Islamic Radio

Islamic Radio এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী হলো -
লা ই?

বাংলাদেশের কোন কোন খাবারে শুকরের চর্বি আছে এবং কিভাবে আছে তার বর্ণনা================================শূকরের মাংস ইউরোপ জু...
19/09/2020

বাংলাদেশের কোন কোন খাবারে শুকরের চর্বি আছে এবং কিভাবে আছে তার বর্ণনা
================================

শূকরের মাংস ইউরোপ জুড়ে তাদের প্রোটিন বা আমিষ সরবরাহের অন্যতম একটা মাধ্যম। এক হিসেবে দেখা গেছে যে, একমাত্র ফ্রান্সেই প্রায় বিয়াল্লিশ হাজারেরও বেশী শূকরের খামার রয়েছে। ইংল্যন্ডরও আনাচে কানাচে রয়েছে শূকরের খামার। বাণিজ্যিকভাবে এইসব খামারগুলো পুরো ইংল্যন্ড জুড়েই শূকরের মাংস সরবরাহ করে আসছে। আর ইংল্যন্ডে বসবাস করার কারণে নিত্যদিন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি ইংরেজদের খাদ্য তালিকায় শূকরের মাংস একটি অতি আবশ্যকীয় ও উপাদেয় তালিকা। কেবল ইংল্যন্ডই নয় বরং পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর প্রাচ্য, অর্থাৎ পুরো খৃষ্ট বিশ্বেই প্রকৃত অবস্থাটি এমনই। এমনকি মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও, বিশেষ করে, মুসলিম দেশসমুহে বসবাসকারী অমুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে শূকরের মাংস অতি কাংক্ষিত একটি খাদ্য মাধ্যম।

এই মাধ্যমটি যে আজ নতুন সৃষ্টি হয়েছে তা নয় বরং সেই মধ্যযুগের কিংবা তারও আগে থেকেই এটি বিদ্যমান। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বি থাকে এবং সেই চর্বির মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর চর্বিও রয়েছে। বস্তুুতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় উজ্জীবিত ইউরোপ জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এইসব চর্বিকে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এ থেকে ব্যবহার্য বা খাদ্য জাতিয় বিভিন্ন প্রকার উপকরণ যেমন উদ্ভাবন করেছে তেমনি তা সারা বিশ্ব জুড়েই বাজারজাতও করেছে। আজকাল পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর পশ্চিমা বিশ্ব, এমনকি সমগ্র বিশ্বব্যাপি স্বাস্থ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ খাদ্যে অতিরিক্ত ফ্যাট নিয়ে বড় বেশী চিন্তিত এবং সজাগ। খাদ্যে চর্বির আধিক্যই হৃদরোগের প্রধান কারণ, সেটা বিশ্ববাসী খুব ভালো করেই জেনে গেছে বিজ্ঞানের সুবাদে। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বিই কেবল থাকে না বরং সেই চর্বির মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদানটির আধিক্যও সবচেয়ে বেশী। ফলে ইউরোপের সচেতন মানুষ শূকরের মাংস খেলেও এর চর্বিকে সব সময় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে। এর ফলে শূকর ব্যবসায়ী ও তার মাংস সরবরাহকারীদের একটা বড় অংশই অপচয় হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এইসব অপচয় থেকে বাঁচার জন্যই ইউরোপ শূকরের চর্বির বিকল্প ব্যবহার উদ্ভাবন করেছে। শূকরের চর্বিকে তারা বিভিন্নভাবে বাজারজাত করেছে। এর বহুবিধ ব্যবহারকে নিশ্চিত করেছে প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, ঔষধের মাধ্যম বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার, শল্য চিকিৎসায় ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নির্মাণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো মনুষ্য ও পশু খাদ্য সামগ্রির বিভিন্ন উপাদান হিসেবে এই ক্ষতিকারক বস্তুটিকে ব্যবহার করছে। প্রথমে শূকরের চর্বি দিয়ে সাবান বানানো হয় এবং তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর পরে একইভাবে ঐ চর্বিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম তরল প্রসাধনী, ক্রিম ইত্যাদি উৎপাদন এবং বাজারজাত করা হয়, এটাও ব্যবসায়িক সফলতা পায়। বন্দুকের কার্তুজে এই শূকরের চর্বি ব্যবহার শুরু হয় সর্বপ্রথমে, উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কিংবা তারও আগে।

যা হোক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলোও তাদের উৎপাদিত ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীতে এর ব্যবহার শুরু করে। সর্বপ্রথমে শরীরের অভ্যন্তরে সেলাই করার জন্য এমন এক ধরনের সুতোর দরকার পড়ে, যা ক্ষত শুকোনোর পরে খূলে ফেলার প্রয়োজন পড়বে না, এবং শরীরের ভেতরে হবার কারণে তা সম্ভবও নয়, বরং সেলাই কাজে ব্যবহৃত এই সুতো আপনা আপনিই মানুষের মাংসের সাথে মিশে যাবে। এ চিন্তা থেকেই চিকিৎসকরা বেড়ালের অন্ত্রের চর্বি দিয়ে তৈরী করেন এক বিশেষ ধরনের সুতো, যা দিয়ে মানুষের দেশে অস্ত্রোপচারের সময় আভ্যন্তরীণ ক্ষত জোড়া দিতে ব্যবহার করা যাবে। শল্য চিকিৎসক বা সার্জনরা মানুষের শরীরে এরকম যে সুতোর ব্যবহার করেন তাকে ‘ক্যটগাট’ বলা হয়। বেড়ালের চেয়ে শূকরের প্রচলন বেশী এবং শূকরের মাংস ও চর্বি সহজ লভ্য হবার সুবাদে ইউরোপের শূকর খামার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন এই সুতো নির্মাণে বেড়ালের পরিবর্তে শূকরের চর্বি ব্যবহারে। এবং তারা তা শুরুও করেন।

কিন্তু কিছু সচেতন মুসলমান ইউরোপীয় পণ্যসামগ্রীর গা’এ লিপিবব্ধ উপাদানের তালিকায় pig fat শব্দটি দেখে আঁতকে উঠেন। কারণ যে কোন মুসলমানের কাছে এই pig fat বা শূকরের চর্বি, তার মাংস বা রক্ত সকল কিছুই হারাম, এর যে কোন ধরনের পরোক্ষ ব্যবহারও হারাম। তারা তাদের ভাষণে-বিবৃতিতে, লেখা-লেখনীতে এ ব্যপারে জনগণকে যেমন সতর্ক করেন, তেমনি সরকারের কাছেও দাবী জানাতে থাকেন এইসব ইউরোপীয় পণ্য দেশে আমদানী করারা অনুমতি না দেবার। এর ফলে ইউরোপীয়রা তাদের পণ্যতে pig fat শব্দটির পরিবর্তে ‘animal fat’ শব্দটি ব্যবহার শুরু করে।

ফলে ইউরোপীয়ান বাবস্যায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার হারাতে বসে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই তারা বিকল্প পন্থা উদ্ভাবন করে। আর এই বিকল্প পন্থাটইি হলো উৎপাদিত কোন বস্তু, তা খাদ্য সামগ্রী হোক বা ঔষধ পথ্য কিংবা প্রসাধনী কিংবা অন্য কিছু, তার গা’এ ইউরোপীয়ান আঈন অনুযায়ী উপাদান সমুহের নাম লেখা হবে বটে তবে সেই সব নামগুলো লেখা থাকবে বৈজ্ঞানিক কোন টার্ম কিংবা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে যেন সাধারণ জনগণ সেই সব নাম, সেইসব টার্ম পড়ে বুঝে উঠতে না পারে, আসলে এই জিনিসগুলো কী?

করপোরেট বাণিজ্যের এই বিশ্বে ব্যবসাীয় মহলের চাপে নতী স্বীকার করে সরকার উৎপাদকদের সাথে আপোষ করে এবং উৎপাদিত পণ্যের গা’এ সাংকেতিক ভাষায় উপাদানসমুহের নাম লিপিবদ্ধ করার অনুমিত দেয়। সেই থেকে শিল্পকারখানায় উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে, খাদ্য সামগ্রী কিংবা তা প্রস্তুতে ব্যবহৃত উপাদানসমুহে, প্রসাধনী, ঔষধ কিংবা পথ্যের উৎপাদনে সাংকেতিক ভাষায় বিশেষ নাম বা E-Codes ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য একটি বিষয়।

এরকমই একজন মুসলিম টেকনিশিয়ান কাজ করতেন ফ্রান্সের Pegal শহরে অবস্থিত Departments of Food Administration এর মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে বা ল্যবরেটরিতে। তিনি অনূসন্ধিৎষূ মন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বের করেছেন বেশ ক’টি E-Codes যার প্রত্যেকটিই শূকরের চর্বিকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। একটি ওয়েব সাইটে Are we eating Pork? শিরোণামে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে এক পাকিস্থানী বিজ্ঞানী ড: এম আমজাদ খান কর্তৃক প্রচারিত উক্ত তালিকায় শুকরের চর্বি থেকে প্রস্তুত E-Codes এর তালিকা নিম্নরুপ:

E100, E110, E120, E 140, E141, E153, E210, E213, E214, E216, E234, E252, E270, E280, E325, E326, E327, E334, E335, E336, E337, E422, E430, E431, E432, E433, E434, E435, E436, E440, E470, E471, E472, E473, E474, E475, E476, E477, E478, E481, E482, E483, E491, E492, E493, E494, E495, E542, E570, E572, E631, E635, E904. I

উক্ত তালিকায় উল্লেখিত E-Codes গুলোর বেশ ক’টি আমাদের দেশে প্রাত্যহিক ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জনপ্রিয় খাদ্যতালিকায় উপস্থিত দেখতে পাওয়া যায়। তার দু‘একটা নমুণা দেখুন, যেমন; নিচে উল্লেখিত তালিকায় খাদ্য দ্রব্যের নামের পাশে তাতে ব্যবহৃত E-Codes ও তুলে দেয়া হলো:

1 Cadburrys chocolate – E476

2 Igloo Ice Cream -E471,E433

3 Baskin Robbins Ice Cream E471

4 Foster Clarks Custard Powder-E110

5 Fadeco Ice Cream-E471

6 Nova Chewing Gum -E422

7 Demah Fresh -E422

8 Big Babool Chewing Gum

বলা বাহুল্য, উপরের তালিকায় উল্লেখিত প্রায় সবকটিই আমাদের দেশসহ প্রায় সকল মুসলিম দেশে ছেলে বুড়ো’সহ সকলের কাছেই খুবই প্রিয়।

আল কুরআনে অন্তত চারটি জায়গায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শূকরের মাংস এবং মৃত জন্তু জানোয়ার আর সেইসব জানোয়ার যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে, মুসলমানদের জন্য হারাম করেছেন। তারই একটি আয়াত দেখুন:

তিনি তোমাদের উপরে হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত শূকর মাংশ এবং সেসব জীব জন্তু যা আল্লাহ ব্যতিত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং না-ফরমানী ও সীমালংঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নি:সন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু (সুরা আল বাক্বারা- ১৭৩)

এটা মোটমুটি অমুসলিম ব্যবসায়ীরা জানে, অন্তত তাদের সরকার ও জনগোষ্ঠির সচেতন অংশটি খুব ভালো করেই জানে, কিন্তু তারপরেও তারা ভিন্ন কৌশলে মুসলমানদেরকে আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় সেই হারাম বস্তু খাওয়াতে মনে হয় উঠে পড়ে লেগেছে। এর পেছনে কেবল যে তাদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থই আছে তাই নয় বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষজনিত এক আগ্রাসী মনোভাব, যার মিল রয়েছে একমাত্র ক্রসেডের সাথেই।

লেখক: Prof. Dr Mohammad Nurul Huq
Head of the Department of Pediatrics
Bangladesh Medical College and Hospital

সংগৃহীত

সুরা তীনের প্রথম আয়াতেই দুটো ফলের আলোচনা। আল্লাহ সেগুলোর নামে শপথ করেছেন। এক. ত্বীন, দুই. যায়তুন। আমরা যখন বাংলা ভাষায় এ...
28/08/2020

সুরা তীনের প্রথম আয়াতেই দুটো ফলের আলোচনা। আল্লাহ সেগুলোর নামে শপথ করেছেন। এক. ত্বীন, দুই. যায়তুন। আমরা যখন বাংলা ভাষায় এ দুটো শব্দের অর্থ করি তখন একটা ঝাপসা অর্থ দাঁড় করাই। মোটামুটি সব অনুবাদে তীনকে চিরচেনা ডুমুর আর যায়তুনকে যায়তুন হিসাবেই দেখানো হয়েছে। এগুলোর আসল চিত্রপট অধিকাংশ অনুবাদকেরা আঁকেন না। ফলে অপ্রত্যাশিত ভ্রান্তিতে পাঠকেরা থেকে যাচ্ছেন। যেমন: যায়তুনকে অনেকেই জলপাই বলে চালিয়ে দেন। আসলেই কি যা যায়তুন তা-ই জলপাই? না, দুইয়ের মাঝে ভিন্নতা সুস্পষ্ট। সে আলোচনা অন্যদিন। আজ আমি শুধু তীন নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

তীন আর আমাদের দেখা ডুমুর

প্রথমেই বলে রাখা ভালো, কুরআনে যে তীনের উল্লেখ রয়েছে তা আমাদের দেশে নেই। এ দেশীয় মানুষদের কাছে অপরিচিত এক ফল। অথচ আমাদের বন-জঙ্গলে বা বাড়ির বাগানে গজে উঠা কাকডুমুরের সাথে আমরা তা মিলিয়ে ফেলি। কাকডুমুর আর তীন যে এক নয় তা কিন্তু অনেকেই জানি না। বাংলাদেশে যে ডুমুরের দেখা মেলে সেটির বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস হিসপিডা (Ficus hispida)। ঝোঁপ গাছ, পাতা সিরিস কাগজের মতো খসখসে। শুধুমাত্র পাখিরাই প্রধানত এই ডুমুর খেয়ে থাকে এবং পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে বীজের বিস্তার হয়ে থাকে। মানুষের খাওয়ার একদমই অনুপযুক্ত। আমাদের দেশে এর চাষাবাদ করতে হয় না। অবহেলা আর অযত্নে বেড়ে উঠে। একে অনুপকারী বলা হয়ে থাকে। সুতরাং তীন তিলাওয়াত করার সময় দেশীয় ডুমুরের কল্পনা মাথায় নিলে কিন্তু অর্থচ্যুতি ঘটবে নিশ্চিত। দীর্ঘদিনের ধারণা এখনই বাদ দিতে হবে।

তীনের পরিচয়

কুরআনে যে তীনের কথা উল্লেখ রয়েছে সেটির বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica। ফাইকাস দলভুক্ত ৮০০ প্রজাতির মধ্যে এই তীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবার আগে স্থান। এটি দেশীয় কাকডুমুর থেকে বড়। স্বাদে সুমিষ্ট, অত্যধিক সুস্বাদু এবং রসালো। এককথায়, স্বাদে, ঘ্রাণে এবং পুষ্টিগুণে সেরা একটি ফলের নাম তীন। তীন গাছ তিন থেকে দশ মিটার পর্যন্ত বড় হয়। ঘন এবং খসখসে পাতায় ভরপুর থাকে। উর্দুতে এর ফলকে আঞ্জির বলা হয়। পৃথিবীর অনেক দেশে এর চাষাবাদ হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয় এবং এটি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আফগানিস্তান থেকে পর্তুগাল পর্যন্ত এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্য। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় তুরস্কে। বৎসরে তিন লক্ষ টনের বেশি উৎপাদন হয় সেখানে। পরেই আছে মিশর, মরক্কো, আলজেরিয়া, ইরান এবং সিরিয়া।

তীনের পুষ্টিগুণ

তীনে আছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, আইরন ইত্যাদি।

এতকিছু উপকারী উপাদান থাকলেও ক্যালরি এবং ফ্যাট নেই বললেই চলে। মোটা হয়ে যাওয়ার চিন্তা ঝেড়ে ফেলে পেটভর্তি খাওয়ার মতো একটি ফল তীন। বড় সাইজের একটি তীনে মাত্র ২ গ্রাম ফ্যাট থাকার কথা খাদ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। ডায়েটেড এবং ফিট থাকতে চাইলে তীন সবচেয়ে কার্যকর ফল। আর এন্টিঅক্সিডেন্ট-এর তীনের চেয়ে ভালো ফল আর নেই বললেই চলে।

প্রোস্টেট এবং জরায়ু ক্যান্সারের প্রতিষেধক হচ্ছে তীন। ব্লাড প্রেসার এবং স্নায়ুরোগ কমাতে দারুণ কার্যকর। মায়ের বুকে দুধ উৎপাদনে তীনের জুড়ি মেলা ভার। পাইলসে ভোগা ব্যক্তিরা অসাধারণ ঔষধ হিসাবে তীন খেতে পারেন। গরুর দুধে এলার্জি থাকলে তীন খান। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।

ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ, হাঁপানি রোগ, শ্বাসকষ্ট, ত্বক সমস্যা, চুলের রোগে তীন সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গর্ভবতী মহিলাদের এসিডিটি নির্মূল করে তীন। কিডনি, লিভার, ইউরিনারি ব্লাডারের কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে। শরীরের দুর্বলতা দূর করে আনে সজীবতা আর অদম্য শক্তি। তীন ফলের উপকারিতা লেখতে চাইলে শেষ করা কষ্টকর হয়ে যাবে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) তীন ফল অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার সময় বলতেন, ‘এটি খাও, কারণ এতে অনেক রোগের ঔষধ রয়েছে।’

সুতরাং তীনের তরজমা শুধুমাত্র ডুমুর দিয়ে যারা করেন তারা একটা ভুল অর্থ দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। এ দেশীয় মানুষদের মগজে এমন একটি ফলের চিত্র এঁকে দেয়া হচ্ছে যা মানুষের খাওয়ার একদম অনুপযোগী। পাখপাখালির খাবার শুধু। এমনকি ডুমুরের নাম শুনলে অনেকে বিরক্তিভাব প্রকাশ করেন।

তীনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Fig। আর এই তীন এদেশের মানুষের কাছে একদমই অপরিচিত এক ফল।

আমাদেরকে কুরআনিক শব্দ নিয়ে গভীরে ডুব দিতে হবে। ভাবতে হবে মনোযোগে। তারপর মুক্তা তুলে তা প্রচার করতে হবে।

আল্লাহ যে ফলের শপথ করেছেন তা যেনতেন কোনো ফল নয়। অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী তো বটেই।

লিখেছেন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, ধানমন্ডি।

16/07/2020

জান্নাত থেকে আসছে
জমজম কূপের পানি!

২৪ জন ডুবুরি জম জম কূপের তলদেশে গিয়ে নিয়ে এলেন অজানা তথ্য!!

আল্লাহ পাকের কুদরত দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা !

ষাটের দশকের কথা। তখন ছিল বাদশাহ্ খালেদের
শাসনামল। ওই সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির দিয়ে পরিষ্কার কারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল জম জম কূপটি।

জম জম কূপটি পরিষ্কারের কাজ তত্বাবধান করেন প্রকৌশলী "ইয়াহইয়া কোশক"

তার প্রদত্ত বিবরণ থেকে বলা যায়, বড় ধরনের কয়েকটি পাথরের তলদেশ থেকে প্রবল বেগে পানি উৎসারিত হচ্ছে। সবচাইতে বড় পাথরের উপর স্পষ্ট আরবী হরফে “বিসমিল্লাহ্” কথাটি উৎকলিত রয়েছে।

রাসুলুল্লাহর (সাঃ) এর দাদা আবদুল মুত্তালিব-এর সময় কূপের গভীরতা ছিল মাত্র ১৪ ফুট। খলিফা মামুনুর রশীদের আমলে পুনরায় খনন করা হয় এই জম জম কূপ।

এ সময় পানির নিঃসরণ খুব বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি কূপের বাইরে পানি উপচে পড়া শুরু করেছিল। দীর্ঘ
কয়েক শতাব্দী পর সৌদি সরকার আধুনিক মেশিনের
সাহায্যে কূপ পুনঃখনন করেন।

২৪ জন ডুবুরি কূপের তলদেশে গিয়েছিলেন তা পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার জন্য।
ডুবুরিরা দেখেন, সেখানে রং-বেরংয়ের মাটির স্তর জমাট বেঁধে আছে।আর অবিরাম নির্গত পানিকে পরিশোধন করছে। তারা আল্লাহর এ কুদরত দেখে বিস্মিত হয়ে যান!

বর্তমানে জম জম কূপের গভীরতা ৫১ ফুট।

এক নজরে জম জম কূপঃ

▪️আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতে ৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।
▪️ভারী পানি উত্তোলনের মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০
লিটার পানি উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক সৃষ্টির
সূচনাকালের ন্যায়।
▪️পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি, জন্মায়নি কোন ছত্রাক
বা শৈবাল।
▪️সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটেই
আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।
▪️এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মউসুমে ব্যবহার ক’য়েক গুন বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।
▪️সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই পরিমানে আছে।
▪️এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান অন্যান্য পানির থেকে বেশী, এজন্য এই পানি শুধু পিপাসা মেটায় তা না, এই পানি ক্ষুধাও নিবারণ করে।
▪️এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমান বেশী থাকার কারণে
▪️এতে কোন জীবানু জন্মায় না ।
▪️এই পানি পান করলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

সুবহানআল্লাহ।

সুরমা নিয়ে একটি প্রলিত ভুল ধারণা!সুরমা এক ধরনের খনিজ পদার্থ। এই খনিজ পদার্থটির মূল উপাদান 'লিড সালফাইড'। রাসায়নিক এই লিড...
25/05/2020

সুরমা নিয়ে একটি প্রলিত ভুল ধারণা!

সুরমা এক ধরনের খনিজ পদার্থ। এই খনিজ পদার্থটির মূল উপাদান 'লিড সালফাইড'। রাসায়নিক এই লিড সালফাইড ব্যবহার করা হয় সুরমা তৈরিতে। এ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য প্রথমেই চূর্ণ করে নিতে হয় সুরমাকে, তারপর বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে চোখে ব্যবহারের জন্য সুরমা তৈরি করা হয়। চোখে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা সুরমা চূর্ণ হিসেবে থাকে না, পরিণত হয় এক ধরনের তরলে। সুরমাদানির মুখে আটকানো তুলি দ্বারা চোখে ব্যবহার করা হয় সুরমা কোনো রকম হাতের স্পর্শ ছাড়াই।
এই পদার্থটি চোখে ব্যাবহার করলে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায়, যেমন- দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, চোখের পাতায় চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চোখ পরিস্কার রাখে। চোখের নানা সমস্যা থেকেও আরাম পাওয়া যায়।
তবে—সুরমার বিষয়ে কোনো কোনো লোককে একটি ভল তথ্য বলতে শোনা যায় যে, হযরত মুসা আ. যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখতে চেয়েছিলেন তখন আল্লাহর তাজাল্লীতে পাহাড় ভস্ম হয়ে গিয়েছিল। সেই ভস্মিভূত পাহাড় থেকেই সুরমার উৎপত্তি ও ব্যবহার।
এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সুরমা একটি খণিজ দ্রব্য। এর সাথে তুর পাহাড়ের কোনো সম্পর্ক নেই। মুসা আ.-এর আল্লাহকে দেখার ইচ্ছা ও তুর পাহাড়ের মূল ঘটনাটি সত্য। কুরআন মজীদে এর পূর্ণ বিবরণ রয়েছে। (সূরা আ‘রাফ : ১৪৩ দ্রষ্টব্য) কিন্তু কোথাও এই ঘটনার সাথে সুরমাকে জড়িয়ে দেওয়ার কথাটির সামান্যতমও উল্লেখ নেই। অতএব এই ধরনের কথা পরিহার করা জরুরি।

সূর্যের আলোর উজ্জ্বলতা, প্রতিবিম্ব, সূর্যের ইউভি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব এবং মরুভূমিতে উড়তে থাকা বালু থেকে চোখকে সুরক্ষিত করার জন্য, সিনাই-মিশরীয় এবং আরবীয় উপদ্বীপের এজিপ্টিয়ান এবং আরবরা প্রাচীনকাল থেকেই লিড সালফাইড এর সঙ্গে আরও কিছু রাসায়নিক যৌগিক মিশ্রণ করে ব্যবহার করে থাকে।

লিড সালফাইড সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এই লিংকে:
https://www.sciencedirect.com/topics/medicine-and-dentistry/lead-sulfide

23/05/2020

[কোরআনটাইম] আয়াতুল কুরসি

কোরআনুল কারীমের দ্বিতীয় ও বড় সুরা ‘সুরা বাক্বারাহ’র ২৫৫ নং আয়াতটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসি।

আল্লাহর গুণ বর্ণনায় ও মর্যাদার দিক থেকে এটি কোরআনের সর্ববৃহৎ আয়াত [মুসলিমঃ ৮১০]। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায়, ফজিলত ও মর্যাদায় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে এই আয়াতটি। এটি মহান আল্লাহর গৌরবময় গুণাবলী, তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর পরাক্রমশালীতা ও মহানুভবতা সম্বলিত সংক্ষিপ্ত শব্দে বহুল অর্থবিশিষ্ট অতীব মহান আয়াত। অনেকেই এ সূরার আয়াতুল কুরসিতে “ইসমে আযম” আছে বলে মত দিয়েছেন।

এর অনেক ফযীলত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, এটা পড়লে রাতে শয়তান থেকে হিফাযতে থাকা যায়। প্রত্যেক ফরয নামাযের পর পড়লে বেহেশত যাওয়ার পথে মরণ ছাড়া অন্য কিছু বাধা থাকে না (ইবনে কাসীর)। ‘যে প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল-কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া অন্য কোন অন্তরায় থাকে না।’ [নাসায়ী, দিন-রাতের আমলঃ ১০০]

এ আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি, গুনাবলী ও বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ১০টি অংশ বর্নিত হয়েছে।

আসুন, মর্যাদাপূর্ন এই আয়াতটি পড়ে নেই-

اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম; ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ; ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি; ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল ’আলিয়্যুল আজিম।
(বাংলা উচ্চারণটি কোরআনের আরবী উচ্চারণের সাথে যাচাই করে বিশুদ্ধভাবে পড়ে নেয়া জরুরী)

অর্থ:-
“আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁরই। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।”

‘কুরসি’র অর্থ কেউ বলেছেন, মহান আল্লাহর জ্ঞান। কেউ বলেছেন, শক্তি ও মাহাত্ম্য। কেউ বলেছেন রাজত্ব এবং কেউ বলেছেন আরশ। তবে মহান আল্লাহর গুণাবলীর ব্যাপারে মুফাস্সীরদের নীতি হল, তাঁর গুণগুলি যেভাবে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলির কোনরকম কল্পকাহিনী, অপব্যাখ্যা ও ধরন-গঠন নির্ণয় না করেই তার উপর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস স্থাপন করা। কাজেই এটাই বিশ্বাস করতে হবে যে, এই কুরসির ধরন ও আকৃতি কেমন এবং তাতে মহান আল্লাহ কিভাবে আসীন হন, তা আমাদের পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব না। কেননা, যদিও তার অর্থ জানা সম্ভব হলেও; কিন্তু তার প্রকৃতত্ব আমাদের কাছে সম্পুর্ন অজানা।

ইবনে কাসীর বলেনঃ এ আয়াতটিতে দশটি বাক্য রয়েছে। প্রতিটি বাক্যের সাথেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে।

(১) প্রথম বাক্য (اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ) অর্থাৎ ‘তিনিই আল্লাহ যিনি ব্যতিত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো ইলাহ নেই।’ এতে আল্লাহ শব্দটি অস্তিত্ববাচক নাম (لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ) সে সত্তারই বর্ণনা, যে সত্তা ইবাদাতের যোগ্য। মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্তা-ই ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনিই একমাত্র হক মা’বুদ। আর সবই বাতিল উপাস্য।

(২) দ্বিতীয় বাক্য (الْحَيُّ الْقَيُّومُ) অর্থ্যাৎ ‘তিনি সদা জীবিত এবং বিদ্যমান।’ আরবী ভাষায় حَيٌّ অর্থ হচ্ছে জীবিত। আল্লাহর নামের মধ্য থেকে এ নামটি ব্যবহার করে বলে দিয়েছে যে, তিনি সর্বদা জীবিত; মৃত্যু তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। قَيُّوم শব্দ কেয়াম থেকে উৎপন্ন, এটা ব্যুৎপত্তিগত আধিক্যের অর্থে ব্যবহৃত। এর অর্থ হচ্ছে এই যে, তিনি নিজে বিদ্যমান থেকে অন্যকেও বিদ্যমান রাখেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন। ‘কাইয়ূম’ আল্লাহর এমন এক বিশেষ গুণবাচক নাম যাতে কোন সৃষ্টি অংশীদার হতে পারে না। তাঁর সত্তা স্থায়ীত্বের জন্য কারো মুখাপেক্ষী নয়। কেননা, যে নিজের স্থায়ীত্ব ও অস্তিত্বের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী, সে অন্যের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কি করে করবে?

(৩) তৃতীয় বাক্য لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ অর্থ্যাৎ ‘আল্লাহ তা'আলা তন্দ্রা ও নিদ্রা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।’ পূর্ববর্তী বাক্যে ‘কাইয়ূম’ শব্দে মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, আসমান ও যমীনের যাবতীয় বস্তুর নিয়ন্ত্রণকারী হচ্ছেন আল্লাহ্‌ তা’আলা। সমস্ত সৃষ্টিরাজি তাঁর আশ্রয়েই বিদ্যমান। এতে করে হয়ত ধারণা হতে পারে যে, যে সত্তা এত বড় কার্য পরিচালনা করেছেন, তাঁর কোন সময় ক্লান্তি আসতে পারে এবং কিছু সময় বিশ্রাম ও নিদ্রার জন্য থাকা দরকার। পরবর্তী বাক্য দ্বারা সীমিত জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে জানানো হয়েছে যে, আল্লাহকে নিজের বা অন্য কোন সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করবে না, নিজের মত মনে করবে না। তিনি সমকক্ষতা ও সকল তুলনার উর্ধ্বে। তাঁর পরিপূর্ণ ক্ষমতার পক্ষে এসব কাজ করা কঠিন নয়। আবার তাঁর ক্লান্তিরও কোন কারণ নেই। আর তাঁর সত্তা যাবতীয় ক্লান্তি, তন্দ্রা ও নিদ্রার প্রভাব থেকে মুক্ত ও পবিত্র।

(৪) চতুর্থ বাক্য (لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ) অর্থাৎ ‘আকাশ এবং যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবই আল্লাহর মালিকানাধীন।’ তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইচ্ছাশক্তির মালিক। যেভাবে ইচ্ছা তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

(৫) পঞ্চম বাক্য (مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ) অর্থাৎ ‘এমন কে আছে যে, তার সামনে কারো সুপারিশ করতে পারে, তার অনুমতি ব্যতীত?’ এতে বুঝা যায় যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা যাবতীয় সৃষ্ট বস্তুর মালিক এবং কোন বস্তু তাঁর চাইতে বড় নয়, তাই কেউ তাঁর কোন কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করার অধিকারী নয়। তিনি যা কিছু করেন, তাতে কারো আপত্তি করার অধিকার নেই। তবে এমন হতে পারত যে, কেউ কারো জন্য সুপারিশ করে, তাই এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, এ ক্ষমতাও কারো নেই। তবে আল্লাহর কিছু খাস বান্দা আছেন, যারা তাঁর অনুমতি সাপেক্ষে তা করতে পারবেন, অন্যথায় নয়। যেমন হাদীসে এরশাদ হয়েছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম আমি সুপারিশ করব।’ [মুসলিমঃ ১৯৩] একে ‘মাকামে-মাহমুদ’ বলা হয়, যা শুধুমাত্র রাসূল (সাঃ) এর জন্য খাস। অন্য কারো জন্য নয়।

(৬) ষষ্ঠ বাক্য (يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ) অর্থাৎ ‘আল্লাহ্ তা'আলা অগ্র-পশ্চাত যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনা সম্পর্কে অবগত।’ অগ্র-পশ্চাত বলতে এ অর্থও হতে পারে যে, তাদের জন্মের পূর্বের ও জন্মের পরের যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনাবলী আল্লাহর জানা রয়েছে। আর এ অর্থও হতে পারে যে, অগ্র বলতে সে অবস্থা বোঝানো হয়েছে যা মানুষের জন্য প্রকাশ্য, আর পশ্চাত বলতে বোঝানো হয়েছে যা অপ্রকাশ্য। আয়াতের ব্যাপকতায় উভয়দিকই বোঝানো হয়।

(৭) সপ্তম বাক্য (وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ) অর্থাৎ ‘মানুষ ও সমগ্র সৃষ্টির জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের কোন একটি অংশবিশেষকেও পরিবেষ্টিত করতে পারে না।’ কিন্তু আল্লাহ তা'আলা যাকে যে পরিমাণ জ্ঞান দান করেন শুধু ততটুকুই সে পেতে পারে। এতে বলা হয়েছে যে, সমগ্র সৃষ্টির অণু-পরমাণুর ব্যাপক জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের আওতাভুক্ত, এটা তাঁর বৈশিষ্ট্য। মানুষ অথবা অন্য কোন সৃষ্টি এতে অংশীদার নয়।

(৮) অষ্টম বাক্য (وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ) অর্থাৎ ‘তাঁর কুরসি এত বড় যার মধ্যে সাত আকাশ ও যমীন পরিবেষ্টিত রয়েছে।’ হাদীসের বর্ণনা দ্বারা এতটুকু বোঝা যায় যে, আরশ ও কুরসি এত বড় যে, তা সমগ্র আকাশ ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। ইবনে কাসীর আবু যর গিফারী (রাঃ)এর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন যে, ‘তিনি রাসূল (সাঃ)কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কুরসি কি এবং কেমন? তিনি (রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার কসম, কুরসির সাথে সাত আসমানের তুলনা একটি বিরাট ময়দানে ফেলে দেয়া একটি আংটির মত। আর কুরসির উপর আরশের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন আংটির বিপরীতে বিরাট ময়দানের শ্রেষ্ঠত্ব।’ [ইবনে হিব্বান: ৩৬১ বায়হাকী: ৪০৫]

(৯) নবম বাক্য (وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا) অর্থাৎ ‘আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষে এ দুটি বৃহৎ সৃষ্টি, আসমান ও যমীনের হেফাজত করা কোন কঠিন কাজ বলে মনে হয় না।’ কারণ, এই অসাধারণ ও একক পরিপূর্ণ সত্তার পক্ষে এ কাজটি একান্তই সহজ ও অনায়াসসাধ্য।

(১০) দশম বাক্য (وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ) অর্থাৎ ‘তিনি অতি উচ্চ ও অতি মহান।’ পূর্বের নয়টি বাক্যে আল্লাহর সত্তা ও গুণের পূর্ণতা বর্ণনা করা হয়েছে। তা দেখার এবং বোঝার পর প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলতে বাধ্য হবে যে, সকল শান-শওকত, বড়ত্ব ও মহত্ব এবং শক্তির একমাত্র মালিক আল্লাহ তা'আলা।

এ দশটি বাক্যে আল্লাহর পরিচয় ও গুনাবলীর পূর্ণ বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

》বনী ইসরাইল এর দুই ব্যক্তি জাল নিয়া মাছ ধরতে গেল। এক ব্যক্তি মোমিন আর অন্য ব্যক্তি মুশরিক।মোমিন ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলে ন...
20/05/2020

》বনী ইসরাইল এর দুই ব্যক্তি জাল নিয়া মাছ ধরতে গেল। এক ব্যক্তি মোমিন আর অন্য ব্যক্তি মুশরিক।
মোমিন ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলে নদীতে জাল মারল কিছুই পেল না।
মুশরিক ব্যক্তি নদীতে জাল মারল, জাল ভরে মাছ উঠল।
আবার মোমিন ব্যক্তি নদীতে জাল মারল,
একটা ছোট মাছ উঠলো, খারোইতে রাখল লাফা লাফি করতে করতে আবার নদীতে পরে গেল।
মুশরিক ব্যক্তি আবার জাল মারল অনেক মাছ পেল তার খারোই মাছে ভরে গেল।
মোমিন ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলে আবার জাল মারল এবার ও কিছুই পেল না।
বিকাল হয়ে গেল দুই জনে বাড়ি চলে যাচ্ছে।
কিন্তু ফেরেস্তা বেচারা সহ্য করতে পারল না। সে আল্লাহ কাছে জানতে চাইল?
হে আল্লাহ,
ব্যাপারটা বুঝলামনা। বেচারা কাফের মুশরিক সে কত গুলো মাছ পেল। আর মোমিন লোকটা একটা মাছ ও পেল না। যাও একটা পেল তাও চলে গে্ল!!!!
আল্লাহ ফেরেস্তাকে বলল যাও ঐ ঘরটার দরজা খোল। এটা মুশরিকের ঘর। ফেরেস্তা দরজা খুলল,দেখল ঘরের ভিতর সাপ বিচ্ছু কাটা নানাবিদ খারাব জিনিস।
এবার আল্লাহ বলল যাও ঐ ঘরের দরজাটা খুল। এটা মোমিন ব্যক্তির ঘর।
দরজা খুলে দেখল যে এ ঘরে নাজ নেয়ামোতের অভাব নাই। সাজানো গোছানো জান্নাতের বালাখানা।
আল্লাহ বলল হে ফেরেস্তা আমি মোমিনের জন্য দুনিয়াতে পরীক্ষা করি।সে কি করে, সে কার উপর ভরশা করে ইত্যাদি। মোমিনের জন্য কি যে রেখেছি তা যদি তারা দেখতো তাহলে তাদের দীল ফেটে যাবে।
"কাফিরের জন্য যা সামান্য দুনিয়াতেই আখেরাতে কিছুই নাই"৷___________আমিন ____________""""collected """

উট প্রকৃতির এক মহাবিস্ময়, কারণ? এটি ৫৩ ডিগ্রি গরম এবং মাইনাস-১ ডিগ্রি শীতেও টিকে থাকে। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর উপর ঘণ্টার...
13/05/2020

উট প্রকৃতির এক মহাবিস্ময়, কারণ? এটি ৫৩ ডিগ্রি গরম এবং মাইনাস-১ ডিগ্রি শীতেও টিকে থাকে। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পা ফেলে রাখে।কোনো পানি পান না করে মাসের পর মাস চলে। মরুভূমির বড় বড় কাঁটাসহ ক্যাকটাস খেয়ে ফেলে। দেড়শ কেজি ওজন পিঠে নিয়ে শত মাইল হেঁটে পার হয়। উটের মত এত অসাধারণ ডিজাইনের প্রাণী প্রাণীবিজ্ঞানীদের কাছে এক মহাবিস্ময়।এতো কেবল ট্রেইলার,পিকচার আভি বাকি হায়।
চলুন আরো কিছু বিস্ময়কর জিনিস দেখি যা উটকে করেছে অনন্য।

।।এক।।

মানুষসহ বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর আশেপাশে থাকে। যদি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে ৩৮.৫ ডিগ্রির (১০২ ফা) বেশি হয়ে যায়, তখন অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি হতে থাকে। ৪০ ডিগ্রির (১০৪ ফা) বেশি হয়ে গেলে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক, খাদ্যতন্ত্র ব্যাপক ক্ষতি হয়। ৪১ ডিগ্রি (১০৫ ফা) তাপমাত্রায় শরীরের কোষ মরে যেতে শুরু করে।
একারণেই যখন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যায়, তখন শরীর ঘেমে বাড়তি তাপ বের করে দিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
অথচ উটকে প্রতিদিনই ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রা সহ্য করতে হয়।উট ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রা হওয়ার আগ পর্যন্ত পানি ধরে রাখে এবং এরপর ঘামা শুরু হয়।
উট অতি প্রত্যুষে মরুভূমির বালু গরম হওয়ার আগে মাটিতে বসে। বসার সময় পাগুলো শরীরের নিচে বিছিয়ে দেয় যেন মাটি থেকে তাপ শরীরে আসতে না পারে।
সে সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, যাতে শরীরের ন্যূনতম অংশ উত্তপ্ত হয়।
একপাল উট বিশ্রাম করার সময় পাশাপাশি শুয়ে থাকে, যেন শরীরের অল্প অংশ তাপ গ্রহণ করতে পারে। শরীরের উচ্চ তাপমাত্রাতেও এর metabolic rate স্বাভাবিক থাকে।
উটের রক্ত বিশেষভাবে তৈরি প্রচুর পরিমাণে পানি ধরে রাখার জন্য। উট যখন একবার পানি পান করা শুরু করে, তখন এটি প্রায় ১৩০ লিটার পানি, প্রায় তিনটি গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কের সমান পানি, ১০ মিনিটের মধ্যে পান করে ফেলতে পারে। এই বিপুল পরিমাণের পানি অন্য কোনো প্রাণী পান করলে রক্তে মাত্রাতিরিক্ত পানি গিয়ে অভিস্রবণ চাপের কারণে রক্তের কোষ ফুলে ফেঁপে ফেটে যেত। কিন্তু উটের রক্তের কোষে এক বিশেষ আবরণ আছে, যা অনেক বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। এই বিশেষ রক্তের কারণেই উটের পক্ষে একবারে এত পানি পান করা সম্ভব হয়।
।।দুই।।

ড্রোমেডারী উটের একটা কুঁজ থাকে আর ব্যাকট্রীয়ান উটের থাকে দুটো। যখন উট ভালোকরে খেতে পায় তখন এর কুঁজ চর্বিতে ভর্তি হয়ে শক্ত টানটান অবস্থায় থাকে। যখন উট অভুক্ত অবস্থায় অনেকদিন থাকে তখন চর্বির অনেকটাই শক্তি উৎপাদনে ক্ষয় হয়ে যায় আর এর কুঁজ নরম থলথলে হয়ে যায়।[1]
।।তিন।।

উটের পায়েও গরুর মত চেরা খুর। কিন্তু উটের পায়ের তলায় নরম প্যাড আছে যা গরুর নেই। গরুর মত উটও রোমন্থন করে বা জাবর কাটে। কিন্তু সাধারণ রোমন্থনকারীদের মতো চার কক্ষ-বিশিষ্ট পাকস্থলির বদলে উটের পাকস্থলি তিন কক্ষ-বিশিষ্ট। তাই অনেকে এদের ছদ্ম রোমন্থক বলেন।[1]
।।চার।।

শরীরের ওজনের 30% এরও বেশি সমান পানির হ্রাস সহ্য করতে পারে (ফ্র্যাঙ্কলিন 2011)
অন্যদিকে বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীরা 15% হ্রাস পেলেই মারা যায়।[2]
।।পাঁচ।।

স্তন্যপায়ীর লোহিত কণিকা গোলাকার। শুধু উটের লোহিত কণিকা ডিম্বাকৃতির, যা পানিশুন্য অবস্থায় রক্ত চলাচলে সহায়তা করে। এর আবরণীও বেশ মজবুত, যা অল্প সময়ে উট অনেক পানি পান করলে যে osmotic variation হয়, তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে ও আবরণী ফেটে যায় না।[2]
।।ছয়।।

উট প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে পৃথক হয়। গরু এবং ছাগলের তুলনায় উটের রোগ অনেক কম হয়ে থাকে। এর Immune system খুবই ব্যতিক্রমধর্মী। এর Immunoglobulin দিয়ে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তাতে লাইট চেইন থাকে না।
সাধারণত, ওয়াই-আকৃতির অ্যান্টিবডি অণুগুলিতে Y এর দৈর্ঘ্যের সাথে দুটি ভারী(Heavy) (বা দীর্ঘ) চেইন থাকে এবং Y এর প্রতিটি ডগায় দুটি হালকা (বা সংক্ষিপ্ত) চেইন থাকে, এগুলি ছাড়াও অ্যান্টিবডিগুলিও থাকে মাত্র দুটি ভারী চেইনের একটি বৈশিষ্ট্য যা তাদেরকে আরও ছোট এবং আরও টেকসই করে তোলে। 1993 সালে আবিষ্কৃত এই "Heavy-chain-only" অ্যান্টিবডিগুলি ৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে বিকশিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।[3]..
এতো নিপুণ সৃষ্টিতো তার পক্ষেই সম্ভব যিনি এ বিশ্বজাহানেরও স্রষ্টা।তার সৃষ্টির দিকে তাকালে অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে 'সুবহানআল্লাহ'।
রেফারেন্স:
[1]Wikipedia.
[2] "Bactrian & Dromedary Camels". Factsheets. San Diego Zoo Global Library. March 2009
[3]Koenig, R. (2007). "VETERINARY MEDICINE: 'Camelized' Antibodies Make Waves". Science. 318 (5855): 1373.
_________
||বিস্ময়কর সৃষ্টি-০১||
-নাবিল হাসান।

 #ধর্ষনের_মেডিক্যালীয়_ব্যাখ্যা!!৬ বছরের শিশু, আপাদমস্তক বোরখাবৃতা কিংবা ৬০ বছরের বৃদ্ধারা ধর্ষিত হওয়ার ১৩৮ বছরের পুরানো ...
29/03/2020

#ধর্ষনের_মেডিক্যালীয়_ব্যাখ্যা!!

৬ বছরের শিশু, আপাদমস্তক বোরখাবৃতা কিংবা ৬০ বছরের বৃদ্ধারা ধর্ষিত হওয়ার ১৩৮ বছরের পুরানো মেডিকেলীয় ব্যাখ্যা।

অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলেও সত্য ১৩৮ বছর আগে রাশিয়ান বিজ্ঞানী পাভলভ এই ব্যাখ্যাটা দিয়ে গেছেন। বিজ্ঞানী পাভলভের এই কনসেপ্ট প্রত্যেক ডাক্তারকে তাঁর মেডিকেল লাইফের সেকেন্ড ইয়ারে পড়তে হয়।

সহজভাবে বলার চেষ্টা করি – নন মেডিকেলদের জন্য দেখি বলতে পারি কিনা।
:
:
:
:
:
বিজ্ঞানী পাভলভ একদল কুকুরকে ল্যাবে বেঁধে রেখে দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা নিরিক্ষা করেছিলেন। তিনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে তাদের খাবার দিতেন। কুকুরের সামনে থাকত খাবারের বাটি এবং আয়না। সেখানে পাভলভ কুকুরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতেন। প্রতিদিন ঠিক একই সময়গুলিতে কুকুর গুলিকে খাবার দেওয়া হত। পাভলভের সাথে থাকতেন তাঁর ল্যাব সহকারী। খাবার গ্রহণের সময় কুকুরের কী পরিমাণ লালা ঝরত সেটি একটি কন্টেইনারে মাপা হত।
ব্রেইনের স্বাভাবিক রিফ্লেক্স হল খাবার গ্রহণের সময় লালা ঝরা।
কিন্তু পাভলভ দেখলেন যে – খাবার গ্রহণ নয়, খাবার দেখেও এবার কুকুরের লালা ঝরতে শুরু করেছে। পাভলভ খাবার দেখে কুকুরের কী পরিমাণ লালা ঝরত সেটি ও কন্টেইনারে মাপার ব্যবস্থা করলেন।
বেশ কিছু দিন যাওয়ার পর পাভলভ দেখলেন তিনি ল্যাবে ঢুকলেই কুকুরের লালা বের হচ্ছে।
সাথে খাবার থাক আর না থাক।
পাভলভ এবার নিজে ল্যাবে না গিয়ে খাবার বিহীন অবস্থায় তাঁর ল্যাব সহকারীকে ল্যাবে পাঠালেন। ল্যাব সহকারী অবাক হয়ে দেখলেন তাকে দেখে ও (ল্যাব সহকারী) দেখেও কুকুরের লালা ঝরছে।
পাভলভ এবার ভিন্ন কিছু করলেন।
তিনি কুকুরকে খাবার দেওয়ার সাথে সাথে একই সময়ে একটি ঘণ্টি বাজাতে থাকলেন।
খাবার দেওয়া হচ্ছে এবং ঘন্টি বাজানো হচ্ছে।

এরপর পাভলভ এবং সহকারী একদিন খাবার ছাড়াই ল্যাবে আসলেন এবং ঘন্টি বাজাতে শুরু করলেন।

দেখলেন খাবার না দেওয়া সত্ত্বেও কুকুরগুলোর একই পরিমাণ লালা ক্ষরণ হচ্ছে।

পাভলভ সিদ্ধান্তে আসলেন – খাবারের প্যাকেট, ল্যাব এসিস্টেন্ট, ঘন্টির শব্দ – এগুলি সব নিউট্রাল স্টিমুলেশন। এগুলির সাথে লালা ক্ষরণের সম্পর্ক নেই। কিন্তু কুকুর তার লার্নিং বিহেভিয়ারে খাবারের সাথে খাবারের প্যাকেট, পাভলভ, ল্যাব সহকারী বা ঘণ্টার শব্দকে কো রিলেট করে ফেলেছে। এবং খাবারের সাথে যা যা ঘটে সব কিছুকেই লালা ক্ষরণের উপাদান হিসেবে তার ব্রেইন ডিটেক্ট করছে।

ব্রেইনের এই লার্নিং মেথডকে তিনি “কন্ডিশনিং” এবং ‘কন্ডিশান্ড রিফ্লেক্স’ বলেছেন।

অর্থাৎ ব্রেইন এমন একটি স্টিমুলেশনের প্রতি সাড়া দিচ্ছে, যেটিতে ব্রেইনের আদৌ রেস্পন্স করা উচিত না, কিন্তু করার কারন হচ্ছে ব্রেইন এই স্টিমুলেশনকে আরেকটি স্টিমুলেশানের সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলেছে।
:
:
:
:
:
৬ বছরের মেয়ে, বোরখাবৃতা মেয়ে কিংবা ৬০ বছরের বৃদ্ধা স্বাভাবিকভাবে যৌনানুভুতি সৃষ্টি করে না। কিন্তু লার্নিং মেথডের কন্ডিশানিং এর কারনে একজন ধর্ষকের ব্রেইনে এটি মারাত্মক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
কীভাবে এই কন্ডিশানিং হচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের ডিরেক্টর ডঃ আলিয়াস বলেছেন, মানুষের পার্সোনালাটি লার্নিং হয় তিনটা প্রধান ফ্যাক্টর দ্বারা শিক্ষা, সঙ্গ এবং পরিবেশ।

আসুন আমরা দেখি শিক্ষা সঙ্গ এবং পরিবেশ থেকে আমরা মেয়েদের ব্যাপারে কি প্রি কনসেপ্সহান পাচ্ছি?
:
:
:
:
:
ক্লাস এইটে “নিজেকে জানো” বইতে ইয়াং পুলাপাইনকে কী শিখাচ্ছেন?
- “পরস্পরের সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ দৌষণীয় নয়।

ক্লাস নাইনে “হাজার বছর ধরে” উপন্যাসে ইয়াং পুলাপাইনকে কি শিখিয়েছেন?
- হাজবেন্ডকে ফাঁকি দিয়ে অন্যের সাথে সহীহ পরকীয়ার কলা কৌশল।
তের চৌদ্দ বছর বয়সে একটা ছেলে যখন হাজার বছর ধরে উপন্যাস পড়ে এবং সেখানে টুনি মন্তুর প্রেমকাহিনী পড়তে পড়তে সে অবচেতনভাবে ছেলেটি নিজেকে মন্তু আর মেয়েকে টুনি ভাবে এবং এই ভাবনা নিউরোলজিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু স্বাভাবিকই নয়, বরং না ভাবাটাই অস্বাভাবিক।

ক্লাস ইলেভেনে “পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে ইয়াং পুলাপাইন কী শিখিয়েছেন?
- ওয়াইফকে ফাঁকি দিয়ে শালীর সাথে সহীহ পরকীয়ার কলা কৌশল।
কুবের কপিলার সম্পর্ক পোড়ার পর, আপনি আপনার শালীকে কী চোখে দেখেন? বাংলা সাহিত্যের গল্প, নাটক, উপন্যাস, কবিতায় নারীকে কী হিসেবে চিত্রিত করেছেন কবি সাহিত্যিকেরা? এই গল্প/সাহিত্য আপনার মস্তিষ্কে কী ধরণের চিত্রকল্প তৈরি করে?

ক্লাস ইলেভেনে শকুন্তলা নিবন্ধে ইয়াং পুলাপাইনকে কি শিখিয়েছেন?
"শকুন্তলার অধরে নবপল্লবশোভার সম্পূর্ণ আবির্ভাব; বাহুযুগল কোমল বিটপের বিচিত্র শোভায় বিভূষিত; আর, নব যৌবন, বিকশিত কুসুমরাশির ন্যায়, সর্বাঙ্গ ব্যাপিয়া রহিয়াছে"। গাছের বাকলপড়া শকুন্তলার বর্ণনা আপনার মনের মধ্যে কী ধরণের ছবি উপস্থাপন করে?
- শকুন্তলার নগ্ন দেহের রগরগে বর্ণনা।
শকুন্তলার দেহের বর্ণনার এই লাইনগুলো আপনার কল্পনার চিত্রনাট্যে কী ধরণের ছবি তুলে ধরে?

সাহিত্যগুলোতে নারীকে কী রূপে উপস্থাপন করছেন?
- ভোগ বিলাসের সামগ্রী।

বিজ্ঞাপনে নারীকে কী হিসেবে উপস্থাপন করছেন?
- ভোগ পণ্য।

নাটক, টেলিফিল্ম, ছায়াছবিতে নারীকে কীভাবে উপস্থাপন করছেন?
- ভোগপণ্য, কামনার প্রতিমা।

ছায়ানট, শিল্পকলা একাডেমি, চারুকলা, ললিতকলায় নারীকে কীভাবে উপস্থাপন করছেন?
- ভোগপণ্য, কামনার প্রতিমা।

মিডিয়ায় নারীকে কীভাবে উপস্থাপন করছেন?
- ভোগপণ্য, কামনার প্রতিমা।

এইডসের বিজ্ঞাপনে কী শেখাচ্ছেন?
- বাঁচতে হলে জানতে হবে (মানামানির দরকার নেই, জানলেই হবে। ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে তো এইডসের জ্ঞান নেই বললেই চলে, তাই তাদের মধ্যে এত এত এইডস!)

একজন মিথ্যাবাদী, প্রতারক, উচ্চাভিলাষী, অল্প শিক্ষিত, চরিত্রহীন, পতিতা কোয়ালিটির মেয়েকে দেশের সেরা মেয়ে করার নষ্ট প্রতিযোগিতা নিয়ে অন লাইন অফ লাইন মিডিয়ার গুষ্টি উদ্ধার আর তার পেছনে পতিতার খদ্দের দেশের তামাম বিখ্যাত সব কর্পোরেট হাউজের ছুটে চলার মাধ্যমে কী শেখাচ্ছেন জেনারেশন নেক্সটকে? (মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান নিয়ে কামড়াকামড়ি)

আমাদের সাহিত্য, নাটক, শিল্পকলা, বিজ্ঞাপন, সংস্কৃতি একটা ছেলের মনে একটা মেয়ে সম্পর্কে কি ধরণের ইমেজ দিচ্ছে? এই একটা বিশেষ ছাঁচেই ছেলেদের cognition গড়ে উঠছে, এটাই ব্রেইনের স্মৃতিভান্ডারে জমা হচ্ছে। আসলে ব্রেইনের প্রি কনসেপশানে বা স্মৃতি ভান্ডারে নারী মানেই এমন একটি সত্ত্বা যাকে দিয়ে দেহের এবং মনের ক্ষুধা মেটানো যায়।

এরপর যখন বলেন, নারীকে সম্মান করতে হবে, মায়ের/বোনের দৃষ্টিতে তাকাতে হবে, সেটা অনেকের ব্রেইন মেনে নেয় না। কারন পরিবেশ থেকে নারী সম্পর্কে ব্রেইনে একটা কনসেপ্টই এস্টাব্লিশ হয়েছে – ভোগ্যপণ্য!

এই প্রি কনসেপশান থেকেই ৬ বছর, ৬০ বছরের নারী কিংবা বোরখাবৃতা, যেই হোক ধর্ষণেচ্ছা থেকে কেউই রেহায় পাচ্ছে না।
:
:
:
:
:
মেডিকেলীয় টার্মে প্রত্যেক রোগের তিনটি ডায়মেনশান আছে – Agent (রোগের কারন), Host (যার মধ্যে রোগের কারন বা জীবাণু আক্রমণ করে) এবং Environment (যে পরিবেশে রোগ হয়)

উদাহরণ স্বরূপ টাইফয়েড রোগের
এজেন্ট হচ্ছে সালমনেলা ব্যাকোটেরিয়া
হোস্ট – টাইফয়েড রোগী যিনি ব্যাক্টেরিয়া আক্রান্ত পানি/খাবার ভক্ষণ করেছেন
আর পরিবেশ হচ্ছে – দূষিত পানি/খাবার

আবার সড়ক দুর্ঘটনার জন্য
এজেন্ট – অদক্ষ/মাদকাসক্ত ড্রাইভার
হোস্ট – ফিটনেস হীন গাড়ি আর
এনভাইরনমেন্ট – আঁকাবাঁকা রাস্তা, রঙ পার্কিং, অস্পষ্ট রোড সাইন

এই এজেন্ট, হোস্ট এবং পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ায় রোগ হয়।

ধর্ষণ একটি নৈতিক রোগ যার
এজেন্ট – বিকৃতকাম নৈতিকতা বিবর্জিত পুরুষ
হোস্ট – নারী আর
পরিবেশ – যৌন সুড়সুড়িময় পরিবেশ যেটির কথা আগেই উল্লেখ করেছি।

এখন মেডিকেলীয় পদ্ধতিতে টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণের জন্য
এন্টিবায়োটিক খেতে হবে (সালমনেলা ব্যাক্টেরিয়াকে মেরে ফেলার জন্য তথা এজেন্ট কন্ট্রোল করার জন্য)
দূষিত খাবার/পানি খাওয়া যাবে না (হোস্ট কন্ট্রোল) এবং
পানি দূষণ ও খাবার দূষণ বন্ধ করতে হবে (এনভাইরনমেন্ট কন্ট্রোল)

তেমনি সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে
ড্রাইভারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্থি প্রদান, তাদের মধ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ (এজেন্ট কন্ট্রোল)
ফিটনেস বিহীন গাড়ির রুট পারমিট বাতিল (হোস্ট কন্ট্রোল)
আঁকাবাঁকা রাস্তা, রঙ পার্কিং, অস্পষ্ট রোড সাইন বন্ধ করতে হবে (এনভাইরনমেন্ট কন্ট্রোল)

তেমনি ধর্ষণ বন্ধের জন্য
দৃষ্টান্তমূলক উন্নত শাস্থি (সৌদি আরবের মত), পুরুষদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা জাগ্রত করা – এজেন্ট কন্ট্রোল
নারীদের সভ্যভাবে চলতে উদ্ভুদ্ধ করণ (হোস্ট কন্ট্রোল)
এবং নাটক, গান, গল্প সাহিত্য, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য রূপে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে (এনভাইরনমেন্ট কন্ট্রোল)

আমার আছে এন্টিবায়োটিক, আমি ইচ্ছামত বিশুদ্ধ দূষিত সব খাব, কিন্তু টাইফয়েড হবে না – এটা হয় না

তেমনি নৈতিকতাবোধ জাগ্রত না করে, নারীদের সভ্যভাবে চলতে না বলে, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ না করে, শুধু পুরুষদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ হবে না।

কারন আইনের দৌড় খুব সীমিত। সন্তান মাকে হত্যা করছে, মা সন্তানকে হত্যা করছে, স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করছে, স্ত্রী স্বামীকে হত্যা করছে – আইন এখানে কী ই বা করবে? পাহারা দিয়ে, আইন করে অন্যায় বন্ধ করা যায় না যদি মূল্যবোধ জাগ্রত না হয়।

( Collected)

Address

Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Radio posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share