02/01/2023
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা...
সবাই শারিরীক ও মানসিক ভাবে চাঙ্গা আছেন, রয়েছেন এবং থাকবেন।
গত ৩০/১২/২০২২ ইং রোজ শুক্রবার দাতা ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত তালুকদারসহ অন্যান্য দাতা গনের অর্থায়নে এবং শ্রদ্ধেয় বোধিপাল মহাথের(অধ্যক্ষ, গামাঢ়ী ঢালা বনবিহার) উদ্যোগে হাজার ভিক্ষু পিন্ডুদানসহ নানা বিধ দানানুষ্ঠান সু-সম্পন্ন হয়েছে।
এখানে মোট ১১৪৬ জন(ভিক্ষু ও শ্রমন) ভিক্ষু সংঘ উপস্থিত হয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম। এই রকম অনুষ্ঠান আমার জীবনে এবংকি পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ইতিহাসে প্রথম এবং বিরল। এই হাজার ভিক্ষু পিন্ডুদান অনুষ্ঠানে চাকমা, মারমা এবং বড়ুয়া সকল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ভিক্ষু সংঘ উপস্থিত ছিলেন। যা অত্যান্ত সুখকর ও মনোমুগ্ধকর ছিল।
বৌদ্ধ ধর্মে দুই চক্র বিদ্যামান আছে। যারা একে অপরের পূরিপূরক। একটা চক্র ছাড়া আরেকটি চক্র অচল। এই চক্র দুইটি হলো আগ্গা চক্র ও ধর্ম চক্র।
আগ্গা চক্র- শ্রেষ্ঠী, ধনি, মহাজন ও সাধারন দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকবৃন্দ। যারা ধর্ম চক্রকে চারি প্রত্যয় দান করে। বেচে থাকার, সাধনা করার, ধর্ম প্রচার ও প্রসার করার জন্য সচেষ্ট থাকে।
ধর্ম চক্র- পূজনীয় ভিক্ষু সংঘ। যারা ধর্মের বাহক এবং ধারক। ত্রিপিটক শাস্ত্র অধ্যায়ন, অনুশীলন ও অনুকরন করে দিনাতিপাত করে এবং আগ্গা চক্রকে সঠিক পথে ধাবিত করার বুদ্ধি পরামর্শ ও উপদেশ প্রদান করে।
এই দুই চক্র বৌদ্ধ ইতিহাসে অতুলনীয় এবং অদ্বিতীয়।
আজ সুব্রত তালুকদার সহ অন্যান্য দাতারা এগিয়ে এসেছেন বলে এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।
এখানে হাজারের অধিক ভিক্ষু সমাগম চারটি খানি কথা নই। এই অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষু, বন ভিক্ষু, লাম্বা-বাদি, সংঘরাজ-মহাস্থবির নিকায়। কোথাও কোন ভেদাভেদ নেই। এক অনুষ্ঠানে বসে সবাই এক সাথে পিন্ডু(ভাত) গ্রহন করেছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অতি উৎসাহের সহিত অংশ গ্রহন করেছে। কি একটা সুখকর পরিবেশ সম্পূর্ন হয়েছে?
ব্যাক্তি বিশেষে অনেকের সাথে মত পার্থক্য থাকতে পারে, নিয়ম-নীতি ক্ষেত্রে আলাদা থাকতে পারে, আচরনের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক কিন্তু সামগ্রিক অর্থে আমরা এক এবং অভিন্ন সবাই বুদ্ধ পুত্র। সবাই বুদ্ধের মতাদর্শে চলার পথিক। কিন্তু পথ ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু লক্ষ্য একটাই নির্বান। কেউ সাধনা করে, কেউ সমাজের কাজ করে, কেউ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ভ্রমন করে, কেউ সমাজ সংস্কারক হিসেবে কাজ করে, কেউ নিজেকে নিজে ব্যাস্ত রাখে। করুক না যার কাজ সেই। কিন্তু কেন তারপরও এত আলোচনা সমালোচনা।
আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ সমাজ বিভিন্ন অকাজে কুকাজে লিপ্ত হয়েছে। ধর্মান্তরিত নৈত্যনৈমিত্তিক হয়ে পড়েছে। হিংসা- হিংসী, দলা-দলী, পরচর্চা-পরনিন্দা, অহংকারী, মদখোর- জুয়াখোর, বাবাখোর, পরকিয়তা, একজন উপরে উঠলে কিভাবে নামানো যায় এই হীন মানসিকতা সহ বিভিন্ন বেড়াজালে নিমজ্জিত বৌদ্ধ সমাজ। এর থেকে পরিত্রান করার কেউ নেই। ধর্মকে নিজের মনে করে যা ইচ্ছেটাই মনগড়া কাহিনী ইতিহাস রচনা করা হচ্ছে।
এই অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা পাই- আর নই দলাদলী, হিংসা-হিংসী, রেষা-রেষী, ভাগাভাগি মহান ভিক্ষু সংঘ তাদের মত পার্থক্য থাকার সত্ত্বেও এক আসনে বসে আহার করছে। তাই বৌদ্ধ সমাজের সব জঞ্জাল কেটে ফেলে প্রকৃত বুদ্ধ শিক্ষা গ্রহন করে বুদ্ধের সেই তিন শরনকে মাথায় ও মননে ধারন করে জ্ঞানী রুপে, বিনয় রুপে ও সম্মিলিত রুপে এক সাথে বসবাস করুন এই হোক আমার ২০২৩ সালের অঙ্গীকার।
নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষা প্রদান করুন। শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করতে সাহায্য করে। এবং বর্তমান বিশ্বে ঠিকে থাকার জন্য চাই কারিগরি শিক্ষা এবং হাতে কলমে শিক্ষা, শিল্প বানিজ্য শিক্ষা। বর্তমান বিশ্ব খুবি চ্যালেঞ্জিং একটা সময়। এই চ্যালেঞ্জকে যারা গ্রহন করতে পারবে তারা অগ্রসর হবে। আর যারা গ্রহন করতে পারবে না, তাহার শত বছরের পিছনে পড়ে রইবে।
সবাইকে আবারো নতুন বছরের শুভেচ্ছা। বছরটি সবার ভালো ও সুখে শান্তিতে কাটুক এই কামনা ও বাসনা করছি ভালো থাকুন ও সুস্থ থাকুন।