30/04/2026
#নৃসিংহ_চতুর্দশী : অশুভ শক্তির বিনাশ ও পরম ভক্ত প্রহ্লাদের রক্ষার মহিমাময় তিথি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হলো নৃসিংহ চতুর্দশী বা নৃসিংহ জয়ন্তী।
এই পুণ্য তিথিতে ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীবিষ্ণু অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক সিংহের রূপ ধারণ করে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
#কেন_এই_অবতার?
দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু বর পেয়েছিলেন যে,
তাকে মানুষ বা পশু,
দেবতা বা দানব কেউ মারতে পারবে না; ঘরের ভেতরে বা বাইরে,
দিনে বা রাতে এবং কোনো অস্ত্রের দ্বারা তার মৃত্যু হবে না।
এই অহংকারে মত্ত হয়ে তিনি নিজ পুত্র পরম বৈষ্ণব প্রহ্লাদকে হত্যা করতে উদ্যত হন।
ভক্তের ডাক শুনতে এবং ব্রহ্মার বর সত্য রেখে হিরণ্যকশিপুকে বধ করতে ভগবান নৃসিংহদেব গোধূলি বেলায় (দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণে) আবির্ভূত হয়েছিলেন।
শাস্ত্রমতে ভক্তদের করণীয় ও ব্রত নিয়ম:
এই পবিত্র তিথিতে ভক্তদের কিছু বিশেষ নিয়ম পালন করা উচিত—
(১) উপবাস পালন: নৃসিংহ চতুর্দশীর দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত (বা গোধূলি বেলা) পর্যন্ত উপবাস থাকা অতি উত্তম।
অনেকে এই দিনে নির্জলা উপবাসও পালন করেন। শারীরিক কারণে পূর্ণ উপবাস সম্ভব না হলে অনুকল্প প্রসাদ (ফলমূল ও সবজি) গ্রহণ করা যায়।
(২) সংকল্প ও স্নান: ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে দিনটি ভগবানের সেবায় অতিবাহিত করার সংকল্প করতে হয়।
(৩) নৃসিংহদেবের পূজা ও অভিষেক: সন্ধ্যায় (গোধূলি বেলায়) ভগবান নৃসিংহদেবের বিশেষ পূজা ও অভিষেক করা হয়। এসময় চন্দন, ফুল এবং পঞ্চামৃত দিয়ে সেবা করা অত্যন্ত শুভ।
(৪) জপ ও কীর্তন: সারাদিন নৃসিংহদেবের নাম জপ করুন। বিশেষ করে এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করতে পারেন:
উগ্রং বীরং মহা-বিষ্ণুং জ্বলন্তং সর্বতো মুখম্।
নৃসিংহং ভীষণং ভদ্রং মৃত্যু মৃত্যুং নমাম্যহম্।।
(৫) ভাগবত পাঠ: শ্রীমদ্ভাগবতের সপ্তম স্কন্ধে বর্ণিত প্রহ্লাদ চরিত্র ও নৃসিংহদেবের আবির্ভাবের কাহিনী পাঠ করা বা শ্রবণ করা এই তিথির অন্যতম প্রধান অঙ্গ।
(৬) দান ও সেবা: সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্রদের অন্নদান বা বস্ত্রদান করা এই ব্রতের মাহাত্ম্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই বছর (২০২৬) নৃসিংহ চতুর্দশী পালিত হবে আগামী ৩০শে এপ্রিল (১৭ বৈশাখ, বৃহস্পতিবার)। নৃসিংহদেব যেহেতু সন্ধ্যায় আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাই এই দিন সন্ধ্যায় ভক্তিভরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করুন।
ভগবান নৃসিংহদেব আমাদের হৃদয়ের আসুরিক প্রবৃত্তি (কাম, ক্রোধ, লোভ) বিনাশ করে