19/02/2021
আজমির শরিফ সফরে, গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্'র গোপন মিটিং দেখে ফেললেন নঈমী সাহেব হুজুর, ওয়াদা নিলেন যেন তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশ না করা হয় এই ঘটনা!
-এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
পহেলা এপ্রিল ২০১৯, ঢাকার উত্তরাস্থ জসিম ভাইয়ের বাসায় আমরা ঢাকা-চট্টগ্রামের কয়েকজনের সামনে, গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ (র) 'র সাথে সফরের সময় তাঁর দেখা বেশ কিছু অলৌকিক স্মৃতি রোমন্থন করেন চট্টগ্রাম জামেয়ার শাইখুল হাদিস, মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী (মাজিআ)।এর মধ্যে মক্কা শরিফ, মদিনা শরিফ, আজমির শরিফের ঘটনাও ছিল। আজমির শরিফের বেশ ক'টি কারামতের মধ্যে যে ঘটনাটি অধিকতর তাৎপর্যপূর্ণ সেটি ছিল এই শিরোনামের বিষয়টি।
হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্ (র) এবার প্রথমে বাগদাদ শরিফ এবং পরে আজমির শরিফ সফর করেন। ১৯৭৯ সন। হুজুর কেবলা বাগদাদ থেকে চিঠি লিখে জানালেন তিনি কবে আজমির আসবেন। খবর পেয়ে আনজুমান -জামেয়ার সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি দল দিল্লী গিয়ে পৌঁছেন। অধ্যক্ষ মৌলানা এম এ জলিল, মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী সহ অনেকেই ছিলেন। হুজুর কেবলাও দিল্লী এসে পৌঁছেন।এর পরে গেলেন আজমির শরিফ। সবাই আজমির শরিফে ওঠেন খাদেম সৈয়্যদ আলাউদ্দিন চিশতি সাহেবের কামাল মন্জিলে। এই মন্জিলের বহু খাদেম ও তাঁদের আত্মীয়স্বজন হুজুর কেবলার হাতে বায়াত গ্রহন করে ধন্য হন সেদিন,। রাতে এখানেই থাকেন সবাই। থাকবার ব্যবস্থা তেমনটা উন্নত ছিলনা যদিও । তবুও হুজুর কেবলা এখানেই থাকলেন। বাথরুম ব্যবস্থা, রুমের অবস্থা ছিল কোনমতে চালানোর মত, তাও তখনকার সময়ের হিসেবে। বর্তমানে ওসব মেহমানখানা একদম ব্যাকডেটেট। হুজুর কেবলার রুমের ভিতরটাও দেখা যাচ্ছিল নঈমী সাহেবদের কামরা থেকে। টয়লেটও ছিল কমন। হুজুর কেবলা রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করেন , তাই তাঁর বাথরুমে যাওয়া সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতার জন্য নঈমী সাহেব হুজুর আগে ভাগে ওঠে অপেক্ষায় থাকলেন। হঠাৎ তাঁর কানে এল কথোপকথনের শব্দ। উঁকি দিলেন হুজুর কেবলার কামরায়। পরিষ্কার না হলেও মোটামোটি দেখা যাচ্ছে ভেতরেরটা। তিনি একেবারে অবাক হয়ে দেখলেন রুমের ভেতরে হুজুর কেবলার সাথে অপরিচিত একজন কথাবার্তা বলছেন। কে তিনি? কীভাবে এই গভীর রাতে তিনি হুজুরের কামরায় প্রবেশ করলেন? কোন কিছুর হিসাব মেলাতে পারছিলেন না তিনি। এক পর্যায়ে একই অবস্থা স্বচক্ষে দেখে নেন পটিয়ার ভাটিখাইন নিবাসি মরহুম হাজী মোহাম্মদ শরিফ সওদাগর। হাজী সাহেব বলে ওঠেন, মুফতি সাহেব দেখেন! ভেতরে কি চলতেছে! নঈমী সাহেব হুজুর হাজী সাহেবকে চুপ করে দিলেন, এবং নিজেও চুপ হয়ে কান লাগিয়ে শুনবার চেষ্টা করেন কথাগুলো। কিন্তু আওয়াজগুলো স্পষ্ট হলেও ভাষা বোধগম্য ছিল না। তবুও কান লাগিয়ে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। অনেকক্ষণ পর হঠাৎ কথা থেমে গেল। কক্ষের ভিতরের ভিন্ন লোকটিকেও আর দেখা গেল না। তাই, নঈমী সাহেব হুজুর হুজুর কেবলার কক্ষে হালকা টোকা দিলেন, যেন হুজুর কেবলা অজুর জন্য বাথরুমে আসতে পারেন। হুজুর কেবলা তাহাজ্জুদ, এবং সবাইকে নিয়ে ফজর আদায় করলেন। এরপর, সকালের নাস্তা হয়ে গেলে সবাইকে আরামের জন্য যেতে একে একে অনুমতি দেওয়া হল। সর্বশেষ ব্যক্তিটি ছিলেন নঈমী সাহেব হুজুর। সবাই বের হবার পর হুজুর কেবলা নঈমী হুজুরকে কাছে ডাকলেন, এবং ওয়াদা নিলেন, যেন গভীর রাতে দেখা ঘটনাটি হুজুর কেবলার জীবদ্দশায় প্রকাশ না করা হয়, এবং হুজুর কেবলা আরো জানালেন যে, গভীর রাতের সেই আগন্তুক ছিলেন খোদ খাজা গরীবনওয়াজ (র) সুবহানআল্লাহ। নঈমী সাহেব বলেন, তিনি সেই রাতের ঘটনা হুজুর কেবলার ওফাতের পূর্ব পর্যন্ত গোপন রেখেছেন।
দিল্লী থেকে আজমির পর্যন্ত যাবার সময়টাতেও তিনি হুজুর কেবলার একটি জ্বলন্ত কারামত প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা পরিসর ছোট রাখার জন্য পৃথকভাবে বলা হবে ইনশাল্লাহ্। তাছাড়া,তৈয়্যব শাহ্ হুজুরের শৈশবে আজমির জেয়ারাতে খাজা গরীবনওয়াজ (র)'র সাক্ষাতের বিষয়টি অনেকেরই জানা।
#লেখকঃ যুগ্ম-মহাসচিবঃ গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।
মুখপাত্রঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ।