Pannya - পঞ্ঞা - প্রজ্ঞা

Pannya - পঞ্ঞা - প্রজ্ঞা ধর্মদান সকল দানকে জয় করে।
ধম্ম দানং সব্ব দানং জিনাতি।

🙏 নমো তস্স ভগবতো আরহতো সম্মাসমুদ্ধস্স 🙏খৈয়াখালী ধম্মাবিজয়ারাম বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে 🪷 ওয়াছো (বর্ষ...
20/08/2026

🙏 নমো তস্স ভগবতো আরহতো সম্মাসমুদ্ধস্স 🙏
খৈয়াখালী ধম্মাবিজয়ারাম বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে 🪷 ওয়াছো (বর্ষাবাস) চীবর দান ও সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠান ২০২৬ ইং। ☸️

তারিখঃ ২১ আগস্ট ২০২৬, ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রোজ: শুক্রবার।

স্থানঃ খৈয়াখালী গ্রাম, পাহাড়তলী ইউনিয়ন, রাউজান উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলা।

আয়োজনেঃ দি ওয়ার্ল্ড বুদ্ধ শাসন সেবক সংঘ ও খৈয়াখালী গ্রামবাসী।

প্রচারেঃ অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপ: খৈয়াখালী ধম্মাবিজয়ারাম বিহার (রাউজান,চট্রগ্রাম) Khaiyakhali Buddhist Temple

২১ আগস্ট রোজ শুক্রবার খৈয়াখালী ধম্মবিজয়ারাম বিহারে বর্ষাবাস ( ওয়াছো)  চীবর দান --------
18/08/2026

২১ আগস্ট রোজ শুক্রবার খৈয়াখালী ধম্মবিজয়ারাম বিহারে বর্ষাবাস ( ওয়াছো) চীবর দান --------

নেমি জাতকে উল্লেখ আছে, মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদের মধ্যে অন্যতম হল তার প্রিয় পত্নী বা স্ত্রী। সেই পত্নী বা স্ত্রীকে ছেড়ে...
17/08/2026

নেমি জাতকে উল্লেখ আছে,

মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদের মধ্যে অন্যতম হল তার প্রিয় পত্নী বা স্ত্রী। সেই পত্নী বা স্ত্রীকে ছেড়েই যে পরদারসেবী বা পরকিয়ায় লিপ্ত হয় তার পরিণাম ভয়াবহ হয়। সেই পাপের শাস্তি সম্পর্কে এরূপ বলা হয়েছে, নারকীগণ পাপীকে পাদদ্বয় ধরে মাথা নিচে অর্থাৎ উল্টা করে তাকে নরকে নিক্ষেপ করে এবং সেই ব্যক্তি ক্ষতবিক্ষত অঙ্গে সদা ক্রন্দনকরত ছিন্নগ্রীবাসহ র*ক্তপুঁজে পরিপূর্ণ ভূমিতে দেহ নিমজ্জিত থাকে, শরীর ভূমির সাথে আটকে দেয়া থাকে এবং তখনই বিশাল জলন্ত পর্বত তার শরীর পিষ্ট করে দেয়, সেই পিষ্ট শরীর পুনরায় নতুনভাবে সংযোজন হয় এবং আবার জলন্ত পর্বত দ্বারা পিষ্ট হয়। এভাবেই পাপীগণ বহু কষ্ট ভোগ করে থাকেন। এবং উপরোক্ত বিষয়টি নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বর্তমান সমাজের অন্যতম ব্যাধি বলা চলে পরদারসেবন বা পরকিয়া, তাই ধর্মের অনুশাসনে থেকে হলেও এই অনৈতিকতা বর্জন করা প্রয়োজন।

Dharmadūt

🍁লঙ্কার এক দিনমজুরের ঘটনা🍁নকুলের গল্প একটুখানি বলি। শুনেন নাই ঐ নকুলের কাহিনী? তিনি লঙ্কায় কাকৰণতিস্স রাজার রাজত্বকালে ...
16/08/2026

🍁লঙ্কার এক দিনমজুরের ঘটনা🍁

নকুলের গল্প একটুখানি বলি। শুনেন নাই ঐ নকুলের কাহিনী? তিনি লঙ্কায় কাকৰণতিস্স রাজার রাজত্বকালে রোহণ জনপদে তার স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে অতি কষ্টে জীবন ধারণ করতেন। একসময় তিনি তার সেই মেয়েকে ১২ টাকার বিনিময়ে মহাগ্রামের সুমন শ্রেষ্ঠীর বাড়িতে কাজ করার জন্য বন্ধক দিয়েছিলেন। তখনকার দিনে একজন লোক মানুষের ঘরে কাজ করলে মজুরি হিসেবে দিনে এক আনা মজুরী পেত। এই বেচারা নকুল তার মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য ৩ বছর কাজ করেছে। মেয়েটির মা যখন অসুস্থ ছিল, তার চিকিৎসার টাকা জোগাড় করার জন্য মেয়েকে বন্ধক রেখে টাকা ধার নিতে হয়েছিল। এখন মেয়েকে উদ্ধার করবেন। মেয়েটার বয়স এখন ৯ বছর থেকে ১২ বছর হয়ে গেছে। নকুল তিন বছর খাটুনির পর ১২ টাকা জোগাড় করেছেন। এখন তিনি বন্ধকী টাকা ফেরত দিয়ে মেয়েকে এইবার উদ্ধার করবেন। সুমন শ্রেষ্ঠীকে ১২ টাকা দিলেই সুমন শ্রেষ্ঠী মেয়েকে ফেরত দিয়ে দিবেন।

🔰তিনি টাকা যোগাড় করে মেয়েকে উদ্ধার করে আনার জন্য মহাগ্রামে যাবার পথে গভীর জঙ্গলে চলতিস্স নামে এক ভন্তের সাক্ষাৎ পেলেন। এটা বেশী দিন আগের কথা নয়, বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর ৩০০ থেকে ৫০০ বছরের মধ্যকার কথা। শ্রীলঙ্কাতে তখন বৌদ্ধ ধর্মের খুব উন্নতি হয়েছিল। ভন্তেকে দেখে তিনি চিন্তা করলেন, আশ্চর্য! ভন্তে এদিকে একা! তখন কিন্তু প্রায় ১১ টা। আর ১ ঘন্টা দেরি যদি হয়, ভন্তের ছোঁয়াইং খাওয়ার সময় চলে যাবে। তাই নকুল ভন্তের কাছে গিয়ে বন্দনা করে বললেন-

: ভন্তে, আপনার ছোঁয়াইং খাওয়া হয়েছে?
: উপাসক, দুশ্চিন্তা করবেন না।
আমরা ভিক্ষু, আমাদের ছোঁয়াইং খাওয়া নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা করতে হয় না।
ঐ যে ঝরণা আছে না? ঐ জল খেয়েই চলবে।
আহ! কি বলেন ভন্তে? জল খেয়ে চলবে কেন? আমি আপনাকে পাং করছি।

আমার পাং গ্রহণ করুন। আপনাকে আমি ছোঁয়াইং দান করতে চাই। আমার এই প্রার্থনা রক্ষা করুন ভন্তে। (প্রার্থনা জানিয়ে তিনি ভন্তেকে বন্দনা করলেন।) ভন্তে এখানে একটু অপেক্ষা করুন। আমি ছোঁয়াইং নিয়ে আসছি।

দেখুন তো কি শ্রদ্ধা! হঠাৎ তার অন্তরে এই শ্রদ্ধা উৎপন্ন হয়ে গেল। অথচ গভীর জঙ্গল ভাত পাবে কোথায়? নকুল দৌড়াতে লাগলো। তার মনের ভেতর সাহস কেন? ১২ টাকা আছে, প্রয়োজনে এই ১২ টাকা থেকে কিছু খরচ করে ভন্তেকে আহার দান করবেন। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য কোথাও ভাত পায় না। হঠাৎ দেখতে পেল, একটা লোক জঙ্গলের ভেতরে পুটলি একটা নিয়ে হাঁটছে, নিশ্চয় ভাত হবে ।

: ও ভাই, দাঁড়ান দাঁড়ান ।
ঃ কি দাঁড়াব, ডাকাত নাকি?
ঃ না আমি ডাকাত না, আপনার পুটলিতে কি ভাত?
ঃ হ্যাঁ ভাত ৷
: ভাত বেচবেন?
ঃ কেন?
ঃ এক ভন্তেকে দান করব।

লোকটা ভাবে, তাহলে তো অনেক দাম চাওয়া যাবে। ভাতের দাম ১ পয়সা হবে। কিন্তু নকুল ভাতের দাম ১ টাকা দিল । কোথায় ১ পয়সা, কোথায় ১ টাকা ! সে সারা দিন কাজ করে ১ আনা মজুরী পায় না। ঐ সময় ১ টাকার অনেক মূল্য। ঐ লোক চিন্তা করল ১ টাকা তো এমনিই দিয়ে দিল। তাই সে নকুলকে বলল-

: না ভাই, ১ টাকায় দিতে পারব না, ২ টাকা লাগবে।
: আচ্ছা তা দিব।
ঃ (ওহ্! তার তো অনেক টাকা আছে মনে হয়।) না, না ২ টাকা নয়, 8 টাকা লাগবে।
: আচ্ছা, তা দিব।
ঃ (ঐ লোকটার লোভ বাড়ছে।) ৮ টাকা দিতে হবে।
: হায়রে ভাই! আপনি কি করছেন? আপনি ঘন ঘন দাম বাড়িয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ১ টাকা থেকে এখন ৮ টাকা বলছেন ।

: ৮ টাকা না দিলে বেচব না । : ও ভাই, দাঁড়ান দাঁড়ান ।
: না ৮ টাকায় বেচব না ।
: ভাই, ভন্তেকে তো আমি পাং করে ফেলেছি।
ঃ কত আছে?
ঃ ১২ টাকা আছে।
ঃ ১২ টাকাই দেন ।

দেখেছেন, কত বড় অসৎ লোক! এক বেলা ভাতের দাম তিন বছরের ঐ ১২ টাকা সব নিয়ে নিল। শ্রদ্ধাবান নকুল কিন্তু তার মেয়ের জীবন সঞ্চয়কৃত বিপন্ন করে ১২ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। তার মেয়ের প্রতি যে ভালবাসা সেই ভালবাসাটাকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে ১২ টাকায় ভাত কিনে দান করেছেন।

ইহা একটি জ্বলন্ত গৃহে জীবন বিপন্ন করে প্রবেশ করার মত নয় কি? এগুলোকে বলে জ্বলন্ত গৃহে প্রবেশ করা। কেন ঢুকেছে? কারণ সে বুদ্ধিমান। আমি যেটা বের করে আনব তাই আমার সম্বল, জন্ম-জন্মান্তর ঐ পুণ্যরাশি আমাকে উদ্ধার করবে। তাই নকুল আগুনে ঢুকেছে। কি আগুন? তার মেয়েকে বন্ধক থেকে উদ্ধার করতে না পারলে নাই, ক্রীতদাস হিসাবে থাক্। তার প্রেম- প্রীতি-ভালবাসা সব বিসর্জন দিয়ে ভন্তেকে এক বেলা ছোঁয়াইং দান দিলেন। ভন্তেও গ্রহণ করলেন।

ভন্তে বললেন, ‘দায়ক, কোথা থেকে ছোঁয়াইং সংগ্রহ করেছেন?’ ভন্তে, ঐ একটা লোকের কাছ থেকে। ‘কিভাবে পেলেন?' নকুল ভন্তেকে সবিস্তারে বললেন। সব শুনে ভন্তে চিন্তা করলেন, 'আহা! মেয়ের জীবনের বিনিময়ে আমাকে ১ বেলা ছোঁয়াইং দান করছেন। এই ছোঁয়াইং যেমন তেমন ছোঁয়াইং নয়, সাধারণ ছোঁয়াইং নয়। আমিও প্রত্যেক দিন যেভাবে ছোঁয়াইং খাই সেভাবে এই ছোঁয়াইং গ্রহণ করব না। আমি ধ্যানস্থ হয়ে একজন ভিক্ষুর যে লক্ষ্য, ভিক্ষুর যে কর্তব্য তা পরিপূর্ণ করেই খাব।'

ভিক্ষুদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কি? অরহত হওয়া। তিনি চিন্তা করলেন- আমি অরহত হওয়ার পরে এই ছোঁয়াইং আহার করবো। অন্যের প্রাণের বিনিময়ে প্রদত্ত এই ছোঁয়াইং আমি অরহত না হয়ে খাবো না। এই ছোঁয়াইং এর মূল্য এভাবেই আমি যথার্থ করতে চাই। —এই বলে সাবাইকে ছোঁয়াইং নিয়ে ভন্তে ধ্যানস্থ হয়ে গেলেন। তিনি তখন অনাগামী ছিলেন। তিনি উদয়-ব্যয় থেকে শুরু করে ধ্যানস্থ হলেন। নকুল মাটির নিচে বসে আনন্দ মনে ভন্তের দিকে তাকিয়ে রইলেন। ঐদিকে আজকে ভন্তের মনেও ভিন্ন রকমের একটা চেতনা, ভিন্ন রকমের একটা প্রতিক্রিয়া। প্রত্যেকদিন তিনি যে ছোঁয়াইং গ্রহণ করেন, তা সাধারণ ছোঁয়াইং। আজকের ছোঁয়াইং কিন্তু ভিন্ন। নকুল ৩ বছর সাধনা করেছে মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য। ৩ বছরের সাধনা করেছে একটা প্রাণ ফিরে পাওয়ার জন্য। সেটাকে সে বিসর্জন দিয়েছে, একবেলা আমাকে ছোঁয়াইং খাওয়ানোর জন্য। আমি এই ছোঁয়াইং এমনিতে কিভাবে খাব? তিনি যেহেতু অধিষ্ঠান করেছেন- অরহত না হওয়া পর্যন্ত এই ছোঁয়াইং গ্রহণ করবেন না, তাই দৃঢ় চেতনা, দৃঢ় বীর্য, গভীর স্মৃতি, গভীর মৈত্রী-করুণার কারণে অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি অরহত্ব মার্গফল লাভ করলেন। অরহত্ব মার্গফল লাভ করে ভন্তে আকাশে ভেসে উঠলেন। আকাশে ভেসে উঠে তিনি ছোঁয়াইং আহার করলেন ।

নকুলের দান দেওয়া ছোঁয়াইং মহাপুণ্যবান ছোঁয়াইং হয়ে গেল। তার দানকৃত ছোঁয়াইং ভোজন করে ভন্তে অরহত হলেন। কিন্তু নকুল তার মেয়েকে সুমন শ্রেষ্ঠীর গৃহ থেকে উদ্ধার করতে পারল না। নকুল মাটিতে বসে দেখতে লাগলো- আহ! আমার ছোঁয়াইং-এর কি ফল! কত মহৎ আমার এই ছোঁয়াইং! নকুল ভন্তেকে বন্দনা করে আনন্দ মনে চিন্তা করতে লাগলো- জগতে অনেকের নাই, তাই দান দিতে পারে না। দিতে পারে না বলে গরীর হয়ে জন্ম গ্রহণ করে জন্ম- জন্মান্তর। আমারও কিন্তু নেই, তবুও আমি দিয়েছি। আমি জয় করেছি, জয় করেছি। নকুল কি চিন্তা করছে? জগতে অনেকের নাই বলে দান করে না, দান করে না বলে জন্ম-জন্মান্তর গরীব হয়ে আরো নিচু কূলেই জন্ম নেয়। না থাকলেও দিতে হবে। দান করতে হবে। তাহলেই সে ঐ গরীব জীবন থেকে নিচু জীবন থেকে উপরে উঠতে পারবে। তাই নকুল নিজে নিজে ভাবছে, আমার নাই তবুও আমি দান করেছি। আমার মেয়ের জীবনকে বিসর্জন আমি দিয়েছি। আমার মত কে আছে? আমি তৃষ্ণাকে জয় করতে পেরেছি, আমি লোভকে জয় করতে পেরেছি- এই বলে নকুল আনন্দমনে মহাগ্রামে পৌঁছে গেল ।

নকুল সুমন শ্রেষ্ঠীর গৃহে যখন পৌছল, তখন সুমন শ্রেষ্ঠী মনে করল যে মেয়েকে বন্ধক থেকে মুক্ত করতে তিনি এসেছেন ।
সুমন শ্রেষ্ঠী : টাকা এনেছ?
নকুল ঃ এনেছিলাম।

সুমন শ্রেষ্ঠী ঃ তাহলে টাকা দাও । এই কে আছ, তার মেয়েকে ডাক ।
নকুলের মেয়ে ঃ বাবা, আমাকে নিতে এসেছ, তাই না?
নকুল ঃ হ্যাঁ মা, নিতে এসেছি। কিন্তু পথে একজন ভিক্ষুকে ছোঁয়াইং দান দিতে গিয়ে খাবারের মূল্য হিসেবে ১২ টাকা খরচ করে ফেলেছি।
নকুলের মেয়ে ঃ ওহ্! তাহলে তুমি এক বেলা ছোঁয়াইং দান দেওয়ার জন্য তোমার মেয়েকে আর বন্ধক থেকে মুক্ত করতে পারবে না? বাবা, আমাকে নিয়ে যাবে না?
নকুল : মা নিয়ে যাব, অল্প কিছুদিন পর নিয়ে যাব। আমি ১২ টাকা খরচ করে ভন্তেকে ছোঁয়াইং দান করে যে পুণ্য সঞ্চয় করেছি, সেই পুণ্য তুমি অনুমোদন কর, মা।

কত বেদনাদায়ক চিন্তা করুন, মেয়েকে উদ্ধার করতে এসেছিল। মেয়ে জড়িয়ে ধরে বলছে, 'বাবা, আমি এখানে থাকতে চাই না। আমাকে মারে, গালি দেয়, পেট ভরে খেতে দেয় না। তোমার সাথে যাব বাবা, তুমি আমাকে নিয়ে চল।' উদ্ধার করতে এসেছিল ঠিকই, কিন্তু বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় মেয়েকে আর উদ্ধার করা হল না। তিনি মেয়েকে বন্ধক থেকে উদ্ধার না করে ভিক্ষুকে এক বেলা ছোঁয়াইং দান দিয়েছেন। অগ্নিদগ্ধ গৃহ থেকে মনোময় মণি উদ্ধার করে নিলেন ।

নির্বাপিত অরহত ভন্তের ঋদ্ধিশক্তি প্রয়োগ অরহত চূলতিস ভন্তে ঐদিনই বিহারে পৌঁছে পরিনির্বাপিত হলেন। তিনি নির্বাপিত হবার পূর্বে একটা অধিষ্ঠান করে গেলেন, যা কাউকেও বলে যান নাই। কি সেই অধিষ্ঠান?
'আমি পরিনির্বাপিত হলে আমার দেহধাতু নকুল উপাসক ছাড়া আর কারো দ্বারা উত্তোলিত হবে না।'
এদিকে অরহত ভন্তেকে সবাই দেখতে আসলেন, পূজা করতে আসলেন, কিন্তু উনার শরীর দেহ ধাতু কেউ উত্তোলন করতে পারছিলেন না। লোকজন রাজা কাকৰণতিস্সকে এই খবর জানাল। রাজা তার সেনাবাহিনীকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের দায়িত্ব দিল। কিন্তু তারাও ভন্তের শরীর উত্তোলন করতে পারল না। রাজা চিন্তা করলেন, 'এটা কেমন কথা! এই অরহতের কেমন
গুণ! আমরা তো বুঝতে পারছি না। কিভাবে উনার দেহ ধাতু উত্তোলন করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদন করব?'

সবার মত নকুলও পরিনির্বাপিত ভন্তেকে দর্শন করতে বিহারে গেলেন। ‘ওহো! উনি তো আমার সেই ভন্তে, আমি যাকে ছোঁয়াইং দান দিয়েছিলাম। আহ্! আমার ভন্তে নির্বাপিত হয়েছেন।' তিনি খুব কাছে গিয়ে ভন্তের পা ধরে বন্দনা করলেন। যেই উনি ভন্তের পা ধরলেন, সাথে সাথে ভন্তের শরীর ধাতু আকাশে ভেসে উঠল। মহারাজ আশ্চর্য হয়ে গেলেন— এটা কে? কোন মহাপুরুষ এটা? আমরা কেউ উত্তোলন করতে পারছিলাম না। অথচ এ লোকটা স্পর্শ করার সাথে সাথে দেহ ধাতু আকাশে ভেসে উঠেছে।

ঃ কে তুমি? নাম কি তোমার?
: মহারাজ, আমি নকুল ।
: তুমি কি কর?
: আমি গরীব, মহারাজ।
ঃ ভন্তের সাথে তোমার কি পরিচয় ছিল?
: হ্যাঁ মহারাজ, আমি আজ ভন্তেকে ছোঁয়াইং দান করেছিলাম। (সমস্ত ঘটনা খুলে বলল নকুল) ১২ টাকা নিয়ে মেয়েকে বন্ধক থেকে উদ্ধার করার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু পথিমধ্যে ভন্তের সাক্ষাৎ পেয়ে সেই টাকা দিয়ে ছোঁয়াইং দান করেছিলাম।
: নকুল, আমার এই ভন্তে অরহত । তোমার মেয়েকে উদ্ধার না করে অরহত ভন্তেকে এক বেলা ছোঁয়াইং দিয়েছ। তুমি আমার কল্যাণমিত্র। আজকে থেকে তোমার মেয়ে দাসী হয়ে থাকবে না। আমি তাকে বন্ধক থেকে উদ্ধার করে দিচ্ছি। শুধু তাই নয় নকুল, তোমাকে এই গ্রামের জমিদারি দিলাম ।নকুল জমিদার হয়ে গেলেন। শুধু তাই নয়, মেয়েকেও ফেরত পেলেন। এই জন্মে তিনি মনোময় মণি পেয়ে গেলেন। বুঝছেন? দানে ভোগসম্পত্তি বৃদ্ধি পায়। এভাবে দান দিয়ে আমাদের আপনাদেরকে মনোময় মণি উদ্ধার করে আনতে হবে।

- দেশনা কল্পতরু ষষ্ঠ খন্ড হতে ধর্মদান 🌸
দেশনায়: পরম পূজনীয় ধর্মপিতা (গুরুভন্তে)🙏🙏🙏🌺🌺🌺

“অট্ঠানমেতং”—এটি অসম্ভবএকটু চিন্তা করে দেখুন—তখন ভিক্ষু-সংঘ কতটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং চারদিকে কত রকমের কথাবার্তা ...
15/08/2026

“অট্ঠানমেতং”—এটি অসম্ভব

একটু চিন্তা করে দেখুন—তখন ভিক্ষু-সংঘ কতটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং চারদিকে কত রকমের কথাবার্তা চলছিল! বিভিন্ন খবর শোনা যাচ্ছিল—“দেবদত্ত বুদ্ধকে হত্যা করার চেষ্টা করছে”, “বুদ্ধকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করছে” ইত্যাদি।

দেবদত্ত যখন তীরন্দাজদের পাঠিয়েছিল, তখন ব্যাপারটি খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি; অনেকটা নীরবে গোপনে ঘটনাটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন পাহাড়ের ওপর থেকে পাথর গড়িয়ে দিয়ে বুদ্ধকে আঘাত করার চেষ্টা করা হলো, তখন ঘটনাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।

তখন ভিক্ষু-সংঘের মনে আর নিরাপত্তার অনুভূতি ছিল না। তাঁরা বুদ্ধের আশেপাশে এসে পাহারা দিতে লাগলেন। আজকের দিনের ভাষায় বলতে গেলে, তাঁরা যেন বুদ্ধের নিরাপত্তার জন্য পাহারায় নিয়োজিত হলেন।

কেউ হয়তো পাঠ করছিলেন, কেউ হয়তো বুদ্ধের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাচ্ছিলেন—এভাবে তাঁরা বুদ্ধকে রক্ষা করার জন্য অবস্থান করছিলেন।

এ সময় ভগবান বুদ্ধ তাঁদের উপস্থিতি ও শব্দ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন—
“তোমরা এখানে কী করছ?”

ভিক্ষুগণ বললেন, দেবদত্ত ভগবানকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তাই তাঁরা ভগবানকে রক্ষা করার জন্য এবং নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পাহারা দিচ্ছেন।

তখন ভগবান তাঁদের বললেন—“আমাকে পাহারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” এবং এই কথাটি বললেন—
অট্ঠানমেতং ভিক্খবে অনবকাসো,
যং পরূপক্কমেন তথাগতং জীবিতা ভোরোপেয়্য,
অনুপক্কমেন তথাগতা পরিনিব্বায়ন্তি।
— চূলবগ্গ পালি, পৃষ্ঠা ৩৫৬

এর অর্থ কী?

অর্থ হলো—
“ভিক্ষুগণ, এটি অসম্ভব, এর কোনো সুযোগই নেই যে অন্য কারও প্রচেষ্টা বা আক্রমণের মাধ্যমে তথাগতকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে। তথাগত অন্যের আক্রমণের কারণে মৃত্যুবরণ করেন না; কোনো বাহ্যিক প্রচেষ্টা ছাড়াই তথাগত স্বাভাবিকভাবেই পরিনির্বাণ লাভ করেন।”

এখানে “অট্ঠানমেতং” অর্থ—এটি হওয়ার কোনো কারণ বা সম্ভাবনা নেই; অর্থাৎ অসম্ভব।
“অনবকাসো” অর্থ—এর কোনো সুযোগ বা অবকাশ নেই।

“যং পরূপক্কমেন তথাগতং জীবিতা ভোরোপেয়্য”—অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচেষ্টা করে বা আক্রমণ করে তথাগতকে হত্যা করবে—এমনটি সম্ভব নয়।

“অনুপক্কমেন তথাগতা পরিনিব্বায়ন্তি”—অন্য কারও প্রচেষ্টা বা হত্যার কারণে নয়; তথাগত নিজের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহের অবসানে পরিনির্বাণ লাভ করেন।

অর্থাৎ, বুদ্ধকে অন্য কেউ হত্যা করতে পারে না; তথাগত অন্যের দ্বারা নিহত হয়ে পরিনির্বাণ লাভ করেন না।

🌼 “অট্ঠানমেতং” মন্ত্র হিসেবে ব্যবহার
এই বাক্যটি কেউ কেউ মন্ত্র বা সুরক্ষার পাঠ হিসেবেও ব্যবহার করেন। বিশ্বাস থাকলে কেউ তা পাঠ করতে পারেন। কিছু মহাথেরও এই পালি বাক্যটি পাঠ করতেন—এই বিশ্বাসে যে অন্যের দ্বারা তাঁকে হত্যা করা সম্ভব হবে না।

তবে মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধু “মন্ত্র পাঠ করে বিপদ দূর করা” নয়; বরং বুদ্ধের গুণ স্মরণ করে, বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রসন্নচিত্ত উৎপন্ন করা এবং কুশলচিত্ত বৃদ্ধি করা।

যদি কেউ—
অট্ঠানমেতং ভিক্খবে অনবকাসো,
যং পরূপক্কমেন তথাগতং জীবিতা ভোরোপেয়্য,
অনুপক্কমেন তথাগতা পরিনিব্বায়ন্তি।

এই অংশটি নিয়মিত পাঠ করেন এবং ভগবান বুদ্ধের গুণ স্মরণ করে শ্রদ্ধা ও কুশলচিত্ত বৃদ্ধি করেন, তাহলে অবশ্যই তার কুশলফল হবে।

🌿 প্লেগের সময় “অট্ঠানমেতং” পাঠ
পুরোনো নথিতে উল্লেখ আছে—মিয়ানমারে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের প্লেগ মহামারি দেখা দিয়েছিল। ইংরেজ শাসনের শেষ দিকেও বিভিন্ন স্থানে প্লেগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হয়েছিল।

গ্রামের পর গ্রাম, এমনকি এক বাড়ির পর আরেক বাড়িতে মানুষ মারা যাচ্ছিল। সেই সময় মানুষ বিভিন্ন পরিত্ত পাঠ করত। কিন্তু এত পরিত্ত পাঠ করার পরও মৃত্যুর হার সহজে কমছিল না—এমন কথাও প্রচলিত আছে।

সেই সময় বক্তার গুরু মহাথের ধনুব্যু, সানকিন গ্রামে অবস্থান করতেন। তাই তাঁকে “সানকিন সায়াদাও” নামে ডাকা হতো।

সানকিন গ্রামে যখন প্লেগের প্রকোপ দেখা দিল, তখন অন্যান্য পরিত্তের পাশাপাশি মহাথের “অট্ঠানমেতং” অংশটিও পাঠ করতেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, যখন তিনি শুধু সাধারণ পরিত্ত নয়, তার সঙ্গে “অট্ঠানমেতং” যুক্ত করে পাঠ করতে শুরু করলেন, তখন গ্রামের মৃত্যুর ঘটনা থেমে গেল—এমন একটি স্মৃতি বা বিবরণ প্রচলিত রয়েছে।

🙏 মূল শিক্ষাটি
এই অংশের গভীর তাৎপর্য হলো—তথাগতের জীবন ও পরিনির্বাণ সাধারণ মানুষের মতো কারও হত্যাচেষ্টার দ্বারা নির্ধারিত নয়। দেবদত্ত বহুবার বুদ্ধকে হত্যা করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

আর আমাদের জন্য “অট্ঠানমেতং” পাঠের সর্বোত্তম দিক হলো—বুদ্ধের গুণ স্মরণ, বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা, চিত্তে প্রসন্নতা এবং কুশলচিত্তের বিকাশ।

নমো তস্স ভগবতো অরহতো সম্মাসম্বুদ্ধস্স। 🙏🙏🙏
— “লৌকিক জীবদের জন্য ভগবান বুদ্ধের প্রচেষ্টা”, অধ্যায় ৪২, পৃষ্ঠা ৮১৩–৮১৪ থেকে উদ্ধৃত ও পূজার উদ্দেশ্যে পরিবেশিত।

দেশনায়- পরম পূজনীয় সানকিন ছেয়াদ🙏🌸

পৃথিবীর সকল প্রাণি সুখে-শান্তিতে থাকতে চায়। হিংসা, হানাহানি, মারামারি, যুদ্ধ থেকে সবাই রেহাই পেতে চায়। কিন্তু পারে না। ত...
15/08/2026

পৃথিবীর সকল প্রাণি সুখে-শান্তিতে থাকতে চায়। হিংসা, হানাহানি, মারামারি, যুদ্ধ থেকে সবাই রেহাই পেতে চায়। কিন্তু পারে না। তবে বুদ্ধের চারটি উপদেশ যদি সঠিকভাবে পালন করে তাহলে একই পরিবারের মানুষ যেভাবে বসবাস করে পৃথিবীর সকলেই সেভাবে সুখে সহাবস্থান করতে পারবে।🌼

🌿 ১) মৈত্রীঃ একা থাকলে কোন ঝগড়াঝাটি হয় না। কিন্তু মানুষকে তো সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হয়। তাই সমাজে সমপর্যায়ের লোকের সাথে মৈত্রীচিত্ত উৎপন্ন করে থাকতে হবে। হিংসাকে দমন করে মৈত্রীচিত্তকে বর্ধন করে থাকতে হবে। এতে কারো অনিষ্ট চিন্তা মনে আসবে না।

🌿 ২) মুদিতাঃ উঁচুপর্যায়ের লোক, উঁচু শ্রেণি যেমন- অর্থবিত্তে, রূপে-গুণে, পদে-পদবিতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে যদি আপনার উপরে অবস্থান করে তবে তাদের প্রতি মুদিতা চিত্ত উৎপন্ন করে থাকতে হবে। পরিবারে পিতামাতা যেমন সন্তানের উন্নতি দেখলে গর্ব হয়, আনন্দিত হয় ঠিক তেমনি তাদের উন্নতি, সাফল্য দেখেও হিংসা না করে আনন্দিত হতে হবে। তাদের প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা দিতে হবে। সাধারনত দেখা যায়, যার যত উন্নতি তার তত নিন্দা, তার প্রতি অন্যদের তত বেশি হিংসা।বুদ্ধও নিন্দিত ছিলেন। তাই বুদ্ধের উপদেশ -অপরের উন্নতি, সাফল্যে নিন্দা, হিংসা করার বদলে প্রশংসা করতে হবে, আনন্দিত হতে হবে। এতে হিংসাও হবে না, নিন্দাও হবে না, রেষারেষি হবে না, সুখে বিরাজ করবে।

🌿 ৩) করুণাঃ সমাজের নিচু পর্যায়ের মানুষদের সাথে করুণার দৃষ্টিভঙ্গিতে মিশতে হবে। মাতাপিতা যেমন সন্তানের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত হয়, মন কাঁদে ঠিক তেমনি আপনার চেয়ে যারা দুঃখ-কষ্টে অবস্থান করছে তাদের প্রতি করুণাচিত্ত প্রদর্শন করতে হবে। 'দুঃখ থেকে মুক্ত হয়ে সুখি হোক' এমন কামনা করতে হবে। যদি করুণা উৎপন্ন না হয় তবে সেখানে আমিত্ব সৃষ্টি হবে। দম্ভ চলে আসবে। সে নিচু জাত, গরিব, ছোটলোক, কিছু পারে না এই চিত্ত নিয়ে থাকলে তখন কেউ সুখে বিরাজ করতে পারে না।

🌿 ৪) উপেক্ষাঃ সকল প্রাণি কর্মের অধীন। তার কর্মই তাকে পরিচালিত করে। এই কর্মের কারণেই কারোর দুঃখ-কষ্টে অনেকসময় অন্যকারোর কিংবা নিজরই কিছুই করার থাকে না। এক্ষেত্রে সর্বপ্রাণের প্রতি উপেক্ষা করতে হবে। কর্ম ও কর্মফলের উপর শ্রদ্ধা বিশ্বাস রেখে উপেক্ষা জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। হা হুতাশ করা যাবে না। এটা কেন হলো না, কার জন্য হলো না এই বলে হা হুতাশ করলে আরো দুঃখ উৎপন্ন হবে। আর এই উপেক্ষা জ্ঞান যাদের হয়েছে তারা মার্গফল পেয়েছেন, নির্বাণ সুখ পর্যন্ত লাভ করেছেন।

🍂 তাই বুদ্ধ বলেছেন, আপনার সমপর্যায়ের ব্যক্তিকে "মৈত্রী", নিচু পর্যায়ের ব্যক্তিকে "করুণা", উচু পর্যায়ের ব্যক্তিকে "মুদিতা" আর কর্ম ও কর্মফলকে দৃঢ় বিশ্বাস করে সর্বপ্রাণের প্রতি "উপেক্ষা" জ্ঞান উৎপন্ন করলেই পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে।

সাধু সাধু সাধু 🙏

---পরম পূজনীয় পরম কল্যাণমিত্র ধর্মপিতা (গুরুভান্ত)🙏🙏🙏🌺🌺🌺
দেশনা:🍂 কী উপায়ে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে? 🍂মাঘীপূর্ণিমা, পঞ্ঞা পস্সানারামা বিহার, বান্দরবান। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ইং।

কেউ কাকেও উদ্ধার করতে পারে না। নিজেকে নিজে উদ্ধার করতে হবে। আপনারাও নিজেকে নিজে উদ্ধার করবেন । কেউ কারো উদ্ধারকর্তা নয়।...
14/08/2026

কেউ কাকেও উদ্ধার করতে পারে না। নিজেকে নিজে উদ্ধার করতে হবে। আপনারাও নিজেকে নিজে উদ্ধার করবেন । কেউ কারো উদ্ধারকর্তা নয়। জীবন থাকতে একেকটা দিন অত্যন্ত মূল্যবান মনে করুন। একটা দিন গত হয়ে যাওয়া মানে শ্মশানের দিকে পাড়ি দেওয়া।🍁

সংসারচক্রে নিমজ্জিত হওয়া মানে বার বার অপায়ের মধ্যে উৎপন্ন হওয়া। অপায় আমাদের চির বাসস্থান বলে জানবেন । আমাদের স্থায়ী ঠিকানা বলে জানবেন। মনে করবেন না এ জন্মে মানুষ হয়েছি বলে আগামীতে আবার মানুষ হতে পারব। না না না, মানুষ হতে পারাটা, সুগতিপ্রাপ্ত হওয়াটা অতি দুর্লভ, অত্যন্ত দুর্লভ। নখাগ্রে দু'একটা বালুকনার সাথে কি পৃথিবীর বালুকনা তুলনা করা যায়? তুলনা করা যায় না। নখাগ্রের বালুকনার ন্যায় আমাদের সুগতি। আর পৃথিবীর সমগ্র বালুকনার ন্যায় অপায়গতি বলে এটাকে অন্ধকার বলা হয়েছে। এ জন্য বুদ্ধ বলেছেন কতদিন অন্ধকারে থাকবে? একটা মার খেলে কত ব্যথা লাগে চিন্তা করে দেখুন। আগুন একটু লাগলে কেমন গরম লাগে, কেমন জ্বলে চিন্তা করে দেখুন। নরকে গেলে সেরকমই প্রতিনিয়ত আগুনে জ্বলতে হবে । এক মুহুর্ত, একটু বিশ্রাম নাই । আগুন লাগানোর পর এক ঘন্টা বিশ্রাম, এক ঘন্টা আগুন লাগান এই রকম নয়। প্রতিনিয়ত সকাল থেকে সারা রাত ২৪টা ঘন্টা, আবার ২৪ ঘন্টার পর মুক্তি নাই। এক বছর, দু'বছর নাকি? না একশ' দু'শ বছর? না, নরকে গেলে কোটি, কোটি, কোটি বৎসর জ্বলতে হবে। জ্বলতে চান?

তাই বুদ্ধ বলছেন, ‘অন্ধকার, অন্ধকার'। এসব আগুনে জ্বলতে আর চাইবেন না। প্রেতলোকে গেলে একই কথা, অবশ্য নরকের চাইতে একটু ভাল। তবুও প্রেতলোকে গেলে দাউ, দাউ করে ক্ষুধা লাগে। ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির। ব্যবসা নাই, বাণিজ্য নাই, পয়সা নাই, কিছু নাই। দিলে পায়, না দিলে পায় না।

🍁নিজেই নিজের উদ্ধারকর্তা🍁

সেজন্য মরে গেলে আমরা জ্ঞাতিদের জন্য সংঘদান করি। পানি ঢেলে বলি, “জ্ঞাতীনং হোতু সুখিতা হোন্তু জ্ঞাতাযো'। আমাদের জ্ঞাতীরা প্রেতলোকে যদি উৎপন্ন হয়ে থাক, এই পুণ্যদানের ফলে সুখী হও। অর্থাৎ প্রেতলোক হতে মুক্ত হও। কি? আপনার ছেলেমেয়েদের সে পানি ঢালা পুণ্য, উৎসর্গ করা পুণ্য পাওয়ার আশায় হয়তো ভাবছেন অসুবিধা নাই, আমি মরে গেলে প্রেতলোকে গেলাম আর কি। আমার ছেলেমেয়েরা পানি ঢেলে, উৎসর্গ করে মুক্ত করবে-এই আশায় বসে থাকবেন নাকি? এই আশায় বসে থাকবেন না। এই রকম আশা করলে ভুল করবেন। যতদিন বেঁচে আছেন নিজের বলকে আশা করবেন। আর কাউকেও নয়।

কেউ কাকেও উদ্ধার করতে পারে না। নিজেকে নিজে উদ্ধার করতে হবে। আপনারাও নিজেকে নিজে উদ্ধার করবেন ।যাদের কারণে আপনি এখন সংসারের ব্যস্ততার মধ্যে ডুবে থেকে সাধনা করতে পারেন না বলে বলছেন তাদেরকে মার ভাবুন।
অনেককে সাধনা করতে বললে তারা বলেন, ‘ভন্তে আমাদের তো সংসার বেশী। ভন্তে আমার ছেলে এখন মেট্রিক পরীক্ষা দিবে,ভন্তে আমার মেয়ের এখনো বিয়ে হয় নাই।” কত কথা বলবেন আপনারা, কত যুক্তি দেখাবেন, এই যুক্তিগুলো তো নিরর্থক। কেননা, এই ছেলে, এই মেয়ে, এই স্বামী-স্ত্রী যাদের জন্য আপনারা ২৪টা ঘন্টা ব্যস্ততার মধ্যে কাটান, একটা মুহুর্তও ধর্ম সাধনা করার অবকাশ পান না, এরা আপনাকে নির্বাণের পথ দেখাতে পারে না। নির্বাণে নিয়ে যেতে পারে না। বরং এদের কারণেই মরবার আগে আহা! আমার ছেলে, আমার মেয়ে বলে যদি মারা যান, লোভচিত্ত ঢুকলে, সাথে সাথে প্রেত হবেন । অনাহারে থাকতে হবে । আহা! আমার ছেলেমেয়েকে মানুষ করতে পারলাম না বলে আপসোস করে দ্বেষচিত্ত নিয়ে মরেন,
নরকে গিয়ে আবার আগুনে জ্বলবেন। আহা! আমার ছেলেমেয়েকে কিছুই করতে পারলাম না বলে একেবারে অজ্ঞান হয়ে যান, বেহুশ হয়ে যান। এই রকম মোহচিত্ত নিয়ে মরেন, কুকুর-ছাগল-বানর হয়ে তির্যক যোনীতে উৎপন্ন হবেন। তাহলে এই ছেলে-মেয়ে, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন কেউকি আপনাকে উদ্ধার করতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?

কেউ কারো উদ্ধারকর্তা নয়। জীবন থাকতে একেকটা দিন অত্যন্ত মূল্যবান মনে করুন। একটা দিন গত হয়ে যাওয়া মানে শ্মশানের দিকে পাড়ি দেওয়া। আর কত বাকী আছে? আবার কম বয়সী ছেলেরা, কম বয়সী মেয়েরা বলবে-না, আমরা তো ছোট, আমরা তো অনেক পরে ধর্ম সাধনা করতে পারব। কক্ষনো ভুলেও একথা বলবে না। কখন মরতে হবে? কোথায় মরতে হবে? কেউ জানে না ।

সুতরাং এখন জীবন থাকতে নিজেকে নিজে উদ্ধারকর্তা মনে করে বুদ্ধের এই নির্দেশিত পথ অবলম্বন করে এগিয়ে আসুন নির্বাণের দিকে। যাঁরা নির্বাণে পৌঁছে গেছেন, তাদের মতো হোন-‘অমর'। তাদের মতো ভোগ করুন অমৃত সুখ । ব্যাধি-দুঃখ, জরা-দুঃখ, মৃত্যু-দুঃখ আপনাকে যেন স্পর্শ করতে না পারে। এমন স্থানে উপনীত হোন, এমন এক ধাতুতে আপনি উপনীত হোন, যেটাকে অনুপাদিশেষ নির্বাণ বলে, সেটাই পরম অমৃত। সেখানে জন্ম নাই, সেখানে মৃত্যু নাই, সেখানে জরাও নাই, ব্যাধিও নাই, কিছুই নাই। শুধু আছে অনাবিল সুখ ।

--- পরম পূজনীয় ধর্মপিতা (গুরুভন্তে)🙏🙏🙏🌺🌺🌺
দেশনা কল্পতরু চতুর্থ খন্ড হতে ধর্মদান🌸

প্রশ্ন- : অন্যের গাছ থেকে ফুল চুরি করে বুদ্ধকে দান ও পূজা অথবা অন্যের যেকোন দ্রব্য চুরি করে দান করলে কোন্ ধরণের ফল প্রাপ...
13/08/2026

প্রশ্ন- : অন্যের গাছ থেকে ফুল চুরি করে বুদ্ধকে দান ও পূজা অথবা অন্যের যেকোন দ্রব্য চুরি করে দান করলে কোন্ ধরণের ফল প্রাপ্ত হবে? দয়া করে ব্যাখ্যা করুন।🙏

উত্তর : যে কোন অকুশল কর্ম সম্পাদন করে দান করলে উক্ত অকুশল কর্মের ফল একটি এবং দান নামক কুশল কর্মের ফল অন্য একটি সৃষ্টি হবে।
উদাহরণ স্বরূপ পুতিগত্ত তিস মহাথের'র জীবন ঘটনা প্রণিধানযোগ্য । পুতিগত্ত তিসস মহাথের অতীত এক জন্মে পাখি শিকারী ছিলেন। পাখি শিকার করে তার বিক্রয়লব্ধ আয় দ্বারা তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিক্রয় শেষে অবশিষ্ট পাখিগুলোকে পা ও পাখা ভেঙ্গে দিয়ে খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখতেন এবং দীর্ঘদিন এক একটা হত্যা করে খেতেন। একদিন হঠাৎ এক অরহতের দর্শন লাভ করলে তাঁর চিত্তে প্রবল শ্রদ্ধা জাগ্রত হওয়ায় তিনি নিজের সংরক্ষিত পাখির মাংস থেকে উক্ত অরহতকে দান করেন, — এই দানের পুণ্যের ফলে আপনাদের দর্শিত ধর্ম আমিও যেন দর্শনে সক্ষম হই' ।

আমাদের গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তিনি পুতিগত্ত তিসস মহাথের হয়েছিলেন। অতীতের পাখি ধরা, মারা, বিক্রয় করার পাপের ফলে বহু জন্ম অপায়ে অবর্ণনাতীত দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছিলেন। এ জন্মেও মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বশরীরে এক বিষধর ফোড়ার যন্ত্রণায় তীব্র ব্যাথা বেদনা ভোগ করেন এবং ফোড়াগুলো ফেটে গেলে সারা শরীর পুতি-দুর্গন্ধময় হয়ে অবর্ণনীয় জ্বালা যন্ত্রনা ভোগ করে পরিশেষে পা দুটি ভেঙ্গে গেলে পঙ্গু হয়ে যান - অতীত ঐ জন্মে পাখিদের পাখা ও পা ভেঙ্গে দেয়ার পাপের ফলে। কিন্তু ঐ জন্মে পুতিগত্ত তিসস মহাথের অরহত্ব মার্গফল প্রাপ্ত হয়েছিলেন পাখির মাংসের ব্যঞ্জন দান করার পুণ্যফলে।

এইভাবে ফুল চুরি করে দান করলে দানের ফলে একদিকে সুফল ও সুগতি প্রাপ্ত হবে এবং অন্যদিকে চুরি করার ফলে কুফল ও দুর্গতি প্রাপ্ত হবে । সকল প্রকার পাপ ও পুণ্যের ফল অবশ্য অবশ্যই কোন না কোন এক জন্মে ফল দিবে। তাই সকল প্রকার পাপ বা অকুশল কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত।
---পরম পুজনীয় ধর্মপিতা (গুরুভান্তে)🙏🙏🙏🌺🌺🌺
( দেশনা কল্পতরু চতুর্থ খন্ড হতে)🌸

সংসারটা এমনিই দুঃখময়, যাকে ভালবাসি সে কিন্তু বাস্তবে আমাদেরকে দুঃখ দেয়। সুতরাং ভালবাসলেই বোধ হয় দুঃখ পেতে হয়।🔥🍁বৌদির...
13/08/2026

সংসারটা এমনিই দুঃখময়, যাকে ভালবাসি সে কিন্তু বাস্তবে আমাদেরকে দুঃখ দেয়। সুতরাং ভালবাসলেই বোধ হয় দুঃখ পেতে হয়।🔥

🍁বৌদির প্রেমে পাগল হয়ে বড় ভাইকে হত্যা🍁

আমি সিংহলের একটা ঘটনা বলি। সিংহলে এক স্বামী-স্ত্রী বাস করতেন। এই স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা নিয়ে বাস করছিলেন। এই স্বামীর এক ছোট ভাই ছিল। তাদের তিনজনের পরিবার। ছেলে-মেয়ে ছিল না। কালক্রমে কিন্তু এই স্ত্রীলোক তার দেবরের প্রতি কেন জানি আকৃষ্ট হয়ে পড়ল। দেবরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়াতে সে তার স্বামীর অজান্তে দেবরকে প্রেম নিবেদন করে। এতে যুবক দেবর কিছু বুঝতে না পেরে তার বৌদির প্রেমে পাগল হয়ে পরে। তারা গোপনে গোপনে মেলামেশা করে। এদিকে তার বড় ভাই কিছু জানতো না। ঐ স্ত্রীলোক তার দেবরকে একদিন বলল ‘প্রাণপ্রিয়, তোমার-আমার ভালবাসার অন্তরায় তোমার বড় ভাই। তোমার বড় ভাইকে যদি তুমি পৃথিবীর বুক থেকে সরাতে পার তাহলেই তোমার- আমার প্রেমের ফুল ফুটবে। প্রথমে দেবর রাজী হলো না। আবার সে একই কথা বলে আরেকদিন, ইনিয়ে বিনিয়ে আবার সে একই কথা বলে আরেকদিন।

কালক্রমে নারীর ছলনাতো বুঝেন, পুস্তকে লেখা আছে, নারীর মন দেবতাও বুঝে না। এই স্ত্রীলোকও ছলনা করতে করতে ঐ দেবরের মনটাকে সে পাগল করে তুলল। সে অবিদ্যার মোহে অন্ধ হয়ে গিয়ে একদিন সংকল্প করল তার বৌদির সামনে “ঠিক আছে, তোমার আমার ভালবাসা অবশ্য অবশ্যই আজীবন অটুট রাখতে হবে। আমাদের এই ভালবাসার রাস্তায় অন্তরায়,-“বড় ভাই।' আমি তাকে সরিয়ে দেব পৃথিবী থেকে। তুমি নিশ্চিন্তে থাক।”

একদিন পরিকল্পনা মাফিক বড় ভাই যখন চাষ করে বাড়িতে ফিরলেন, ছোট ভাই বলছে, “দাদা, স্নান করবেন না?” হ্যাঁ? স্নান করতে যাব তো।” “চলেন, চলেন, আমিও স্নান করতে যাব।” বড় ভাইকে নিয়ে গেছে স্নান করার ঘাটে। বড় ভাই স্নান করছে। ছোট ভাই বলছে, “আপনি খুব ক্লান্ত, আমি পানি ঢেলে দিচ্ছি। আমি সাবান মেখে দিচ্ছি। আপনি ঘাটে বসে আমার পরিচর্যা, আমার সেবা গ্রহণ করুন।” বড় ভাই মনে মনে ভাবছে, “আহা, আমার ছোট ভাই, কতনা আমাকে ভালবাসে। এমন ছোট ভাই পেয়ে আমি ধন্য। আমি ক্লান্ত দেখে সে আমকে স্নান করিয়ে দিচ্ছে।” ছোট ভাইকে বড় ভাই সেভাবেই কিন্তু ভালবাসে। যাদের ছোট ভাই আছে, বড় ভাইরা এভাবেই মানুষ করে ছোট ভাইকে অনেক কিছুর বিনিময়ে। ছোট ভাই কিন্তু ওদিকে মতলব ঠিক করে রেখেছিল। বড় ভাইকে সাবান মাখাচ্ছে, মুখে-টুখে যখন সাবান দিয়েছে, চোখ তো বন্ধ রাখতে হয়। “দাদা মাথা নিচু কর, পানি ঢালব।” দাদা, মাথা নিচু করেছে। এই ফাঁকে সেতো আর পানি ঢালছে না। ওই ঝোপে ছিল লম্বা একটা তলোয়ার। তলোয়ারটা টেনে এক কোপে তার বড় ভাই এর মস্তক খণ্ডিত করে দিল। দেহচ্যুত হয়ে গেলো তার মাথা, মারা যাবার আগে চিত্তে শুধু একটাই তার স্রোতধারা উৎপন্ন হয়। “আহা, আমার স্ত্রীকে আমি দেখে যেতে পারলাম না । ”

স্ত্রীর প্রতি মন স্রোতধারার কারণে জাতিস্মর জ্ঞান সম্পন্ন সৰ্প জন্ম। মারা গিয়েও ওই নারীর কারণে, তার স্ত্রীর প্রতি ভালবাসার কারণে সে স্ত্রীকে দেখতে চেয়েছিল । ‘আমি একটু স্ত্রীকে দেখে যেতে পারলাম না' তার মন স্রোতধারা গেলো তার স্ত্রীর দিকে। সেই কারণে সে কোথাও পৌঁছতে পারল না। স্ত্রীর কাছে গিয়ে থাকতে বাধ্য হলো, তবে মানুষ হিসেবে, নাকি স্বামী হিসেবে? না, সাথে সাথেই সে উৎপন্ন হলো, একটা সর্প হয়ে । কারণ, মারা যাবার আগে একটু রাগও হয়েছিল । কেন আমি এভাবে মরতে বাধ্য হলাম? এই দুটা কারণে, তার মনের স্রোত নিয়ে গেলো তির্যকলোকে। তাই স্রোতের সাথে সাথে সে হয়ে গেলো সৰ্প। এই সৰ্প কিন্তু কোথাও যায় না, ওই বাড়িতেই থাকে। স্ত্রী যখন অন্য মনস্ক হয়ে বসে সেই সময় ওই সর্পটা উপরের চাল থেকে ধপ করে স্ত্রীর কোলে পরে। কারণ স্ত্রীকে সে ভালবাসে। হয়তো আপনারা বলবেন, সর্প আবার স্ত্রী বলে চিনে নাকি? জাতিস্মর জ্ঞান সম্পন্ন সর্প, স্ত্রীকে চিনে । স্ত্রীর প্রতি ভালবাসায় সে এখনো তার স্ত্রীকে ছাড়তে পারছেনা বলেই সর্প হয়ে জন্ম নিয়েও কোলে পরে। লোকে বলাবলি করতে থাকে কি ব্যাপার? সর্প নাকি তার কোলে এসে প্রত্যেকদিন পরে, কি হলো? তখন কিন্তু অর্হৎ-এর যুগ ছিলো।

শ্রীলংকাতে বিহারে, বিহারে অর্হৎ বাস করতেন, দিব্য চক্ষু সম্পন্ন অর্হৎ। তাঁরা যখন এই ঘটনা শুনলেন, পরস্পর এটা প্রকাশ পেলো যে, ওটা সৰ্প কেউ নয়, তার স্বামী। তখন প্রচার হলো, স্বামী সর্প। ঐ মেয়েটা তাহলে সর্পের স্ত্রী. লোকে তখন সেভাবে বলতে শুরু করল। ঐ মেয়েটা যখন সব সময় সর্পের স্ত্রী, সর্পের স্ত্রী, সাপের বউ, সাপের বউ বলে শুনতে হচ্ছে তখন তার ভীষণ লজ্জা লাগল। এই সাপটা আমাকে লজ্জা দিয়ে ছাড়বে নাকি? তার নতুন জামাই অর্থাৎ তার দেবরকে বলছে, তোমার দাদা নাকি সর্প হয়েছে। কতো দুষ্ট লোক দেখো তো । তাকে হত্যা করেও সর্প হয়ে আবার অন্তরায় সৃষ্টি করছে। মেরে ফেলো তো, মেরে ফেলো। ছোট ভাই, তার বর্তমান স্ত্রীর কথায় তো অন্ধ । ঠিক আছে, সাপটা আরেকবার কোলে পড়ুক দেখি । সত্যিতো আরেকদিন যেই মেয়েটার কোলে থপ্ করে পড়েছে উপর থেকে, সাথে সাথে ছোট ভাই এসে সাপটাকে ধরে কয়েক টুকরা করে কেটে ফেলল । সর্প সেখানেই মারা গেল ।

🔰স্ত্রীর প্রতি প্রেমের তৃষ্ণায় এবার কুকুর জন্ম🔰

তবুও তার স্ত্রীর প্রতি তার মনের স্রোত বইছিল বলে, প্রেমের তৃষ্ণা তাকে টেনে রেখেছিল বলে সে তাদের বাড়ির কাছেই জন্ম নিল কুকুর হয়ে। এই কুকুর আবার যখন বড় হয় ঐ মেয়েটার পিছনে পিছনে হাঁটে। মেয়েটা কোথাও গেলে খুব আনন্দ করে লেজ নাড়তে নাড়তে পিছনে পিছনে দৌড়ায়। এটাও যখন প্রকাশ পেয়ে গেল, এই কুকুর তার বড় ভাই, আসল তার স্বামী, তখন আবার সবাই বলতে থাকে, ‘কুকুরের স্ত্রী, কুকুরের স্ত্রী।' এ কথা শুনে আবার মেয়েটা খুব রেগে যায়। কারণ কুকুরের স্ত্রী বলছে সবাই। আমার স্বামী কুকুর হয়ে আমার পিছনে পিছনে আবার অন্তরায়। নতুন স্বামীকে বলছে, এবার কুকুরকেও কেটে ফেলো তো। আর সহ্য হয় না। লোকে আমাকে টিটকারি মারে “কুকুরের স্ত্রী' বলে। “ঠিক আছে'। আরেকদিন কুকুর যখন তার পিছনে পিছনে আসছে, মহিলাটা ‘আসো আসো করে তাকে ডাকল। কুকুর বেচারা (তার মানে মৃত স্বামী) মনে করছে আমাকে ডাকছে, 'আহা, আমার স্ত্রী আজকে সত্যিই আমাকে ভালবাসছে। কিন্তু কাছে যেই গেলো, রশি দিয়ে বেঁধে ফেলল। বেঁধে ফেলে ঐ ছোট ভাই, অর্থাৎ মেয়েটার দেবর, নতুন স্বামী গিয়ে বেদম প্রহার করল এবং পরে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলল।

🔰স্ত্রীর প্রতি মনের টান অবিচ্ছিন্ন হওয়ায় গরু জন্ম🔰

তার তিন জন্ম শেষ হয়ে গেলো। তবুও কিন্তু সে কুকুর হয়েও স্ত্রীর প্রতি তার মনের টান, জলস্রোত ধারা অবিচ্ছিন্ন থাকায় আবার সে জন্ম নিল তাদের বাড়ীতেই গরু হয়ে। ক্রমান্বয়ে উন্নতি কিন্তু হচ্ছে। ‘সর্প থেকে কুকুর, কুকুর থেকে গরু । বলদ গরু, যখন একটু বড় হলো ঐ মেয়েটাকে দেখলেই গরুটা ডাকে। কেমন অদ্ভুদ স্বর করে আনন্দ প্রকাশ করে, কান নাড়ে, লেজ নাড়ে, মেয়েটার পিছন পিছন হাটে। এটা দেখে আবার আস্তে আস্তে প্রচার হয়ে গেলো। ‘এইতো তার স্বামীতো আছে এখনো, গরু হয়ে গেছে। গরুর স্ত্রী, গরুর স্ত্রী।” এবার এমন রেগে গেছে যে মেয়েটা নিজে নিজে বলছে উপায় নাই, উপায় নাই, আমার এই স্বামীকে কিভাবে আমি বিচ্ছিন্ন করতে পারি কিছুই বুঝছি না। স্বামীকে মানে দেবরকে বলছে, তুমি এখনই গরুটাকে কেটে ফেলো, কেটে ফেলো। নাহলে, আমি সুখে থাকতে পারব না। হ্যাঁ, দেবর নামক নতুন জামাই আবার গরুটাকে একদিন জবাই করে তার মাংস খেয়ে ফেলল । বাকীগুলি বাজারে বিক্রি করে দিল । এইভাবে মনুষ্য জন্ম, সর্প জন্ম, কুকুর জন্ম, গরু জন্ম, চারটা জন্ম তার ছোট ভাইয়ের হাতে মৃত্যুবরণ করলো।

🔰পঞ্চম জন্মে স্ত্রীর গর্ভে সন্তান হয়ে জন্ম🔰

এই জন্মে সে মানুষ হয়ে জন্ম নিল। কোথায়? ওই তার স্ত্রীর গর্ভে। তার স্ত্রী হলো এবার তার মা। তার ছোট ভাই হলো এবার তার পিতা। মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ট হলো, মা আদর করছে আমার ছেলে আমার ছেলে। কোলে তুলে নিতে চাইল, বুকের দুধ পান করাতে চাইল, কিন্তু পারলনা। ছেলেটা এমন চিৎকার দিয়ে কাঁদতে লাগল যে মা স্পর্শ করতে পারল না। মায়ের ছোয়া তার সহ্য হলো না। কি ব্যাপার? মায়ের স্পর্শ সহ্য হয় না কেন? এভাবে মা যত বার চেষ্টা করে দুধ খাওয়াবার জন্যে, ছেলেকে আদর করার জন্য, ততবার ছেলেটা কাঁদে । তখন বুঝতে পারল এই ছেলেটা মায়ের স্পর্শ সহ্য করবে না। সুতরাং একটা দাইমার কাছে দিয়ে বড় করতে হলো। নারীর দুধ পান করেই ছেলেটা বড় হলো। আস্তে আস্তে যখন বড় হলো সে তার ঠাকুর দাদার সাথে থাকতে লাগল । ছেলেটার এখন চার বছর বয়স হয়েছে তবুও কথা বলে না। মৌনভাব সব সময়, গম্ভার, চুপচাপ, মুখে কোন হাসি থাকে না। ঠাকুরদাদা তাকে জিজ্ঞেস করে "দাদুগো, তুমি কথা বল না কেন? কথা বলার বয়স হয়েছে তোমার, অথচ কথা বলছনা। কত বৈদ্য, কবিরাজ, ডাক্তার দেখিয়েছি। সবাই বলেছে, কথা বলবার মত তার শক্তি আছে, তার বাকযন্ত্র ভাল আছে, তবুও কথা বলতে পারে না কেন? নাকি তুমি ইচ্ছে করে কথা বল না ঠাকু । আমার দাদা, দাদু ভাই কথা বল, বল না।”

🔰সাত বৎসর বয়সে ঠাকুর দাদাকে অর্থাৎ অতীত জন্মের পিতাকে চার জন্মের বর্ণনা🔰

এইভাবে যখন তার বয়স সাত বৎসর হয়, তখন দাদু এইভাবে একদিন কেঁদে কেঁদে বলল “দাদু, তুমি এখনো পর্যন্ত আমাকে কোন কথা বললে না, দাদু বলেও ডাকলে না, তুমি কি বোবা? এমন একটা নাতি পেলাম, যে কিনা বোবা। ছোটকাল থেকে মা পেয়েও মায়ের দুধ পান করনি, মায়ের কাছে বড় হওনি, অন্যের দুধ পান করে বড় হয়েছো। মায়ের কাছে থাকনি। মায়ের দর্শন থেকে বঞ্চিত। তুমি কথা বল দাদু।” তখন ছেলেটা সেদিন কথা বলল। ঠাকুরদাদা, বলে ডাকল। দাদু, কি আনন্দ?” এতদিন পরে আমার নাতি কথা বলছে । বল দাদু বল-বল,” “আহা! দাদু আনন্দে কাঁদছে, “ঠাকুর দাদা, আমাকে চিন তুমি?” “চিনি নাতো।” “চিনলে না, আমি তো তোমাকে চিনি। তুমি এই জন্মে আমার ঠাকুর দাদা হলেও তুমিতো আমার ঠাকুর দাদা নও, তুমি আমার পিতা।” “আহা, কি বল দাদু? আমি তোমার পিতা? তুমি কে বল দাদু?” ছেলেটা জাতিস্মর জ্ঞান নিয়ে জন্ম নিয়েছিল, প্রত্যেক জন্মে । সে বলছে, "দাদু, আমি তোমার বড় ছেলে 'অমুক' । ওই দুষ্ট নারীর স্বামী আমি। এই নারীর ছলনায় দুশ্চরিত্রের কারণে, আমার ছোট ভাইয়ের সাথে গোপনে গোপনে প্রেম করার কারণে, আমাকে তারা দুজনেই ষড়যন্ত্র করে নদীর ঘাটে হত্যা করেছে। আমি আমার ছোট ভাইয়ের হাতে মারা গিয়েছিলাম, তোমরা হয়ত জাননা । তারপরে আমি কত জন্ম ঘুরেছি আমার স্ত্রীর প্রতি সে তৃষ্ণার কারণে । সর্প হয়েছি, তাও মেরে ফেলেছে, কুকুর হয়েছি, তাও মেরে ফেলেছে, আমি গরু হয়েছি, তাও মেরে ফেলেছে। চারটা জন্ম তাদের কারণে মৃত্যু হওয়ায়, আমার মনস্রোত ধারা আর তার দিকে ধাবিত হয় না।

🔰দাদু নাতি দু'জনের প্রব্রজ্যা গ্রহণ ওবিদর্শন ভাবনা করে অনুপাদিসেস নির্বাণ লাভ🔰

এই জন্মেই আমার মন স্রোত ধারা স্তব্ধ হয়েছে। তাই, এই জন্মে তাকে মা হিসেবে পেলেও তার স্পর্শ পর্যন্ত আমি সহ্য করতে পারিনা দাদু। আমি কাদি। সে স্পর্শ করার সাথে সাথে আমি সহ্য না করায় কেঁদে উঠি। সে দুষ্ট নারী, তার চেহারা আমি দেখতেও চাই না দাদু। ঠাকুরদাদা অবাক । আনন্দও লাগছে, দুঃখও লাগছে । সে তার অতীতের দুঃখময় ইতিহাস বলছে। তার ছেলেকে ফিরে পেয়েছে নাতি হিসাবে। দাদু, নাতি দু'জনে বুকে জড়াজড়ি করে কাঁদতে লাগল। আর দাদু ডাকছে না। ছেলে, ছেলে'-বলে ডাকল। তখন ছেলেটা বলছে, 'দাদু, সংসারটা এমনিই দুঃখময়, যাকে ভালবাসি সে কিন্তু বাস্তবে আমাদেরকে দুঃখ দেয়। সুতরাং ভালবাসলেই বোধ হয় দুঃখ পেতে হয় । তাই আর ভালবাসব না দাদু । নয় পিতা-মাতার প্রতি ভালবাসা, নয় কারো প্রতি ভালবাসা। চল আমরা বুদ্ধের সেই সংঘের শরণ গ্রহণ করি । দাদু এবং নাতি দু'জনেই প্রব্রজ্যা নিলেন । প্রব্রজ্যা নিয়ে তারা এই দুঃখময় সংসার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আপ্রাণ সাধনা করার পরে সে জীবনে দু'জনেই মনের স্রোতধারাকে বিদর্শন ভাবনার দিকে ধাবিত করে ক্রমে ক্রমে অরহত্ব মার্গফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিশেষে অনুপাদিসেস্ নির্বাণ ধাতুতে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছিল। (সাধু-সাধু-সাধু)।
--- দেশনা কল্পতরু চতুর্থ খন্ড হতে ধর্মদান🌸
দেশনায়: পরম পূজনীয় ধর্মপিতা (গুরুভন্তে)🙏🙏🙏🌺🌺🌺

Address

Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Pannya - পঞ্ঞা - প্রজ্ঞা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share