্লেখিত বানরদের, রাজা-রাজকুমার-মন্ত্রী হিসেবে বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন -

ক. 'বালী' ছিলেন কিষ্কিন্ধ্যা রাজ্যের রাজা।
খ. 'অঙ্গদ' ছিলেন কিষ্কিন্ধ্যা রাজ্যের রাজকুমার।(বাল্মীকি রামায়ণ -৪/১৫/১৫)
গ. 'সুগ্রীব'ও ছিল কিষ্কিন্ধ্যা রাজ্যের রাজা।

তাহলে এখানে সে সংশয় নিবারণ হওয়া উচিত যে সে সমাজে সকলে মনুষ্য ছিলেন।

তবে একটি সংশয় নিবারণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। যা নিবারণ না করলে এই আলোচনা পূর্ণতা পাবে না।

সংশয়: শ্রী হনুমানের লেজ

জগদীশ্বরানন্দ সরস্বতী রামায়ণ ভাষ্যের টিপ্পনীতে লিখেছেন - 'লাঙ্গুল' ছিল বানরজাতির রাষ্ট্রীয় চিহ্ন, ইহাকে তাঁহারা খুবই শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখতেন তথা ইহার অপমানকে জাতীয় অপমান মনে করতেন। কিন্তু সে লেজ যে বানরজাতির জন্য আভূষণ স্বরুপ ছিলো রাবণের কথায় স্পষ্ট হয়।

রাবণের সহিত শ্রী হনুমান যখন কথা বলছিল তখন এক পর্যায়ে রাবণ বলেছেন -

কপিনাং কিল লাঙ্গুলমিষ্টং ভবতি ভূষণম্।।
-------(বাল্মীকি রামায়ণ -৫/৫৩/৩)

অর্থাৎ বানর জাতি লোকের জন্য তাদের 'লাঙ্গুল' খুবই প্রিয় এবং উত্তম আভূষণ।

এবং আমরা সকলে জানি আভূষণ কখনোই শরীরের অঙ্গ নয়। রাবণ ইহাকেই জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন-(বা০ রা০-৫/৫৩/৪)। লাঙ্গুল বানরের লেজ সদৃশই ছিল, যা হনুমান ধারণ করেছিলেন।

উক্ত বিষয়ে ডা. শান্তিকুমার নানুরাম ব্যাস মত প্রকাশ করে বলেন,

বানরদের সংস্কৃতিকে মহান এবং সমুন্নত অঙ্কিত করা হয়েছে। সুগ্রীবের রাজ্যাভিষেক তথা বালীর অন্ত্যেষ্টি দুইই বৈদিক বিধিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। সুগ্রীব, হনুমান তথা অঙ্গদের যে প্রভাবশালী চিত্রণ কবি [বাল্মীকি মুনি] করেছেন তা তাঁদের মহান সংস্কৃতির সূচক। বানরদের সম্পত্তি-বৈভব, বসনাভরণ, শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্ম-কর্ম তথা সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের বর্ণন হতে স্বাভাবিক নিষ্কর্ষ ইহাই হয় যে, রামায়ণকার রামের সহযোগীদের বস্তুত বানর (monkey) মানতেন না।

বানর জাতির নাম ১০৮০ বার উল্লেখ রয়েছে বাল্মিকী রামায়ণে এবং পর্যায়ক্রমে বনগোচর, বনকোবিদ, বনচারী, বনৌকস শব্দ সমূহ রয়েছে। তাহলে এটা স্পষ্ট যে বানর শব্দ monkey এর সূচক নয় বরং বনবাসীর দ্যোতক বিশেষ। এছাড়াও, বানর জাতির জন্য হরি শব্দ ৫৪০ বার, প্লবগ শব্দ ২৪০ বার, কপি শব্দ ৪২০ বার উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু এত প্রমাণ উপস্থাপন এর পরেও বানরদের মনুষ্য মান্য করতে বাধা এই লেজ। কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তা আভূষণ স্বরুপ, কোনো শারীরিক অঙ্গ নয়। সেজন্যই শ্রী হনুমানের লেজ এ আগুন লাগানোর পরেও তাহার শারীরিক কষ্ট অনুভব হয়নি।

তবে মনুষ্য হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদের বানর হিসেবে পরিচয় দানের উদ্দেশ্য কি?

এরুপ সংশয়ের নিবারণে গবেষক ক্ষীতিমোহন দাস, এম এ ভারতবর্ষের জাতিভেদ গ্রন্থের ১০৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন,

নানা দেশে অতি প্রাচীন কাল হইতে এক বিশেষ চিহ্ন বা লাঞ্ছন দ্বারা পরিচয় দেওয়ার রীতি দেখা যায়। এই চিহ্ন সাধারণত কোন জীব-জন্তুর হয় নয়তোবা বৃক্ষ-লতা এবং পুষ্পের হয়। যে বস্তু চিহ্ন বা লাঞ্ছন রূপে ব্যাবহার হয়, সেই বস্তু সেই জাতির প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট শ্রদ্ধা ও সম্মানের বস্তু। ইংরেজিতে ইহাকে টোটেম (Totem) বলা হয়। ছোটকালে রামায়ণে- বানর এবং ভাল্লুককে মনুষ্যোচিত ব্যাবহার করতে দেখে, বড় কৌতূহল হতো। বড় হয়ে বুঝতে পারলাম এখনো নিজেকে বানর এবং ভাল্লুকের বংশধর পরিচয় দেয় এমন লোক এদেশে আছে। আরো পরে বুঝতে পারলাম এইসব টোটেমরই ব্যাপার।

--------- ভারতবর্ষমে জাতিভেদ /পৃষ্ঠা-১০৫
প্রকাশকাল : ১৯৪০

মাতা সীতার সাথে শ্রী হনুমান দেখা হওয়ার পরে মাতা জিজ্ঞেস করেছিলেন,

সুরাণাম্ অসুরাণাম্ চ নাগ গন্ধর্ব রক্ষসাম্ |
যক্ষাণাম্ কিম্নরাণাম্ চ কা ত্বম্ ভবসি শোভনে ||
----------বাল্মীকি রামায়ণ-৫/৩৩/৫

অর্থাৎ হে শোভনে! সুর, অসুর, নাগ, গন্ধর্ব্ব, যক্ষ, রাক্ষস,কিন্নরের মধ্যে আপনি কোন কুলের।

এখন যদি শ্রী হনুমান পশু হতেন তাহলে কি তাহার এই সকল কুল বংশের পরিচয় মাতা সীতা জানতে ইচ্ছে প্রকাশ করতেন?

প্রশ্ন আপনাদের নিকট রইল?

তাছাড়াও মহাভারতেও বিভিন্ন জাতির নাম উল্লেখ পাওয়া যায় । যারা মনুষ্য কিন্তু জাতির নাম কোন পশু-পাখি আদির নামে। মহাভারত/ভীষ্মপর্ব/নবম অধ্যায়ের ৫৬-৬৫ শ্লোকে - কুকুর, কাক..... ইত্যাদি ইত্যাদি অসংখ্য নামের উল্লেখ রয়েছে।

মহর্ষি গৌতম প্রণীত নায়দর্শন-২/২/৭১ সূত্রের ভাষ্যে, স্বামী দর্শনানন্দ সরস্বতী একটি প্রশ্নোত্তর লিখেছেন জাতি বিষয়ে। যথা-

প্রশ্ন- জাতি কত প্রকার?

উত্তর : জাতি দুই প্রকার। ১.সামান্য ২.বিশেষ। যেমন মনুষ্য জাতি সামান্য, এর মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়াদি বা শ্বেত-কৃষ্ণাদি, বা দেশভেদ অথবা আচার ভেদের জন্য অবান্তর জাতি তৈরি হয়।

এখানে সে বিশেষ জাতি এর কথায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শ্রী হনুমান জ্বী অবশ্যই বানর নামক জাতি তথা মনুষ্য ছিলেন।

হে মিত্র প্রমুখ! আমরা আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হলে তাহা অধ্যয়ন প্রয়োজন। আমরা শাস্ত্র বিমুখ হওয়াতে আমাদের গৌরবের ইতিহাস নিয়েও কুচক্রীমহল বিভিন্ন তথ্য দ্বারা সনাতন ইতিহাসকে প্রমাণ করতে চায় কাল্পনিক তাই আসুন নিজ শাস্ত্র অধ্যয়ন করি, ইতিহাসকে জানি এবং সকল প্রকার মিথ্যা অভিযোগ এর প্রতিকার করি।

VEDA পেজ এর সাথে থাকুন। বেদের অমৃত জ্ঞান সকলের নিকট পৌঁছে দিন।

জয় শ্রীরাম।

Run with

-- Veda page থেকে সংগ্রহ

Address

Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পূজা পার্বণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to পূজা পার্বণ:

Shortcuts

Share