23/10/2021
আধুনগর আখতারিয়া দাখিল মাদ্রাসা'র প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আশরফ আলী (রাঃ) এর ওফাত বার্ষিকী আজ।
১৯৭৫ সালে আধুনগর আখতারিয়া পাড়ায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্টা করেন আলেমেদ্বীন আশরাফ আলী। এছাড়া মসজিদে বায়তুশশরফ কমপ্লেক্স, শাহ জব্বারিয়া এতিমখানা, হেফজখানা ও কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রেরও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
বর্তমানে মাদ্রাসা প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা ফরিদ আহমদ।
মরহুম আশরফ আলীর বর্ণাঢ্য জীবন :
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চুনতি হাকিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক ও চকরিয়া বায়তুশ শরফ মসজিদের সুযোগ্য খতীব ছিলেন। খতীব অধ্যাপক মাওলানা আশরফ আলী ১৯৫১ সালে লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর আখতারিয়া পাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী আবদুল আলীম পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের দিন ইন্তেকাল করেন। মাওলানা সাহেব দাখিলে স্ট্যান্ড করেন। তিনি ১৯৭২ সালে চুনতি হাকিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল হাদিস পাশ করেন। ১৯৮১ সালে ওয়াজেদিয়া আলীয়া মাদ্রাসা থেকে ফিক্হ গ্র“পে কামিল নেন তিনি। তিনি ইন্টার পড়েন তৎকালীন ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (মহসিন কলেজ) থেকে। তিনি কর্ম জীবনে চুনতী হাকিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হন। মাওলানা সাহেব একজন স্বনামধন্য ওয়ায়েজীন ছিলেন। তিনি বায়তুশ শরফের রূপকার মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেবের জামাতা। মাওলানার ‘মিরকাতুল ঈমানঃ ও শিক্ষা ব্যবস্থার’ উপর একটি পান্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বায়তুশ শরফের জিকিরের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লোহাগাড়া আখতারিয়া পাড়াস্থ মসজিদে বায়তুশ কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এ কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে আধুনগর আখতারিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আধুনগর শাহ্ জব্বারিয়া এতিমখানা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আধুনগর আখতারিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, মসজিদ পাঠাগার, দ্বীনি তালিম কেন্দ্র, জিকির মাহফিল। বার্ষিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সঃ), আখতারিয়া পাড়া কবরস্থান উন্নয়ন পরিষদ, বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ ও আঞ্জুমানে নওজোয়ান আধুনগর শাখা। এছাড়া একটি মহিলা মাদ্রাসা, হেফজখানা, ছাত্রদের শরীর চর্চা ও খেলার মাঠ এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন কমপ্লেক্সের পরিকল্পনাধীন কর্মসূচী ছিলেন হুজুরের। মাওলানা সাহেব বিশ্বাস করতেন দ্বীন প্রচারের জন্য প্রয়োজনে আরবী বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী, চাইনিজ, জাপানী, মালয় প্রভৃতি ভাষাও আমাদেরকে শিখতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম চাইলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে। সমাজ কল্যাণ মূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের চরিত্র সংশোধনের লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানাতেন তিনি।