Sri Sri Kaibalyadham Ashram.

Sri Sri Kaibalyadham Ashram. শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম এর অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ
Official Page of Sri Sri Kaibalyadham
(725)

আপনাদের সবাইকে শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম আশ্রমে স্বাগতম।

এই ধাম/আশ্রমটি হইল একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র যেখানে যে কোনো ধর্মবিশ্বাসী মানুষ বা একেবারেই বিশ্বাস নাই এমন মানুষ ও প্রতিফলিত হইতে, প্রশ্ন করিতে, আলোচনা শুনিতে, প্রার্থনা করিতে, গান গাহিতে/ শুনিতে, ধ্যান বা জ্ঞান অথবা নিজেকে পর এর সেবায় উত্সর্গ করিতে আসেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব হইলেন এই আশ্রমের অভিভাবক। মরভূমের বিষম বিপাক হইতে স্ব্গণকে উদ্ধ্বা

র করিয়া নিবার জন্যই লোকালয়ে প্রকট হইয়াছিলেন ভগবানের অবতার পরম দয়াল শ্রীশ্রী রামঠাকুর। নরদেহে আবির্ভূত হইয়া জীবের পরম হিতৈষীর মূর্ত্তিতে স্বগণের গৃহে গৃহে, নিকটে নিকটে ঘুরিয়া সকলকে একান্ত আপন জন হিসাবে আকর্ষণ করিয়া প্রাণের ডোরে নিত্য সত্য ভগবৎপদে গাঁথিয়া নিয়াছেন; অনিত্য সংসারের ভ্রান্ত আসক্তি হইতে উদ্ধারের পথে টানিয়া লইয়াছেন।

শ্রীশ্রী গুরুদেব অনাদি, অনন্ত। প্রকটলীলা সংবরণ করিয়া ভক্ত হৃদয়ে তিনি ‘নাম’ রূপে নিত্য বিরাজ করিতেছেন, চিত্রপটে নিত্য অধিষ্ঠিত রহিয়াছেন এবং নামের ভান্ডারে নিত্য প্রতিভাত থাকিয়া কৈবল্যধামে সর্ব্বকালের কৃপ্রার্থীর আশ্রয় বিধান অব্যাহত রাখিয়াছেন। শ্রীগুরুর স্মরণ মননে প্রেরণার উত্স স্বরূপ হইতে এখানি আশ্রিতবর্গের সহায়ক হইবে বলিয়া মনে করি।

নাম করিতে কোনরূপ ধারণ বজায় করবার বিধান নাই।  "নাম চিন্তামণিঃ কৃষ্ণশ্চৈতন্য রসবিগ্রহঃ"। কর্ত্তৃত্বভিমান নিয়া তার সেবা করি...
01/05/2026

নাম করিতে কোনরূপ ধারণ বজায় করবার বিধান নাই। "নাম চিন্তামণিঃ কৃষ্ণশ্চৈতন্য রসবিগ্রহঃ"। কর্ত্তৃত্বভিমান নিয়া তার সেবা করিতে পারে না। অতএব নামের অধীন থাকিবার চেষ্টা করাই নামের কাছে থাকা। মনের দ্বারা সুখ দুঃখ, শান্তি অশান্তি উপলব্ধি হইয়া থাকে। নাম করিতে মনের কোন সাহায্য লাগেনা, ইহা প্রাণের দ্বারা সম্পাদন হয় জানিবেন। অতএব নামই সত্য, তাকে ভুলিয়া গিয়া মনের ভ্রান্তি আকারে পরিভ্রমণ করিয়া জীব ত্রিবিধ, নানান ভাবে সঙ্কর জ্বালা ভোগে পড়িয়া যায়। সর্ব্বদাই নামের অধীন হইতে চেষ্টা করুন, নামে উদ্ধার করিয়া নিয়া যাইবে। নামের কোন ফলাফল নাই।

জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।

শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথায় নমঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৈবল্যভূম আশ্রমে শুভ বিরাজ করছেন শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথের মোহন্ত মহারাজ পূজ্যপাদ শ্...
30/04/2026

শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথায় নমঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৈবল্যভূম আশ্রমে শুভ বিরাজ করছেন শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথের মোহন্ত মহারাজ পূজ্যপাদ শ্রীমৎ কালীপদ ভট্টাচার্য্য মহাশয়।

জয় রাম জয় গোবিন্দ 🌸🙏

🌼 **শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথায় নমঃ** 🌼এই ভিডিওতে উপভোগ করুন কৈবল্যধামের এক অনুপম আধ্যাত্মিক পরিবেশ—✨ পবিত্র **সান্ধ্য কীর্তনের...
30/04/2026

🌼 **শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথায় নমঃ** 🌼

এই ভিডিওতে উপভোগ করুন কৈবল্যধামের এক অনুপম আধ্যাত্মিক পরিবেশ—
✨ পবিত্র **সান্ধ্য কীর্তনের** মধুর ধ্বনি
✨ ভক্তিময় **শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পাঁচালীর পাঠ**
✨ ভক্তবৃন্দের একাগ্র হৃদয়ে নিবেদিত সুর, শ্রদ্ধা ও ভক্তি

🙏 ভক্তি, শান্তি ও আনন্দে ভরা এই পবিত্র মুহূর্ত হৃদয়কে করে নির্মল, মনকে আনে গভীর প্রশান্তি।

আপনিও ভিডিওটি দেখে এই আধ্যাত্মিক পরিবেশের অংশীদার হোন এবং ভক্তিময় এই সুন্দর মুহূর্তটি আপনার প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিন।

🔗 ভিডিওটি দেখুন:
[https://youtu.be/-FAiGgEhb6w?si=19L8n37GnmuiIkAh](https://youtu.be/-FAiGgEhb6w?si=19L8n37GnmuiIkAh)

1.2K likes, 161 comments. "শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ পাঁচালী । কৈবল্যধাম-এর কীৰ্ত্তন | সত্যপীরের পাঁচালী । SATYANARAYAN PANCHALI"

যেখানে নাম সর্ব্বদা থাকে, সেখানে ভগবান বাস করেন। যেখানে ভগবান থাকেন, সেখানেই ব্রজভুম। নামের অনুশীলন অর্থাৎ নামের শরণ নিয়...
30/04/2026

যেখানে নাম সর্ব্বদা থাকে, সেখানে ভগবান বাস করেন। যেখানে ভগবান থাকেন, সেখানেই ব্রজভুম। নামের অনুশীলন অর্থাৎ নামের শরণ নিয়া থাকাই ব্রজের পথে অগ্রসর হওয়া। সর্ব্বদা সকল অবস্থায় নামের চিন্তার অভ্যাস করিতে করিতে নামের জ্ঞান জন্মে, তত্পর ধ্যান আসে অর্থাৎ নামের উদয় হয়। নামের উদয়ে বুদ্ধি অন্যত্র যায় না। এই অবস্থাকে 'প্রাপ্ত' বলে। প্রাপ্ত হইলে পর সকল অভাব যায়, দেহমুক্তি লাভ হয়। দেহমুক্তি অবস্থাকেই প্রাপ্ত বলে।
তাঁকে ডাকবার আগে অনুরাগ, ভক্তি বিশ্বাস আসে না। নাম করার সঙ্গে নামী অর্থাৎ ইষ্টমূর্ত্তির ধ্যান হৃদয়ে করিতে করিতে পট, প্রতিমায় যেমন আছে, সেই আকারেই তিনি জীবন্ত ও জ্যোতির্ন্ময়রূপে আকারিত হইবেন। চলার পথে বসুদেবকে যে ভাবে পথ দেখাইয়া উত্তাল তরঙ্গায়িত যমুনা অতিক্রম করাইয়াছিলেন, সে ভাবে তিনিই পথ দেখাইয়া নিবেন।
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কথামৃত বিন্দু - শ্রীব্রজেন্দ্র কুমার চৌধুরী
....

30/04/2026

অদ্য ৩০ এপ্রিল রাত্রি ৮টা ৫৭মিনিট ৫৪সেকেন্ড পরবর্তী সময়ে পূর্ণিমা তিথি। (ভারতীয় সময় ৩০ মিনিট পূর্বে)
পূর্ণিমা তিথি থাকবে আগামীকাল রাত্রি ১০টা ০৮মিনিট ৯সেকেন্ড পর্যন্ত।

আগামীকাল শুক্রবার ১ মে বৈশাখী/ বৌদ্ধ পূর্ণিমার উপবাস, শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পূজা ও ব্রত। শুধুমাত্র পূর্ণিমা তিথি দেখে নয়, নিয়ম মেনে #প্রদোষকালীন সময়ে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা করুন।

সূর্যাস্তের দেড় ঘণ্টা পূর্ব থেকে দেড় ঘণ্টা পরের সময় পর্যন্ত মোট তিন ঘণ্টাই প্রদোষকাল। প্রদোষ মানে সন্ধ্যা।

জয় রাম। জয় গোবিন্দ। জয় সত্যনারায়ণ।

গুরু নিজের সাধনার জ্বলন্ত দীপশিখা দ্বারা শিষ্যের জীবন দীপ জ্বালাইয়া দেন।শিষ্য ঐ দীপের আলোকে নিজের অন্তরে নিহিত 'রামরতনকে...
29/04/2026

গুরু নিজের সাধনার জ্বলন্ত দীপশিখা দ্বারা শিষ্যের জীবন দীপ জ্বালাইয়া দেন।শিষ্য ঐ দীপের আলোকে নিজের অন্তরে নিহিত 'রামরতনকে' চিনিয়া লয়।

জীবের অন্তরেই ভগবান নিত্য বিরাজিত অথচ সে তাঁহাকে দেখিতে পায় না—'ঈশ্বরঃ সর্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জ্জুন তিষ্ঠতি।'

কি উপায়ে দর্শন মিলিতে পারে একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত দ্বারা দাদু তাহা বুঝাইয়া দিয়াছেন।

ডানচোখ ও বামচোখ জন্মাবধি এক সঙ্গেই আছে অথচ একে অপরকে দেখিতে পায় না।কিন্তু যখন দর্পন হাতে আসে তখন দুই চোখের পরস্পর দেখা হইয়া যায়। তদ্রূপ গুরু যখন শিষ্যের হাতে সাধনার দর্পন তুলিয়া দেন তখন জীবাত্মা পরমাত্মার দর্শন পাইয়া ধন্য হইয়া যায়।

নৈন ন দেখে নৈনকো,অংতর ভি কুছনাহিঁ।
সতগুরুদর্পন কর দিয়া,অরসপরস মিলি মাহিঁ।।

নয়ন নয়নকে পায় না দেখিতে অথচ অন্তরও কিছু নাই।সদগুরু যখন দর্পন হাতে দিলেন তখন অন্তরের মধ্যেই মিলিল জীবন-দেবতার দর্শন ও স্পর্শ।

শ্যামদাদার আত্মকথা
শ্রীমহেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী

ডাঃ দাশগুপ্তের বাড়িতে রাসের উৎসব, সন্ধ্যের পর বাড়ির সকলেই সেখানে চলে গেল। বাড়িতে ঠাকুর একা,বিছানার উপর বসে আছেন। ভোগের স...
28/04/2026

ডাঃ দাশগুপ্তের বাড়িতে রাসের উৎসব, সন্ধ্যের পর বাড়ির সকলেই সেখানে চলে গেল। বাড়িতে ঠাকুর একা,বিছানার উপর বসে আছেন। ভোগের সব জিনিস জোগাড় করে ঘর মুছছি, ঠাকুর জিজ্ঞেস করলেন, "মা, আপনে ডাক্তার বাবুর বাড়িতে গেলেন না?"
একটু আবদারের সুরেই বললাম, "বাবা, আপনার ছেলে আমায় কোথাও নিয়ে যান না। কত তীর্থস্থানে বেড়িয়ে এসেছেন আমায় কোথাও নিয়ে যায়নি।"

ঠাকুর স্বান্তনার সুরে বললেন "না গেলেন, সত্যের আশ্রয় পাইছেন। সত্য নিয়া পইড়া থাকেন। সত্য চিরদিনই সত্য।সত্য কোনওদিন মিথ্যা হয় না। এইয়া তো জানেন ঘুইরা ঘুইরা বারো, ঘরে বইসা তেরো। সেই সত্য আপনার ঘরে সর্ব্বদাই আছে। মন দিয়ে সেবা করেন। সত্যের কাছে কোনদিনও কিছু চাইতে হয় না। সত্য কোনও দিন অভাবও রাখে না।"

আবদারের সুরে যে কথা বলেছিলাম মনের আসল কথাটিও তাই ছিল। তীর্থস্থানের বেড়ানোর ইচ্ছেটা খুবই ছিল। আসলে তীর্থ বেড়ানো মানে ত শুধু ভক্তি নয়।নানান জায়গা বেড়ানোর আনন্দ। বহু তীর্থ বেড়িয়ে যে প্রাণ তৃপ্ত হয় না, প্রাণের শান্তি যে অন্তরেই থাকে।

এককথায় ঠাকুর বুঝালেন, ঠাকুরের কথায় জানি না হয়ত বা আর একটা ইঙ্গিতও ছিল-বাড়িতেই সকলের শান্তি পাওয়া উচিত। বিশেষ করে যে স্ত্রীলোকের উপর ঘর সংসার রক্ষা করার ভার, তার বেড়াই বেড়াই বাতিক সুস্থ প্রবৃত্তি নয়। বাড়িই শ্রেষ্ঠ তীর্থ, সংসার ধর্ম্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম্ম।

জয় রাম জয় গোবিন্দ
ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র
—শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদার

01/04/2026

সংসার কর্ম্মে থাকিয়া নাম করিয়া যাইবেন, ভগবান ইহাতে শান্তি দান করেন এবং উদ্ধার করিয়া থাকেন। জন্মমৃত্যু, জরাব্যাধি কেবল কর্ত্তৃত্বাভিমানের কর্ম্ম। সর্ব্বদা ঐ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাহায্যে নাম করিতে চেষ্টা করিবেন, তবে আর পতিত হইবেন না।

বেদবাণী - শ্রীশ্রী রামঠাকুর
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।

01/04/2026

১৩৪১ সন, পূজার বন্ধ, আজ মহাষ্টমী। ঠাকুর তখন ফেণী শহরে সুরেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তীর বাসায়।
সকাল হইতে আকাশের বুকে ঘন কাল মেঘরাশি বর্ষণোন্মুখ অবস্থায় বিরাজমান। শ্রীশ্রীঠাকুর আসিয়া সাজান চেয়ারে আসন গ্রহন করিলে উপস্থিত ভক্তবৃন্দ শ্রীপাদপদ্মে অঞ্জলি প্রদান করিলেন। আকাশের অবস্থা ক্রমেই দুযোগপূণ‍‌‍‌ হইয়া উঠিতেছে দেখিয়া সকলে প্রসাদ পাইয়া চলিয়া গেলেন।
গুরুভাই ফণীবাবু বাড়ি না গিয়ে পাশের বাসায় বন্ধুদের সঙ্গে দাবা খেলিতে শুরু করিলেন। খেলা শেষ হইলে বাহিরের দিকে তাকাইয়া ঊনার চক্ষুস্থির হইয়া গেল। রাস্তাঘাট সব জলমগ্ন। ঘড়িতে তখন পৌনে ৫টা। বৃষ্টি বন্ধ হইয়াছে। ঠাকুরের নিকট গিয়া প্রণাম করিলে ঠাকুর ক্রোধভরে বলিলেন, আপনে এখনও বাড়ি যান নাই কেন? পথঘাট সব ডুইবা গেছে। শিগগির বাড়ি চইলা যান। শ্রীগুরু ভরসা করিয়া তিনি বাড়ি যাত্রা করিলেন। সন্ধ্যা না হইলেও গাঢ় মেঘাচ্ছন্ন আকাশের জন্য তখন সন্ধ্যা বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছিল। তিনি তখন দ্রুতবেগে ফাঁড়ি পথে অগ্রসর হইয়া মন্দিয়া নামক দীঘির অগ্নিকোণে উপস্থিত হইলেন। ঝড়তুফানে বহু গাছ পড়িয়া যাওয়ায় ঊনার যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হইয়া গেল। কোন উপায়ান্তর না দেখিয়া দীঘির ভিতর জলের কিনারা দিয়া হাঁটিতে আরম্ভ করিলেন। মাঝামাঝি পর্যন্ত গেলে শুনিতে পান দীঘির অন্য পাড়ের দিক হইতে কিসের শব্দ হইতেছে। পিছন ফিরে তাকাইয়া দেখিলেন সেখানে দীঘির জলের কিনারা হইতে প্রায় ৭/৮ হাত ভিতর দিকে জলস্থিত টকটকি ও পানিফল পাতার উপর হইতে এক অতি বিরাট আকারের সাপ ছোবল মারিয়া মাছ, পোকা মাকড় আহার করিতেছে। ঐ ছোবল পাতায় ও জলে পড়িয়া ঐ শব্দ হইতেছিল। লক্ষ্য করিয়া দেখিলেন সাপটির লেজ দীঘির পাড়ের উপর। এইরকম একটি ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখিয়া ঊনি চলৎশক্তি হারাইয়া অপলক নেত্রে সাপটির দিকে দৃষ্টি স্থির করিয়া ভাবিতেছেন, যদি সাপটি ঊনাকে দেখে তা হইলে উহা আসিয়া হয়তো ঊনাকে গিলিয়া ফেলিবে।
এমন সময় দেখেন সাপটি হটাৎ বিরাট ফণা বিস্তার করিয়া ঊনার দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করিয়া রহিয়াছে। বড় রক্তজবা ফুলের ন্যায় ঘোর রক্তবর্ণ অক্ষি গোলকদ্বয় হইতে আগুন ঠিকরাইয়া পড়িতেছিল। ভাবিলেন বুঝি আর রক্ষা নাই। তিনি পলকহীন নেত্রে সাপের দিকে তাকাইয়া রহিলেন। ভয়ে ঊনার জাগতিক জ্ঞান বিলুপ্ত হইতে চলিয়াছে। সাপটি তদবস্থায় বিদ্যুৎবেগে ঊনার দিকে ছুটিয়া আসিতেছিল। ফণীবাবু অচল, অনড়। নাম মনে নাই। শুধু অনন্য লক্ষে ঠাকুরকে স্মরণ করিয়া চলিতেছেন। সাপটি যখন ফণীবাবুর নিকট হইতে মাত্র হাত পনের দূরে তখনি তিনি “জয় রাম, জয় রাম” বলিয়া চীৎকার দিয়া সজ্ঞানে জলের উপর পড়িয়া যাইতেই মনে হইল ঠাকুর ঊনাকে কোলের উপর রাখিয়া সাপের দিকে তাকাইয়া হাসিতেছেন। ঠাকুরের অতি বৃহদাকার অগ্নিময় নেত্রদ্বয় হইতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হইয়া সাপের দিকে ছুটিয়া যাইতেছিল।
সাপটি ঊনাদের নিকট হইতে ৫/৬ হাত দূরে থাকিতে ঠাকুর ফণীবাবুকে দীঘির উত্তর পাড়ের দিকে শূন্যে নিক্ষেপ করিয়া অন্তর্হিত হইলেন।
তিনি উত্তর পাড়ের আরো কিছু উত্তরে গিয়া এক ডোবায় গিয়া পড়িলেন। ঠাকুরের অপার কৃপায় কেবল যে নিশ্চিত মৃত্যু হইতে রক্ষা পাইলেন তাহা নয়, তিনি কোন ব্যাথা-বেদনাও পান নাই। ঐ ডোবা হইতে উঠিয়া গ্রাম্য রাস্তা দিয়া সেইদিন বাড়ি পৌঁছাইলেন।

জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।

31/03/2026

সর্ব্বদাই নাম নিয়া পড়িয়া থাকিবেন, প্রারব্ধভোগ উদয় হইয়া চলিয়া যাইবে, থাকিবে না।পরম ব্রহ্ম একমাত্র নাম সংকীর্ত্তনই হয়।
-শ্রীশ্রী রামঠাকুর
বেদবানী ১ম খন্ড(৩৭৫)

31/03/2026

আগামীকাল বুধবার ১এপ্রিল দিবা ৭টা ৩মিনিট ৪৮ সেকেন্ড পরবর্তী সময়ে পূর্ণিমা তিথি। (ভারতীয় সময় ৩০ মিনিট পূর্বে)
পূর্ণিমা তিথি থাকবে বৃহস্পতিবার দিবা ৭টা ১৭মিনিট ৫৪সেকেন্ড পর্যন্ত।

আগামীকাল বুধবার পূর্ণিমার উপবাস, শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পূজা ও ব্রত। শুধুমাত্র পূর্ণিমা তিথি দেখে নয়, নিয়ম মেনে #প্রদোষকালীন সময়ে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা করুন।

সূর্যাস্তের দেড় ঘণ্টা পূর্ব থেকে দেড় ঘণ্টা পরের সময় পর্যন্ত মোট তিন ঘণ্টাই প্রদোষকাল। প্রদোষ মানে সন্ধ্যা।

জয় রাম। জয় গোবিন্দ। জয় সত্যনারায়ণ।

31/03/2026

যখনই কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছিঃ

১৯৩৭ কিংবা ১৯৩৮ ইং সনে এক কাজের দায়িত্ব পেয়ে জামালপুর থেকে কলকাতায় বদলি হয়ে এলেন রামঠাকুরের আশ্রিত শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদার। তাঁকে কাজে যেতে হত জি. পি. ও তে। ডিউটি ছিল বেলা দুটো থেকে রাত দশটা। অফিসে যাওয়া আসার সুবিধার জন্য রসা রোডের কাছে মহিম হালদার স্ট্রিটে বাড়ি ভাড়া করে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করে দিলেন। তাঁর বড় ছেলের নাম শ্রী দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার - কলেজে পড়ে, উঁচু ক্লাসের ছাত্র। কলেজে আসা যাওয়া ছাড়া সে বড় একটা বাড়ির বাইরে থাকে না, বাড়ির সন্ধ্যা আরতি ও কীর্তনে প্রায়ই সে অংশগ্রহন করে।

একদিন মাধববাবু জি.পি.ও থেকে রাত এগারটায় বাড়ি ফিরে শোনেন, দুর্গাপ্রসাদ চাঁদপুরের এক বন্ধুর সাথে বিকেলের দিকে বেড়াতে বেরিয়েছে - এখন ও ফিরেনি, এমন কি আজকের সন্ধ্যা আরতির সময়ও তাকে দেখা যায় নি। বাড়ির সবাই খুবই চিন্তিত। সে কোথায়, কোথায় যেতে পারে, তাঁর খোঁজ করেও কাজের কাজ কিছুই হলো না।
বাধ্য হয়ে মজুমদার মশাই বিভিন্ন থানা, হাসপাতালে টেলিফোনে খোঁজ নেওয়া শুরু করে দিলেন। - খবর পাওয়া গেল মোটর গাড়ির চাপে আহত একটি ছেলেকে শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালে আনা হয়েছে - ছেলেটির নাম দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার। এক ডাক্তারের গাড়িতে ছেলেটি চাপা পড়েছে আর সেই ডাক্তারবাবু ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মাধববাবু ছুটে এলেন ভবানীপুর সাউথ সবার্বন (মেইন) স্কুলের মাষ্টার শ্রীযুক্ত অক্ষয় কুমার মজুমদারের বাড়িতে, তাঁকে নিয়েই চলে আসেন হাসপাতালে। - দেখেন হাতে পায়ে মাথায় ব্যানডেজ বাঁধা, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অযত্নে পড়ে আছে শ্রীমান। হাসপাতালে সেই সময়ের কর্ত্তব্যরত ডাক্তার, মোটর দুর্ঘটনায় আহত যুবকের পরিচয় পেয়ে কিছুটা ভালো ব্যাবস্থা করে দিলেন।
কি ভাবে, কেউ জানেন না, খবরটা ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের কানেও পৌঁছোয়। পরদিন তিনি ঐ হাসপাতালে এসে দুর্গাপ্রসাদের জন্য কেবিনের ব্যাবস্থা করে দিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হল যে ডাক্তারের গাড়ীতে সে চাপা পড়েছিল, সেই ডাক্তার হচ্ছেন, আবার ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের ছাত্র। ঐ হাসপাতালেরই এক ডাক্তার। এই সব যোগাযোগের ফলে শ্রীমান দুর্গাপ্রসাদের জন্য দিন রাত্রির নার্স আর চিকিৎসার ভালো ব্যাবস্থা হলো। সকলের চেষ্টায়, মোটর দুর্ঘটনার চার দিন পর, তার জ্ঞান ফেরে কিন্তু সে কাউকে চিনতে পারে নি - ভুল বকে। ডাক্তারদের মতে মস্তিষ্কেই আঘাত সব চেয়ে বেশী। এদিকে রামঠাকুর তখন চট্টগ্রামে।

পুত্রের প্রাণভিক্ষা ও মঙ্গল কামনার কাতর আবেদন জানিয়ে মাধববাবু ঠাকুরকে যে চিঠি লিখেছিলেন সেই চিঠির কোন উত্তর নেই। তখন তাঁর মনে হচ্ছিল ... "শ্রীমানের জীবন সংশয়, অথবা প্রাণ রক্ষা পাইলেও পাগল হইয়া থাকিবে।"...তিন সপ্তাহের চিকিৎসায় দুর্গাপ্রসাদ একটু ভালো হলে মাধববাবু তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন- অসুস্থ দুর্গাপ্রসাদকে রাখেন তিন তলার এক ঘরে।
-নির্জন দুপুরে দুর্গাপ্রসাদের মা দুর্গাপ্রসাদের ঘরের দরজায় বসে একমনে ঠাকুরের চিন্তা করছিলেন এমন সময় দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের অনুভব হলো কে যেন পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন। পিছন ফিরে তিনি ঠাকুরকে দেখেই হতভম্ব। নিজেকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- "ঠাকুর মশায়! কোথা হইতে আসিলেন? একা একা কি করিয়া আসিলেন, এ বাড়ি তো আপনি চিনেন না, আর তো কোন দিন আসেন নাই।" ঠাকুরকে দেখে তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি যেন রোদে পুড়ে লাল হয়ে গিয়েছেন। ঠাকুর বলেছিলেন, 'স্মরণ করিয়াছেন তাই আসিয়াছি, স্মরণ করিলে বাড়ি চিনিবার প্রয়োজন হয় না, ঠিকানাই বাড়ি চিনাইয়া দেয়।" দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরকে সমস্ত ঘটনাই বলেন। "জানি", একথাটা বলেই ঠাকুর নীরব। শ্রীমানের মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে আশীর্ব্বাদ করে ঠাকুর বললেন "রাস্তায় হাটার সময় নাম করিতে পার না, তাহা হইলে তো আঘাত লাগিত না।' রামঠাকুর এবার ব্যাস্ত হয়ে উঠলেন ফিরে যাওয়ার জন্য।

মাধববাবুর স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুর তাঁকে বললেন, গত রাতেই তিনি ১১ নং আর্ল স্ট্রিটে কুঞ্জবাবুর বাড়িতে এসে উঠেছেন। সেখানেই ফিরে যাবেন। "এখন আসি" এই বলেই ঠাকুর সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে লাগলেন, দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরের সাথে নীচে নেমে এলেন।
সে বাড়িতে একটাই মাত্র সদর দরজা। দরজায় বাড়ি ওয়ালার ২৫/২৬ বছরের ছেলেটি বসেছিল, বাড়িতে কেউ নেই - বাধ্য হয়ে ঐ ছেলেটিকেই ঠাকুরের জন্য টেক্সী ডেকে দেবার অনুরোধ করেন দুর্গাপ্রসাদের মা। এর মধ্যেই বাড়ির সদর দরজায় একটা টেক্সী এসে দাঁড়ায় -ঠাকুর তখনই উঠে বসলেন। টেক্সী ভাড়া বাবদ তিনি দুটো টাকা দিলেন ঠাকুরের হাতে। ঠাকুর টাকা দুটো ড্রাইভারের হাতে দিয়ে গাড়ী ছেড়ে দিতে বলেন। -গাড়ী চলে গেল। বাড়ি ওয়ালার ছেলেটি অনুসন্ধিৎসু হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, "এই বৃদ্ধ কে? আপনার কে কি হয়, কখন আসিয়াছেন, আবার এখনই চলিয়া গেলেন কেন?" ইত্যাদি নানান প্রশ্ন। দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের উত্তর "ইনি আমার বাবা, আমার ছেলের অসুখ, আধঘন্টা আগে তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন, আবার এখন অন্যত্র চলিয়া গেলেন।" ছেলেটি অবাক হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে "ওঁকে-ত এই কয় দিনের মধ্যে আর দেখি নাই। আজও এক ঘন্টার অধিক সময় এই খানেই বসিয়া আছি ভিতরে যাওয়ার সময়ে তো দেখি নাই।" আপনার হয়তো সময়ের ভুল হইয়াছে।"
ইতিমধ্যে আর এক কান্ড - সেই টেক্সী ড্রাইভার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বলেন, "মা! আমি আপনার বুড়া বাবাকে হারাইয়া ফেলিয়াছি। তিনি গাড়িতে উঠিয়াই আমার হাতে দুইটি টাকা দিলেন। হাজরা মোড়ে একটা বড় দোকানের সামনে গাড়ি থামাইয়া দোকানে ঢুকিলেন। অনেকক্ষণ পর্য্যন্ত তিনি না আসায় দোকানে যাইয়া বুড়া বাবার চেহারার বর্ণনা দিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম তিনি কোথায়? তাহারা কিছুই বলিতে পারিল না। কেবল বলিল এমন লোক কেহ দোকানে আসে নাই।"
পরের ঘটনা শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদারের ভাষাতেই লিখেছি...."কুঞ্জ বাবুর বাড়িতে পর দিন প্রাতে যাইয়া ঠাকুরের বিষয় অনুসন্ধান করিলাম। তাঁহারা স্বামী স্ত্রী উভয়ই জানালেন যে পর্যায়ক্রমে এই ঘরের দরজায় পাহারায় রত আছেন, কাহারও ঘরে যাইবার হুকুম নাই, তিনি গোপনে আছেন। তবে তিনি কাল ঐ সময় ঘরের বাহির হন নাই, ইহা নিশ্চিত। এই হেয়ালি আজও হেয়ালিই রহিয়া গিয়াছে।"...
মাধব বাবু আরও লিখেছেন..."এই ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করিবার উদ্দ্যেশ্য আমার আর কিছুই নহে ঠাকুর অনেক সময় কথাচ্ছলে বলিয়াছেন যে "যখনই কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছি, সেই সময়ে ভ্রমশূন্য হইয়া কাজ করিবেন।" এই বাক্যের সত্যতা প্রমানের নির্দ্দেশই হইল এই ঘটনা। অবশ্য এই বাক্য দৃঢ় ভাবে হৃদয়ে আঢ্য করিয়া রাখা আমাদের ন্যায় সাধারণ জীবের পক্ষে সহজ সাধ্য নহে। ....
"তাঁহার অশির্ব্বাদে আমার ছেলে সুস্থ হইয়া উঠিয়াছে এবং মস্তিষ্কেরও সুস্থতা ঘটিয়াছে।"... এই ঘটনার কিছুদিন পরেই মজুমদার মশাইকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়।

জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।
ফেইসবুকঃ www.facebook.com/kaibalyadham
পুনঃপ্রচারে কৈবল্যধাম।।

Address

Kaibalyadham Road, Beside Kaibalyadham Rail Station, Pahartoli
Chittagong
4207

Opening Hours

Monday 08:00 - 20:00
Tuesday 08:00 - 20:00
Wednesday 08:00 - 20:00
Thursday 08:00 - 20:00
Friday 08:00 - 20:00
Saturday 08:00 - 20:00
Sunday 08:00 - 20:00

Telephone

+880243151587

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sri Sri Kaibalyadham Ashram. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Sri Sri Kaibalyadham Ashram.:

Share