11/12/2024
হুজুর আনবেন আশি হাজার টাকা দিয়ে, এক লাখ টাকা দিয়ে। আনেন। আপনাদের সামর্থ্য থাকলে আনবেন তাতে কার কী?
কিন্তু কোমলমতি আদুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামাবেন কেন?
তারা কেন রিকশা-ভ্যান-অটো থামিয়ে থামিয়ে করুণ সুরে দুই টাকা পাঁচ টাকা চাইবে?
কেন হাতে একটা রিসিপ্ট বুক নিয়ে বাসে বাসে ভিক্ষুকের মতো টাকা চাইবে?
কেন দোকানে দোকানে লিফলেট নিয়ে গিয়ে তারা কাচুমাচু হয়ে টাকা চাইবে? দশ টাকা দিলে বিশ টাকার জন্য নেগোশিয়েট করবে? কী উদ্দেশ্যে? আপনারা যে বক্তাকে আনবেন তার পকেট ভরতে?
আপনি কতো বড়ো ক্ষমতাবান কতো বড়ো বক্তাকে আপনার এলাকায় নিয়ে এসেছেন তা বোঝাতে? আর মাঝখানে এসব শিশুরা হবে বলির পাঁঠা।
এভাবে ছোটো বয়স থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের চাওয়াচাওয়ি শেখানোর কারণে পরবর্তীতে অনেকের এটি একটা অভ্যেসে পরিণত হয়। বড়ো হয়ে এই অভ্যেস অনেকেই আর ছাড়তে পারে না। সবাই এমন হয় না। তবে কেউ কেউ এমন হয়ে যায়।
তারা মাদ্রাসায় পড়তে আসে আল্লাহর কুর'আন নবীজির (সা.) হাদিস। মাদ্রাসায় সেলেব্রিটি বক্তা আনা হবে বছরে একবার ৪০ মিনিটের জন্য আর সে টাকা ঘরে ঘরে গিয়ে চাইতে হবে এই শিক্ষার্থীদের?
তাদের কিসের দায়? তারা গরীব ঘরের বলে? ছোটো দেখে প্রতিবাদ করতে পারে না বলে?
এভাবে কোনোদিন দ্বীনের খেদমত হয়? এভাবে ইসলামের একটুও উপকার হয়? কে শেখালো এই ইসলাম এই বাংলাদেশে?
কতো চমৎকার চমৎকার ইসলামি স্কলার আছে যারা কোনোদিন টাকার জন্য লালায়িত না।
জোর করেও টাকা দেওয়া যায় না। তাদের উদ্দেশ্যই দ্বীনের খেদমত। তাদেরকে কেউ ডাকে না। ঐ যে সুরের মূর্ছনা লাগবে, আরেক হুজুরকে গালিগালাজ করা লাগবে, শরীরে ভাব আনতে হবে, চা ঢালতে হবে, উজুরি শাহের আজগুবি কিচ্ছা-কাহিনি লাগবে।
যারা ইসলামের প্রকৃত বাণী প্রচার করতে চায়, যারা সত্যিকারার্থেই ভালো মানুষ ভালো আলেম, যারা রসূলের (সা.) প্রকৃত অনুসারী তাদের কোনো কদর নেই, কোনো মিডিয়া কাভারেজ নেই।
ছোটো ছোটো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরকে দিয়ে এ ধরনের নিকৃষ্ট কাজ করানো অবিলম্বে পুরো বাংলাদেশে বন্ধ করা হোক।
ওয়াজ মাহফিল করতে হলে যাদের যেমন সামর্থ্য আছে তেমন বক্তা আনা উচিত। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উপজীব্য করে নিজেদের নাম ফুটাতে লক্ষ টাকার বক্তা আনার প্রবণতা বন্ধ হোক।
এভাবে আর যাই হোক দ্বীনের খেদমত হয় না। যারা মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের চাঁদা তোলার জন্য রাস্তায় নামায় তাদেরকে বয়কট করা হোক, সেসব প্রতিষ্ঠান বয়কট করা হোক।