13/08/2026
সংসারটা এমনিই দুঃখময়, যাকে ভালবাসি সে কিন্তু বাস্তবে আমাদেরকে দুঃখ দেয়। সুতরাং ভালবাসলেই বোধ হয় দুঃখ পেতে হয়।🔥
🍁বৌদির প্রেমে পাগল হয়ে বড় ভাইকে হত্যা🍁
আমি সিংহলের একটা ঘটনা বলি। সিংহলে এক স্বামী-স্ত্রী বাস করতেন। এই স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা নিয়ে বাস করছিলেন। এই স্বামীর এক ছোট ভাই ছিল। তাদের তিনজনের পরিবার। ছেলে-মেয়ে ছিল না। কালক্রমে কিন্তু এই স্ত্রীলোক তার দেবরের প্রতি কেন জানি আকৃষ্ট হয়ে পড়ল। দেবরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়াতে সে তার স্বামীর অজান্তে দেবরকে প্রেম নিবেদন করে। এতে যুবক দেবর কিছু বুঝতে না পেরে তার বৌদির প্রেমে পাগল হয়ে পরে। তারা গোপনে গোপনে মেলামেশা করে। এদিকে তার বড় ভাই কিছু জানতো না। ঐ স্ত্রীলোক তার দেবরকে একদিন বলল ‘প্রাণপ্রিয়, তোমার-আমার ভালবাসার অন্তরায় তোমার বড় ভাই। তোমার বড় ভাইকে যদি তুমি পৃথিবীর বুক থেকে সরাতে পার তাহলেই তোমার- আমার প্রেমের ফুল ফুটবে। প্রথমে দেবর রাজী হলো না। আবার সে একই কথা বলে আরেকদিন, ইনিয়ে বিনিয়ে আবার সে একই কথা বলে আরেকদিন।
কালক্রমে নারীর ছলনাতো বুঝেন, পুস্তকে লেখা আছে, নারীর মন দেবতাও বুঝে না। এই স্ত্রীলোকও ছলনা করতে করতে ঐ দেবরের মনটাকে সে পাগল করে তুলল। সে অবিদ্যার মোহে অন্ধ হয়ে গিয়ে একদিন সংকল্প করল তার বৌদির সামনে “ঠিক আছে, তোমার আমার ভালবাসা অবশ্য অবশ্যই আজীবন অটুট রাখতে হবে। আমাদের এই ভালবাসার রাস্তায় অন্তরায়,-“বড় ভাই।' আমি তাকে সরিয়ে দেব পৃথিবী থেকে। তুমি নিশ্চিন্তে থাক।”
একদিন পরিকল্পনা মাফিক বড় ভাই যখন চাষ করে বাড়িতে ফিরলেন, ছোট ভাই বলছে, “দাদা, স্নান করবেন না?” হ্যাঁ? স্নান করতে যাব তো।” “চলেন, চলেন, আমিও স্নান করতে যাব।” বড় ভাইকে নিয়ে গেছে স্নান করার ঘাটে। বড় ভাই স্নান করছে। ছোট ভাই বলছে, “আপনি খুব ক্লান্ত, আমি পানি ঢেলে দিচ্ছি। আমি সাবান মেখে দিচ্ছি। আপনি ঘাটে বসে আমার পরিচর্যা, আমার সেবা গ্রহণ করুন।” বড় ভাই মনে মনে ভাবছে, “আহা, আমার ছোট ভাই, কতনা আমাকে ভালবাসে। এমন ছোট ভাই পেয়ে আমি ধন্য। আমি ক্লান্ত দেখে সে আমকে স্নান করিয়ে দিচ্ছে।” ছোট ভাইকে বড় ভাই সেভাবেই কিন্তু ভালবাসে। যাদের ছোট ভাই আছে, বড় ভাইরা এভাবেই মানুষ করে ছোট ভাইকে অনেক কিছুর বিনিময়ে। ছোট ভাই কিন্তু ওদিকে মতলব ঠিক করে রেখেছিল। বড় ভাইকে সাবান মাখাচ্ছে, মুখে-টুখে যখন সাবান দিয়েছে, চোখ তো বন্ধ রাখতে হয়। “দাদা মাথা নিচু কর, পানি ঢালব।” দাদা, মাথা নিচু করেছে। এই ফাঁকে সেতো আর পানি ঢালছে না। ওই ঝোপে ছিল লম্বা একটা তলোয়ার। তলোয়ারটা টেনে এক কোপে তার বড় ভাই এর মস্তক খণ্ডিত করে দিল। দেহচ্যুত হয়ে গেলো তার মাথা, মারা যাবার আগে চিত্তে শুধু একটাই তার স্রোতধারা উৎপন্ন হয়। “আহা, আমার স্ত্রীকে আমি দেখে যেতে পারলাম না । ”
স্ত্রীর প্রতি মন স্রোতধারার কারণে জাতিস্মর জ্ঞান সম্পন্ন সৰ্প জন্ম। মারা গিয়েও ওই নারীর কারণে, তার স্ত্রীর প্রতি ভালবাসার কারণে সে স্ত্রীকে দেখতে চেয়েছিল । ‘আমি একটু স্ত্রীকে দেখে যেতে পারলাম না' তার মন স্রোতধারা গেলো তার স্ত্রীর দিকে। সেই কারণে সে কোথাও পৌঁছতে পারল না। স্ত্রীর কাছে গিয়ে থাকতে বাধ্য হলো, তবে মানুষ হিসেবে, নাকি স্বামী হিসেবে? না, সাথে সাথেই সে উৎপন্ন হলো, একটা সর্প হয়ে । কারণ, মারা যাবার আগে একটু রাগও হয়েছিল । কেন আমি এভাবে মরতে বাধ্য হলাম? এই দুটা কারণে, তার মনের স্রোত নিয়ে গেলো তির্যকলোকে। তাই স্রোতের সাথে সাথে সে হয়ে গেলো সৰ্প। এই সৰ্প কিন্তু কোথাও যায় না, ওই বাড়িতেই থাকে। স্ত্রী যখন অন্য মনস্ক হয়ে বসে সেই সময় ওই সর্পটা উপরের চাল থেকে ধপ করে স্ত্রীর কোলে পরে। কারণ স্ত্রীকে সে ভালবাসে। হয়তো আপনারা বলবেন, সর্প আবার স্ত্রী বলে চিনে নাকি? জাতিস্মর জ্ঞান সম্পন্ন সর্প, স্ত্রীকে চিনে । স্ত্রীর প্রতি ভালবাসায় সে এখনো তার স্ত্রীকে ছাড়তে পারছেনা বলেই সর্প হয়ে জন্ম নিয়েও কোলে পরে। লোকে বলাবলি করতে থাকে কি ব্যাপার? সর্প নাকি তার কোলে এসে প্রত্যেকদিন পরে, কি হলো? তখন কিন্তু অর্হৎ-এর যুগ ছিলো।
শ্রীলংকাতে বিহারে, বিহারে অর্হৎ বাস করতেন, দিব্য চক্ষু সম্পন্ন অর্হৎ। তাঁরা যখন এই ঘটনা শুনলেন, পরস্পর এটা প্রকাশ পেলো যে, ওটা সৰ্প কেউ নয়, তার স্বামী। তখন প্রচার হলো, স্বামী সর্প। ঐ মেয়েটা তাহলে সর্পের স্ত্রী. লোকে তখন সেভাবে বলতে শুরু করল। ঐ মেয়েটা যখন সব সময় সর্পের স্ত্রী, সর্পের স্ত্রী, সাপের বউ, সাপের বউ বলে শুনতে হচ্ছে তখন তার ভীষণ লজ্জা লাগল। এই সাপটা আমাকে লজ্জা দিয়ে ছাড়বে নাকি? তার নতুন জামাই অর্থাৎ তার দেবরকে বলছে, তোমার দাদা নাকি সর্প হয়েছে। কতো দুষ্ট লোক দেখো তো । তাকে হত্যা করেও সর্প হয়ে আবার অন্তরায় সৃষ্টি করছে। মেরে ফেলো তো, মেরে ফেলো। ছোট ভাই, তার বর্তমান স্ত্রীর কথায় তো অন্ধ । ঠিক আছে, সাপটা আরেকবার কোলে পড়ুক দেখি । সত্যিতো আরেকদিন যেই মেয়েটার কোলে থপ্ করে পড়েছে উপর থেকে, সাথে সাথে ছোট ভাই এসে সাপটাকে ধরে কয়েক টুকরা করে কেটে ফেলল । সর্প সেখানেই মারা গেল ।
🔰স্ত্রীর প্রতি প্রেমের তৃষ্ণায় এবার কুকুর জন্ম🔰
তবুও তার স্ত্রীর প্রতি তার মনের স্রোত বইছিল বলে, প্রেমের তৃষ্ণা তাকে টেনে রেখেছিল বলে সে তাদের বাড়ির কাছেই জন্ম নিল কুকুর হয়ে। এই কুকুর আবার যখন বড় হয় ঐ মেয়েটার পিছনে পিছনে হাঁটে। মেয়েটা কোথাও গেলে খুব আনন্দ করে লেজ নাড়তে নাড়তে পিছনে পিছনে দৌড়ায়। এটাও যখন প্রকাশ পেয়ে গেল, এই কুকুর তার বড় ভাই, আসল তার স্বামী, তখন আবার সবাই বলতে থাকে, ‘কুকুরের স্ত্রী, কুকুরের স্ত্রী।' এ কথা শুনে আবার মেয়েটা খুব রেগে যায়। কারণ কুকুরের স্ত্রী বলছে সবাই। আমার স্বামী কুকুর হয়ে আমার পিছনে পিছনে আবার অন্তরায়। নতুন স্বামীকে বলছে, এবার কুকুরকেও কেটে ফেলো তো। আর সহ্য হয় না। লোকে আমাকে টিটকারি মারে “কুকুরের স্ত্রী' বলে। “ঠিক আছে'। আরেকদিন কুকুর যখন তার পিছনে পিছনে আসছে, মহিলাটা ‘আসো আসো করে তাকে ডাকল। কুকুর বেচারা (তার মানে মৃত স্বামী) মনে করছে আমাকে ডাকছে, 'আহা, আমার স্ত্রী আজকে সত্যিই আমাকে ভালবাসছে। কিন্তু কাছে যেই গেলো, রশি দিয়ে বেঁধে ফেলল। বেঁধে ফেলে ঐ ছোট ভাই, অর্থাৎ মেয়েটার দেবর, নতুন স্বামী গিয়ে বেদম প্রহার করল এবং পরে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলল।
🔰স্ত্রীর প্রতি মনের টান অবিচ্ছিন্ন হওয়ায় গরু জন্ম🔰
তার তিন জন্ম শেষ হয়ে গেলো। তবুও কিন্তু সে কুকুর হয়েও স্ত্রীর প্রতি তার মনের টান, জলস্রোত ধারা অবিচ্ছিন্ন থাকায় আবার সে জন্ম নিল তাদের বাড়ীতেই গরু হয়ে। ক্রমান্বয়ে উন্নতি কিন্তু হচ্ছে। ‘সর্প থেকে কুকুর, কুকুর থেকে গরু । বলদ গরু, যখন একটু বড় হলো ঐ মেয়েটাকে দেখলেই গরুটা ডাকে। কেমন অদ্ভুদ স্বর করে আনন্দ প্রকাশ করে, কান নাড়ে, লেজ নাড়ে, মেয়েটার পিছন পিছন হাটে। এটা দেখে আবার আস্তে আস্তে প্রচার হয়ে গেলো। ‘এইতো তার স্বামীতো আছে এখনো, গরু হয়ে গেছে। গরুর স্ত্রী, গরুর স্ত্রী।” এবার এমন রেগে গেছে যে মেয়েটা নিজে নিজে বলছে উপায় নাই, উপায় নাই, আমার এই স্বামীকে কিভাবে আমি বিচ্ছিন্ন করতে পারি কিছুই বুঝছি না। স্বামীকে মানে দেবরকে বলছে, তুমি এখনই গরুটাকে কেটে ফেলো, কেটে ফেলো। নাহলে, আমি সুখে থাকতে পারব না। হ্যাঁ, দেবর নামক নতুন জামাই আবার গরুটাকে একদিন জবাই করে তার মাংস খেয়ে ফেলল । বাকীগুলি বাজারে বিক্রি করে দিল । এইভাবে মনুষ্য জন্ম, সর্প জন্ম, কুকুর জন্ম, গরু জন্ম, চারটা জন্ম তার ছোট ভাইয়ের হাতে মৃত্যুবরণ করলো।
🔰পঞ্চম জন্মে স্ত্রীর গর্ভে সন্তান হয়ে জন্ম🔰
এই জন্মে সে মানুষ হয়ে জন্ম নিল। কোথায়? ওই তার স্ত্রীর গর্ভে। তার স্ত্রী হলো এবার তার মা। তার ছোট ভাই হলো এবার তার পিতা। মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ট হলো, মা আদর করছে আমার ছেলে আমার ছেলে। কোলে তুলে নিতে চাইল, বুকের দুধ পান করাতে চাইল, কিন্তু পারলনা। ছেলেটা এমন চিৎকার দিয়ে কাঁদতে লাগল যে মা স্পর্শ করতে পারল না। মায়ের ছোয়া তার সহ্য হলো না। কি ব্যাপার? মায়ের স্পর্শ সহ্য হয় না কেন? এভাবে মা যত বার চেষ্টা করে দুধ খাওয়াবার জন্যে, ছেলেকে আদর করার জন্য, ততবার ছেলেটা কাঁদে । তখন বুঝতে পারল এই ছেলেটা মায়ের স্পর্শ সহ্য করবে না। সুতরাং একটা দাইমার কাছে দিয়ে বড় করতে হলো। নারীর দুধ পান করেই ছেলেটা বড় হলো। আস্তে আস্তে যখন বড় হলো সে তার ঠাকুর দাদার সাথে থাকতে লাগল । ছেলেটার এখন চার বছর বয়স হয়েছে তবুও কথা বলে না। মৌনভাব সব সময়, গম্ভার, চুপচাপ, মুখে কোন হাসি থাকে না। ঠাকুরদাদা তাকে জিজ্ঞেস করে "দাদুগো, তুমি কথা বল না কেন? কথা বলার বয়স হয়েছে তোমার, অথচ কথা বলছনা। কত বৈদ্য, কবিরাজ, ডাক্তার দেখিয়েছি। সবাই বলেছে, কথা বলবার মত তার শক্তি আছে, তার বাকযন্ত্র ভাল আছে, তবুও কথা বলতে পারে না কেন? নাকি তুমি ইচ্ছে করে কথা বল না ঠাকু । আমার দাদা, দাদু ভাই কথা বল, বল না।”
🔰সাত বৎসর বয়সে ঠাকুর দাদাকে অর্থাৎ অতীত জন্মের পিতাকে চার জন্মের বর্ণনা🔰
এইভাবে যখন তার বয়স সাত বৎসর হয়, তখন দাদু এইভাবে একদিন কেঁদে কেঁদে বলল “দাদু, তুমি এখনো পর্যন্ত আমাকে কোন কথা বললে না, দাদু বলেও ডাকলে না, তুমি কি বোবা? এমন একটা নাতি পেলাম, যে কিনা বোবা। ছোটকাল থেকে মা পেয়েও মায়ের দুধ পান করনি, মায়ের কাছে বড় হওনি, অন্যের দুধ পান করে বড় হয়েছো। মায়ের কাছে থাকনি। মায়ের দর্শন থেকে বঞ্চিত। তুমি কথা বল দাদু।” তখন ছেলেটা সেদিন কথা বলল। ঠাকুরদাদা, বলে ডাকল। দাদু, কি আনন্দ?” এতদিন পরে আমার নাতি কথা বলছে । বল দাদু বল-বল,” “আহা! দাদু আনন্দে কাঁদছে, “ঠাকুর দাদা, আমাকে চিন তুমি?” “চিনি নাতো।” “চিনলে না, আমি তো তোমাকে চিনি। তুমি এই জন্মে আমার ঠাকুর দাদা হলেও তুমিতো আমার ঠাকুর দাদা নও, তুমি আমার পিতা।” “আহা, কি বল দাদু? আমি তোমার পিতা? তুমি কে বল দাদু?” ছেলেটা জাতিস্মর জ্ঞান নিয়ে জন্ম নিয়েছিল, প্রত্যেক জন্মে । সে বলছে, "দাদু, আমি তোমার বড় ছেলে 'অমুক' । ওই দুষ্ট নারীর স্বামী আমি। এই নারীর ছলনায় দুশ্চরিত্রের কারণে, আমার ছোট ভাইয়ের সাথে গোপনে গোপনে প্রেম করার কারণে, আমাকে তারা দুজনেই ষড়যন্ত্র করে নদীর ঘাটে হত্যা করেছে। আমি আমার ছোট ভাইয়ের হাতে মারা গিয়েছিলাম, তোমরা হয়ত জাননা । তারপরে আমি কত জন্ম ঘুরেছি আমার স্ত্রীর প্রতি সে তৃষ্ণার কারণে । সর্প হয়েছি, তাও মেরে ফেলেছে, কুকুর হয়েছি, তাও মেরে ফেলেছে, আমি গরু হয়েছি, তাও মেরে ফেলেছে। চারটা জন্ম তাদের কারণে মৃত্যু হওয়ায়, আমার মনস্রোত ধারা আর তার দিকে ধাবিত হয় না।
🔰দাদু নাতি দু'জনের প্রব্রজ্যা গ্রহণ ওবিদর্শন ভাবনা করে অনুপাদিসেস নির্বাণ লাভ🔰
এই জন্মেই আমার মন স্রোত ধারা স্তব্ধ হয়েছে। তাই, এই জন্মে তাকে মা হিসেবে পেলেও তার স্পর্শ পর্যন্ত আমি সহ্য করতে পারিনা দাদু। আমি কাদি। সে স্পর্শ করার সাথে সাথে আমি সহ্য না করায় কেঁদে উঠি। সে দুষ্ট নারী, তার চেহারা আমি দেখতেও চাই না দাদু। ঠাকুরদাদা অবাক । আনন্দও লাগছে, দুঃখও লাগছে । সে তার অতীতের দুঃখময় ইতিহাস বলছে। তার ছেলেকে ফিরে পেয়েছে নাতি হিসাবে। দাদু, নাতি দু'জনে বুকে জড়াজড়ি করে কাঁদতে লাগল। আর দাদু ডাকছে না। ছেলে, ছেলে'-বলে ডাকল। তখন ছেলেটা বলছে, 'দাদু, সংসারটা এমনিই দুঃখময়, যাকে ভালবাসি সে কিন্তু বাস্তবে আমাদেরকে দুঃখ দেয়। সুতরাং ভালবাসলেই বোধ হয় দুঃখ পেতে হয় । তাই আর ভালবাসব না দাদু । নয় পিতা-মাতার প্রতি ভালবাসা, নয় কারো প্রতি ভালবাসা। চল আমরা বুদ্ধের সেই সংঘের শরণ গ্রহণ করি । দাদু এবং নাতি দু'জনেই প্রব্রজ্যা নিলেন । প্রব্রজ্যা নিয়ে তারা এই দুঃখময় সংসার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আপ্রাণ সাধনা করার পরে সে জীবনে দু'জনেই মনের স্রোতধারাকে বিদর্শন ভাবনার দিকে ধাবিত করে ক্রমে ক্রমে অরহত্ব মার্গফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিশেষে অনুপাদিসেস্ নির্বাণ ধাতুতে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছিল। (সাধু-সাধু-সাধু)।
--- দেশনা কল্পতরু চতুর্থ খন্ড হতে ধর্মদান🌸
দেশনায়: পরম পূজনীয় ধর্মপিতা (গুরুভন্তে)🙏🙏🙏🌺🌺🌺